দ্বিতীয় বিবরণ

1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34


অধ্যায় 1

1 মোশি ইস্রায়েলের লোকদের এই বার্তা দিয়েছিলেন| এই সময় তারা যর্দন নদীর পূর্বদিকের মরুভূমিতে যর্দন উপত্যকায ছিল| এটি ছিল সূফের অপর পারে, যার একদিকে পারণ মরুভূমি আর অন্যদিকে তোফল, লাবন, হত্‌সেরোত্‌ এবং দীষাহর শহরগুলো|
2 সেযীর পর্বতমালার মধ্য দিয়ে হোরেব (সীনয়) পর্বত থেকে কাদেশ বর্ণেয় পর্য়ন্ত য়েতে মাত্র এগারো দিন লাগে|
3 কিন্তু ইস্রায়েলের লোকদের মিশর ত্যাগ করার পর থেকে তাদের এই স্থানে আসা পর্য়ন্ত 40 বত্সর অতিক্রান্ত হয়েছে|
4 0তম বত্সরের একাদশ মাসের প্রথম দিনে মোশি লোকদের সঙ্গে কথা বললেন| প্রভু যা আজ্ঞা করেছিলেন, মোশি তার সমস্তটাই তাদের বললেন| 4এ হল প্রভুর সীহোন এবং ওগকে পরাজিত করার পরের ঘটনা| (সীহোন ছিলেন ইমোরীয়দের রাজা, তিনি হিষ্বোনে বাস করতেন| ওগ ছিলেন বাশনের রাজা, তিনি অষ্টারোত্‌ এবং ইদ্রিযীতে বাস করতেন|)
5 ইস্রায়েলের লোকরা যর্দন নদীর পূর্বদিকে মোয়াবে থাকাকালীন মোশি ঈশ্বরের আদেশগুলির বিস্তারিত ব্যাখ্যা করতে শুরু করলেন| তিনি বললেন:
6 “হোরেব পর্বতে প্রভু, আমাদের ঈশ্বর আদেশ করে বলেছিলেন, ‘তোমরা যথেষ্ট সময় এই পর্বতে বাস করেছো|
7 ইমোরীয় লোকরা যেখানে বাস করে সেই পাহাড়ী দেশে যাও| সেখানে আশেপাশের সমস্ত জায়গাতেই যাও| যর্দন উপত্যকা, পাহাড়ী দেশ, পশ্চিমের ঢালু অঞ্চল, নেগেভ এবং সমুদ্রতীরে যাও| কনান এবং লিবানোনের মধ্য দিয়ে বৃহত্‌ নদী ফরাত্‌ পর্য়ন্ত যাও|
8 দেখো, আমি তোমাদের সেই দেশ দিচ্ছি| যাও এবং সেই দেশটি অধিকার কর| আমি শপথ করেছিলাম য়ে সেই জমি তোমাদের পূর্বপুরুষদের অব্রাহাম, ইসহাক এবং যাকোবকে দেব| আমি শপথ করেছিলাম য়ে সেই জমি তাঁদের এবং তাঁদের উত্তরপুরুষদের দেবো|”‘
9 মোশি বললেন, “সেই সময় আমি বলেছিলাম য়ে আমার একার পক্ষে তোমাদের ভার নেওয়া সম্ভব নয়|
10 প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, লোকসংখ্যা আরও বৃদ্ধি করেছেন, আর তাই আজ তোমাদের সংখ্যা আকাশের অগণিত তারার মতো|
11 প্রভু, তোমাদের পূর্বপূরুষদের ঈশ্বর, তোমাদের সংখ্যা এখন যা রয়েছে তার থেকে 1,000 গুণ বৃদ্ধি করুন| তিনি ঠিক য়েমন শপথ করেছিলেন, সেভাবেই তোমাদের আশীর্বাদ করুন|
12 কিন্তু আমি একা তোমাদের দায়িত্ব নিতে পারবো না এবং তোমাদের সকল সমস্যার সমাধান করতে পারবো না|
13 সেই কারণে তোমরা প্রত্যেক পরিবারগোষ্ঠী থেকে কয়েকজন লোককে বেছে নাও, আমি তাদের তোমাদের নেতা হিসাবে মনোনীত করব| বিজ্ঞ লোকদের বেছে নাও যাদের বোধশক্তি এবং অভিজ্ঞতা আছে|’
14 “তোমরা বলেছিলে, ‘আপনি যা বলেছেন সেটা করাই ভালো হবে|’
15 “সুতরাং তোমাদের পরিবারগোষ্ঠী থেকে তোমাদের নির্বাচিত জ্ঞানী এবং সম্মানিত লোকদের নিয়ে আমি তাঁদের তোমাদের নেতা হবার জন্য নিযুক্ত করেছিলাম| এই প্রকারে, আমি তোমাদের 1000 জন লোকর জন্যে নেতা, 100 জন লোকর জন্য নেতা, 50 জন লোকর জন্য নেতা, 10 জন লোকর জন্য নেতার ব্যবস্থা করেছিলাম| এছাড়াও আমি তোমাদের প্রত্যেক পরিবারগোষ্ঠীর জন্য উচ্চপদাধিকারী ব্যক্তি নিয়োগ করেছিলাম|
16 “সেই সময়, আমি ঐ সকল বিচারকদের বলেছিলাম, ‘নিজের লোকদের মধ্যে য়ে সব যুক্তিতর্কের আদান প্রদান হবে সেগুলো ভালো করে শুনো| প্রত্যেকটি ঘটনা বিচার করার সময় নিরপেক্ষ হবে| সমস্যাটি দুজন ইস্রায়েলীয় লোকর মধ্যেই হোক অথবা একজন ইস্রায়েলীয় এবং একজন বিদেশীর মধ্যেই হোক, তাতে অবস্থার কোনো প্রভেদ হবে না| তোমরা অবশ্যই প্রত্যেকটি ঘটনা নিরপেক্ষভাবে বিচার করবে|
17 বিচার করার সময় কখনই একজন ব্যক্তিকে অন্যের থেকে বেশী গুরুত্বপূর্ণ মনে করবে না| প্রত্যেক ব্যক্তির সমান বিচার করবে| কোনো ব্যক্তির সম্পর্কেই ভীত হবে না, কারণ তোমাদের সিদ্ধান্ত ঈশ্বরের কাছ থেকে আসা সিদ্ধান্ত| কিন্তু যদি কোনো ঘটনা বিচার করা তোমাদের পক্ষে খুবই কঠিন হয়, তাহলে সেটি আমার কাছে নিয়ে এসো; এবং আমি সেটির বিচার করবো|’
18 সেই একই সময়, আমি তোমাদের অবশ্য করণীয অন্যান্য কর্তব্য সম্পর্কেও বলেছিলাম|
19 “তখন আমরা আমাদের প্রভু ঈশ্বরকে মান্য করেছিলাম| আমরা হোরেব পর্বত ত্যাগ করেছিলাম এবং ইমোরীয় লোকদের পার্বত্যদেশ অভিমুখে যাত্রা করেছিলাম| তোমরা য়ে বড় এবং সাংঘাতিক একটি মরুভূমি দেখেছিলে, তার মধ্য দিয়েই আমরা কাদেশ-বর্ণেযে এসেছিলাম|
20 তখন আমি তোমাদের বলেছিলাম, ‘তোমরা এখন ইমোরীয়দের পার্বত্য দেশে এসেছো| প্রভু, আমাদের ঈশ্বর, আমাদের এই দেশ প্রদান করবেন|
21 দেখো, ওটি ওখানেই আছে| ওপরে যাও এবং নিজেদের জন্য তোমরা ঐ দেশটিকে অধিকার করো! প্রভু তোমাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর, তোমাদের এটি করতে বলেছিলেন; সুতরাং ভয় পেও না, কোনো কিছুর সম্পর্কেই উদ্বিগ্ন হয়ো না!’
22 “কিন্তু তোমরা সকলে আমার কাছে এসে বলেছিলে, ‘প্রথমে দেশটিকে অনুসন্ধান করে দেখার জন্য কিছু লোককে আমরা পাঠাই| এরপর তারা ফিরে এসে আমাদের কোন্ পথে রওনা দিতে হবে এবং কোন্ কোন্ শহরে য়েতে হবে তার সন্ধান দেবে|’
23 “আমার এই প্রস্তাব ভাল লেগেছিল| সেই কারণে আমি তোমাদের প্রত্যেক পরিবারগোষ্ঠী থেকে একজন করে মোট বারোজন লোককে বেছে নিয়েছিলাম|
24 এরপর তারা সেই জায়গা ত্যাগ করে পার্বত্য দেশের ওপরে উঠেছিল এবং তাঁরা ইষ্কোল উপত্যকায এসে এটির অনুসন্ধান করেছিল|
25 তারা সেই দেশ থেকে কিছু ফল সংগ্রহ করে সেগুলো নিয়ে আমাদের কাছে ফিরে এসে এই সংবাদ দিয়ে বলল, ‘প্রভু, আমাদের ঈশ্বর, য়ে দেশ দিচ্ছেন, সে উত্তম দেশ!’
26 “কিন্তু তোমরা সেই দেশের অভ্যন্তরে য়েতে অস্বীকার করেছিলে| তোমরা তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের আজ্ঞার বিরুদ্ধাচারণ করেছিলে|
27 তোমরা তোমাদের তাঁবুতে অভিযোগ করে বলেছিলে, ‘প্রভু আমাদের ঘৃণা করেন! তিনি আমাদের মিশর থেকে বের করে নিয়ে এসেছিলেন যাতে ইমোরীয়রা আমাদের ধ্বংস করতে পারে!
28 আমরা এখন কোথায় য়েতে পারি? আমাদের ভাইরা (বারোজন চর) তাদের তথ্যের দ্বারা আমাদের ভীত করেছে| তারা বলেছিল: সেখানকার অধিবাসীরা আমাদের তুলনায় অনেক বড় এবং লম্বা| শহরগুলো বড় এবং তাদের প্রাচীরগুলো আকাশের সমান উঁচু এবং আমরা সেখানে দৈত্যাকার লোকও দেখেছিলাম!’
29 “তখন আমি তোমাদের বলেছিলাম, ‘তোমরা মনঃক্ষুন্ন হয়ো না! ঐ সকল লোকদের সম্পর্কে ভীত হয়ো না!
30 প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের আগে আগে যাবেন এবং তোমাদের হয়ে যুদ্ধ করবেন| মিশরে তোমাদের চোখের সামনে তিনি যা করেছিলেন, এখানেও তিনি সেই একই কাজ করবেন|
31 তোমরা সেখানে এবং মরুভূমিতে তাঁকে তোমাদের সম্মুখে য়েতে দেখেছিলে| তোমরা দেখেছিলে য়েভাবে একজন পিতা তার পুত্রকে বহন করে নিয়ে যায়, ঠিক সেভাবে প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের বহন করেছিলেন| এই স্থানে পৌঁছানো পর্য়ন্ত সমস্ত রাস্তাই প্রভু তোমাদের নিরাপদে নিয়ে এসেছিলেন|’
32 “কিন্তু তা সত্ত্বেও তোমরা তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের ওপরে আস্থা রাখতে পারো নি!
33 অথচ তোমাদের ভ্রমণের সময় তোমাদের শিবির স্থাপনের উপযুক্ত জায়গা খুঁজে বের করার জন্য তিনিই তোমাদের আগে গিয়েছিলেন| য়ে রাস্তা দিয়ে তোমাদের যাওয়া উচিত্‌ সেটি প্রদর্শনের জন্য তিনিই রাত্রে আগুনের মধ্য দিয়ে এবং দিনের বেলায় মেঘের মধ্য দিয়ে তোমাদের সামনে গিয়েছিলেন|
34 “তোমাদের অভিযোগ প্রভু শুনেছিলেন এবং তিনি এতে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন| তিনি এক কঠিন প্রতিজ্ঞা করে বলেছিলেন,
35 “তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে আমি য়ে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, সেই উত্তম দেশে তোমরা মন্দ লোকরা যারা এখন বেঁচে আছো, তারা কেউই প্রবেশ করবে না|
36 কেবলমাত্র যিফন্নির পুত্র কালেব সেই দেশ দেখতে পাবে| কালেব য়ে জায়গা দিয়ে হেঁটে গিয়েছিল সেই জায়গা আমি তাকে এবং তার উত্তরপুরুষদের দেবো| কারণ, আমার নির্দেশমতো কালেব সব কাজ করেছিলো|’
37 “তোমাদের জন্য প্রভু আমার ওপরও ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন| তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘মোশি তুমিও এই দেশে প্রবেশ করতে পারবে না|
38 কিন্তু তোমার সহায়ক, নূনের পুত্র যিহোশূয় ঐ দেশে প্রবেশ করতে পারবে| যিহোশূয়কে উত্সাহিত করো, কারণ দেশটিকে অধিকার করার জন্য সেই ইস্রায়েলের লোকদের নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাবে|’
39 “এবং প্রভু আমাদের বলেছিলেন, ‘তোমরা বলেছিলে, তোমাদের সন্তানরা তোমাদের শত্রুদের দ্বারা অপহৃত হবে; কিন্তু ঐ সন্তানরা ঐ দেশে প্রবেশ করবে| তোমাদের ভুলের জন্য আমি তোমাদের সন্তানদের দোষারোপ করি না, কারণ কোনটা ঠিক এবং কোনটা ভুল সেটা বোঝার পক্ষে তারা এখনও অনেক শিশু| সেই কারণে আমি তাদের ঐ দেশ দেব এবং তারা তা অধিকার করবে|
40 কিন্তু তোমরা সূফ সাগরে যাওয়ার রাস্তা ধরে মরুভূমিতে ফিরে যাও|”
41 “তখন তোমরা বলেছিলে, ‘মোশি, আমরা প্রভুর বিরুদ্ধাচারণ করে পাপ করেছি; কিন্তু এখন আমরা যাব এবং যুদ্ধ করবো, ঠিক য়েমনটি আমাদের প্রভু ঈশ্বর, আমাদের আগে আজ্ঞা করেছিলেন|’ তখন তোমরা প্রত্যেকে তোমাদের অস্ত্র তুলে নিয়েছিলে| ভেবেছিলে য়ে, সেই পার্বত্য দেশে গিয়ে সেটিকে অধিগ্রহণ করা খুবই সহজ কাজ হবে|
42 “কিন্তু প্রভু আমাকে বলেছিলেন, ‘লোকদের ওপরে য়েতে এবং সেখানে গিয়ে যুদ্ধ করতে বারণ করো, কারণ আমি তাদের সঙ্গে থাকবো না এবং তারা তাদের শত্রুদের কাছে পরাজিত হবে!’
43 “আমি তোমাদের সেই কথা বললাম, কিন্তু তোমরা শোন নি| তোমরা প্রভুর আজ্ঞা পালন করতে অস্বীকার করেছিলে| তোমরা য়োগ্য না হয়ে সেই কাজে হাত দিয়েছিলে এবং ওপরের পার্বত্য দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছিলে|
44 কিন্তু সেখানে বসবাসকারী ইমোরীয় লোকরা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য বেরিয়ে এসেছিল| তারা তোমাদের পেছনে তাড়া করা এক ঝাঁক মৌমাছির মতো ছিল| সেযীর থেকে হর্মা পর্য়ন্ত সমস্ত রাস্তা তোমাদের তাড়া করেছিল|
45 তখন তোমরা ফিরে এসেছিলে এবং প্রভুর কাছে সাহায্যের জন্য কেঁদেছিলে| কিন্তু প্রভু তোমাদের কান্নায মন দিলেন না, তোমাদের কোনো কথা শুনলেন না|
46 আর তোমরা কাদেশে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করে




অধ্যায় 2

1 “তারপর প্রভু আমাকে যা করতে বলেছিলেন, সেই অনুসারে আমরা সূফ সাগরে যাওয়ার রাস্তা দিয়ে মরুভূমিতে ফিরে গিয়েছিলাম| সেযীর পর্বতমালাকে চক্রাকারে বেষ্টন করে আমরা দীর্ঘদিন ধরে ভ্রমণ করেছিলাম|
2 তখন প্রভু আমাকে বলেছিলেন,
3 ‘এই পর্বতমালাকে ঘিরে তোমরা বহুদিন ধরে ভ্রমণ করেছ| উত্তর দিকে ঘুরে যাও|
4 লোকদের এই কথাগুলো বল: তোমরা সেযীর দেশের মধ্য দিয়ে যাবে| এই দেশটি তোমাদের আত্মীয এষৌ এর উত্তরপুরুষের| তারা তোমাদের ভয় পাবে| তাই তোমরা সাবধান হবে|
5 তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করো না| তাদের দেশের কোনো অংশই আমি তোমাদের দেবো না - এমন কি এর এক ফুট পরিমাণও নয়| কারণ আমি এষৌকে সেযীরের পার্বত্য প্রদেশটি তার নিজের দেশ হিসাবে দিয়েছি|
6 তোমরা তাদের কাছ থেকে টাকা দিয়ে খাবার কিনে খাবে এবং জল কিনে পান করবে|
7 মনে রাখবে য়ে তোমরা যা করেছো তার প্রত্যেকটি কাজে প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের আশীর্বাদ করেছেন| এই বৃহত্‌ মরুভূমির মধ্য দিয়ে তোমাদের হাঁটার খবর তিনি জানেন| এই 40 বছর ধরে প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের সঙ্গে আছেন| তাই তোমাদের কোন কিছুরই অভাব হয় নি|’
8 “সেই কারণে আমরা সেযীরে বসবাসকারী এষৌ এর লোকদের অর্থাত্‌ আমাদের আত্মীযদের সামনে দিয়ে চলে গেলাম| যর্দন উপত্যকা থেকে এলত্‌ এবং ইত্‌সিযোন গেবরের শহরে যাওয়ার রাস্তা ত্যাগ করে আমরা মোয়াবের মরুভূমিতে যাওয়ার রাস্তার দিকে ঘুরেছিলাম|
9 “প্রভু আমাকে বলেছিলেন, ‘মোয়াবে লোকদের কষ্ট দিও না, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করো না, তাদের দেশের কোনো অংশই আমি তোমাদের দেবো না| তারা লোটের উত্তরপুরুষ এবং আমিই তাদের আর্ শহর দান করেছিলাম|”‘ (
10 অতীতে, আর্-এ এমীয় লোকরা বাস করতো| তারা খুব শক্তিশালী ছিল এবং সেখানা তাদের সংখ্যাও ছিল প্রচুর| অনাকীয় লোকদের মতো তারা উচ্চতায় ছিল বেশ লম্বা|
11 অনাকীয় ছিল রফাযীয় লোকদেরই অংশ বিশেষ| লোকরা ভেবেছিল য়ে এমীয়রাও রফাযীয়; কিন্তু মোয়াবে লোকরা তাদের এমীয় বলত|
12 আগে সেযীরে হোরীয লোকরাও থাকত, কিন্তু এষৌ এর লোকরা হোরীযদের তাড়িয়ে দিয়েছিল এবং তাদের ধ্বংস করে দেশেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছিল| ইস্রায়েলের লোকরাও ঠিক এই রকমটাই করেছিল, প্রভু তাদের য়ে দেশ দিয়েছিলেন সেই দেশের লোকদের প্রতি এই একই কাজ করেছিল|)
13 “প্রভু আমাকে বলেছিলেন, ‘এখন তোমরা সেরদ উপত্যকার অপর পাশে যাও|’ সেই কারণে আমরা সেরদ উপত্যকা পার করেছিলাম|
14 কাদেশ বর্ণেয় ত্যাগের পর থেকে সেরদ উপত্যকা অতিক্রম করা পর্য়ন্ত মাঝখানে 38 বছরের ব্যবধান ছিল| এই সময়ের মধ্যে আমাদের শিবিরের সব পুরুষ য়োদ্ধারাই মারা গিয়েছিল| প্রভু তেমনই শপথ করেছিলেন|
15 শিবিরের মধ্যে তাদের সকলের মৃত্যু না হওয়া পর্য়ন্ত প্রভু তাদের বিরুদ্ধে ছিলেন|
16 “আমাদের সমস্ত য়োদ্ধারা মারা যাওয়ার পর,
17 প্রভু আমাকে এই কথা বলেছিলেন,
18 “আজ তোমরা অবশ্যই আর্-এ সীমান্ত পার করবে এবং মোয়াবে প্রবেশ করবে|
19 তোমরা অম্মোনীয়দের কাছে উপস্থিত হয়ে তাদের বিরক্ত করবে না| তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করো না, কারণ আমি তাদের দেশ তোমাদের দান করবো না| কারণ তারা লোটের উত্তরপুরুষ এবং আমিই তাদের ঐ দেশ দিয়েছি|”‘
20 (সেই দেশ রফায়ীয়র দেশ বলেও পরিচিত| অতীতে রফায়ীয় লোকরা সেখানে বাস করতো| অম্মোনের লোকরা তাদের সম্সুম্মীয বলে ডাকত|
21 সেখানে বহু সম্সুম্মীয ছিল এবং তারা ছিল যথেষ্ট শক্তিশালী| অনাকীয় লোকদের মতো তারা উচ্চতায় লম্বা ছিল| কিন্তু সম্সুম্মীযদের ধ্বংস করতে প্রভু অম্মোন লোকদের সাহায্য করেছিলেন| অম্মোন লোকরা সেই দেশ অধিগ্রহণ করে সেখানেই বাস করছে|
22 এষৌ এর লোকদের জন্য ঈশ্বর এই একই কাজ করেছিলেন| অতীতে হোরীয লোকরা সেযীরে (ইদোম) বাস করত; কিন্তু এষৌ এর লোকরা হোরীযদের ধ্বংস করে আজ পর্য়ন্ত এষৌর উত্তরপুরুষ সেখানেই বাস করছে|
23 কপ্তোরীযএর কিছু সংখ্যক লোকের জন্যও ঈশ্বর এই একই কাজ করেছিলেন| ঘসার চতুর্দিকের শহরে অব্বীয লোকরা বাস করত| কিন্তু কিছু সংখ্যক লোক কপ্তোরীয থেকে এসে অব্বীযদের ধ্বংস করেছিল| ক্রিট্ থেক আগত ঐ সকল লোকরা সেই দেশ অধিগ্রহণ করে সেখানেই বাস করল|)
24 “প্রভু আমাকে বলেছিলেন, ‘অর্ণোন উপত্যকা অতিক্রম করে যাওয়ার জন্য তৈরী হও| হিষ্বোনে ইমোরীয়দের রাজা সীহোনকে পরাজিত করতে আমি তোমাদের সাহায্য করবো| তার দেশ অধিগ্রহণ করতে আমি তোমাদের সাহায্য করবো| সুতরাং তার বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হও এবং তার দেশ অধিগ্রহণ করো|
25 আজ আমি সমস্ত জায়গার সকল লোকের মধ্যে তোমাদের সম্পর্কে ভীতির সঞ্চার করবো| তারা তোমাদের খবর জেনে ভয়ে আতঙ্কিত এবং কম্পিত হবে|’
26 “কদেমোত্‌-এর মরুভূমিতে থাকাকালীন আমি হিষ্বোনের রাজা সীহোনের কাছে কয়েকজন দূত পাঠিয়েছিলাম| দূতেরা সীহোনকে শান্তির প্রস্তাব দিয়ে বলেছিল,
27 “আপনার দেশের মধ্য দিয়ে আমাদের য়েতে দিন| আমরা রাস্তায়ই থাকবো| আমরা রাস্তার ডানদিক অথবা বামদিক কোনো দিকেই ঘুরব না|
28 আমরা আপনাদের কাছ থেকে খাবার ও জল রূপো দিয়ে কিনে খাব| আমরা শুধুমাত্র আপনার দেশের মধ্য দিয়ে পদব্রজে ভ্রমণ করতে চাই|
29 প্রভু আমাদের ঈশ্বর য়ে দেশ দিচ্ছেন, যর্দন নদী অতিক্রম করে সেই দেশে পৌঁছানো পর্য়ন্ত আমাদের আপনার দেশের মধ্য দিয়ে য়েতে দিন| সেযীরে বসবাসকারী এষৌয লোকরা এবং আর্-এ বসবাসকারী মোয়াবীয় লোকরা তাদের দেশের মধ্য দিয়ে আমাদের য়েতে দিয়েছেন|’
30 “কিন্তু সীহোন, হিষ্বোনের রাজা, আমাদের তার দেশের মধ্য দিয়ে য়েতে দেননি| কারণ প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তার মন কঠিন ও একগুঁযে করলেন য়েন তিনি তাকে তোমাদের হাতে সমর্পণ করেন, য়েমন আজ পর্য়ন্ত রয়েছে!
31 “প্রভু আমাকে বলেছিলেন, ‘আমি রাজা সীহোন এবং তার দেশ তোমাদের দিচ্ছি| এখন যাও তার দেশ অধিগ্রহণ করো!’
32 “এরপর য়হস নামক স্থানে রাজা সীহোন এবং তার সমস্ত লোকরা আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য বেরিয়ে এসেছিল|
33 কিন্তু প্রভু আমাদের ঈশ্বর সীহোনকে আমাদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন| আমরা রাজা সীহোন, তার পুত্রদের এবং তার সমস্ত লোকদের পরাজিত করেছিলাম|
34 সেই সময় রাজা সীহোনের সব শহরগুলোই আমরা অধিকার করেছিলাম| প্রত্যেক শহরের সমস্ত লোকদের, সকল পুরুষদের, স্ত্রীলোকদের এবং ছোট ছোট শিশুদের আমরা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছিলাম| আমরা কাউকেই জীবিত ছেড়ে দিই নি!
35 ঐ সমস্ত শহরগুলো থেকে আমরা কেবলমাত্র গবাদিপশু এবং মূল্য়বান দ্রব্যসামগ্রী নিয়েছিলাম|
36 অর্ণোন উপত্যকার ধারের অরোযের নামে একটি শহরকে এবং ঐ উপত্যকার মাঝখানের আরেকটি শহরকে আমরা পরাজিত করেছিলাম| অর্ণোন উপত্যকা এবং গিলিয়দের মাঝখানের সমস্ত শহরগুলোকে পরাজিত করতে প্রভু আমাদের সাহায্য করেছিলেন| আমাদের কাছে কোনো শহরই খুব শক্তিশালী ছিল না|
37 কিন্তু অম্মোনের লোকদের অধিকারভুক্ত দেশের কাছে তোমরা যাও নি| য়ব্বোক নদীর উপকূলে অথবা পার্বত্য অঞ্চলের শহরগুলোর কাছেও তোমরা যাও নি| তোমরা সেই সমস্ত স্থানে যাও নি যেখানে য়েতে প্রভু আমাদের নিষেধ করেছিলেন|




অধ্যায় 3

1 “আমরা ফিরেছিলাম এবং বাশনের রাস্তা ধরে গিয়েছিলাম| ইদ্রিযীতে বাশনের রাজা ওগ এবং তার সমস্ত লোকরা আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য বেরিয়ে এসেছিল|
2 প্রভু আমাকে বলেছিলেন, ‘ওগ সম্পর্কে ভীত হয়ো না| আমি স্থির করেছি য়ে তাকে আমি তোমাদের কাছে সমর্পণ করব| তার সমস্ত লোকদের এবং তার দেশ আমি তোমাদের দেব| হিষ্বোনে যিনি শাসনকার্য় চালাতেন সেই ইমোরীয় রাজা সীহোনকে তোমরা য়েভাবে পরাজিত করেছিলে, ঠিক সেই ভাবেই তোমরা একেও পরাজিত করবে|’
3 “সেই কারণে প্রভু আমাদের ঈশ্বর বাশনের রাজা ওগকে পরাজিত করতে সাহায্য করেছিলেন| আমরা তাকে এবং তার সমস্ত লোকদের পরাজিত করেছিলাম| তাদের আর কেউই বাকী ছিল না|
4 সেই সময় ওগের অধিকারে য়ে সমস্ত শহর ছিল তার সবগুলোই আমরা অধিকার করেছিলাম| ওগের লোকদের কাছ থেকে আমরা সব শহরগুলোই অধিকার করেছিলাম| এর মধ্যে ছিল বাশনের রাজা ওগের রাজ্য়, অর্গোব নামক অঞ্চলের 60 টি শহর|
5 এই সমস্ত শহরগুলো খুবই শক্তিশালী ছিল| তাদের দেওয়ালগুলি উঁচু, দরজা এবং দরজার ওপরে খিল ছিল খুব শক্ত| সেখানে আরও বহু এমন শহর ছিল য়েগুলোর কোনো প্রাচীর ছিল না|
6 হিষ্বোনের রাজা সীহোনের শহরগুলিকে আমরা য়েভাবে ধ্বংস করেছিলাম, সেভাবেই এদেরও ধ্বংস করেছিলাম| প্রত্যেকটি শহরকে এবং সেখানে বসবাসকারী সমস্ত লোকদের এমনকি সমস্ত স্ত্রীলোকদের এবং শিশুদের আমরা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করেছিলাম|
7 কিন্তু ঐ সমস্ত শহরের সমস্ত গোরু এবং সমস্ত মূল্য়বান দ্রব্যসামগ্রী আমরা নিজেদের জন্য রেখে দিয়েছিলাম|
8 “সেই প্রকারে, আমরা দুজন ইমোরীয় রাজার কাছ থেকে তাদের দেশ অধিগ্রহণ করেছিলাম| যর্দন নদীর পূর্বদিকে অর্ণোন উপত্যকা থেকে মাউন্ট হর্মোণ পর্বত পর্য়ন্ত দেশ আমরা অধিগ্রহণ করেছিলাম|
9 (সীদোনের লোকরা হর্মোণ পর্বতকে বলে সিরিযোন, কিন্তু ইমোরীয়রা এটিকে বলতো সনীর|)
10 উঁচু সমতলভূমির সমস্ত শহরগুলোকে এবং গিলিয়দ অধিগ্রহণ করেছিলাম| বাশনের সমস্ত অঞ্চল, সল্খা এবং ইদ্রিযী পর্য়ন্ত সমস্ত আমরা অধিকার করেছিলাম| সল্খা এবং ইদ্রিযী বাশনের রাজা ওগ-এর রাজ্য়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল|”(
11 অবশিষ্ট রফাযীয়দের মধ্যে কেবলমাত্র বাশনের রাজা ওগ ছিলেন| ওগ-এর খাট ছিল লোহা দিয়ে তৈরী| এটি 13 ফুটেরও বেশী লম্বা এবং 6 ফুট চওড়া ছিল| খাটটি এখনও রব্বা শহরে আছে, যেখানে অম্মোন লোকরা বাস করে|)
12 “সেই কারণে আমরা সেই দেশ আমাদের জন্য অধিকার করেছিলাম| রূবেণ এবং গাদের পরিবারগোষ্ঠীদের আমি এই দেশের অংশ বিশেষ দান করেছিলাম| অর্ণোন উপত্যকার আরোযার নামক জায়গা থেকে গিলিয়দের পার্বত্য দেশ পর্য়ন্ত সমস্ত দেশ এবং এর অন্তর্গত সমস্ত শহর আমি তাদের প্রদান করেছিলাম| গিলিয়দের পার্বত্য দেশের অর্ধেক তারা পেয়েছিল|
13 মনঃশির পরিবারগোষ্ঠীর অর্ধেকাংশকে আমি গিলিয়দের অপর অর্ধেক এবং বাশনের সম্পূর্ণ অঞ্চল প্রদান করেছিলাম|”(বাশন ছিল ওগের রাজ্য| বাশনের কিছু অংশকে বলা হতো অর্গোব| এটিকে রফাযীয় দেশও বলা হতো| মনঃশির পরিবারগোষ্ঠীর যাযীর, অর্গোবের সমস্ত অঞ্চল অধিগ্রহণ করেছিলেন| গশূরীয লোকদের এবং মাখাথীয লোকদের সীমানা পর্য়ন্ত সেই অঞ্চল বিস্তৃত ছিল| সেই অঞ্চলটি যাযীর নামে অভিহিত হয়েছিল| সেই কারণে আজও লোকরা বাশনকে যাযীরের শহর বলে|)
14
15 “আমি মাখীরকে গিলিয়দ প্রদান করেছিলাম|
16 এবং রূবেণের পরিবারগোষ্ঠীকে এবং গাদ-এর পরিবারগোষ্ঠীকে আমি সেই দেশ প্রদান করেছিলাম, য়েটি গিলিয়দে শুরু হয়েছে| এই দেশটি অর্ণোন উপত্যকা থেকে য়ব্বোক নদী পর্য়ন্ত বিস্তৃত| উপত্যকাটির মধ্যাঞ্চল হল একটি সীমানা| য়ব্বোক নদীটি হল অম্মোনীয় লোকদের সীমানা|
17 মরুভূমির কাছের যর্দন নদী ছিল তাদের পশ্চিম সীমানা| এই অঞ্চলের উত্তরে গালিল হ্রদ এবং দক্ষিণে রয়েছে মৃতের সমুদ্র (লবণ সমুদ্র)| এটি পূর্বদিকের পিস্গার পাহাড়গুলির নীচে অবস্থিত|
18 “সেই সময়, আমি তোমাদের এই আদেশ দিয়েছিলাম; ‘প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের যর্দন নদীর পূর্বদিকের্ দেশ বাস করার জন্য দিয়েছেন| কিন্তু এখন তোমাদের য়োদ্ধারা অবশ্যই তাদের অস্ত্র তুলে নেবে এবং অন্যান্য ইস্রায়েলীয় পরিবারগোষ্ঠীকে নদী অতিক্রম করার কাজে নেতৃত্ব দেবে|
19 তোমাদের স্ত্রীরা, তোমাদের সন্তানরা এবং তোমাদের সমস্ত গবাদিপশু (আমি জানি তোমাদের অনেক গবাদিপশু আছে) অবশ্যই এই শহরগুলিতে থাকবে, য়েটা আমি তোমাদের দিয়েছি|
20 কিন্তু তোমরা অবশ্যই তোমাদের ইস্রায়েলীয় আত্মীযবর্গকে সাহায্য করবে, যতক্ষণ পর্য়ন্ত না তারা যর্দন নদীর অপর পারে তাদের প্রভুর দেওয়া দেশ অধিগ্রহণ করে| প্রভু তাদের সেখানে শাস্তি দেওয়া পর্য়ন্ত তাদের সাহায্য করো, ঠিক য়েমন তিনি এখানে তোমাদের জন্য করেছিলেন| এরপর আমি তোমাদের য়ে দেশ দিয়েছি সেখানে ফিরে আসতে পার|’
21 “তখন আমি যিহোশূয়কে বলেছিলাম, ‘প্রভু তোমাদের ঈশ্বর এই দুজন রাজার কি দশা করেছেন সেটা তুমি স্বচক্ষে দেখেছ| তুমি য়ে রাজ্য়েই প্রবেশ করবে, সেখানেই ঈশ্বর এই একই কাজ করবেন|
22 এই সকল দেশের রাজাদের ভয় পেও না, কারণ প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের জন্য যুদ্ধ করবেন|’
23 “এরপর আমার বিশেষ কিছু করার জন্য আমি প্রভুর কাছে প্রার্থনা করেছিলাম| আমি বলেছিলাম,
24 ‘প্রভু আমার মনিব, আমি তোমার সেবক| আমি জানি য়ে তুমি তোমার চমত্কারিত্বের এবং শক্তির সামান্য অংশই আমাকে দেখিয়েছ| তুমি য়ে মহত্‌ এবং শক্তি সম্পন্ন কাজ করেছ, তেমন কাজ করতে পারে এমন কোনো ঈশ্বর স্বর্গে অথবা পৃথিবীতে নেই|
25 কৃপা করে আমাকে যর্দন নদী পার হতে এবং সেই উত্তম দেশ প্রত্যক্ষ করতে দাও| আমাকে সুন্দর পার্বত্য দেশ এবং লিবানোন দর্শন করতে দাও|’
26 “কিন্তু তোমাদের জন্য প্রভু আমার ওপরে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন| তিনি আমার কথা শুনতে অস্বীকার করেছিলেন| প্রভু আমাকে বলেছিলেন, ‘এটাই যথেষ্ট! এই প্রসঙ্গে আর কোনো কথা বোলো না|
27 পিস্গা পর্বতের সর্বোচ্চ শিখরে যাও| এর পশ্চিম দিক, উত্তর দিক, দক্ষিণ দিক এবং পূর্ব দিক প্রত্যক্ষ কর| তুমি এই সব চোখে দেখতে পাবে, কিন্তু কখনই যর্দন নদী অতিক্রম করতে পারবে না|
28 তুমি অবশ্যই যিহোশূয়কে নির্দেশ দেবে| তুমি অবশ্যই তাকে উত্সাহিত করবে এবং তাকে সবল করবে| কারণ যর্দন নদী অতিক্রম করার কাজে যিহোশূয় লোকদের নেতৃত্ব দেবে| তুমি কেবল দেশটি দেখতে পাবে, কিন্তু যিহোশূয় তাদের ঐ দেশে নিয়ে যাবে| সে তাদের ঐ দেশটির অধিগ্রহণে এবং সেখানে বাস করতে সাহায্য করবে|’
29 “সেই কারণে, বৈত্‌-পিযোরের অপর দিকের উপত্যকাতেই আমরা থেকেছিলাম|”




অধ্যায় 4

1 “হে ইস্রায়েলীয়রা, আমি তোমাদের য়ে বিধি এবং আদেশ শেখাব সেগুলো খুব মন দিয়ে শোন| সেগুলো মান্য করলে তোমরা ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে| তাহলেই প্রভু তোমাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর তোমাদের য়ে দেশ দিচ্ছেন, সেই দেশে তোমরা প্রবেশ করতে পারবে এবং সেই দেশ অধিকার করতে পারবে|
2 আমি তোমাদের য়ে আদেশ দিয়েছি তার সঙ্গে তোমরা কোন কিছু য়োগ কোর না এবং তার থেকে কোনো কিছু বাদ দিও না| তোমরা অবশ্যই তোমাদের প্রভু, ঈশ্বরের আদেশ মান্য করবে, যা আমি তোমাদের দিয়েছি|
3 “তোমরা দেখেছ, প্রভু বাল পিযোরে কি করেছিলেন| সেই স্থানে তোমাদের য়ে সব লোকরা বালের মূর্ত্তির অনুগামী হয়েছিল, তাদের সকলকে প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর ধ্বংস করেছিলেন|
4 কিন্তু তোমরা সকলে যারা তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের অনুগামী হয়েই থেকেছিলে, তারা আজও বেঁচে আছ|
5 “প্রভু আমার ঈশ্বর আমাকে য়ে আজ্ঞা দিয়েছিলেন, সেই বিধি এবং শাসন সম্পর্কে আমি তোমাদের শিখিযেছিলাম| এই বিধিগুলো আমি এই কারণে শিখিযেছিলাম যাতে তোমরা য়ে দেশে প্রবেশ করতে যাচ্ছ এবং নিজেদের জন্য অধিগ্রহণ করছ, সেখানে এই গুলো মেনে চলতে পার|
6 খুব সতর্কভাবে এই বিধিগুলোকে মেনে চলবে| এর থেকে অন্য গোষ্ঠীর লোকরা বুঝতে পারবে তোমরা কতটা জ্ঞানী এবং বুদ্ধিমান| এই সকল বিধি সম্পর্কে জানতে পেরে তারা বলবে, ‘সত্য়ি এই জাতির (ইস্রায়েল) লোকরা জ্ঞানী এবং বুদ্ধিমান|”
7 “কারণ এমন কোন্ মহান জাতি রয়েছে যাদের ঈশ্বর নিকটেই থাকেন এবং আমাদের প্রভু ঈশ্বরের মত ডাকলেই কাছে আসেন?
8 আজ আমি তোমাদের য়ে শিক্ষামালা দিচ্ছি, সেরকম ভাল ও ন্যায় বিধি ও নিয়মাবলী কোন জাতির আছে?
9 কিন্তু সাবধান, নিজের বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রেখো পাছে তোমরা যা দেখেছ তার কোনো কিছুই ভুলে যাও এবং পাছে তা তোমাদের জীবনকালে মন থেকে মুছে যায়| তোমরা অবশ্যই তোমাদের সন্তানদের এবং নাতি-নাতনীদের ঐগুলো শিক্ষা দেবে|
10 মনে করো সে দিনের কথা, য়েদিন হোরেব পর্বতে তোমরা তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের সম্মুখে দাঁড়িয়েছিলে| প্রভু আমাকে বলেছিলেন, ‘আমি যা বলি, সেগুলো শোনার জন্য সমস্ত লোকদের এক জায়গায় জড়ো করো| তখন তারা যতদিন এই পৃথিবীতে বাঁচবে ততদিন আমাকে সম্মান করতে শিখবে এবং তারা তাদের সন্তানদের এগুলো শেখাবে|’
11 তোমরা কাছে এসেছিলে এবং পাহাড়ের পাদদেশে দাঁড়িয়েছিলে| পাহাড়টি আগুনে জ্বলছিল আর সেই আগুন আকাশ পর্য়ন্ত প্রসারিত হয়েছিল| সেখানে ঘন কালো মেঘ এবং ঘন অন্ধকার ছিল|
12 তখন প্রভু আগুনের মধ্যে থেকে তোমাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন| তোমরা কথা বলার রব শুনেছিলে, কিন্তু তোমরা কোনো প্রকার আকৃতি দেখতে পাও নি| কেবল গলার রব শোনা যাচ্ছিল|
13 প্রভু তাঁর চুক্তির কথা তোমাদের বলেছিলেন এবং দশটি আজ্ঞা দিয়ে তোমাদের সেগুলো মেনে চলতে বলেছিলেন| সেই বিধিগুলো প্রভু দুটি পাথরের ফলকের ওপরে লিখেছিলেন|
14 সেই সময় তোমরা য়ে দেশে প্রবেশ করতে এবং অধিগ্রহণ করতে যাচ্ছ, সেখানে মেনে চলার জন্য বিধি এবং নিয়ম সম্পর্কেও তোমাদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য প্রভু আমাকে আদেশ করেছিলেন|
15 “হোরেব পর্বতে আগুনের মধ্য থেকে য়েদিন প্রভু তোমাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, সেদিন তোমরা তাঁকে দেখতে পাও নি| সেখানে ঈশ্বরের কোনো আকৃতি ছিল না|
16 সুতরাং খুব সাবধান! জীবিত কোনো কিছুর আকৃতিতে মূর্ত্তি অথবা খোদাই করা প্রতিমা তৈরী করে তোমরা পাপ করো না এবং নিজেদের ধ্বংস করো না| একজন পুরুষ অথবা একজন স্ত্রীলোকের মতো দেখতে কোনো প্রতিমূর্ত্তি তৈরী করো না|
17 পৃথিবীর কোনো পশুর মতো অথবা আকাশে ওড়ে এমন কোনো পাখির মতো দেখতে কোনো প্রতিমূর্ত্তি তৈরী করো না|
18 মাটির বুকে ভর দিয়ে চলে এমন কোনো কিছুর মতো অথবা সমুদ্রের কোনো মাছের মতো প্রতিমূর্ত্তি তৈরী করো না|
19 তোমরা আকাশের দিকে তাকিযে সূর্য়, চন্দ্র, তারা এবং আকাশের সমস্ত বাহিনী দেখতে পেলে সতর্ক থাকবে| খুব সাবধান, ঐ সকল দ্রব্যসামগ্রীর পূজা ও সেবা করার জন্য তোমরা য়েন প্রলুব্ধ না হও| প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, পৃথিবীর অন্যান্য লোকদের এই জিনিসগুলি পূজা করতে দিয়েছেন|
20 কিন্তু প্রভু তোমাদের লোহা গলানোর গরম চুল্লী সেই মিশর থেকে বের করে এনে তাঁর নিজের বিশেষ লোক হিসেবে মনোনীত করেছিলেন| য়েমন আজ তোমরা রযেছ!
21 “প্রভু তোমাদের কারণে আমার ওপরে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন এবং প্রতিজ্ঞা করেছিলেন য়ে আমাকে যর্দন নদী অতিক্রম করে য়েতে দেবেন না| তিনি আমাকে বলেছিলেন য়ে আমি সেই উত্তম দেশে প্রবেশ করতে পারবো না য়েটা প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের দিতে যাচ্ছেন|
22 সুতরাং আমি এখানে এই দেশে অবশ্যই মারা যাব| আমি যর্দন নদী অতিক্রম করব না, কিন্তু তোমরা শীঘ্রই যর্দন নদীর অপর পারে যাবে এবং সেই উত্তম দেশ অধিগ্রহণ করে সেখানে বাস করবে|
23 সেই নতুন দেশে, তোমরা খুবই সতর্ক থাকবে য়ে তোমাদের প্রভু ঈশ্বর তোমাদের সঙ্গে য়ে চুক্তি করেছিলেন সেটি তোমরা ভুলবে না| তোমরা অবশ্যই প্রভুর আজ্ঞা মান্য করবে| প্রভুর নিষেধ মত কোনো আকারের কোনো মূর্ত্তি তৈরী করবে না|
24 কারণ প্রভু তোমাদের ঈশ্বর গ্রাসকারী আগুনের মতো, তিনি নিজের গৌরব রক্ষা করতে উদ্য়োগী!
25 “তোমরা দীর্ঘ সময় দেশে বাস করবে| সেখানে যখন তোমাদের সন্তান এবং নাতি-নাতনী হবে এবং তোমরা সেখানে বৃদ্ধ হবে, তখন যাবতীয় প্রকারের মূর্ত্তি তৈরী করে তোমরা শুধু তোমাদের জীবনই নষ্ট করবে!
26 সুতরাং আমি তোমাদের এখনই সাবধান করছি| স্বর্গ এবং পৃথিবী আমার সাক্ষী| যদি তোমরা ঐ সকল খারাপ কাজ করো, তাহলে তোমরা খুব শীঘ্রই ধ্বংস হবে| সেই দেশ অধিগ্রহণ করার জন্যে তোমরা এখন যর্দন নদী অতিক্রম করছো| কিন্তু তোমরা যদি কোনো প্রকার প্রতিমূর্ত্তি তৈরী করো, তাহলে তোমরা সেখানে বেশী দিন বাঁচতে পারবে না| না, তোমরা সম্পূর্ণ ধ্বংস হবে|
27 প্রভু তোমাদের বিভিন্ন জাতির মধ্যে ছড়িয়ে দেবেন এবং প্রভু তোমাদের যেখানে পাঠাবেন সেই দেশগুলোতে যাওয়ার জন্য তোমাদের খুব অল্প সংখ্যকই জীবিত থাকবে|
28 সেখানে তোমরা পুরুষদের তৈরী দেবতাদের সেবা করবে - কাঠের অথবা পাথরের তৈরী দ্রব্যসামগ্রী যা দেখতে, শুনতে, খেতে অথবা ঘ্রাণ নিতে পারে না!
29 কিন্তু সেখানে ঐ অন্যান্য দেশগুলোতে তোমরা তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের অনুসন্ধান করবে এবং তোমরা যদি সর্বান্তঃকরণে এবং সম্পূর্ণ আত্মা দিয়ে তাঁর অনুসন্ধান করো, তাহলে তাঁকে খুঁজে পাবে|
30 যখন তোমরা সমস্যার মুখোমুখি হবে, যখন তোমরা বিপদে পড়বে, যখন ঐ সকল ঘটনা তোমাদের প্রতি ঘটবে - তখন তোমরা তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের কাছে ফিরে আসবে এবং তাঁর আদেশ পালন করবে|
31 তোমাদের প্রভু ঈশ্বর হলেন ক্ষমাপরাযণ ঈশ্বর| তিনি তোমাদের সেখানে পরিত্যাগ করবেন না| তিনি তোমাদের সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করবেন না| তোমাদের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে তিনি য়ে নিয়ম করেছিলেন সেটি তিনি ভুলবেন না|
32 “এরকম মহত্‌ কোনও কিছুর কথা কি কেউ কখনও শুনেছে? না! অতীতের দিকে ফিরে তাকাও| তোমাদের জন্মের আগে যা যা হয়েছিল সেগুলো সম্পর্কে ভাবো| ঈশ্বর যখন পৃথিবীতে মানুষের সৃষ্টি করেছিলেন সেই সময়ে ফিরে যাও| এই পৃথিবীতে যেখানে যা যা হয়েছে সেগুলোর দিকে ফিরে তাকাও| এর মতো মহত্‌ কোনো কিছু সম্পর্কে কেউ কি কখনও শুনেছে? না!
33 তোমরা ঈশ্বরকে আগুনের মধ্য থেকে তোমাদের সঙ্গে কথা বলতে শুনেছিলে এবং তোমরা এখনও বেঁচে আছ| অন্য কোন দেশের সঙ্গে কি সেরকম কোনো কিছু কখনও হয়েছিলো? না!
34 এবং অন্য কোনোও দেবতা কি কখনও আরেকটি জাতির ভেতর থেকে নিজের জন্য একটি জাতিকে নেবার চেষ্টা করেছে? না! কিন্তু তোমরা নিজেরা দেখেছ য়ে তোমাদের প্রভু ঈশ্বর এই সকল চমত্কার কাজ করেছিলেন| তিনি তোমাদের ক্ষমতা এবং শক্তি দেখিয়েছিলেন| তোমরা অলৌকিক ও আশ্চর্য় জিনিসগুলি দেখেছ| তোমরা যুদ্ধ এবং ভয়ঙ্কর ব্যাপারগুলি যা প্রভু মিশরের ওপর ঘটিযেছেন তা দেখেছ|
35 প্রভু তোমাদের ঐ সব দেখিয়েছিলেন যাতে তোমরা জানতে পার য়ে তিনি হলেন ঈশ্বর| তাঁর মতো কোনও দেবতা নেই!
36 তিনি তোমাদের স্বর্গ থেকে তাঁর কন্ঠস্বর শোনালেন যাতে তোমাদের শিক্ষা দিতে পারেন| পৃথিবীতে তিনি তোমাদের তাঁর আগুন দেখিয়েছেন এবং তার মধ্য থেকে তোমাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন|
37 “প্রভু তোমাদের পূর্বপুরুষদের ভালোবাসতেন, তাই তোমাদের অর্থাত্‌ তাদের উত্তরপুরুষদের মনোনীত করেছিলেন| এবং সেই কারণেই প্রভু তোমাদের সঙ্গে থেকে এবং তাঁর মহাপরাক্রমের সাহায্যে তিনি তোমাদের মিশর থেকে বের করে এনেছিলেন|
38 যখন তোমরা আরও এগোচ্ছিলে সেই সময় প্রভু তোমাদের থেকে বৃহত্‌ এবং আরও বেশী শক্তিশালী জাতিগুলিকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন| প্রভু তোমাদের তাদের দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন| সেখানে বাস করার জন্য তিনি তাদের দেশ তোমাদের দিয়েছিলেন এবং আজও তিনি সেই কাজই করে চলেছেন|
39 “সুতরাং আজ তোমরা অবশ্যই মনে করবে এবং মেনে নেবে য়ে প্রভুই হলেন ঈশ্বর| তিনি ওপরে স্বর্গের এবং নীচে পৃথিবীর ঈশ্বর| সেখানে অন্য কোনো ঈশ্বর নেই!
40 এবং আজ আমি তোমাদের তাঁর য়ে বিধি এবং আজ্ঞাসমূহ দিলাম সেগুলো তোমরা অবশ্যই মেনে চলবে| তাহলে সমস্ত কিছুই তোমাদের সঙ্গে এবং তোমাদের পরে তোমাদের য়ে সন্তানরা থাকবে তাদের সঙ্গে ভালোভাবে চলবে এবং প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের য়ে দেশ দিচ্ছেন সেখানে তোমরা দীর্ঘদিন বাস করতে পারবে - এটি চিরদিনের জন্য তোমাদেরই হবে!”
41 এরপর মোশি যর্দন নদীর পূর্বদিকের তিনটি শহর বেছে নিলেন|
42 যদি কোনো ব্যক্তি দুর্ঘটনাক্রমে অপর কোনো এক ব্যক্তিকে হত্যা করে, তাহলে সে ঐ তিনটি শহরের য়ে কোনো একটিতে পালিয়ে য়েতে পারে এবং তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে না| কিন্তু সে নিরাপদ হবে যদি সে অপর ব্যক্তিটিকে ঘৃণা না করে থাকে এবং যদি তার তাকে হত্যা করার অভিপ্রায় না থেকে থাকে|
43 মোশি য়ে তিনটি শহর বেছেছিলেন সেগুলো ছিল: রূবেণের পরিবারগোষ্ঠীর জন্য উচ্চসমভূমিতে অবস্থিত বেত্‌ সর, গাদের পরিবারগোষ্ঠীর জন্য গিলিয়দে অবস্থিত রামোত্‌, মনঃশির পরিবারগোষ্ঠীর জন্য বাশনে অবস্থিত গোলন|
44 মোশি ইস্রায়েলের লোকদের ঈশ্বরের ব্যবস্থাগুলি দিয়েছিলেন|
45 লোকরা মিশর থেকে বেরিয়ে আসার পরে মোশি প্রভুর এই শিক্ষামালা, নিয়মাবলী এবং আজ্ঞাগুলি তাদের দিয়েছিলেন|
46 যখন তারা বৈত্‌পিযোরের অন্য পারে যর্দন নদীর পূর্বদিকের উপত্যকায ছিলেন, সেই সময় মোশি তাদের এই বিধিগুলো দিয়েছিলেন| হিষ্বোনে বসবাসকারী ইমোরীয়দের রাজা সীহোনের দেশে তারা ছিলেন| মিশর থেকে বেরিয়ে আসার সময় (মোশি এবং ইস্রায়েলের লোকরা সীহোনকে পরাজিত করেছিলেন|
47 তারা সীহোন অধিকার করেছিলেন| এছাড়াও তারা বাশনের রাজা ওগের দেশ নিয়েছিলেন| এই দুজন ইমোরীয় রাজা যর্দন নদীর পূর্বদিকে বাস করতেন|
48 এই জমি অর্ণোন উপত্যকার সীমানায অরোযার থেকে সীওন (হর্মোণ) পর্বত পর্য়ন্ত বিস্তৃত ছিল|
49 যর্দন নদীর পূর্বদিকের সমগ্র যর্দন উপত্যকা এই দেশের অন্তর্ভুক্ত ছিল| দক্ষিণ দিকে এই দেশ মৃত সাগর পর্য়ন্ত বিস্তৃত ছিল| পূর্ব দিকে এই দেশ পিস্গা পর্বতের পাদদেশ পর্য়ন্ত বিস্তৃত ছিল|)




অধ্যায় 5

1 মোশি ইস্রায়েলের সমস্ত লোককে আহ্বান করে তাদের বলেছিলেন, “ইস্রায়েলের লোকরা তোমরা অবশ্যই এই বিধিগুলি শিখবে এবং সেগুলি অনুসরণ করবে| এই বিধিসমুহ শোনো এবং সেগুলো মেনে চলার ব্যাপারে নিশ্চিত থেকো|
2 প্রভু, আমাদের ঈশ্বর হোরেব পর্বতে আমাদের সঙ্গে একটা চুক্তি করেছিলেন|
3 প্রভু এই চুক্তি আমাদের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে করেন নি, কিন্তু করেছিলেন আমাদের সঙ্গে| হ্যাঁ, আজ আমরা যারা জীবিত আছি, এই আমাদের সকলের সঙ্গেই করেছিলেন|
4 সেই পর্বতে প্রভু তোমাদের সঙ্গে মুখোমুখি কথা বলেছিলেন|
5 কিন্তু তোমরা আগুন থেকে ভীত ছিলে এবং পর্বতের ওপরে যাওনি বলে প্রভু যা বলেছিলেন সেটি তোমাদের বলার জন্য আমি প্রভু ও তোমাদের মাঝখানে দাঁড়িয়েছিলাম| প্রভু বলেছিলেন,
6 ‘আমি প্রভু তোমাদের ঈশ্বর| তোমরা যেখানে ক্রীতদাস হয়েছিলে সেই মিশর থেকে আমি তোমাদের পথ দেখিয়ে বের করে নিয়ে এসেছিলাম| সুতরাং তোমরা অবশ্যই এই আজ্ঞাগুলো মানবে:
7 “তোমরা অবশ্যই আমাকে ছাড়া অন্য কোনোও দেবতার পূজা করবে না|
8 “তোমরা অবশ্যই কোনো প্রতিমা তৈরী করবে না| আকাশের ওপরের কোনো কিছুর অথবা পৃথিবীর ওপরের কোনো কিছুর অথবা জলের নীচের কোনো কিছুর মূর্ত্তি অথবা ছবি তোমরা তৈরী করবে না|
9 তোমরা অন্য কোনোও প্রকার মূর্ত্তির পূজা অথবা সেবা করবে না| কেন? কারণ আমি প্রভু তোমাদের ঈশ্বর| আমার লোকদের অন্য কোনো দেবতার পূজা করাকে আমি ঘৃণা করি|আমার বিরুদ্ধে য়ে সব লোক পাপ কাজ করে তারা আমার শত্রুতে পরিণত হয় এবং আমি ঐ সমস্ত লোকদের শাস্তি দেব| আমি তাদের সন্তানদের, তাদের পৌত্র ও পৌত্রীদের এবং এমনকি তাদের প্রপৌত্র, প্রপৌত্রীদেরও শাস্তি দেব|
10 কিন্তু য়ে সব লোকরা আমাকে ভালবাসে এবং আমার আজ্ঞাগুলো মেনে চলে, হাজার হাজার পুরুষ ধরে আমি তাদের পরিবারের প্রতি আমার বিশ্বস্ত ভালবাসা প্রদর্শন করব!
11 “তোমরা অবশ্যই ভুলভাবে তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের নাম ব্যবহার করবে না| যদি কোনো ব্যক্তি ভুলভাবে প্রভুর নাম ব্যবহার করে, তাহলে সেই ব্যক্তি দোষী এবং প্রভু তাকে নিরপরাধী বলে মনে করবেন না|
12 “প্রভু তোমাদের ঈশ্বর য়ে রকম আজ্ঞা করেছিলেন, সেই অনুসারে তোমরা অবশ্যই বিশ্রামের দিনটিকে একটি বিশেষ দিন হিসেবে পালন করবে|
13 কর্মস্থানে তোমরা সপ্তাহে ছয়দিন কাজ করবে|
14 কিন্তু প্রভু তোমাদের ঈশ্বরকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য সপ্তম দিনটি হল বিশ্রামের দিন, সুতরাং সেই দিনে কোনো ব্যক্তির কাজ করা উচিত্‌ নয়| তোমরা, তোমাদের পুত্ররা এবং কন্যারা, তোমাদের শহরে বসবাসকারী বিদেশীরা অথবা তোমাদের পুরুষ অথবা স্ত্রী, ক্রীতদাসরা কেউই কাজ করবে না| এমন কি তোমাদের গরুদের, গাধাদের এবং অন্যান্য পশুদেরও কোনো কাজ করা উচিত্‌ হবে না| ঠিক তোমাদের মতোই তোমাদের ক্রীতদাসরা বিশ্রাম করবে|
15 ভুলো না য়ে মিশরে তোমরা ক্রীতদাস ছিলে| প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তাঁর মহাশক্তির দ্বারা তোমাদের মিশর থেকে বের করে এনেছিলেন| তিনি তোমাদের মুক্ত করেছিলেন| সেই কারণে প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, বিশ্রামের দিনটিকে এক বিশেষ দিন হিসেবে পালন করার জন্য আদেশ করেছেন|
16 “ঈশ্বরের আজ্ঞা মত তোমরা অবশ্যই তোমাদের পিতামাতাকে সম্মান জানাবে| তোমরা এই আদেশ অনুসরণ করলে দীর্ঘজীবি হবে এবং প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের য়ে দেশ দিয়েছেন সেই দেশে তোমাদের মঙ্গল হবে|
17 “তোমরা নরহত্যা করো না|
18 “তোমরা ব্যভিচার করো না|
19 “তোমরা চুরি করো না|
20 “তোমরা প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিও না|
21 “তোমরা অবশ্যই অন্য কোনো ব্যক্তির স্ত্রীতে লোভ করবে না| তোমরা অবশ্যই তার বাড়ী, তার শস্যক্ষেত্র, তার পুরুষ দাস অথবা স্ত্রী দাসীকে, তার গরুদের বা গাধাদের অর্থাত্‌ প্রতিবেশীর অধিকৃত কোনো দ্রব্যসামগ্রীতেই লোভ করবে না|”
22 মোশি বলেছিলেন, “যখন তোমরা সকলে পর্বতে একসঙ্গে এসেছিলে, সেই সময়ে প্রভু তোমাদের সকলকে এই আদেশগুলো দিয়েছিলেন| প্রভু মহারবে আগুনের মধ্য থেকে, মেঘের মধ্য থেকে এবং ঘোর অন্ধকারের মধ্য থেকে কথা বলেছিলেন| আমাদের এই আদেশগুলো দেওয়ার পরে তিনি আর কিছুই বলেন নি| তিনি তাঁর কথাগুলো দুটি পাথরের ফলকের ওপরে লিখেছিলেন এবং সেই গুলো আমাকে দিয়েছিলেন|
23 “যখন পর্বতমালা আগুনে প্রজ্বলিত হচ্ছিল, সেই সময় তোমরা অন্ধকারের মধ্য থেকে গলার রব শুনতে পেয়েছিলে| সেই সময় প্রবীণরা এবং তোমাদের পরিবারগোষ্ঠীর অন্যান্য নেতারা আমার কাছে এসেছিল|
24 তারা বলেছিল, ‘প্রভু আমাদের ঈশ্বর আমাদের তাঁর মহিমা এবং তাঁর মহত্ব দেখিয়েছেন! আমরা তাঁকে আগুনের মধ্য থেকে কথা বলতে শুনেছিলাম! ঈশ্বর মানুষের সাথে কথা বলার পরেও সে য়ে বেঁচে থাকতে পারে তা আজ আমরা দেখলাম|
25 কিন্তু আমরা যদি আবার প্রভু, আমাদের ঈশ্বরকে আমাদের সঙ্গে কথা বলতে শুনি, নিশ্চিত আমরা মারা যাবো! সেই ভয়ঙ্কর আগুন আমাদের ধ্বংস করবে| আমরা মরতে চাই না|
26 কোনোও ব্যক্তি আগুনের মধ্য থেকে জীবন্ত ঈশ্বরের কন্ঠস্বর শোনে নি, য়েমন আমরা শুনেছি এবং শুনে এখনও বেঁচে আছি!
27 মোশি তুমি কাছে যাও এবং প্রভু আমাদের ঈশ্বর যা বলেন তার সমস্তটা শোনো| এরপর প্রভু আমাদের ঈশ্বর তোমকে যা কিছু বলেন আমাদের বলো| আমরা তোমার কথা শুনব এবং তোমার কথামতো সমস্ত কাজ করব|’
28 “তোমরা যা বলেছিলে প্রভু সেগুলো শুনে আমায় বলেছিলেন, ‘লোকরা যা বলছে, সেগুলো আমি শুনেছি এবং তারা ভালই বলেছে|
29 আমার ইচ্ছা তারা য়েন হৃদয়ের মধ্য থেকে সর্বদাই আমাকে সম্মান করে এবং আমার সমস্ত আদেশগুলো মেনে চলে| তাহলে তাদের এবং তাদের উত্তরপুরুষদের পক্ষে সমস্ত কিছুই চিরকালের জন্য ভালো হবে|
30 “‘যাও, লোকদের বলো তাদের তাঁবুতে ফিরে য়েতে|
31 কিন্তু তুমি, মোশি এখানে আমার কাছে দাঁড়িয়ে থাকো| আমি তোমাকে য়ে সমস্ত আজ্ঞা, বিধি এবং নিয়মসমূহ বলবো, সেগুলো তুমি অবশ্যই তাদের শিখিযে দেবে| আমি তাদের বাস করার জন্য য়ে দেশ দিচ্ছি সেই দেশে তারা অবশ্যই এই কাজগুলো করবে|’
32 “সুতরাং প্রভু তোমাদের য়েমন আজ্ঞা করেছিলেন, সেইগুলো যত্ন সহকারে পালন করবে, তার ডান দিকে কি বাম দিকে ফিরবে না!
33 প্রভু তোমাদের ঈশ্বর য়ে ভাবে আজ্ঞা করেছিলেন, তোমরা অবশ্যই ঠিক সেভাবেই জীবনযাপন করবে| তাহলেই তোমরা দীর্ঘজীবি হবে এবং তোমাদের পক্ষে সব কিছুই ভালো হবে| য়ে দেশ তোমাদের হবে সেই দেশে তোমরা দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে|




অধ্যায় 6

1 “প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর আমাকে তোমাদের এই আজ্ঞাসমুহ, বিধি এবং নিয়মসমূহ শেখাতে বলেছিলেন য়েন য়ে দেশে তোমরা বসবাস করতে যাচ্ছ সেখানে এই বিধিগুলো মেনে চলতে পার|
2 য়েন তোমরা এবং তোমাদের উত্তরপুরুষরা যতদিন বাঁচবে ততদিন তোমাদের প্রভু ঈশ্বরকে সম্মান জানাতে পার| তোমরা নিশ্চয়ই তাঁর সমস্ত বিধি এবং আজ্ঞাসমুহ মেনে চলবে, য়েগুলো আমি তোমাদের দিলাম| যদি তোমরা এটা করো, তাহলে সেই নতুন দেশে তোমাদের দীর্ঘ জীবন হবে|
3 ইস্রায়েলের লোকরা, শোনো এবং এই বিধিগুলো যত্ন সহকারে মেনে চলো; তাহলে তোমাদের মঙ্গল হবে| তোমরা সংখ্যায় বৃদ্ধি পাবে এবং তোমরা সেই দেশটিকে প্রচুর ভালো জিনিসে পরিপূর্ণ অবস্থায় পাবেঠিক য়েভাবে প্রভু, তোমাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর প্রতিজ্ঞা করেছিলেন|
4 “ইস্রায়েলের লোকরা শোনো! প্রভু, আমাদের ঈশ্বর হলেন একমাত্র প্রভু!
5 তোমরা নিশ্চয়ই প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরকে তোমাদের সমস্ত হৃদয়, সমস্ত প্রাণ এবং তোমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে ভালোবাসবে|
6 আজ আমি তোমাদের য়ে আদেশগুলি দিলাম সেগুলো তোমরা সবসময় মনে রাখবে|
7 তোমাদের সন্তানদেরও ঐগুলো শেখানোর ব্যাপারে নিশ্চিত থাকবে| যখন তোমরা বাড়ীতে বসে থাকো এবং যখন তোমরা রাস্তায় হাঁট সেই সময় তোমরা এই সকল বিধিগুলো নিয়ে আলোচনা করবে| যখন তোমরা শুয়ে থাক এবং যখন তোমরা ঘুম থেকে ওঠো সেই সময় ঐগুলো নিয়ে আলোচনা করবে|
8 এই আজ্ঞাগুলি মনে রাখার সুবিধার জন্য সেগুলিকে তোমাদের হাতে এবং কপালে বেঁধে রাখো|
9 তোমাদের বাড়িগুলি দরজার খুঁটির ওপরে এবং তোমাদের ফটকগুলির ওপরে সেগুলোকে লিখে রাখো|
10 “প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের পূর্বপুরুষ অব্রাহাম, ইসহাক, এবং যাকোবের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন| তোমাদের এই দেশ দেওয়ার জন্য প্রভু প্রতিজ্ঞা করেছিলেন| প্রভু সেই দেশ তোমাদের দেবেন এবং তোমরা য়েগুলো তৈরী করো নি সেই বৃহত্‌ এবং সম্পদশালী শহরগুলোও তিনি তোমাদের দেবেন|
11 প্রভু তোমাদের উত্তম এমন দ্রব্য়ে পরিপূর্ণ বাড়ী দেবেন, য়ে দ্রব্য তোমরা সেখানে রাখো নি| প্রভু তোমাদের এমন অনেক কূপ দেবেন যা তোমরা খনন করো নি| খেযে দেযে তৃপ্ত হলে পর প্রভু তোমাদের প্রচুর দ্রাক্ষার ক্ষেত এবং জলপাইযের গাছ দেবেন য়েগুলো তোমরা রোপণ করনি|
12 “কিন্তু খুব সাবধান! প্রভুকে ভুলো না| মনে রেখো তোমরা মিশরে ক্রীতদাস ছিলে, কিন্তু প্রভু তোমাদের মিশর থেকে বের করে নিয়ে এসেছিলেন|
13 প্রভু তোমাদের ঈশ্বরকে সম্মান করো এবং কেবলমাত্র তাঁরই সেবা করো| শপথ করার সময় তোমরা কেবলমাত্র তাঁরই নাম ব্যবহার করবে, অন্য দেবতার নাম ব্যবহার করবে না|
14 অন্য দেবতার অনুসরণ করবে না| তোমাদের চর্তুদিকে বসবাসকারী জাতিগণের দেবতাদের তোমরা অনুসরণ করবে না|
15 প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, যিনি তোমাদের সঙ্গে আছেন তিনি নিজের গৌরব রক্ষা করতে উদ্য়োগ নেন, সুতরাং যদি তোমরা ঐ সকল অন্যান্য দেবতাদের পূজা করো, তাহলে প্রভু তোমাদের উপরে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হবেন| তিনি তোমাদের এই পৃথিবী থেকে ধ্বংস করে দেবেন|
16 “মঃসাতে তোমরা য়েভাবে প্রভু তোমাদের ঈশ্বরকে পরীক্ষা করেছিলে, সেভাবে তোমরা তাঁকে পরীক্ষা করবে না|
17 প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের আজ্ঞাগুলো মেনে চলার ব্যাপারে তোমরা নিশ্চিত থাকবে| তিনি তোমাদের য়ে শিক্ষা এবং বিধিসমুহ দিয়েছেন সেগুলো তোমরা অবশ্যই অনুসরণ করবে|
18 য়েগুলো ঠিক এবং ভালো, সেরকম কাজ তোমরা অবশ্যই করবে, য়েগুলো প্রভুকে খুশী করে| তাহলে সব কিছুতেই তোমরা সফল হবে এবং তোমরা সেই সুন্দর দেশে প্রবেশ করে তা অধিগ্রহণ করবে যা প্রভু তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন|
19 প্রভু য়েভাবে বলেছিলেন সেভাবেই তোমরা তোমাদের সমস্ত শত্রুদের বিতাড়িত করবে| ঈশ্বর যা করেছিলেন সেগুলো তোমাদের সন্তানদের শেখাও
20 “ভবিষ্যতে, তোমার সন্তান জিজ্ঞেস করতে পারে, ‘প্রভু আমাদের ঈশ্বর তোমাদের য়ে শিক্ষা দিয়েছিলেন সেগুলোর অর্থ কি?’
21 তখন তুমি তোমার সন্তানকে বলবে, ‘আমরা মিশরে ফরৌণের ক্রীতদাস ছিলাম, কিন্তু প্রভু তাঁর মহান শক্তির সাহায্যে আমাদের মিশর থেকে বের করে এনেছিলেন|
22 আমাদের চোখের সামনে প্রভু চিহ্ন এবং আশ্চর্য়জনক কাজ করেছেন| আমরা তাঁকে মিশরের লোকদের প্রতি, ফরৌণের প্রতি এবং ফরৌণের বাড়ীর লোকদের বিরুদ্ধে এই কাজগুলো করতে দেখেছিলাম|
23 এবং তিনি আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে য়ে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন সেই অনুসারে সেই দেশ দিতে আমাদের মিশর থেকে নিয়ে এসেছিলেন|
24 এই শিক্ষাগুলো মেনে চলার জন্য প্রভু আমাদের আজ্ঞা দিয়েছিলেন| আমরা নিশ্চয়ই আমাদের প্রভু ঈশ্বরকে শ্রদ্ধা করবো| তাহলেই আজ আমরা য়েমন আছি ঠিক সেভাবেই প্রভু আমাদের বাঁচিয়ে রাখবেন এবং আমাদের ভালো করবেন|
25 প্রভু আমাদের ঈশ্বর, ঠিক য়েভাবে আমাদের আদেশ দিয়েছিলেন আমরা যদি সতর্কভাবে সমস্ত বিধি মেনে চলি, তাহলে তা আমাদের ধার্মিকতা হবে|’




অধ্যায় 7

1 “প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, যখন তোমাদের নেতৃত্ব দিয়ে সেই দেশে নিয়ে যাবেন, য়ে দেশে তোমরা অধিগ্রহণের জন্য প্রবেশ করছো, তখন প্রভু তোমাদের সামনে অনেক জাতিকে দূর করে দেবেন - য়েমন হিত্তীয়, গির্গানীয, ইমোরীয়, কনানীয়, পরিষীয়, হিব্বীয় এবং যিবূষীয় তোমাদের থেকে অনেক বড় এবং অনেক শক্তিশালী সাতটি জাতি|
2 প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, এই জাতিগুলোকে তোমাদের কাছে সমর্পণ করলে পরে তোমরা তাদের পরাজিত করবে এবং তাদের সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করবে| তাদের সঙ্গে কোনোরকম নিয়ম কোরো না| তাদের ক্ষমা প্রদর্শন করো না|
3 তাদের মধ্যে কাউকে বিয়ে করো না এবং তোমাদের ছেলেমেয়েরাও য়েন ঐসব অন্য জাতির কাউকে বিয়ে না করে|
4 কারণ, ঐ সমস্ত লোকরা তোমাদের সন্তানদের আমাকে অনুসরণ করা থেকে অনেক দূরে নিয়ে যাবে| তখন তোমাদের সন্তানরা অন্য দেবতাদের পূজা করবে এবং প্রভু তোমাদের প্রতি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হবেন| তিনি তোমাদের খুব তাড়াতাড়ি ধ্বংস করে দেবেন|
5 “ঐ জাতিগুলির প্রতি তোমরা অবশ্যই এগুলো করবে| তোমরা অবশ্যই তাদের পূজার বেদীগুলোকে ভেঙে দেবে এবং তাদের স্মরণ-স্তম্ভগুলোকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে দেবে| তোমরা তাদের আশেরার খুঁটিগুলি কেটে ফেলবে এবং তাদের মূর্ত্তিগুলোকেও আগুনে পুড়িয়ে দেবে!
6 কারণ তোমরা প্রভুর নিজের লোক| পৃথিবীর ওপরের সমস্ত জাতির মধ্য থেকে প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের তাঁর বিশেষ লোক হবার জন্য বেছে নিয়েছিলেন, সে লোকরা কেবলমাত্র তাঁরই হবে|
7 তোমরা অন্য জাতির থেকে সংখ্যায় অধিক ছিলে বলে প্রভু তোমাদের ভালোবেসে বেছে নেন নি, কিন্তু তোমরা সমস্ত জাতির মধ্যে সংখ্যায় খুবই কম ছিলে|
8 মহত্‌ শক্তির সাহায্যে প্রভু তোমাদের মিশর থেকে বের করে নিয়ে এসেছিলেন| ক্রীতদাস অবস্থা থেকে এবং মিশরের রাজা ফরৌণের অধীনতা থেকে তিনি তোমাদের মুক্ত করেছিলেন কারণ প্রভু তোমাদের ভালোবাসেন এবং তিনি তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে য়ে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন সেই প্রতিজ্ঞা রাখতে চান|
9 “সুতরাং মনে রেখো, প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, হলেন একমাত্র ঈশ্বর এবং তোমরা তাঁর ওপরে আস্থা রাখতে পারো| তিনি তাঁর নিয়ম রক্ষা করেন| যারা তাঁকে ভালোবাসে এবং তাঁর আজ্ঞা মেনে চলে সেই সমস্ত লোকদের প্রতি তিনি তাঁর ভালোবাসা এবং দযা প্রদর্শন করেন| পরবর্তী এক হাজার বংশের মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর ভালোবাসা এবং দযা প্রদর্শন করেন|
10 কিন্তু তাঁকে যারা ঘৃণা করে, প্রভু সেই সমস্ত লোকদের শাস্তি দেন| তিনি তাদের ধ্বংস করে দেবেন| তাঁকে যারা ঘৃণা করে, সেই সমস্ত লোকদের শাস্তি দেওয়ার ব্যাপারে তিনি দেরী করবেন না|
11 সুতরাং আমি আজ তোমাদের য়েগুলো দিলাম, সেই সমস্ত আদেশ, বিধি এবং নিয়ম মেনে চলার ব্যাপারে তোমরা খুবই সতর্ক থাকবে|
12 “তোমরা যদি এই সমস্ত বিধিগুলো মেনে চলো এবং সেগুলো পালন করার ব্যাপারে তোমরা যদি যত্ন নাও, তাহলে প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের সঙ্গে প্রেমের নিয়মে চলবেন, যা তিনি তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন|
13 তিনি তোমাদের ভালোবাসবেন, আশীর্বাদ করবেন এবং তোমাদের সংখ্যায় বৃদ্ধি করবেন| তিনি তোমাদের সন্তানদের আশীর্বাদ করবেন এবং তোমাদের জমিগুলোকে উত্কৃষ্ট ফসলের দ্বারা সমৃদ্ধ করবেন| তিনি তোমাদের শস্য, নতুন দ্রাক্ষারস এবং তেল দেবেন| তিনি তাঁর আশীর্বাদের সাহায্যে তোমাদের গরুগুলোকে বাছুরে সমৃদ্ধ এবং তোমাদের মেষগুলোকে মেষশাবকে সমৃদ্ধ করবেন| তিনি তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে য়ে দেশ দেওয়ার জন্য প্রতিজ্ঞা করেছিলেন সেই দেশে তোমরা এই সমস্ত আশীর্বাদ ভোগ করবে|
14 “সমস্ত জাতির থেকে তোমরা বেশী আশীর্বাদ পাবে| প্রত্যেক স্বামী-স্ত্রীর সন্তান হবে| তোমাদের গরুগুলোরও বাছুর হবে
15 এবং প্রভু তোমাদের থেকে সমস্ত অসুখ দূর করে দেবেন| প্রভু তোমাদের আর সেই সাংঘাতিক অসুখগুলো দ্বারা আক্রান্ত হতে দেবেন না, য়েগুলো তোমাদের মিশরে হত| কিন্তু প্রভু তোমাদের শত্রুদের মধ্যে সেই অসুখের সংক্রমণ করাবেন|
16 প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, যাদের পরাজিত করার জন্য তোমাদের সাহায্য করেন, তোমরা সেই সমস্ত লোকদের অবশ্যই ধ্বংস করবে| তাদের জন্য দুঃখিত হয়ো না এবং তাদের দেবতার পূজা করো না, কারণ তা তোমাদের পক্ষে ফাঁদে পড়ার মতো হবে|
17 “তোমরা মনে মনে বোলো না, ‘এই সমস্ত দেশের লোকরা আমাদের থেকে শক্তিশালী| আমরা তাদের কি প্রকারে বেরিয়ে য়েতে বাধ্য করবো?’
18 তোমরা তাদের ভয় করো না| প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, ফরৌণ এবং মিশরের সমস্ত লোকদের প্রতি কি করেছিলেন সেগুলো তোমরা অবশ্যই মনে রাখবে|
19 তাদের তিনি য়ে সাংঘাতিক সমস্যায় ফেলেছিলেন এবং য়ে সব আশ্চর্য় কাজ করেছিলেন, সেগুলো তোমরা দেখেছিলে| তোমরা দেখেছিলে য়ে তোমাদের মিশর থেকে বের করে আনার জন্য প্রভু কিভাবে তাঁর মহান ক্ষমতা এবং শক্তি ব্যবহার করেছিলেন| তোমরা যাদের ভয় পাও সেই সমস্ত জাতির বিরুদ্ধেও প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, সেই একই কাজ করবেন|
20 “য়ে সমস্ত লোকরা তোমাদের কাছ থেকে পালাবে এবং নিজেদের লুকিয়ে রাখবে, প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তাদের খুঁজে বের করার জন্য ভীমরুল পাঠাবেন য়েন অবশিষ্টরাও ধ্বংস হয়|
21 ঐ সমস্ত লোকদের সম্পর্কে ভীত হয়ো না| কারণ প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের সঙ্গে আছেন| তিনিই একমাত্র মহান এবং ভয়ঙ্কর ঈশ্বর|
22 প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, ঐ সমস্ত দেশের লোকদের ধীরে ধীরে তোমাদের দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করবেন| তোমরা তাদের সকলকে এক সময়ে ধ্বংস করতে পারবে না| যদি তোমরা তাই কর, তাহলে বন্য জন্তুর সংখ্যা এত বেশী পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে যা তোমাদের পক্ষে ক্ষতিকর হবে|
23 কিন্তু প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, ঐ সমস্ত জাতিগুলিকে তোমাদের হাতে সমর্পণ করবেন এবং তারা যতক্ষণ পর্য়ন্ত না ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, ততক্ষণ পর্য়ন্ত তিনি যুদ্ধ চলাকালীন তাদের বিভ্রান্ত করবেন|
24 তাদের রাজাদের পরাজিত করতে প্রভু তোমাদের সাহায্য করবেন| তোমরা তাদের হত্যা করবে এবং তারা য়ে কখনও জীবিত ছিল সে কথা পৃথিবীর লোক ভুলে যাবে| তাদের বিনষ্ট করা পর্য়ন্ত কেউ তোমাদের থামাতে সক্ষম হবে না|
25 “তোমরা অবশ্যই তাদের প্রতিমাগুলি আগুনে পুড়িয়ে ফেলবে| ঐ প্রতিমার গায়ের রূপো অথবা সোনায় তোমরা লোভ করবে না এবং সেগুলি নিজেদের জন্য নেবে না| অন্যথায এ তোমাদের কাছে ফাঁদের মতো হবে - তা তোমাদের জীবন ধ্বংস করে দেবে| কারণ প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, প্রতিমা ঘৃণা করেন|
26 তোমরা তোমাদের বাড়ীতে অবশ্যই ঐরকম কোন সাংঘাতিক মূর্ত্তি নিয়ে আসবে না| অন্যথায তোমরাও ধ্বংসের জন্য ঐরকম অভিশপ্ত হবে. ঐ সমস্ত সাংঘাতিক জিনিসগুলোকে তোমরা অবশ্যই ঘৃণা করবে এবং ঐ সমস্ত মূর্ত্তিগুলোকে অবশ্যই ধ্বংস করবে|




অধ্যায় 8

1 “তোমরা অবশ্যই সমস্ত আজ্ঞাগুলো মেনে চলবে য়েগুলো আজ আমি তোমাদের দিলাম| কারণ তাহলে তোমরা বেঁচে থাকবে, বৃদ্ধি পাবে এবং প্রভু তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে য়ে দেশ দেবেন বলে শপথ করেছিলেন সেই দেশে প্রবেশ করবে|
2 প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, 40 বছর ধরে মরুভূমিতে য়ে ভ্রমণের নেতৃত্ব দিয়েছেন, সেটার কথা তোমরা অবশ্যই মনে রাখবে| প্রভু তোমাদের পরীক্ষা করছিলেন| তিনি তোমাদের বিনযী করতে চেয়েছিলেন| তিনি তোমাদের মনের ভেতরের জিনিস জানতে চেয়েছিলেন| তিনি জানতে চেয়েছিলেন য়ে তোমরা তাঁর আদেশ মানবে কিনা|
3 প্রভু তোমাদের নম্র করেছিলেন এবং তোমাদের ক্ষুধার্ত করেছিলেন| তিনি তোমাদের মান্না খাইযেছিলেন - যা তোমরা আগে কখনও জানতে না, যা তোমাদের পূর্বপুরুষরা আগে কখনও দেখে নি| এই কাজগুলো প্রভু করেছিলেন যাতে তোমরা জানো য়ে কেবলমাত্র রুটিই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে না| মানুষের জীবন প্রভুর কথিত সমস্ত বাক্যের ওপর নির্ভর করে|
4 এই গত 40 বছরে তোমাদের জামাকাপড় পুরানো হয় নি এবং তোমাদের পাও ফোলে নি, কারণ প্রভু তোমাদের রক্ষা করেছিলেন|
5 তোমরা অবশ্যই মনে রাখবে য়ে প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের শিক্ষা দিচ্ছিলেন ও সংশোধন করছিলেন য়েমন একজন পিতা তার পুত্রকে শিক্ষা দেয় এবং সংশোধন করে|
6 “তোমরা অবশ্যই প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের আজ্ঞাগুলো মেনে চলে তাঁকে অনুসরণ এবং শ্রদ্ধা করবে|
7 প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের এক উত্তম দেশে নিয়ে য়েতে চলেছেন - য়ে দেশে অনেক নদী এবং জলপ্রবাহ আছে| সেখানে উপত্যকা এবং পাহাড়গুলোতে ভূমির ভেতর থেকে জল বেরিয়ে এসে প্রবাহিত হয়|
8 সেই দেশে গম এবং বার্লি, দ্রাক্ষালতা, ডুমুর গাছ এবং ডালিম আছে| সেই দেশে জলপাই তেল এবং মধু আছে|
9 সেখানে তোমাদের খাদ্যের অভাব হবে না এবং তোমাদের প্রযোজনীয সমস্ত কিছুই তোমরা পাবে| সেই দেশের পাথরগুলো লোহা| সেখানকার পাহাড় খুঁড়লে তোমরা তামা পাবে|
10 তোমরা যা খেতে চাও তা পেয়ে তৃপ্ত হবে এবং সেই সুন্দর দেশটি তোমাদের দেবার জন্য তোমরা তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের প্রশংসা করবে|
11 “সতর্ক হও| তোমাদের প্রভু ঈশ্বরকে ভুলো না| আমি আজ তোমাদের য়ে আজ্ঞা, বিধি এবং নিয়মসমুহ দিলাম সেগুলো মেনে চলার ব্যাপারে সতর্ক হও|
12 তাহলে তোমাদের খাওয়ার জন্য পর্য়াপ্ত পরিমাণ খাবার থাকবে এবং তোমরা সুন্দর বাড়ী বানাবে এবং তাতে বাস করবে|
13 তোমাদের গরু, মেষ এবং ছাগলগুলো সংখ্যায় বাড়বে| তোমরা প্রচুর সোনা এবং রূপো পাবে| সমস্ত কিছুই তোমরা প্রচুর পরিমাণে পাবে|
14 যখন সেগুলো হয়, সেসময় যাতে তোমরা অহঙ্কারী না হও সে ব্যাপারে তোমরা অবশ্যই সতর্ক থাকবে| তোমরা অবশ্যই প্রভু তোমাদের ঈশ্বরকে ভুলবে না| তোমরা মিশরে ক্রীতদাস ছিলে; কিন্তু প্রভু তোমাদের মুক্ত করে সেই দেশ থেকে নিয়ে এসেছিলেন|
15 সেই বিশাল এবং সাংঘাতিক মরুভূমির মধ্য দিয়ে প্রভু তোমাদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন| সেই মরুভূমিতে বহু বিষাক্ত সাপ এবং কাঁকড়াবিছে ছিল| জমি ছিল শুকনো এবং সেখানে কোথাও জল ছিল না| কিন্তু ঈশ্বর পাথরের ভেতর থেকে তোমাদের জল দিয়েছিলেন|
16 মরুভূমিতে প্রভু তোমাদের মান্না খাইযেছিলেন - য়েটা তোমাদের পূর্বপুরুষরা কোনোদিন দেখে নি| প্রভু তোমাদের পরীক্ষা করেছিলেন, বিনযী করেছিলেন যাতে শেষে সমস্ত কিছু তোমাদের ভালো হয়|
17 তোমরা মনে মনেও বোলো না, ‘আমি আমার নিজের শক্তি এবং সামর্য়্থের দ্বারা এই সমস্ত সম্পদ পেয়েছিলাম|’
18 প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরকে, স্মরণ করো কারণ তিনিই তোমাদের ঐ সম্পদ লাভ করার জন্য শক্তি দিয়েছিলেন, য়েন তোমাদের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে তিনি য়ে চুক্তি করেছিলেন সেটিকে রক্ষা করতে পারেন, ঠিক য়েমন তিনি আজও করছেন|
19 “প্রভু তোমাদের ঈশ্বরকে কখনও ভুলো না| কখনও অন্য দেবতাদের অনুসরণ কোরো না! তাদের পূজা এবং সেবা কোরো না| যদি তোমরা সেটা করো, তাহলে আমি আজ তোমাদের সাবধান করলাম: তোমরা নিশ্চিত ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে|
20 প্রভু তোমাদের জন্য অন্যান্য জাতিগুলোকে ধ্বংস করছেন; কিন্তু তাঁর কথা না শুনলে তোমরাও ঠিক তাদের মতোই ধ্বংস হবে!




অধ্যায় 9

1 “ইস্রায়েলের লোকরা শোনো! তোমরা আজ যর্দন নদী অতিক্রম করে যাবে| তোমাদের থেকে বৃহত্তর এবং শক্তিশালী জাতিগোষ্ঠীর লোকদের জোর করে বের করে দেওয়ার জন্য তোমরা সেই দেশে যাবে| তাদের শহরগুলো বড় এবং আকাশের মতো উঁচু দেওয়ালে ঘেরা|
2 সেখানকার লোকরা লম্বা এবং শক্তিশালী, তারা হল অনাকীয়| তোমরা ঐ লোকদের সম্পর্কে জানো| তোমরা আমাদের গুপ্তচরদের বলতেও শুনেছিলে, ‘অনাকীয়দের বিরুদ্ধে কেউ জিততে পারে না|’ কিন্তু তোমরা নিশ্চিত থাকতে পারো য়ে প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের আগে নদী অতিক্রম করে যাবেন এবং প্রভু হলেন আগুনের মতো যা ধ্বংস করে ঈশ্বর ঐ সমস্ত জাতির লোকদের ধ্বংস করবেন| তিনি তাদের জয় করবেন| তোমরা ঐ সমস্ত জাতির লোকদের বেরিয়ে য়েতে বাধ্য করবে| প্রভু তোমাদের কাছে শপথ করেছেন সেই অনুসারেই তোমরা তাদের তাড়াতাড়ি ধ্বংস করবে|
3
4 “প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের জন্যই ঐ সমস্ত জাতির লোকদের বেরিয়ে য়েতে বাধ্য করবেন| তখন তোমরা মনে মনেও কখনও বোলো না, ‘প্রভু আমাদের এই দেশে বাস করার জন্য নিয়ে এসেছেন কারণ আমরা ন্যায়পরাযণ লোক!’ সেটা কিন্তু কারণ নয়| প্রভু ঐ সমস্ত জাতির লোকদের বের করে দিয়েছিলেন, তাদের দুর্নীতির জন্য, তোমাদের ধার্মিকতার জন্য নয়|
5 তোমরা তাদের দেশ অধিগ্রহণ করার জন্য সেখানে যাচ্ছ, তার কারণ তোমরা ভালো এবং সঠিকভাবে জীবনযাপন কর বলে নয়; কিন্তু তাদের দুষ্টতার কারণেই প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, ঐ সমস্ত লোকদের বের করে দিয়েছিলেন, যাতে তোমরা ঐ দেশে প্রবেশ করতে পার| এছাড়া প্রভু তোমাদের পূর্বপুরুষ অব্রাহাম, ইসহাক এবং যাকোবের কাছে য়ে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, সেই প্রতিজ্ঞা রক্ষা করতে চান|
6 প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের বাস করার জন্য সেই উত্তম দেশ তোমাদের দিচ্ছেন, তোমরা ভাল বলে নয়, তোমরা খুবই একগুঁযে লোক বলে!
7 “ভুলো না য়ে মরুভূমিতে তোমরা, প্রভু তোমাদের ঈশ্বরকে ক্রোধান্বিত করেছিলে! তোমরা য়েদিন মিশর ত্যাগ করেছিলে সেই দিন থেকে এই স্থানে আসা পর্য়ন্ত তোমরা প্রভুকে মেনে চলতে অস্বীকার করেছ|
8 হোরেব পর্বতে তোমরা প্রভুকে ক্রুদ্ধ করেছিলে| তোমাদের ধ্বংস করার জন্য প্রভু যথেষ্ট ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন!
9 পাথরের ফলকগুলি পাওয়ার জন্য আমি পর্বতের ওপরে গিয়েছিলাম| প্রভু তোমাদের সঙ্গে য়ে চুক্তি করেছিলেন সেগুলো ঐ পাথরের ওপরে লেখা ছিল| 40 দিন এবং 40 রাত্রি আমি ঐ পর্বতের ওপরে ছিলাম| আমি কোনো খাবার খাই নি অথবা জলও পান করি নি|
10 প্রভু আমাকে দুটি পাথরের ফলক দিয়েছিলেন| ঈশ্বর তাঁর নিজের আঙুলের সাহায্যে ঐ পাথরগুলোকে ওপরে তাঁর আদেশগুলি লিখেছিলেন| তোমরা সকলে যখন পর্বতে একত্রিত হয়েছিলে সেই সময় তিনি আগুনের মধ্য থেকে তোমাদের যা বলেছিলেন সেই সমস্তই তিনি তাতে লিখেছিলেন|
11 “40 দিন এবং 40 রাত্রির শেষে, প্রভু আমাকে পাথরের ফলক দুটি দিয়েছিলেন|
12 তখন প্রভু আমাকে বলেছিলেন, ‘ওঠো, তাড়াতাড়ি এখান থেকে নীচে যাও| তুমি য়ে লোকদের মিশর থেকে নিয়ে এসেছিলে, তারা নিজেদের ধ্বংস করেছে| তারা খুব তাড়াতাড়ি আমার আদেশ পালন করা বন্ধ করে দিয়ে সোনা গলিযে নিজেদের জন্য এক মূর্ত্তি তৈরী করেছে|’
13 “প্রভু আমাকে আরও বলেছিলেন, ‘আমি এই সমস্ত লোকদের লক্ষ্য করেছি| তারা খুবই একগুযো,
14 ঐ সমস্ত লোকদের আমি ধ্বংস করব, যাতে কেউই তাদের নাম পর্য়ন্ত না মনে রাখে| এরপর আমি তোমার থেকে আরেকটি জাতি তৈরী করব, যারা এই সমস্ত লোকদের থেকে শক্তিশালী এবং বৃহত্‌ হবে|’
15 “এরপর আমি রওনা হয়ে পর্বতের ওপর থেকে নেমে এসেছিলাম| পর্বতটি আগুনে পুড়েছিলো; এবং চুক্তির সেই ফলক দুটি আমার হাতে ছিল|
16 আমি লক্ষ্য করে দেখেছিলাম য়ে তোমরা তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ করেছ| আমি সেই বাছুর দেখেছিলাম য়েটা গলানো সোনা দিয়ে তৈরী করেছিলে| তোমরা খুব তাড়াতাড়ি প্রভুর আজ্ঞা মেনে চলতে অস্বীকার করেছিলে|
17 সেই কারণে আমি পাথরের ফলক দুটিকে নিয়ে সেগুলোকে নীচে ছুঁড়ে ফেলেছিলাম| সেখানে তোমাদের চোখের সামনে আমি ফলক দুটিকে টুকরো টুকরো করে ভেঙ্গে ফেলেছিলাম|
18 এর পর আমি আগে য়েমন করেছিলাম ঠিক সেভাবে 40 দিন এবং 40 রাত্রি মাটির দিকে মুখ করে প্রভুর সামনে নত হয়েছিলাম| আমি কোনো প্রকার খাদ্য গ্রহণ করি নি অথবা কোনো জলও পান করি নি, কারণ তোমরা পাপ করেছিলে, তোমরা এমন কাজ করেছিলে যা প্রভুর কাছে মন্দ, এ কাজ করে তোমরা তাঁকে ক্রুদ্ধ করেছিলে|
19 আমি প্রভুর ভযানক ক্রোধ সম্পর্কে ভীত ছিলাম| তিনি তোমাদের ধ্বংস করার পক্ষে যথেষ্ট ক্রোধান্বিত হয়েছিলেন; কিন্তু প্রভু এবারও আমার কথা শুনেছিলেন|
20 হারোণের ওপরে ঈশ্বর প্রচণ্ড ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন যা তাকে ধ্বংস করার পক্ষে যথেষ্ট ছিল| সেই কারণে আমি সেই সময় হারোণের জন্যও প্রার্থনা করেছিলাম|
21 আমি সেই সাংঘাতিক জিনিসটিকে অর্থাত্‌ তোমাদের তৈরী বাছুরটিকে নিয়ে আগুনে পুড়িয়েছিলাম| আমি এটিকে টুকরো টুকরো করে ভেঙ্গেছিলাম এবং ধূলোয় পরিণত না হওয়া পর্য়ন্ত সেই টুকরোগুলোকে পিষেছিলাম| এরপর পর্বত থেকে য়ে নদী নেমে এসেছে তার মধ্যে সেই ধূলো ছুঁড়ে ফেলেছিলাম|
22 “এছাড়াও তবিয়েরাতে, মঃসাতে এবং কিব্রোত্‌-হত্তাবাতে তোমরা প্রভুকে ক্রুদ্ধ করেছিলে|
23 প্রভু যখন তোমাদের কাদেশ-বর্ণেয় ত্যাগ করতে বলেছিলেন সে সময় তোমরা তাঁর কথা মানো নি| তিনি বলেছিলেন, ‘ওপরে যাও, আমি তোমাদের য়ে দেশ দিচ্ছি সেই দেশ অধিগ্রহণ কর|’ কিন্তু তোমরা প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরকে, মেনে চলতে অস্বীকার করেছিলে| তোমরা তাঁর ওপরে আস্থা রাখো নি| তোমরা তাঁর আদেশ শোন নি|
24 যখন থেকে আমি তোমাদের জানি তোমরা সব সময় প্রভুকে মেনে চলতে অস্বীকার করেছ|
25 “সেই কারণে 40 দিন এবং 40 রাত্রি আমি প্রভুর সামনে নতজানু হয়েছিলাম কারণ ঈশ্বর বলেছিলেন তিনি তোমাদের ধ্বংস করবেন|
26 আমি প্রভুর কাছে প্রার্থনা করে বলেছিলাম: প্রভু আমার গুরু, তোমার লোকদের ধ্বংস কোরো না| তারা তোমারই| তুমি তাদের মুক্ত করেছিলে এবং তোমার মহত্‌ ক্ষমতা এবং শক্তির সাহায্যে তাদের মিশর থেকে বের করে নিয়ে এসেছিলে|
27 তোমার সেবক অব্রাহাম, ইসহাক এবং যাকোবের কাছে তোমার প্রতিজ্ঞার কথা মনে কর| এই লোকদের একগুঁযেমি, তাদের মন্দ পথ এবং পাপের দিকে দেখো না|
28 যদি তুমি তোমার লোকদের শাস্তি দাও, মিশরীয়রা বলতে পারে, ‘প্রভু তাদের কাছে য়ে দেশ দান করবার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন সেই দেশে তাদের নিয়ে য়েতে তিনি পারেন নি এবং তিনি তাদের ঘৃণা করতেন, সেই কারণে তিনি তাদের হত্যা করার জন্য তাদের মরুভূমিতে নিয়ে গিয়েছিলেন|’
29 কিন্তু তারা তোমারই লোক, প্রভু| তারা তোমারই| তোমার মহত্‌ ক্ষমতা এবং শক্তির সাহায্যে তুমি তাদের মিশর থেকে বের করে নিয়ে এসেছিলে|




অধ্যায় 10

1 “সেই সময় প্রভু আমাকে বলেছিলেন, ‘প্রথম বারের দুটি পাথরের ফলকের মতো তুমি আবার পাথর কেটে বের করবে| এরপর তুমি পর্বতের ওপরে আমার কাছে আসবে| এছাড়াও একটি কাঠের বাক্স তৈরী কর|
2 আমি পাথরের ফলকগুলির ওপরে সেই একই কথা লিখব য়েগুলো প্রথমটির ওপরে লেখা ছিল - য়েগুলো তুমি ভেঙ্গেছিলে| এরপর তুমি অবশ্যই এই ফলকগুলিকে বাক্সের মধ্যে রাখবে|”
3 “সেই কারণে আমি শিটীম কাঠ দিয়ে সিন্দুক তৈরী করেছিলাম| প্রথম দুটোর মতো আমি দুটো পাথরের ফলক কেটেছিলাম| এরপর ঐ দুটি ফলক হাতে নিয়ে আমি পর্বতের ওপরে উঠে গিয়েছিলাম|
4 প্রভু পাথরগুলোর ওপরে ঐ একই কথা লিখেছিলেন য়েগুলো তিনি আগে লিখেছিলেন - সেই দশ আজ্ঞা, যা তোমাদের সকলের সামনে পর্বতের ওপরে আগুনের মধ্য থেকে তিনি আদেশ করেছিলেন| এরপর প্রভু সেই ফলক দুটি আমাকে দিয়েছিলেন|
5 আমি পর্বতের ওপর থেকে নীচে ফিরে এসে আমার তৈরী সিন্দুকের মধ্যে সেই পাথরগুলোকে রেখেছিলাম| প্রভু আমাকে আজ্ঞা করেছিলেন ওগুলোকে সেখানে রাখতে, ফলকগুলো এখনও সেই সিন্দুকেই আছে|”(
6 ইস্রায়েলের লোকরা বেরোত্‌-বেনেযা-কন এর লোকদের কূপগুলি থেকে যাত্রা করে মোষেরা পর্য়ন্ত এসেছিল| সেখানে হারোণ মারা গিয়েছিলেন এবং তাঁকে কবর দেওয়া হয়েছিল| হারোণের জায়গায় হারোণের পুত্র ইলিয়াসর যাজক হয়েছিলেন|
7 এরপর ইস্রায়েলের লোকরা মোষেরো থেকে গুধগোদাযে গিয়েছিল এবং গুধগোদায থেকে নদীবহুল দেশ ষট্বাথায গিয়েছিল|
8 সেই সময় প্রভু তার বিশেষ কাজের জন্য অন্যান্য পরিবারগোষ্ঠী থেকে লেবি পরিবারগোষ্ঠীকে আলাদা করেছিলেন| প্রভুর সাক্ষ্যসিন্দুক বহন করাই ছিল তাদের কাজ| তারা প্রভুর সামনে যাজক হিসেবে সেবা করত এবং প্রভুর নাম করে লোকদের আশীর্বাদ করা ছিল তাদের কাজ| তারা আজও এই বিশেষ কাজটি করে|
9 এই কারণে লেবীয় গোষ্ঠীভুক্ত লোকরা দেশের কোনো অংশ পায় নি, য়েরকম অন্যান্য পরিবারগোষ্ঠীরা পেয়েছিল| লেবীয় গোষ্ঠীভুক্ত লোকরা তাদের অংশ বা অধিকার হিসাবে প্রভুকে পেয়েছে| প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, তাদের কাছে এই প্রতিজ্ঞা করেছিলেন|)
10 “প্রথম বারের মতোই আমি পর্বতের ওপরে 40 দিন এবং 40 রাত্রি অতিবাহিত করেছিলাম| সেই সময় প্রভু আবার আমার কথা শুনেছিলেন| প্রভু তোমাদের ধ্বংস না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন|
11 প্রভু আমাকে বলেছিলেন, ‘যাও এবং লোকদের তাদের যাত্রাপথে নেতৃত্ব দাও| য়ে দেশ আমি তাদের দেব বলে তাদের পূর্বপুরুষদের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, তারা সেই দেশের অভ্যন্তরে যাবে এবং সেখানে বাস করবে|’
12 “এখন হে ইস্রায়েলের লোকরা, শোনো! প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, প্রকৃতই তোমাদের কাছে থেকে কি আশা করেন? ঈশ্বর চান য়ে তোমরা তাঁকে শ্রদ্ধা করবে এবং তিনি যা বলেন সেটা করবে| ঈশ্বর চান য়ে তোমরা তাঁকে ভালোবাসবে এবং তোমাদের সমস্ত হৃদয় এবং সমস্ত আত্মা দিয়ে তাঁর সেবা করবে|
13 সেই কারণে আমি আজ তোমাদের য়েগুলো দিচ্ছি সেই বিধিসমূহ এবং আজ্ঞাসমুহ তোমরা মেনে চলো| তোমাদের ভালোর জন্যই এই নিয়মাবলী এবং আজ্ঞাসমুহ|
14 “দেখ, সমস্ত কিছুই প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের| স্বর্গ এবং উচ্চতম স্বর্গ, পৃথিবী এবং তার ওপরের সমস্ত কিছুই প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের|
15 প্রভু তোমাদের পূর্বপুরুষদের খুবই ভালোবাসতেন| তিনি তাদের এতই ভালোবাসতেন য়ে তিনি তোমাদের অর্থাত্‌ তাদের উত্তরপুরুষদের বেছেছিলেন| অন্যান্য জাতির মধ্যে থেকে তিনি তোমাদের মনোনীত করেছেন আর তোমরা আজও তাঁর বিশেষ জন|
16 “জেদী হয়ো না| তোমাদের হৃদয় সম্পূর্ণরূপে প্রভুকে দান কর|
17 কারণ প্রভুই হলেন তোমাদের ঈশ্বর| তিনি হলেন সকল ঈশ্বরের ঈশ্ব এবং সকল প্রভুর প্রভু| তিনি হলেন মহান, বীর্য়্য়বান এবং ভয়ঙ্কর ঈশ্বর| প্রভুর কাছে প্রত্যেক ব্যক্তিই সমান| প্রভু তাঁর মন পরিবর্তনের জন্য উত্কোচ নেন না|
18 অনাথ এবং বিধবারা যাতে ন্যায় বিচার পায় সে দিকে তিনি দৃষ্টি রাখেন আর তিনি বিদেশীদেরও ভালোবাসেন| তিনি তাদের খাদ্য এবং কাপড় দেন|
19 সুতরাং তোমরা অবশ্যই ঐ সমস্ত বিদেশীদের ভালোবাসবে, কারণ মিশরে তোমরা নিজেরাই বিদেশী ছিলে|
20 “তোমরা অবশ্যই প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরকে, শ্রদ্ধা করবে এবং কেবলমাত্র তাঁরই উপাসনা করবে| তাঁকে কখনও ত্যাগ কোরো না| তোমরা যখন প্রতিজ্ঞা করবে, তখন অবশ্যই কেবলমাত্র তাঁরই নাম ব্যবহার করবে|
21 তোমরা কেবল তাঁরই প্রশংসা করবে| তিনি হলেন তোমাদের ঈশ্বর| তিনি তোমাদের জন্য মহত্‌ এবং আশ্চর্য়জনক কাজ করেছেন| তোমরা নিজেদের চোখে সেগুলো দেখেছ|
22 তোমাদের পূর্বপুরুষরা যখন মিশরে নেমে গিয়েছিল, তখন সেখানে কেবলমাত্র 70 জন লোক ছিল| এখন প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের লোকসংখ্যা আকাশের অসংখ্য তারার মতো প্রচুর করেছেন|




অধ্যায় 11

1 “সুতরাং তোমরা অবশ্যই প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরকে, ভালবাসবে| তিনি তোমাদের য়েগুলো করতে বলেন সেগুলো তোমরা অবশ্যই করবে| তোমরা নিশ্চয়ই তাঁর বিধি, নিয়ম এবং আজ্ঞাসকল সবসময়ে মেনে চলবে|
2 আজ মনে কর তোমাদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, য়ে সমস্ত মহত্‌ কাজগুলো করেছেন| তোমাদের সন্তানরা নয়, তোমরাই ঐ সমস্ত জিনিসগুলো ঘটতে দেখেছিলে এবং তাঁর শাস্তি দেখেছিলে| তোমরা দেখেছিলে প্রভু কত মহত্‌, কত শক্তিমান|
3 মিশরে তিনি মিশরের রাজা ফরৌণ এবং তার সমস্ত দেশের প্রতি য়ে সব অলৌকিক কাজ করেছিলেন, সেগুলো তোমরা দেখেছিলে|
4 মিশরের সৈন্যদের প্রতি - তাদের ঘোড়াগুলোর এবং রথগুলোর তিনি কি করেছিলেন সেগুলো তোমরা দেখেছিলে| তারা তোমাদের তাড়া করেছিল, কিন্তু প্রভু সূফ সাগরের জল তাদের ওপর দিয়ে বইয়ে দিলেন| তোমরা প্রভুকে তাদের সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিতে দেখেছিলে|
5 এই স্থানে না আসা পর্য়ন্ত মরুভূমিতে প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের জন্য কি করেছিলেন সেই সমস্ত জিনিস তোমরা দেখেছিলে|
6 রূবেণের পরিবারগোষ্ঠীর ইলীয়াসরের পুত্র দাথন এবং অবীরাম এর প্রতি প্রভু কি করেছিলেন সেটা তোমরা দেখেছিলে, যখন ভূমি মুখের মতো খুলে গিয়ে ঐ সমস্ত লোকদের গ্রাস করেছিল, সেই ঘটনা ইস্রায়েলের সমস্ত লোক দেখেছিল| এটি তাদের পরিবারবর্গের, তাদের তাঁবুগুলোকে এবং তাদের সমস্ত পরিচারকদের এবং পশুদের গ্রাস করেছিল|
7 প্রভু য়ে সমস্ত মহত্‌ কাজগুলো করেছিলেন সেগুলো তোমরাই দেখেছিলে, তোমাদের সন্তানরা নয়!
8 “সুতরাং আমি আজ তোমাদের য়ে সমস্ত আজ্ঞাগুলো বললাম, সেগুলো তোমরা অবশ্যই মানবে| তাহলেই তোমরা শক্তিশালী হবে এবং তোমরা যর্দন নদী অতিক্রম করতে ও য়ে দেশে প্রবেশ করতে চলেছ সেই দেশ অধিগ্রহণ করতে সক্ষম হবে|
9 তাহলেই তোমরা সেই দেশে অনেকদিন বেঁচে থাকবে| প্রভু সেই দেশ তোমাদের পূর্বপুরুষদের এবং তাদের সমস্ত উত্তরপুরুষদের দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন| এই দেশটি অনেক ভালো জিনিসে পরিপূর্ণ|
10 তোমরা য়ে দেশ অধিকার করতে চলেছ সেটি সেই মিশর দেশের মত নয় য়ে দেশ থেকে তোমরা বের হয়ে এসেছিলে| মিশরে তোমরা তোমাদের দানা শস্য রোপণ করতে এবং তারপরে জল দেওয়ার জন্য তোমরা পাযের সাহায্যে কৃত্রিম খাল থেকে সেচ করে জল আনতে, য়েভাবে তরকারির বাগানে জল দিতে সেইভাবে|
11 কিন্তু তোমরা য়ে দেশ খুব শীঘ্রই অধিকার করবে তাতে অনেক পর্বত এবং উপত্যকা আছে এবং দেশটি তার রয়োজনীয় জল পায় আকাশের বৃষ্টি থেকে|
12 প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, সেই দেশ সম্পর্কে যত্নবান| প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, বছরের প্রথম থেকে শেষ পর্য়ন্ত সেই দেশের উপর লক্ষ্য রাখেন|
13 “প্রভু বলেন, ‘আমি আজ তোমাদের য়ে আজ্ঞাগুলো দিলাম সেগুলো তোমরা নিশ্চয়ই খুব সতর্কভাবে শুনবে| তোমরা অবশ্যই প্রভু তোমাদের ঈশ্বরকে ভালোবাসবে এবং তোমাদের সমস্ত মন এবং সমস্ত প্রাণ দিয়ে তাঁর সেবা করবে|
14 যদি তোমরা এটি করো তাহলে আমি ঠিক সময়ে তোমাদের দেশের জন্য বৃষ্টি পাঠাবো| আমি শরত্‌কালের বৃষ্টি এবং বসন্তকালের বৃষ্টি পাঠাবো| তাহলেই তোমরা তোমাদের দানা শস্য, নতুন দ্রাক্ষারস এবং তেল সংগ্রহ করতে পারবে|
15 এবং আমি তোমাদের পশুদের জন্য তোমাদের মাঠগুলোতে ঘাস জন্মাব, তাতে তোমাদের যথেষ্ট পরিমাণ খাদ্যের সংস্থান হবে|’
16 “কিন্তু সাবধান! য়েন তোমাদের হৃদয় ভ্রান্ত না হয় এবং তোমরা ঘুরে অন্যান্য দেবতাদের সেবা এবং পূজা না কর|
17 তা করলে ঈশ্বর তোমাদের প্রতি ভীষণ ক্রুদ্ধ হবেন| তিনি আকাশ রুদ্ধ করে দেবেন এবং কোনো বৃষ্টি হবে না| জমিতে কোনো ফসল উত্পন্ন হবে না| এবং প্রভু তোমাদের য়ে উত্তম দেশ দিচ্ছেন সেই দেশে তোমরা খুব শীঘ্রই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে|
18 “আমি তোমাদের য়ে আজ্ঞাগুলো দিলাম সেগুলো তোমরা মনে রাখবে| সেগুলো তোমরা তোমাদের হৃদয়ে গেঁথে রাখো| আজ্ঞাগুলোকে লেখ, সেগুলোকে হাতে বেঁধে রাখ এবং আমার বিধিগুলো মনে রাখার উপায় হিসেবে তা তোমাদের কপালে বেঁধে রাখ|
19 এই বিধিগুলো তোমাদের সন্তানদেরও শেখাও| যখন তোমরা তোমাদের বাড়ীতে বসে থাকবে, যখন তোমরা রাস্তায় হাঁটবে, যখন তোমরা শুয়ে থাকবে এবং যখন তোমরা উঠবে তখন এগুলো সম্পর্কে আলোচনা করো|
20 তোমাদের বাড়িগুলির দরজার খুঁটির ওপরে এবং ফটকগুলির ওপরে এই আজ্ঞাগুলোক লিখে রাখ|
21 তাহলে প্রভু তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে য়ে দেশের জন্য প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, সেই দেশে তোমরা এবং তোমাদের সন্তানরা উভয়েই দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে| পৃথিবীর ওপরে আকাশ যতদিন থাকবে তোমরাও সেই দেশে ততদিন থাকবে|
22 “আমি তোমাদের য়ে আজ্ঞাগুলো অনুসরণ করতে বলেছিলাম সেগুলো মেনে চলার ব্যাপারে তোমরা খুব সতর্ক হবে: প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরকে, ভালোবাসো, তাঁর নির্দেশিত সব পথগুলো অনুসরণ কর এবং তাঁর প্রতি বিশ্বস্ত থাক|
23 তাহলে তোমরা যখন সেই দেশের ভিতরে যাবে, প্রভু তখন অন্যান্য জাতির লোকদের সেই দেশ থেকে তাড়িয়ে দেবেন| য়ে জাতিগুলি তোমাদের থেকে বৃহত্তর এবং শক্তিশালী তাদের কাছ থেকে তোমরা দেশটি নিয়ে নেবে|
24 য়েখান দিয়ে তোমরা হাঁটবে সেই সমস্ত স্থান তোমাদের হবে| তোমাদের দেশ দক্ষিণের মরুভূমি থেকে উত্তরে লিবানোন পর্য়ন্ত বিস্তৃত হবে| এটি আবার পূর্বদিকে ফরাত্‌ নদী থেকে ভূমধ্যসাগর পর্য়ন্ত বিস্তৃত হবে|
25 কোনো ব্যক্তি তোমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সক্ষম হবে না| তোমরা সেই দেশে যেখানেই যাবে, প্রভু তোমাদের ঈশ্বর সেখানকার লোকদের তোমাদের সম্পর্কে ভীত করে দেবেন| এগুলোই প্রভু তোমাদের কাছে পূর্বে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন|
26 “আজ আমি তোমাদের আশীর্বাদ অথবা অভিশাপ এ দুটির মধ্যে য়ে কোনো একটি পছন্দ করতে দিচ্ছি|
27 আজ আমি তোমাদের য়েগুলো বলেছি, প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের সেই আজ্ঞাগুলো যদি তোমরা শোন এবং মান্য করো তাহলে তোমরা আশীর্বাদ পাবে|
28 কিন্তু তোমরা যদি প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের, আজ্ঞা না শোন এবং না মানো এবং আমি আজ তোমাদের য়ে ভাবে আদেশ করলাম সেভাবে জীবনধারণ না করে অন্যান্য দেবতাদের অনুসরণ করো, তবে তোমরা অভিশাপগ্রস্ত হবে|
29 “তোমরা য়ে দেশ অধিকার করতে যাচ্ছ সেই দেশে প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের নেতৃত্ব দিয়ে নিয়ে গেলে তোমরা গরিষীম পর্বতের শিখরে যাবে এবং সেখান থেকে লোকদের উদ্দেশ্যে আশীর্বাদ বাণী পড়বে এবং তারপর তোমরা এবল পর্বতের শিখরে যাবে এবং সেখান থেকে লোকদের প্রতি অভিশাপসূচক বার্তা পড়বে|
30 যর্দন উপত্যকায বসবাসকারী কনানীয় লোকদের দেশে যর্দন নদীর অপর পারে এই পর্বতমালা অবস্থিত| এই পর্বতমালা পশ্চিমদিকে অবস্থিত, গিল্গল শহরের কাছে মোরির এলোন বনের থেকে খুব দূরে নয়|
31 তোমরা যর্দন নদী অতিক্রম করে যাবে| প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের য়ে দেশ দিচ্ছেন তোমরা সেই দেশ অধিগ্রহণ করবে| এই দেশ তোমাদের হবে| যখন তোমরা এই দেশে বসবাস করতে শুরু করবে তখন,
32 আমি আজ তোমাদের য়ে সমস্ত বিধিসমুহ এবং নিয়মসমূহ দিলাম সেই সমস্ত তোমরা অবশ্যই খুব সতর্কভাবে মেনে চলবে|




অধ্যায় 12

1 “প্রভু, তোমাদের পিতৃপুরুষদের ঈশ্বর, তোমাদের য়ে দেশ অধিকার করতে দিচ্ছেন সেই নতুন দেশে তোমরা এই সমস্ত বিধিসমুহ এবং নিয়মসমূহ অবশ্যই মেনে চলবে| তোমরা যতদিন এই দেশে বাস করবে ততদিন পর্য়ন্ত তোমরা অবশ্যই এই বিধিসমূহ যত্নসহকারে মেনে চলবে|
2 এখন সেখানে য়ে জাতিরা বাস করছে তাদের কাছ থেকে যখন তোমরা দেশটি অধিগ্রহণ করবে, তখন ঐ সমস্ত জাতির লোকরা যেখানে তাদের দেবতাদের পূজা করে সেই জায়গাগুলো তোমরা অবশ্যই সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করবে| এই স্থানগুলো হল উঁচু পাহাড়ের ওপরে এবং সবুজ গাছপালার নীচে|
3 তোমরা অবশ্যই তাদের আশেরার স্তম্ভগুলি পুড়িয়ে দেবে এবং তাদের দেবতাদের মূর্ত্তিগুলো ভেঙ্গে দেবে| এই ভাবে তোমরা অবশ্যই সেই স্থান থেকে তাদের নাম লোপ করে দেবে|
4 “ঐ সমস্ত লোকরা য়েভাবে তাদের দেবতাদের পূজা করে, সেইভাবে তোমরা তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের উপাসনা অবশ্যই করবে না|
5 প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের পরিবারগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে এক বিশেষ স্থান পছন্দ করবেন| প্রভু তাঁর নাম সেখানে রাখবেন| সেটিই হবে তাঁর নিবাস স্থান| তোমরা অবশ্যই তাঁর উপাসনার জন্য সেই স্থানে যাবে|
6 সেখানে তোমরা অবশ্যই তোমাদের হোমবলির নৈবেদ্য, তোমাদের উত্সর্গের জিনিসপত্র, তোমাদের শস্যের এবং পশুর এক দশমাংশ, তোমাদের বিশেষ উপহারসমুহ, য়ে কোনোও উপহার সামগ্রী য়েটা তোমরা প্রভুর কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলে, য়ে কোনোও বিশেষ উপহার যা তোমরা দিতে চাও, এবং তোমাদের পশুপালের মধ্যে প্রথমজাত পশুদের নিয়ে আসবে|
7 সেই স্থানে তোমরা তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের উপস্থিতির সামনে আহার করবে এবং য়ে সব উত্তম বিষয় পরিশ্রম করে লাভ করেছ তা তুমি এবং তোমার পরিবারগুলির সাথে ভাগ করে নেবে, কারণ প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের আশীর্বাদ করেছেন এবং তোমাদের ঐ সমস্ত ভালো জিনিসগুলো দিয়েছেন|
8 “আমরা য়ে ভাবে উপাসনা করে আসছিলাম সেইভাবে তোমরা অবশ্যই তোমাদের উপাসনা চালিয়ে যাবে না| এখন পর্য়ন্ত আমরা যা ভাল মনে করেছি সেইভাবেই ঈশ্বরের উপাসনা করে আসছিলাম|
9 কারণ প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের য়ে দেশ দিচ্ছেন সেই বিশ্রামস্থানে তোমরা এখনও প্রবেশ কর নি|
10 কিন্তু তোমরা শীঘ্রই যর্দন নদী অতিক্রম করে যাবে এবং সেই দেশে বাস করবে| সেই দেশে প্রভু তোমাদের সমস্ত শত্রুদের কাছ থেকে তোমাদের বিশ্রাম দেবেন আর তোমরা বিপদমুক্ত হবে|
11 এর পর প্রভু তাঁর বিশেষ স্থান পছন্দ করবেন, সেই স্থানে প্রভু তাঁর নাম স্থাপন করবেন এবং আমি তোমাদের য়ে আজ্ঞা করেছিলাম সেই সমস্ত জিনিসপত্র তোমরা অবশ্যই সেই স্থানে নিয়ে আসবে| তোমাদের হোমবলির নৈবেদ্য, উত্সর্গের জিনিসপত্র, বিশেষ উপহার সামগ্রী, য়ে কোনও উপহার যা তোমরা তোমাদের শস্যের এবং পশুর এক দশমাংশ প্রভুর কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলে এবং তোমাদের পশুশালার প্রথমজাত পশুদের নিয়ে এসো|
12 তোমাদের সমস্ত লোকদের নিয়ে সেই স্থানে এস| তোমাদের সন্তানদের, তোমাদের পরিচারকদের এবং তোমাদের শহরে বসবাসকারী লেবীয়দের নিয়ে এসো| (কারণ তোমাদের মধ্যে এই সমস্ত লেবীয়দের নিজেদের জমির কোনো অংশ বা অধিকার নেই|) তোমরা সেখানে প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের, উপস্থিতির সামনে সবার সাথে আনন্দ উপভোগ করো|
13 সাবধান, য়ে কোন স্থান দেখলেই সেখানে তোমাদের হোমবলির নৈবেদ্য উত্সর্গ করো না|
14 তোমাদের পরিবারগোষ্ঠীর মধ্যে প্রভু তাঁর য়ে বিশেষ স্থান পছন্দ করবেন, কেবলমাত্র সেই স্থানেই তোমরা হোমবলির নৈবেদ্যসমুহ এবং অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রী উত্সর্গ করো এবং আমি যা আদেশ করছি সেগুলোই পালন করো|
15 “তোমরা যেখানেই থাকো, তোমরা য়ে কোনও পশুদের, য়েমন কৃষ্ণসার এবং হরিণ হত্যা করতে পার এবং সেগুলো খেতে পারো| তোমরা যতটা চাও সেই পরিমাণ মাংস তোমরা আহার করতে পার, য়ে পরিমাণ প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের দেন| য়ে কোনোও ব্যক্তি এই মাংস খেতে পারে - লোকদের মধ্যে যারা শুচি এবং অশুচি|
16 কিন্তু তোমরা অবশ্যই রক্ত খাবে না| ঠিক জলের মতোই রক্তটাকে তোমরা মাটিতে ঢেলে ফেলবে|
17 “তোমরা যেখানে বাস করছ সেই স্থানে এই জিনিসগুলি অবশ্যই ভক্ষণ করবে না; য়েমন তোমাদের শস্যের এক দশমাংশ, তোমাদের নতুন দ্রাক্ষারস এবং তেল, তোমাদের পশুপালের অথবা গবাদিপশুর প্রথমজাত পশুদের, য়ে কোনোও উপহার য়েটা তোমরা ঈশ্বরের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলে, য়ে কোনও বিশেষ উপহারসামগ্রী যা তোমরা ঈশ্বরের কাছে মানত করেছ অথবা ঈশ্বরের জন্য সরিয়ে রাখা অন্যান্য য়ে কোনোও উপহারসামগ্রী|
18 তোমরা অবশ্যই ঐ সমস্ত নৈবেদ্য কেবলমাত্র সেই স্থানেই আহার করবে যেখানে প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের, উপস্থিতি থাকবে এবং সেই বিশেষ স্থানে, য়েটি প্রভু তোমাদের ঈশ্বর পছন্দ করবেন| তোমরা অবশ্যই সেই স্থানে যাবে এবং তোমাদের পুত্রদের, তোমাদের কন্যাদের, তোমাদের সমস্ত পরিচারকদের এবং তোমাদের শহরে বসবাসকারী লেবীয়দের সঙ্গে একত্রে আহার করবে| সেখানে তোমরা নিজেরা প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের, উপস্থিতির সামনে আনন্দ উপভোগ করো| তোমরা য়ে জন্য কাজ করেছিলে, সেই জিনিসগুলোকে সেখানে উপভোগ করো|
19 কিন্তু সাবধান, তোমরা সবসময়ই এই সমস্ত খাদ্যদ্রব্য লেবীয়দের সঙ্গে ভাগ করে নেবে| তোমরা যতদিন তোমাদের দেশে থাকবে, ততদিন পর্য়ন্ত তোমরা এ কাজ করবে|
20 “প্রভু তোমাদের ঈশ্বর যখন তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুসারে দেশের সীমা বিস্তার করবেন; সেই সময় তিনি তাঁর নাম স্থাপনার্থে য়ে স্থানটি নির্বাচিত করেছেন তা থেকে তোমরা হয়তো অনেক দূরে বসবাস করতে পার| যদি এটি অনেক দূরে হয় এবং তোমরা মাংসের জন্য ক্ষুধার্ত হও তবে প্রভু তোমাদের যা দিয়েছেন সেই পশুপাল থেকে তোমরা য়ে কোনো পশুকে হত্যা করতে পার| আমি তোমাদের য়ে আদেশ করেছি সেই ভাবেই এটি করো| তোমরা তোমাদের শহরে এই মাংস যত ইচ্ছা তত খেতে পার|
21
22 তোমরা য়েভাবে কৃষ্ণসার অথবা হরিণের মাংস খাও সেভাবেই তোমরা এই মাংস খেতে পার| শুচি বা অশুচি য়ে কোন ব্যক্তিই তা খেতে পারে|
23 কিন্তু সাবধান, রক্ত খেও না, কারণ রক্তের মধ্যেই জীবনের অস্তিত্ব| তোমরা সেই মাংস কখনই খাবে না যতক্ষণ পর্য়ন্ত তার মধ্যে প্রাণের অস্তিত্ব আছে|
24 রক্ত খেও না| জলের মতোই মাটির ওপরে রক্ত ঢেলে ফেলে দেবে|
25 কাজেই রক্ত খেও না. প্রভুর দৃষ্টিতে যা ন্যায় সেই কাজগুলো করলে তোমাদের এবং তোমাদের উত্তরপুরুষদের মঙ্গল হবে|
26 “তোমাদের পবিত্র উপহার এবং যদি তোমরা ঈশ্বরকে বিশেষ কিছু দেবে বলে মানত করে থাক, তাহলে তা নিয়ে প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের, মনোনীত স্থানে যাবে|
27 সেই জায়গায় তোমরা অবশ্যই তোমাদের হোমবলি উত্সর্গ করবে| তোমরা অবশ্যই প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের বেদীর ওপরে তোমাদের হোমবলির মাংস এবং রক্ত উভয়ই উত্সর্গ করবে| তোমরা অবশ্যই তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের বেদীর ওপরে রক্ত ঢালবে| এরপর তোমরা মাংস খেতে পার|
28 আমি তোমাদের য়ে আদেশগুলো দিলাম সেগুলো মেনে চলার ব্যাপারে খুব সতর্ক থাকবে| প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের চোখে যা ভাল এবং ন্যায় সেই কাজগুলি করলে তোমাদের এবং তোমাদের উত্তরপুরুষদের চিরদিন মঙ্গল হবে|
29 “তোমরা য়ে দেশ অধিকার করতে যাচ্ছ সেই দেশের অধিবাসীদের প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, ধ্বংস করবেন, সুতরাং তোমরা ঐ সমস্ত অধিবাসীদের সেই দেশ থেকে বেরিয়ে য়েতে বাধ্য করে সেখানে বাস করবে|
30 তখন সাবধান, তোমাদের চোখের সামনে তাদের ধ্বংসের পর তাদের অনুকরণ করে ফাঁদে পড়ো না| সাবধান, সাহায্যের জন্য ঐ সমস্ত মূর্ত্তির অন্বেষণ করো না, কখনও খোঁজ নিও না, ‘ঐ সমস্ত লোকরা ঐ দেবতাদের কিভাবে পূজা করত, পাছে বল আমিও একইভাবে পূজা করব!’
31 সেই ভাবে তোমরা তোমাদের প্রভু, ঈশ্বরের, উপাসনা করো না| কারণ প্রভু য়েগুলো ঘৃণা করেন সেই সবরকম খারাপ কাজই ঐ সমস্ত লোকরা করে| কারণ তারা দেবতাদের কাছে বলি হিসেবে তাদের সন্তানদের পোড়ায!
32 “আমি তোমাদের য়ে আদেশগুলো করলাম সেগুলো পালন করার ব্যাপারে তোমরা খুব সতর্ক হবে| আমি তোমাদের যা বললাম সেগুলোর সঙ্গে কোনো কিছু য়োগ করো না এবং কোনো কিছু বাদও দিও না|




অধ্যায় 13

1 “কোন ভাববাদী বা স্বপ্নদর্শক, য়ে স্বপ্ন ব্যাখ্যা করে, তোমাদের কাছে এসে কোনো চিহ্ন বা অলৌকিক কিছু দেখাতে পারে|
2 আর সে তোমাদের য়ে চিহ্ন বা অলৌকিক কিছুর কথা বলেছিল তা সফল হলে সে হয়তো তোমাদের বলতে পারে, ‘এস আমরা অন্যান্য দেবতাদের (য়ে সব দেবতাদের তোমরা জান না|) অনুসরণ করি এবং সেবা করি|’
3 সেই স্বপ্নদর্শকের কথা শুনো না| কেন? কারণ প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের পরীক্ষা করছেন| প্রভু জানতে চাইছেন য়ে, তোমরা তাঁকে তোমাদের সমস্ত হৃদয় এবং তোমাদের সমস্ত প্রাণ দিয়ে ভালোবাস কিনা|
4 তোমরা অবশ্যই তোমাদের প্রভু, ঈশ্বরকে, অনুসরণ করবে! তাঁকে শ্রদ্ধা করবে| প্রভুর আজ্ঞাগুলো মেনে চলবে এবং তিনি তোমাদের যা বলেন সেগুলো করবে| প্রভুর সেবা করো এবং তাঁকে কখনও পরিত্যাগ করো না|
5 এছাড়াও তোমরা অবশ্যই সেই ভাববাদী অথবা স্বপ্নদর্শককে হত্যা করবে| কারণ সে তোমাদের সেই প্রভু ঈশ্বরের বিরুদ্ধাচারণ করতে বলেছিল য়ে প্রভু তোমাদের মিশর দেশ থেকে বের করে নিয়ে এসেছিলেন এবং দাসত্ব থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন| প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের য়েভাবে জীবনযাপন করার জন্য আজ্ঞা করেছিলেন সেই লোকটি তোমাদের সেই জীবন থেকে সরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিল| সুতরাং তোমাদের লোকদের মধ্য থেকে সেই মন্দকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য তোমরা অবশ্যই সেই ব্যক্তিকে হত্যা করবে|
6 “তোমাদের ঘনিষ্ঠ কেউ অন্য দেবতাদের পূজা করার জন্য তোমাদের গোপনে পরামর্শ দিতে পারে| সে তোমাদের ভাই হতে পারে, তোমাদের পুত্র হতে পারে, তোমাদের কন্যা হতে পারে, যাকে ভালোবাসো সেই স্ত্রী হতে পারে অথবা তোমাদের ঘনিষ্ঠতম বন্ধুও হতে পারে| সেই লোকটি বলতে পারে, ‘এবার আমরা যাই এবং অন্যান্য দেবতাদের সেবা করি|’ (এরাই হল সেই দেবতা যাদের তোমরা জানতে না এবং তোমাদের পূর্বপুরুষরাও কোন দিন জানত না|
7 এরাই হল তোমাদের চারপাশের অন্যান্য দেশের বসবাসকারী লোকদের কারোর কাছের বা কারোর দূরের দেবতা|)
8 তোমরা সেই ব্যক্তির সঙ্গে অবশ্যই একমত হবে না| তার কথা শুনবে না| তার জন্য দুঃখিত হবে না| তাকে ছেড়ে দিও না এবং তাকে রক্ষা করো না|
9 না! তোমরা অবশ্যই সেই ব্যক্তিকে হত্যা করবে| তোমরা অবশ্যই তাকে পাথর মেরে হত্যা করবে| তুমিই হবে প্রথম ব্যক্তি য়ে পাথর তুলবে এবং তার দিকে ছুঁড়ে মারবে| এরপর সমস্ত লোকরা তাকে হত্যা করার জন্য অবশ্যই পাথর ছুঁড়বে| কারণ সেই ব্যক্তি তোমাদের প্রভু, ঈশ্বরের, কাছ থেকে তোমাদের দূরে সরিয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছিল; অথচ সেই মিশর দেশ থেকে প্রভুই তোমাদের দাসত্ব থেকে বের করে নিয়ে এসেছিলেন|
10
11 তখন ইস্রায়েলের সমস্ত লোকরা শুনতে পাবে এবং ভয় পাবে এবং তারা আর কখনও ঐ সমস্ত খারাপ কাজ করবে না|
12 “প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের বাস করার জন্যে য়ে শহরগুলো দিয়েছেন, সেই শহরগুলোর মধ্যে কোনো একটির সম্পর্কে যদি এমন খবর পাও
13 য়ে তোমাদের মধ্যে থেকে কিছু পাষণ্ড লোক শহরের অন্যান্য লোকদের এই বলে ঈশ্বরবিমুখ করার জন্য প্ররোচিত করছে য়ে, ‘এবার এস আমরা এমন দেবতাদের সেবা করি যাদের তোমরা আগে কখনও জানতে না|’
14 তখন এই ধরণের কোনো খবর সত্য কিনা তা জানার জন্য তোমরা অবশ্যই যথাসাধ্য চেষ্টা করবে| যদি তোমরা জানতে পারো য়ে এটি সত্য, যদি তোমরা প্রমাণ করতে পার য়ে সে রকম সাংঘাতিক ঘটনা সত্যই ঘটেছিল
15 তাহলে তোমরা অবশ্যই সেই শহরের লোকদের সকলকে তরবারি দ্বারা হত্যা করবে এবং তোমরা তাদের সমস্ত পশুদেরও হত্যা করবে| তোমরা অবশ্যই সেই শহরটিকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করবে|
16 এরপর তোমরা অবশ্যই সমস্ত মূল্য়বান জিনিসপত্র এক জায়গায় জড়ো করবে এবং সেগুলোকে শহরের কেন্দ্রস্থলে নিয়ে যাবে| তারপর শহরটিকে ঐ সমস্ত জিনিসপত্র সমেত পুড়িয়ে ফেলবে| এটি হবে তোমাদের প্রভু, ঈশ্বরের, কাছে হোমবলির নৈবেদ্য| শহরটি য়েন অবশ্যই চিরকালের মতো পাথরের স্তুপে পরিণত হয়| সেই শহরটিকে য়েন অবশ্যই আবার তৈরী করা না হয়|
17 সেই শহরের প্রতিটি জিনিস ধ্বংস করার জন্য ঈশ্বরকে দান করতে হবে, সুতরাং তোমরা ঐ জিনিসগুলোর কোনটিই নিজেদের জন্য রাখবে না| তোমরা যদি এই আদেশ মেনে চলো, তাহলে প্রভু তোমাদের প্রতি আর এতো ক্রুদ্ধ হবেন না| প্রভু তোমাদের প্রতি কৃপা ও করুণা করবেন| তিনি তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে য়ে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, সেই অনুযায়ী তিনি তোমাদের জাতিকে বৃহত্তর করবেন|
18 এই রকমটাই হবে যদি তোমরা প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের, কথা শোনো, তাঁর সমস্ত আজ্ঞাগুলো, য়েগুলো আজ আমি তোমাদের দিলাম, সেগুলো সব যদি মেনে চলো এবং প্রভুর দৃষ্টিতে যথার্থ আচরণ করো|




অধ্যায় 14

1 “তোমরা হলে প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের, সন্তান| যখন কেউ মারা যায় তখন তোমরা কোনোভাবেই তোমাদের নিজেদের কাটাছেঁড়া করবে না অথবা মাথা কামিয়ে তোমাদের দুঃখ প্রকাশ করবে না|
2 কেন? কারণ তোমরা অন্যান্য লোকদের থেকে আলাদা| তোমরা হলে প্রভুর বিশেষ লোকজন| পৃথিবীর সমস্ত লোকর মধ্য থেকে প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তাঁর বিশেষ লোক হিসেবে তোমাদেরই নির্বাচিত করেছিলেন|
3 “প্রভু য়েগুলো ঘৃণা করেন সেগুলো তোমরা খেও না|
4 তোমরা এই সমস্ত পশুদের খেতে পার - গরু, মেষ, ছাগল,
5 হরিণ, বারশিঙ্গা হরিণ, ছোট হরিণী, বুনো মেষ, বুনো ছাগল, কৃষ্ণসার হরিণ এবং পার্বত্য মেষ|
6 য়ে কোনোও পশু যাদের পাযে দুভাগে বিভক্ত খুর আছে এবং যারা জাবর কাটে তাদের তোমরা খেতে পারো|
7 কিন্তু তোমরা উট, খরগোশ অথবা পাহাড়ী শ্বাফন পশুদের খেও না| এই সমস্ত পশুরা জাবর কাটে কিন্তু তাদের পাযে বিভক্ত খুর নেই, সুতরাং ঐ সমস্ত পশুরা শুচি খাদ্য হিসেবে তোমাদের কাছে গ্রহণয়োগ্য নয়|
8 তোমরা অবশ্যই শুয়োর খাবে না| তাদের পাযের খুরগুলো বিভক্ত, কিন্তু তারা জাবর কাটে না| সুতরাং খাদ্য হিসেবে শুযোরও তোমাদের গ্রহণয়োগ্য নয়| শুযোরের কোনো মাংস খাবে না| এমনকি শুযোরের মৃত শরীর স্পর্শ করবে না|
9 “পাখনা এবং আঁশ আছে এরকম য়ে কোনো রকম মাছ তোমরা খেতে পারো|
10 কিন্তু জলে বসবাসকারী জীবন্ত কোনো কিছু, যাদের পাখনা অথবা আঁশ নেই সেগুলো তোমরা খেও না| এগুলো তোমাদের পক্ষে শুচি খাদ্য নয়|
11 “তোমরা য়ে কোনোও প্রকারের শুচি পাখী খেতে পারো|
12 কিন্তু এই পাখীগুলো খেও না: ঈগল, শকুন, বাজ,
13 লাল চিল, বাজ পাখি এবং য়ে কোনো প্রকার চিল,
14 য়ে কোন প্রকার কাক,
15 শিং ওয়ালা পেঁচা, লক্ষী পেঁচা, শঙ্খ চিল, য়ে কোনোও রকম বাজপাখি,
16 ছোট পেঁচা, বড় পেঁচা, সাদা পেঁচা,
17 মরুভূমি অঞ্চলের পেঁচা, সামুদ্রিক ঈগল, লিপ্তপাদ সামুদ্রিক পাখী,
18 সারস, সারস জাতীয অন্যান্য য়ে কোনোও পাখী, ঝুঁটিওয়ালা পাখী অথবা বাদুড়|
19 “ডানাওয়ালা সমস্ত পোকারাই অশুচি, সুতরাং তাদের খেও না|
20 কিন্তু তোমরা য়ে কোনও প্রকার শুচি পাখী খেতে পার|
21 “নিজের থেকে মারা গেছে এমন কোনোও পশু তোমরা খেও না| তোমরা মৃত পশু খাবার জন্য তোমাদের শহরের কোনো বিদেশীকে দিতে পারো| অথবা তোমরা তা তার কাছে বিক্রি করতে পারো| কিন্তু তোমরা নিজেরা অবশ্যই কোনো মৃত পশু খাবে না, কারণ তোমরা প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের| তোমরা তাঁর বিশেষ লোক|“একটি ছাগশিশুকে তারই মাযের দুধে রান্না কোরো না|
22 “তোমাদের জমিতে য়ে ফসল হয়, প্রতি বছর তার দশ ভাগের এক ভাগ আলাদা করে রাখবে|
23 এরপর প্রভু য়ে জায়গাটিকে তাঁর বিশেষ বাসস্থান হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, সেখানে তোমরা যাবে| সেই স্থানে তোমরা তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের উপস্থিতিতে তোমাদের দানা শস্যের, তোমাদের নতুন দ্রাক্ষারসের, তোমাদের তেলের এবং তোমাদের পশুর দলের মধ্যে প্রথম জাত পশুদের এক দশমাংশ ভোজন করবে| এই প্রকারে তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের সম্মান দেখানোর কথা সব সময় মনে রাখবে|
24 কিন্তু জায়গাটা যদি দূরে হয় তবে তোমাদের শস্যের দশ ভাগের এক ভাগ তোমাদের পক্ষে বহন করে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নাও হতে পারে| সুতরাং প্রভু যখন তোমাকে আশীর্বাদ করেন তখন ঈশ্বর নিজের নাম স্থাপনের জন্য য়ে স্থান মনোনীত করেছেন তা দূরে হলে
25 তোমাদের শস্যের সেই অংশটুকু বিক্রি করে য়ে টাকা পাবে তা সঙ্গে নাও এবং ঈশ্বর য়ে জায়গা মনোনীত করেছেন সেই বিশেষ জায়গায় যাও|
26 সেই টাকা দিয়ে তোমরা যা চাও তা কেনো - গরু, মেষ, দ্রাক্ষারস অথবা সুরা অথবা য়ে কোনো রকম খাদ্য| এর পর সেই জায়গায় প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের সঙ্গে তোমরা এবং তোমাদের পরিবারের লোকরা অবশ্যই খাবে এবং আনন্দ উপভোগ করবে|
27 কিন্তু তোমাদের শহরে বসবাসকারী লেবীয়দের ভুলো না| তোমরা তাদের সঙ্গে তোমাদের খাদ্য ভাগ করে নেবে, কারণ তোমাদের মতো তাদের জমির কোনো অংশ নেই|
28 “প্রতি তিন বছরের শেষে তোমরা অবশ্যই সেই বছরের সংগৃহীত ফসলের এক দশমাংশ সংগ্রহ করবে| তোমাদের শহরগুলোতে এই খাদ্য জমা করে রেখো|
29 এই খাদ্য লেবীয় লোকদের জন্য কারণ তাদের নিজেদের কোনো জমি নেই| এই খাদ্য তোমাদের শহরে যাদের খাদ্যের প্রযোজন তাদেরও জন্য| সেই খাদ্য বিদেশীদের, বিধবাদের এবং অনাথদের জন্য| যদি তোমরা এটি করো তাহলে প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের সমস্ত কাজে আশীর্বাদ করবেন|




অধ্যায় 15

1 “প্রতি সাত বছরের শেষে তোমরা অবশ্যই ঋণ ক্ষমা করবে|
2 তোমরা এই প্রকারে তা করবে: কোন লোক য়ে অপর ইস্রায়েলীয়কে টাকা ধার দিয়েছে, সে অবশ্যই সেই ঋণ ক্ষমা করবে| সে তার প্রতিবেশীকে ঋণ শোধ করতে বাধ্য করবে না, কারণ ঈশ্বরের সম্মানার্থে সেই বছরে দেনা বাতিল করার বছর হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে|
3 তোমরা কোন বিদেশীর কাছ থেকে ঋণ আদায করতে পার| কিন্তু আরেকজন ইস্রায়েলীর তোমার কাছে য়ে দেনা আছে সেটা তোমরা অবশ্যই বাতিল করবে|
4 তোমাদের দেশে কোনো গরীব লোক থাকা উচিত্‌ নয়, কারণ প্রভু তোমাদের য়ে দেশ দিয়েছেন সেই দেশে তোমাদের মহত্‌ভাবে আশীর্বাদ করবেন|
5 কিন্তু এটা একমাত্র তখনই সম্ভব যদি তোমরা প্রভু তোমাদের ঈশ্বরকে মেনে চলো| আমি আজ তোমাদের য়েগুলো বললাম সেই আজ্ঞাগুলো মেনে চলার ব্যাপারে তোমরা অবশ্যই সতর্ক থাকবে|
6 তাহলে তিনি য়েরকম প্রতিজ্ঞা করেছিলেন সেই মতো তোমাদের আশীর্বাদ করবেন| তখন তোমরা অন্যান্য জাতিকে ঋণ দেবে| কিন্তু অন্যদের কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার প্রযোজন তোমাদের হবে না| তোমরা বহু জাতিকে শাসন করতে পারবে, কিন্তু ঐ সমস্ত জাতির কেউই তোমাদের শাসন করবে না|
7 “প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের য়ে দেশ দিয়েছেন, সেখানকার কোন শহরে তোমার কেউ যদি দরিদ্র হয় তবে তুমি অবশ্যই স্বার্থপর হবে না, সেই দরিদ্র ব্যক্তিকে সাহায্য করবে, তাকে অবশ্যই সাহায্য করতে অস্বীকার করবে না|
8 তার সাথে উদারভাবে ভাগ করে নিতে তোমরা অবশ্যই রাজি হবে এবং সেই লোকটির যা কিছু প্রযোজন সব কিছু তোমরা তাকে ধার দেবে|
9 “সপ্তম বছর, দেনা বাতিল করার বছর এগিয়ে এসেছে বলে, শুধু মাত্র এই কারণেই কাউকে সাহায্য করতে অস্বীকার কোরো না| এই ধরণের কোন খারাপ চিন্তা তোমাদের মনে প্রবেশ করতে দিও না| য়ে ব্যক্তির সাহায্যের প্রযোজন, তার সম্বন্ধে তোমরা অবশ্যই কোনো খারাপ মনোভাব পোষণ করবে না| তোমরা অবশ্যই তাকে সাহায্য করতে অস্বীকার করবে না| তোমরা যদি সেই গরীব লোকটিকে সাহায্য না করো, তাহলে সে প্রভুর কাছে তোমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করবে এবং প্রভু তোমাদের এই পাপের জন্য অভিযুক্ত করবেন|
10 “তোমরা তোমাদের যথাসাধ্য সেই গরীব লোকটিকে দেবে| তাকে দেওয়ার সময় মনে কোনো কুচিন্তা রেখো না| কেন? কারণ এই ভালো কাজ করার জন্য প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের আশীর্বাদ করবেন| তোমাদের সমস্ত কাজে এবং তোমরা যা করো তার প্রত্যেকটিতে তিনি তোমাদের আশীর্বাদ করবেন|
11 তোমাদের দেশে সবসময়ই গরীব লোক থাকবে; সেই কারণে আমি তোমাদের আদেশ করছি তোমরা অবশ্যই তোমাদের ভাইদের এবং তোমাদের দেশে য়ে দরিদ্র লোকদের সাহায্যের প্রযোজন তাদের মুক্ত হস্তে সাহায্য করবে|
12 “ক্রীতদাস হিসেবে তোমাদের সেবা করার জন্য যদি কোনো হিব্রু পুরুষ অথবা স্ত্রীলোক তোমাদের কাছে নিজেকে বিক্রি করে তবে তোমরা তাকে ছ’বছর পর্য়ন্ত ক্রীতদাস হিসেবে রাখতে পার; কিন্তু সপ্তম বছরে তোমরা অবশ্যই তাকে ছেড়ে দেবে|
13 কিন্তু যখন তোমরা তোমাদের ক্রীতদাসকে স্বাধীন করছ, তখন তাকে খালি হাতে পাঠিও না|
14 তোমরা অবশ্যই সেই ব্যক্তিকে মুক্ত হস্তে তোমাদের পশু, দানাশস্য এবং দ্রাক্ষারস দেবে| প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের য়েভাবে আশীর্বাদ করেছেন সেই ভাবেই তোমরা তোমাদের ক্রীতদাসকে দেবে|
15 মনে রাখবে, তোমরা মিশরে ক্রীতদাস ছিলে এবং প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের মুক্ত করেছিলেন| সেই কারণেই আমি আজ তোমাদের এই আদেশ দিচ্ছি|
16 “কিন্তু সেই ক্রীতদাস যদি বলে, ‘আমি তোমাদের ছেড়ে যাবো না|’ সে তোমাকে এবং তোমাদের পরিবারকে ভালোবাসে এবং তোমাদের সঙ্গে সে ভালোভাবে আছে বলে এটা বলতে পারে|
17 এরকম হলে তোমরা সেই ক্রীতদাসকে তোমাদের দরজায কান রাখতে বলো এবং একটি ধারালো য়ন্ত্রের সাহায্যে তার কানে ফুটো করো| এর থেকেই বোঝা যাবে য়ে সে চিরকালের জন্য তোমাদেরই ক্রীতদাস| য়ে ক্রীতদাসী তোমাদের সঙ্গে থাকতে চায তার জন্যও এই ব্যবস্থা|
18 “ক্রীতদাসদের মুক্ত করে দেওয়ার ব্যাপারে মন কঠিন কোরো না| মনে রাখবে, কোনো ভাড়া করা লোককে তোমাদের য়ে টাকা দিতে হত তার অর্ধেক টাকায সে ছ’বছর তোমাদের সেবা করেছে| আর তাহলে তোমাদের প্রত্যেক কাজে প্রভু ঈশ্বর তোমাদের আশীর্বাদ করবেন|
19 “তোমাদের পশুপালের সমস্ত প্রথমজাত পুরুষ পশুদের তোমরা অবশ্যই প্রভুর উদ্দেশ্যে পৃথক করবে| তোমাদের কাজে ঐ পশুদের কাউকে ব্যবহার করবে না এবং ঐ সমস্ত মেষের থেকে কোনো পশম ছাঁটবে না|
20 প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, য়ে স্থান পছন্দ করবেন প্রত্যেক বছর সেই জায়গায় তোমরা ঐ সমস্ত পশুদের নিয়ে আসবে| সেখানে প্রভুর উপস্থিতির সামনে তোমরা এবং তোমাদের পরিবারের লোকরা ঐ সমস্ত পশুদের খাবে|
21 “কিন্তু যদি কোনো পশুর কোনো খুঁত থাকে - যদি খোঁড়া হয় অথবা অন্ধ অথবা অন্য য়ে কোনরকম খুঁত যদি থাকে, তাহলে তোমরা অবশ্যই সেই পশুটিকে তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের কাছে উত্সর্গ করবে না|
22 কিন্তু তোমরা বাড়ীতে সেই পশুর মাংস খেতে পারো| য়ে কোনোও লোকই এটি খেতে পারে - সে শুচিই হোক বা অশুচি হোক| এই মাংস খাওয়ার নিয়ম কৃষ্ণসার এবং হরিণের মাংস খাওয়ার মতো|
23 কিন্তু তোমরা পশুর রক্ত অবশ্যই খাবে না| তোমরা জলের মতোই সেই রক্ত মাটিতে ঢেলে দেবে|




অধ্যায় 16

1 “তোমরা আবীব মাসকে মনে রাখবে| সেই সময় তোমরা অবশ্যই প্রভু তোমাদের ঈশ্বরকে সম্মান দেখানোর জন্যে নিস্তারপর্ব উদযাপন করবে, কারণ সেই মাসে প্রভু তোমাদের ঈশ্বর মিশর থেকে তোমাদের রাত্রে বের করে নিয়ে এসেছিলেন|
2 বাস করার জন্য য়ে জায়গা প্রভু পছন্দ করবেন তোমরা অবশ্যই সেই জায়গায় যাবে| সেখানে তোমাদের পশুপাল থেকে পশু নিয়ে তা তোমরা নিস্তারপর্বের বলি হিসাবে প্রভুকে উত্সর্গ করবে|
3 এই বলির সঙ্গে খামিরযুক্ত কোন রুটি খাবে না| তোমরা সাতদিন খামিরবিহীন রুটি খাবে| এই রুটিকে বলা হয় ‘দুঃখাবস্থার রুটি|’ মিশরে তোমাদের য়ে সব সমস্যা ছিল সেগুলো মনে করতে এটি সাহায্য করবে| মনে করে দেখ কতো তাড়াতাড়ি তোমাদের দেশ ত্যাগ করতে হয়েছিল| মিশর থেকে য়েদিন তোমরা বেরিয়ে এসেছিলে সে দিনের কথা তোমরা যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিন মনে রাখবে|
4 দেশের কোথাও কোনও বাড়িতে সাত দিন ধরে অবশ্যই খামির থাকবে না| এছাড়া প্রথম দিন সন্ধ্যাবেলায় তোমরা যত মাংস উত্সর্গ করবে সেগুলো অবশ্যই সকালের আগে খেযে নিতে হবে|
5 “প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের য়ে শহরগুলো দিয়েছেন, সেখানে কোথাও তোমরা অবশ্যই নিস্তারপর্বের পশু উত্সর্গ করবে না|
6 তোমরা কেবলমাত্র সেই স্থানেই নিস্তারপর্বের পশু উত্সর্গ করবে য়েটিকে প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, তাঁর নাম বাস করার জন্য মনোনীত করবেন| য়ে সময় সূর্য় অস্ত যায়, সেই সন্ধ্যাবেলায় তোমরা অবশ্যই নিস্তাপর্বের পশু উত্সর্গ করবে| ঈশ্বর য়ে ঋতুতে তোমাদের মিশর থেকে বের করে এনেছিলেন সেই ঋতুতেই এটা করবে|
7 প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, য়ে জায়গা পছন্দ করবেন সেই জায়গায় তোমরা অবশ্যই নিস্তারপর্বের মাংস রান্না করবে এবং সেটি খাবে| এরপর সকালে তোমরা বাড়ীতে ফিরে য়েতে পার|
8 এই দিন তোমরা নিশ্চয়ই খামিরবিহীন রুটি খাবে| সপ্তম দিনে তোমরা অবশ্যই কোনো কাজ করবে না| এই দিন প্রভু তোমাদের ঈশ্বরকে সম্মান দেখানোর জন্য লোকরা এক বিশেষ সভায এসে একত্রিত হবে|
9 “য়েদিন থেকে তোমরা শস্য কাটা শুরু করেছিলে সেই দিন থেকে তোমরা সাত সপ্তাহ গোনো|
10 তারপর প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের জন্য সপ্তাহের উত্সব উদযাপন করো| তোমরা যা নিয়ে আসতে চাও সেইরকম কোনো বিশেষ উপহার নিয়ে এসে এটি করো| প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের কতখানি আশীর্বাদ করেছেন সেটা চিন্তা করে স্থির করবে তোমরা কতটা দেবে|
11 প্রভু তাঁর বিশেষ বাড়ীর জন্য য়ে জায়গা পছন্দ করবেন সেখানে যাও| সেখানে তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের সঙ্গে তোমরা এবং তোমাদের লোকরা একত্রে আনন্দ উপভোগ করবে| তোমাদের সমস্ত লোককে তোমাদের সঙ্গে নাও - তোমাদের পুত্রদের, তোমাদের কন্যাদের এবং তোমাদের সমস্ত সেবকদের| এছাড়া তোমাদের শহরগুলোতে বসবাসকারী লেবীয়দের, বিদেশীদের, অনাথদের এবং বিধবাদেরও নিয়ে এসো|
12 মনে রাখবে তোমরা মিশরে ক্রীতদাস ছিলে| সুতরাং এই বিধিগুলো মেনে চলার ব্যাপারে সতর্ক থাকবে|
13 “শস্য মাড়ানোর জায়গা থেকে শস্য সংগ্রহ করার পর এবং দ্রাক্ষা মাড়ার জায়গা থেকে দ্রাক্ষারস সংগ্রহ করার সাতদিন পরে তোমরা অবশ্যই কুটির উত্সব উদযাপন করবে|
14 এই উত্সবে তোমরা সকলে আনন্দ উপভোগ করো - তোমরা, তোমাদের ছেলেরা, তোমাদের মেয়েরা, তোমাদের সমস্ত সেবকরা এবং তোমাদের শহরে বসবাসকারী লেবীয়রা, বিদেশীরা, অনাথরা এবং বিধবারা|
15 প্রভু য়ে স্থান পছন্দ করবেন সেই বিশেষ স্থানে তোমরা সাতদিন ধরে এই উত্সব উদযাপন করবে| তোমাদের প্রভু ঈশ্বরকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য তোমরা এটি কর| শস্য সংগ্রহ এবং সমস্ত কাজে য়েহেতু প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের আশীর্বাদ করবেন তাই তোমরা খুব আনন্দ করবে|
16 “প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, য়ে স্থান পছন্দ করবেন সেই বিশেষ স্থানে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতে বছরে তিনবার তোমাদের পুরুষরা অবশ্যই আসবে| খামিরবিহীন রুটির তৈরীর উত্সব এবং কুটির উত্সবের জন্যও তারা আসবে| প্রভুর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আসা প্রত্যেক ব্যক্তি অবশ্যই উপহার নিয়ে আসবে, খালি হাতে আসবে না|
17 প্রত্যেক ব্যক্তি যতটা পারবে ততটা অবশ্যই দেবে| প্রভু তাকে কতটা দিয়েছেন সেই পরিপ্রেক্ষিতেই সে স্থির করবে সে ঈশ্বরকে কতটা দেবে|
18 “প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, য়ে শহরগুলো তোমাদের দিতে চলেছেন তার প্রত্যেকটিতে তোমরা অবশ্যই বিচারকদের এবং উচ্চপদাধিকারী ব্যক্তিদের নিয়োগ করবে| প্রত্যেক পরিবারগোষ্ঠী অবশ্যই এটি করবে এবং লোকদের বিচারের সময় এরা অবশ্যই পক্ষপাতহীন হবে|
19 তোমরা অবশ্যই অন্যায় বিচার করবে না এবং সব সময় পক্ষপাতহীন হবে| রায দেওয়ার সময় মন পরিবর্তনের জন্য কারও কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করবে না| অর্থ অনেক জ্ঞানী লোককেও অন্ধ করে দেয় এবং একজন ভালো লোক যা বলবে তাও পরিবর্তন করে দেয়|
20 সততা এবং পক্ষপাতহীনতা! সব সময় সত্‌ এবং পক্ষপাতহীন থাকার জন্য তোমাদের অবশ্যই খুব কঠোর চেষ্টা করতে হবে! তাহলেই প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের য়ে দেশ দিচ্ছেন সেই দেশে তোমরা থাকতে পারবে এবং রাখতে পারবে|
21 “তোমরা প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের জন্য নির্মিত বেদীর পাশে দেবী আশেরাকে সম্মান করার জন্য কোনোও কাঠের স্তম্ভ স্থাপন করবে না|
22 এবং মূর্ত্তি পূজার জন্য তোমরা কোনোও বিশেষ পাথর স্থাপন করবে না| প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, ঐ জিনিসগুলোকে ঘৃণা করেন|




অধ্যায় 17

1 “তোমরা তোমাদের প্রভু, ঈশ্বরের কাছে খুঁত আছে এমন কোনও গরু বা মেষ বলি দেবে না| কেন? কারণ তোমাদের প্রভু ঈশ্বর এটিকে ঘৃণা করেন!
2 “প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের য়ে দেশ দিচ্ছেন সেখানে তোমরা তোমাদের গোষ্ঠীর এমন কোন পুরুষ অথবা স্ত্রীলোককে পেতে পার য়ে প্রভুর বিরুদ্ধে পাপ করেছে বা প্রভুর নিয়ম ভঙ্গ করেছে
3 এবং অন্যান্য দেবতার পূজা করেছে, এও হতে পারে য়ে তারা সূর্য়, চন্দ্র অথবা নক্ষত্রের পূজা করেছে| এগুলো প্রভুর আজ্ঞার বিরুদ্ধে যা আমি তোমাদের দিয়েছিলাম|
4 যদি তোমরা এই ধরণের কোনো খবর শোনো, তাহলে তোমরা অবশ্যই যত্ন সহকারে খোঁজ খবর নেবে| এই রকম সাংঘাতিক ঘটনা ইস্রায়েলে যদি সত্য়িই ঘটে এবং যদি তার সত্যতা সম্পর্কে তোমরা নিশ্চিত হও
5 তাহলে য়ে ব্যক্তি সেই খারাপ কাজ করেছিল তাকে তোমরা অবশ্যই শাস্তি দেবে| শহরের দরজার কাছে কোনো প্রকাশ্য রাস্তার সেই পুরুষ অথবা স্ত্রীলোককে তোমরা অবশ্যই নিয়ে যাবে এবং তাদের পাথর দিয়ে হত্যা করবে|
6 কিন্তু যদি কেবল মাত্র একজন সাক্ষী বলে য়ে সেই ব্যক্তি খারাপ কাজ করেছে, তাহলে সেই ব্যক্তিকে কখনই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উচিত্‌ নয়| কিন্তু যদি দুজন অথবা তিনজন সাক্ষী বলে য়ে এটি সত্য়ি, তাহলে সেই ব্যক্তিকে অবশ্যই হত্যা করা উচিত্‌|
7 সেই ব্যক্তিকে হত্যা করার জন্য সাক্ষীর অবশ্যই প্রথমে পাথর ছুঁড়বে| এর পর হত্যার কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য অন্যান্য ব্যক্তিরা পাথর ছুঁড়বে| এই ভাবে তোমরা সেই মন্দকে তোমাদের মধ্যে থেকে সরিয়ে দেবে|
8 “এমন কিছু সমস্যা থাকতে পারে যা তোমাদের আদালতের পক্ষে বিচার করা খুবই শক্ত| এটি কোন হত্যার ঘটনাও হতে পারে, অথবা দুজন ব্যক্তির মধ্যে কোন বিতর্কও হতে পারে| অথবা এটি কোন সংঘর্ষও হতে পারে, যাতে কোন একজন আহত হয়েছে| তোমাদের শহরে যখন এইসব ঘটনগুলো নিয়ে বিতর্ক হয়, তখন সেখানে কোনটা ঠিক সেটি তোমাদের বিচারকরা ঠিক করতে সক্ষম নাও হতে পারেন| এক্ষেত্রে তোমাদের প্রভু ঈশ্বর য়ে স্থান পছন্দ করবেন সেই স্থানে তোমরা যাবে|
9 যাজকরা সবাই লেবি পরিবারগোষ্ঠীর| তোমরা অবশ্যই সেই যাজকদের কাছে যাবে যারা লেবীয় পরিবারগোষ্ঠীর এবং বিচারকদের কাছে যাবে যারা সেই সময় কর্তব্যরত| সেই সমস্যা নিয়ে কি করা যায় সেটা তাঁরাই ঠিক করবেন|
10 সেখানে প্রভুর বিশেষ স্থানে তাঁরা তাদের সিদ্ধান্ত তোমাদের জানাবেন| তাঁরা যা কিছু বলবেন, তোমরা অবশ্যই সেটা করবে| তাঁরা তোমাদের যা যা করতে বলবেন, সেগুলো সমস্ত করার ব্যাপারে তোমরা নিশ্চিত থাকবে|
11 তোমরা তাদের সিদ্ধান্ত স্বীকার করবে এবং ঠিক ঠিক ভাবে তাঁদের আদেশ অনুসরণ করবে| তাঁরা তোমাদের যা করতে বলবেন তোমরা সেগুলো ঠিক মতো করবে - তার কোন কিছুর পরিবর্তন করবে না|
12 “কোন লোক যদি সেই সময় তোমাদের প্রভু, ঈশ্বরের সেবায রত কোন বিচারক অথবা যাজকের কথা মেনে চলতে অস্বীকার করে, তাহলে সেই ব্যক্তিকে তোমরা অবশ্যই শাস্তি দেবে| সেই ব্যক্তিকে অবশ্যই মরতে হবে| ইস্রায়েল থেকে তোমরা সেই দুষ্ট লোককে অবশ্যই সরাবে|
13 সমস্ত লোক এই শাস্তির কথা শুনবে এবং ভীত হবে এবং এরপর তারা আর জেদী হবে না|
14 “প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের য়ে দেশ দিচ্ছেন তোমরা সেই দেশে প্রবেশ করবে| তোমরা সেই দেশ অধিগ্রহণ করে সেখানে বাস করার পর তোমরা বলতে পার, ‘আমাদের চারিদিকের অন্যান্য জাতির মতো আমাদের শাসন করার জন্যও একজন রাজা থাকা উচিত্‌|’
15 যখন সেটা ঘটে তখন প্রভু যাকে পছন্দ করবেন নিশ্চিতভাবে তাঁকেই রাজা হিসেবে নির্বাচন করো| তোমাদের ওপরে য়ে রাজা হবে সে অবশ্যই তোমাদের লোকদেরই একজন হবে| তোমরা অবশ্যই কোনো বিদেশীকে তোমাদের রাজা করবে না|
16 রাজা তার নিজের জন্য কখনই প্রচুর ঘোড়া রাখবে না এবং আরও ঘোড়া পাওয়ার জন্য সে কখনই লোকদের মিশরে পাঠাবে না| কেন? কারণ প্রভু তোমাদের বলেছেন, ‘তোমরা সেই পথে কখনই ফিরে যাবে না|’
17 এছাড়া রাজা কখনও য়েন অনেক স্ত্রী গ্রহণ না করে| কেন? কারণ তাহলে তা তাকে প্রভুর কাছ থেকে সরিয়ে দেবে; এবং রাজা কখনই য়েন নিজেকে রূপো আর সোনায় ধনী করে না তোলে|
18 “এবং রাজা যখন শাসন করতে শুরু করবে তখন একটা বইয়ে সে অবশ্যই বিধিগুলি লিখে রাখবে| যাজকরা এবং লেবীয় পরিবারগোষ্ঠীর লোকরা য়ে বই রাখে, সেই বই থেকে সে এই প্রতিলিপি লিখবে|
19 রাজা তার কাছে এই বইটি রাখবে এবং সারা জীবন অবশ্যই সেই বইটি পড়বে| কারণ প্রভু, তার ঈশ্বরকে, কিভাবে সম্মান জানাতে হয় তা রাজার শেখা উচিত্‌ এবং বিধিগুলি পুরোপুরি মেনে চলাও রাজার অবশ্য কর্তব্য|
20 য়েন রাজা এমন না ভাবে য়ে সে তার নিজের লোকদের থেকে ভালো| এবং য়েন সে বিধির পথ থেকে সরে না পড়ে, বরং সে এটিকে ঠিকভাবে অনুসরণ করবে| তাহলেই সেই রাজা এবং তার উত্তরপুরুষরা বহুদিন পর্য়ন্ত ইস্রায়েল রাজ্য় শাসন করবে|




অধ্যায় 18

1 “লেবি পরিবারগোষ্ঠীর লোকরা ইস্রায়েল জমির কোনো অংশ পাবে না| ঐ লোকরা যাজক হিসেবে কাজ করবে| য়ে সকল উত্সর্গীকৃত উপহার আগুনে রান্না করা হয় এবং প্রভুকে নিবেদন করা হয়, সেগুলো খেযে তারা জীবনধারণ করবে| লেবি পরিবারগোষ্ঠীর লোকদের এটিই হলো অংশ|
2 অন্যান্য পরিবারগোষ্ঠীর মতো লেবীয় পরিবারগোষ্ঠীর লোকরা জমির কোনো অংশ পাবে না| প্রভু তাদের য়েমন বলেছিলেন সেই অনুসারে লেবীয়দের অংশ হিসেবে প্রভু নিজেই আছেন|
3 “যখন তোমরা বলি হিসাবে গোরু অথবা মেষ হত্যা কর, তখন তোমরা যাজকদের এই অংশগুলো অবশ্যই দেবে; কাঁধ, দুই গাল এবং পাকস্থলী|
4 তোমাদের সংগৃহীত ফসলের প্রথম অংশ তোমরা যাজকদের অবশ্যই দেবে| তোমাদের শস্যের, তোমাদের নতুন দ্রাক্ষারসের এবং তোমাদের তেলের প্রথম অংশ তোমরা তাদের অবশ্যই দেবে| তোমাদের মেষের থেকে সংগৃহীত পশমের প্রথম অংশ তোমরা লেবীয়দের অবশ্যই দেবে|
5 কেন? কারণ তোমাদের প্রভু ঈশ্বর তোমাদের সমস্ত পরিবারগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করেছিলেন এবং চিরকাল যাজক হিসাবে তাঁর সেবা করার জন্য তিনি লেবি এবং তার উত্তরপুরুষদের মনোনীত করেছিলেন|
6 “তোমাদের শহরে বাসকারী কোন লেবীয় যদি তার বাসস্থান ত্যাগ করে, প্রভু য়ে স্থান মনোনীত করেছেন এমন কোন স্থানে বাস করতে আসে, তখন সেখানে
7 প্রভুর সামনে কর্তব্যরত অন্যান্য লেবীয় ভাইদের মতোই এই লেবীয়ও তার প্রভু ঈশ্বরের নামে সেবা করতে পারবে|
8 পৈতৃক অধিকার বিক্রি করে সে য়ে মূল্য় পেয়েছে সেটা ছাড়াও সে অন্যান্য লেবীয়দের সঙ্গে খাবারের সমান অংশ পাবে|
9 “প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের য়ে দেশ দিচ্ছেন সেই দেশে তোমরা যখন আসবে, তখন সেখানে অন্যান্য জাতির লোকরা য়ে সকল সাংঘাতিক কাজ করে সেগুলো তোমরা শিখো না|
10 তোমাদের বেদীর ওপরের আগুনে তোমরা তোমাদের পুত্রদের অথবা কন্যাদের উত্সর্গ করবে না| কোন ভাববাদীর সঙ্গে কথা বলে অথবা কোন যাদুকর, কোন ডাইনি অথবা কোন মাযাবীর কাছে গিয়ে নিজেদের ভবিষ্যত্‌ জানার চেষ্টা করবে না|
11 কাউকে অন্যান্য লোকদের ওপরে যাদুমন্ত্রের প্রযোগ করার চেষ্টা করতে দিও না| তোমাদের কোনো লোককে ভুতুড়িযা অথবা যাদুকর হতে দিও না; এবং মৃত লোকর আত্মার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করো না|
12 ঐ সমস্ত কাজ যারা করে, সেইসব লোকদের প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, ঘৃণা করেন| এই কারণেই প্রভু ঐ সমস্ত জাতির লোকদের তোমাদের সামনে দেশ ছেড়ে য়েতে বাধ্য করেছেন|
13 তোমরা অবশ্যই প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের কাছে সম্পূর্ণরূপে বিশ্বস্ত থাকবে|
14 “তোমরা য়ে ঐ সমস্ত জাতির লোকদের তোমাদের দেশ ছেড়ে য়েতে বাধ্য করছ তারা তাদের কথা শোনে যারা যাদুবিদযা চর্চা করে এবং ভবিষ্যত্‌ বলে| কিন্তু প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের এই জিনিসগুলো করতে দেবেন না|
15 প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের জন্য একজন ভাববাদী পাঠাবেন| তোমাদের নিজের লোকদের মধ্য থেকেই এই ভাববাদী আসবে| সে আমারই মতো হবে| তোমরা অবশ্যই এই ভাববাদীর কথা শুনবে|
16 তোমরা ঈশ্বরের কাছে য়ে চেয়েছিলে সেই অনুযায়ীতিনি এই ভাববাদীকে তোমাদের কাছে পাঠাবেন| যখন তোমরা হোরেব পর্বতে সকলে একত্রিত হয়েছিলে, তখন তোমরা ঈশ্বরের রব শুনে এবং পর্বতমালার ওপরে সেই মহত্‌ আগুন দেখে ভীত হয়েছিলে| সেজন্য তোমরা বলেছিলে, ‘আমাদের প্রভু ঈশ্বরের রব আমাদের পুনরায আর শোনাবেন না! আমাদের আর সেই মহত্‌ আগুন দেখতে দেবেন না, দেখলে আমরা মারা যাব!’
17 “প্রভু আমাকে বলেছিলেন, “তারা যা বলেছে তা যথার্থ|
18 আমি তাদের কাছে তোমার মতোই একজন ভাববাদী পাঠাব| এই ভাববাদী তাদের লোকদের মধ্যেই একজন হবে| সে য়ে কথা অবশ্যই বলবে সেটা আমি তাকে বলে দেব| আমি যা আদেশ করি তার সমস্ত কিছু সে লোকদের বলবে|
19 এই ভাববাদী আমার জন্যই বলবে এবং যখন সে কথা বলবে, যদি কোন ব্যক্তি আমার আদেশ না শোনে তাহলে আমি সেই ব্যক্তিকে শাস্তি দেব|’
20 “কিন্তু একজন ভাববাদী এমন কিছু বলতে পারে যা আমি তাকে বলার জন্য বলি নি| এবং সে লোকদের এও বলতে পারে য়ে সে আমার হয়েই তা বলছে| যদি এরকম ঘটনা ঘটে তাহলে সেই ভাববাদীকে অবশ্যই হত্যা করা উচিত্‌| এছাড়াও একজন ভাববাদী আসতে পারে য়ে অন্যান্য দেবতার হয়ে কথা বলে| সেই ভাববাদীকেও অবশ্যই হত্যা করা উচিত্‌|
21 তোমরা হয়তো ভাবতে পার, ‘আমরা কি করে জানতে পারবো য়ে ভাববাদী যা বলছে সেগুলো প্রভুর কথা নয়?’
22 যদি কোনো ভাববাদী বলে য়ে সে প্রভুর জন্য বলছে, কিন্তু যা বলছে তা না ঘটে, তাহলেই তোমরা জানবে য়ে প্রভু সেটি বলেন নি| তোমরা বুঝতে পারবে য়ে, এই ভাববাদী তার নিজের ধারণার কথাই বলছে| তোমরা তাকে ভয় পেও না|




অধ্যায় 19

1 “য়ে দেশে অন্য জাতির বাস, সেই দেশই প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের দিচ্ছেন| প্রভু ঐ সমস্ত জাতির লোকদের ধ্বংস করবেন| ঐ সব লোকরা যেখানে বাস করত সেখানে তোমরা বাস করবে| তোমরা তাদের শহরগুলো এবং তাদের বাড়ীগুলো অধিগ্রহণ করবে|
2 সেই ভূমিকে অবশ্যই তিন ভাগে ভাগ করবে| এরপর প্রত্যেকটি অংশে একটি করে শহর পছন্দ কর এবং সেই শহরগুলোতে যাবার রাস্তা তৈরী কর| তাহলে কোন লোক য়ে অপর কোনও ব্যক্তিকে হত্যা করেছে, সে সেই শহরে নিরাপত্তার জন্য ছুটে য়েতে পারবে|
3
4 “য়ে ব্যক্তি কোন ব্যক্তিকে হত্যা করে ঐ তিনটি শহরের য়ে কোন একটিতে নিরাপত্তার জন্য ছুটে যায়, তার জন্য এটি হল নিয়ম: সে অবশ্যই এমন একজন ব্যক্তি হবে য়ে অপর ব্যক্তিকে দুর্ঘটনাবশতঃ হত্যা করেছে এবং হত ব্যক্তিকে ঘৃণা করত না|
5 একটি উদাহরণ দেওয়া হল: একজন ব্যক্তি কাঠ কাটার জন্য আরেকজন ব্যক্তির সঙ্গে জঙ্গলে যায়| লোকটি একটি গাছ কাটার জন্য তার কুঠারটিকে দোলায, কিন্তু কুঠারের মাথাটি হাতলের থেকে আলাদা হয়ে অপর ব্যক্তিকে আঘাত করে এবং তাকে হত্যা করে| য়ে ব্যক্তি কুঠারটিকে দুলিযেছিল সে তখন ঐ তিনটি শহরের য়ে কোন একটিতে ছুটে য়েতে পারে এবং নিজেকে নিরাপদ করতে পারে|
6 কিন্তু যদি শহরটি খুব দূরে হয় তাহলে নিহত ব্যক্তির কোন নিকট আত্মীয তাকে তাড়া করে শহরে পৌঁছানোর আগেই ধরে ফেলতে পারে| সেই নিকট আত্মীয খুব ক্রুদ্ধ হতে পারে এবং সেই ব্যক্তিকে হত্যা করতে পারে| অথচ সেই ব্যক্তি হত্যার য়োগ্য ছিল না| কারণ য়ে ব্যক্তিকে সে হত্যা করেছে তাকে সে ঘৃণা করত না|
7 শহরগুলো অবশ্যই সকলের খুব কাছাকাছি হতে হবে| সেই কারণেই আমি তোমাদের তিনটি বিশেষ শহর পছন্দ করার জন্য আদেশ করছি|
8 “প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন য়ে তিনি তোমাদের দেশকে বৃহত্তর করবেন| তিনি তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে য়ে দেশ দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, সেই সমস্ত দেশই তিনি তোমাদের দেবেন|
9 আমি আজ তোমাদের য়ে আজ্ঞাগুলি দিচ্ছি, তাঁর সেই সমস্ত আদেশগুলো যদি তোমরা সম্পূর্ণভাবে মেনে চল তাহলে তিনি এটি করবেন - যদি তোমরা প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরকে, ভালোবাসো এবং তিনি যা পছন্দ করেন সেই ভাবেই যদি তোমরা বাস করো| এরপর যখন প্রভু তোমাদের দেশকে বৃহত্তর করবেন সেই সময় তোমরা নিরাপত্তার শহর হিসেবে আরও তিনটি শহরকে বেছে নেবে| তাদের প্রথম তিনটি শহরের সঙ্গে য়োগ করতে হবে|
10 তাহলে প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের য়ে দেশ দিচ্ছেন সেখানে কোন নির্দোষ লোক নিহত হবে না এবং তোমরা কোনো নির্দোষের মৃত্যুর জন্য দোষী হবে না|
11 “কিন্তু কেউ যদি অপর একজনকে ঘৃণা করে বলে লুকিয়ে তাকে হত্যা করার জন্য অপেক্ষা করে এবং সেই ব্যক্তিকে আক্রমণ করে হত্যা করার পর ঐ নিরাপত্তার শহরগুলোর য়ে কোনও একটিতে দৌড়ে পালিয়ে যায়,
12 তাহলে সেই লোকটি য়ে শহরে বাস করত সেখানকার প্রবীণরা তাকে ধরার জন্য লোক পাঠাবে এবং তাকে নিরাপত্তার শহর থেকে নিয়ে আসবে| এরপর তারা হত্যাকারীকে নিহতের নিকট আত্মীযের হাতে তুলে দেবে| হত্যাকারীকে অবশ্যই মরতে হবে|
13 তোমরা তার জন্য অবশ্যই দুঃখিত হবে না| সে একজন নিষ্পাপ ব্যক্তির হত্যার জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল| তোমরা অবশ্যই নিরপরাধের রক্তপাতের এই দোষকে ইস্রায়েল থেকে দূর করবে| তাহলে সমস্ত কিছুই তোমাদের জন্য ভালো চলবে|
14 “য়ে পাথরগুলোর সাহায্যে তোমাদের প্রতিবেশীর জমির সীমা চিহ্নিত হয় সেগুলো তোমরা কখনই সরাবে না| অতীতে জমির সীমা চিহ্নিত করার জন্যই ঐ পাথরগুলো রাখা হয়ছিল| প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, অধিকার করার জন্য তোমাদের য়ে দেশ দিয়েছেন এই নিয়ম সেখানকার জন্য|
15 “বিধি বিরুদ্ধ কোনো কিছু করার জন্য যদি কোনো লোক অভিযুক্ত হয়, তাহলে সেই লোকটি দোষী একথা প্রমাণ করার জন্য একজন সাক্ষী যথেষ্ট নয়| সেই ব্যক্তি য়ে সত্যই ভুল কাজ করেছিল সেটি প্রমাণ করার জন্য সেখানে অবশ্যই দুজন অথবা তিনজন সাক্ষী থাকতে হবে|
16 “মিথ্যে কথা বলে একজন মিথ্যা সাক্ষী অপর একজন লোককে আঘাত করার চেষ্টা করতে পারে|
17 যদি সেরকম ঘটে তাহলে ঐ দুজন ব্যক্তি অবশ্যই প্রভুর বিশেষ বাড়ীতে যাবে এবং সেই সময় সেখানে কর্তব্যরত যাজকরা এবং বিচারকরা তাদের বিচার করবে|
18 বিচারকরা অবশ্যই সযত্নে অনুসন্ধান করবে| আর যদি প্রমাণ হয় য়ে সাক্ষী সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যে কথা বলেছিল,
19 তাহলে তোমরা তাকে অবশ্যই শাস্তি দেবে| সে অপর ব্যক্তির প্রতি যা যা করতে চেয়েছিল, তোমরা তার প্রতি তাই করবে| এই প্রকারে তোমরা তোমাদের জাতি থেকে দুষ্টাচার দূর করে দেবে|
20 অন্যান্য লোকরা এই ঘটনা শুনে ভয় পাবে এবং তারা এই রকম খারাপ কাজ আর করবে না|
21 “অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ীশাস্তি হবে| য়ে ব্যক্তি খারাপ কাজ করেছে তাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য দুঃখিত হয়ো না| যদি কোন ব্যক্তি কারও জীবন নেয়, তাহলে তাকে অবশ্যই নিজের জীবন দিয়ে শোধ করতে হবে| নিয়ম হল: একটি চোখের জন্য একটি চোখ, একটি দাঁতের জন্য একটি দাঁত, একটি হাতের জন্য একটি হাত, একটি পাযের জন্য একটি পা|




অধ্যায় 20

1 “তোমরা শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে যদি দেখ য়ে তোমাদের থেকেও তাদের অনেক বেশী ঘোড়া, রথ এবং লোক রয়েছে, তবে ভয় পেও না| কেন? কারণ প্রভু যিনি তোমাদের মিশর থেকে বের করে এনেছিলেন, তিনি তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের সঙ্গে আছেন|
2 “যখন তোমরা যুদ্ধে যাও তখন যাজক অবশ্যই সৈন্যদের কাছে যাবে এবং তাদের সঙ্গে কথা বলবে|
3 যাজক বলবে, ‘ইস্রায়েলের লোকরা আমার কথা শোন! আজ তোমরা তোমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাচ্ছ| তোমরা সাহস হারিও না! তোমরা চিন্তিত এবং ভীত হয়ো না! শত্রুদের সম্পর্কে ভীত হয়ো না!
4 কেন? কারণ প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের সঙ্গে যাচ্ছেন| তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন এবং তোমাদের বিজয়ী করবেন!’
5 “ঐ লেবীয় গোষ্ঠীভুক্ত পদাধিকারী সৈন্যদের বলবে, ‘তোমাদের মধ্যে কি এমন কোনও ব্যক্তি আছে য়ে নতুন বাড়ী তৈরী করেছে, কিন্তু সেটিকে এখনও নিবেদন করেনি? সেই ব্যক্তির অবশ্যই বাড়ী ফিরে যাওয়া উচিত্‌| নয় তো সে যুদ্ধে নিহত হলে অন্য একজন ব্যক্তি তার বাড়ী নিবেদন করবে|
6 এখানে কি এমন কোনও ব্যক্তি আছে য়ে ক্ষেতে দ্রাক্ষার চারা রোপণ করেছে, কিন্তু এখনও পর্য়ন্ত কোন দ্রাক্ষা একত্রিত করেনি? সেই ব্যক্তির অবশ্যই বাড়ী ফিরে যাওয়া উচিত্‌| কারণ যদি সেই ব্যক্তি যুদ্ধে মারা যায়, তাহলে অপর একজন ব্যক্তি তার ক্ষেতের ফল ভোগ করবে|
7 এখানে কি এমন কোনও ব্যক্তি আছে য়ে বিবাহের জন্য বাগ্দত্ত? সেই ব্যক্তির অবশ্যই বাড়ী ফিরে যাওয়া উচিত্‌| কারণ যদি সে যুদ্ধে মারা যায়, তাহলে সে যার বাগ্দত্ত ছিল সেই স্ত্রীলোককে অপর একজন ব্যক্তি বিবাহ করবে|’
8 “সেই লেবীয় পদাধিকারীরা সৈন্যদের একথাও জিজ্ঞাসা করবে, ‘তোমাদের মধ্যে কি এমন কোন ব্যক্তি আছে য়ে উত্সাহ হারিযেছে এবং ভীত হয়েছে? সে অবশ্যই বাড়ী ফিরে যাবে| তাহলে সে অন্যান্য সৈন্যদেরও নিরুত্‌সাহ করতে পারবে না|’
9 পরে সৈন্যদের সঙ্গে পদাধিকারীরা যখন কথাবার্তা শেষ করবে তখন তারা অবশ্যই সেনাধ্যক্ষদের নির্বাচিত করবে| যারা সৈন্যদের নেতৃত্ব দেবে|
10 “যখন তোমরা কোন শহর আক্রমণ করতে যাবে, তখন প্রথমে সেখানকার লোকদের শান্তির আবেদন জানাবে|
11 যদি তারা তোমাদের প্রস্তাব স্বীকার করে এবং দরজা খুলে দেয়, তাহলে সেই শহরের সমস্ত লোকরা তোমাদের ক্রীতদাসে পরিণত হবে এবং তোমাদের জন্য কাজ করতে বাধ্য হবে|
12 কিন্তু যদি শহরের লোকরা তোমাদের শান্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এবং তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আসে তাহলে তোমরা অবশ্যই শহরটিকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলবে|
13 এবং যখন শহরটিকে অধিগ্রহণ করতে প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের সাহায্য করবেন, তখন তোমরা অবশ্যই সেখানকার সমস্ত পুরুষদের হত্যা করবে|
14 কিন্তু তোমরা তোমাদের নিজেদের জন্য স্ত্রীলোকদের, শিশুদের, গোরু এবং শহরের যাবতীয় জিনিস নিতে পার| তোমরা এই সমস্ত জিনিসগুলো ব্যবহার করতে পার| প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের এই জিনিসগুলি দিয়েছেন|
15 তোমাদের থেকে অনেক দূরের সমস্ত শহরগুলোর প্রতি তোমরা এই কাজ করবে - তোমরা য়ে দেশে বাস কর সেখানকার শহরগুলো বাদ দেবে|
16 “কিন্তু প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের য়ে দেশ দিচ্ছেন তোমরা যখন সেই দেশের শহরগুলো অধিগ্রহণ করবে, তখন সেখানে শ্বাস নেয় এমন কাউকে জীবিত রাখবে না|
17 তোমরা অবশ্যই প্রভুর আদেশ অনুসারে হিত্তীয়, ইমোরীয়, কনানীয় পরিষীয়, হিব্বীয় এবং য়িবুষীযদের পুরোপুরি ধ্বংস করবে|
18 কারণ তা না হলে তারা প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ করতে শেখাবে; তারা তাদের দেবতাদের পূজা করার সময় য়ে সাংঘাতিক কাজগুলি করে সেগুলো তোমাদের শেখাবে|
19 “যখন তোমরা একটি শহরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো, তোমরা দীর্ঘকাল ধরে সেই শহরটিকে ঘিরে রাখতে পার| সেই শহরের চারদিকের ফলগাছগুলো তোমরা কখনই কাটবে না| তোমরা এই গাছগুলোর ফল খেতে পার কিন্তু তোমরা কখনই তাদের কাটবে না| এই গাছগুলো শত্রু নয়, সুতরাং তাদের নষ্ট করো না!
20 কিন্তু তোমরা য়ে গাছগুলোকে ফলের গাছ নয় বলে জানো, সেগুলোকে কাটতে পারো| সেই শহরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য অস্ত্র তৈরীতে এই গাছগুলো ব্যবহার করতে পারো| শহরটির পতন না হওয়া পর্য়ন্ত তোমরা ঐ জিনিসগুলি ব্যবহার করতে পারো|




অধ্যায় 21

1 “প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের য়ে দেশ দিচ্ছেন, সেখানকার ক্ষেতে যদি তোমরা কোনো মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখ, কিন্তু কে হত্যা করেছে তা যদি জানা না যায়,
2 তখন তোমাদের দলনেতারা এবং বিচারকরা সেখানে যাবে এবং নিহত ব্যক্তির চারদিকের শহরগুলোর দূরত্ব পরিমাপ করবে|
3 যখন তোমরা জানতে পারবে কোন শহরটি নিহত ব্যক্তির সবথেকে কাছে, তখন সেই শহরের দলনেতারা তাদের পশুশালা থেকে এমন একটি গোবত্স নিয়ে আসবে যাকে কখনই কোন কাজে ব্যবহার করা হয় নি এবং য়ে য়োযালি বহন করে নি|
4 সেই শহরের দলনেতারা তখন গোবত্সটিকে এমন একটি উপত্যকায নামিযে আনবে যেখানে সবসময় জলের স্রোত বয| এটিকে অবশ্যই এমন একটি উপত্যকা হতে হবে যা কখনও চাষ করা হয়নি বা যেখানে কিছু রোপণ করা হয়নি| এরপর নেতারা সেই উপত্যকায গোবত্সটির ঘাড় ভাঙ্গবে|
5 যাজকরা, লেবীর উত্তরপুরুষরা অবশ্যই সেখানে যাবে| (প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তাঁর সেবার জন্য এবং তাঁর নামে লোকদের আশীর্বাদ করার জন্য এই যাজকদের নির্বাচিত করেছেন| এবং সমস্ত বিবাদ ও আঘাতের বিচার তারাই করবেন|)
6 নিহত ব্যক্তির সব থেকে কাছের শহরের সমস্ত নেতারা উপত্যকায য়ে গোবত্সের ঘাড় ভাঙ্গা হয়েছিল তার ওপরে অবশ্যই তাদের হাত ধোবে|
7 এই নেতারা বলবে, ‘আমরা এই ব্যক্তিকে হত্যা করিনি এবং আমরা এটি ঘটতেও দেখিনি|
8 হে প্রভু, তুমি য়ে ইস্রায়েলকে রক্ষা করেছিলে তাদেরই শুদ্ধ করো| একজন নিরপরাধ লোককে হত্যা করার দোষ আমাদের ওপর চাপিও না|’ এই ভাবে একজন নিরপরাধ লোককে হত্যা করার জন্য ঐ সমস্ত লোকদের দোষ ক্ষমা করা হবে|
9 এই ভাবে তোমরা প্রভুর চোখে যা যথার্থ তাই করবে এবং তোমাদের জাতি থেকে নিরপরাধের রক্তপাতের দোষ দূর করবে|
10 “তোমরা তোমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গেলে প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তাদের পরাজিত করতে তোমাদের সাহায্য করতে পারেন এবং তোমরা তোমাদের শত্রুদের বন্দী করে আনতে পারো|
11 বন্দীদের মধ্যে কোনো সুন্দরী স্ত্রীলোককে দেখে মুগ্ধ হয়ে তোমাদের স্ত্রী হিসেবে তোমরা চাইতে পারো|
12 তখন তাকে তোমার বাড়ীতে নিয়ে আসবে| সে অবশ্যই তার মাথা কামাবে এবং নখ কাটবে|
13 সে য়ে জামাকাপড়গুলি পরে আছে যার থেকে বোঝা যায় য়ে সে যুদ্ধে বন্দীনী ছিল, সেগুলি সে অবশ্যই খুলে ফেলবে| সে অবশ্যই পুরো এক মাস তোমার বাড়ীতে থাকবে এবং বাবা মাকে হারানোর জন্য বিলাপ করবে| এরপর তুমি তার কাছে য়েতে পার এবং তার স্বামী হতে পার| সে তোমার স্ত্রী হবে|
14 যদি তুমি তার সঙ্গে সুখী না হও, তাহলে তুমি তাকে ত্যাগ করবে এবং তাকে স্বাধীনভাবে চলে য়েতে দেবে| তুমি তাকে বিক্রি করতে পারবে না| তুমি কখনই তার সঙ্গে ক্রীতদাসের মতো আচরণ করবে না কারণ তার সঙ্গে তোমার য়ৌন সম্পর্ক ছিল|
15 “কোন ব্যক্তির দু’জন স্ত্রী থাকতে পারে এবং সে একজন স্ত্রীকে আরেকজনের থেকে বেশী ভালোবাসতে পারে| কিন্তু যদি দু’জন স্ত্রীই তার জন্য সন্তান প্রসব করে এবং প্রথম সন্তানটি সে য়ে স্ত্রীকে ভালোবাসে না তার হয়,
16 তবে সেই ব্যক্তি তার সন্তানদের মধ্যে সম্পত্তির ভাগ করে দেবার সময় তার প্রথমজাত সন্তানের অংশ কখনোই সে য়ে স্ত্রীকে ভালোবাসে তার পুত্রকে দিতে পারবে না|
17 সেই ব্যক্তি য়ে স্ত্রীকে ভালোবাসে না তার থেকে জাত তার প্রথম পুত্রের সমস্ত অধিকারগুলি তাকে মেনে নিতে হবে এবং সে তার প্রথম পুত্রকে অবশ্যই তার সম্পত্তির দুই অংশ দেবে, কারণ সেই সন্তান তার প্রথম সন্তান| প্রথমজাত সন্তান হিসাবে সমস্ত অধিকার তার আছে|
18 “কোন ব্যক্তির এমন এক পুত্র থাকতে পারে য়ে জেদী ও বিরোধী এবং তার পিতামাতাকে মানে না| তারা সেই পুত্রকে শাস্তি দেয় কিন্তু সে তবুও তাদের কথা শুনতে অস্বীকার করে|
19 তার পিতা এবং মাতা তখন তাকে শহরের সভাস্থলে শহরের নেতাদের কাছে নিয়ে আসবে|
20 তারা শহরের নেতাদের বলবে: ‘আমাদের পুত্র অবাধ্য এবং কোন কিছু মেনে চলতে অস্বীকার করে| আমরা তাকে যা করতে বলি তার কোনও কিছুই সে করে না| সে মদ্যপাযী এবং পেটুক|’
21 তখন শহরের লোকরা পাথরের আঘাতে সেই পুত্রকে হত্যা করবে| এই ভাবে তোমরা তোমাদের মধ্য থেকে এই দুষ্টকে সরিয়ে দেবে| ইস্রায়েলের সমস্ত লোকরা এই ঘটনা সম্বন্ধে জানবে এবং ভীত হবে|
22 “মৃত্যুদণ্ডের উপযুক্ত পাপ করেছে য়ে ব্যক্তি তাকে হত্যা করে তার শরীরটিকে কোন গাছের ওপরে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে|
23 তোমরা সারা রাত ধরে সেই মৃতদেহকে গাছে ঝুলিয়ে রেখো না কিন্তু নিশ্চিতভাবে সেই একই দিনে সেই ব্যক্তিকে কবর দিও| কেন? কারণ গাছে ঝোলানো সেই লোকটি ঈশ্বরের দ্বারা অভিশপ্ত| প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের য়ে দেশ দিচ্ছেন সেই দেশকে তোমরা কখনই অশুচি করবে না|




অধ্যায় 22

1 “যদি দেখ য়ে তোমাদের প্রতিবেশীর বলদ বা মেষগুলি পথ হারিযেছে, তবে তোমরা বিষয়টিকে উপেক্ষা করবে না| সেটিকে অবশ্যই তার মালিকের কাছে ফিরিয়ে আনবে|
2 যদি মালিক কাছাকাছি বাস না করে অথবা যদি তোমরা না জানো য়ে এটি কার, তাহলে তোমরা সেই পশুকে তোমাদের বাড়ী নিয়ে য়েতে পারো এবং যতক্ষণ পর্য়ন্ত না মালিক এটির খোঁজে আসে ততক্ষণ পর্য়ন্ত তোমরা এটিকে রাখতে পার| পরে তাকে এটি ফিরিয়ে দেবে|
3 তোমাদের প্রতিবেশী যদি তার গাধা, জামাকাপড় অথবা অন্য কোনো কিছু হারায় তাহলেও তোমরা ঐ একই কাজ করবে| তোমরা এই বিষয়টি এড়িয়ে য়েও না|
4 “যদি তোমাদের প্রতিবেশীর গাধা অথবা গরু রাস্তায় পড়ে যায়, তোমরা সেটিকে অবহেলা করবে না| তোমরা অবশ্যই সেটিকে পুনরায দাঁড় করাতে সাহায্য করবে|
5 “স্ত্রীলোক কখনই পুরুষদের পোশাক পরবে না এবং পুরুষ কখনই স্ত্রীলোকদের পোশাক পরবে না| য়ে কেউ এই কাজ করে সে প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের কাছে ঘৃণার পাত্র|
6 “তোমরা যদি গাছের ওপরে অথবা মাঠে কোনো পাখীর বাসা দেখ যেখানে মা পাখী তার শাবকদের সঙ্গে অথবা ডিমের ওপরে বসে আছে, তাহলে তোমরা কখনই বাচ্চাদের সঙ্গে মা পাখীকে নেবে না|
7 তোমরা তোমাদের নিজেদের জন্য বাচ্চাদের নিতে পারো| কিন্তু তোমরা মাকে অবশ্যই য়েতে দেবে| যদি তোমরা এই বিধিগুলি মেনে চল, তাহলে তোমাদের মঙ্গল হবে এবং তোমরা বহুদিন বেঁচে থাকবে|
8 “যখন তোমরা নতুন বাড়ী তৈরী কর, তোমরা ছাদের চারধারে অবশ্যই দেওয়াল তুলবে| তাহলে বাড়ী থেকে পড়ে গিয়ে কোন ব্যক্তির মৃত্যুর জন্য তোমরা অবশ্যই দাযী হবে না|
9 “তোমরা-দ্রাক্ষা ক্ষেত্রে দুই ধরণের শস্যের বীজ বপন করবে না| কেন? কারণ তাহলে তোমার রোপন করা সমস্ত শস্য এবং এমনকি দ্রাক্ষা-ক্ষেত্রের দ্রাক্ষা থেকেও তুমি বঞ্চিত হবে|
10 “তোমরা একই সঙ্গে একটি গরু এবং একটি গাধার সাহায্যে চাষ করবে না|
11 “পশম এবং মসীনার সাহায্যে বোনা কাপড় তোমরা কখনই পরবে না|
12 “তোমরা য়ে আলগা পোশাক পরো তার চারকোণের সুতোর গোছা বেঁধে খোপ দিও|
13 “একজন পুরুষ কোন স্ত্রীলোককে বিবাহ করে তার সাথে য়ৌন সম্পর্ক স্থাপন করার পরে মনস্থ করতে পারে সে তাকে আর চায না|
14 সেই জন্য সে মিথ্যাভাবে বলতে পারে, ‘আমি এই স্ত্রীলোকটিকে বিবাহ করেছিলাম বটে কিন্তু য়ৌন সহবাসের সময় দেখলাম য়ে সে কুমারী নয়|’ এই বলে সে সেই স্ত্রীলোকটির উপর দুর্নাম আনতে পারে|
15 এই রকম ঘটলে মেয়েটির পিতা-মাতা সেই মেয়েটির কুমারীত্বের প্রমাণ নিয়ে নগরের প্রবীণদের সাথে নগরের সভাস্থলে উপস্থিত হবে|
16 মেয়েটির পিতা প্রবীণদের বলবেন, ‘আমি আমার মেয়েকে এই লোকটির হাতে তার স্ত্রী হিসাবে দিয়েছিলাম কিন্তু এখন সে তাকে পছন্দ করে না|
17 এই লোকটি আমার মেয়ের নামে মিথ্যা বলেছে| সে বলেছে, “তোমার মেয়ে কুমারী ছিল না|” কিন্তু এই দেখুন আমার মেয়ে য়ে কুমারী তার প্রমাণ|” এই বলে তারা কাপড়টি নগরের প্রবীণদের দেখাবে|
18 তখন সেই নগরের প্রবীণরা অবশ্যই সেই লোকটিকে নিয়ে গিয়ে শাস্তি দেবে|
19 তারা অবশ্যই লোকটির জন্য40 আউন্স রৌপ্য় জরিমানা করবে| সেই টাকা য়েন মেয়েটির পিতাকে দেওয়া হয়, কারণ মেয়েটির স্বামী একজন ইস্রায়েলীয় কুমারীর উপর দুর্নাম এনেছে| আর সেই মেয়েটি সেই লোকটির স্ত্রী হয়েই থাকবে| সেই লোকটি তার জীবনকালে তাকে বিবাহ বিচ্ছেদ দিতে পারবে না|
20 “কিন্তু এও হতে পারে য়ে মেয়েটির স্বামী তার সম্বন্ধে যা বলেছে তা সত্য| স্ত্রীলোকটির মাতা-পিতার কাছে তার কুমারীত্বের প্রমাণ নাও থাকতে পারে|
21 যদি তাই ঘটে তবে নগরের প্রবীণরা সেই মেয়েটিকে নিয়ে তার পিতার বাড়ীর দরজায আসবে| তারপর সেই নগরের লোকরা মেয়েটিকে পাথর মেরে হত্যা করবে| কারণ ইস্রায়েলের মধ্যে সে লজ্জাজনক কাজ করেছে| সে পিতার বাড়ীতে বেশ্যার মতো ব্যবহার করেছে| তুমি তোমার লোকদের মধ্যে থেকে এইভাবে দুষ্টাচার দূর করবে|
22 “যদি কোন পুরুষ অপরের স্ত্রীর সাথে য়ৌন সম্পর্কে লিপ্ত থাকাকালীন ধরা পড়ে তবে দুজনকেই অবশ্যই মরতে হবে - সেই স্ত্রীলোকটিকে এবং তার সঙ্গে য়ৌন সম্পর্কে লিপ্ত পুরুষটিকে হত্যা করে তোমরা অবশ্যই ইস্রায়েলের মধ্যে থেকে এই দুষ্টাচার দূর করবে|
23 “কোন লোক অপরের বাগদত্তা কোন কুমারীকে নগরের মধ্যে দেখতে পেয়ে তার সাথে য়ৌন সহবাসে লিপ্ত হতে পারে|
24 এই রকম ঘটলে তুমি অবশ্যই তাদের দুজনকে নগরের দ্বারে সকলের সামনে নিয়ে এসে পাথর মেরে হত্যা করবে| লোকটিকে হত্যা করার কারণ সে অপরের স্ত্রীর সাথে য়ৌন পাপ করেছে; এবং মেয়েটিকে হত্যা করার কারণ সে নগরের মধ্যে থাকলেও সাহায্যের জন্য চিত্কার করে নি| তোমরা অবশ্যই এই ভাবে লোকদের মধ্য হতে এই দুষ্টাচার দূর করবে|
25 “কিন্তু কোন লোক যদি বাগ্দত্তা স্ত্রীলোককে ক্ষেতের মধ্যে পেয়ে জোরপূর্বক তার সাথে য়ৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয় তবে কেবল লোকটিকেই মরতে হবে|
26 তোমরা অবশ্যই সেই মেয়েটির প্রতি কিছু করবে না| সে মৃত্যুর য়োগ্য এমন কোন অপরাধ করে নি| এই ঘটনা প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে উঠে তাকে হত্যা করার মতো|
27 লোকটি ক্ষেতে সেই বাগ্দত্তা মেয়েটিকে দেখে তাকে আক্রমণ করল| হয়তো মেয়েটি সাহায্যের জন্যও চিত্কার করেছিল কিন্তু সাহায্যের জন্য কেউ ছিল না| সুতরাং তাকে য়েন শাস্তি দেওয়া না হয়|
28 “একজন লোক হয়তো বাগ্দত্তা নয় এমন কোন কুমারীকে পেয়ে তার সাথে য়ৌন সম্পর্কে লিপ্ত হতে পারে| যদি অন্য লোকরা তা ঘটতে দেখে,
29 তাহলে সে মেয়েটির পিতাকে 20 আউন্স রূপো দেবে এবং সেই মেয়েটি লোকটির স্ত্রী হবে| য়েহেতু সে য়ৌন পাপ করেছিল, তাই তার জীবনকালে সে তাকে ত্যাগ করতে পারবে না|
30 “কোন লোক য়েন তার পিতার স্ত্রী অর্থাত্‌ সত্‌ মাযের সাথে য়ৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয়ে তার পিতাকে লজ্জায না ফেলে|”




অধ্যায় 23

1 “য়ে লোকরা অণ্ডকোষ চূর্ণ অথবা জননাঙ্গ ছিন্ন হয়ে গেছে, সে ইস্রায়েলের লোকদের সাথে প্রভুর উপাসনায য়োগ দিতে পারবে না|
2 যদি কোন লোকর মাতাপিতা বৈধ ভাবে বিয়ে না করে থাকে তবে সেই লোকটি ইস্রায়েলের লোকদের সাথে প্রভুর উপাসনায য়োগ দিতে পারবে না এবং তার উত্তরপুরুষদের দশ পুরুষ পর্য়ন্ত কেউ উপাসনাকারীদের দলে য়োগ দিতে পারবে না|
3 “অম্মোনীয় ও মোয়াবীয় কেউই ইস্রায়েলের লোকদের সাথে য়োগ দিয়ে প্রভুর উপাসনা করতে পারবে না| তাদের উত্তরপুরুষরা দশ পুরুষ পর্য়ন্ত কেউই সেই দলে য়োগ দিতে পারবে না|
4 কারণ মিশর থেকে তোমাদের বের হয়ে আসার সময় যাত্রা পথে তারা রুটি ও জল নিয়ে তোমাদের সাথে দেখা করে নি| তারা তোমাদের অভিশাপ দেবার জন্য বিলিযমকে ভাড়া করার চেষ্টা করেছিল| (বিযোরের পুত্র বিলিযম ছিল অরাম, নহরযিমাস্থ পথোর নগরের লোক|)
5 কিন্তু প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, বিলিয়মের কথা গ্রাহ্য করেন নি| প্রভু তোমাদের জন্য সেই অভিশাপ আশীর্বাদে বদলে দিলেন| কারণ প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমায় ভালবাসেন|
6 তোমরা কখনই অম্মোনীয় ও মোয়াবীয় লোকদের সাথে শান্তি স্থাপনের চেষ্টা করবে না| তোমরা যত দিন বেঁচে থাকবে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে না|
7 “তোমরা অবশ্যই কোন ইদোমীয়কে ঘৃণা করবে না, কারণ সে তোমার আত্মীয| তোমরা অবশ্যই কোন মিশরীয়কে ঘৃণা করবে না, কারণ তোমরা তাদের দেশে বিদেশী ও প্রবাসী ছিলে|
8 ইদোমীয়দের তৃতীয় পুরুষের বংশধররা এবং মিশরীয়রা ইস্রায়েলের লোকদের সাথে প্রভুর উপাসনায য়োগ দিতে পারে|
9 “যখন তোমাদের সৈন্যরা শত্রুদের সাথে যুদ্ধ করতে যায়, তখন সেই সব বিষয় থেকে দূরে থেকো যা তোমাদের অশুচি করে|
10 যদি রাতের স্বপ্নে রেতপাতের ফলে কেউ অশুচি হয়, তবে সে শিবিরের বাইরে যাবে| সে শিবির থেকে দূরে থাকবে|
11 পরে বিকেল হলে সেই ব্যক্তি জলে স্নান করবে এবং সূর্য় অস্ত গেলে সে আবার শিবিরে ফিরে আসতে পারে|
12 “পায়খানা করার জন্য শিবিরের বাইরে একটা জায়গা ঠিক করে রাখবে|
13 তোমাদের অস্ত্রের সাথে একটা লাঠিও রেখ; যার সাহায্যে গর্ত করে পায়খানা করার পর চাপা দেবে|
14 কেন? কারণ প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের পরিত্রাণ করতে এবং তোমাদের শত্রুদের পরাজিত করার জন্য তোমাদের শিবিরের মধ্যে গমনাগমণ করেন| সুতরাং শিবিরকে অবশ্যই পবিত্র রাখবে| তাহলে প্রভু বিরক্তিকর কিছু দেখে তোমাদের ছেড়ে যাবেন না|
15 “যদি কোন ক্রীতদাস তার মনিবের কাছ থেকে পালিয়ে তোমার কাছে আসে, তবে তুমি সেই ক্রীতদাসকে তার মনিবের কাছে ফেরত পাঠাবে না|
16 এই ক্রীতদাস তোমার সাথে তার পছন্দমত য়ে কোন শহরে বাস করতে পারে| তুমি তাকে কষ্ট দিও না|
17 “কোন ইস্রায়েলীয় পুরুষ বা নারী কখনও য়েন মন্দিরের বেশ্যা না হয়|
18 কোন পুরুষ বা নারী বেশ্যা বৃত্তির দ্বারা উপার্জিত অর্থ য়েন তোমার প্রভু ঈশ্বরের বিশেষ গৃহে না আনে| সেই অর্থ দিয়ে কেউ য়েন ঈশ্বরের কাছে করা মানত পূর্ণ না করে| কারণ যারা নিজের দেহকে য়ৌন পাপের জন্য বিক্রি করে দেয় প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তাদের ঘৃণা করেন|”
19 “তুমি যখন কোন ইস্রায়েলীয়কে কিছু ধার দাও, তখন সুদ ধার্য়্য় কোরো না| টাকা, খাবার বা অন্য যা কিছুই সুদ আদাযে সক্ষম তার উপরে তোমরা সুদ ধার্য়্য় করবে না|
20 তোমরা কোন বিদেশীর কাছে সুদ নিতে পার, কিন্তু তোমরা কোন ইস্রায়েলীয়র কাছ থেকে সুদ নিও না| তোমরা এই বিধিগুলো মেনে চললে তোমাদের প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তোমরা য়ে দেশে বাস করতে যাচ্ছ সেখানে তোমরা যা কিছু করবে তাতেই আশীর্বাদ করবেন|
21 “তুমি তোমার প্রভু ঈশ্বরের কাছে কিছু মানত করলে তা দিতে দেরী করো না কারণ তোমার প্রভু ঈশ্বর তা তোমার কাছ থেকে দাবী করবেন| তুমি যা দেবে বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলে তা না দিলে তোমার পাপ হবে| কিন্তু যদি মানত না কর তাহলে তোমার পাপ হবে না|
22
23 কিন্তু য়ে প্রতিজ্ঞাগুলি করেছিলে সেগুলি অবশ্যই রাখবে| তুমি যদি ঈশ্বরের কাছে কোন বিশেষ প্রতিজ্ঞা করে থাক তাহলে তোমার অবশ্যই সেই প্রতিজ্ঞা রক্ষা করা উচিত্‌| কারণ তুমিই সেই প্রতিজ্ঞাগুলি করেছিলে| প্রভু তোমাকে এটা করতে বাধ্য করেন নি|
24 “তুমি কারও দ্রাক্ষা ক্ষেতে গেলে তোমার যত ইচ্ছা দ্রাক্ষা খেতে পার, কিন্তু তোমার ঝুড়িতে একটাও সংগ্রহ করবে না|
25 যখন তুমি কোন লোকর ক্ষেতে যাও, তখন হাতে ছিঁড়ে যত শীষ খেতে পার খেও, কিন্তু কাস্তে ব্যবহার করে সেই শীষ কেটে নিয়ে য়েতে পারো না|




অধ্যায় 24

1 “বিয়ে করার পর যদি কোন পুরুষ তার স্ত্রীর মধ্যে এমন কিছু লজ্জাকর জিনিষ দেখে যার জন্য সে তার প্রতি সন্তুষ্ট না হয়, তবে সে ত্যাগ পত্র লিখে তাকে বাড়ী থেকে বিদায করে দেবে|
2 সেই ঘর ত্যাগ করার পর সেই স্ত্রী গিয়ে অন্য কোন পুরুষের স্ত্রী হতে পারে|
3 কিন্তু এমন হতে পারে য়ে সেই নতুন স্বামীও তাকে পছন্দ করল না এবং বাড়ী থেকে বিদায করল| তারপর যদি দ্বিতীয স্বামী তাকে বিবাহ বিচ্ছেদ দেয়, অথবা যদি সে মারা যায় তবে প্রথম স্বামী আর তাকে তার স্ত্রী হিসাবে গ্রহণ করতে পারবে না| সে তার কাছে অশুচি, তাই সে যদি আবার বিয়ে করে তবে সে প্রভু যা ঘৃণা করেন তাই করবে| প্রভু, তোমার ঈশ্বর, অধিকারের জন্য য়ে দেশ দিচ্ছেন সেখানে তুমি অবশ্যই এভাবে পাপ করবে না|
4
5 “সবে বিয়ে হয়েছে এমন লোকর সৈন্যবাহিনীতে অথবা অন্য এরকম কোন বিশেষ কাজে য়োগ দেবার প্রযোজন নেই| এক বছরের জন্য সে স্বাধীনভাবে বাড়ীতে থেকে তার স্ত্রীকে খুশী করতে পারে|
6 “যখন তোমরা কাউকে ধার দাও, তখন বন্ধক হিসাবে য়াঁতার কোন অংশ নিও না| কারণ তা করলে তা তার খাবার কেড়ে নেওয়ার সমান হয়|
7 “ইস্রায়েলীয় কোন লোক যদি অপর কোন একজন ইস্রায়েলীয়কে চুরি করে তাকে দাস হিসাবে বিক্রি করে, তবে সেই চোরকে য়েন হত্যা করা হয়| এই ভাবে তোমরা তোমাদের মধ্যে থেকে দুষ্টাচার দূর করবে|
8 “তোমার খারাপ ধরণের কোন চর্মরোগ হলে লেবীয় যাজকরা যা করতে বলে যত্ন সহকারে তার সব কথা পালন কোর| আমি সেই যাজকদের যা আজ্ঞা করেছি তা যত্নের সাথে পালন করো|
9 মনে রেখো, মিশর থেকে বের হয়ে আসার সময় প্রভু, তোমার ঈশ্বর, মরিযমের প্রতি কি করেছিলেন|
10 “কোন লোককে কিছু ধার দেওয়ার সময় বন্ধক নেওয়ার জন্য তার বাড়ীতে ঢুকবে না|
11 সে বন্ধক নিয়ে তার বাড়ী থেকে বেরিয়ে আসার সময় তুমি তার বাড়ীর বাইরে দাঁড়িয়ে থাকবে|
12 যদি সেই লোকটি গরীব হয় তবে সে হয়তো বন্ধক হিসাবে তার গরম কাপড় দিতে পারে| এই ধরণের বন্ধক সূর্য়াস্তের পর তোমার কাছে রাখবে না|
13 তার এই বন্ধক রোজ বিকেলে তার কাছে ফিরিয়ে দিও| তাহলে সে শোবার জন্য কাপড় পাবে| সে তোমাকে আশীর্বাদ করবে, আর প্রভু, তোমার ঈশ্বর, এই কাজকে ধার্মিকতার কাজ হিসাবে গণ্য করবেন|
14 “দরিদ্র এবং অভাবী শ্রমিককে তোমরা মজুরীর ব্যাপারে ঠকাবে না| সে তোমাদের কোন নগরে বাসকারী ইস্রায়েলীয় হোক বা বিদেশী হোক তাতে কিছু এসে যায় না|
15 প্রতিদিন সূর্য়াস্তের আগে তাকে তার বেতন মিটিযে দেবে, কারণ সে গরীব এবং ঐ অর্থের উপরেই সে নির্ভর করে| যদি তুমি তার বেতন মিটিযে না দাও, সে তোমার বিরুদ্ধে প্রভুর কাছে অনুয়োগ করবে এবং তুমি সেই পাপে দোষী হবে|
16 “সন্তান দোষ করলে পিতামাতার বা পিতামাতা দোষ করলে তার জন্য সন্তানের প্রাণদণ্ড দেওয়া যাবে না| কোন ব্যক্তিকে কেবল তার নিজের করা অন্যাযের জন্যই প্রাণদণ্ড দেওয়া যাবে|
17 “পরদেশী এবং অনাথদের বিচারে অন্যায় করো না| আর বন্ধক হিসাবে কখনও কোন বিধবার কাপড় নিও না|
18 মনে রেখো, তোমরা মিশরে গরীব ও দাস ছিলে এবং প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের সেই অবস্থা থেকে মুক্ত করে আনলেন| সেই জন্যই গরীবদের প্রতি আমি তোমাদের এই কাজ করতে বলি|
19 “ক্ষেতে শস্য কাটার সময় তুমি যদি ভুলে গিয়ে কিছু শস্য মাঠে ফেলে এসে থাকো, তাহলে সেগুলি সংগ্রহ করার জন্য আবার ফিরে য়েও না, সেটা বিদেশী, অনাথ বা বিধবাদের জন্য থাকবে| তুমি তাদের জন্য কিছু শস্য রাখলে তোমরা যা কিছু কর প্রভু ঈশ্বর তাতেই তোমাদের আশীর্বাদ করবেন|
20 তুমি যখন জলপাই গাছের ফল পাড়ার জন্য ঝাড় তখন আবার প্রতিটি শাখা খুঁজে খুঁজে দেখো না| য়ে জলপাই ফেলে রাখলে তা বিদেশী, পিতৃহীন ও বিধবাদের জন্য রইল|
21 তুমি যখন দ্রাক্ষা ক্ষেতের দ্রাক্ষা সংগ্রহ কর তখন পড়ে থাকা দ্রাক্ষা আবার কুড়াবার জন্য য়েও না| সেই দ্রাক্ষাগুলো বিদেশী, পিতৃহীন এবং বিধবাদের জন্য রাখ|
22 মনে রেখো, তুমি মিশরে গরীব দাস ছিলে| সেই জন্য গরীবদের জন্য আমি তোমাকে এই কাজগুলো করতে বলি|




অধ্যায় 25

1 “দুই ব্যক্তির মধ্যে বিবাদ হলে তারা য়েন আদালতে যায়| বিচারকর্তাদের কাজ হল ঠিক করা কে দোষী আর কে নির্দোষ|
2 যদি বিচারকর্তা ঠিক করেন য়ে কোন ব্যক্তিকে বেত মারা হবে, তবে তিনি য়েন তাকে মাটির দিকে মুখ করে শোযান| বিচারকর্তার সামনে য়েন দোষী ব্যক্তিকে বেত মারা হয়| অপরাধের গুরুত্ব অনুসারে য়েন আঘাত করার সংখ্যা ঠিক করা হয়|
3 যদি তুমি কোন ব্যক্তিকে 40 বারের বেশী প্রহার করে থাক তার অর্থ দোষী ব্যক্তিটির জীবন তোমার কাছে মূল্য়বান নয়|
4 “শস্য মাড়ার জন্য পশু ব্যবহার করলে পশুটিকে শস্য না খেতে দেওয়ার জন্য তার মুখ বেঁধে দেওয়া উচিত্‌ নয়|
5 “দুই ভাই একসাথে বাসকালীন যদি তাদের একজন কোন পুত্রের জন্ম না দিয়ে মারা যায় তবে সেই মৃত ভাইযের স্ত্রী য়েন পরিবারের বাইরে কোন বিদেশীকে বিয়ে না করে| সেক্ষেত্রে তার স্বামীর ভাই-ই তাকে তার স্ত্রী হিসাবে গ্রহণ করে তার সাথে য়ৌন সম্পর্ক স্থাপন করবে| সেই দেবর তার প্রতি দেবরের কর্তব্য করবে|
6 আর প্রথম পুত্রের জন্ম হলে সেই পুত্র সেই মৃত ভাইযের জায়গা নেবে| তাহলে সেই মৃত ভাইযের নাম ইস্রায়েল থেকে লোপ পাবে না|
7 যদি সেই ব্যক্তি তার ভাইযের স্ত্রীকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করে তবে সেই স্ত্রী য়েন অবশ্যই নগরের সভাস্থলে প্রাচীনদের কাছে যায় এবং তাদের এই কথা বলে, ‘আমার স্বামীর ভাই ইস্রায়েলে তার দাদার নাম জীবিত রাখতে অস্বীকার করছে| সে আমার প্রতি দেবরের কর্তব্য পালন করবে না|’
8 তখন সেই নগরের প্রাচীনরা সেই ব্যক্তিকে ডেকে তার সাথে কথা বলবে| যদি সেই ব্যক্তি একগুঁযে মনোভাব নিয়ে বলে, ‘আমি তাকে গ্রহণ করতে চাই না|’
9 তবে সেই স্ত্রী প্রাচীনদের উপস্থিতিতে তার সামনে আসবে| সেই স্ত্রী সেই ভাইযের পাযের জুতো চটি খুলে নিয়ে তার মুখে থুতু দেবে এবং বলবে, ‘য়ে কেউ তার ভাইযের বংশ রক্ষা না করে, তার প্রতি এই রকম করা হবে|’
10 তখন ইস্রায়েলে সেই ভাইযের পরিবার ‘মুক্ত পাদুকের কুল’ বলে পরিচিত হবে|’
11 “দুই ব্যক্তির মধ্যে ঝগড়া হলে কোন এক ব্যক্তির স্ত্রী তাকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসতে পারে, কিন্তু সে য়েন কখনই অন্য ব্যক্তির য়ৌনাঙ্গ না ধরে|
12 সেই কাজ করলে তার হাত কেটে ফেলবে, তার জন্য দুঃখ পেও না|
13 “লোককে ঠকাবার জন্য দুই ধরণের বাটখারা অর্থাত্‌ খুব ভারী ও খুব হাল্কা বাটখারা ব্যবহার করো না|
14 তোমার বাড়ীতে খুব বড় বা খুব ছোট পরিমাণ পাত্র রেখো না|
15 তুমি অবশ্যই সঠিক মাপের ওজন বাটখারা ও পরিমাণ পাত্র ব্যবহার করবে| তাহলে তোমার প্রভু ঈশ্বর তোমায় য়ে দেশ দিচ্ছেন, সেই দেশে তুমি দীর্ঘজীবি হবে|
16 কারণ যারা এই ধরণের কাজ করে তারা অন্যায় করে এবং তোমার প্রভু ঈশ্বরের কাছে ঘৃণার পাত্র হয়|
17 “মনে করে দেখো তোমরা মিশর দেশ থেকে বের হয়ে আসার পর পথে অমালেকীযরা তোমাদের প্রতি কি করেছিল|
18 তুমি যখন ক্লান্ত ও দুর্বল সেই সময় তারা তোমাকে আক্রমণ করল| তোমাদের মধ্যে যারা পিছিযে পড়ে আস্তে আস্তে হাঁটছিল তাদের সকলকে তারা হত্যা করেছিল| অমালেকীযরা ঈশ্বরকে সম্মান করে নি|
19 সেই জন্যই প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের য়ে দেশ দিচ্ছেন, সেই দেশের চারদিকের সমস্ত শত্রু হতে তিনি তোমাদের বিশ্রাম দিলে পর তোমরা পৃথিবী থেকে অমালেকীযদের স্মৃতি লোপ করবে| একাজ করতে ভুলো না|




অধ্যায় 26

1 “প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, য়ে দেশ দিচ্ছেন সেই দেশে তোমরা শীঘ্রই প্রবেশ করবে| সেই দেশ অধিগ্রহণ করার পর তোমরা সেখানে বাস করবে|
2 প্রভুর দেওয়া সেই দেশে শস্য সংগ্রহ করার সময় তোমরা অবশ্যই প্রথম ফসল সংগ্রহ করে ঝুড়িতে রাখবে| তারপর ফসলের সেই প্রথম অংশ প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, নিজের জন্য য়ে গৃহ মনোনীত করেন সেইখানে আনবে|
3 সেই সময় য়ে যাজক সেখানে পরিচর্য়ায রয়েছেন তাঁর কাছে গিয়ে বলবে, ‘প্রভু আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে একটি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, য়ে তিনি আমাদের এই দেশ দিতে চলেছেন| আজ আমি প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের কাছে এই বলার জন্য এসেছি য়ে আমি সেই দেশে এসেছি!’
4 “তখন যাজক তোমার হাত থেকে সেই ঝুড়ি নিয়ে তা প্রভু, তোমার ঈশ্বরের বেদীর সামনে রাখবেন|
5 তখন সেখানে তোমার প্রভু ও ঈশ্বরের সামনে তুমি বলবে: ‘আমার পিতৃপুরুষ একজন অরামীয় পর্য়টক ছিলেন| তিনি মিশরে নেমে গিয়ে সেখানে থাকলেন| সেখানে যাবার সময় তার পরিবারে অল্প লোক ছিল| কিন্তু মিশরে তিনি এক মহান জাতি হয়ে উঠলেন - বহু লোকর এক শক্তিশালী জাতি|
6 মিশরীয়রা আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করল| তারা আমাদের দাস বানাল| তারা আমাদের আঘাত করে কঠিন পরিশ্রম করতে বাধ্য করল|
7 তখন আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের প্রভু ও ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা জানালাম এবং তাদের বিষয়ে অভিযোগ করলাম| প্রভু আমাদের কথা শুনলেন, আমাদের সমস্যা, কঠিন পরিশ্রম ও কষ্টের প্রতি তাঁর নজর পড়ল|
8 তখন প্রভু তাঁর মহান ক্ষমতা ও শক্তি এবং নানা চিহ্ন ও অদ্ভূত লক্ষণ দ্বারা আমাদের মিশর থেকে বের করে নিয়ে এলেন| তিনি বিস্মযকর কাজ দেখালেন|
9 এইভাবে তিনি আমাদের এই স্থানে বের করে আনলেন এবং উত্তম বিষয়ে পরিপূর্ণ এমন এই দেশ দিলেন|
10 এখন হে প্রভু তুমি য়ে দেশ দিয়েছ তার প্রথম ফসল আমি তোমার কাছে এনেছি|’“তারপর তুমি অবশ্যই প্রভু, তোমার ঈশ্বরের সামনে সেই ফসল নামিযে রেখে নত হয়ে তাঁর উপাসনা করবে|
11 তারপর তুমি এক সঙ্গে সেই সব উত্তম জিনিস নিয়ে খাওয়াদাওযা ও আনন্দ করবে যা প্রভু, তোমার ঈশ্বর তোমায় ও তোমার পরিবারকে দিয়েছেন| তুমি অবশ্যই সেই সব জিনিস লেবীয়দের সঙ্গে এবং তোমাদের মধ্যে বাসকারী বিদেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নেবে|
12 “প্রত্যেক তৃতীয় বছরে তুমি তোমার উত্পন্ন দ্রব্য়ের এক দশমাংশ ওজন করবে, তারপর সেই দশমাংশ লেবীয়দের, তোমার দেশে বাসকারী বিদেশীদের এবং বিধবা ও পিতৃহীনদের দেবে| তাহলে প্রত্যেক শহরে ঐ সব লোকদের যথেষ্ট খাবার থাকবে| সেই তৃতীয় বছরকে বলা হবে দশমাংশ দানের বছর|
13 তুমি অবশ্যই প্রভু, তোমার ঈশ্বরকে বলবে, ‘আমি আমার বাড়ী থেকে উত্পন্ন দ্রব্য়ের পবিত্র অংশ নিয়ে এসে তা লেবীয়দের, বিদেশীদের, পিতৃহীন ও বিধবাদের দিয়েছি| আমি তোমার আজ্ঞার কোনটি পালন করতে অস্বীকার করি নি| আমি সে সব ভুলেও যাই নি|
14 শোকের সময় আমি সেই খাদ্য ভোজন করি নি| সেই খাদ্য সংগ্রহ করার সময় আমি অশুচি ছিলাম না| আমি এই খাবার মৃত লোকদের উদ্দেশ্যে নিবেদন করি নি| হে প্রভু, আমার ঈশ্বর, আমি তোমার বাক্য় পালন করেছি এবং তোমার সমস্ত আজ্ঞা পালন করেছি|
15 তোমার পবিত্র আবাস স্বর্গ থেকে দেখ, তোমার প্রজা ইস্রায়েলকে আশীর্বাদ কর এবং তোমার দেওয়া এই দেশকে আশীর্বাদ কর - ঠিক য়েমন দেশ আমাদের দেবে বলে তুমি আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলে অর্থাত্‌ অনেক উত্তম বিষয়ে পরিপূর্ণ এক দেশ|’
16 “আজ এই সমস্ত বিধি ও নিয়ম পালন করার জন্য প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের আদেশ করছেন| তোমাদের সমস্ত মন ও প্রাণ দিয়ে সে সকল পালন করার ব্যাপারে যত্ন নিও|
17 আজ তোমরা প্রভুকে তোমাদের ঈশ্বর বলে স্বীকার করেছ এবং তাঁর ইচ্ছানুসারে জীবনযাপন করার প্রতিজ্ঞা করেছ| তোমরা তাঁর শাসন মেনে চলার ও তাঁর বিধি, আজ্ঞা পালন করার প্রতিজ্ঞা করেছ| তিনি তোমাদের যা বলেন সেই অনুসারে কাজ করার কথাও বলেছ|
18 আর আজ প্রভু ও এই অঙ্গীকার করছেন| তিনি য়েমন প্রতিজ্ঞা করেছেন সেই মত তোমরা হবে তাঁর নিজস্ব প্রজা| তিনি আরও বলেছেন য়ে তাঁর সকল আজ্ঞাগুলির প্রতি তোমরা অবশ্যই বাধ্য থাকবে|
19 এবং প্রভু তাঁর সৃষ্ট সমস্ত জাতির মধ্যে প্রশংসা, য়শ ও সম্মানের দিক থেকে তোমাকে শ্রেষ্ঠ করবেন| আর প্রভু য়েরকম বলেছেন সেই ভাবেই তুমি তাঁর পবিত্র প্রজা হবে|’




অধ্যায় 27

1 মোশি এবং ইস্রায়েলের প্রবীণরা লোকদের এই আজ্ঞা করে বললেন, “আজ আমি তোমাদের য়ে আজ্ঞা দিই তার সব পালন করবে|
2 প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের য়ে দেশ দিচ্ছেন, য়ে দিন যর্দন নদী পার হয়ে তোমরা সেই দেশে প্রবেশ করবে সেদিন অবশ্যই তোমরা বড় পাথরের চাঁই স্থাপন করে তাতে প্রলেপ দেবে|
3 তারপর এই পাথরগুলির উপর এই সমস্ত আজ্ঞা অবশ্যই লিখবে| যর্দন নদী পার হলে তোমরা অবশ্যই এই কাজ করবে| তারপর প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের য়ে দেশ দিচ্ছেন সেই দেশে প্রবেশ করবে| সেই দেশ অনেক উত্তম দ্রব্য়ে পরিপূর্ণ| প্রভু, তোমাদের পূর্বপুরুষের ঈশ্বর, এই দেশ দেবেন বলেই প্রতিজ্ঞা করেছিলেন|
4 “এবল পর্বতে দাঁড়িয়ে আজ আমি পাথর স্থাপনের বিষয়ে তোমাদের য়ে আদেশ দিচ্ছি, যর্দন নদী পার হলে তোমরা অবশ্যই তা পালন করবে| সেই সব পাথরে তোমরা অবশ্যই চুন লেপবে|
5 আর সেখানে তোমরা পাথর দিয়ে প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের জন্য এক বেদী নির্মাণ করবে| সেই পাথরগুলি কাটতে লোহার য়ন্ত্রপাতি ব্যবহার করবে না|
6 প্রভু, তোমার ঈশ্বরের, উদ্দেশ্যে বেদী নির্মাণ করার সময় কেটে সাইজ করা পাথর ব্যবহার করবে না| সেই বেদীর উপরে প্রভু, তোমার ঈশ্বরের, উদ্দেশ্যে হোমবলি উত্সর্গ করবে|
7 এবং সেই খানে তোমরা অবশ্যই বলি হিসেবে মঙ্গল নৈবেদ্য দান করবে এবং সেই খানেই তা খাবে| সেখানে প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের সামনে তুমি আনন্দ করবে|
8 “তোমরা য়ে পাথর স্থাপন করেছ তাতে অবশ্যই এই সমস্ত শিক্ষা লিখবে| সেগুলো স্পষ্ট ভাবে লিখো যাতে সহজে পড়া যায়|”
9 মোশি এবং যাজকরা ইস্রায়েলের লোকদের সঙ্গে কথা বললেন, “হে ইস্রায়েল, শান্ত হয়ে শোন| আজ তোমরা প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের প্রজা হলে|
10 সুতরাং প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, যা যা বলেন তার সমস্তই পালন করো| আমি আজ তাঁর য়ে সব আজ্ঞা ও বিধি আদেশ করছি তা অবশ্যই পালন করবে|”
11 সেই একই দিনে মোশি লোকদের বললেন,
12 “তোমরা যর্দন নদী পার হলে পরে শিমিযোন, লেবি, যিহূদা, ইষাখর, য়োষেফ ও বিন্যামীন এই পরিবারগোষ্ঠীগুলির লোকদের বিধিপুস্তক থেকে আশীর্বাদ পড়ার জন্য গরিষীম পাহাড়ে দাঁড়াবে|
13 আর রূবেণ, গাদ, আশের, সবুলূন, দান ও নপ্তালি এই পরিবারগোষ্ঠীগুলি বিধিপুস্তক থেকে শাপ পড়ার জন্য এবল পর্বতে দাঁড়াবে|
14 “আর লেবীয়রা সমস্ত ইস্রায়েলীয়কে জোরে চিত্কার করে বলবে:
15 ‘য়ে কেউ মূর্ত্তি তৈরী করে এবং সেগুলি গোপন জায়গায় রাখে, সেই অভিশপ্ত হয়| ঐ মূর্ত্তিগুলি শিল্পীর দ্বারা খোদিত বা ছাঁচে ঢালা মূর্ত্তি ছাড়া আর কিছুই নয়| প্রভু এগুলিকে ঘৃণা করেন|’ তখন সমস্ত লোক উত্তরে বলবে, ‘আমেন!’
16 “লেবীয়রা বলবে, ‘পিতামাতাকে য়ে কেউ অসম্মান করে সে শাপগ্রস্ত!’ “তখন সমস্ত লোক উত্তরে বলবে, ‘আমেন!’
17 ‘লেবীয়রা বলবে, ‘য়ে ব্যক্তি প্রতিবেশীর জমির চিহ্ন স্থানান্তর করে সে শাপগ্রস্ত!’ “তখন সমস্ত লোক উত্তরে বলবে, ‘আমেন!’
18 “লেবীয়রা বলবে, ‘য়ে ব্যক্তি কোন অন্ধকে ভুল পথে চালায সে শাপগ্রস্ত!’ “তখন সমস্ত লোক উত্তরে বলবে, ‘আমেন!’
19 “লেবীয়রা বলবে, ‘য়ে ব্যক্তি বিদেশী, অনাথ এবং বিধবার সুবিচার করে না সে শাপগ্রস্ত!’ “তখন সমস্ত লোক উত্তরে বলবে, ‘আমেন!’
20 “লেবীয়রা বলবে, ‘পিতার স্ত্রীর অর্থাত্‌ সত্‌ মাযের সাথে য়ৌন সম্পর্ক করে এমন য়ে কোন ব্যক্তি শাপগ্রস্ত|’ কারণ এই ভাবে সে তার পিতাকে অসম্মান করেছে!’ “তখন সমস্ত লোক উত্তরে বলবে, ‘আমেন!’
21 “লেবীয়রা বলবে, ‘য়ে কোন ধরণের পশুর সাথে য়ৌন সম্পর্কে লিপ্ত ব্যক্তি শাপগ্রস্ত!’ তখন সমস্ত লোক উত্তরে বলবে, ‘আমেন!’
22 “লেবীয়রা বলবে, ‘য়ে ব্যক্তি তার বোনের সাথে অর্থাত্‌ তার পিতা অথবা মাতার কন্যার সাথে য়ৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয় সে শাপগ্রস্ত!’ “তখন সমস্ত লোক উত্তরে বলবে, ‘আমেন!’
23 “লেবীয়রা বলবে, ‘শাশুড়ীর সাথে য়ৌন সম্পর্ক রয়েছে এমন য়ে কোন ব্যক্তি শাপগ্রস্ত!’ “তখন সমস্ত লোক উত্তরে বলবে, ‘আমেন!’
24 “লেবীয়রা বলবে, ‘গোপনে প্রতিবেশীকে হত্যা করে এমন ব্যক্তি শাপগ্রস্ত!’ “তখন সমস্ত লোক উত্তরে বলবে, ‘আমেন!’
25 “লেবীয়রা বলবে, ‘নির্দোষ ব্যক্তিকে হত্যা করার জন্য টাকা নেয়, এমন য়ে কোন ব্যক্তি শাপগ্রস্ত!’ “তখন সমস্ত লোক উত্তরে বলবে, ‘আমেন!’
26 “লেবীয়রা বলবে, ‘কোন ব্যক্তি য়ে এই ব্যবস্থার কথা সমর্থন না করে এবং তা পালন করতে সম্মত না হয়, সে শাপগ্রস্ত!’ “তখন সমস্ত লোক উত্তরে বলবে, ‘আমেন!’




অধ্যায় 28

1 “আমি আজ তোমাদের য়ে সকল আদেশ করছি, তোমরা যদি প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের, সেই সব আজ্ঞা যত্নের সাথে পালন কর তবে প্রভু তোমার ঈশ্বর পৃথিবীর সমস্ত জাতির উপরে তোমাদের উন্নত করবেন|
2 যদি তোমরা প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের, বাধ্য হও তবে এইসব আশীর্বাদ তোমাদের উপরে আসবে:
3 “প্রভু তোমাদের নগরে এবং তোমাদের ক্ষেতে আশীর্বাদ করবেন|
4 প্রভু তোমাদের গর্ভের ফল আশীর্বাদযুক্ত করবেন| তিনি তোমাদের জমিকে আশীর্বাদ করবেন যাতে ভালো ফসল হয়| তিনি তোমাদের পশুদের আশীর্বাদ করবেন যাতে তাদের বহু শাবক জন্মায়| তিনি তোমাদের গরু ও মেষদের আশীর্বাদ করবেন|
5 প্রভু তোমাদের ঝুড়িগুলি ও পাত্রগুলিকে আশীর্বাদ করবেন এবং তা খাবারে ভরে দেবেন|
6 তোমরা যা কিছু কর তাতেই সর্বসময়ে প্রভু তোমাদের আশীর্বাদ করবেন|
7 “তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এসেছে এমন শত্রুকে পরাস্ত করতে প্রভু তোমাদের সাহায্য করবেন| তোমাদের শত্রুরা তোমাদের বিরুদ্ধে এক পথ দিয়ে আসবে কিন্তু পালাবার সময় সাত পথ দিয়ে পালাবে!
8 “প্রভু তোমাদের আশীর্বাদ করবেন ও তোমাদের গোলাঘর পূর্ণ করবেন| তোমরা যা কিছু কর তাতে তিনি আশীর্বাদ করবেন| প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের য়ে দেশ দিচ্ছেন, সেখানে তোমাদের আশীর্বাদ করবেন|
9 তিনি য়েমন প্রতিজ্ঞা করেছেন সেই অনুসারেই তিনি তোমাদের তাঁর নিজের বিশিষ্ট ব্যক্তি করে তুলবেন| তুমি যদি প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের সমস্ত আজ্ঞা পালন কর তাহলেই তিনি তা করবেন|
10 তাহলে পৃথিবীর সমস্ত জাতি জানবে য়ে তোমরা প্রভুর নামে অভিহিত এবং তারা তোমাদের ভয় করবে|
11 “আর প্রভু তোমাদের অনেক উত্তম বিষয় দেবেন| তিনি তোমাদের বহু সন্তানের পিতা করবেন এবং তোমাদের পশুর সংখ্যায় বৃদ্ধি পেয়ে অনেক হবে| য়ে দেশ তোমাদের দেবেন বলে তোমাদের পূর্বপুরুষের কাছে প্রভু প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, সেই দেশে তোমাদের ভাল ফসল দেবেন|
12 প্রভু তাঁর মহান আশীর্বাদের ভাণ্ডার খুলে দেবেন| তিনি তোমাদের জমির জন্য উপযুক্ত সময়ে বৃষ্টি দেবেন| প্রভু তোমাদের সমস্ত কাজে আশীর্বাদ করবেন| অনেক জাতিকে তোমরা ধার দেবে কিন্তু তাদের কাছ থেকে তোমাদের ধার করার প্রযোজন হবে না|
13 প্রভু তোমাদের মস্তক স্বরূপ করবেন, পুচ্ছ স্বরূপ করবেন না| তোমরা অবনত না হয়ে উন্নত হবে| এই সমস্তই ঘটবে যদি প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের, য়ে সব আদেশ আমি আজ বলছি তা তোমরা শোন এবং যত্ন সহকারে এই সব আদেশ পালন করো|
14 আজ আমি তোমাদের য়ে সব আজ্ঞা দিচ্ছি তার থেকে দূরে সরে য়েও না| তোমরা তার ডান দিকে বা বাম দিকে ফিরে য়েও না| সেবা করার জন্য অন্য দেবতার অনুগামী হয়ো না|
15 “কিন্তু প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের, কথা যদি না শোন - তিনি যা আদেশ করছেন, আমার আজকের বলা সেইসব আদেশ যত্ন সহকারে পালন না কর তবে এই সমস্ত অভিশাপ তোমার প্রতি বর্তাবে:
16 “প্রভু তোমাদের নগরে এবং ক্ষেতে শাপ দেবেন|
17 প্রভু তোমাদের ঝুড়ি ও পাত্র শাপগ্রস্ত করবেন এবং তাদের মধ্যে কোন খাদ্য থাকবে না|
18 প্রভু তোমাদের সন্তানসন্ততিদের, তোমাদের জমিকে, তোমাদের পশুদের এবং তোমাদের গাভীন গাই ও মেষদের শাপ দেবেন|
19 তোমরা যা কিছু কর না কেন সব সময় প্রভু তাতে শাপ দেবেন|
20 “তোমরা যা কিছু করবে তাতেই অভিশাপ, হতাশা এবং কষ্ট আসবে| তোমরা দ্রুত সম্পূর্ণরূপে বিনাশ না হওয়া পর্য়ন্ত তিনি এসব করেই চলবেন| তিনি এসব করবেন কারণ তোমরা যা মন্দ তাই কর এবং তাঁকে পরিত্যাগ করেছ|
21 য়ে দেশ অধিগ্রহণ করতে যাচ্ছ সেখানে ধ্বংস না হওয়া পর্য়ন্ত প্রভু তোমাদের ভযানক সব রোগে রোগগ্রস্ত করবেন|
22 প্রভু রোগ, জ্বর এবং ফোলা দ্বারা তোমাদের শাস্তি দেবেন| প্রভু প্রচণ্ড উত্তাপ পাঠাবেন এবং কোন বৃষ্টি পড়বে না| উত্তাপে এবং রোগে তোমাদের ফসল নষ্ট হয়ে যাবে| তোমরা ধ্বংস না হওয়া পর্য়ন্ত এই খারাপ ঘনাগুলি ঘটতেই থাকবে!
23 আকাশে কোন মেঘ দেখা যাবে না - আকাশ ঘসা পিতলের মতো এবং পাযের নীচের জমি লোহার মত শক্ত হবে|
24 প্রভু বৃষ্টির পরিবর্তে আকাশ থেকে কেবল ধূলো বালি বর্ষণ করবেন| য়ে পর্য়ন্ত তোমাদের বিনাশ না হয় তিনি তা বর্ষণ করবেন|
25 “প্রভু তোমাদের শত্রুদের দিয়ে তোমাদের হারাবেন| তোমরা এক পথ দিয়ে তোমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যাবে কিন্তু সাত পথ দিয়ে তাদের সামনে থেকে পালাবে| তোমাদের প্রতি য়ে সব খারাপ বিষয় ঘটবে তা দেখে পৃথিবীর লোক ভয় পাবে|
26 তোমাদের মৃতদেহ বন্য পশুপাখীর খাদ্য হবে| মৃত দেহের উপর থেকে তাদের তাড়িয়ে দেবারও কেউ থাকবে না|
27
28 “প্রভু মিশরীয়দের কাছে য়েমন ফোড়া পাঠিয়েছিলেন সেই রকমটি দিয়েই তোমাদের শাস্তি দেবেন| তিনি আর, গলিত ঘা এবং সারে না এমন চুলকানি দিয়ে তোমাদের শাস্তি দেবেন| প্রভু উন্মাদনা দ্বারা তোমাদের শাস্তি দেবেন| তিনি তোমাদের অন্ধ এবং হতবুদ্ধি করবেন|
29 দিনের আলোয হাতড়ে হাতড়ে অন্ধ লোকর মত তোমাদের পথ চলতে হবে| তোমরা যা কিছু কর তাতে অসফল হবে| বার বার লোক তোমাদের আঘাত করবে এবং তোমাদের জিনিস চুরি করে নেবে| আর তোমাদের রক্ষা করার কেউ থাকবে না|
30 “তোমাদের সাথে কোন স্ত্রীলোক বাগ্দত্তা হবে কিন্তু অপর কেউ তার সাথে য়ৌন সম্পর্কে লিপ্ত হবে| তোমরা বাড়ী বানাবে কিন্তু তাতে বাস করতে পারবে না| তোমরা ক্ষেতে দ্রাক্ষা লাগাবে কিন্তু তার থেকে কোন কিছুই সংগ্রহ করতে পারবে না|
31 লোক তোমাদের সামনেই তোমাদের গরুগুলো মেরে ফেলবে কিন্তু সেই মাংসের কোন অংশই তুমি খেতে পাবে না| লোক তোমাদের গাধাদের নিয়ে যাবে কিন্তু ফেরত দেবে না| তোমাদের মেষ তোমাদের শত্রুদের দেওয়া হবে| তোমাদের রক্ষা করার জন্য কেউ থাকবে না|
32 “অন্য জাতির লোকরা তোমাদের ছেলে মেয়েদের তুলে নিয়ে যাবে| দিনের পর দিন তাদের অপেক্ষায চেয়ে চেয়ে তুমি ক্লান্ত হয়ে পড়বে কিন্তু কিছুই করতে পারবে না এবং ঈশ্বর তোমাদের সাহায্য করবেন না|
33 “য়ে জাতিকে তোমরা চেনো না তারা তোমাদের সব শস্য এবং তোমাদের কঠোর পরিশ্রমের ফল খেযে ফেলবে| তোমরা কেবল সমস্ত জীবন ধরে পীড়ন ও লাঞ্ছনা ভোগ করবে|
34 তোমাদের চোখ যা দেখবে তা তোমাদের উন্মত্ত করবে!
35 প্রভু তোমাদের এমন কষ্টকর ফোঁড়া দ্বারা শাস্তি দেবেন যা সারে না| তোমাদের হাঁটু এবং পাযে এই সব ফোঁড়া হবে| পাযের তলা থেকে মাথার তালু পর্য়ন্ত দেহের সব জায়গাতেই এই ফোঁড়া বের হবে|
36 “প্রভু তোমাদের এবং তোমাদের রাজাকে এমন জাতির কাছে পাঠাবেন যাদের তুমি জান না| তুমি এবং তোমাদের পূর্বপুরুষরাও কখনও তাদের দেখে নি| সেখানে তোমরা কাঠ ও পাথরের তৈরী মূর্ত্তির সেবা করবে|
37 প্রভু তোমাদের য়ে দেশগুলিতে পাঠাবেন, সেখানকার লোক তোমাদের দুর্দশা দেখে অবাক হবে| তারা তোমাদের দেখে হাসবে এবং তোমাদের সম্বন্ধে মন্দ কথা বলবে|
38 “তোমাদের ক্ষেতে তুমি বহু বীজ বুনবে কিন্তু অল্পই ফসল সংগ্রহ করবে, কারণ পঙ্গপাল ফসল খেযে ফেলবে|
39 তোমরা দ্রাক্ষা ক্ষেতে কষ্ট করে দ্রাক্ষা চাষ করবে কিন্তু দ্রাক্ষা সংগ্রহ বা দ্রাক্ষারস পান করতে পাবে না, কারণ পোকায তা খেযে ফেলবে|
40 তোমাদের দেশের সর্বত্র জলপাইযের গাছ থাকবে কিন্তু তার থেকে উত্পন্ন কোন তেল তুমি ব্যবহার করতে পারবে না| কারণ জলপাই ফল মাটিতে ঝরে পড়ে পচে যাবে|
41 তোমাদের ছেলেমেয়ে থাকলেও তাদের লালন পালন করতে পারবে না, কারণ তাদের বন্দী করে নিয়ে যাওয়া হবে|
42 পঙ্গপাল তোমাদের সমস্ত গাছ ও ক্ষেতের শস্য ধ্বংস করে দেবে|
43 তোমাদের মধ্যে বাসকারী বিদেশীরা দিনে দিনে শক্তিশালী হয়ে উঠবে আর তোমাদের যা শক্তি ছিল তা তোমরা হারাবে|
44 বিদেশীরা তোমাদের ধার দেবে, কিন্তু তাদের ধার দেবার মত টাকা তোমাদের কাছে থাকবে না| মাথা য়েমন দেহকে নিয়ন্ত্রণে রাখে, সেই রকম ভাবেই তারা মাথা হয়ে তোমাদের নিয়ন্ত্রণে রাখবে আর তুমি হবে লেজ বিশেষ|
45 “এই সমস্ত শাপ তোমাদের উপর আসবে| তারা তোমাদের ধাওযা করে ধরবে য়ে পর্য়ন্ত না তুমি ধ্বংস হও, কারণ তোমরা প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের, কথা শোন নি| তিনি তোমাদের য়ে সমস্ত আজ্ঞা ও বিধি দিয়েছিলেন তা পালন করো নি|
46 এই শাপগুলি হবে লোকদের কাছে একটি চিহ্ন এবং তারা বুঝবে য়ে ঈশ্বর তোমাদের এবং তোমাদের উত্তরপুরুষদের বিচার করেছেন| তোমাদের ওপর য়ে ভয়ঙ্কর ঘনাগুলি ঘটবে তা দেখে লোকে আশ্চর্য় হয়ে যাবে|
47 “প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের অনেক আশীর্বাদ করেছিলেন, কিন্তু তোমরা আনন্দের সাথে প্রফুল্ল মনে তাঁর সেবা করো নি|
48 তাই প্রভু তোমাদের বিরুদ্ধে য়ে শত্রুদের পাঠাবেন তোমরা তাদেরই সেবা করবে| তোমরা ক্ষুধার্ত, তৃষ্ণার্ত, উলঙ্গ এবং দরিদ্র হবে| প্রভু তোমাদের উপর এমন বোঝা চাপাবেন যা সরিয়ে ফেলা যাবে না| তোমাদের ধ্বংস না করা পর্য়ন্ত তুমি সেই বোঝা বইবে|
49 “তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য প্রভু বহু দূর থেকে এক জাতির আগমণ ঘটাবেন| তোমরা তাদের ভাষা বুঝবে না| ঈগল পাখী য়েমন আকাশ থেকে নেমে আসে তেমনি দ্রুত তারা আসবে|
50 সেই সব লোক নিষ্ঠুর হবে| তারা বৃদ্ধদের বিষয়ে কোন চিন্তা করবে না এবং শিশুদের প্রতিও দযা করবে না|
51 তারা তোমাদের পশু ও উত্পন্ন খাদ্য নিয়ে নেবে| তোমাদের ধ্বংস না করা পর্য়ন্ত তারা তোমাদের সর্বস্ব নিয়ে যাবে| তারা তোমাদের শস্য, দ্রাক্ষারস, তেল, গরু, মেষ ও ছাগলের কিছুই ছেড়ে যাবে না| তোমাদের ধ্বংস না করা পর্য়ন্ত তারা তোমাদের সর্বস্ব নিয়ে যাবে|
52 “সেই জাতি তোমাদের নগরের চারিদিক ঘিরে তোমাদের আক্রমণ করবে| তোমরা কি মনে করছ নগরের চারিধারের শক্ত উঁচু প্রাচীর তোমাদের রক্ষা করবে? কিন্তু তারা ভেঙ্গে পড়বে| প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের, দেওয়া সেই দেশের সর্বত্র সমস্ত নগরগুলি শত্রুরা আক্রমণ করবে|
53 শত্রুরা নগর অবরোধ করে তোমাদের কষ্ট দিলে তুমি এতই ক্ষুধার্ত হবে য়ে নিজের ছেলে মেয়েদের খেতে শুরু করবে - প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, য়ে সন্তানদের দিয়েছিলেন তুমি তাদের দেহ ভোজন করবে|
54 “এমনকি তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে দযালু এবং শান্ত লোকটিও নিষ্ঠুর হয়ে উঠবে| সে অন্যের প্রতি নিষ্ঠুর হবে| এমনকি, য়ে স্ত্রীকে সে অত্যন্ত ভালবাসে তার প্রতিও নিষ্ঠুর হবে এবং জীবিত শিশুদের প্রতিও সে নিষ্ঠুর হবে|
55 খাবার কিছু পড়ে না থাকর দরুণ সে নিজের শিশুদের খাবে এবং সেই মাংস সে পরিবারের অন্য কারও সাথে ভাগ না করে নিজেই খাবে| তোমাদের শত্রু এসে তোমাদের নগর অবরোধ করলে এই সমস্ত মন্দ ঘনাগুলি তোমাদের প্রতি ঘটবে এবং তোমাদের কষ্ট দেবে|
56 “এমনকি তোমাদের মধ্যে বাসকারী কোমল ও ভদ্র মহিলা, মাটিতে যার পা পড়ে না, সেও নিষ্ঠুর হয়ে উঠবে| তার প্রাণের প্রিয স্বামীর প্রতি এবং নিজের ছেলেমেয়ের প্রতিও সে নিষ্ঠুর হয়ে উঠবে|
57 সে লুকিয়ে শিশুর জন্ম দিয়ে সেই শিশুটিকে এবং তার সাথে জন্ম দেবার সময় তার দেহ থেকে যা কিছু বেরিয়ে আসে তাও খাবে| শত্রু এসে তোমাদের শহর অবরোধ করে তোমাদের সংকটে ফেললে এই সমস্ত মন্দ বিষয় তোমাদের প্রতি ঘটবে|
58 “এই বইতে লেখা সমস্ত আজ্ঞা ও শিক্ষা তুমি অবশ্যই পালন করো এবং তুমি অবশ্যই প্রভু, তোমার ঈশ্বরের, গৌরবান্বিত এবং ভযাবহ নামকে সম্মান করো|
59 যদি তোমরা তা পালন না কর তবে প্রভু তোমাদের এবং তোমাদের উত্তরপুরুষদের অনেক অসুবিধায ফেলবেন| তোমাদের সংকট ও রোগগুলি হবে ভযানক!
60 মিশরে তোমরা অনেক বিপত্তি ও রোগ দেখে ভীত হয়েছিলে| প্রভু ঐ সব মন্দ ঘনাগুলি তোমাদের বিরুদ্ধে ফিরিয়ে আনবেন|
61 এই পুস্তকে লেখা নেই এমন সব সংকট ও রোগও তিনি আনবেন| তোমরা ধ্বংস না হওয়া পর্য়ন্ত তিনি তা করেই চলবেন|
62 আকাশের তারার মত তোমাদের বংশধররা বহুসংখ্যক হতে পারে, কিন্তু কেবল অল্পসংখ্যকই অবশিষ্ট থাকবে, কারণ তোমরা প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের কথা শোন নি|
63 “প্রভু তোমাদের মঙ্গল করে ও তোমাদের জাতির বৃদ্ধি সাধন করে য়েমন আনন্দ পেতেন, সেই একই ভাবে তিনি তোমাদের সর্বনাশ ও ধ্বংস দেখে আনন্দ পাবেন| তুমি য়ে দেশ অধিকার করতে যাচ্ছ, লোক তোমাদের সেই দেশ থেকে বের করে দেবে|
64 আর প্রভু পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্য়ন্ত সমস্ত জাতির মধ্যে তোমাদের ছড়িয়ে দেবেন| সেখানে তোমরা কাঠ, পাথরের তৈরী এমন মূর্ত্তির পূজা করবে, যাদের পূজা তোমাদের পূর্বপুরুষরা কখনও করে নি|
65 “এই সমস্ত জাতির মধ্যে তোমরা কোন শান্তি পাবে না এবং বিশ্রামের জায়গাও পাবে না| প্রভু তোমাদের মন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করবেন| তখন তোমাদের চোখ ক্লান্ত হয়ে পড়বে এবং তোমরা বিচলিত হয়ে পড়বে|
66 তোমরা বিপদের মধ্যে বাস করবে এবং দিনে কি রাতে সবসময় ভয়ে ভয়ে থাকবে| জীবন সম্বন্ধে তোমাদের কোন নিশ্চয়তা বোধ থাকবে না|
67 সকালে তুমি বলবে, ‘হায়! কখন সন্ধ্যা হবে!’ আর সন্ধ্যা হলে বলবে, ‘হায়! কখন সকাল হবে!’ হৃদয়ের শঙ্কা এবং ভয়ঙ্কর বিষয় যা তোমরা দেখবে, তার জন্যই এইরকম হবে|
68 প্রভু জাহাজে করে তোমাদের মিশরে ফেরত পাঠাবেন| আমি বলেছিলাম য়ে তোমাদের আর সেখানে ফিরে য়েতে হবে না; কিন্তু প্রভু তোমাদের সেখানে ফেরত পাঠাবেন| মিশরে তোমরা তোমাদের শত্রুদের কাছে নিজেদের দাসরূপে বিক্রি করতে চাইবে কিন্তু কেউ তোমাদের কিনবে না|”




অধ্যায় 29

1 প্রভু হোরেব পর্বতে ইস্রায়েলের লোকদের সাথে চুক্তি করেছিলেন| সেই চুক্তি ছাড়াও প্রভু মোশিকে আরেকটি চুক্তি করার জন্য আজ্ঞা করলেন| এই চুক্তি মোয়াব পর্বতে করা হল:
2 মোশি সমস্ত ইস্রায়েলের লোকদের এক জায়গায় একত্র করে বললেন, “মিশর দেশে প্রভু যা করেছিলেন তার সবই তোমরা দেখেছিলে| ফরৌণের প্রতি তার কর্মচারী ও তার সমস্ত দেশের প্রতি প্রভু যা করেছিলেন, তা তোমরা দেখেছ|
3 তিনি তাদের উপর য়ে মহা কষ্ট এনেছিলেন তা তোমরা দেখেছ| তোমরা সমস্ত অলৌকিক ও মহা আশ্চর্য় কাজও দেখেছ য়েগুলি তিনি করেছেন|
4 তোমরা যা শুনেছ বা দেখেছ তা দেখার চোখ ও প্রকৃতভাবে বুঝে উঠার মন আজও প্রভু তোমাদের দেননি|
5 প্রভু এই 40 বছর তোমাদের মরুভূমির মধ্য দিয়ে নিয়ে গেছেন| এই সময়ের মধ্যে তোমাদের কাপড় জামা ও জুতো ছিঁড়ে যায় নি|
6 তোমাদের কোন খাবার ছিল না| সুরা বা অন্য কোন পানীয় ছিল না| কিন্তু প্রভু তোমাদের যত্ন নিলেন যাতে তোমরা বুঝতে পার য়ে প্রভুই তোমাদের ঈশ্বর|
7 “তোমরা এই স্থানে আসার পরে হিষ্বোনের রাজা সীহোন ও বাশনের রাজা ওগ আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য এলো| কিন্তু আমরা তাদের হারিযে দিলাম|
8 তারপর আমরা তাদের দেশ অধিকার করে তা রূবেণ, গাদ ও মনঃশির অর্ধেক পরিবারগোষ্ঠীর লোকদের দিয়ে দিয়েছিলাম|
9 এই চুক্তির সমস্ত আদেশগুলি যদি তোমরা পালন কর, তবে তোমরা যা কিছু কর, তাতেই কৃতকার্য় হবে|
10 “আজ তোমরা সবাই প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের, সামনে দাঁড়িয়ে রযেছ| তোমাদের নেতারা, কর্মকর্তারা, প্রবীণরা এবং তোমাদের অন্যান্যরাও এখানেই রয়েছে|
11 তোমাদের স্ত্রী ও শিশুরা, তোমাদের মধ্যে বাসকারী বিদেশীরা যারা তোমাদের জন্য কাঠ কেটে দেয় ও জল তুলে দেয় তারাও এখানে রয়েছে|
12 তোমরা সকলে এখানে প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের, সাথে চুক্তিবদ্ধ হবার জন্য রযেছ| প্রভু আজ তোমাদের সাথে এই আশীর্বাদ ও অভিশাপের চুক্তি করেছেন|
13 এই চুক্তির সাথে সাথেই প্রভু তোমাদের তাঁর নিজস্ব বিশেষ লোক করবেন এবং তিনি তোমাদের ঈশ্বর হবেন| তিনি তোমাদের যা বললেন তার প্রতিজ্ঞা তিনি তোমাদের পূর্বপুরুষ অব্রাহাম, ইসহাক ও যাকোবের কাছে করেছিলেন|
14 প্রভু এই চুক্তি ও তাঁর প্রতিজ্ঞাসকল কেবল তোমাদের সাথেই করছেন না|
15 এই চুক্তি তিনি আমরা যারা সকলে তাঁর সামনে আজ দাঁড়িয়ে আছি তাদের সঙ্গে এবং আমাদের উত্তরপুরুষরা যারা আজ এখানে নেই তাঁদের সাথেও করছেন|
16 স্মরণ কর মিশর দেশে আমরা কেমন ভাবে বাস করেছি এবং পথে য়ে সব দেশ পড়েছে তার মধ্যে দিয়ে কি ভাবে যাত্রা করেছি|
17 তোমরা ঘৃণিত মূর্ত্তিগুলি দেখেছ - য়ে মূর্ত্তিগুলি কাঠ, পাথর, সোনা ও রূপা দিয়ে তৈরী|
18 এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়ো য়ে তোমাদের মধ্যে পুরুষ, নারী, পরিবার ও পরিবারগোষ্ঠী যারাই আজ এখানে রয়েছে, তাদের কেউ য়েন প্রভু আমাদের ঈশ্বরের কাছ থেকে দূরে সরে না যায়| কেউ য়েন অন্য জাতির দেবতাদের পূজা না করে| যারা তা করে তারা সেই গাছের মত যা বিষাক্ত তেতো ফল উত্পন্ন করে|
19 “কোন ব্যক্তি এই সমস্ত শাপের কথা শুনেও নিজের মনকে সন্তুষ্ট করতে বলতে পারে, ‘আমি যা চাই তাই করব| খারাপ কিছুই আমার প্রতি ঘটবে না|’ এই ধরণের লোক য়ে কেবল তার নিজের প্রতি অমঙ্গল ডেকে আনবে তা নয়, এমনকি ভাল লোকদের প্রতিও তা ডেকে আনবে|
20 প্রভু সেই ব্যক্তিকে ক্ষমা করবেন না| প্রভু সেই ব্যক্তির প্রতি ক্রুদ্ধ ও বিরক্ত হবেন এবং তাকে শাস্তি দেবেন| প্রভু সেই ব্যক্তিকে ইস্রায়েলের সমস্ত পরিবারগোষ্ঠী থেকে পৃথক করবেন| প্রভু তাকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করবেন| এই পুস্তকে লেখা সমস্ত অমঙ্গল তার উপর আসবে| ব্যবস্থার পুস্তকে অভিশাপ সম্পর্কে লিখিত চুক্তি অনুসারেই আসবে|
21
22 “ভবিষ্যতে তোমাদের উত্তরপুরুষরা ও দূর দেশের বিদেশীরা দেখবে কিভাবে এই দেশ ধ্বংস হয়েছে| প্রভু কিভাবে বিভিন্ন রোগ এনেছেন তাও তারা দেখবে|
23 সমস্ত দেশ জ্বলন্ত গন্ধক ও লবনে ঢেকে যাওয়ায় আর ব্যবহারয়োগ্য থাকবে না| দেশে কিছুই বোনা হবে না, কিছুই বেড়ে উঠবে না, এমন কি জংলী গাছও না| প্রভু ক্রুদ্ধ হয়ে য়েভাবে সদোম, ঘমোরা, অদ্মা ও সবোযিম শহরগুলি ধ্বংস করেছিলেন সেই ভাবেই এই দেশ ধ্বংস হবে|
24 “অন্যান্য সব জাতির লোকরা জিজ্ঞেস করবে, ‘প্রভু এই দেশের প্রতি কেন এমনটি করলেন? কেন তিনি এত ক্রুদ্ধ হলেন?’
25 উত্তর এই হবে, ‘প্রভু ক্রুদ্ধ কারণ ইস্রায়েলের লোকরা তাদের প্রভুর অর্থাত্‌ পূর্বপুরুষের ঈশ্বরের নিয়ম ত্যাগ করেছে| প্রভু তাদের মিশর দেশ থেকে বের করে আনার সময় য়ে চুক্তি করেছিলেন তা তারা আর পালন করে না|
26 প্রভু য়ে সমস্ত দেবতার পূজা করতে নিষেধ করেছিলেন, যাদের পূজা তারা আগে কখনও করে নি, ইস্রায়েলের লোকরা সেই অন্যান্য দেবতার সেবা করেছে|
27 সেই কারণেই প্রভু এই দেশের লোকদের প্রতি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হলেন| আর তাই তিনি পুস্তকে লেখা সমস্ত অভিশাপ তাদের উপর আনলেন|
28 প্রভু তাদের প্রতি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ ও বিরক্ত হলেন, তাই তিনি তাদের দেশ থেকে বের করে দিয়ে অন্য এক দেশে রাখলেন, সেখানেই আজ তারা রয়েছে|’
29 “কিছু বিষয় রয়েছে যা প্রভু, আমাদের ঈশ্বর, গোপন রেখেছেন, কেবল তিনিই সে সব বিষয় জানেন| কিন্তু প্রভু কিছু বিষয় আমাদের কাছে প্রকাশ করেছেন এবং সেই শিক্ষাসকল আমাদের ও আমাদের উত্তরপুরুষদের জন্য চিরকাল থাকবে| সেই বিধির সব আজ্ঞাগুলির প্রতি আমরা অবশ্যই বাধ্য থাকব|




অধ্যায় 30

1 “আমি তোমাদের আশীর্বাদ ও অভিশাপ সম্বন্ধে যা যা বললাম সেই সব যখন তোমাদের ওপর ঘটবে এবং প্রভু তোমাদের য়ে সব বিভিন্ন জাতির মধ্যে ছড়িয়ে দেবেন, সেখানে যদি এই সব বিষয়ে চিন্তা করে
2 তুমি ও তোমার সন্তানরা প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের, কাছে ফিরে আসো অর্থাত্‌ যদি তোমরা তাঁকে তোমাদের সমস্ত হৃদয় এবং সমস্ত আত্মা দিয়ে অনুসরণ কর এবং তাঁর সব আজ্ঞাগুলি - যা কিছু আমি আজ দিয়েছি, তোমরা সেগুলির প্রতি সম্পূর্ণভাবে বাধ্য থাক,
3 তবে প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের প্রতি করুণা করবেন| প্রভু আবার তোমাদের মুক্ত করবেন| তিনি তোমাদের য়ে সব জাতির মধ্যে পাঠিয়ে ছিলেন সেখান থেকে আবার ফিরিয়ে আনবেন|
4 এমন কি তোমরা যদি পৃথিবীর দূরতম প্রান্তেও গিয়ে থাকো, প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, সেখান থেকে তোমাদের সংগ্রহ করবেন|
5 তোমাদের পূর্বপুরুষদের য়ে দেশ ছিল, প্রভু সেই দেশে তোমাদের ফিরিয়ে আনবেন এবং সেই দেশ তোমাদের অধিকারে আসবে| প্রভু তোমাদের মঙ্গল করবেন এবং পূর্বপূরুষদের চাইতেও তোমাদের অধিক হবে| তোমাদের জাতির লোকসংখ্যা এমন বৃদ্ধি পাবে যা আগে কখনও হয় নি|
6 প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তোমার এবং তোমাদের উত্তরপুরুষদের হৃদয় বাধ্য করে তুলবেন| এই ভাবে তোমাদের প্রভুকে সমস্ত হৃদয়ের সাথে প্রেম করে জীবন লাভ করবে|
7 “আর তখন প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, শত্রুদের প্রতি সেই সমস্ত অমঙ্গল ঘটাবেন, কারণ এই সমস্ত লোকরা তোমাদের ঘৃণা করে ও কষ্ট দেয়|
8 আর তোমরা আবার প্রভুর বাধ্য হবে| আমি আজ তাঁর য়ে সমস্ত আদেশ দিচ্ছি তা পালন করবে|
9 তোমরা য়ে কাজে হাত দেবে তাতেই প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের কৃতকার্য় হতে দেবেন| তাঁর আশীর্বাদে তোমরা বহু সন্তানসন্ততি লাভ করবে| তাঁর আশীর্বাদে তোমাদের পশুদেরও অনেক শাবক হবে| তিনি তোমাদের ক্ষেতকে আশীর্বাদ করবেন, ফলে অনেক ফসল উত্পন্ন হবে| প্রভু তোমাদের মঙ্গল করবেন| তোমাদের পূর্বপুরুষদের মঙ্গল সাধন করে তিনি য়ে রকম আনন্দ পেতেন, সেই রকম তোমাদের প্রতি মঙ্গল সাধন করে তিনি আনন্দ পাবেন|
10 কিন্তু প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, আজ যা বলছেন তা অবশ্যই পালন করতে হবে| তোমরা অবশ্যই তাঁর আজ্ঞাসকল এবং ব্যবস্থাপুস্তকে লেখা বিধিগুলো পালন করবে| তোমরা অবশ্যই তোমাদের হৃদয় ও প্রাণের সাথে প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের বাধ্য হবে| তাহলে তোমাদের প্রতি এইসব মঙ্গল কার্য়্য় ঘটবে|
11 “এই আজ্ঞা যা আজ আমি তোমাদের দিচ্ছি তা তোমাদের পক্ষে খুব কঠিন হবে না আর তা সাধ্যের বাইরেও নয়|
12 এই আজ্ঞাগুলি স্বর্গে রেখে দেওয়া হয় নি য়ে তুমি বলবে, ‘কে স্বর্গে গিয়ে তা আমাদের জন্য নিয়ে আসবে যাতে আমরা তা শুনতে পারি এবং মেনে চলি|’
13 এই আজ্ঞা সমুদ্রের অপর পারেও নেই য়ে তুমি বলবে, ‘কে সমুদ্র পার হয়ে আমাদের জন্য তা নিয়ে আসবে যাতে আমরা তা শুনতে পাই ও সেই মত কাজ করতে পারি|’
14 না, সে বাক্য় তোমাদের খুব কাছে, তোমাদের মুখে ও হৃদয়ে রয়েছে যাতে তা পালন করতে পার|
15 “আজ জীবন ও মৃত্যু অথবা ভাল ও মন্দের মধ্যে তোমাদের একটি মনোনীত করতে দিয়েছি|
16 প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরকে, ভালবাসতে, তাঁকে অনুসরণ এবং তাঁর সমস্ত আজ্ঞা, বিধি ও নিয়মসকল পালন করতে আজ আমি তোমাদের আজ্ঞা করছি| তাহলে তোমরা বাঁচবে এবং তোমাদের জাতি আরও বৃদ্ধি পাবে এবং য়ে দেশ অধিকার করতে যাচ্ছ, প্রভু তোমাদের ঈশ্বর সেই দেশে তোমাদের আশীর্বাদ করবেন|
17 কিন্তু যদি তোমরা প্রভুর থেকে তোমাদের হৃদয় ফিরিয়ে নাও এবং তাঁর কথা শুনতে সম্মত না হও, যদি অন্য দেবতার পূজা ও সেবা করার জন্য মনস্থির করে থাক,
18 তাহলে তোমরা ধ্বংস হবে| আমি তোমাদের সাবধান করে দিচ্ছি, যদি তোমরা প্রভুর থেকে হৃদয় ফিরিয়ে নাও তবে যর্দন নদীর অপর পারের য়ে দেশে তোমরা প্রবেশ করার জন্য প্রস্তুত, সেখানে তোমরা দীর্ঘজীবি হবে না|
19 “আজ এই দুই পথের মধ্যে য়ে কোন একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ তোমাদের হয়েছে আর আকাশ ও পৃথিবীকে আমি এই বিষয়ে সাক্ষী রাখছি| তোমরা জীবন বা মৃত্যু বেছে নিতে পারো| প্রথমটি মনোনীত করলে তোমরা আশীর্বাদ পাবে| যদি তোমরা অপরটি মনোনীত কর তাহলে আসবে অভিশাপ| সুতরাং জীবন মনোনীত কর, তাহলে তোমরা এবং তোমাদের সন্তানরা বাঁচবে|
20 তোমরা অবশ্যই তোমাদের প্রভু, ঈশ্বরকে, ভালবাসবে ও তাঁর বাধ্য হবে| তাঁকে পরিত্যাগ করো না, কারণ প্রভুই তোমাদের জীবন; এবং প্রভু তোমাদের পূর্বপুরুষ অব্রাহাম, ইসহাক এবং যাকোবকে য়ে দেশ দিতে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, সেই দেশে তিনি তোমাদের দীর্ঘজীবি করবেন|”




অধ্যায় 31

1 ইস্রায়েলের সমস্ত লোকদের এই সব কথা বলা শেষ হলে,
2 মোশি বললেন, “আমার বযস এখন 1
20 বছর| আমি আর তোমাদের পরিচালনা করতে পারব না| প্রভু আমায় বলেছেন: ‘তুমি যর্দন নদী পার হয়ে যাবে না|’
3 কিন্তু প্রভু তোমাদের লোকদের সেই দেশে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবেন| প্রভু তোমাদের জন্য এই সমস্ত জাতিকে ধ্বংস করবেন এবং তোমরা তাদের দেশ ছিনিয়ে নেবে| প্রভুর প্রতিজ্ঞা অনুসারে যিহোশূয় তোমাদের পথ দেখাবেন|
4 “প্রভু সীহোন এবং ওগ এই ইমোরীয় রাজাদের ধ্বংস করে তাদের প্রতি এবং তাদের দেশের প্রতি যা করেছিলেন এদের প্রতিও তাই করবেন|
5 এই সমস্ত জাতিকে হারাতে প্রভু তোমাদের সাহায্য করবেন| কিন্তু আমি তোমাদের যা যা করতে বলি তার সবই তোমরা তাদের প্রতি করো|
6 দৃঢ় এবং সাহসী হও, ঐ সমস্ত লোকদের ভয় পেও না! কারণ প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের সঙ্গে আছেন| তিনি তোমাদের ছেড়ে যাবেন না বা হতাশ করবেন না|”
7 তখন মোশি সমস্ত ইস্রায়েলের সামনে যিহোশূয়কে ডেকে বললেন, “শক্ত হও, মনে সাহস আনো| য়ে দেশ প্রভু এদের পূর্বপুরুষদের দেবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, তুমি তাদের সেখানে নিয়ে যাবে এবং সেই দেশ তাদের অধিকার করাবে|
8 প্রভু তোমায় পথ দেখাবেন, তিনি নিজেই তোমার সঙ্গে আছেন| তিনি তোমাকে ছাড়বেন না বা ত্যাগ করবেন না| দুশ্চিন্তা করো না, ভয় পেও না|”
9 তারপর মোশি সেই শিক্ষাগুলি লিখে যাজকদের হাতে দিলেন| যাজকরা ছিল লেবি গোষ্ঠীর লোক, যাদের কাজ ছিল প্রভুর চুক্তির সেই সিন্দুক বহন করা| মোশি ইস্রায়েলের সমস্ত প্রবীণদের কাছেও শিক্ষাগুলি দিলেন|
10 তারপর মোশি তাদের এই আজ্ঞা দিয়ে বললেন, “প্রত্যেক সাত বছরের শেষে, মুক্তির বছরে অর্থাত্‌ কুটিরবাস উত্সবের সময়,
11 য়ে সময় ইস্রায়েলের সমস্ত লোক প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের মনোনীত স্থানে প্রভুর সাথে সাক্ষাত্‌ করতে আসবে, সেই সময় তুমি অবশ্যই এই শিক্ষাগুলি লোকদের কাছে পাঠ করবে যাতে তারা তা শুনতে পায়|
12 সকল পুরুষ, স্ত্রীলোক, শিশুদের এবং তোমাদের মধ্যে বাসকারী বিদেশীদের অবশ্যই একসাথে জড়ো করবে| তারা এই সব শিক্ষা শুনবে ও তোমাদের প্রভু ঈশ্বরকে সম্মান করতে শিখবে| তখন তারা ব্যবস্থার য়ে য়ে বিষয় আছে তার সবই পালন করতে পারবে|
13 উত্তরপুরুষরা যদি শিক্ষাগুলি না জেনে থাকে তবে তারাও শুনবে এবং প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরকে, সম্মান করতে শিখবে| তারা যতদিন তোমার দেশে বাস করবে ততদিন প্রভুকে সম্মান করবে| শীঘ্রই তোমরা যর্দন নদী পার হয়ে সেই দেশ অধিকার করবে|”
14 প্রভু মোশিকে বললেন, “এখন তোমার মৃত্যুর সময় হয়ে এসেছে| যিহোশূয়কে নিয়ে সমাগম তাঁবুর কাছে এস| আমি বলব যিহোশূয়কে কি করতে হবে|” তাই মোশি ও যিহোশূয় সমাগম তাঁবুতে গেলেন|
15 প্রভু সেই তাঁবুর কাছে মেঘস্তম্ভের দর্শন দিলেন| সেই মেঘস্তম্ভ তাঁবুর দরজায দাঁড়িয়ে রইলো|
16 প্রভু মোশিকে বললেন, “তুমি শীঘ্রই মারা যাবে এবং তুমি তোমার পূর্বপুরুষদের কাছে গেলে পর এই লোকরা আমার প্রতি বিশ্বস্ত থাকবে না| আমি তাদের সাথে য়ে চুক্তি করেছি তা তারা ভেঙ্গে ফেলবে| তারা আমায় পরিত্যাগ করে য়ে দেশে যাচ্ছে সেই দেশের মূর্ত্তিদের পূজা করবে|
17 সেই সময় আমি তাদের উপর অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হব এবং তাদের পরিত্যাগ করব| আমি তাদের সাহায্য করতে অস্বীকার করব আর তারা ধ্বংস হবে| তাদের প্রতি বহুবিধ ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটবে, তারা অনেক কষ্টেও পড়বে| তখন তারা বলবে, ‘আমাদের প্রতি এইসব অমঙ্গল ঘটছে কারণ আমাদের ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে নেই|’
18 সেই সময় আমি তাদের সাহায্য করব না কারণ তারা মন্দ কাজ করবে এবং অন্য দেবতাদের পূজা করবে|
19 “তাই এই গানটা লিখে নাও এবং ইস্রায়েলের লোকদের তা শেখাও| তাদের এই গান গাইতে শেখাও, তাহলে এই গান ইস্রায়েলের লোকর বিরুদ্ধে আমার সাক্ষী হবে|
20 আমি তাদের পূর্বপুরুষদের য়ে দেশ দেব বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, আমি তাদের সেই দেশে নিয়ে যাব| সেই দেশ উত্তম বিষয়ে পরিপূর্ণ আর তারা যা চায তাই-ই খেতে পেলে তারা হৃষ্টপুষ্ট হবে কিন্তু তখন তারা ঘুরে বসবে এবং অন্য দেবতার সেবা করবে| তারা আমার কাছ থেকে দূরে সরে যাবে এবং আমার নিয়ম ভেঙ্গে ফেলবে|
21 তখন তাদের প্রতি বহু ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটবে| তারা অনেক কষ্টে পড়বে| সেই সময়ে তাদের লোকদের এই গান মনে পড়বে এবং তারা তাদের ভুল বুঝবে| আমি তাদের য়ে দেশ দেব বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম সেই দেশে এখনও নিয়ে যাই নি, কিন্তু আমি জানি সেখানে তারা কি করার পরিকল্পনা করছে|”
22 তাই সেই দিনেই মোশি সেই গান লিখলেন এবং ইস্রায়েলের লোকদের তা শেখালেন|
23 তখন প্রভু নূনের পুত্র যিহোশূয়কে বললেন, “শক্ত হও, সাহসী হও| আমি ইস্রায়েলীয়দের য়ে দেশ দেব বলে প্রতিজ্ঞা করেছি, সেই দেশে তুমি তাদের নিয়ে যাবে আর আমি তোমার সাথে থাকব|”
24 এই সমস্ত শিক্ষা মোশি যত্ন সহকারে একটি বইয়ে লিখলেন|
25 আর তা লেখা শেষ হলে, তিনি লেবীয়দের একটি আদেশ দিলেন| (এই লেবীয়েরা প্রভুর চুক্তির সিন্দুক বয়ে নিয়ে য়েত|) মোশি বললেন,
26 “ব্যবস্থাপুস্তক বই নিয়ে প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের চুক্তির সিন্দুকের পাশে রাখ| তাহলে তা তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হবে|
27 আমি জানি তোমরা খুব একগুঁযে, তোমরা তোমাদের মত করে জীবন কাটাতে চাও| দেখ আমি তোমাদের সাথে থাকাকালীনই তোমরা প্রভুর বাধ্য হতে অস্বীকার করেছিলে| তাই আমি জানি য়ে আমার মৃত্যুর পরও তোমরা তাঁর বাধ্য হতে অস্বীকার করবে|
28 তোমার পরিবারগোষ্ঠীর সমস্ত উচ্চপদস্থ কর্মচারী ও নেতাদের এক জায়গায় জড়ো করো| আমি তাদের এই সব বিষয় বলব এবং তাদের বিরুদ্ধে আকাশ ও পৃথিবীকে সাক্ষী করবো|
29 আমি জানি আমার মৃত্যুর পর তোমরা মন্দ হয়ে পড়বে| আমি য়ে ভাবে আজ্ঞা করেছি তার থেকে তোমরা দূরে সরে যাবে| ভবিষ্যতে তোমাদের অমঙ্গল হবে| কারণ প্রভু য়ে কাজ মন্দ বলেন তোমরা সেই সবই করতে চাও এবং তোমাদের মন্দ কাজের দ্বারা তাঁকে অসন্তুষ্ট কর|”
30 ইস্রায়েলের সমস্ত লোক এক জায়গায় জড়ো হলে মোশি তাদের জন্য এই গানের সবটাই গাইলেন:




অধ্যায় 32

1 “আকাশ, আমি যা বলি শোন| পৃথিবী, আমার মুখের কথা শোন|
2 আমার উপদেশ বৃষ্টির মত ঝরবে, য়েমন শিশির পড়ে মাটির উপরে, বৃষ্টির ধারা ঘাসের উপর পড়ে, য়েমন সবুজ গাছপালার উপর বৃষ্টি নামে|
3 কারণ আমি প্রভুর নাম প্রচার করব| তোমরা ঈশ্বরের প্রশংসা কর!
4 শৈল (প্রভু) এবং তাঁর কাজও ত্রুটিহীন! কারণ তাঁর পথসকল ন্যায়! ঈশ্বর সত্য এবং বিশ্বাস্য| তিনি মঙ্গলময় ও সত্‌|
5 সত্যি তোমরা তাঁর সন্তান নও| তোমাদের পাপসকল তাঁকে কলুষিত করে| তোমরা বিপথগামী মিথ্যেবাদী|
6 এই ভাবে কি তোমরা প্রভু তোমাদের প্রতি যা যা করেছেন তা পরিশোধ কর? তোমরা স্থূলবুদ্ধি, বোকা লোক| প্রভুই তোমাদের পিতা| তিনি তোমাকে তৈরী করলেন| তিনিই তোমার সৃষ্টিকর্তা| তিনিই তোমার ভার বহন করেন|
7 স্মরণ কর বহুপূর্বে কি ঘটেছিল| বহু বছর আগে য়ে সব ঘটনা ঘটেছিল তা মনে করে দেখ| তোমার পিতাকে জিজ্ঞাসা কর, তিনি তোমাকে বলবেন| তোমার প্রবীণদের জিজ্ঞেস কর, তাঁরাও তোমাকে বলবেন|
8 পরাত্‌পর পৃথিবীতে লোকদের পৃথক করেছেন| তিনি প্রত্যেক জাতিকে তাঁর নিজের দেশ দিয়েছেন| সেই সব জাতির জন্য ঈশ্বরই সীমারেখা নির্দিষ্ট করেছেন, ঈশ্বরের সন্তানদের সংখ্যা অনুসারেই রয়েছেন|
9 প্রভুর লোকরাই তাঁর অধিকার! যাকোব প্রভুরই|
10 প্রভু যাকোবকে মরুভূমিতে এক বাতাস তাড়িত দেশে পেলেন| প্রভু যাকোবের তত্ত্বাবধানের জন্য তাকে বেষ্টন করলেন| তাঁর নিজের চোখের তারার মত তাকে রক্ষা করলেন|
11 ঈগল পাখী তার শাবকদের বাসা থেকে ঠেলে দেয় য়েন তারা উড়তে শেখে| শাবকদের রক্ষা করতে সে তাদের সাথে আকাশে ওড়ে| তাদের ধরতে সে তার পাখা বিস্তার করে, তারা পড়ে গেলে সে তাদের ডানার উপর বহন করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়| প্রভু ঠিক সেই রকম হলেন|
12 প্রভু একাই যাকোবকে পথ দেখিয়ে নিয়ে গেলেন| কোন বিজাতীয দেবতা তাকে সাহায্য করে নি|
13 পার্বত্য দেশ অধিকার করতে তিনি যাকোবকে পরিচালনা করলেন| যাকোব ক্ষেতের শস্য সংগ্রহ করলেন| প্রভু তাকে পাথরের থেকে মধু এবং শক্ত পাথরের থেকে জলপাইযের তেল দিলেন|
14 প্রভু ইস্রায়েলকে দিলেন গো-পাল হতে উত্পন্ন মাখন এবং মেষপালের দুধ| তিনি ইস্রায়েলকে দিলেন মোটা-সোটা মেষ ও ছাগল; বাশনের সেরা মেষ এবং মিহি উত্কৃষ্ট গমের আটা| তোমরা ইস্রায়েলের লোকরা দ্রাক্ষারস, লাল রঙের দ্রাক্ষারস পান করলে|
15 কিন্তু য়িশুরূণ হৃষ্টপুষ্ট হলে ষাঁড়ের মত পদাঘাত করল| (হ্যাঁ, তোমাদের পেট ভরে খাওয়ানো হয়েছিল! তোমরা পুষ্ট ও মেদযুক্ত হলে|) তখন সে তার নির্মাতা, তার ঈশ্বরকে পরিত্যাগ করল| য়ে শৈল তাকে পরিত্রাণ করেছিল তার থেকে পালাল|
16 প্রভুর লোকরাই তাঁকে ঈর্ষান্বিত করল| তারা অন্য দেবতার পূজা করল! সেই সব ভয়ঙ্কর দেবতার পূজা করে তারা ঈশ্বরকে ক্রুদ্ধ করল|
17 তারা ভূতদের উদ্দেশ্যে বলিদান উত্সর্গ করল, যারা ঈশ্বর ছিল না| ঐ দেবতারা ছিল নতুন, যাদের তারা জানত না| ঐ সব নতুন দেবতাদের তাদের পূর্বপুরুষরাও জানত না|
18 য়ে ঈশ্বর তোমার নির্মাতা তাঁকে তুমি পরিত্যাগ করলে, য়ে ঈশ্বর তোমায় জীবন দান করলেন তাঁকে ভুলে গেলে|
19 প্রভু এসব দেখলেন এবং তাদের প্রতি প্রচণ্ড ক্রুদ্ধ হলেন| তাঁর পুত্র কন্যারাই তাঁকে ক্রুদ্ধ করল!
20 তাই প্রভু বললেন, ‘আমি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেব, তারপর দেখা যাবে কি ঘটে! তারা বিরুদ্ধাচারী| তারা বিশ্বাসঘাতক সন্তান|
21 তারা অনীশ্বর দ্বারা আমাকে ঈর্ষান্বিত করল| তারা ঐসব অর্থহীন মূর্ত্তি তৈরী করে আমাকে ক্রুদ্ধ করল| তাই আমি তাদের মধ্যে ঈর্ষা জন্মাব এমন লোকদের দ্বারা যারা প্রকৃতপক্ষে জাতি নয়| আমি তাদের একটি দুষ্ট জাতির দ্বারা ক্রুদ্ধ করব|
22 আমার ক্রোধ আগুনের মত জ্বলবে, তা কবরেরগভীরতম স্থানও বালিয়ে দেবে, তা পৃথিবী ও পৃথিবীতে উত্পন্ন সবকিছু জ্বালাবে, তা পর্বতগুলির মূলে পৌঁছে সেটাও জ্বালাবে|
23 “আমি ইস্রায়েলীয়দের উপর সঙ্কট আনব| আমার সমস্ত বাণ তাদের দিকে ছুঁড়ব|
24 তারা ক্ষুধায রোগা হয়ে যাবে| ভয়ঙ্কর সব রোগ তাদের ধ্বংস করে ফেলবে| আমি তাদের বিরুদ্ধে বন্য জন্তু পাঠাব| বিষাক্ত সাপ দ্বারা তারা দংশিত হবে|
25 পথে সৈন্যরা তাদের হত্যা করবে| বাড়ীর মধ্যেও মহাভয় বিনাশ করবে| সৈন্যরা যুবক যুবতীদের হত্যা করবে| তারা শিশু ও বৃদ্ধদেরও হত্যা করবে|
26 আমি ইস্রায়েলীয়দের ধ্বংস করার কথা ভেবেছিলাম, যাতে লোক তাদের কথা একদম ভুলে যায়!
27 কিন্তু আমি জানি তাদের শত্রুরা কি বলবে| তাদের শত্রুরা বুঝবে না| তারা বড়াই করে বলবে, “প্রভু ইস্রায়েলকে ধ্বংস করেন নি, আমরাই আমাদের শক্তিতে জয়ী হয়েছি!”‘
28 “ইস্রায়েলের লোকরা বোকা, তারা বোঝে না|
29 যদি শুধু তারা জ্ঞানবান হত তবে বুঝত| তারা বুঝত তাদের প্রতি কি ঘটতে পারে!
30 একজন লোক কি কখনও 1,000 লোককে তাড়িয়ে দিতে পারে? দুজন কি কখনও 10,000 লোককে পালাতে বাধ্য করতে পারে? এই সব তখনই ঘটে যখন প্রভু তাদের শত্রুর হাতে সমর্পণ করেন! এই সব তখনই ঘটে যদি শৈলতাদের দাসের মত বিক্রয় করে দেন!
31 আমাদের শত্রুদের য়ে ‘শৈল’ তা আমাদের শৈলের মত বলবান নয়! এমন কি আমাদের শত্রুরাও সেটা জানে!
32 তাদের দ্রাক্ষালতা সদোমের দ্রাক্ষালতা হতে এবং ঘমোরার ক্ষেত হতে উত্পন্ন| তাদের দ্রাক্ষা ফল প্রাণনাশক বিষের মত|
33 তাদের দ্রাক্ষারস সাপের বিষের মত|
34 “প্রভু বলেন, ‘আমি সেই শাস্তি সঞ্চয় করে রাখছি| আমি তা আমার ভাণ্ডারে বন্ধ করে রেখেছি!
35 তারা য়ে সব মন্দ কাজ করেছে তার জন্য আমি তাদের শাস্তি দেব| কিন্তু আমি সেই দিনের জন্য শাস্তি সঞ্চয় করে রেখেছি যখন তাদের পা পিছলে যাবে| তাদের কষ্টের সময় সন্নিকট| শীঘ্রই তাদের শাস্তি নেমে আসবে|’
36 “প্রভু তাঁর লোকদের বিচার করবেন| তারা তাঁর দাস এবং প্রভু যখন দেখবেন য়ে ক্রীতদাস এবং স্বাধীন লোকরা শক্তিহীন এবং সহায়হীন হয়েছে তখন তিনি তাদের উপর করুণা প্রদর্শন করবেন|
37 তখন প্রভু বলবেন, ‘তাদের সেই দেবতারা কোথায়? কোথায় সেই ‘শৈল’ যার কাছে আশ্রয়ের জন্য তারা ছুটে গিয়েছিল?
38 সেই দেবতারা তোমাদের বলির চর্বি ভোজন করত এবং পেয নৈবেদ্যর দ্রাক্ষারস পান করত| ঐ সব দেবতারাই উঠে এসে তোমাদের সাহায্য করুক! তারাই তোমাদের রক্ষা করুক!
39 “‘এখন দেখ আমি, কেবল আমিই ঈশ্বর! আর কোন ঈশ্বর নেই! আমিই বধ করি, আমিই জীবন দান করি, আমি আঘাত করি, আমিই সুস্থ করি| আমার হাত থেকে কেউ কাউকে উদ্ধার করতে পারে না!
40 আমি আকাশের দিকে আমার হাত তুলে এই প্রতিজ্ঞা করি, আমার অনন্তজীবন য়েমন নিশ্চিত সেই নিশ্চিতভাবেই এগুলি ঘটবে!
41 আমি প্রতিজ্ঞা করছি, আমি আমার প্রদীপ্ত তরবারি ধারালো করব| তাদের উচিত্‌ শাস্তি দেব| আমি তা দিয়ে শত্রুদের শাস্তি দেব এবং যারা আমায় ঘৃণা করে তাদের প্রতিফল দেব|
42 আমার শত্রুরা হত হবে এবং তাদের বন্দী হিসাবে নিয়ে যাওয়া হবে| আমার তীর তাদের রক্তে রাঙাব| আমার তরবারি তাদের সেনাদের মাথাগুলি কেটে নেবে|’
43 “জাতিগণ, তোমরা ঈশ্বরের লোকদের জন্য আনন্দ কর! কারণ তিনি তাদের সাহায্য করেন| তাঁর দাসদের হত্যাকারীকে তিনি শাস্তি দেন| তিনি তাঁর শত্রুদের উচিত্‌ শাস্তি দেন| আর এই ভাবে তিনি তাঁর দেশ ও প্রজাদের পবিত্র করেন|”
44 তারপর মোশি একে ইস্রায়েলের লোকদের শুনিয়ে শুনিয়ে এই গানের সমস্ত কথাগুলি বললেন| নূনের পুত্র যিহোশূয় মোশির সাথে ছিলেন|
45 মোশি লোকদের এই বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া শেষ করে বললেন,
46 “আমি আজ য়ে সব আদেশ দিলাম তার প্রতি তোমরা অবশ্যই মনোযোগ দেবে এবং সন্তানদেরও শিক্ষা দিও য়েন তারা ব্যবস্থার সমস্ত আজ্ঞা পালন করে|
47 ভেবো না এই সব শিক্ষা গুরুত্বহীন| তারা তোমার জীবন! এইসব শিক্ষা অনুসরণ করলে তোমরা যর্দন নদীর ওপারের দেশে দীর্ঘজীবি হবে - য়ে দেশ তোমরা অধিকার করবে|”
48 সেই একই দিনে প্রভু মোশির সঙ্গে কথা বললেন| তিনি বললেন,
49 “তুমি অবারীম পর্বতে যাও| য়িরীহোর সামনে অবস্থিত মোয়াব দেশের নবো পর্বতে ওঠো| তাহলে ইস্রায়েলের লোকদের বসবাসের জন্য য়ে কনান দেশ আমি তাদের দিচ্ছি, তা তুমি দেখতে পাবে|
50 তুমি সেই পর্বতে মারা যাবে| তোমার ভাই হারোণ, য়ে হোর পর্বতে মারা গিয়েছিল এবং তারপর তার নিজের লোকদের সঙ্গে মিলিত হবার জন্য চলে গিয়েছিল| তুমিও সেইভাবেই পূর্বপুরুষদের সাথে সংগৃহীত হবে|
51 কারণ তোমরা দুজনেই আমার বিরুদ্ধে পাপ করেছিলে| তোমরা কাদেশের কাছে মরীবার জলের ধারে ছিলে, য়েটা সিন মরুভূমিতে রয়েছে, সেখানে ইস্রায়েলের লোকদের সামনে তোমরা আমাকে সম্মান কর নি এবং আমাকে পবিত্র বলে মান্য কর নি|
52 তাই এখন তোমরা সেই দেশ দেখতে পার, যা আমি ইস্রায়েলের লোকদের দিচ্ছি, কিন্তু তোমরা সেই দেশে প্রবেশ করতে পারবে না|”




অধ্যায় 33

1 মৃত্যুর পূর্বে ঈশ্বরের লোক মোশি, ইস্রায়েলের লোকদের এই সব বলে আশীর্বাদ করলেন|
2 “প্রভু সীনয় পর্বত হতে এলেন, সেযীরের গোধুলি বেলায় য়েন আলো উদিত হল| পারণ পর্বত হতে য়েন আলো জ্বলে উঠলো| প্রভু তাঁর 10,000 পবিত্র জনকে তাঁর সঙ্গে নিয়ে এলেন| ঈশ্বরের পরাক্রমী সৈন্যরা তাঁর পাশে ছিল|
3 হ্যাঁ, প্রভু তাঁর লোকদের ভালবাসেন| সমস্ত পবিত্র লোকরা তাঁর হাতে রয়েছে| তারা তাঁর চরণতলে বসে তাঁর শিক্ষাসকল শেখে!
4 মোশি আমাদের বিধি দিলেন| সেই সব শিক্ষা যাকোবের লোকদের জন্য|
5 সেই সময় ইস্রায়েলের লোকরা ও তাদের নেতারা এক সাথে জড়ো হল, আর প্রভু য়িশুরূণের (ইস্রায়েলের) রাজা হলেন!
6 “রূবেণ বেঁচে থাকুক, মারা না যাক| কিন্তু তার পরিবারগোষ্ঠীর লোকসংখ্যা অল্প হোক!”যিহূদার আশীর্বাদ
7 “যিহূদার বিষয়ে মোশি এই কথা বললেন: “যিহূদার নেতা সাহায্যের জন্য প্রার্থনা জানালে প্রভু তার প্রার্থনা শুনুন| তাঁর লোকদের কাছে তাকে নিয়ে আসুন| তাকে শক্তিশালী করে তার শত্রুদের হারাতে সাহায্য করুন|”
8 লেবীর সম্বন্ধে মোশি এই কথাগুলি বললেন:“লেবি তোমার প্রকৃত অনুসরণকারী, উরীম ও তূম্মীম তার সাথে রয়েছে| মঃসাতে তুমি লেবীর পরীক্ষা করেছিলে| মরীবার জলের ধারে তুমি তাদের পরীক্ষা করে প্রমাণ করেছিলে য়ে তারা তোমার|
9 তারা তোমার বিষয়েই বেশী যত্নশীল হে প্রভু, এমনকি নিজেদের পরিবারের থেকেও| তারা তাদের মাতাপিতাকে উপেক্ষা করেছে, নিজের ভাইদেরও স্বীকার করেনি| এমন কি তারা তাদের শিশুদের বিষয়েও মনোযোগ করে নি| কিন্তু তারা তোমার আদেশসকল পালন করেছে| তারা তোমার বন্দোবস্ত অনুসরণ করেছে|
10 তারা যাকোবকে তোমার শাসন শিক্ষা দেবে| তোমার ব্যবস্থা ও আজ্ঞা ইস্রায়েলকে বিধি দেবে| তারা তোমার সামনে ধূপ জ্বালাবে| তোমার বেদীতে তারা হোমবলি উত্সর্গ করবে|
11 প্রভু, লেবীর শক্তিকে আশীর্বাদ কর| তার হাতের কাজ গ্রহণ কর| যারা তাদের আক্রমণ করে তাদের ধ্বংস কর| তার শত্রুদের পরাজিত কর, য়েন শত্রুরা আর কখনও ফিরে আক্রমণ করতে না পারে|”
12 বিন্যামীনের সম্বন্ধে মোশি বললেন: “প্রভু বিন্যামীনকে ভালবাসেন| বিন্যামীন নিরাপদেই তাঁর কাছে থাকবে| প্রভু সবসময় তাকে রক্ষা করেন এবং প্রভু তার দেশে বাস করবেন|
13 য়োষেফের সম্বন্ধে মোশি বললেন: “প্রভু য়োষেফের দেশকে আশীর্বাদ করুন| প্রভু তাদের মাথার উপরের আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষান আর পাযের তলার মাটি থেকে জল দিন|
14 সূর্য় তাদের য়েন ভাল ফল দেয়| প্রত্যেক মাসেই য়েন উত্তম ফল হয়|
15 পুরাতন পর্বত সকল ও গিরিমালাগুলি য়েন উত্তম উত্তম ফল দেয়|
16 পৃথিবী য়েন তার উত্কৃষ্ট বিষয়গুলি য়োষেফকে দেয়| য়োষেফকে তার ভাইদের থেকে আলাদা করা হয়েছিল| তাই জ্বলন্ত ঝোপের প্রভু তাঁর উত্কৃষ্ট বিষয় সকল য়োষেফকে দিন|
17 য়োষেফ শক্তিশালী ষাঁড়ের মত| তার দুই পুত্র ষাঁড়ের দুই শিঙের মত| তারা অন্য জাতির লোকদের তাই দিয়ে আক্রমণ করবে এবং তাদের পৃথিবীর শেষ প্রান্ত পর্য়ন্ত ঠেলে নিয়ে যাবে| হ্যাঁ, সেই শিং দুইটি ইফ্রয়িমের দশ হাজার লোক এবং মনঃশির হাজার লোক|”
18 সবূলূন সম্বন্ধে মোশি বললেন: “সবূলূন, আনন্দিত হও, যখন তুমি বাইরে যাও| ইষাখর, আনন্দিত হও, তোমার বাসের তাঁবুতে|
19 তারা লোকদের পর্বতে ডেকে নিয়ে যাবে| সেখানে তারা যথাযথ বলি উত্সর্গ করবে| তারা সমুদ্র থেকে সম্পদ এবং সমুদ্রতট থেকে গুপ্তধন আহরণ করবে|”
20 গাদ সম্বন্ধে মোশি বললেন: “ঈশ্বরের প্রশংসা হোক যিনি গাদকে এক বিশাল ভুখণ্ড দিলেন! গাদ সিংহের মত, সে শুয়ে পড়ে অপেক্ষা করে| তারপর আক্রমণ করে পশুদের ছিন্ন ভিন্ন করে|
21 সে নিজের জন্য উত্তম অংশ মনোনীত করে রাজার মত নিজের অংশ নেয়| লোকদের নেতারা তার কাছে আসে| প্রভু যা ভাল বলেন সে তাই করে| সে ইস্রায়েলের লোকদের জন্য ন্যায় তাই করে|”
22 দান সম্বন্ধে মোশি বললেন: “দান সিংহ শাবক, সে বাশন থেকে লাফ দেয়|”
23 নপ্তালি সম্বন্ধে মোশি বললেন: “নপ্তালি তুমি অনেক উত্তম বিষয় পাবে| প্রভু সত্য সত্যই তোমায় আশীর্বাদ করবেন| গালীল হ্রদের দেশ তুমিই পাবে|”
24 আশের সম্বন্ধে মোশি বললেন: “পুত্রদের মধ্যে আশেরই সবচেয়ে আশীর্বাদপ্রাপ্ত| সে তার ভাইদের মধ্যে প্রিয হোক, সে তার পা তেলে ধুয়ে নিক|
25 তোমার দরজায লোহার ও তামার তৈরী তালা ঝুলবে| তোমার সমস্ত জীবনে তুমি হবে শক্তিমান|”
26 “হে য়িশুরূণ, ঈশ্বরের মত আর কেউ নেই! ঈশ্বর তোমাকে সাহায্য করতে তাঁর গৌরবে মেঘে আরোহণ করে আকাশের মধ্য দিয়ে আসেন!
27 ঈশ্বর চিরজীবি| তিনিই তোমার নিরাপদ স্থান| ঈশ্বরের পরাক্রম চিরকাল স্থায়ী! তিনিই তোমাকে রক্ষা করেন| ঈশ্বর তোমার শত্রুকে তোমার দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করবেন| তিনি বললেন, ‘শত্রুকে ধ্বংস করো!’
28 সুতরাং ইস্রায়েল নিরাপদে বাস করবে, যাকোবের কূপ তাদেরই অধিকারে| তারা শস্যের ও দ্রাক্ষারসের দেশ পাবে| আর সেই দেশ পাবে প্রচুর বৃষ্টি|
29 ইস্রায়েল, তুমি আশীর্বাদপ্রাপ্ত, আর কোন জাতি তোমার মত নয়| প্রভু তোমার পরিত্রাণ সাধন করলেন| প্রভু ঢালের মত তোমাকে রক্ষা করেন| প্রভু শক্তিশালী তরবারির মত| তোমার শত্রুরা তোমায ভয় পাবে এবং তুমি তাদের পবিত্র স্থানগুলি দখল করবে!”




অধ্যায় 34

1 মোশি নবো পর্বতে উঠলেন| তিনি মোয়াবের যর্দন উপত্যকা থেকে পিস্গার চূড়ায় উঠলেন| এটা ছিল য়র্দ্দনের ধারে য়িরীহোর অপর পারে| প্রভু মোশিকে গিলিয়দ থেকে দান পর্য়ন্ত সমস্ত দেশ দেখালেন|
2 প্রভু তাকে নপ্তালি, ইফ্রয়িম ও মনঃশির সমস্ত দেশ দেখালেন| তিনি ভূমধ্যসাগর পর্য়ন্ত যিহূদার সমস্ত দেশ দেখালেন|
3 প্রভু মোশিকে নেগেভ স্থানটি এবং সোর থেকে য়ে উপত্যকা খেজুর গাছের শহর য়িরীহো চলে গেছে তাও দেখালেন|
4 প্রভু মোশিকে বললেন, “এই সেই দেশ, যার বিষয়ে আমি অব্রাহাম, ইসহাক ও যাকোবের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম| আমি বলেছিলাম, ‘এই দেশ আমি তোমার উত্তরপুরুষদের দেব| আমি তোমায় সেই দেশ দেখতে দিয়েছি, কিন্তু তুমি সেখানে য়েতে পারবে না|”
5 তারপর প্রভুর দাস মোশি মোয়াব দেশে মারা গেলেন| এই রকমই য়ে ঘটবে তা প্রভু মোশিকে জানিয়েছিলেন|
6 প্রভু মোশিকে মোয়াব দেশে কবর দিলেন| এটি ছিল বৈত্‌পিযোরের সামনের উপত্যকা| কিন্তু আজও লোক জানে না মোশির কবরটা ঠিক কোথায় রয়েছে|
7 মারা যাবার সময় মোশির বযস হয়েছিল 120 বছর| তিনি আগেকার মতই শক্ত সমর্থ ছিলেন এবং তার চোখও ক্ষীণ হয়ে যায় নি|
8 ইস্রায়েলের লোকরা 30 দিন ধরে মোশির জন্য শোক করেছিলেন| সেই শোকের সময় কেটে না যাওয়া পর্য়ন্ত তারা মোয়াব দেশের যর্দন উপত্যকায কাটালেন|
9 মোশি যিহোশূয়োর উপরে তাঁর হাত রেখে তাকে নতুন নেতা হিসাবে মনোনীত করেছিলেন| আর তখন নূনের পুত্র যিহোশূয় প্রজ্ঞার আত্মায পূর্ণ হয়েছিলেন| তাই ইস্রায়েলের লোকরা যিহোশূয়োর কথার বাধ্য হতে লাগল| প্রভু মোশিকে যা আজ্ঞা করেছিলেন তারা সেই মত কাজ করতে থাকল|
10 মোশির মত ইস্রায়েলে আর কোন ভাববাদী ছিল না| প্রভু মোশির সামনাসামনি আলাপ করতেন|
11 প্রভু মোশিকে মিশর দেশে মহা পরাক্রমের অলৌকিক কাজ করতে পাঠিয়েছিলেন| ফরৌণ, তার উচ্চপদস্থ কর্মচারী ও মিশরের সমস্ত লোক সেই সব অলৌকিক কাজ দেখেছিল|
12 আর কোন ভাববাদী মোশির মত এত পরাক্রমের ও আশ্চর্য় কাজ করেন নি| ইস্রায়েলের সমস্ত লোক তার মহান কাজগুলি দেখেছিল|