রুথ

1 2 3 4


অধ্যায় 1

1 বহুকাল আগে বিচারকদেররাজত্ব কালে একবার বেশ খারাপ সময় এসেছিল| সেই সময় দেশে খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছিল| ইলীমেলক নামে এক জন লোক যিহূদার বৈত্‌লেহম থেকে চলে গিয়েছিল| সে স্ত্রী ও দুই পুত্রকে নিয়ে পাহাড়ি দেশ মোয়াবে চলে গিয়েছিল|
2 তার স্ত্রীর নাম ছিল নয়মী আর দুই পুত্রের নাম মহলোন ও কিলিয়োন| এরা সব বৈত্‌লেহমের ইফ্রাথীয় পরিবারের| এরা পাহাড়ি দেশ মোয়াবে বসবাস করতে লাগল|
3 তারপর এক দিন নয়মীর স্বামী ইলীমেলক মারা গেল| নয়মী আর তার দুই পুত্র থেকে গেল|
4 উভয় পুত্ররই মোয়াব দেশের কন্যাদের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল| এক জনের স্ত্রীর নাম অর্পা, আরেকজনের নাম রূত্‌| তারা দশ বছর মোয়াবে বাস করেছিল|
5 মহলোন এবং কিলিয়োন মারা গেল| স্বামী আর পুত্রদের হারিয়ে নয়মী একাই পড়ে রইল|
6 পাহাড়ি দেশ মোয়াবে থাকার সময় নয়মী শুনল প্রভু তাঁর লোকদের সাহায্য করেছিলেন| তিনি যিহূদার লোকদের খাদ্য দিয়েছিলেন শুনে নয়মী ঠিক করলো, মোয়াব ছেড়ে সে দেশে ফিরে যাবে| তার পুত্রবধূরাও তার সঙ্গে য়েতে চাইল|
7 তারা সে দেশ ছেড়ে পায়ে হেঁটে যিহূদায় ফিরে আসার জন্য রওনা হল|
8 নয়মী তার পুত্রবধূদের বলল, “তোমরা দুজনেই দেশে মায়ের কাছে চলে যাও| আমার সঙ্গে আর আমার পুত্রদের সঙ্গে তোমরা খুবই ভাল ব্যবহার করে এসেছো| তাই আমি প্রভুর কাছে প্রার্থনা করি তিনিও য়েন তোমাদের প্রতি সদয় হন|
9 আমি আরও প্রার্থনা করি, তিনি য়েন তোমাদের স্বামী আর সুন্দর একটি সুখের ঘরের ব্যবস্থা করে দেন|” এই বলে নয়মী তাদের চুম্বন করলো| তারা কাঁদতে লাগল|
10 পুত্রবধূরা বলল, “কিন্তু আমরা আপনার সঙ্গে আপনার পরিবারেই য়েতে চাই|”
11 নয়মী বলল, “না, মেয়েরা, তোমরা তোমাদের বাড়ীতেই ফিরে যাও| আমার সঙ্গে গিয়ে কি হবে?” আমি তো তোমাদের কোনো উপকার করতে পারব না| আমার কোনো পুত্র নেই য়ে তোমাদের বিয়ে করবে|
12 যাও, ঘরে ফিরে যাও| আমি আর এই বৃদ্ধ বয়সে বর জোটাতে পারবো না| এমনকি নতুন করে বিয়ে করার কথা ভাবলেও আমি তোমাদের উপকার করতে পারব না| ধরো, রাত্রেই আমি গর্ভবতী হলাম, ধরো আমার দু-দুটো পুত্রও হয়ে গেল, কিন্তু তাতেও কোনো লাভ হবে না|
13 যতদিন না তারা বিয়ের য়োগ্য হচ্ছে ততদিন তোমাদের অপেক্ষা করতে হবে| কিন্তু আমি তোমাদের এত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে বলতে পারি না| সত্যিই এসব ভাবলে মনে কষ্ট হয| এমনিতেই আমি যথেষ্ট দুঃখিত| কারণ প্রভু আমার বিরুদ্ধে অনেক কিছু করেছেন|”
14 এই কথা শুনে তারা আবার কান্নাকাটি শুরু করল| তারপর এক সময় অর্পা নয়মীকে চুম্বন করে বিদায় নিল| কিন্তু রূত্‌ তাকে জড়িয়ে ধরেই থেকে গেল|
15 নয়মী বলল, “তোমার বড়জা নিজের লোকের কাছে এবং তার নিজের দেবতাদের কাছে চলে গেল|” তোমারও তাই করা উচিত্‌|”
16 রূত্‌ বলল, “আমাকে তুমি তাড়িয়ে দিয়ো না মা! আমাকে দেশে ফিরে য়েতে তুমি জোর কর না| আমি তোমার কাছেই থাকবো| তুমি যেখানে যাবে, আমিও সেখানে যাব| তুমি যেখানে শোবে, আমি সেখানেই শোব| যারা তোমার নিজের লোক, তারা আমারও নিজের লোক| তোমার ঈশ্বর হবেন আমারও ঈশ্বর |
17 তোমার মৃত্যু যেখানে, আমারও মৃত্যু সেখানে| সেখানেই হবে আমার কবর| এই আমার প্রতিশ্রুতি| যদি আমি আমার প্রতিশ্রুতি না রাখি, প্রভু আমায শাস্তি দেবেন| একমাত্র মৃত্যু ছাড়া কেউ আমাকে তোমার কাছ থেকে সরিয়ে নিতে পারবে না|”
18 নয়মী বুঝলো রূত্‌ ভীষণ ভাবে তার সঙ্গে য়েতে ইচ্ছুক| সে আর রূতকে কিছু বলল না|
19 নয়মী আর রূত্‌ বেরিয়ে পড়ল| য়েতে য়েতে তারা এসে পড়ল বৈত্‌লেহমে| বৈত্‌লেহমে পা দিতেই সেখানকার লোকরা তাদের দেখে উত্তেজিত হয়ে উঠলো| তারা বলল, “এই কি নয়মী?”
20 নয়মী তাদের বলল, “তোমরা আমাকে নয়মী বলে ডেকো না| আমাকে তোমরা মারা বলেই ডাকো| এই নামেই তোমরা আমাকে ডাকবে, কারণ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমার জীবন দুঃখে ভরে দিয়েছেন|
21 যখন চলে গিয়েছিলাম তখন যা চেয়েছি সবই পেয়েছিলাম| কিন্তু আজ প্রভু আমার জন্যে নিজের দেশ ছাড়া আর কিছুই দেন নি| প্রভু আমায শুধু দুঃখই দিয়েছেন| তাই কেন তোমরা আমাকে ‘সুখী’ বলে ডাকবে? সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমায় অশেষ কষ্ট দিয়েছেন|”
22 এই ভাবে নয়মী ও তার মোয়াবীয়া পুত্রবধূ রূত্‌ পাহাড়ি দেশ মোয়াব থেকে ফিরে এল| এই দুজন নারী যখন বৈত্‌লেহমে এল তখন সেখানে বার্লি শস্য তোলার পালা শুরু হয়েছে|




অধ্যায় 2

1 বৈত্‌লেহমে এক জন ধনী বাস করত| তার নাম বোয়স| ইলীমেলক পরিবারের অন্তর্গত নয়মীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে বোয়স ছিল এক জন|
2 এক দিন রূত্‌ নয়মীকে বলল, “আমি ভাবছি, মাঠে মাঠে একটু ঘুরে বেড়াই| এমনি করেই হয়তো এক দিন এমন কাউকে পাব য়ে আমায় দয়া করবে, য়ে আমায় মাঠের পড়ে থাকা শস্যের দানা তুলে নিতে বলবে|”
3 নয়মী বলল, “আচ্ছা বাছা, যাও|”রূত্‌ মাঠের দিকে চলে গেল| যারা সেখানে শস্য কাটছে তাদের সঙ্গে সঙ্গে ঘুরল| ক্ষেতের পড়ে থাকা শস্যগুলো সে সংগ্রহ করল|ঘটনাএমে এরকম একটা মাঠের মালিক ছিল বোয়স| বোয়স ছিল ইলীমেলক পরিবারের এক জন|
4 এক দিন বৈত্‌লেহম থেকে বোয়স তার জমিতে চলে এলো| চাষীদের সে আদর ভালবাসা জানিয়ে বলল, “প্রভু তোমাদের সহায় হোন!”চাষীরাও বলল, “প্রভু আপনার মঙ্গল করুন!”
5 বোযসের একজন ভৃত্য চাষীদের কাজের তদারকি করছিল| রূতকে দেখতে পেয়ে বোয়স ভৃত্যকে জিজ্ঞাসা করল, “এ কাদের মেয়ে?”
6 ভৃত্যটি বলল, “মেয়েটি একজন মোয়াবী| সে নয়মীর সঙ্গে মোয়াব থেকে এসেছে|”
7 আজ খুব ভোরবেলা সে আমার কাছে আসে অনুমতি চাইতে যাতে চাষীদের পিছু পিছু ঘুরে মাঠ থেকে সে শস্য কুড়িয়ে নিতে পারে| সেই সকাল থেকে সে এই মাঠে রযেছে| ঐ তো ওখানে তার বাড়ী|”
8 বোয়স তখন রূতকে বলল, “শোনো মেয়ে, তুমি এই ক্ষেতেই থেকে যাও এবং তোমার জন্য শস্য কুড়িযে নিও| অন্য কোথাও আর তোমাকে য়েতে হবে না| আমার ক্ষেতের দাসীদের সঙ্গে সঙ্গে তুমি ঘুরবে|
9 কোন্ কোন্ জমিতে তারা যাচ্ছে দেখবে, তাদের সঙ্গে থাকবে| যুবকদের আমি সাবধান করে দিচ্ছি, তারা য়েন তোমায় বিরক্ত না করে| পিপাসা পেলে আমার লোকরা য়ে মগ ব্যবহার করে তুমিও তা ব্যবহার করতে পারো| বুঝলে?”
10 রূত্‌ মাথা নীচু করে শ্রদ্ধা জানাল| সে বোয়সকে বলল, “আমার মতো এক জন সামান্য মেয়েকেও আপনি লক্ষ্য করেছেন, এতে আমি খুবই অবাক হয়ে গেছি! যদিও আমি একজন অপরিচিত কিন্তু তবুও আপনি আমার প্রতি কত সদয়|”
11 বোয়স উত্তর দিল, “তোমার শাশুড়ি নয়মীকে তুমি কি রকম সেবা করেছ আমি সবই জানি| আমি জানি তোমার স্বামী মারা গেলেও তুমি তাকে কত সাহায্য করেছ| আর আমি এও জানি মাতাপিতা, নিজের দেশ সব কিছু ছেড়ে তুমি এখানে চলে এসেছ| এদেশের কাউকেই তুমি চেন না, তা সত্ত্বেও নয়মীর সঙ্গে তুমি এদেশে এসেছ|
12 তোমার সত্‌ কাজের জন্য প্রভু তোমায় পুরস্কার দেবেন| তুমি যা কিছু করেছ তার জন্য প্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর তোমাকে সম্পূর্ণ ভাবে পুরস্কৃত করবেন| তুমি সুরক্ষার জন্য তাঁর কাছে এসেছো, সুতরাং তিনি তোমাকে রক্ষা করবেন|”
13 রূত্‌ বলল, “আপনি আমাকে খুবই দয়া করেছেন| আমি তো এক জন দাসী মাত্র, তাও আপনার দাসীদের মধ্যে কারও সমান নই| তবুও আপনি কত দরদের কথা বলেছেন, আমায সান্ত্বনা দিয়েছেন|”
14 দুপুরের খাওয়ার সময় বোয়স রূতকে বলল, “এদিকে এসো! আমাদের রুটি থেকে তুমিও কয়েকটা খাও| সিরকায় তোমার রুটি ডুবিয়ে নাও|”রূত্‌ চাষীদের পাশে বসে গেল| বোয়স তাকে সেঁকা শস্য দিল| রূত্‌ পেট ভরে খেল| কিছু খাবার পড়ে রইলো|
15 খাবার পর রূত্‌ আবার কাজে মেতে উঠলো|বোয়স ভৃত্যদের বলল, “শস্যের গাদার পাশ থেকেও রূতকে দানা কুড়িয়ে নিতে দিও| ওকে বাধা দিও না|
16 কিছু দানা ভরা শীষ তার জন্যে ফেলে দিয়ে তার কাজটা বরং আরও সহজ করে দিও| হ্যাঁ তাকে শস্য কুড়োতে দিও, বাধা দিও না|”
17 সন্ধ্যে পর্য়ন্ত রূত্‌ মাঠে কাজকর্ম করত| কাজের পর ভুষি থেকে শস্যদানা বেছে আলাদা করে রাখত| সে প্রায় ১/২ বুশেল বার্লি পেত|
18 সে ঐ শস্যগুলি নিয়ে শহরে তার শাশুড়ীর কাছে য়েত| তাছাড়া তাকে পাতের বাড়তি খাবারটাবারও খেতে দিত|
19 শাশুড়ী তাকে জিজ্ঞাসা করল, “এই সব শস্য কোত্থেকে পেলে? তুমি কোথায় কাজ করো? তোমার প্রতি য়ে সদয় হয়েছিল তার কল্যাণ হোক|”তখন রূত্‌ কার কাছে কাজ করছে বলল| সে বলল, “যার কাছে কাজ করছি তার নাম বোয়স|”নয়মী পাত্রবধূকে বলল, “প্রভু তার মঙ্গল করুন| কি জীবিত, কি মৃত সকলের প্রতিই তাঁর দয়ার শেষ নেই|”
20 তারপর সে রূতকে বলল, “বোয়স আমাদের আত্মীয়দের এক জন| বোয়স আমাদের রক্ষাকর্তা|”
21 রূত্‌ বলল, “বোয়স আমাকে ফিরে আসতে বলেছে| বলেছে কাজ করে য়েতে| বোয়স বলেছে ফসল কাটার কাজ শেষ হওয়া অবধি আমি য়েন তার ভৃত্যদের সঙ্গে ভাল ভাবে কাজকর্ম করি|”
22 নয়মী উত্তর দিল, “বোযসের ভৃত্য দাসীদের সঙ্গে কাজ করাটা তোমার পক্ষে ভাল| অন্য কোনো ক্ষেতে কাজ করলে হযতো কোনো ছেলে তোমার গায়ে হাত দিত|”
23 অতএব রূত্‌ বোয়সের দাসীদের বার্লি এবং গম কাটার সময় পর্য়ন্ত থেকে গেল| শাশুড়ীর সঙ্গে রূত্‌ থেকে গেল|




অধ্যায় 3

1 এক দিন নয়মী রূতকে বলল, “ওগো মেয়ে, হয়তো তোমার জন্য আমার একটি বর এবং একটি সুন্দর বাড়ী খোঁজা উচিত্‌| তোমার ভালই হবে|”
2 হয়তো বোয়সই উপযুক্ত পাত্র| সে আমাদের খুব কাছের লোক| তুমি তার দাসীদের সঙ্গে কাজ করো| আজ রাত্রে বোয়স শস্য মাড়াই করার জায়গায য়ব মাড়াই করবে|
3 যাও গা ধুয়ে সাজগোজ করো| বেশ ভাল জামাকাপড় পরো| তারপর তুমি যেখানে শস্য ঝাড়াই হয় সেখানে অবশ্যই যাবে| কিন্তু বোযসের রাতের খাওয়া না হওয়া পর্য়ন্ত সে য়েন তোমায় দেখতে না পায়|
4 খাওয়ার পর সে বিশ্রাম করবে| দেখবে কোথায় সে শোয়| তারপর সেখানে গিয়ে তার পা থেকে ঢাকাটা তুলে সেখানে শুয়ে পড়বে| সে তোমাকে বলে দেবে বিয়ের ব্যাপারে তুমি কি করবে|”
5 রূত্‌ বলল, “তাই করব|”
6 শস্য মাড়াইয়ের জায়গায় রূত্‌ চলে গেল| শাশুড়ী যা বলেছে সেই মতো সবই করল|
7 খাওয়া-দাওয়ার পর বোয়স বেশ খুশি হয়ে শস্যের গাদার পাশে শুতে গেল| তারপর রূত্‌ চুপিচুপি তার কাছে গিয়ে পায়ের চাদরটা তুলে সেখানে শুয়ে পড়লো|
8 পরে, মধ্যরাত্রে ঘুমের মধ্যে বোয়স পাশ ফিরতে গেল আর তার ঘুম ভেঙ্গে গেল| এবং তার পায়ের কাছে শুয়ে থাকা এং জন নারীকে দেখে খুব আশ্চর্য় হয়ে গেল|
9 বোয়স জিজ্ঞাসা করল, “কে তুমি?”নারী বলল, “আমি রূত্‌, আপনার দাসী| আপনার চাদর আমার গায়ে বিছিয়ে দিন| আপনি আমার রক্ষাকর্তা|”
10 বোয়স বলল, “প্রভু তোমার মঙ্গল করুন| আমার ওপর তুমি যথেষ্ট দয়া করেছ| আগে নয়মীকে তুমি যা দয়া করতে আমাকে তার চেয়ে বেশি দয়া করছ| তুমি এক জন গরীব কিংবা ধনী যুবককে বিয়ে করতে পারতে| কিন্তু তুমি তা কর নি|
11 শোনো যুবতী, ভয় পেও না| তুমি যা চাইছ সে রকমই আমি করব| আমার শহরের সকলেই জানে তুমি খুব ভাল মেয়ে|
12 এটাও সত্যি য়ে, আমি তোমার এক জন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়| কিন্তু আমার চেয়েও ঘনিষ্ঠ লোক তোমার আছে|
13 আজ রাতটা এখানে থাকো| সকাল হলে দেখব সেই লোকটি তোমাকে সাহায্য করতে পারে কি না| যদি করে, খুবই ভাল| আর যদি না করে তাহলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমিই তোমাকে বিয়ে করবো| ইলীমেলকের জমি-জায়গা ছাড়িয়ে নিয়ে তোমার হাতে তুলে দেব| সকাল অবধি তুমি এঃানে থেকে যাও|”
14 সুতরাং সকাল হওয়া পর্য়ন্ত বোযসের পায়ের কাছে রূত্‌ শুয়ে থাকল| অন্ধকার থাকতে থাকতেই সে যাবার জন্য উঠে পড়লো যাতে লোকে তাকে চিনতে না পারে|বোয়স তাকে বলল, “কাল রাত্রে য়ে তুমি আমার কাছে এসেছিলে সে কথা আমরা গোপন রাখবো|”
15 তারপর বোয়স বলল, “তোমার শালটা আমায় দাও তো| ওষ্টাকে খুলে ধরো|”রূত্‌ তাই করলো| বোয়স নয়মীকে দেবে বলে আন্দাজে এং বুশেল বার্লি ওজন করল| তারপর রূতের শালে বার্লি মুড়ে তার পিঠে চাপিয়ে দিলো| বোয়স শহরে বেরিয়ে গেল|
16 রূত্‌ তার শাশুড়ী নয়মীর বাড়ী চলে গেল| নয়মী দরজার কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করল, “কে ওখানে?”রূত্‌ ভেতরে গিয়ে বোয়স কি কি করেছে সব নয়মীকে বলল|
17 সে বলল, “বোয়স তোমার জন্যে এই বার্লি উপহার দিয়েছে| সে বলেছে উপহার না নিয়ে য়েন তোমার কাছে না আসি|”
18 নয়মী বলল, “বাছা, ধৈর্য়্য় ধরো| বোয়স যা করবে বলে মনে করে তা না করা পর্য়ন্ত ওর মনে শান্তি নেই| দিন ফুরোবার আগে কি ঘটে আমরা জানতে পারব|”




অধ্যায় 4

1 শহরের ফটকের কাছে যেখানে লোকরা সব জড়ো হয়েছে সেখানে বোয়স গেল| সেখানে সে বসে রইল যতক্ষণ না সেই ঘনিষ্ঠ আত্মীয়টি আসে| এর কথাই সে রূতকে বলেছিল| তারপর এক সময় সেই লোকটি তার সামনে দিয়ে চলে যাচ্ছিল| বোয়স তাকে ডাকল, “বন্ধু এই য়ে শোনো, এখানে বসো!”
2 তারপর বোয়স কয়েক জন সাথী জোগাড় করল| শহরের দশ জন প্রবীণ লোককে সে ডাকল| তাদের বলল, “বসো!” তারা বসল|
3 তারপর বোয়স সেই ঘনিষ্ঠ আত্মীয়টিকে বলল, “পাহাড়ি দেশ মোয়াব থেকে নয়মী ফিরে এসেছে| আমাদের আত্মীয় ইলীমেলকের জমি সে বিক্রী করছে|
4 এই শহরের লোকদের ও প্রবীণ ব্যক্তিদের সামনে আমি তোমাকে এই কথা বলছি| যদি তুমি সেই জমি কিনে নিতে চাও, কেনো| আর যদি জমিটা ছাড়িযে নিতে না চাও, তাও বলো| তুমি না পারলে আমিই ছাড়িয়ে নেব|”
5 তখন বোয়স আরও বলল, “নয়মীর জমি কিনে নিলে তুমি মোয়াবীয়া বিধ্বা রূতকেও পেয়ে যাবে| যদি মোয়াবীয়া রূতের সন্তান হয় সেই হবে জমির মালিক| এই ভাবে জমিটা ওদের পরিবারেই থেকে যাবে|”
6 আত্মীয়টি বলল, “আমি ঐ জমি কিনবো না| ওটা তো আমারই হওয়ার কথা| কিনলে আমার নিজের জমিই খোয়াব| ও তুমিই কেনো|”
7 (বহুকাল আগে ইস্রায়েলে কেউ কোনো সম্পত্তি কিনলে বা ছাড়িয়ে নিলে একজন লোক তার জুতো খুলে খদ্দেরকে দিয়ে দিত| এটাই ছিল বেচা-কেনার প্রমাণ|)
8 সেই মতো ঘনিষ্ঠ আত্মীয়টি বলল, “জমি তুমি কিনে নাও|” তারপর সে তার জুতো খুলে বোয়সকে দিল|
9 তখন বোয়স সমবেত লোকদের এবং প্রবীণ ব্যক্তিদের বলল, “তোমরা সকলে সাক্ষী রইলে য়ে আমি ইলীমেলক, কিলিযোন এবং মহলোনের এই সমস্ত জমিজমা নয়মীর কাছ থেকে কিনে নিলাম|
10 সেইসঙ্গে রূতকেও আমার স্ত্রী হিসেবে কিনে নিলাম| এর ফলে মৃত স্বামীর সব সম্পত্তির অধিকার হবে তারই পরিবারের লোকরা| এভাবেই তার নাম তার জমির ও পরিবার থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে না| তোমরা আজ সকলেই সাক্ষী থাকলে|”
11 সকলেই সাক্ষী থেকে গেল| তারা বলল,ইস্রায়েলের গৃহ যারা তৈরীকরেছিল সেই রাহেল এবং লেয়ার মত করে প্রভু য়েন গড়ে তোলেন এই নারীকে য়ে তোমার বাড়ীতে আসছে| তুমি ইফ্রাথাতে শক্তিশালী হও| তুমি বৈত্‌লেহমেও বিখ্যাত হও|
12 তামর যিহূদার পুত্র পেরসকে জন্ম দিয়েছিল এবং তার পরিবার মহান হয়েছিল| প্রভু য়েন তেমনি করেই তোমাকেও রূতের গর্ভজাত বহু সন্তান দেন| এবং তোমার পরিবারও পেরসের মতোই মহান হয়ে ওঠে|
13 বোয়স রূতকে বিয়ে করলো| প্রভুর আশীর্বাদে রূত্‌ গর্ভবতী হল| সে একটি পুত্রের জন্ম দিল|
14 শহরের রমনীরা নয়মীকে বলল,প্রশংসা করো প্রভুকে যিনি তোমাকে উপহার হিসেবে এই মহান পুত্র দিলেন| সে ইস্রায়েলে বিখ্যাত হবে|
15 এই তোমাকে পুনর্জীবিত করবে এবং তোমার বৃদ্ধ বয়সে দেখাশোনা করবে| তোমার পুত্রবধূর সুবাদেই তাকে পেলে| তোমারই জন্য সে এই ছেলেকে জন্ম দিয়েছিল| সে তোমায় ভালবাসে এবং সে তোমায় সাতটি ছেলের চেয়ে ঢ়ের বেশি ভালবাসে|”
16 নয়মী ছেলেকে কোলে তুলে নিলো এবং তাকে আদর-যত্ন করল|
17 পাড়া প্রতিবেশীরা তার একটা নাম দিল| এই স্ত্রীলোকরা বলল, “এখন নয়মীর একটি পুত্র আছে!” তারা পুত্রটির নাম রাখল ওবেদ| ওবেদের পুত্রের নাম যিশয়| যিশয়ের পুত্রের নাম দায়ূদ|রূত্‌ ও বোয়সের পরিবার
18 এই হচ্ছে পেরসের পরিবারের বংশপরিচয়:পেরসের পুত্র হিষ্রোণ|
19 হিষ্রোণের পুত্র রাম| রামের পুত্র অম্মীনাদব|
20 অম্মীনাদবের পুত্র নহশোন| নহশোনের পুত্র সল্মোন|
21 সল্মোনের পুত্র বোয়স| বোয়সের পুত্র ওবেদ|
22 ওবেদের পুত্র যিশয়| যিশয়ের পুত্র দায়ূদ|