যোব

1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42


অধ্যায় 1

1 ঊষ দেশে ইয়োব নামে এক জন লোক বাস করতেন| ইয়োব একজন সত্‌ ও অনিন্দনীয় মানুষ ছিলেন| ইয়োব ঈশ্বরের উপাসনা করতেন এবং মন্দ কাজ করা থেকে বিরত থাকতেন|
2 ইয়োবের সাতটি ছেলে এবং তিনটি মেয়ে ছিল|
3 ইয়োবের 7,000টি মেষ, 3,000টি উট, 500 জোড়া বলদ, 500 স্ত্রী গাধা এবং অনেক দাসদাসী ছিল| ইয়োব ছিলেন পূর্বদেশের সব চেয়ে ধনী লোক|
4 তাদের বাড়ীতে তাঁর পুত্ররা পালা করে ভোজ সভার আয়োজন করত| এবং তারা তাদের বোনদের নিমন্ত্রণ করতো|
5 তাঁর পুত্রদের ভোজসভা শেষ হয়ে গেলে ইয়োব প্রত্যূষে ঘুম থেকে উঠতেন এবং তাঁর সন্তানদের প্রত্যেকের জন্য একটি করে হোমবলি উত্সর্গ করতেন| তিনি ভেবেছিলেন, “হয়তো আমার সন্তানরা মনে মনে ঈশ্বরকে অভিশাপ দিয়ে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে কোন পাপ করেছে|” ইয়োব বরাবরই এই কাজ করেছেন যাতে তাঁর সন্তানদের পাপ ক্ষমা করা হয়|
6 তারপর সেই দিনটি এল য়েদিন দেবদূতেরাপ্রভুর সঙ্গে দেখা করতে এলেন| শয়তানও দেবদূতদের সঙ্গে এসেছিল|
7 প্রভু তখন শয়তানকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কোথায় ছিলে?” শয়তান প্রভুকে উত্তর দিল, “আমি পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম|”
8 তারপর প্রভু শয়তানকে বললেন, “তুমি কি আমার দাস ইয়োবকে দেখেছো? পৃথিবীতে ইয়োবের মতো আর কোন লোকই নেই| ইয়োব এক জন সত্‌ এবং অনিন্দনীয় মানুষ| সে ঈশ্বরের উপাসনা করে এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকে|”
9 শয়তান উত্তর দিল, “নিশ্চয়! কিন্তু ইয়োব য়ে ঈশ্বরের উপাসনা করে তার য়থেষ্ট কারণ রযেছে!
10 আপনি তাকে, তার পরিবারকে এবং তার যা কিছু আছে সব কিছুকে সর্বদাই রক্ষা করেন| সে যা কিছু করে সব কিছুতেই আপনি তাকে সফলতা দেন| তার গবাদি পশুর দল ও মেষের পাল দেশে এমশঃ বেড়েই চলেছে|
11 কিন্তু তার যা কিছু রযেছে তা যদি আপনি ধ্বংস করে দেন আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, সে আপনার মুখের ওপরে আপনাকে অভিশাপ দেবে|”
12 প্রভু শয়তানকে বললেন, “ঠিক আছে, ইয়োবের যা কিছু আছে তা নিয়ে তুমি যা খুশী তাই কর| কিন্তু তার দেহে কোন আঘাত করো না|”তারপর শয়তান প্রভুর কাছ থেকে চলে গেল|
13 এক দিন ইয়োবের ছেলেমেয়েরা তাদের সব থেকে বড় দাদার বাড়ীতে দ্রাক্ষারস পান ও নৈশ আহার করছিল|
14 তখন এক জন বার্তাবাহক এসে ইয়োবকে সংবাদ দিল, “বলদগুলো জমিতে হাল দিচ্ছিল এবং স্ত্রী গাধাগুলো কাছাকাছি চরে ঘাস খাচ্ছিল, তখন
15 শিবাযীযেরা আমাদের আক্রমণ করে পশুদের ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং অন্য ভৃত্যদের তরবারি দিয়ে হত্যা করে| এক মাত্র আমিই পালাতে পেরেছি| তাই আমি আপনাকে সংবাদটা দিতে এসেছি!”
16 যখন সেই বার্তাবাহক কথা বলছিল তখনই আরও এক জন বার্তাবাহক ইয়োবের কাছে এলো| দ্বিতীয় বার্তাবাহক ইয়োবকে বলল, “আকাশ থেকে বাজ পড়ে আপনার মেষ এবং ভৃত্যরা সব পুড়ে গিয়েছে| এক মাত্র আমিই রক্ষা পেয়েছি| তাই আমি আপনাকে সংবাদটা দিতে এসেছি!”
17 যখন সেই বার্তাবাহক কথা বলছিল তখন আরো এক জন বার্তাবাহক এলো| তৃতীয় বার্তাবাহক বলল, “কল্দীযরা তিন দল সৈন্যে ভাগ হয়েছিল| ওরা আমাদের আক্রমণ করে উটগুলিকে নিয়ে গিয়েছে! ওরা ভৃত্যদের তরবারি দিয়ে হত্যা করেছে| এক মাত্র আমিই রক্ষা পেয়েছি| তাই আমি আপনাকে সংবাদটা দিতে এসেছি!”
18 যখন তৃতীয় বার্তাবাহক কথা বলছিল তখন আরও এক জন বার্তাবাহক এলো| চতুর্থ বার্তাবাহক বলল, “আপনার ছেলেমেয়েরা তাদের বড় দাদার বাড়ীতে আহার করছিল ও দ্রাক্ষারস পান করছিল|
19 তখন মরুভূমি থেকে হঠাত্‌ই একটা ঝড় এসে বাড়ীটাকে ভেঙে দেয়| বাড়ীটা অল্পবয়সী লোকদের ওপরে ভেঙে পড়ে এবং তারা মারা যায়| এক মাত্র আমিই রক্ষা পেয়েছি| তাই আমি আপনাকে সংবাদটা দিতে এসেছি!”
20 যখন ইয়োব এইসব শুনলেন, তখন তিনি তাঁর বস্ত্র ছিঁড়ে ফেললেন এবং মাথা কামিযে ফেললেন| এভাবেই তিনি তাঁর শোক প্রকাশ করলেন| তারপর ইয়োব মাটিতে লুটিযে পড়লেন এবং ঈশ্বরের সামনে নত হলেন|
21 তিনি বললেন:“যখন আমি জন্মেছিলাম আমি নগ্ন ছিলাম, যখন আমি মারা যাবো তখনও আমি নগ্ন থাকব| প্রভু দেন এবং প্রভুই নিয়ে নেন| প্রভুর নামের প্রশংসা করো!”
22 এ সব কিছুই ঘটলো, কিন্তু ইয়োব কোন পাপ করেননি| ইয়োব একথা বলেননি য়ে ঈশ্বর কোন ভুল করেছেন|




অধ্যায় 2

1 আর একদিন দেবদূতরা প্রভুর সঙ্গে দেখা করতে এলেন| শয়তানও তাদের সঙ্গে প্রভুর কাছে দেখা করতে এলো|
2 প্রভু শয়তানকে বললেন, “তুমি কোথায় ছিলে?”শয়তান প্রভুকে উত্তর দিলো, “আমি পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম এবং এদিক-ওদিক যাচ্ছিলাম|”
3 তখন প্রভু শয়তানকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কি আমার দাস ইয়োবকে দেখেছো? পৃথিবীতে ইয়োবের মতো আর কোন লোক নেই| ইয়োব এক জন সত্‌ এবং অনিন্দনীয মানুষ| সে এখনও তার সততাকে ধরে আছে যদিও তুমি সম্পূর্ণ বিনা কারণে তাকে ধ্বংস করতে আমাকে প্ররোচিত করেছিলে|”
4 তখন শয়তান উত্তর দিল, “নিজেকে রক্ষা করার জন্য য়ে কেউই যা কিছু করতে পারে|নিজের জীবন রক্ষা করার জন্য এক জন তার সর্বস্ব দিয়ে দেবে|
5 আপনি যদি তার দেহে আঘাত করার জন্য আপনার শক্তিকে ব্যবহার করেন, তাহলে আমি জোর দিয়ে বলতে পারি য়ে সে মুখের ওপরই আপনাকে অভিশাপ দেবে|”
6 তখন প্রভু শয়তানকে বললেন, “ঠিক আছে, ইয়োব এখন তোমার ক্ষমতার মধ্যে| কিন্তু তুমি তাকে মেরে ফেলতে পারবে না|”
7 তখন শয়তান প্রভুর কাছ থেকে চলে গেল| শয়তান যন্ত্রণাদাযক ফোড়ায ইয়োবের পা থেকে মাথা পর্য়ন্ত ভরিয়ে দিল|
8 তখন ইয়োব ছাইযের গাদার মধ্যে বসলেন| একটা ভাঙা খোলামকুচি (সরা বা হাঁড়ির ভাঙা টুকরো) দিয়ে তিনি তাঁর ক্ষত চাঁছতে লাগলেন|
9 ইয়োবের স্ত্রী তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কি এখনো ঈশ্বরের প্রতি সততায় অবিচল আছ? কেন তুমি ঈশ্বরকে অভিশাপদিচ্ছো না এবং মরছো না!”
10 ইয়োব তাঁর স্ত্রীকে উত্তর দিলেন, “তুমি এক জন নির্বোধ স্ত্রীলোকের মত কথা বলছো! ঈশ্বর আমাদের ভালো জিনিস দেন এবং আমরা তা গ্রহণ করি| সেই ভাবে আমাদের, তাঁর প্রদত্ত দুঃখ কষ্টও গ্রহণ করা উচিত্‌|” এই সব ঘটনা ঘটলো, কিন্তু ইয়োব ঈশ্বরের বিরুদ্ধে কোন কথা বলে কোন পাপ করলেন না|
11 ইয়োবের তিনজন বন্ধু হলেন তৈমনীয ইলীফস, শূহীয বিল্দদ ও নামাথীয সোফর| ইয়োবের প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা তিন বন্ধুই শুনলেন| তাঁরা তিন জনে বাড়ী থেকে বেরিয়ে এক জায়গায় মিলিত হলেন| তাঁরা ইয়োবের কাছে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানাতে ও সান্ত্বনা জানাতে রাজী হলেন|
12 কিন্তু তিন বন্ধু ইয়োবকে অনেক দূর থেকে দেখলেন| তাঁরা তাঁকে চিনতেই পারছিলেন না| তাঁরা উচ্চস্বরে কাঁদতে শুরু করলেন| তাঁরা নিজের কাপড় ছিঁড়ে ফেললেন এবং নিজেদের মাথার ওপরে শূন্যে ধূলো ছুঁড়লেন|
13 তারপর সেই তিন বন্ধু ইয়োবের সঙ্গে সাতদিনসাতরাত বসে রইলেন| কেউই ইয়োবের সঙ্গে কোন কথা বলেন নি কারণ তাঁরা দেখেছিলেন ইয়োব অতিরিক্ত কষ্ট পাচ্ছিলেন|




অধ্যায় 3

1 তারপর ইয়োব মুখ খুললেন এবং য়ে দিন তিনি জন্মেছিলেন সেই দিনটিকে নিন্দা করলেন|
2 তিনি বললেন:“যে দিনে আমি জন্মেছিলাম সেদিন চিরদিনের জন্য নিশ্চিহ্ন হয়ে যাক| য়ে রাত্রি বলে উঠেছিলো, ‘একটি ছেলে গর্ভে এসেছে!’ সে রাত্রি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাক|
3
4 “সে দিন য়েন অন্ধকারে ঢেকে যায়| সেই দিনের কথা ওপরে ঈশ্বর য়েন ভুলে যান| সেই দিনে য়েন আলো প্রকাশ না হয়|
5 বিষাদ এবং মৃত্যুর অন্ধকার য়েন সেই দিনকে নিজেদের বলে দাবী করে| মেঘ য়েন সেই দিনকে ঢেকে লুকিয়ে রাখে| তিক্ত বিষাদ য়েন সেই দিনটিকে গ্রাস করে|
6 অন্ধকার য়েন সেই রাত্রিকে নিয়ে যায়| সেই দিনটিকে পঞ্জিকা থেকে বাদ দিয়ে দাও| সেই রাত্রিকে কোন মাসের মধ্যে গণনা কর না|
7 সেই রাত্রি য়েন কোন কিছু উত্পন্ন না করে| সেই রাতে য়েন কোন খুশীর শব্দ শোনা না যায়|
8 যারা দিনকে অভিশাপ দেয়এবং যারা লিবিয়াথনকে জাগিয়ে তুলতে পারদর্শী, তারা য়েন সেই রাতটিকে অভিশাপ দেয়|
9 সেই দিনের প্রভাতী নক্ষত্র য়েন অন্ধকার হয়ে যায়| সেই রাত্রি য়েন প্রভাতের আলোর জন্য অপেক্ষা করে কিন্তু সেই সকাল য়েন কোন দিন না আসে| সেই দিন য়েন সূর্য়ের প্রথম রশ্মি কোনদিন না দেখে|
10 কেন? কারণ সেই রাত্রি আমাকে জন্মাতে বাধা দেয় নি| সেই রাত্রি এই সব সমস্যা দেখা থেকে আমাকে বিরত করে নি|
11 যখন আমি জন্মেছিলাম, তখনই আমি মরে গেলাম না কেন? কেন আমি আমার মাতৃজঠর থেকে বেরিয়ে এসেই মারা গেলাম না?
12 কেন আমার মা আমাকে নির্বিক্ জন্ম দিয়েছি-লেন? আমার মায়ের স্তন কেন আমায় দুধ পান করিযেছিলো?
13 এই ঘটনাগুলি যদি না ঘটত তাহলে আমি এখন শাযিত থাকতে পারতাম| আমি শান্তিতে থাকতাম| আমি ঘুমিয়ে থাকতে পারতাম এবং বিশ্রাম পেতাম|
14 এই পৃথিবীর য়ে সব রাজা ও মন্ত্রীরা ধ্বংসপ্রাপ্ত নগরীগুলি নিজেদের জন্য পুননির্মাণ করেছেনআমি তাঁদের সঙ্গে থাকতে পারতাম|
15 অথবা আমি সেই রাজপুত্রদের সঙ্গে থাকতে পারতাম যাদের কাছে সোনা ছিল এবং যারা তাদের বাড়ীগুলি রূপায় ভর্ত্তি করে রাখত|
16 আমি কেন সেই শিশুর মত হলাম না য়ে জন্মের সময়ই মারা যায় এবং যাকে মাটিতে কবর দেওয়া হয়| য়ে শিশু দিনের আলো দেখেনি আমি যদি সেই শিশুর মত হতাম!
17 দুষ্ট লোকরা যখন কবরে থাকে তখন তারা কোন অশান্তি অনুভব করে না| যারা পরিশ্রান্ত, তারা কবরে বিশ্রাম খুঁজে পায়|
18 এমনকি এীতদাসরাও কবরের মধ্যে সকলে মিলে স্বচ্ছন্দে থাকে| এীতদাস তাড়কদের চিত্কার তারা শুনতে পায় না|
19 কবরে সব রকমের লোকই রযেছে- গুরুত্বপূর্ণ লোক এবং যারা গুরুত্বপূর্ণ নয় তারাও রযেছে| এমনকি এক জন দাসও তার প্রভুর কবল থেকে মুক্ত|
20 “য়ে মানুষ ভুগছে তাকে আলো দেখান কিজন্য? যার জীবন তিক্ত কেন তাকে আযু দেওয়া হয়?
21 য়ে লোক মরতে চায়, কিন্তু মৃত্যু আসে না, সেই দুঃখী লোক গুপ্ত সম্পদের চেয়েও বেশি করে মৃত্যুকে খোঁজে|
22 ঐ লোকরা ওদের কবর খুঁজে পেলে অত্যন্ত খুশী হবে এবং আনন্দে গান গাইবে|
23 যারা তাদের জীবনের পথ দেখতে পায় না তাদের কেন জীবন দেওয়া হয়? ঈশ্বর কেন তাদের মরণ থেকে দূরে সরিয়ে রাখেন?
24 আমার দীর্ঘশ্বাসই আমার খাদ্য| আমার গুমরানি জলের মত গড়িযে পড়ে|
25 আমি যার ভয়ে ভীত ছিলাম আমার ঠিক তাই ঘটেছে| যা আমার আতঙ্ক ছিল, আমার বিরুদ্ধে তাই ঘটেছে|
26 আমি শান্তি খুঁজে পাইনি| আমি স্বস্তি খুঁজে পাইনি| আমি শুধু মাত্র অশান্তি খুঁজে পেয়েছি| আমি কষ্টে পড়েছি!”




অধ্যায় 4

1 তৈমনীয় ইলীফস উত্তর দিলো:“যদি কেউ তোমার সঙ্গে কথা বলতে চায়, তুমি কি অধৈর্য় হবে? কিন্তু তোমার সঙ্গে কথা বলা থেকে কে আমাকে থামাতে পারে?
2
3 ইয়োব, তুমি অনেক লোককে শিক্ষা দিয়েছো| দুর্বলকে তুমি শক্তি দিয়েছো|
4 যারা প্রায় পড়ে যাচ্ছিল তুমি তাদের উত্সাহিত করেছ| যাদের হাঁটু ভেঙ্গে আসছিল তুমি তাদের সবল করেছ|
5 কিন্তু এখন তুমি সমস্যায় পড়েছ এবং তুমি নিরুত্সাহ হয়েছো| সমস্যা তোমায় আঘাত করেছে এবং তুমি বিচলিত|
6 ঈশ্বরের প্রতি তোমার শ্রদ্ধা কি তোমাকে এই পরিস্থিতিতে আত্মবিশ্বাস য়োগায না? তোমার সরল ও সত্‌ জীবন কি তোমাকে এই পরিস্থিতিতে আশা দেয় না?
7 ইয়োব, অন্তত একজন নির্দোষ লোকের নাম কর য়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে| আমাকে ভালো লোকদের দেখাও যারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল|
8 আমি কিছু সমস্যা সৃষ্টিকারী মানুষ দেখেছি যারা অন্যের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে| কিন্তু তারা সর্বদা শাস্তি পেয়েছে|
9 ঈশ্বরের শাস্তি ঐ লোকদের হত্যা করেছে| ঈশ্বরের ক্রোধ তাদের ধ্বংস করেছে|
10 মন্দ লোকরা সিংহের মত গর্জন ও গর্গর্ করে| কিন্তু ঈশ্বর ঐ মন্দ লোকদের চুপ করিযে দেন এবং ঈশ্বর তাদের দাঁত ভেঙে দেন|
11 হ্যাঁ, ঐ মন্দ লোকরা, সেই সিংহের মত যারা হত্যা করার জন্য কোন প্রাণী পায় না| তারা মারা যায় এবং তাদের পুত্ররা যত্রতত্র ঘুরে বেড়ায়|
12 “গোপনে আমার কাছে এক বার্তা এসেছে| আমি তা নিজের কানে শুনেছি|
13 সে ছিল একটি দুঃস্বপ্নেব মত য়েটা লোকরা গভীরভাবে ঘুমিয়ে পড়লে আসে|
14 আমি ভয়ে কেঁপে উঠেছিলাম | আমার হাড়গোড় পর্য়ন্ত কেঁপে উঠেছিল|
15 আমার মুখের সামনে দিয়ে একটা আত্মা চলে গেল| আমার সমস্ত শরীর রোমাঞ্চিত হল|
16 সেই আত্মা আমার সামনে থেমে গেল| কিন্তু আমি দেখতে পাইনি তা কি ছিল| আমার চোখের সামনে কিছু একটা অবয়ব ছিল মাত্র এবং চারদিক নিস্ত? ছিল| তারপর আমি একটি কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম:
17 ‘কোন লোক ঈশ্বরের চেয়ে বেশী সঠিক হতে পারে না| কোন ব্যক্তি তার স্রষ্টার চেয়ে বেশী শুদ্ধ হতে পারে না|
18 দেখ, ঈশ্বর তাঁর স্বর্গের দাসদের প্রতিও নির্ভর করতে পারেন না| ঈশ্বর তাঁর দূতদের মধ্যেও ভুল এুটি দেখেন|
19 তাই সত্যিই মানুষ নশ্বর| ধূলার ভিতযুক্ত মাটির বাড়িতে যারা বাস করে তাদের ঈশ্বর কত কম বিশ্বাস করেন! ঈশ্বর পতঙ্গের মত তাদের পিষে ফেলেন| মানুষ মাটির ঘরে বাস করে (মানুষের দেহ মাটির তৈরী)| সেই মাটির ঘরের ভিত ধূলায বা পাঁকের মধ্যে থাকে| একটা পতঙ্গের থেকেও সহজে তাদের দেহ নষ্ট করে ফেলা যায়!
20 সূর্য়োদয় থেকে সূর্য়াস্ত পর্য়ন্ত মানুষ টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙেই চলেছে| য়েহেতু তারা শুধুই মাটির তৈরী সেহেতু তারা চিরতরে বিনষ্ট হয়|
21 তাদের তাঁবুর দড়ি খুলে নেওয়া হয় এবং প্রজ্ঞাবিহীন অবস্থায় তারা মারা যায়|’




অধ্যায় 5

1 “ইয়োব, তুমি যদি চাও তো চিত্কার কর, কিন্তু কেউ তোমার ডাকে সাড়া দেবে না! তুমি কোন পবিত্র সত্তার দিকে ফিরবে?
2 এক জন বোকা লোকের ক্রোধই তাকে হত্যা করবে| এক জন বোকা লোকের প্রচণ্ড আবেগই তাকে হত্যা করবে|
3 আমি এক জন বোকা লোককে দেখেছিলাম য়ে ভেবেছিল সে নিরাপদে আছে| কিন্তু সে হঠাত্‌ মারা গেল|
4 তার ছেলেদের সাহায্য করার জন্য কেউই ছিল না| নগরদ্বারেকেউ তাদের লাঞ্ছনা থেকে রক্ষা করে নি|
5 ক্ষুধিত লোকরা তার সব শস্য খেয়ে নিয়েছিল| কাঁটাঝোপের মধ্যে য়ে শস্য গজিযে উঠেছিলো, এই ক্ষুধিত লোকরা তাও খেয়ে নিয়েছিল| তাদের যা কিছু ছিল, লোভী লোকরা সবই নিয়ে গিয়েছিল|
6 শুধুমাত্র ধূলো থেকে খারাপ সময় উঠে আসে না| সমস্যা হঠাত্‌ করে ভূমি ফুঁড়ে জন্মায় না|
7 কিন্তু মানুষ সমস্যার সম্মুখিন হতে বাধ্য|ঠিক য়েমন আগুন থেকে স্ফুলিঙ্গ ওড়ে|
8 “কিন্তু ইয়োব, আমি যদি তুমি হতাম, আমি ঈশ্বরকে খুঁজতাম এবং ঈশ্বরকে সম্বোধন করে আমার কথা বলতাম|
9 ঈশ্বর মহান কাজগুলি করেন যা কেউ পুরোপুরি বুঝতে পারে না| তিনি এত বিস্মযকর কাজ করেন য়ে তাদের গোনা যায় না|
10 ঈশ্বর পৃথিবীতে বৃষ্টি পাঠান| তিনি জমির জন্য জল পাঠান|
11 ঈশ্বর এক জন বিনযী লোককে উন্নীত করেন| অতএব যারা বিলাপরত তারা বিজয়প্রাপ্তহয়|
12 ঈশ্বর চালাক ও মন্দ লোকদের ফন্দি বানচাল করে দেন যাতে তাদের পরিকল্পনা সফল না হয়|
13 ঈশ্বর, চালাক লোকদেরও তাদের নিজেদের ফাঁদেই ধরেন| তাই, সেই সব চালাকিও সফল হয় না|
14 ওরা দিনের বেলায রাতের সম্মুখীন হয় এবং দিনের বেলাতেই এমন করে হাতড়ে বেড়ায়, য়েন রাত হয়ে গেছে|
15 ঈশ্বর দরিদ্র লোকদের মৃত্যু থেকে রক্ষা করেন| দুর্জন লোকদের শক্তি থেকে তিনি দরিদ্র লোকদের রক্ষা করেন|
16 তাই দরিদ্র লোকদের আশা আছে| অধর্ম তার মুখ বন্ধ করে|
17 “যার দোষ ঈশ্বর সংশোধন করে দেন সে তো ঈশ্বরের আশীর্বাদপুত! তাই সর্বশক্তিমান ঈশ্বর যখন তোমায় শাস্তি দেন তখন কোন অভিয়োগ করো না|
18 ঈশ্বর য়ে আঘাত দেন, তিনি নিজেই সে আঘাতের শুশ্রূষা করেন| হয়তো তিনি কাউকে আঘাত করেন কিন্তু তাঁর হাত আরোগ্যও দান করে|
19 ঈশ্বর তোমাকে সব সময়ই উদ্ধার করবেন, যতবারই সংকট আসুক না কেন, সেটা তোমাকে আঘাত করবে না|
20 যখন দুর্ভিক্ষ হবে তখন ঈশ্বর তোমায় মৃত্যু থেকে রক্ষা করবেন| যখন যুদ্ধ হবে তখন ঈশ্বর তোমায় মৃত্যু থেকে রক্ষা করবেন|
21 ঈশ্বর তোমাকে অপবাদ থেকে রক্ষা করবেন| বিপর্য়য এলে তুমি ভয় পাবে না| যখন মন্দ কিছু ঘটবে তখন তোমার ভয়ের কোন কারণ নেই|
22 দুর্ভিক্ষ ও ধ্বংসের দিনগুলোকে তুমি উপহাস করবে| তুমি বন্য জন্তুদের ভয় পাবে না|
23 মনে হচ্ছে য়েন বন্য জন্তু ও মাঠের পাথরের সঙ্গে তোমার একটি শান্তি চুক্তি রযেছে| এমনকি বন্য পশুরাও তোমার সঙ্গে শান্তিতে থাকবে|
24 তুমি জানবে য়ে তোমার বাড়ি শান্তিতে আছে| তোমার সম্পত্তির হিসাব করে দেখবে কোন কিছুই খোযা যায় নি|
25 তুমি জানবে য়ে তোমার প্রচুর সন্তানাদি হবে| পৃথিবীতে যত ঘাস আছে তোমার উত্তরপুরুষদের সংখ্যাও ততগুলোই হবে|
26 তুমি সেই গমের মত হবে য়ে গম ফসল কাটা পর্য়ন্ত বাড়তে থাকে| হ্যাঁ, বৃদ্ধ বয়স পর্য়ন্ত তুমি পূর্ণ শক্তিতে বেঁচে থাকবে|
27 “ইয়োব, এই বিষয়গুলো আমরা অনুধাবন করেছি এবং আমরা জানি সেগুলি সত্যি| তাই ইয়োব, আমাদের কথা শোন, এবং তোমার নিজের জন্য সেগুলো শেখো|”




অধ্যায় 6

1 তখন ইয়োব উত্তর দিলেন: “আমি যদি আমার ক্রোধক দাঁড়িপাল্লার এক দিকে এবং দুঃখকে অন্য দিকে রাখতে পারতাম তাহলে তাদের ওজন একই হত|
2
3 তাদের ওজন সমুদ্রের সব কটি বালুকণার চেয়েও বেশী| এই কারণেই আমার বাক্য এত কর্কশ|
4 সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের তীর আমার দেহে বিদ্ধ হয়েছে| আমার জীবন ঐ সব তীরের বিষ পান করছে! ঈশ্বরের ভয়ঙ্কর অস্ত্রসমূহ আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য সারি দিয়ে রাখা আছে|
5 যখন কোন রকম মন্দ কিছু না ঘটে তখন তোমার কথাগুলো বলা সহজ| এমনকি বুনো গাধা যখন খাওয়ার ঘাস পায়, সে কোন অভিয়োগ করে না| এমনকি, যখন খাদ্য থাকে, তখন কোন গরুও অভিয়োগ করে না|
6 স্বাদহীন কোন বস্ু কি লবণ ছাড়া খাওয়া যায়? ডিমের সাদা অংশের কি কোন স্বাদ আছে? না!
7 আমি এরকম খাবার স্পর্শ করতে অস্বীকার করি, ঐ ধরণের খাদ্য আমার কাছে পচা খাবারের মত| এবং তোমার কথাগুলো আমার কাছে সেই রকমই স্বাদহীন বলে মনে হচ্ছে|
8 “যা চেয়েছি তা যদি পেতাম! আমি যা সত্যিই চাই তা যদি ঈশ্বর দিতেন!
9 আমি চেয়েছিলাম, ঈশ্বর আমায় ধ্বংস করুন| এগিয়ে এসে আমায় হত্যা করুন|
10 যদি তিনি আমায় হত্যা করেন, আমি স্বস্তি পাবো, আমি সুখী হব: এত যন্ত্রণা সত্ত্বেও আমি সেই পবিত্রতমের আদেশ পালন করা থেকে বিরত হই নি|
11 “আমার সব শক্তি চলে গেছে, তাই আমার বেঁচে থাকার কোন আশা নেই| আমি জানি না আমার কি হবে| তাই আমার ধৈর্য়্য় ধরার কোন কারণ নেই|
12 আমি পাথরের মত শক্ত নই| আমার দেহ পিতল দিয়ে তৈরী নয়|
13 আত্মনির্ভর হবার মত আমার কোন শক্তি নেই| কেন? কারণ আমার কাছ থেকে সাফল্য কেড়ে নেওয়া হয়েছে|
14 “যদি কেউ সমস্যায় পড়ে, তার প্রতি তার বন্ধুর সদয হওয়া উচিত্‌| যদি কেউ সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের দিক থেকেও মুখ ফেরায, তবুও তার প্রতি তার বন্ধুর বিশ্বস্ত থাকা উচিত্‌|
15 কিন্তু তুমি, আমার ভাই, তুমি বিশ্বস্ত ছিলে না| আমি তোমার প্রতি নির্ভর করতে পারিনি| তুমি সেই ঝর্ণার মত যা কখনও প্রবাহিত হয় আবার কখনও প্রবাহিত হয় না| তুমি সেই ঝর্ণার মত
16 যা বরফে জমে গেলে বা বরফ গলা জলে ভরে গেলে উপচে পড়ে|
17 এবং যখন আবহাওয়া শুষ্ক ও গরম থাকে তখন তার জল প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়| তার ধারাগুলো লুপ্ত হয়|
18 বণিকের দল তাদের রাস্তা থেকে সরে যায় এবং তারা মরুভূমিতে বিলুপ্ত হয়|
19 টেমার বণিকরা জলের অন্বেষণ করলো| শিবার পর্য়টকরা আশা নিয়ে অপেক্ষা করলো|
20 তারা নিশ্চিত ছিল য়ে তারা জল পাবেই কিন্তু তারাও হতাশ হল|
21 এখন, তুমি সেই সব ঝর্ণার মত| আমার দুর্দশা দেখে তুমি ভীত হয়েছো|
22 আমি কি তোমার সাহায্য চেয়েছি? না চাই নি! কিন্তু তুমি সহজেই তোমার উপদেশ দিলে!
23 আমি কি তোমাকে বলেছি, ‘আমাকে শএুর হাত থেকে রক্ষা কর! নৃশংস লোকের হাত থেকে আমায় রক্ষা কর?’
24 “তাই, এখন আমায় শিক্ষা দাও, আমি চুপ করে থাকবো| দেখিয়ে দাও আমি কি ভুল করেছি|
25 সত্‌-বাক্যই শক্তিশালী| কিন্তু তোমার যুক্তি কোন কিছুই প্রমাণ করে না|
26 তুমি কি আমার সমালোচনা করার পরিকল্পনা করেছ? তুমি কি আরও ক্লান্তিকর কথা বলবে?
27 তুমি একজন পিতৃ-মাতৃহীনের সম্পত্তি নিয়ে জুযা খেলতে পারো| তুমি তোমার প্রতিবেশীকেও বিক্রি করে দিতে পারো|
28 কিন্তু এখন, আমার মুখ দেখে বোঝার চেষ্টা কর| আমি তোমার কাছে মিথ্যা বলবো না|
29 তোমার সিদ্ধান্তগুলি পুনর্বিবেচনা কর| অন্যায় বিচার করো না| পুনরায বিবেচনা কর কারণ এ ব্যাপারে আমি নির্দোষ| আমি কোন ভুল করিনি|
30 আমি মিথ্যা বলছি না| আমি কি পচা জিনিসের স্বাদ বুঝি না?”




অধ্যায় 7

1 ইয়োব বললেন,“পৃথিবীতে মানুষকে কঠিন সংগ্রাম করতে হয়| তাদের জীবন এক জন কঠোর পরিশ্রমী শ্রমিকের জীবনের মত|
2 মানুষ সেই এীতদাসের মত, য়ে প্রচণ্ড গরমের দিনে সারাদিন পরিশ্রমের পর একটু শীতল ছায়া চায়| মানুষ এক জন ভাড়াটে শ্রমিকের মত য়ে বেতনের দিনের জন্য অপেক্ষা করে|
3 তাই, ঠিক একটি এীতদাস ও শ্রমিকের মত আমাকে মাসের পর মাস নৈরাশ্য দেওয়া হয়েছে| আমাকে দুঃখভরা রাতগুলি গুনে দেওয়া হয়েছে|
4 যখন আমি শুই, আমি ভাবি, ‘আবার কতক্ষণ পরে জেগে উঠবো?’ রাত্রি প্রলম্বিত হয়| সূর্য় ওঠা পর্য়ন্ত আমি ছটফট করি|
5 আমার দেহ কৃমিকীট ও আবর্জনার মণ্ড দিয়ে আবৃত| আমার চামড়া ফেটে যায় ও রস গড়ায|
6 “আমার জীবন, তাঁতির মাকুর থেকেও দ্রুত অতিবাহিত হয়ে যাচ্ছে| এবং আশাহীন ভাবে আমার জীবন শেষ হচ্ছে|
7 স্মরণে রেখো, আমার জীবন একটি নিশ্বাস মাত্র| আর কখনও আমি ভালো কিছু দেখবো না|
8 এবং যদিও তুমি এখন আমায় দেখছ তুমি আমাকে দেখবে না, তুমি আমাকে খুঁজতে থাকবে কিন্তু আমি থাকবো না|
9 মেঘ চলে যায় এবং বিলুপ্ত হয়| একই ভাবে, এক জন লোক কবরে চলে যায়| সে আর ফিরে আসে না|
10 তার পুরোনো বাড়ীতে সে আর কখনই ফিরে আসবে না| তার বাড়ী তাকে আর চিনতে পারবে না|
11 “তাই আমি চুপ করে থাকবো না! আমি কথা বলবো! আমার আত্মা কষ্ট পাচ্ছে! আমি অভিয়োগ করবো কারণ আমার আত্মা বীতশ্রদ্ধ হয়ে গেছে|
12 ঈশ্বর, কেন আপনি আমায় পাহারা দিচ্ছেন? আমি কি সমুদ্র বা সমুদ্র দানব?
13 যখন আমি বলি আমার বিছানা আমাকে আরাম দেবে, আমার চৌকি আমাকে বিশ্রাম ও শান্তি দেবে
14 তখন স্বপ্ন দেখিয়ে আপনি আমায় ভয় পাওয়ান| ভযাবহ স্বপ্ন দর্শন করিযে আপনি আমায় ভীত করেন|
15 তাই ফাঁসি যাওয়াটাই আমি এখন শ্রেয় বলে মনে করি| এমন ভাবে বেঁচে থাকার চেয়ে আমার মরে যাওয়াই ভাল|
16 আমি আমার জীবনকে বাতিল করে দিয়েছিলাম| আমি চিরদিন বেঁচে থাকতে চাই না| আমাকে একা থাকতে দিন| আমার জীবন শুধুই একটি বয়ে যাওয়া নিঃশ্বাস|
17 ঈশ্বর, কেন মানুষ আপনার কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ? কেন আপনি তাকে এত লক্ষ্য করেন?
18 কেন প্রতিদিন সকালে আপনি মানুষ পরীক্ষা করেন? কেন প্রতিমূহুর্তে লোকদের যাচাই করেন?
19 ঈশ্বর, আপনি কি আমার উপর থেকে আপনার দৃষ্টি সরিয়ে নেবেন না? আপনি কি এক পলকের জন্যও আমাকে একা ছাড়বেন না?
20 ঈশ্বর, আপনি মানুষের ওপর নজর রাখেন| আমি অন্যায় করেছি, ভাল| আমি আপনার প্রতি কি করতে পারি? কেন আমি আপনার বোঝা হয়ে উঠেছি?
21 অপরাধ করার জন্য কেন আপনি আমায় ক্ষমা করছেন না? আমার পাপের জন্য কেন আপনি আমায় ক্ষমা করছেন না? আমি খুব তাড়াতাড়ি মরে গিয়ে কবরে যাবো| তখন আপনি আমায় খুঁজবেন, কিন্তু আমি তখন চলে যাবো|”




অধ্যায় 8

1 তখন শূহীর বিল্দদ উত্তর দিলেন,
2 “আর কতক্ষণ তুমি ঐ ভাবে কথা বলবে? তোমার কথা ঝোড়ো বাতাসের মতই বয়ে চলেছে|
3 ঈশ্বর সর্বদাই সত্‌ পথে থাকেন| যা সঠিক, সর্বশক্তিমান ঈশ্বর তা কখনই পরিবর্তিত করেন না|
4 যদি তোমার সন্তানরা ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ করে থাকে, তাহলে ঈশ্বর তাদের পাপের জন্য শাস্তি দিয়েছেন|
5 কিন্তু এখন ইয়োব, তুমি যদি ঈশ্বরের এবং সর্বশক্তিমানের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর,
6 যদি তুমি সত্‌ ও শুচি থাকো, তিনি শীঘ্রই এসে তোমাকে সাহায্য করবেন| তোমার য়েমন গৃহটি প্রাপ্য তেমনটিই তিনি তোমাকে ফিরিযে দেবেন|
7 তোমার য়ে বিপুল উন্নতি হবে, তার কাছে, আগে তোমার যা ছিল, তা সামান্য মনে হবে|
8 “বয়স্ক লোকদের জিজ্ঞাসা করে দেখ| খুঁজে দেখ তাদের পূর্বপুরুষরা কি শিক্ষা পেয়েছে?
9 মনে হচ্ছে য়েন আমরা গতকাল জন্মেছি| জানার পক্ষে আমরা একেবারেই অপক্ক| এই পৃথিবীতে আমাদের জীবন ছায়ার মতোই ক্ষণস্থায়ী|”
10 হয়তো বয়স্ক লোকরা তোমায় শিক্ষা দিতে পারেন| হয়তো বা, তাঁরা যা শিখেছেন তা তোমাকে শেখাতে পারেন|”
11 বিল্দদ বললেন, “শুকনো জমিতে কি ভূর্জগাছ বড় হতে পারে?” জল ছাড়া কি এরস গাছ বাড়তে পারে?
12 না, যদি জল শুকিয়ে যায়, তাহলে তারাও শুকিয়ে যাবে| তারা এত ছোট হয়ে যাবে য়ে তাদের কেটে ব্যবহার করাই মুস্কিল হবে|
13 যারা ঈশ্বরকে ভুলে যায় তারাও ঐ নল-খাগড়ার মতোই| ঈশ্বরহীন মানুষের আশা বিনষ্ট হয়|
14 ওই লোকের নির্ভর করার কোন জায়গা নেই| তার নিরাপত্তা মাকড়সার জালের মতোই দুর্বল|
15 যদি কোন লোক মাকড়সার জালের ওপর নির্ভর করে তাহলে তা ভেঙে যায়| সে মাকড়সার জাল ধরে, কিন্তু সেই জাল তাকে আশ্রয় দেয় না|
16 সেই লোকটি সূর্য়ালোকের মধ্যে একটি ভেজা গাছের মত| তার ডালপালা সারা বাগানে ছড়িয়ে পড়ে|
17 পাথরের চাঁইযের মধ্যে সে তার শিকড় ছড়িয়ে রাখে, পাথরের মধ্যেই সে তার শিকড় গজায|
18 কিন্তু যদি গাছটি তার জায়গা থেকে সরে যায়, গাছটি মরে যাবে এবং কেউ জানবে না য়ে গাছটি কোন দিন ঐখানে ছিলো|
19 কিন্তু গাছটি যতদিন বেঁচে ছিল তত দিন জীবন উপভোগ করছিল এবং অন্যান্য গাছগুলো এর জায়গায় জন্মাবে|
20 ভালো লোকদের ঈশ্বর কখনই পরিত্যাগ করেন না| তিনি দুষ্ট লোকদের সাহায্য করেন না|
21 ঈশ্বর তোমার মুখ হাসিতে ভরিয়ে দেবেন এবং তোমার ঠোঁট আনন্দ ধ্বনিতে পূর্ণ করবেন|
22 কিন্তু তোমার শএুদের মুখ লজ্জায় আচ্ছন্ন হয়ে যাবে| এবং দুষ্ট লোকদের ঘরবাড়ী ধ্বংস হয়ে যাবে|”




অধ্যায় 9

1 তখন ইয়োব উত্তর দিলেন:
2 “হ্যাঁ, আমি জানি তুমি যা বলছো তা সত্য| কিন্তু এক জন মানুষ ঈশ্বরের সঙ্গে যুক্তি-তর্কে কি ভাবে জিততে পারে?
3 এক জন মানুষ ঈশ্বরের সঙ্গে তর্ক করতে পারে না! ঈশ্বর 1,000টা প্রশ্ন করতে পারেন কিন্তু কোন মানুষ তার একটা প্রশ্নরও উত্তর দিতে পারে না!
4 ঈশ্বর প্রচণ্ড জ্ঞানী এবং তাঁর বিপুল ক্ষমতা| কেউই ঈশ্বরের সঙ্গে অক্ষত হয়ে লড়াই করতে পারে না|
5 ঈশ্বর যখন রোধন্বত হন তখন পর্বতগুলো কি হচ্ছে বোঝবার আগেই তিনি পর্বতদের সরিয়ে দেন|
6 পৃথিবীকে কাঁপিয়ে দেবার জন্য ঈশ্বর ভূমিকম্প পাঠান| ঈশ্বর পৃথিবীর ভিত পর্য়ন্ত কাঁপিয়ে দেন|
7 ঈশ্বর সূর্য়ের সঙ্গে কথা বলতে পারেন এবং সূর্য়োদয নাও হতে দিতে পারেন| তিনি তারাদের বন্দী করে ফেলতে পারেন যাতে তারারা আর না জ্বলে|
8 ঈশ্বর নিজেই আকাশ সৃষ্টি করেছেন| তিনি সমুদ্রের ঢেউযের ওপর দিয়ে হেঁটে যান|
9 “ঈশ্বরই বৃহত্‌ ভাল্লুকমণ্ডলী, সপ্তর্ষিমণ্ডল, কালপুরুষ এবং কৃত্তিকা সৃষ্টি করেছেন| তিনিই গ্রহরাজি সৃষ্টি করেছেন যা দক্ষিণের আকাশ পরিক্রমা করে|
10 ঈশ্বর মহান সব কাজ করেন যা মানুষ বুঝে উঠতে পারে না| ঈশ্বর য়ে সব আশ্চর্য় কাজ করেন তা অগণ্য|
11 দেখ, ঈশ্বর আমার পাশ দিয়ে চলে যান কিন্তু আমি তাঁকে দেখতে পাই না| তিনি পাশ দিয়ে চলে যান কিন্তু আমি তা উপলদ্ধি করতে পারি না|
12 যদি ঈশ্বর কিছু নিয়ে যান কেউই তাঁকে রোধ করতে পারে না| কেউই তাঁকে বলতে পারে না, ‘আপনি কি করছেন?’
13 ঈশ্বর তাঁর রাগ দমন করবেন না| এমন কি রাহাবেরঅনুচররাও ঈশ্বরের সামনে নত হয়!
14 তাই আমি ঈশ্বরের সঙ্গে তর্ক করতে পারি না| আমি জানি না তাঁকে কি বলতে হবে|
15 আমি নির্দোষ, কিন্তু আমি তাঁকে কোন উত্তর দিতে পারি না| আমি শুধু আমার বিচারকের কাছে প্রার্থনা করতে পারি|
16 আমি যদি ঈশ্বরকে ডাকি এবং তিনি যদি উত্তর দেন, তবু আমি বিশ্বাস করবো না য়ে উনি আমার কথা শুনবেন|
17 অকারণে তিনি আমার দেহে প্রচুর ক্ষত দেবেন| আমাকে আঘাত করার জন্য ঈশ্বর ঝড় পাঠাবেন|
18 ঈশ্বর পুনর্বার আমায় নিঃশ্বাস নিতে দেবেন না| তার বদলে তিনি আমায় ভয়ঙ্কর কষ্টে ভরিয়ে দেবেন|
19 এটা যদি শক্তির ব্যাপার হয়, নিশ্চয়ই তিনি অনেক বেশী শক্তিশালী| এটা যদি সুবিচারের ব্যাপার হয়, ঈশ্বরকে কে আদালতে আসার জন্য বাধ্য করতে পারে?
20 আমি নিরপরাধ, কিন্তু আমার নিজের কথাই আমাকে অপরাধী করে তোলে| আমি নির্দোষ, কিন্তু তিনি আমায় তাঁর বিচারে অপরাধী করবেন| তাঁর বিচারে আমি অপরাধী হব|
21 আমি নির্দোষ| কিন্তু আমি জানি না কি ভাবতে হবে| আমি আমার নিজের জীবনকে ঘৃণা করি|
22 আমি নিজেকে বলি, ‘একই ঘটনা সবার ক্ষেত্রেই ঘটে| নির্দোষ লোক অপরাধীর মতোই মারা যায়| ঈশ্বর তাদের সবার জীবন শেষ করে দেন|’
23 যখন ভয়ঙ্কর কিছু একটা ঘটে এবং একজন নির্দোষ লোক মারা যায়, ঈশ্বর কি তার প্রতি বিদ্রূপের হাসি হাসেন?
24 যখন একজন দুষ্ট লোক রাজ্য শাসন করে, তখন কি ঘটছে, তা দেখা থেকে ঈশ্বর কি নেতাদের বিরত রাখেন? যদি তাই সত্য হয়, তাহলে ঈশ্বর কে?
25 “আমার দিন এক জন দৌড়বাজের থেকেও দ্রুত চলে যাচ্ছে| আমার দিনগুলি উড়ে চলে যাচ্ছে এবং তাদের মধ্যে কোন আনন্দ নেই|
26 আমার দিনগুলি নৌকার মত দ্রুত চলে যাচ্ছে ঠিক য়েমন ঈগল দ্রুত গতিতে শিকারের ওপর ছোঁ মারে|
27 “যদি আমি বলি, ‘আমি অভিয়োগ করবো না আমি আমার যন্ত্রণা ভুলে যাবো| আমি আমার মুখে হাসি ফোটাতে পারবো|’
28 প্রকৃতপক্ষে এটা কোন কিছুকেই পরিবর্তিত করবে না| যন্ত্রণা এখনও আমাকে ভীত করে!
29 আমি ইতিপূর্বেই অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছি| তাই কেন আমি অকারণে চেষ্টা করবো? আমি বলি, ‘ভুলে যাও!’
30 যদি আমি নিজেকে তুষার দিয়ে ধুয়ে ফেলি এবং সাবান দিয়ে আমার হাত পরিষ্কার করি,
31 তবুও ঈশ্বর আমাকে কবরে শাস্তি দেবেন এবং তোমরা আমাকে আবর্জনার মধ্যে ফেলে দেবে| তখন আমার বস্ত্রও আমায় ঘৃণা করবে|
32 ঈশ্বর তো আমার মতো এক জন মানুষ নন| সেই জন্য আমি তাঁকে উত্তর দিতে পারি না| আমরা আদালতে মিলিত হতে পারি না|
33 আমি মনে করি দুপক্ষের কথা শোনার জন্য এক জন মধ্যপক্ষ মানুষের দরকার| আমি মনে করি, আমাদের উভয়েরই বিচার করার জন্য যদি কেউ এক জন থাকতো!
34 আমি মনে করি, ঈশ্বরের শাস্তিদানের দণ্ড কেড়ে নেওয়ার জন্য যদি কেউ থাকতো! তাহলে ঈশ্বর আমায় আর ভয় দেখাতে পারতেন না|
35 তাহলে, ঈশ্বরকে ভয় না করে, আমি যা বলতে চাই, তা বলতে পারতাম| কিন্তু এখন আমি তা করতে পারি না|




অধ্যায় 10

1 আমি আমার নিজের জীবনকে ঘৃণা করি| আমি নিঃসঙ্কোচে অভিয়োগ করবো| আমার আত্মা বীতশ্রদ্ধ হয়ে আছে তাই এখন আমি একথা বলবো|
2 আমি ঈশ্বরকে বলবো: ‘আমায় দোষ দেবেন না! আমায় বলুন, আমি কি ভুল করেছি? আমার বিরুদ্ধে আপনার কি কোন অভিয়োগ আছে?
3 ঈশ্বর, আমাকে আঘাত করে আপনি কি সুখী হন? মনে হচ্ছে, আপনি যা সৃষ্টি করেছেন তার প্রতি আমার কোন ভ্রূক্ষেপই নেই| কিংবা, মন্দ লোকরা য়ে ফন্দি আঁটে সেই ফন্দিতে আপনিও কি আনন্দিত হন?
4 ঈশ্বর, আপনার কি মানুষের চোখ আছে? মানুষ য়ে ভাবে দেখে আপনিও কি সেই ভাবে দেখেন?
5 আপনার জীবন কি আমাদের মতই ক্ষুদ্র? আপনার জীবন কি মানুষের জীবনের মতই ছোট? না| তাহলে আপনি কি করে বুঝবেন এটা কেমন?
6 আপনি আমার দোষ দেখেন এবং আমার পাপ অন্বেষণ করেন|
7 আপনি জানেন আমি নির্দোষ কিন্তু কেউই আমাকে আপনার ক্ষমতা থেকে বাঁচাতে পারবে না!
8 ঈশ্বর, আপনার হাতই আমায় তৈরী করেছে এবং আমার দেহকে রূপদান করেছে| কিন্তু এখন আপনি চারদিক থেকে ঘিরে আমায় গিলে ফেলতে বসেছেন|
9 ঈশ্বর, স্মরণ করুন, আপনি আমাকে কাদা দিয়ে বানিয়ে ছিলেন| আপনি কি আবার আমাকে ধূলিতে পরিণত করবেন?
10 আপনি আমাকে দুধের মত ঢেলে দিয়েছিলেন এবং আমাকে, ঘন করে ছানার মত আকার দিয়েছেন|
11 আপনি আমার হাড় ও পেশী একত্রিত করেছেন| তারপর আপনিই চামড়া ও মাংস দিয়ে তা আবৃত করেছেন|
12 আপনিই আমাকে জীবন দিয়েছেন এবং আমার প্রতি সদয ছিলেন| আপনি আমার যত্ন নিয়েছেন এবং আমার আত্মার প্রতি যত্ন নিয়েছেন|
13 কিন্তু, এ সবই আপনি মনে মনে করেছেন, আমি জানি, এই সব পরিকল্পনাই আপনি গোপনে করেছেন| হ্যাঁ, আমি জানি, আপনার মনে এই ছিলো|
14 যদি আমি পাপ করি, আপনি তা লক্ষ্য করবেন এবং ভুল করার জন্য আপনি আমায় শাস্তি দেবেন|
15 যদি আমি পাপ করি, আমি য়েন দুঃখ পাই! কিন্তু যদিও আমি নির্দোষ তবু আমি আমার মাথা তুলতে পারি না| আমি এতই লজ্জিত ও আহত|
16 যদি আমার কোন সফলতা থাকতো ও আমি গর্ব করতে পারতাম তাহলে য়েমন করে এক জন শিকারী সিংহ শিকার করে, তেমনি করে আপনি আমায় শিকার করতেন| আমার বিরুদ্ধে আবার আপনি আপনার ক্ষমতা প্রদর্শন করতেন|
17 আমি য়ে ভুল করেছি, এটা প্রমাণের জন্য আপনি নতুন সাক্ষী নিয়ে আসেন| বার বার নানা ভাবে আপনি আমার প্রতি রাগ প্রদর্শন করবেন, আমার বিরুদ্ধে একের পর এক সৈন্যদল পাঠাবেন|
18 তাই, ঈশ্বর, কেন আমায় জন্মাতে দিয়েছিলেন? কেউ আমাকে দেখার আগেই আমি কেন মরলাম না!
19 তাহলে আমাকে কখনো বাঁচতে হত না| মাতৃগর্ভ থেকে আমাকে সরাসরি কবরে নিয়ে যাওয়া হত|
20 আমার জীবন প্রায় শেষ হয়ে গেছে| তাই আমায় একা থাকতে দিন| আমার য়েটুকু অল্প সময় বাকী আছে, তা উপভোগ করতে দিন|
21 য়েখান থেকে আমি আর ফিরব না সেই অন্ধকার ও মৃত্যুর জগতে প্রবেশ করার আগে আমার অল্প সময় আমাকে উপভোগ করতে দিন|
22 য়ে স্থানে গেলে কেউ দেখতে পায় না সেই অন্ধকার, ছায়াচ্ছন্ন ও বিশৃঙ্খলার জগতে যাওয়ার আগে, আমার য়েটুকু অল্প সময় বাকী রযেছে তা আমায় উপভোগ করতে দিন| এমনকি সেই স্থানের আলোও অন্ধকারের মত তমসাময|”‘




অধ্যায় 11

1 তখন নামাথীয সোফর ইয়োবকে উত্তর দিলেন এবং বললেন:
2 “এই কথার বন্যার উত্তর দেওয়া দরকার! এতো কথা কি ইয়োবকে সঠিক বলে প্রমাণ করে না!
3 ইয়োব, তুমি কি ভেবেছ তোমার জন্য আমাদের কাছে কোন উত্তর নেই? তুমি কি ভেবেছো যখন তুমি ঈশ্বরকে বিদ্রূপ করবে, তখন কেউ তোমাকে সাবধান করবে না?
4 ইয়োব, তুমি ঈশ্বরকে বলেছো, ‘আমার যুক্তিগুলি সত্য এবং আপনি দেখে নিন আমি শুচিশুদ্ধ|’
5 ইয়োব, আহা যদি ঈশ্বর তোমায় উত্তর দিতেন! আশা করি তিনি তোমার সঙ্গে কথা বলবেন|
6 ঈশ্বর তোমাকে প্রজ্ঞার গূঢ় তত্ত্ব বলতে পারতেন| প্রকৃত প্রজ্ঞার দুটি দিক থাকে| অনুভব করো ঈশ্বর তোমার কিছু পাপ ভুলে গেছেন| তোমাকে তাঁর যতটা শাস্তি দেওয়া উচিত্‌ ছিল ততটা তিনি অবশ্যই তোমাকে দিচ্ছেন না|
7 “ইয়োব, তুমি কি মনে কর য়ে তুমি প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরকে বুঝেছ? তুমি কি মনে কর তুমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের সীমা আবিষ্কার করে ফেলেছ?
8 স্বর্গে যা কিছু আছে সে বিষয়ে তুমি কিছুই করতে পারো না| মৃত্যুর স্থান সম্পর্কেও তুমি কিছুই জানো না|
9 ঈশ্বর পৃথিবীর থেকে বৃহত্‌ এবং সমুদ্রের থেকেও বড়|
10 “যদি ঈশ্বর তোমায় আটক করেন এবং তোমায় আদালতে নিয়ে যান, কেউই তাঁকে ঠেকাতে পারবে না|
11 প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরই জানেন য়ে কে অপদার্থ| যখন ঈশ্বর কোন মন্দ কাজ দেখেন তিনি তা মনে রাখেন|
12 একটা বুনো গাধা কখনও একটা মানুষের জন্ম দিতে পারে না| এবং একজন নির্বোধ লোক কখনও জ্ঞানী ব্যক্তি হয়ে উঠতে পারে না|
13 “কিন্তু ইয়োব, তুমি তোমার হৃদয়কে ঈশ্বরমুখী করো এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা রত তোমার হাত দুটি তুলে ধরো|
14 তোমার পাপকে তোমার কাছ থেকে অনেক দূরে রাখ| তোমার তাঁবুতে কোন মন্দ লোককে বাস করতে দিও না|
15 তাহলে তুমি লজ্জা না পেয়ে মুখ তুলতে পারবে| ভীত না হয়ে তুমি শক্ত হয়ে দাঁড়াতে পারবে|
16 তাহলে তুমি তোমার দুর্ভোগ ভুলতে পারবে| তুমি তোমার সমস্যাগুলিকে বয়ে যাওয়া জলের চেয়ে বেশী মনে রাখবে না|
17 তাহলে তোমার জীবন দুপুরের সূর্য় প্রভার থেকেও অধিকতর উজ্জ্বল হয়ে উঠবে| জীবনের অন্ধকারতম সময়গুলো সকালের সূর্য়ের মত জ্বলজ্বল করবে|
18 তখন তুমি নিজেকে নিরাপদ মনে করবে| কারণ তখন আশা থাকবে| ঈশ্বর তোমার প্রতি যত্ন নেবেন এবং তিনি তোমায় বিশ্রাম দেবেন|
19 তুমি শুয়ে পড়তে পারবে এবং কেউ তোমাকে ভয় দেখাবে না| এবং অনেক লোক সাহায্যের জন্য তোমার কাছে আসবে|
20 দুষ্ট লোকরা সাহায্যের প্রত্যাশা করতে পারে কিন্তু তারা তাদের সমস্যা থেকে রক্ষা পাবে না| তাদের আশার একমাত্র পরিণাম হবে মৃত্যু|”




অধ্যায় 12

1 তখন ইয়োব তাদের উত্তর দিলেন:
2 “আমি নিশ্চিত য়ে তুমি ভেবেছো, তুমিই এক মাত্র জ্ঞানী লোক| তুমি ভেবেছো যখন তুমি মারা যাবে তখন প্রজ্ঞা তোমার সঙ্গে চলে যাবে|
3 কিন্তু তোমারই মতো আমারও একটি মন আছে| আমি তোমার চেয়ে নিকৃষ্ট নই| সকলে ইতিমধ্যেই জানে তুমি কি বলছিলে|
4 “এই মাত্র আমার বন্ধুরা আমায় উপহাস করলো| তারা বলল, ‘সে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছিল এবং সে তার উত্তর পেয়ে গেছে| এই কারণেই তার ক্ষেত্রে এমন সব মন্দ ঘটনা ঘটলো|’ “আমি এক জন সত্‌ লোক| আমি নির্দোষ| কিন্তু তবুও তারা আমার প্রতি উপহাস করে|
5 যাদের কোন সমস্যা নেই, সেই সব লোক যাদের সমস্যা থাকে তাদের উপহাস করে| এই সব লোকরা নিমজ্জমান লোককে আঘাত করে|
6 কিন্তু ছিনতাইবাজদের তাঁবু নির্বিক্থোকে| যারা ঈশ্বরকে উত্যক্ত করে তারা শান্তিতেই থাকে| তাদের নিজস্ব শক্তিই তাদের এক মাত্র ঈশ্বর|
7 “কিন্তু পশুদের জিজ্ঞাসা কর, তারা তোমায় শিক্ষা দেবে| কিংবা, আকাশের পাখীদের জিজ্ঞাসা কর, তারা তোমায় বলে দেবে|
8 অথবা পৃথিবীর সঙ্গে কথা বল সে তোমায় শিক্ষা দেবে| কিংবা সমুদ্রের মাছদের, তোমার সঙ্গে কথা বলতে দাও|
9 এই সব প্রাণীর প্রত্যেকেই জানে য়ে ঈশ্বর তাদের সৃষ্টি করেছেন|
10 প্রত্যেকটি প্রাণী যারা বেঁচে রযেছে, প্রত্যেকটি মানুষ যারা নিঃশ্বাস নিচ্ছে তারা ঈশ্বরের শক্তির অধীনে রযেছে|
11 জিভ কি খাদ্যের স্বাদ গ্রহণ করে না? কান কি তার শোনা শব্দের অর্থ গ্রহণ করে না?
12 কিছু লোক বলে, ‘বয়স্ক লোকদের মধ্যে প্রজ্ঞা খুঁজে পাওয়া যায়| দীর্ঘ আযু জীবন সম্পর্কে বোধ আনে|’
13 কিন্তু প্রজ্ঞা এবং ক্ষমতা ঈশ্বরেরই আছে| সদুপদেশ ও বোধ দুইই তাঁর|
14 ঈশ্বর যদি কোন কিছুকে ভেঙে দেন, লোকে তা আর গড়তে পারে না| যদি ঈশ্বর কোন লোককে হাজতে রাখেন কোন লোকই তাকে কারামুক্ত করতে পারে না|
15 ঈশ্বর যদি বৃষ্টিকে নিয়ন্ত্রণ করেন তাহলে এই পৃথিবী শুকিয়ে যাবে| ঈশ্বর যদি বৃষ্টিকে অঝোরে ঝরতে দেন পৃথিবীতে বন্যা বয়ে যাবে|
16 ঈশ্বর শক্তিশালী এবং তাঁর গভীর প্রজ্ঞা আছে| য়ে প্রতারিত হয় সে এবং প্রতারক দুজনেই ঈশ্বরের|
17 ঈশ্বর তাঁর সার্বভৌমত্ব প্রদর্শনের জন্য জ্ঞানী ও দক্ষ ব্যক্তিদের বোকা প্রতিপন্ন করেন|
18 এক জন রাজা হয়তো লোকেদের জেলে বন্দী করতে পারে| কিন্তু ঈশ্বর তাদের কারামুক্ত করেন এবং তাদের শক্তিশালী করেন|
19 ঈশ্বর যাজকদের পদচ্যুত করেন এবং যারা মনে করে তারা যথায়থ ভাবে শিকড় গেড়েছে তাদের উলেট ফেলে দেন|
20 ঈশ্বর নির্ভর যোগ্য পরামর্শদাতাকেও নীরব করিযে দেন| বয়স্ক মানুষের প্রজ্ঞাও তিনি হরণ করেন|
21 ঈশ্বর নেতাদের গুরুত্ব হ্রাস করান| তিনি শাসকের ক্ষমতা কেড়ে নেন|
22 ঈশ্বর গোপনতম গোপন কথাটি প্রকাশ করেন| অন্ধকার এবং মৃত্যুময স্থানেও তিনি আলো পাঠান|
23 ঈশ্বর জাতিদের বৃহত্‌ এবং শক্তিশালী করেন, এবং তিনিই ঐ জাতিদের ধ্বংস করেন| তিনি একটি জাতিকে বিরাট বড় হতে দেন এবং তিনিই জাতির লোকদের ছড়িয়ে দেন|
24 ঈশ্বরই নেতাদের বোকা বানান| তিনি তাদের উ?শ্যবিহীন ভাবে মরুভূমিতে পরিভ্রমণ করান|
25 সে সব নেতাদের অবস্থা হয় অন্ধকারে পথ হাতড়ে বেড়ানো লোকদের মত| ঈশ্বর ওদের সেই নেশাগ্রস্ত লোকের মত করে তোলেন য়ে জানে না সে কোথায় যাচ্ছে|”




অধ্যায় 13

1 ইয়োব বললেন, “আগেও আমি এসব দেখেছি| তুমি যা বলছো, আমি তার সবই আগে শুনেছি| আমি ঐ সব কিছুই বুঝেছি|
2 তুমি যা জানো আমিও তাই জানি| আমিও তোমার মতই জানি|
3 কিন্তু আমি তোমার সঙ্গে তর্ক করতে চাই না| আমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের সঙ্গে কথা বলতে চাই| আমি আমার সমস্যার বিষয়ে ঈশ্বরের সঙ্গে তর্ক করতে চাই|
4 কিন্তু তোমরা তিন জন মিথ্যা দিয়ে তোমাদের অজ্ঞতাকে ঢাকতে চাইছো| তোমরা সেই অপদার্থ ডাক্তারের মত যারা কারো রোগই সারাতে পারে না|
5 তোমরা যদি একটু চুপ করে থাকতে পারতে! সেটাই হত বিজ্ঞের মতো কাজ যা তোমরা করতে পারতে|
6 “এখন আমার যুক্তিগুলো শোন| আমার যা বলার আছে তা শোন|
7 তোমরা কি ঈশ্বরের জন্য মিথ্যা কথা বলবে? তোমরা কি ঈশ্বরের জন্য কপট ভাবে কথা বলবে?
8 তোমরা কি ঈশ্বরের প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখাবে? তোমরা কি তাঁর পক্ষ নিয়ে অন্যায় ভাবে তর্ক করবে?
9 যদি ঈশ্বর পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে তোমাদের বিচার করেন তিনি কি তোমাদেরও সঠিক দেখবেন? তোমরা কি মনে কর, য়ে ভাবে তোমরা মানুষকে বোকা বানাও, সেই ভাবে তোমরা ঈশ্বরকে বোকা বানাতে পারবে?
10 তোমরা তো জানো, য়ে তোমরা যদি গোপনে পক্ষপাতিত্ব দেখাও, ঈশ্বর তোমাদের তিরস্কার করবেন|
11 ঈশ্বরের মহিমা তোমাদের ভীত করে| তোমরা তাঁকে ভয় পাও|
12 তোমাদের পরমপরাগত জ্ঞান ছাইযের মতই অকেজো| তোমাদের উত্তরগুলিও কাদামাটির মতো নিরর্থক|
13 “চুপ করে থাক এবং আমাকে কথা বলতে দাও! তাহলে আমার প্রতি যা কিছুই হোক আমি তা গ্রহণ করব|
14 আমি নিজেকে বিপদের মধ্যে নিয়ে যাবো এবং নিজের জীবন নিজের হাতেই তুলে নেব|
15 ঈশ্বর যদি আমাকে মেরেও ফেলেন আমি ঈশ্বরকে বিশ্বাস করে যাবো| কিন্তু আমি ঈশ্বরের সামনে প্রমাণ করে দেবো য়ে আমার পথও প্রকৃত ন্যায্য পথ ছিল|
16 নিশ্চিত ভাবে, এটা হবে আমার জয়| কোন দুষ্ট লোকই ঈশ্বরের মুখোমুখি হতে চায় না|
17 আমি যা বলছি তা মন দিয়ে শোন| আমাকে বুঝিযে বলতে দাও|
18 এখন আমি আমার যুক্তিগুলো উপস্থাপিত করতে প্রস্তুত| আমি খুব সতর্ক ভাবে আমার যুক্তি উত্থাপন করবো| আমি জানি আমিই সঠিক বলে চিহ্নিত হবো|
19 যদি কেউ প্রমাণ করে দেয় য়ে আমি ঠিক নই, আমি চুপ করে থাকব এবং মরে যাব|
20 “ঈশ্বর, আমাকে মাত্র দুটি জিনিস দিন, তাহলে আমি আপনার কাছ থেকে লুকাবো না|
21 আমার শাস্তি রদ করে দিন এবং আপনার ভয়ঙ্কর রূপ দিয়ে আমায় সন্ত্রস্ত করা বন্ধ করে দিন|
22 তারপর আপনি আমায় ডাকবেন, আমি আপনাকে উত্তর দেবো| অথবা আমায় বলতে দিন এবং আপনি উত্তর দিন|
23 আমি কতগুলি পাপ করেছি? আমি কি ভুল করেছি? আমাকে আমার পাপ ও অন্যায়গুলি দেখিয়ে দিন|
24 ঈশ্বর, কেন আপনি আমায় এড়িয়ে যাচ্ছেন এবং আমাকে আপনার শএু বলে বিবেচনা করছেন?
25 আপনি কি আমায় ভয় দেখাতে চাইছেন? আমি বাতাসে ওড়া একটা শুকনো পাতা মাত্র| আপনি একটা ক্ষুদ্র খড়-কুটোকে আক্রমণ করছেন!
26 ঈশ্বর, আমার সম্পর্কে আপনি মন্দ কথা বলেন| যখন আমি অল্প বয়স্ক ছিলাম তখনকার পাপের জন্য আপনি আমায় শাস্তি দিচ্ছেন|
27 আপনি আমার পায়ে শিকল পরিযেছেন| আমার প্রতিটি পদক্ষেপ আপনি লক্ষ্য করেন| আমার সকল গতিবিধিই আপনি নজর করেন|
28 তাই, পচনশীল কাঠের মত, পোকা খাওয়া কাপড়ের মত আমি দুর্বল থেকে দুর্বলতর হয়ে যাচ্ছি|”




অধ্যায় 14

1 ইয়োব বললেন, “আমরা প্রত্যেকেই মানুষ| আমাদের জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং সমস্যায় পূর্ণ|
2 মানুষের জীবন ফুলের মত| সে তাড়াতাড়ি বড় হয় এবং তারপর মারা যায়| মানুষের জীবন একটা ছায়ার মত যা অল্পক্ষণের জন্য এখানে থাকে এবং তারপর আবার চলে যায়|
3 কিন্তু যদিও আমি নেহাতই একটি মানুষ মাত্র, আপনি আমার ওপর মনোয়োগ দেন এবং আমাকে আদালতে নিয়ে যান|
4 “কিন্তু অশুচি কিছু থেকে কেই বা শুচি কিছু তৈরী করতে পারে? কেউই নয়!
5 মানুষের জীবন সীমিত| ঈশ্বর, আপনিই স্থির করেছেন মানুষ কতদিন বাঁচবে| আপনিই মানুষের জন্য সেই সীমা নির্ধারণ করেন এবং কোন কিছুই আর তাকে পরিবর্তন করতে পারে না|
6 তাই ঈশ্বর, আমাদের প্রতি লক্ষ্য রাখা বন্ধ করুন| আমাদের একা ছেড়ে দিন| আমাদের সময় শেষ হওয়া পর্য়ন্ত আমাদের কঠিন জীবন আমাদের উপভোগ করতে দিন|
7 “এমনকি একটা গাছেরও আশা আছে| যদি না তাকে কেটে ফেলা হয় তা আবার বড় হতে পারে| তা আবার নতুন অঙ্কুর ছড়িয়ে দিতে পারে|
8 এর শিকড় মাটির নীচে বুড়ো হয়ে য়েতে পারে, এর কাণ্ড ধূলায মরে য়েতে পারে,
9 কিন্তু যদি সামান্য একটুও জল পায় আবার তা বাড়তে শুরু করে| নতুন গাছের মতই তা আবার বড় হতে থাকে|
10 কিন্তু যখন এক জন শক্তসমর্থ মানুষ মরে, সে শেষ হয়ে যায়| যখন মানুষ মরে যায়, সে চলে যায় ঠিক
11 দীঘি য়েমন শুকিয়ে যায় অথবা নদী য়েমন শুকিয়ে যায় তার মতন|
12 যখন এক জন মানুষ মরে যায়, সে শুয়ে পড়ে এবং সে আর ওঠে না| এক জন মৃত লোক উঠে দাঁড়াবার আগে এই আকাশমণ্ডল অদৃশ্য হয়ে যাবে| না| সেই নিদ্রা থেকে মানুষ আর জাগবে না|
13 আমার ইচ্ছা আপনি আমাকে আমার কবরে লুকিয়ে রাখুন| আমার ইচ্ছা, আপনার ক্রোধ প্রশমিত না হওয়া পর্য়ন্ত আপনি আমায় সেই খানে লুকিয়ে রাখুন| তারপর না হয় আমাকে স্মরণ করার জন্য আপনি একটা সময় বের করবেন|
14 যদি কোন লোক মারা যায়, সে কি আবার বাঁচবে? যদি তাই সম্ভব হয় আমি আমার মুক্তি পর্য়ন্ত অপেক্ষা করবো|
15 ঈশ্বর, আপনি আমায় ডাকবেন এবং আমি আপনার ডাকে সাড়া দেবো| তাহলে আমি, যাকে আপনি তৈরী করেছেন, সেই আমি আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠব|
16 আমার প্রত্যেকটি পদক্ষেপে আপনি আমায় লক্ষ্য করুন, কিন্তু আমার পাপ মনে রাখবেন না|
17 আমার সমস্ত পাপ আপনি একটা থলেতে ভরে, তার মুখ বন্ধ করে, তাকে দূরে ছুঁড়ে ফেলে দেবেন|
18 “পর্বতও ভেঙে যায় এবং ধূলায পরিণত হয়; বড় পাথরও আলগা হয়ে ভেঙে পড়ে|
19 তাদের ওপর দিয়ে জলরাশি প্রবাহিত হয়ে তাদের ধুয়ে নিয়ে যায়| বন্যা ভূমির মাটিকে ধুয়ে নিয়ে যায়| সেই ভাবেই হে ঈশ্বর, আপনি এক জন মানুষের আশা এবং ইচ্ছা ধ্বংস করেন|
20 আপনি তাকে সম্পূর্ণ পরাজিত করেন এবং সে চলে যায়| আপনি তাকে দুঃখী করেন এবং চির দিনের জন্য তাকে মৃত্যুলোকে পাঠিয়ে দেন|
21 তার ছেলেরা হয়ত সম্মান পেতে পারে, অথবা তারা হয়ত গুরুত্বপূর্ণ না হতে পারে, কিন্তু সে কখনও জানতে পারবে না|
22 সেই লোকটি তার শরীরে কেবল যন্ত্রণা ভোগ করে এবং সে উচ্চস্বরে কেবল নিজের জন্যই কাঁদে|”




অধ্যায় 15

1 তখন তেমনের ইলীফস ইয়োবকে উত্তর দিলেন:
2 “ইয়োব, যদি তুমি সত্যই জ্ঞানী হতে তুমি তোমার অর্থহীন ব্যক্তিগত মতামত দিয়ে উত্তর দিতে না! এক জন জ্ঞানী ব্যক্তি পূর্বের গরম বাতাসে নিজেকে পূর্ণ করে না|
3 তুমি কি মনে কর একজন জ্ঞানী মানুষ অর্থহীন কথা দিয়ে তর্ক করবে এবং এমন কথা বলবে যাতে কোন লাভ নেই?
4 ইয়োব, যদি তোমার নিজেরই পথ থাকতো তাহলে কেউ আর ঈশ্বরকে শ্রদ্ধা করে তাঁর কাছে প্রার্থনা করতো না|
5 য়ে সব বিষয় তুমি বলেছো তাতে তোমার পাপ স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে| ইয়োব, বাক্চাতুরীর সাহায্যে তুমি তোমার পাপকে ঢাকতে চাইছো|
6 তুমি য়ে ভুল করেছো, এ কথা আমার প্রমাণ করার দরকার নেই| কেন? নিজের মুখে তুমি যা যা বললে তাই প্রমাণ করে য়ে তুমি ভুল করেছো| তোমার নিজের ওষ্ঠ দ্বয তোমার বিরুদ্ধে বলছে|
7 “ইয়োব, তুমি কি মনে কর য়ে তুমিই প্রথম জন্মেছো? তুমি কি এই পাহাড়গুলির জন্মের আগে জন্মেছ?
8 তুমি কি ঈশ্বরের গোপন পরিকল্পনা শুনেছিলে? তুমি কি নিজেকেই এক মাত্র জ্ঞানী ভাবো?
9 ইয়োব, তুমি যা জান আমরা ঠিক ততটাই জানি! তুমি যতটা বোঝ আমরাও ঠিক ততটাই বুঝি|
10 যাদের মাথায় পাকা চুল তারা এবং বয়স্ক লোকে আমাদের সঙ্গে একমত হয়| হ্যাঁ, এমন কি তোমার পিতার চেয়েও যারা বয়স্ক তারাও আমাদেরই পক্ষে|
11 ঈশ্বর তোমাকে স্বস্তি দিতে চেষ্টা করেন এবং আমরা খুব শান্ত ভাবে তোমার সঙ্গে কথা বলি| কিন্তু তোমার পক্ষে তা য়থেষ্ট নয়|
12 ইয়োব, তুমি কেন এত আবেগপ্রবণ? কেন তোমার চোখ লাল হয়ে যায়?
13 যখন তুমি এই সব ক্রোধর কথা বল তখন তুমি ঈশ্বরের বিরুদ্ধে চলে যাও|
14 “এক জন মানুষ প্রকৃতই শুদ্ধ হতে পারে না| এক জন মানুষ কখনও ঈশ্বরের চেয়ে বেশী সঠিক হতে পারে না!
15 ঈশ্বর তাঁর বার্তাবাহকদেরওবিশ্বাস করেন না| এমনকি ঈশ্বরের তুলনায় স্বর্গও শুদ্ধ নয়|
16 মানুষও অপদার্থ| মানুষ নোংরা এবং নষ্ট| সে জলের মতই পাপ গলাধঃকরণ করে|
17 “আমার কথা শোন ইয়োব, আমি তোমাকে তা বুঝিযে বলবো| আমি যা জানি, তোমায় তা বলবো|
18 জ্ঞানী লোকরা আমাকে যা বলেছেন সেই সব কথা আমি তোমায় বলবো| জ্ঞানী লোকের পূর্বপুরুষরা এই কথাগুলো তাদের বলে গিয়েছিলেন| তাঁরা আমার কাছে কোন গোপন কথা লুকিয়ে রাখেননি|
19 তাঁরা একাই তাদের দেশে বাস করেছেন| সেখান থেকে কোন বিদেশীই যায় নি| তাই কোন লোকই তাদের কোন অদ্ভ্ুত আদর্শের কথা বলে নি|
20 এই সব জ্ঞানী লোক বলেছেন, এক জন দুষ্ট লোক সারা জীবন কষ্ট পায়| এক জন নিষ্ঠুর লোক জীবনের সারা বছর কষ্ট পায়|
21 প্রত্যেকটি শব্দ তাকে ভীত করে| সে যখন মনে করে য়ে সে নিরাপদে আছে, তখন শএু তাকে আক্রমণ করবে|
22 এক জন দুষ্ট লোক প্রচণ্ড হতাশাগ্রস্ত এবং অন্ধকারকে এড়াবার তার কোন পথই নেই| কোন একটা জায়গায় একটা তরবারী আছে যা তাকে হত্যা করার জন্য অপেক্ষা করছে|
23 সে এখানে ওখানে খাবারের খোঁজে ঘুরে বেড়ায়| সে জানে য়ে কঠিন সময় আসন্ন|
24 দুঃখ এবং যন্ত্রণা তাকে ভীত করে| এগুলো তাকে রাজার মতো আক্রমণ করে য়েন তাকে ধ্বংসের জন্য প্রস্তুত|
25 কেন? কারণ দুষ্ট লোকরা ঈশ্বরের বাধ্য হতে চায় না- তারা ঈশ্বরকে ঘুষি দেখায়, এবং সর্বশক্তিমান ঈশ্বরকে পরাজিত করতে চায়|
26 দুষ্ট লোকরা ভীষণ একগুঁযে| তারা একটা মোটা শক্ত ঢাল নিয়ে ঈশ্বরকে আক্রমণ করে|
27 “এক জন লোক ধনী এবং মোটা হতে পারে,
28 কিন্তু সে ধ্বংস হয়ে যাওয়া শহরে, যেখানে কেউ থাকে না অথবা য়ে সমস্ত বাড়ীগুলো ধ্বংস হবার জন্য ঠিক হয়েছে সেগুলোতে বাস করবে|
29 দুষ্ট লোকরা দীর্ঘদিন ধরে ধনী থাকবে না| তার সম্পদ স্থায়ী হবে না| তার ফসল বাড়বে না|
30 দুষ্ট লোক অন্ধকারকে এড়াতে পারবে না| সে সেই গাছের মতো হবে যার পাতা রোগে শুকিয়ে যায় এবং বাতাস তাদের সবাইকে উড়িযে নিয়ে যায়|
31 দুষ্ট লোকরা অর্থহীন বিষয়ের ওপর কখনো নির্ভর করে না যা তাদের বিপথে নিয়ে যাবে| কেন? কারণ তারা কিছুই পাবে না|
32 দুষ্ট লোকে তাদের পূর্ণ ব্যাপ্তির জীবনযাপন করতে পারবে না| তারা হবে একটি গাছের মত যার ডালপালা শুকিয়ে ঝরে গেছে এবং মরে গেছে|
33 দুষ্ট লোকে সেই দ্রাক্ষা গাছের মতো হবে যার দ্রাক্ষা ফল পাবার আগেই শুকিয়ে পড়ে যায়| ঐ লোকটি সেই জলপাই গাছের মতো হবে যার মুকুল ঝরে যায়|
34 কেন? কারণ এক দল ঈশ্বরবিহীন মানুষ ভাল ফল ফলাতে পারে না| যারা ঘুস নেয়, আগুন তাদের বাড়ী ধ্বংস করে দেয়|
35 মন্দ লোকরা সমস্যাকে ধারণ করে এবং মন্দকে জন্ম দেয়| তাদের গর্ভে জন্ম নেয় মিথ্যা|”




অধ্যায় 16

1 তখন ইয়োব উত্তর দিলেন,
2 “আমি এই সব কথা আগেই শুনেছি| তোমরা তিন জন আমাকে কষ্টই দিলে, স্বস্তি নয়|
3 তোমাদের দীর্ঘ ভাষণ আর শেষ হয় না! কিসে তোমাদের এত বিচলিত করেছে য়ে তোমরা কথা বলেই চলেছ?
4 যদি তোমরা আমার সমস্যায় পড়তে, তোমরা য়ে কথাগুলি আমায় বললে, আমিও তোমাদের সেই কথাগুলি বলতে পারতাম| আমিও তোমাদের প্রতি জ্ঞানগর্ভ কথা বলতে পারতাম এবং তোমাদের প্রতি মাথা নাড়াতে পারতাম|
5 কিন্তু আমি তোমাদের উত্সাহ দিতাম এবং য়ে কথাগুলো বলছি, সেগুলো বলে তোমাদের আমি আশা দিতাম|
6 “কথা বললেও আমার যন্ত্রণা চলে যায় না, নীরব থাকলেও আমার ব্যথা আমাকে ছেড়ে যায় না|
7 কিন্তু, হে ঈশ্বর, আপনি আমার শক্তি কেড়ে নিয়েছেন| আপনি আমার সারা পরিবারকে ধ্বংস করে দিয়েছেন|
8 আপনি আমায় শীর্ণ ও দুর্বল করে দিয়েছেন, এর অর্থ, লোকে মনে করে য়ে আমি অপরাধী|
9 “ক্রোধ ঈশ্বর আমাকে আক্রমণ করেছেন এবং আমার দেহকে ছিন্ন-ভিন্ন করেছেন| ঈশ্বর আমার বিরুদ্ধে তাঁর দাঁত গর্ষন করেছেন| আমার শএু ঘৃণাভরে আমার দিকে তাকায|
10 আমার চার দিকে লোক জন জড়ো হয়েছে| তারা আমাকে নিয়ে মজা করে এবং আমার গালে চড় মারে|
11 ঈশ্বর আমাকে মন্দ লোকদের হাতে তুলে দিয়েছেন| তিনি দুষ্ট লোকের হাতে আমাকে তুলে দিয়েছেন|
12 আমার সব কিছুই সুন্দর ছিলো কিন্তু ঈশ্বর আমায় ধ্বংস করেছেন! হ্যাঁ, তিনিই আমার ঘাড় ধরে আমায় খণ্ড-বিখণ্ড করেছেন| ঈশ্বর আমাকে লক্ষ্যভেদের বস্ুতে পরিণত করেছেন|
13 ঈশ্বরের তীরন্দাজ সৈন্যরা আমার চারদিকে ঘুরছে| তিনি আমার বৃক্কে তীর ছুঁড়ছেন| তিনি আমাকে কোন দযা দেখান না| তিনি আমার পিত্তকে মাটিতে ফেলে দেন|
14 বার বার ঈশ্বর আমায় আক্রমণ করেন| যুদ্ধের সৈন্যরা য়েমন তেড়ে আসে তেমন করে তিনি আমার দিকে ছুটে আসেন|
15 “আমি নিদারুণ ভাবে দুঃখী, তাই আমি এই দুঃখের বস্ত্র পরেছি| আমি এই ধূলো ও ছাইযের ওপর বসে অনুভব করি য়ে আমি পরাজিত|
16 কেঁদে কেঁদে আমার মুখ লাল হয়ে গেছে| আমার চোখে ঘন অন্ধকার নেমে এসেছে|
17 আমি কারো প্রতিই নৃশংস ছিলাম না| কিন্তু এই মন্দ ঘটনাগুলি আমার ক্ষেত্রে ঘটেছে| আমার প্রার্থনা যথায়থ ও পবিত্র|
18 “আমার প্রতি য়ে অন্যায় ঘটেছে, হে পৃথিবী, তুমি তা গোপন কর না| ন্যাযের জন্য আমার আর্তিকে স্ত? হতে দিও না|
19 এখনও পর্য়ন্ত স্বর্গে কেউ আছে য়ে আমার পক্ষে কথা বলবে| এখনও পর্য়ন্ত ওপরে কেউ আছে য়ে আমার পক্ষে সাক্ষী দেবে|
20 আমার চোখ যখন ঈশ্বরের জন্য অশ্রু বিসর্জন করে, আমার বন্ধুরা আমার হয়ে কথা বলে|
21 এক জন য়ে ভাবে বন্ধুর জন্য তর্ক করে, সেই ভাবেই সে আমার জন্য ঈশ্বরের সঙ্গে কথা বলে|
22 “আর মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই আমি সেখানে যাবো য়েখান থেকে ফেরা যায় না|




অধ্যায় 17

1 আমার হৃদয় ভগ্ন হয়েছে, আমি প্রাণ ত্যাগের জন্য প্রস্তুত| আমার জীবন প্রায় শেষ হয়ে এসেছে| কবর আমার জন্য অপেক্ষা করছে|
2 লোকে আমার চারপাশে দাঁড়িয়ে আমার প্রতি বিদ্রূপের হাসি হাসছে| আমি দেখছি ওরা য়েন আমায় টিটকিরি করছে ও অপমান করছে|
3 “ঈশ্বর, আমাকে মুক্ত করার মূল্য দিন| আর কেউ আমায় সাহায্য করতে পারবে না|
4 আপনি আমার বন্ধুদের বোধশক্তি হরণ করেছেন তাই তারা কিছুই বুঝতে পারছে না| ওদের জয়ী হতে দেবেন না|
5 আপনি জানেন লোকে কি বলছে, ‘বন্ধুকে সাহায্য করার জন্য এক জন লোক তার নিজের সন্তানদের উপেক্ষা করছে|’ কিন্তু আমার বন্ধু আমার বিরুদ্ধে গেছে|
6 আমার নামকে ঈশ্বর প্রত্যেকের কাছে একটা মন্দ শব্দে পরিণত করেছেন| লোকে আমার মুখের ওপর থুতু দেয়|
7 আমার চোখ প্রায় অন্ধ হয়ে গেছে কারণ আমি প্রচণ্ড দুঃখ ও যন্ত্রণার মধ্যে আছি| আমার সারা দেহ প্রচণ্ড শীর্ণ হয়ে ছায়ার মতো হয়ে গেছে|
8 এর ফলে ভালো লোকরা যথার্থই বিহবল হয়ে পড়েছে| যারা ঈশ্বরকে মানে না তাদের বিরুদ্ধে, নির্দোষ লোকদের উত্তেজিত করা হচ্ছে|
9 কিন্তু ভাল লোকরা ভাল জীবনযাপন করবে| নিস্পাপ লোকরা আরও শক্তিশালী হবে|
10 “কিন্তু এগিয়ে এসো, তোমরা সবাই এসো এবং আমাকে বুঝিযে দাও য়ে সবই আমার দোষ| তোমাদের কেউই জ্ঞানী নও|
11 আমার জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে| আমার পরিকল্পনা ধ্বংস হয়ে গেছে; আমার আশা চলে গেছে|
12 কিন্তু আমার বন্ধুরা সব গুলিযে ফেলেছে| তারা ভাবে রাতটাই দিন| তারা ভাবে অন্ধকারই আলোকে দূর করে|
13 কবরকেই আমি আমার নতুন ঘর বলে হয়তো আশা করতে পারি| হয়তো অন্ধকার কবরে আমি আমার শয়্য়া পাতার আশা করব|
14 আমি কবরকে বলতে পারি, ‘তুমিই আমার পিতা,’এবং কৃমিকীটদের বলতে পারি, ‘আমার মা’ ও ‘আমার বোন|’
15 কিন্তু তা যদি আমার একমাত্র আশা হয় তাহলে আমার আর কোন আশাই নেই| তাই যদি আমার এক মাত্র আশা হয় তাহলে লোকে আমার জন্য আর কোন আশাই দেখবে না|
16 আমার আশাও কি কবরে যাবে? আমরা কি এক সঙ্গে ধূলায মিশে যাবো?”




অধ্যায় 18

1 তখন শূহীয বিল্দদ উত্তর দিলেন:
2 “ইয়োব, কখন তুমি কথা বলা বন্ধ করবে? শান্ত হও এবং শোন| আমাদের কিছু বলতে দাও|
3 কেন তুমি আমাদের বোবা গরুর মতো নির্বোধ ভাবছো?
4 ইয়োব, তোমার ক্রোধ শুধু মাত্র তোমাকেই আহত করছে| লোকে কি শুধু তোমার জন্য পৃথিবী ত্যাগ করবে? তুমি কি মনে কর, য়ে শুধু তোমাকে খুশী করতে ঈশ্বর পর্বতকে সরাবেন?
5 “হ্যাঁ, মন্দ লোকের আলো চলে যাবে| তার আগুন দ3 করা বন্ধ করে দেবে|
6 তার ঘরের আলো অন্ধকারে পরিণত হবে| তার নিকটের আলোও নিভে যাবে|
7 তার পদক্ষেপগুলো আর দৃঢ় ও দ্রুত হবে না| কিন্তু সে আস্তে আস্তে দুর্বলের মত হাঁটবে| তার নিজের মন্দ বুদ্ধিই ওর পতন ঘটাবে|
8 তার নিজের পা-ই তাকে ফাঁদের দিকে নিয়ে যাবে| সে ফাঁদের ওপর দিয়েই হাঁটবে এবং ধরা পড়বে|
9 একটা ফাঁদ নিশ্চয়ই ওর পা ধরবেই| একটা ফাঁদ তাকে আঁকড়ে ধরবেই|
10 মাটির কোন একটা দড়ি তাকে ফাঁদে ফেলবেই| তার ফাঁদ রাস্তায় ওর জন্য অপেক্ষা করছে|
11 তার চার দিকেই ভয়ঙ্করতা প্রতীক্ষা করছে| প্রত্যেকটি পদক্ষেপেই ভয় ওকে অনুসরণ করবে|
12 মন্দ সমস্যাসমূহ ওর জন্য ক্ষুধার্তের মত অপেক্ষা করছে| ওর পতন হলেই ধ্বংস ও দুর্বিপাক ওর জন্য ওত্‌ পেতে আছে|
13 ভয়ঙ্কর অসুখ তার গায়ের চামড়া খেয়ে ফেলবে| ঐ অসুখ ওর হাত, পা পচিযে দেবে|
14 দুষ্ট লোককে তার ঘরের নিরাপত্তা থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে| য়ে ভয়ঙ্করের রাজা তার সঙ্গে দেখা করার জন্য ওকে নিয়ে যাওয়া হবে|
15 তার ঘরে কিছুই পড়ে থাকবে না| কেন? জ্বলন্ত গন্ধক ওর বাড়ীর চারপাশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে|
16 ওর নিথস্থ শিকড় শুকিয়ে যাবে, ওর উর্ধস্থ ডালপালাও শুকিয়ে যাবে|
17 পৃথিবীর মানুষ ওকে স্মরণে রাখবে না| কোন লোকই আর ওর নাম উল্লেখ করবে না|
18 লোকে তাকে আলো থেকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেবে| তারা ওকে ওর জগত্‌ থেকে তাড়িয়ে দেবে|
19 ওর কোন পুত্র বা পৌত্র থাকবে না| ওর বাড়ীর কেউই বেঁচে থাকবে না|
20 তার প্রতি কি হয়েছিল দেখে পশ্চিমের লোকরা চমকে উঠবে| পূর্বের লোকরাও ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে যাবে|
21 দুষ্ট লোকদের বাড়িতে সেটা প্রকৃতই ঘটবে| যারা ঈশ্বর সম্পর্কে কোন কিছু গ্রাহ্য করে না তাদের ঠিক এই রকমই ঘটবে!”




অধ্যায় 19

1 তখন ইয়োব উত্তর দিলেন:
2 “আর কতক্ষণ তোমরা আমায় আঘাত করবে এবং বাক্য বাণে আমায় জর্জরিত করবে?
3 এখন তোমরা আমাকে দশবার অপমান করেছো| আমায় আক্রমণের সময় তোমরা লজ্জার লেশমাত্র দেখাও নি!
4 এমনকি যদি আমি অপরাধ করে থাকি, তা আমার সমস্যা|
5 তোমরা শুধুমাত্র নিজেকে আমার চেয়ে ভালো বলে দেখাতে চাইছো| তোমরা বলছো য়ে আমার সমস্যাগুলি আমারই এুটির ফলশ্রুতি|
6 কিন্তু আমি চাই তোমরা জান য়ে ঈশ্বর আমার প্রতি ভুল করেছেন| আমাকে ধরার জন্য তিনি ফাঁদ পেতেছেন|
7 আমি চিত্কার করি, ‘ও আমায় আঘাত করেছে!’ কিন্তু আমি কোন উত্তর পাই না| এমনকি যদি আমি সাহায্যের জন্য উচ্চস্বরে ডাক দিই, সুবিচার হয় না|
8 ঈশ্বর আমার পথ রুদ্ধ করে দিয়েছেন তাই আমি এগিয়ে য়েতে পারি না| তিনি আমার পথকে অন্ধকারে আচ্ছন্ন করে দিয়েছেন|
9 ঈশ্বর আমার সম্মান হরণ করে নিয়েছেন| আমার মাথা থেকে তিনি মুকুট কেড়ে নিয়েছেন|
10 আমি শেষ না হওয়া পর্য়ন্ত ঈশ্বর চারদিক থেকে আমার দেওয়ালে আঘাত করবেন| শিকড় সমেত উপড়ে দেওয়া গাছের মত তিনি আমার সব আশা উত্‌পাটিত করেছেন|
11 আমার বিরুদ্ধে ঈশ্বরের ক্রোধ জ্বলছে| তিনি আমাকে তাঁর শএু বলে অভিহিত করেন|
12 আমাকে আক্রমণ করার জন্য ঈশ্বর তাঁর সৈন্যদের পাঠিয়েছেন| আমার বিরুদ্ধে তারা আক্রমণের মঞ্চ গড়েছে| আমার তাঁবুর চারদিকে ওরা আস্তানা গেড়েছে|
13 “ঈশ্বর আমার আত্মীয়দের আমার থেকে দূরে পাঠিয়ে দিয়েছেন| এমনকি আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা আমার প্রতি অচেনা লোকের মত ব্যবহার করে|
14 আমার আত্মীয়রা আমায় ছেড়ে চলে গেছে| বন্ধুরাও আমায় ভুলে গেছে|
15 আমার বাড়ীর দর্শনার্থী এবং দাসীরা এমন ভাবে আমার দিকে তাকায য়েন আমি আগন্তুক এবং বিদেশী|
16 আমি আমার ভৃত্যকে ডাকি কিন্তু সে সাড়া দেয় না| এখন আমাকে আমার ভৃত্যের কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করতে হবে|
17 আমার স্ত্রী আমার শ্বাসের ঘ্রাণকে ঘৃণা করে| আমার নিজের ভাইরা আমাকে ঘৃণা করে|
18 এমনকি ছোট ছোট শিশুরা আমায় নিয়ে মজা করে| আমি যখন ওদের কাছে আসি ওরা আমায় বাজে কথা বলে|
19 আমার সব ঘনিষ্ঠ বন্ধু আমায় ঘৃণা করে| এমনকি যাদের আমি ভালোবাসি তারাও আমার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে|
20 “আমি এতই শীর্ণ হয়েছি য়ে আমার হাড়ে আমার চামড়া ঝুলছে| খুবই সামান্য জীবন আমাতে অবশিষ্ট আছে|
21 “দযা কর, বন্ধুরা আমার, আমায় দযা কর! কেন? কারণ ঈশ্বর আমার বিরুদ্ধে রযেছেন|
22 য়েমন করে ঈশ্বর আমায় তাড়া করেছেন তোমরাও কেন তেমনি করছো? তোমরা কি আমায় য়থেষ্ট আক্রমণ করনি?
23 “আমার বড় ইচ্ছে করে য়ে আমার কথাগুলো লেখা থাকবে| আমার খুব ইচ্ছে করে সেগুলি গোটানো কাগজে লেখা থাকবে|
24 আমার কথাগুলি য়েন সীসা ও লৌহশলাকা দিয়ে পাথরে খোদাই করা থাকে যাতে কথাগুলো চিরদিন থাকে|
25 আমি জানি একজন আমার স্বপক্ষে আছে| আমি জানি সে বেঁচে আছে| এবং শেষ কালে সে এই মাটিতে দাঁড়াবে এবং আমায় প্রতিরক্ষা করবে|
26 আমি আমার দেহ ত্যাগ করে চলে যাবার পরে এবং আমার দেহের চামড়া নষ্ট হওয়ার পরেও আমি ঈশ্বরকে দেখবো, আমি তা জানি|
27 আমি নিজের চোখে ঈশ্বরকে দেখবো| অন্য কেউ নয়, আমি নিজে ঈশ্বরকে দেখবো, এবং তা আমাকে কতখানি অভিভূত করবে তা আমি বলতে পারবো না! আমার শক্তি সম্পূর্ণ ভাবে চলে গেছে|
28 “তোমরা হয়তো বলবে, ‘আমরা এবিষয়ে চিন্তা করবো এবং আমরা তাকে দোষ দেওয়ার কারণ খুঁজে বের করবো!’
29 কিন্তু একটি তরবারীকে তোমাদের প্রত্যেকেরই নিজের থেকে ভয় পাওয়া উচিত্‌! কেন? কারণ তরবারিই তোমাদের ক্রোধর প্রাপ্য| তখন তোমরা বুঝবে, বিচারের সময় বলে কিছু আছে|”




অধ্যায় 20

1 তখন নামাথার সোফর উত্তর দিলো:
2 “ইয়োব, তুমি আমার চিন্তাকে তাড়িত করেছো, তাই আমার ভেতরের এই অনুভূতিগুলির জন্য আমি অবশ্যই তোমাকে উত্তর দেবো| আমি কি ভাবছি, তা আমি খুব তাড়াতাড়ি বলবো|
3 তোমার উত্তর দিয়ে তুমি আমাকে অপমানিত করেছো| কিন্তু আমি বুদ্ধিমান, আমি জানি কি করে তোমাকে উত্তর দিতে হয়|
4 “তুমি জানো য়ে এক জন বদ লোকের আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয় না| তুমি নিশ্চয়ই জান য়ে যখন থেকে আদমকে এই পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল, তখন থেকেই এটা সত্য| য়ে লোক ঈশ্বরকে গ্রাহ্য করে না, সে খুব অল্প সময়ের জন্য সুখী হয় মাত্র|
5
6 এমনকি যদি বদ লোকের অহঙ্কার আকাশকে স্পর্শ করে এবং তার মাথা মেঘকে স্পর্শ করে
7 তবু তার মলের মতো সেও চির দিনের জন্য নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে| য়ে লোকরা তাকে চিনতো তারা বলবে, ‘কোথায় সে?’
8 সে স্বপ্নের মতোই উড়ে যাবে এবং কেউ তাকে আর খুঁজে পাবে না| একটা দুঃস্বপ্নের মতো তাকে জোর করে তাড়ানো হবে এবং লোকে তাকে ভুলে যাবে|
9 যারা তাকে দেখতো তারা তাকে আর দেখতে পাবে না| ওর পরিবার ওর দিকে আর তাকাবে না|
10 বদ লোকদের সন্তানরা দরিদ্র লোকদের কাছে সাহায্য চাইবে| মন্দ লোকটি অবশ্যই নিজের হাতে তার সম্পত্তি ফিরিযে দেবে|
11 যখন ও যুবক ছিল তখন হয়ত তার হাড়গুলো শক্ত, মজবুত এবং তারুণ্যে ভরা ছিল, কিন্তু ওর সঙ্গে ওরাও ধূলোয় শুয়ে থাকবে|
12 “মন্দ লোকদের মুখে খারাপটাই মিষ্টি লাগে| তাকে সে জিভের তলায় রাখে|
13 মন্দ লোক খারাপটাকেই উপভোগ করে| সুমিষ্ট মিছরীর মতই সে সেটাকে মুখে ধরে রাখে|
14 কিন্তু সেই মন্দটাই ওর পেটের ভেতর গিয়ে বিষ হয়ে উঠবে| এটা ওর শরীরের ভেতরে গিয়ে, সাপের বিষের মতোই বিষাক্ত হয়ে উঠবে|
15 মন্দ লোকরা সম্পত্তি গলাধঃকরণ করে| কিন্তু ওরা তা উগরে দেবে| ঈশ্বরই ওই লোকদের দিয়ে তা বমি করাবেন|
16 মন্দ লোকরা সাপের বিষ চুষে নেয়| সাপের বিষ দাঁতই ওদের হত্যা করবে| দুষ্ট লোকদের বিষাক্ত সাপ দংশন করবে এবং বিষ তাদের মেরে ফেলবে|
17 য়ে নদী দুধ এবং মধু সহ প্রবাহিত হয় মন্দ লোকরা তা দেখার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে|
18 মন্দ লোকরা তাদের লাভের অংশ ফিরিযে দিতে বাধ্য হবে| তারা যার জন্য পরিশ্রম করেছে, তাদের তা উপভোগ করতে দেওয়া হবে না|
19 কেন? কারণ মন্দলোক গরীব লোকদের আঘাত করে এবং তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে| সে তাদের গ্রাহ্য করে না এবং তাদের জিনিস কেড়ে নেয়| অন্যের তৈরী বাড়ী সে জবরদখল করে|
20 “দুষ্ট লোকরা কখনও সুখী হয় না| তাদের সম্পত্তি তাদের বাঁচাতে পারবে না|
21 যখন তারা খায়, কিছুই অবশিষ্ট থাকে না| সুতরাং তাদের সাফল্য দীর্ঘস্থায়ী হবে না|
22 যখন দুষ্ট লোকের হাতে প্রচুর সম্পদ থাকবে তখনই সে সমস্যার দ্বারা ন্য়ুবতৃ হয়ে যাবে| ঐ লোকের নিজের সঙ্গেই ওর সমস্যা নেমে আসবে!
23 মন্দ লোকরা তাদের আকাঙ্খার সব কিছু আহার করার পর, ঈশ্বর ওদের ওপর তাঁর জ্বলন্ত ক্রোধ বর্ষণ করবেন, ঈশ্বর তাদের খাবার হিসেবে শাস্তি বর্ষণ করবেন|
24 দুষ্ট লোকরা হয়তো লৌহ তরবারী থেকে পালিয়ে য়েতে পারে, কিন্তু পিতল ধনুা অতর্কিতে আক্রমণ করবে|
25 তাম্র শর ওদের শরীর ভেদ করে যাবে এবং ওদের পিঠ ফুঁড়ে বের হবে| তীরের তীক্ষ্ণ ফলা ওদের প্লীহা ভেদ করে যাবে এবং ওরা ভয়ে শিউরে উঠবে|
26 ওদের সমস্ত সম্পদ ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে| একটি আগুন ওদের ধ্বংস করবে- একটি আগুন যা কোন মানুষ শুরু করে নি| সেই আগুন বাড়ীর সব কিছুকে ধ্বংস করবে|
27 আকাশ দুষ্ট ব্যক্তির অপরাধ প্রকাশ করে দেবে| তার বিরুদ্ধে সাক্ষী হয়ে আকাশ উঠে দাঁড়াবে|
28 ঈশ্বরের ক্রোধর বন্যায় ওর বাড়ী ধুয়ে মুছে চলে যাবে|
29 মন্দ লোকদের প্রতি ঈশ্বর এমনটাই করবেন| ওদের দেওয়ার জন্য এটাই ঈশ্বরের পরিকল্পনা|”




অধ্যায় 21

1 তখন ইয়োব উত্তর দিলেন:
2 “আমি যা বলি অনুগ্রহ করে শোন, আমাকে সান্ত্বনা দিতে এটাই হোক তোমার পথ|
3 আমার সম্পর্কে ধৈর্য়্য় ধর এবং আমাকে কথা বলতে দাও| আমার বলা শেষ হলে, তোমরা আমায় নিয়ে মজা করতে পারো|
4 “আমি লোকের নামে অভিয়োগ করছি না| আমার অসহিষ্ণুতার য়থেষ্ট কারণ আছে|
5 আমার দিকে দেখ এবং আতঙ্কিত হও| তোমার হাত তোমার মুখের ওপরে রাখ এবং বিস্মযের সঙ্গে তাকিযে দেখ|
6 আমি যখন ভাবি আমার প্রতি কি ঘটেছে, আমি তখন ভয় পাই, আমার শরীর কাঁপতে থাকে!
7 কেন দুষ্ট লোকরা দীর্ঘ জীবন বাঁচে? কেন তারা বৃদ্ধ হয় ও সফল হয়?
8 দুষ্ট লোকরা তাদের সন্তানদের দেখে, তাদের সঙ্গে বড় হতে দেখে| দুষ্ট লোকরা তাদের নাতিদের দেখার জন্যও বেঁচে থাকে|
9 ওদের ঘরবাড়ী নিরাপদে থাকে এবং ওরাও নিঃশঙ্ক থাকে| ওদের শাস্তি দেওয়ার জন্য ঈশ্বর একটি লাঠিও ব্যবহার করেন না|
10 তাদের বলদগুলো সঙ্গম করতে কখনো অপারগ নয়| তাদের গাভীগুলোর বাছুর হয় এবং জন্মের সময়ে বাছুরগুলো মরে যায় না|
11 দুষ্ট লোকরা তাদের সন্তানদের, মেষশাবকের মত খেলা করতে পাঠায়| তাদের সন্তানরা নাচ করতে থাকে|
12 তারা খঞ্জর, বীণা এবং বাঁশির সঙ্গে নাচ করে|
13 মন্দ লোকরা জীবত্‌কালেই তাদের সাফল্য ভোগ করে| তারপর তারা মারা যায় এবং দুর্ভোগ না ভুগে কবরে চলে যায়|
14 কিন্তু মন্দ লোকরা ঈশ্বরকে বলে, ‘আমাদের একা ছেড়ে দাও! তুমি আমাদের দিয়ে কি করাতে চাও, সে বিষয়ে আমরা পরোযা করি না!’
15 মন্দ লোকরা আরও বলে, ‘কে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর? আমাদের তাকে সেবা করার দরকার নেই! তার কাছে প্রার্থনা করেই বা কি লাভ?’
16 “একথা সত্য য়ে দুষ্ট লোকরা তাদের ভবিষ্যত্‌ স্থির করতে পারে না| আমি ওদের মতামত গ্রহণ করি না|
17 কিন্তু কতবার মন্দ লোকদের আলো নিভে যায়? কতবার মন্দ লোকদের ওপর দুর্গতি ঘনিয়ে আসে? কতবার ঈশ্বর রুদ্ধ হয়ে ওদের শাস্তি দেবেন?
18 কত বার তারা খড়কুটোর মতো উড়ে যায় কিংবা ঝোড়ো বাতাসের মুখে তুষের মত উড়ে যায়?
19 কিন্তু তুমি বলছো, ‘পিতার পাপের জন্য ঈশ্বর তার সন্তানকে শাস্তি দেন|’ না! ঈশ্বরের উচিত্‌ পাপীদের শাস্তি দেওয়া| তখনই মন্দ লোক বুঝতে পারবে তার নিজের পাপের জন্যই তাকে শাস্তি দেওয়া হল!
20 পাপীকে তার নিজের পতন দেখতে দাও| তাকে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের ক্রোধ অনুভব করতে দাও|
21 এক জন মন্দ লোকের জীবন যখন শেষ হয়ে যায়, এবং সে যখন মারা যায়, তখন সে ফেলে যাওয়া সংসারের কথা চিন্তাও করে না|
22 “কেউই ঈশ্বরকে জ্ঞানের শিক্ষা দিতে পারে না| ঈশ্বর গুরুত্বপূর্ণ লোকদেরও বিচার করেন|
23 এক জন লোক পরিপূর্ণ এবং সফল জীবন অতিবাহিত করে মারা যায়| সে সম্পূর্ণ আরাম ও নিরাপত্তার জীবন কাটিযে ছিল|
24 তার দেহ সুপুষ্ট ছিলো এবং তার হাড়গুলো তখনও শক্ত ছিলো|
25 কিন্তু অন্য এক জনও কঠোর জীবন সংগ্রামের পর দুঃখী হৃদয় নিয়ে মারা গেল| সে কোন দিনই ভালো কিছু উপভোগ করতে পারে নি|
26 শেষ কালে, ওই দুই জন লোকই এক সঙ্গে ধূলিতে শুয়ে থাকবে, উভয়ের দেহই পোকাতে ছেযে যাবে|
27 “কিন্তু আমি জানি তুমি কি চিন্তা করছো, এবং আমি জানি তুমি আমাকে আঘাত করতে চাইছো|
28 তুমি হয়তো বলতে পারো: ‘আমাকে রাজপুত্রের সুন্দর ঘড়বাড়ী দেখাও| এখন দেখাও, কোথায় দুষ্ট লোকরা বাস করে|’
29 “সত্যই তুমি ভ্রমণকারীর সঙ্গে কথা বলেছো| নিশ্চিত ভাবে তুমি তাদের গল্পকেই গ্রহণ করবে|
30 দুর্গতি যখন আসে, তখন মন্দ লোকরা বিপদ থেকে বেঁচে যায়| ঈশ্বর যখন তাঁর ক্রোধ প্রদর্শন করেন, তারা তখন বেঁচে যায়|
31 মন্দ লোকের মন্দ কাজের জন্য কেউই তার মুখের ওপর সমালোচনা করে না| তার মন্দ কাজের জন্য কেউই তাকে শাস্তি দেয় না|
32 যখন দুষ্ট ব্যক্তিকে কবরে বয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, তার কবরের কাছে একজন রক্ষী দাঁড়িয়ে থাকে|
33 সেই মন্দ লোকের জন্য কবরের মাটিও রমণীয হয়ে ওঠে| এবং তার শবযাত্রায হাজার হাজার লোক অংশ নেয়|
34 “তাই, তোমার শূন্যগর্ভ কথা দিয়ে তুমি আমাকে সান্ত্বনা দিতে পারবে না| তোমার উত্তর কোন কাজেই আসবে না!”




অধ্যায় 22

1 তখন তৈমনীয ইলীফস উত্তর দিল:
2 “ঈশ্বরের কি তোমার সাহায্যের প্রয়োজন আছে? না! এমনকি এক জন খুব জ্ঞানী লোকও ঈশ্বরের কাছে প্রয়োজনীয় নয়|
3 তুমি যদি ন্যায়পরাযণ হও তাহলে ঈশ্বরের কি কোন সাহায্য হয়? না! অথবা তুমি যদি অনিন্দনীয হও তাহলে তা কি ঈশ্বরের পক্ষে লাভজনক হয়? না!
4 “ইয়োব, তোমার সমীহর কারণেই কি ঈশ্বর তোমাকে সংশোধন করেন? এই কারণেই কি তিনি বিচারে তোমার বিরুদ্ধে আসেন?
5 না, এর কারণ তুমি অনেক পাপ করেছো| ইয়োব, তুমি পাপ করা বন্ধ কর নি|
6 হতে পারে তোমার কোন ভাইকে টাকা ধার দিয়েছিলে, এবং সে য়ে তোমাকে তা ফেরত্‌ দেবে তা প্রমাণ করার জন্য তোমাকে কিছু দেওয়ার জন্য তুমি তাকে বাধ্য করেছিলে| তুমি হয়তো ঋণের বন্ধক হিসেবে কোন দরিদ্র মানুষের বস্ত্র নিয়েছিলে| হয়তো অকারণেই তুমি এসব করেছিলে|
7 তুমি হয়তো বা ক্ষুধার্ত ও শ্রান্ত মানুষকে খাবার ও জল দাও নি|
8 ইয়োব তোমার প্রচুর খামারবাড়ি আছে| লোকরাও তোমায় সম্মান করে|
9 কিন্তু এমন হতে পারে য়ে তুমি বিধ্বাদের কিছু না দিয়েই ফিরিযে দিয়েছো| হয়তো বা তুমি অনাথদের প্রতারিত করেছো|
10 সেই জন্য তোমার চারদিকে ফাঁদ পাতা রযেছে এবং আকস্মিক সমস্যা তোমায় ভীত করে|
11 সেই কারণেই এটা এত অন্ধকার য়ে তুমি দেখতে পাও না, এবং বন্যার মত জলরাশি তোমায় ডুবিয়ে দেয়|
12 “ঈশ্বর স্বর্গের উচ্চতম স্থানে বাস করেন| দেখ তারাগুলো কত উঁচুতে রযেছে| কিন্তু ঈশ্বর এতই উচেচ রযেছেন য়ে ঈশ্বর তারাগুলোকে নীচের দিকে চেয়ে দেখেন|
13 কিন্তু ইয়োব তুমি বলেছিলে, ‘ঈশ্বর কি জানেন?’ ঈশ্বর কি কালো মেঘের ভেতর দিয়ে দেখতে পান এবং আমাদের বিচার করতে পারেন?
14 ঘন মেঘ আমাদের থেকে তাঁকে আড়াল করে, য়েহেতু তিনি আকাশ সীমার ওপর বহির্দেশে বিচরণ করেন তাই তিনি আমাদের দেখতে পান না|’
15 “ইয়োব তুমি সেই পুরানো পথেই চলছো য়ে পথে অতীতের মন্দ লোকরা চলেছিল|
16 সেই মন্দ লোকরা তাদের সময়ের আগেই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে গেছে| বন্যায় তাদের ভিত ভেসে গেছে|
17 ঐ লোকগুলো ঈশ্বরকে বলেছিলো: ‘আমাদের একা ছেড়ে দিন! সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের জন্য কিছুই করতে পারবেন না!’
18 এবং ঈশ্বরই নানাবিধ ভালো জিনিস দিয়ে ওদের ঘর ভরিয়ে দিয়েছিলেন! না আমি মন্দ লোকের উপদেশ মানতে পারব না|
19 ন্যায়পরাযণ লোকরা ওদের ধ্বংস হতে দেখবে এবং ঐ সব সত্‌ লোকই সুখী হবে| নির্দোষ লোকরা মন্দ লোকদের উপহাস করবে|
20 ‘সত্যই তোমার শএুরা বিনষ্ট হয়েছে! অগ্নি ওদের সব সম্পদ বালিয়ে দেবে!’
21 এখন ইয়োব, নিজেকে ঈশ্বরের কাছে সঁপে দাও এবং তাঁর সঙ্গে শান্তি চুক্তি স্থাপন কর| এটা কর, তুমি অনেক ভালো জিনিস পাবে|
22 এই শিক্ষা গ্রহণ কর| তিনি যা বলেন, তাতে মনোয়োগ দাও|
23 ইয়োব, সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে ফিরে এসো, তুমি উদ্ধার হয়ে যাবে| কিন্তু তুমি অবশ্যই তোমার তাঁবুগুলি থেকে অহিতকারী মন্দকে দূর করবে|
24 নিজের জমানো সোনাকে আবর্জনার বেশী কিছু ভেবো না, তোমার শ্রেষ্ঠ সোনাকেওনদীর নুড়ি-পাথরের মত তুচ্ছ জ্ঞান কর|
25 এবং সর্বশক্তিমান ঈশ্বরকে তোমার সোনা করে নাও| ঈশ্বরকে তোমার রূপোর স্তূপ হতে দাও|
26 তারপর তুমি ঈশ্বরকে উপভোগ করতে পারবে| তারপর তুমি ঈশ্বরের সামনে দাঁড়াতে পারবে|
27 তুমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করবে এবং তিনি তোমার প্রার্থনা শুনবেন| তবেই তুমি তোমার প্রতিশ্রুতি রাখতে পারবে|
28 যদি তুমি কিছু করবে বলে মনস্থির করে থাকো তাহলে তা ফলপ্রসূ হবে| এবং তোমার ভবিষ্যত্‌ অবশ্যই উজ্জ্বল হবে!
29 ঈশ্বর অহঙ্কারী লোকদের লজ্জায় ফেলেন| কিন্তু তিনি বিনযী লোকদের সাহায্য করেন|
30 তখন তুমি, যারা ভুল করে তাদের সাহায্য করতে পারবে| তুমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করবে এবং তিনি তাদের ক্ষমা করে দেবেন| কেন? কারণ তুমি শুচি-শুদ্ধ হয়ে যাবে|”




অধ্যায় 23

1 তখন ইয়োব উত্তর দিলেন:
2 “আমি আজ পর্য়ন্ত অভিয়োগ করে যাচ্ছি| কেন? কারণ আমি এখনও ভুগছি|
3 আমার ইচ্ছা হয়, ঈশ্বরকে কোথায় খুঁজে পাওয়া যায় তা যদি জানতাম, তাহলে আমি সেই জায়গায় য়েতাম|
4 আমি আমার কাহিনী ঈশ্বরের কাছে বলতাম, আমি য়ে নির্দোষ এট প্রমাণ করার জন্য আমার মুখ যুক্তিতে পরিপূর্ণ হয়ে থাকত|
5 কেমন করে ঈশ্বর আমার প্রশ্নর জবাব দেবেন সেটাই আমি জানতে চাই| আমি ঈশ্বরের উত্তরকে বুঝতে চাই|
6 ঈশ্বর কি আমার বিরুদ্ধে তাঁর শক্তিকে ব্যবহার করবেন? না, তিনি আমার কথা শুনবেন!
7 সেখানে একটি ন্যায়পরাযণ লোক ঈশ্বরের সঙ্গে তর্ক করতে পারে| তখন আমার বিচারক আমাকে মুক্তি দিতে পারেন|
8 “কিন্তু আমি যদি পূর্ব দিকে যাই সেখানে ঈশ্বর নেই| আমি যদি পশ্চিমে যাই, তখনও আমি ঈশ্বরকে দেখতে পাই না|
9 যখন ঈশ্বর উত্তরে কর্মরত থাকেন আমি তাঁকে দেখি না| যখন ঈশ্বর দক্ষিণে আসেন, তখনও তাঁকে দেখতে পাই না|
10 কিন্তু ঈশ্বর জানেন আমি কেমন লোক| তিনি আমাকে পরীক্ষা করছেন এবং তিনি দেখবেন য়ে আমি সোনার মতোই পবিত্র|
11 আমি সর্বদাই ঈশ্বরের চাওযা পথে জীবনধারণ করেছি| আমি কখনও ঈশ্বরকে অনুসরণ করা থেকে বিরত হইনি|
12 আমি সর্বদাই ঈশ্বরের নির্দেশ মেনে এসেছি| আমি আমার খাবারকে যত না ভালোবাসি, তার থেকে বেশী ভালোবাসি ঈশ্বরের মুখ নিঃসৃত বাণী|
13 “কিন্তু ঈশ্বর কখনও পরিবর্তিত হন না| ঈশ্বরের বিরুদ্ধে কেউ দাঁড়াতে পারে না| ঈশ্বর যা চান তাই করতে পারেন|
14 আমার প্রতি ঈশ্বরের যা পরিকল্পনা আছে তিনি তাই করবেন| এবং আমার সম্পর্কে তাঁর অনেক পরিকল্পনা আছে|
15 সেই কারণেই আমি ঈশ্বরের দ্বারা আতঙ্কিত| আমি এই জিনিসগুলো বুঝতে পারি| সেই কারণেই আমি ঈশ্বরের সম্পর্কে ভীত|
16 ঈশ্বর আমার হৃদয়কে দুর্বল করে দেন এবং আমি সাহস হারিয়ে ফেলি| সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাকে ভীত করেন|
17 য়ে মন্দ ঘটনাগুলো আমার ক্ষেত্রে ঘটেছে তা আমার মুখে কালো মেঘের মত ছেযে আছে| সেই অন্ধকার আমাকে চুপ করে থাকতে দেবে না|”




অধ্যায় 24

1 “এমন কেন হয় য়ে মানুষের জীবনে যখন মন্দ ঘটনা ঘটতে চলেছে তা সর্বশক্তিমান ঈশ্বর জানেন, কিন্তু তাঁর অনুগামীরা এমনকি অনুমানও করতে পারে না য়ে কখন তিনি সে বিষয়ে কিছু করতে চলেছেন?”
2 “লোকে তাদের জমির সীমারেখা সরিয়ে দেয় আরও জমি দখল করার জন্য| লোকে মেষের পাল চুরি করে তাদের অন্য চারণক্ষেত্রে নিয়ে চলে যায়|
3 তারা অনাথদের গাধা চুরি করে| তারা বিধ্বাদের বলদগুলো বন্ধক রাখে|
4 তারা দরিদ্র লোকদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়| সব গরীব লোকই এই মন্দ লোকগুলোর কাছ থেকে লুকিয়ে থাকতে বাধ্য হয়|
5 “দরিদ্র লোকগুলো খাবারের সন্ধানে বুনো গাধার মত মরুভূমিতে ঘুরে বেড়ায়| খাদ্যের সন্ধানে তারা খুব সকালে উঠে পড়ে| তাদের ছেলেমেয়েদের খাদ্যের জন্য তারা জনহীন স্থানে খাবার খুঁজে বেড়ায়|
6 দরিদ্র লোকরা মন্দ লোকেদের মাঠে গবাদি পশুর জাব কাটে| মন্দ লোকেদের দ্রাক্ষা ক্ষেত থেকে তারা পড়ে থাকা দ্রাক্ষা নিজেদের জন্য জোগাড় করে|
7 দরিদ্র লোককে সারা রাত্রি বিনা বস্ত্রে শুতে হয়| শীত থেকে নিজেদের রক্ষা করার মত কোন আবরণ তাদের নেই|
8 তারা পাহাড়ের বৃষ্টিতে ভিজে যায়| তাদের কোন আশ্রয় নেই, তাই তারা বড়বড় পাথরগুলোর কাছে গা ঘেঁসাঘেঁসি করে দাঁড়িয়ে থাকে|
9 মন্দ লোকরা কচি কচি বাচচাগুলোকে তাদের মায়ের বুক থেকে টেনে নিয়ে যায়| দুষ্ট লোকরা ধারশোধের টাকা হিসেবে গরীবদের কাছ থেকে তাদের শিশুদের ছিনিয়ে নিয়ে যায়|
10 দরিদ্র লোকদের কোন কাপড়-চোপড় নেই| তারা উলঙ্গ হয়ে ঘুরে বেড়ায়| তারা শস্য়ের বোঝা বয়ে নিয়ে যায়|
11 দরিদ্র লোকরা পিষে জলপাই এর তেল বের করে| যেখানে আঙ্গুর পেষা হয় সেখানে তারা দ্রাক্ষা মর্দন করে| কিন্তু তারা কিছু পান করতে পায় না|
12 এই শহরে যারা মারা যাচ্ছে এমন লোকদের দুঃখের বিষাদময কান্না তুমি শুনতে পাবে| ওই আহত লোকরা সাহায্যের জন্য কাতর হয়ে কাঁদে| কিন্তু ঈশ্বর তাতে মনোয়োগ দেন না|
13 “কিছু লোক আলোর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে| তারা জানে না ঈশ্বর কি চান| ঈশ্বর য়ে পথে চান, তারা সে পথে জীবন ধারণ করে না|
14 এক জন হত্যাকারী খুব সকালে ওঠে এবং সে দরিদ্র অসহায় লোকদের হত্যা করে| রাত্রিবেলা সে এক জন চোর হয়ে যায়|
15 য়ে লোক য়ৌন অপরাধ করে সে রাত্রির প্রতীক্ষায থাকে| সে মনে করে, ‘কোন লোকই আমাকে দেখতে পাবে না|’ কিন্তু তখনও সে তার মুখ আবৃত করে রাখে|
16 রাতে যখন অন্ধকার নামে, মন্দ লোকরা বাইরে বের হয় এবং অন্যের ঘর ভেঙে প্রবেশ করে| কিন্তু দিনের আলোয, তারা নিজেদের ঘরে নিজেদের বন্দী করে রাখে এবং আলোকে এড়াতে চায়|
17 মন্দ লোকদের কাছে অন্ধকারতম রাত্রিই সকালের মত মনে হয়| হ্যাঁ, তারা ঐ সাংঘাতিক অন্ধকারের ভয়ঙ্করতাকে খুব ভালো করে জানে!
18 “তুমি দাবী কর মন্দ লোকরা শুধু জলে ভাসমান খড়ের মত| তারা য়ে জমি অর্জন করে তা অভিশপ্ত, তাই তারা তাদের জমি থেকে দ্রাক্ষা সংগ্রহ করতে পারে না|
19 শীতের তুষার থেকে খরা এবং তাপ জল শুষে নেয়| একই রকম ভাবে, পাতাল পাপীদের হরণ করে নেয়|
20 তার নিজের মা পর্য়ন্ত তাকে ভুলে যাবে| পোকাদের কাছে ওর দেহটা মিষ্টি লাগবে| লোকে তাকে মনে রাখবে না| অতএব মন্দত্ব একটা লাঠির মত ভেঙে যাবে|
21 মন্দ লোকরা সন্তানহীন নারীদের আঘাত করে| তারা বিধ্বা নারীদের সাহায্য করতে অস্বীকার করে|
22 “মহানুভব লোকদের ধ্বংস করার জন্য মন্দ লোকরা তাদের ক্ষমতা ব্যবহার করে| মন্দ লোকরা শক্তিশালী হতে পারে কিন্তু ওদের নিজের জীবন সম্পর্কে ওরা নিশ্চিত হতে পারবে না|
23 মন্দ লোকরা খুব অল্প সময়ের জন্য নিরাপদ ও সুনিশ্চিত হতে পারে| ওরা ক্ষমতাসম্পন্ন হতে চাইতে পারে|
24 মন্দ লোকরা অল্প সময়ের জন্য সফল হতে পারে, কিন্তু তারাও চলে যাবে| আর লোকদের মত তাদেরও ফসলের মত কেটে ফেলা হবে|
25 “কন্তু আমি বলি কে আমাকে ভুল বলে প্রমাণ করতে পারে? এবং আমার কথাগুলো কে ঈশ্বরের কাছে বহন করে নিয়ে যাবে?”




অধ্যায় 25

1 তখন শূহীয় বিল্দদ উত্তর দিলেন:
2 “ঈশ্বরই শাসক| প্রতিটি লোককে তাঁর সামনে সভয়ে দাঁড়াতে হবে| তাঁর ঊর্দ্ধলোকের রাজ্যে তিনি শান্তি বজায় রাখেন|
3 কোন লোকই তাঁর ঐশ্বরীয সৈন্যবাহিনীকে গুণতে পারে না| ঈশ্বরের আলো সবার ওপর প্রতিভাত হয়|
4 ঈশ্বরের তুলনায় কেই বা অধিকতর পবিত্র? কোন মানুষই প্রকৃত অর্থে পবিত্র হতে পারে না|
5 ঈশ্বরের চোখে চাঁদ পর্য়ন্ত উজ্জ্বল নয়, তারারাও খাঁটি নয়|
6 মানুষ ঈশ্বরের তুলনায় কম খাঁটি| তুলনায়, মানুষ উল্লু এবং কৃমিকীটের মত!”




অধ্যায় 26

1 তখন ইয়োব উত্তর দিলেন:
2 “বিল্দদ, সোফর এবং ইলীফস, এই ক্লান্ত ও শ্রান্ত মানুষটির জন্য তোমরা সত্যিই খুব বড় সহায় হয়েছিলে| সত্যিই তোমরা আমার মস্তবড় উত্সাহদাতা, আমার দুর্বল বাহুকে তোমরা সত্যিই আবার শক্ত করে তুলেছো!
3 সত্যিই, য়ে লোকের কোন প্রজ্ঞা নেই, তাকে তোমরা চমত্কার উপদেশ দিয়েছো! তোমরা য়ে কত জ্ঞানী, তোমরা তা প্রদর্শন করেছো|
4 কে তোমাদের এসব বলতে সাহায্য করেছে? কার আত্মা তোমাদের উত্সাহিত করেছে?
5 “মৃত লোকদের আত্মা, মাটির তলায় জলের ভেতরে ভয়ে কাঁপতে থাকে|
6 কিন্তু ঈশ্বর মৃত্যুর স্থান পরিষ্কার দেখতে পান| মৃত্যু ঈশ্বরের কাছ থেকে লুকিয়ে থাকতে পারে না|
7 ঈশ্বর উত্তর আকাশকে শূন্য লোকে প্রসারিত করে দিয়েছেন| ঈশ্বর পৃথিবীকে শূন্যতায ঝুলিয়ে দিয়েছেন|
8 ঘন মেঘকে ঈশ্বর জলে পরিপূর্ণ করেছেন| কিন্তু সেই বিপুল ভারে, ঈশ্বর, মেঘকে ভেঙে পড়তে দেন না|
9 ঈশ্বর, পূর্ণিমার চাঁদের মুখ ঢেকে দেন| তিনি চাঁদের ওপর মেঘকে আবৃত করে তাকে লুকিয়ে ফেলেন|
10 ঈশ্বর সমুদ্রের ওপর একটি দিগন্ত-রেখা এঁকে দিয়েছেন| সেই দিগন্ত রেখায় দিনরাত্রি মিলিত হয়|
11 ভূগর্ভস্থ থামগুলি আকাশকে ধারণ করে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে| ঈশ্বর যখন তাদের তিরস্কার করেন তখন তারা ভয়ে চমকে যায় এবং কাঁপতে থাকে|
12 ঈশ্বরের পরাএম সমুদ্রকে শান্ত করে দেয়| ঈশ্বর তাঁর প্রজ্ঞা দিয়ে রাহাবকে ধ্বংস করেছেন|
13 ঈশ্বর তাঁর নিঃশ্বাস দিয়ে আকাশকে পরিষ্কার করেছেন| ঈশ্বরের হাত পলাযমান সর্পকে বিদ্ধ করেছে|
14 ঈশ্বর যা করেন, এগুলি তার দু’একটি বিস্মযকর উদাহরণ মাত্র| আমরা ঈশ্বরের থেকে কেবলমাত্র ফিসফিস শব্দটুকু বজ্রের মত শুনি| ঈশ্বর য়ে কত শক্তিশালী এবং মহত্‌ তা কেউই বুঝতে পারে না|”




অধ্যায় 27

1 তারপর ইয়োব তাঁর কথা অব্যাহত রাখলেন| ইয়োব বললেন,
2 “একথা সত্যি য়ে ঈশ্বর আছেন| এবং তিনি আছেন এটা যতখানি সত্য, তিনি আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে এসেছেন- এটাও ততখানি সত্য| ঈশ্বর সর্বশক্তিমান আমার জীবনকে তিক্ত করে তুলেছেন|
3 কিন্তু যতক্ষণ আমার মধ্যে জীবন আছে এবং আমার নাকে ঈশ্বরের জীবনের শ্বাস-প্রশ্বাস বইছে,
4 ততক্ষণ আমার ঠোঁট কোন মন্দ কথা উচ্চারণ করবে না এবং আমার জিভ একটিও মিথ্যা কথা বলবে না|
5 আমি কখনও স্বীকার করব না য়ে তোমরা সঠিক| আমার মৃত্যু পর্য়ন্ত আমি বলে যাবো য়ে আমি নির্দোষ|
6 য়ে সঠিক কাজ আমি করেছি, তা আমি দৃঢ় ভাবে ধরে থাকবো| আমি সত্‌ পথে বাঁচা থেকে বিরত হব না| যত দিন পর্য়ন্ত আমি বাঁচবো, তত দিন পর্য়ন্ত আমি যা যা করেছি সে সম্বন্ধে আমার কোন অপরাধ বোধ থাকবে না|
7 “আমার শএু য়েন এক জন মন্দ ব্যক্তির মত ব্যবহার পায়| য়ে ব্যক্তি আমার বিরুদ্ধে মাথা তুলবে সে য়েন একজন মন্দ ব্যক্তির মত ব্যবহার পায়|
8 যদি কোন লোক ঈশ্বরের তোযাক্কা না করে, তবে মৃত্যুর সময়ে সেই লোকের জন্য কোন আশাই নেই| ঈশ্বর যখন তার জীবন হরণ করবেন তখন সেই লোকের জন্য কোন আশাই থাকবে না|
9 ঐ মন্দ লোকটি সংকটে পড়বে| সে সাহায্যের জন্য ঈশ্বরের কাছে কেঁদে পড়বে| কিন্তু ঈশ্বর তার কথা শুনবেন না| সে কি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরে আনন্দ লাভ করবে? সে কি সব সময় ঈশ্বরকে ডাকবে? না!
10 কিন্তু ঐ লোকের সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের সঙ্গে কথা বলার আনন্দ উপভোগ করা উচিত্‌ ছিল| ঐ লোকের সর্বক্ষণ ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করা উচিত্‌ ছিল|
11 “আমি তোমাকে ঈশ্বরের ক্ষমতা সম্পর্কে বলবো, আমি তোমার কাছে ঈশ্বর সর্বশক্তিমানের পরিকল্পনা গোপন করবো না|
12 তুমি নিজের চোখেই ঈশ্বরের ক্ষমতা দেখেছো| তাহলে তুমি কেন অর্থহীন কথাবার্তা বলছো?
13 মন্দ লোকরা ঈশ্বরের কাছ থেকে শুধু এইটুকুই পাবে| নিষ্ঠুর লোকরা সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছ থেকে এই সবই পাবে|
14 এক জন মন্দ লোকের অনেক সন্তানাদি থাকতে পারে| কিন্তু তার সন্তানরা যুদ্ধে নিহত হবে| এক জন মন্দ লোকের সন্তানরা য়থেষ্ট খাদ্য পাবে না|
15 তার সন্তানরা, যারা বেঁচে যাবে তারা রোগ দ্বারা কবরস্থ হবে|
16 এক জন মন্দ লোকের প্রচুর রূপো থাকতে পারে কিন্তু তার কাছে সেটি আবর্জনার মতই হবে| তার কাছে প্রচুর বস্ত্র থাকতে পারে তাও তার কাছে কাদার স্তূপের মতো হবে|
17 কিন্তু এক জন সত্‌ লোক তার বস্ত্রাদি পাবে| নির্দোষ লোক তাদের রূপো পাবে|
18 এক জন মন্দ লোক পাখীর বাসার মত একটা বাড়ী বানাতে পারে| একজন রক্ষী য়েমন মাঠে ঘাসের কুটীর বানায় সে হয়ত তার বাড়ীটা ঐরকমই বানাবে|
19 এক জন মন্দ লোক যখন বিছানায শুতে যায়, তখন সে ধনী থাকতে পারে, কিন্তু যখন সে তার চোখ খুলবে তখন তার সব সম্পদ চলে যাবে|
20 বন্যার মতো ভয়ঙ্কর জিনিস ধুয়ে নিয়ে যাবে| একটা ঝড় তার সব কিছু মুছে নিয়ে যাবে|
21 পূবের বাতাস তাকে উড়িযে নিয়ে যাবে এবং সে চলে যাবে| একটা ঝড় তাকে তার জায়গা থেকে উড়িযে নিয়ে যাবে|
22 মন্দ লোকরা হয়তো ঝড়ের শক্তি থেকে পালিয়ে য়েতে চেষ্টা করবে| কিন্তু ঝড় তাকে ক্ষমাহীন ভাবে আঘাত করবে|
23 মন্দ লোকগুলো যখন ছুটে পালাবে, তখন লোকরা হাততালি দেবে| মন্দ লোকরা যখন তাদের বাড়ী থেকে দৌড় দেবে তখন লোকেরা শিস্ দেবে|”




অধ্যায় 28

1 “এমন জায়গা আছে যেখানে মানুষ রূপো পায়, এমন জায়গা আছে যেখানে মানুষ সোনা গলিযে খাঁটি করে|
2 মানুষ মাটি খুঁড়ে লোহা বের করে| পাথর গলিযে তামা নিষ্কাসন করে|
3 কর্মীরা গুহার মধ্যে আলো নিয়ে যায়| ওরা গুহার গভীরে অন্বেষণ করে| গভীর অন্ধকারে ওরা পাথর খোঁজে|
4 খনি-দণ্ডের ওপর কাজ করবার সময় খনির কর্মীরা গভীর পর্য়ন্ত মাটি খোঁড়ে| মানুষ যেখানে বাস করে তারা তার চেয়েও অনেক গভীর পর্য়ন্ত খোঁড়ে, এমন গভীরে যেখানে লোক আগে কখনও যায় নি| তারা দড়িতে অনেক অনেক গভীর পর্য়ন্ত ঝুলতে থাকে|
5 মাটির ওপরে ফসল ফলে, কিন্তু মাটির তলা সম্পূর্ণ অন্যরকম, সব কিছুই য়েন আগুনের দ্বারা গলিত হয়ে রযেছে|
6 মাটির নীচে নীলকান্ত মণি এবং খাঁটি সোনা রযেছে|
7 বুনো পাখিরা মাটির নীচের পথ সম্পর্কে কিছুই জানে না| কোন শকুন সেই অন্ধকার পথ দেখে নি|
8 বন্য পশুরাও কোন দিন সে পথে হাঁটে নি| সিংহও কোন দিন সেই পথে হাঁটে নি|
9 শ্রমিকরা দৃঢ়তম পাথরকেও ভেঙে ফেলে| ঐ শ্রমিকরা সমস্ত পর্বত খুঁড়ে খনি উন্মুক্ত করে|
10 শ্রমিকরা পাথর কেটে সুড়ঙ্গ তৈরী করে| তারা সব রকমের দামী পাথর দেখতে পায়|
11 শ্রমিকরা জলকে বাঁধ্বার জন্য বাঁধ তৈরী করে| তারা লুকানো সম্পদকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসে|
12 “কিন্তু প্রজ্ঞা কোথায় খুঁজে পাওয়া যাবে? আমরা কোথায় বোধশক্তি খুঁজতে যাবো?
13 আমরা জানি না প্রজ্ঞা কি মূল্যবান জিনিস| পৃথিবীর লোক মাটি খুঁড়ে প্রজ্ঞা পেতে পারে না|
14 গভীর মহাসমুদ্র বলে, ‘আমার কাছে প্রজ্ঞা নেই|’ সমুদ্র বলে, ‘আমার কাছে প্রজ্ঞা নেই|’
15 সব চেয়ে খাঁটি সোনার বিনিময়েও তুমি প্রজ্ঞা কিনতে পারবে না| পৃথিবীতে প্রজ্ঞা কেনার মতো য়থেষ্ট রূপো নেই|
16 ওফীরের সোনা বা অকীক মণি বা নীলকান্ত মণি দিয়েও প্রজ্ঞা কেনা যায় না|
17 প্রজ্ঞা সোনা ও স্?টিকের থেকেও মূল্যবান| এমনকি মূল্যবান রত্নখচিত সোনাও প্রজ্ঞা কিনতে পারে না|
18 প্রবাল বা মণির চেয়েও প্রজ্ঞা মূল্যবান| মুক্তোর থেকেও প্রজ্ঞা মূল্যবান|
19 কূশদেশীয পোখরাজ মণিও প্রজ্ঞার মতো সমমূল্যের নয়| তুমি খাঁটি সোনা দিয়েও প্রজ্ঞা কিনতে পারবে না|
20 “তাহলে প্রজ্ঞা কোথা থেকে আসে? বোধশক্তি খুঁজতে আমরা কোথায় যাবো?
21 পৃথিবীর প্রত্যেকটি জীবন্ত বিষয়ের থেকেই প্রজ্ঞা নিজেকে লুকিয়ে রেখেছে| আকাশের পাখিরা পর্য়ন্ত প্রজ্ঞাকে দেখতে পায় না|
22 মৃত্যু ও ধ্বংস বলে, ‘আমরা প্রজ্ঞাকে খুঁজে পাই নি| আমরা শুধু তার সম্পর্কে গুঞ্জন শুনেছি|’
23 “একমাত্র ঈশ্বরই প্রজ্ঞার পথ জানেন| একমাত্র ঈশ্বরই জানেন প্রজ্ঞা কোথায় থাকে|
24 ঈশ্বর পৃথিবীর প্রান্ত পর্য়ন্ত দেখতে পান| আকাশের নীচে সব কিছুই ঈশ্বর দেখতে পান|
25 ঈশ্বর বাযুর গুরুত্ব নিরূপণ করেছেন| তিনিই বৃষ্টির নিয়ম এবং সেখানে কতটা জল থাকবে এবং মেঘ গর্জনের পথ স্থির করেছেন|
26
27 সেই সময় ঈশ্বর প্রজ্ঞাকে দেখেছিলেন এবং এসম্পর্কে ভেবেছিলেন| ঈশ্বর দেখিয়েছিলেন প্রজ্ঞা কত মূল্যবান| এবং ঈশ্বরই প্রজ্ঞার প্রতীক|”
28 ঈশ্বর মানুষকে বললেন: “প্রভুকে শ্রদ্ধা করো ও ভয় কর সেটাই প্রজ্ঞা| কোন মন্দ কাজ করো না এটাই সর্বোত্তম উপল?|”




অধ্যায় 29

1 ইয়োব তাঁর কথোপকথন চালিযে গেলেন| ইয়োব বললেন:
2 “কয়েক মাস আগে আমার জীবন য়েমন ছিলো, আমার জীবন তেমন হোক এই আশা করি| সেই সময় ঈশ্বর আমার ওপর নজর রাখতেন, আমার বিষয়ে তিনি যত্ন নিতেন|
3 সেই সময় ঈশ্বর আমার ওপর জ্যোতি প্রদান করতেন| তাই আমি অন্ধকারেও পথ হাঁটতে পারতাম| ঈশ্বর আমাকে বাঁচার প্রকৃত পথ দেখাতেন|
4 য়ে দিনগুলিতে আমি সফলকাম হয়েছিলাম, এবং ঈশ্বর আমার সঙ্গে ছিলেন, আমি সেই দিনগুলির আশায় থাকি| সেই দিনগুলিতে ঈশ্বর আমার গৃহকে আশীর্বাদ করেছিলেন|
5 যখন ঈশ্বর সর্বশক্তিমান আমার সঙ্গে ছিলেন এবং আমার সন্তান-সন্ততি আমার চারপাশে ছিল, আমি সেই দিনগুলি আকাঙ্খা করি|
6 তখন জীবনটা খুব সুন্দর ছিল| তখন আমি ননী দিয়ে আমার পা ধুয়েছি, তখন আমার কাছে প্রচুর পরিমাণে উত্তম মানের জলপাই তেল ছিল|
7 “তখন এমনি দিন ছিল যখন শহরের প্রবেশষ্ঠারে সর্বসাধারণের সভায আমি বয়স্ক লোকদের সঙ্গে বসতাম|
8 সেখানে প্রত্যেকে আমায় শ্রদ্ধা করতো| যুবকরা যখন আমাকে দেখতে পেতো তখন তারা সরে দাঁড়াতো| এমনকি বৃদ্ধরাও উঠে দাঁড়াত| আমার প্রতি শ্রদ্ধা দেখাবার জন্য ওরা উঠে দাড়াত|
9 জন নেতারা কথা বলা বন্ধ করে দিত এবং মুখের মধ্যে হাত দিয়ে অন্যান্য লোকদের চুপ করতে ইঙ্গিত করতো|
10 এমনকি গুরুত্বপূর্ণ নেতারাও মৃদু স্বরে কথা বলতেন| হ্যাঁ, মনে হতো, তাঁদের জিভ য়েন তালুতে আটকে গেছে|
11 আমি যা বলতাম লোকে তা শুনতো এবং আমার সম্পর্কে তারা ভালো কথা বলতো| আমি কি করতাম লোকে দেখতো এবং তারা আমার প্রশংসা করতো|
12 কেন? কারণ যখন দরিদ্র লোক সাহায্য চেয়েছে, আমি সাহায্য করেছি| এবং য়ে অনাথদের দেখাশোনা করার কেউ নেই, তাদের আমি সাহায্য করেছি|
13 মৃতপ্রায় মানুষ আমাকে আশীর্বাদ করেছে| সমস্যা-জর্জর বিধ্বাকে আমি সাহায্য করেছি|
14 সঠিক পথে জীবনযাপনই আমার বস্ত্র ছিল| আমার শিরস্ত্রাণ ছিল আমার ন্যায়|
15 আমি অন্ধের কাছে চোখের মত ছিলাম| তারা যেখানে য়েতে চাইতো আমি নিয়ে য়েতাম| আমি খঞ্জলোকের কাছে তাদের পায়ের মত ছিলাম| তারা যেখানে য়েতে চাইত আমি বয়ে নিয়ে য়েতাম|
16 আমি দরিদ্র লোকদের পিতার মত ছিলাম| যাদের আমি একটুও চিনতাম না তাদেরও আমি সাহায্য করেছি, আদালতে তাদের মামলা জিতিযেছি|
17 আমি দুষ্ট ব্যক্তির ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করেছি এবং তাদের হাত থেকে নির্দোষ লোকদের বাঁচিয়েছি|
18 আমি সর্বদাই আমার পরিবারের সবাইকে নিয়ে ভেবেছি, আমি দীর্ঘজীবন বেঁচে থেকে বৃদ্ধ হব|
19 আমি ভেবেছি আমি সেই বৃক্ষের মত স্বাস্থ্য়বান ও প্রাণবন্ত হব য়ে গাছের শিকড়ে প্রচুর জল আছে এবং যার শাখাপ্রশাখা শিশিরে সিক্ত হয়ে থাকে|
20 আমি ভেবেছি প্রত্যেকটি নতুন দিন উজ্জ্বলতর হবে এবং নতুন সম্ভাবনায় ভরে উঠবে|
21 “অতীতে লোকরা আমার কথা শুনতো| আমার উপদেশের অপেক্ষায তারা চুপ করে থাকতো|
22 যারা আমার কথা শুনত, আমার বলা শেষ হওয়ার পর তাদের আর কিছুই বলার থাকতো না| আমার কথা সুন্দর ভাবে তাদের কানে প্রবেশ করতো|
23 য়েমন করে লোক বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করে, তেমনি তারা আমার বলার অপেক্ষায থাকতো| তারা য়েন বসন্তের বৃষ্টির মত আমার বাক্য-ধারা পান করতো|
24 আমি যখনই ওদের সঙ্গে হেসে কথা বলেছি ওরা এত অবাক হয়ে য়েত য়ে, আমি য়ে ওদের সঙ্গে কথা বলছি ওরা এটা বিশ্বাসই করতে পারত না| আমার হাসিতে ওরা ভাল বোধ করেছে|
25 যদিও আমি তাদের নেতা ছিলাম তবু আমি তাদের সঙ্গে থাকাই পছন্দ করতাম| আমি সভাসদসহ একজন রাজার মত| দুর্দশাগ্রস্ত লোকদের দুঃখের মধ্যে তাদের শান্তি দিতাম|




অধ্যায় 30

1 কিন্তু এখন, যারা আমার চেয়েও বয়সে ছোট তারা আমাকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করে| এবং তাদের পিতারা এতোই অপদার্থ ছিল য়ে, আমার মেষগুলোকে য়ে কুকুর পাহারা দেয়- আমি ওদের সেই কুকুরের সঙ্গেও রাখতে চাইনি|
2 ঐসব যুবকের পিতারা এতোই দুর্বল য়ে ওরা আমার সাহায্যে আসবে না| তারা এখন বৃদ্ধ ও ক্লান্ত হয়েছে, তাদের পেশীগুলো এখন আর শক্ত ও মজবুত নেই|
3 তারা মৃত মানুষের মতো অনাহারে শুকিয়ে রযেছে| তাই তারা মরুভূমির শুকনো ধূলো খায়|
4 তারা মরুভূমির নোনা মাটির গাছ উপড়ে নেয়| তারা মরুভূমির এক রকম গাছের শিকড় খায়|
5 তারা তাদের দল থেকে বিতাড়িত হয়েছে| লোকে এমন ভাবে ওদের দিকে চিত্কার করে য়েন ওরা চোর|
6 তারা নদীর শুকনো উপত্যকায, পাহাড়ের গুহায অথবা মাটির গর্তে বাস করতে বাধ্য হয়|
7 তারা মরুভূমির ঝোপঝাড়ে গাধার মত ডাক ছাড়ে এবং কাঁটাঝোপের নীচে গাদাগাদি করে জমা হয়|
8 তারা নামহীন একদল অপদার্থ লোক যারা নিজেদের দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে!
9 “এখন ঐসব লোকদের পুত্ররা আমায় নিয়ে গান বেঁধে আমায় উপহাস করে| আমার নামটাই এখন ওদের কাছে একটা বাজে শব্দ হয়ে দাঁড়িয়েছে|
10 এখন ঐ যুবকরা আমায় ঘৃণা করে| তারা আমার থেকে দূরে দাঁড়ায| তারা নিজেদের আমার থেকে ভালো মনে করে| তারা, এমনকি আমার মুখে থুতুও দেয়!
11 ঈশ্বর আমার ধনুক থেকে গুণ (ছিলা) কেড়ে নিয়ে আমায় দুর্বল করে দিয়েছেন| ঐ মন্দ লোকরা ওদের সমস্ত ক্রোধ নিয়ে আমার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে|
12 তারা আমার ডানদিক থেকে আক্রমণ করে| তারা আমাকে লাথি মেরে ফেলে দিয়েছে| আমার মনে হয় য়েন একটা শহরকে আক্রমণ করা হল: আমাকে আক্রমণ করে ধ্বংস করার জন্য তারা আমার প্রাচীরে একটা রাস্তা তৈরী করেছে|
13 তারা আমার রাস্তা ছিন্ন-ভিন্ন করে দিয়েছে| তারা আমাকে ধ্বংস করতে সফল হয়েছে| তাদের থামাবার কেউ নেই|
14 তারা একটা সৈন্যদলের মত যারা দেওয়াল ভেঙে একটা বড় গর্ত করেছে এবং পাথর কুচির ওপর দিয়ে গড়িযে গড়িযে আমার ঘাড়ে পড়েছে|
15 সন্ত্রাস আমাকে গ্রাস করেছে| আমার সম্মান বাতাসের মত মুছে গেছে| আমার নিরাপত্তা মেঘের মতোই অদৃশ্য হয়ে গেছে|
16 “আমার জীবন প্রায় শেষ হয়ে এসেছে এবং আমি খুব শীঘ্রই মারা যাবো| দুর্ভোগের দিন আমাকে আঁকড়ে ধরেছে|
17 রাতে আমার হাড়ে ব্যথা করে| আমার যন্ত্রণা বন্ধ হয় না|
18 ঈশ্বর আমার বস্ত্র কেড়ে নিয়েছেন, এবং আমার বস্ত্র মুচড়ে বিকৃত আকার করে দিয়েছেন|
19 ঈশ্বর আমায় কাদায় ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছেন এবং আমি ধূলা ও ছাই এর মত হয়ে গিয়েছি|
20 ঈশ্বর, আপনার সাহায্যের জন্য আমি আপনার কাছে কাঁদি কিন্তু আপনি শোনেন না| আমি দাঁড়িয়ে পড়ে প্রার্থনা করি, কিন্তু আমার দিকে আপনি কোন মনোয়োগ দেন না|
21 “ঈশ্বর, আপনি আমার প্রতি নীচ ব্যবহার করেছেন| আমাকে আঘাত করবার জন্য আপনি আপনার ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন|
22 ঈশ্বর, আপনি শক্তিশালী বাতাসকে আমাকে উড়িয়ে নিয়ে য়েতে দিয়েছেন| আপনি আমাকে ঝড়ের মধ্যে ফেলেছেন|
23 আমি জানি আপনি আমায় মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাবেন| প্রত্যেকটি জীবন্ত ব্যক্তি অবশ্যই মারা যাবে|
24 কিন্তু, য়ে ইতিমধ্যেই বিধ্বস্ত ও সাহায্যের জন্য কাতর আর্জি জানাচ্ছে, তাকে নিশ্চয়ই কোন লোক আঘাত করবে না|
25 ঈশ্বর, আপনি জানেন য়ে, য়ে লোকরা সংকটে পড়েছিলো আমি তাদের জন্য কেঁদেছিলাম| আপনি জানেন য়ে দরিদ্র লোকেদের জন্য আমার অন্তর কতখানি কাতর ছিলো|
26 কিন্তু যখন আমি ভালো জিনিস চাইলাম, তখন বিনিময়ে খারাপ জিনিস পেলাম| যখন আমি আলো চাইলাম, অন্ধকার এলো|
27 আমি ভেতরে ভেতরে ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছি| আমার দুর্ভোগ শেষ হচ্ছে না| আমি দিনের পর দিন ভুগে চলেছি|
28 আমি সব সময়ই দুঃখী এবং বিমর্ষ| আমি মণ্ডলীর মধ্যে দাঁড়িয়ে চিত্কার করে সাহায্য চাই|
29 মরুভূমির বুনো কুকুর এবং উটপাখীর মত আমি বরাবরই নিঃসঙ্গ|
30 আমার চামড়া পুড়ে খোসা হয়ে উঠে যাচ্ছে| জ্বরে আমার দেহ উত্তপ্ত হয়ে আছে|
31 আমার বীণা দুঃখের গান গাইতে শুরু করেছে| আমার বাঁশিও দুঃখের কান্নায় ভরে উঠেছে|




অধ্যায় 31

1 “আমি আমার চোখের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছি| এমন দৃষ্টি দিয়ে আমি কোন মেয়েকে দেখবো না য়ে দৃষ্টি আমার কামলালসাকে চরিতার্থ করবার জন্য ঐ মেয়েকে পেতে আমায় বাধ্য করবে|
2 উচেচর ঈশ্বর সর্বশক্তিমান, মানুষের জন্য কি করেন? উচেচর ঈশ্বর সর্বশক্তিমান, মানুষকে কি দেন?
3 মন্দ লোকদের জন্য ঈশ্বর সমস্যা ও ধ্বংস প্রেরণ করেন এবং যারা মন্দ কাজ করে তাদের জন্য পাঠান বিপর্য়য|
4 আমি যা করি ঈশ্বর সবই জানেন এবং তিনি আমার প্রতিটি পদক্ষেপ লক্ষ্য করেন|
5 “আমি মানুষকে মিথ্যা বলিনি ও তাদের প্রতারিত করতে চাইনি!
6 ঈশ্বর যদি যথায়থ মানদণ্ডও ব্যবহার করেন, তিনি দেখবেন আমি নির্দোষ|
7 যদি আমার পদক্ষেপ যথার্থ পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়ে থাকে, যদি আমার চোখ আমায় মন্দ কাজ করতে পরিচালিত করে থাকে, যদি আমার হস্তদ্বয পাপে কলঙ্কিত হয়ে থাকে,
8 তাহলে, আমার চাষের ফসল য়েন অন্যরা খায় এবং আমার চাষের ফসল য়েন তারা তোলে|
9 “যদি আমি কখনো অন্য কোন নারীকে কামনা করে থাকি বা আমার প্রতিবেশীর দরজায তার স্ত্রীর জন্য অপেক্ষা করে থাকি,
10 তাহলে আমার স্ত্রী য়েন অন্য পুরুষের জন্য রান্না করে এবং অন্য পুরুষরা য়েন তার সঙ্গে শয়ন করে|
11 কেন? কারণ য়ৌনপাপ হল লজ্জাকর| এটা শাস্তিযোগ্য পাপ|
12 য়ৌনপাপ হল এমন এক আগুন যা সবকিছু ধ্বংস হওয়া পর্য়ন্ত জ্বলতে থাকে| আমি সারা জীবন যা করেছি এটা তা ধ্বংস করে দিতে পারে|
13 “যখন আমার বিরুদ্ধে আমার ক্রীতদাসরা অভিয়োগ করেছিল তখন আমি যদি তাদের প্রতি ন্যায়বিচার না করে থাকি,
14 তাহলে ঈশ্বরের মুখোমুখি হয়ে আমি কি করবো? যখন ঈশ্বর জিজ্ঞাসা করবেন আমি কি করেছি, তখন আমি কি বলবো?
15 প্রত্যেকে তার মায়ের গর্ভে জন্মায়| আমি আমার মায়ের গর্ভে জন্মেছি, আমার এীতদাসরা তাদের মায়ের গর্ভে| অতএব সেই দিক থেকে আমাতে আর আমার এীতদাসদের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই|
16 “দরিদ্র লোকদের সাহায্য করতে আমি কখনও বিমুখ ছিলাম না| আমি বিধ্বাদের সাহায্য করতে কখনো অস্বীকার করিনি|
17 খাদ্যের বিষয়ে আমি কখনও স্বার্থপর হইনি| আমি সর্বদাই অনাথদের খাবার দিয়েছি|
18 আমার সারা জীবন ধরে আমি পিতৃীন সন্তানদের পিতার মত ছিলাম| আমার সারা জীবন ধরে আমি বিধ্বাদের সাহায্য করেছি|
19 আমি যখনই বস্ত্রহীন মানুষকে, দরিদ্র মানুষকে, জামার অভাবে কষ্ট পেতে দেখেছি,
20 আমি সর্বদাই তাদের বস্ত্র দিয়েছি| ওদের উষ্ণ রাখার জন্য আমার নিজের ভেড়া থেকে আমি পশম দিয়েছি| এবং ওরা ওদের সমস্ত হৃদয় দিয়ে আমায় আশীর্বাদ করেছে|
21 যদিও আমি জানতাম য়ে আমি আদালতের সমর্থন পাবো, তবু আমি কখনো অনাথদের ভয় দেখাই নি|
22 আমি যদি কখনও তা করে থাকি, তাহলে আমার বাহু কাঁধ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে যাবে|
23 আমি ঈশ্বরের শাস্তিকে ভয় পাই| তিনি যখন উঠে দাঁড়ান আমি তাঁর সামনে দাঁড়াতে পারি না|
24 “আমি আমার সম্পদের ওপর কখনই ভরসা করি নি| ঈশ্বর আমায় সাহায্য করবেন এটাই আমার বড় ভরসা| খাঁটি সোনাকেও আমি কখনও বলি নি, ‘তুমিই আমার ভরসা|’
25 আমি বিত্তবান ছিলাম| কিন্তু তা আমাকে অহঙ্কারী করে নি| আমি অনেক ধনসম্পদ উপার্জন করেছি| কিন্তু অর্থ আমাকে সুখী করে নি|
26 আমি কখনও উজ্জ্বল সূর্য় বা সুন্দর চাঁদের পূজো করি নি|
27 চাঁদ ও সূর্য়কে পূজো করার মতো অতখানি বোকা আমি ছিলাম না|
28 ওটাও শাস্তিযোগ্য পাপ| যদি আমি ওইগুলোর পূজো করতাম তাহলে আমি উচেচ অবস্থিত ঈশ্বর সর্বশক্তিমানের প্রতি অবিশ্বস্ততার কাজ করতাম|
29 “আমার শএুরা যখন ধ্বংসপ্রাপ্ত হল আমি কখনই সুখী হই নি| যখন আমার শএুদের জীবনে অঘটন ঘটেছে, তখন আমি তাদের প্রতি কখনও উপহাস করিনি|
30 আমার শএুদের অভিশাপ দিয়ে বা তাদের মৃত্যু কামনা করে আমি কখনও নিজের মুখকে পাপ করতে দিই নি|
31 আমার তাঁবুর প্রত্যেকেই জানে য়ে আমি সর্বদাই আমার অতিথিদের য়থেষ্ট খাদ্য দিয়েছি|
32 আমি সর্বদাই ভবঘুরেদের আমার ঘরে ডেকে এনেছি যাতে ওদের রাস্তায় ঘুমাতে না হয়|
33 অন্য লোকরা তাদের পাপ গোপন করার চেষ্টা করে| কিন্তু আমি আমার অপরাধ গোপন করি নি|
34 লোকে কি বলতে পারে সে নিয়ে আমি কোন দিনই ভীত হই নি| সেই ভয় কোন দিন আমাকে চুপ করাতে পারে নি| আমি কোন দিনই বাইরে য়েতে দ্বিধাবোধ করি নি| আমি লোকের ঘৃণায কোন দিন বিচলিত হইনি|
35 “এই য়ে, আমি চাই কেউ আমার কথা শুনুক! এই রইল আমার স্বাক্ষর আমার অভিয়োগের ওপর| এখন ঈশ্বর সর্বশক্তিমান য়েন আমায় একটা আধিকারিকী উত্তর দেন| আমি চাই, তাঁর মতে আমি যা ভুল করেছি, তা তিনি লিখে ফেলুন|
36 তারপর আমি সেটা কাঁধে পরে নেব| মাথার মুকুটের মত আমি তা ধারণ করবো|
37 যদি ঈশ্বর তা করতেন, তাহলে আমিও আমার সব কাজের ব্যাখ্যা দিতে পারতাম| আমি এক জন রাজপুত্রের মত তাঁর কাছে য়েতে পারতাম|
38 “আমার জমি আমি কারও কাছ থেকে চুরি করি নি| কেউ আমার সম্পর্কে চুরির অভিয়োগ তুলতে পারবে না|
39 জমি থেকে য়ে খাদ্য আমি পেয়েছিলাম তার জন্য আমি আমার কৃষককে মূল্য দিয়েছিলাম|আমি কখনো জমির ভাড়াটেদের সঙ্গে দুর্য়্ববহার করিনি|
40 যদি আমি কখনও এই সব মন্দ কাজ করে থাকি, তাহলে আমার জমিতে গম এবং বার্লির বদলে য়েন কাঁটা-ঝোপ ও দুর্গন্ধ লতাপাতা জন্মায়!” ইয়োবের কথা শেষ হল|




অধ্যায় 32

1 তখন ইয়োবের তিনজন বন্ধু তাকে উত্তর দেওয়া থেকে বিরত হলেন| তাঁরা বিরত হলেন কারণ তাঁরা দেখালেন য়ে ইয়োব য়ে নির্দোষ সে বিষয়ে তাঁরা একেবারে দৃঢ় রত্যয় ছিলেন|
2 কিন্তু বারখেলের পুত্র ইলীহূ সেখানে উপস্থিত ছিল| বারখেল ছিল বূষীয বংশধর| (বূষ ছিল রাম পরিবারের একজন|) ইলীহূ ইয়োবের ওপর ভীষণ রেগে গেল| কারণ ইয়োব ভেবেছিল য়ে সে ঈশ্বরের চেয়েও ধার্মিক|
3 ইলীহূ ইয়োবের তিনজন বন্ধুর ওপরেও রেগে ছিল| কেন? কারণ ইয়োবের তিনজন বন্ধু ইয়োবের প্রশ্নর উত্তর দিতে পারছিল না| তবু তারা ইয়োবকে দোষী বলে অভিযুক্ত করেছিল|
4 ইলীহূই সেখানে সব থেকে কনিষ্ঠ ছিল, তাই সবার কথা শেষ হওয়া পর্য়ন্ত সে অপেক্ষা করছিল| তখন তার মনে হল সে কথা বলা শুরু করতে পারে|
5 কিন্তু সেই সময় সে দেখলো, ইয়োবের তিন বন্ধুর আর কিছুই বলার নেই| তাই সে রেগে গেল|
6 তখন ইলীহূ (বূষ পরিবার উদ্ভ্ূত বারখেলের পুত্র) কথা বলতে শুরু করলো| সে বলল:আমি এক জন যুবক| আপনারা বয়স্ক ব্যক্তি| সেই জন্য আমি যা ভাবছি তা বলতে আমি ভয় পাচ্ছি|
7 আমি নিজের মনে ভেবেছি, ‘বয়স্ক লোকরা আগে কথা বলবে| বয়স্ক লোকরা বহুদিন জীবিত আছেন| তাই তাঁরা বহু বিষয়ে শিক্ষা করেছেন|’
8 কিন্তু ঈশ্বরের আত্মাই এক জনকে জ্ঞানী করে| ঈশ্বর সর্বশক্তিমানের সেই নিঃশ্বাস মানুষের বোধশক্তিকে সব কিছু বুঝতে সাহায্য করে|
9 শুধুমাত্র বৃদ্ধ লোকরাই জ্ঞানী মানুষ নয়| কোনটা প্রকৃত ঠিক তা শুধুমাত্র বৃদ্ধ লোকরাই বোঝে এমনও নয়|
10 তাই, আমার কথা শুনুন! আমি কি ভাবছি তা আপনাদের বলবো|
11 আপনারা যখন কথা বলছিলেন আমি তখন অপেক্ষা করছিলাম| আমি আপনাদের যুক্তিসমূহ শুনেছি এবং যথাযোগ্য উত্তর দেবার জন্য আপনাদের প্রচেষ্টা দেখেছি| ইয়োবকে আপনারা য়ে উত্তর দিয়েছেন তা আমি শুনেছি|
12 আপনারা যা বলেছেন আমি তা যত্ন করে শুনেছি| আপনাদের মধ্যে কেউই ইয়োবকে তিরস্কার করেননি| আপনাদের মধ্যে কেউই ওঁর যুক্তির উত্তর দেননি|
13 আপনাদের প্রজ্ঞা আছে এ কথা আপনাদের তিন জনের বলা উচিত্‌ হয়নি| মনুষ্য জাতি নয়, শুধুমাত্র ঈশ্বর য়েন তাঁকে তর্কযুদ্ধে পরাজিত করেন| আপনারা অবশ্যই যুক্তির উত্তর দেবেন, সাধারণকে নয়|
14 ইয়োব তাঁর যুক্তিগুলো আমার কাছে বলেন নি| তাই, আপনারা তিন জন য়ে যুক্তিগুলি উত্থাপন করেছিলেন, আমি তা বলবো না|
15 ইয়োব, এই তিন জন যুক্তি হারিয়ে ফেলেছে| ওঁদের আর বেশী কিছু বলার নেই| ওঁদের আর বেশী কিছু উত্তরও নেই|
16 ইয়োব, এই তিন ব্যক্তি আপনাকে উত্তর দেবে- আমি এমন প্রতীক্ষা করছিলাম| কিন্তু ওঁরা চুপ করে গেলেন| ওঁরা আপনার সঙ্গে তর্ক বন্ধ করে দিলেন|
17 তাই, এখন আমি আপনাকে আমার উত্তর দেবো| হ্যাঁ, আমি যা জানি তা আপনাকে বলব|
18 আমার এত কিছু বলার আছে য়ে আমার প্রায় বিস্তারিত হওয়ার উপক্রম|
19 আমি একটি দ্রাক্ষারসের থলির মত যা এখনও খোলা হয় নি| আমি একটি নতুন দ্রাক্ষারসের আধারের মতো য়েটি প্রায় ফেটে গিয়ে খোলবার উপক্রম হয়েছে|
20 আমাকে কথা বলতেই হবে এবং আমার ভেতরের বাষ্প বার করে দিতে হবে| আমাকে অবশ্যই ইয়োবের যুক্তির উত্তর দিতে হবে|
21 আমি কারো প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখাব না| আমি কারো স্তাবকতা করব না|
22 আমি এক জনের সঙ্গে অন্য এক জন লোকের চেয়ে ভালো আচরণ করতে পারি না| আমি যদি তা করি আমার সৃষ্টিকর্তা আমায় শাস্তি দেবেন|




অধ্যায় 33

1 “ইয়োব, এখন আমার কথা শুনুন| আমি যা বলি তা মন দিয়ে শুনুন|
2 আমি বলবার জন্য প্রস্তুত|
3 আমার অন্তর সত্‌ তাই আমি সত্‌ বাক্যই বলবো| আমি যা জানি সে বিষয়ে আমি সত্যই বলবো|
4 ঈশ্বরের আত্মা আমায় সৃষ্টি করেছে| ঈশ্বর সর্বশক্তিমানের নিঃশ্বাস আমাকে জীবন দিয়েছে|
5 ইয়োব, আমার কথা শুনুন এবং যদি পারেন আমার প্রশ্নর উত্তর দিন| আপনার উত্তর তৈরী করে রাখুন যাতে আপনি তর্ক করতে পারেন|
6 ঈশ্বরের সামনে আপনি এবং আমি উভয়েই সমান| আমাদের দুজনকে ঈশ্বর মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন|
7 ইয়োব, আমাকে ভয় পাবেন না| আমি আপনার প্রতি কঠোর হব না|
8 “কিন্তু ইয়োব, আমি শুনেছি, আপনি কি বলেছেন,
9 আপনি বলেছেন: ‘আমি শুচিশুদ্ধ| আমি নিষ্পাপ| আমি কোন ভুল করি নি| আমি অপরাধী নই!
10 আমি কোন ভুল করি নি, কিন্তু ঈশ্বর আমার বিরুদ্ধে| ঈশ্বর আমার সঙ্গে শএুর মত ব্যবহার করেছেন|
11 ঈশ্বর আমার পায়ে শিকল পরিযেছেন| আমার সব পথগুলি ঈশ্বর লক্ষ্য করেন|’
12 “কিন্তু ইয়োব, এ ক্ষেত্রে আপনি ভুল করেছেন| আমি প্রমাণ করবো য়ে আপনি ভুল করেছেন| কেন? কারণ, য়ে কোন লোকের চেয়ে ঈশ্বর মহান|
13 আপনি ঈশ্বরের বিরুদ্ধে কেন অভিয়োগ আনেন? কেন আপনি দাবী করেন, “ঈশ্বর কোন লোকের অভিয়োগের উত্তর দেন না? আপনি ভেবেছেন ঈশ্বর সব কিছুই আপনার কাছে ব্যাখ্যা করে দেবেন?
14 হতে পারে ঈশ্বর যা করেন তিনি তার ব্যাখ্যা দেন| কিন্তু ঈশ্বর য়ে ভাবে কথা বলেন লোকে তা বোঝে না|
15 রাত্রে যখন লোকরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ঈশ্বর হয়তো তখন স্বপ্নে কথা বলেন| তখন তারা ভীষণ ভয় পায়| তখন তারা ঈশ্বরের সাবধান বাণী শোনে|
16
17 ভুল কাজ করার থেকে বিরত হতে ঈশ্বর তাদের সতর্ক করে দেন এবং তাদের অহঙ্কারী হওয়া থেকে বিরত রাখেন|
18 মৃত্যুলোক থেকে উদ্ধার করবার জন্য ঈশ্বর মানুষকে সতর্ক করে দেন| ধ্বংসোন্মুখ লোকদের পরিত্রাণ করার জন্য ঈশ্বর তা করেন|
19 ঈশ্বর হয়ত এক জন ব্যক্তিকে যন্ত্রণা দিয়ে শুধরে দেন, তাদের হাড়েও এমাগত ব্যথা হতে পারে|
20 তখন সে লোকটি খেতে পারে না, সেই লোকটির এত যন্ত্রণা থাকে য়ে সে সব চেয়ে ভালো খাবারকেও ঘৃণা করে|
21 ঐ লোকটির গায়ের মাংস আর দেখা যায় না| ঐ লোকটির হাড়গুলো বেরিয়ে পড়ে|
22 ঐ লোকটি “গহবর” এর কাছাকাছি পৌঁছে যায়| ওর জীবনও মৃত্যুর কাছাকাছি চলে আসে|
23 ঈশ্বরের হাজার হাজার দেবদূত আছে| হয়তো তাদের এক জন দূত ঐ লোকের ওপর নজর রাখছে| সেই দূত হয়তো ঐ লোকটার জন্যই বলে এবং সে যা ভালো কাজ করেছে সে সম্পর্কেই বলে|
24 হয়তো ঐ দূত ঐ লোকটির প্রতি সদয হয়ে ঈশ্বরকে বলবে: ‘এই লোকটাকে গহবর থেকে উদ্ধার করে দিন! আমি ওর জীবনের জন্য একটি মুক্তিপন পেয়েছি|’
25 তখন ঐ লোকটির দেহ আবার তারুণ্যে ভরে উঠবে| যুবকাবস্থায তার দেহ য়েমন ছিল, ঠিক সে রকম হয়ে যাবে|
26 ঐ লোকটি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করবে এবং ঈশ্বর ওর প্রার্থনার উত্তর দেবেন| ঐ লোকটি আনন্দে চিত্কার করবে এবং ঈশ্বরের পূজো করবে| তার সত্জীবনের জন্য ঈশ্বর তাকে পুরস্কৃত করবেন| ও আবার সুন্দর ভাবে জীবনযাপন করবে|
27 ঐ ব্যক্তিটি লোকদের কাছে তার দোষ স্বীকার করবে| সে বলবে, ‘আমি পাপ করেছিলাম| আমি ভালোকে মন্দে পরিণত করেছিলাম| কিন্তু আমার য়ে শাস্তি প্রাপ্য ছিল, সে কঠিন শাস্তি ঈশ্বর আমাকে দেন নি!
28 আমার আত্মাকে ঈশ্বর পাতালের মধ্যে পতন থেকে রক্ষা করেছেন| আমি এখন আবার জীবনকে উপভোগ করতে পারি|’
29 “ঐ লোকটার জন্য ঈশ্বর বার বার এই সব করেছেন|
30 কেন? ঐ লোকটিকে গহবর থেকে উদ্ধার করবার জন্য, যাতে ঐ লোকটি আবার তার জীবনকে উপভোগ করতে পারে|
31 “ইয়োব, আমার দিকে মনোয়োগ দিন| আমার কথা শুনুন| চুপ করুন এবং আমাকে কথা বলতে দিন|
32 কিন্তু ইয়োব, আপনি যদি আমার সঙ্গে একমত না হন তাহলে আপনি কথা বলে যান| আমাকে আপনার যুক্তিগুলি বলুন কারণ আমি দেখাতে উদ্গ্রীব য়ে আপনি নির্দোষ|
33 কিন্তু ইয়োব, যদি আপনার কিছু বলবার না থাকে, তাহলে আমার কথা শুনুন| চুপ করে থাকুন, আমি আপনাকে প্রজ্ঞা বিষয়ে শিক্ষা দিয়ে দেবো|”




অধ্যায় 34

1 তখন ইলীহূ কথা বলে য়েতে লাগলো| সে বলল:
2 “হে প্রাজ্ঞ ব্যক্তি, আমি যা বলি তা শুনুন| হে বুদ্ধিমান ব্যক্তিগন, আমার প্রতি মনোয়োগ দিন|
3 কারণ জিভ য়েমন খাদ্যের স্বাদ গ্রহণ করে তেমনি কান কথাকে পরীক্ষা করে|
4 অতএব, আমাদেরই ঠিক করতে দিন কোনটা সঠিক| আসুন, আমরা সবাই মিলে স্থির করি কোনটা সত্যিই ভালো|”
5 ইয়োব বললেন, ‘আমি নিষ্পাপ| ঈশ্বর আমার প্রতি সুবিচার করেন নি|
6 আমি নিষ্পাপ, কিন্তু আমার বিরুদ্ধে গৃহীত বিচার বলছে আমি একজন মিথ্যাবাদী| আমি নিষ্পাপ, কিন্তু আমি খুব বিশ্রী ভাবে আহত হয়েছি|’
7 “ইয়োবের মত আর কোন লোক আছে কি? ঈশ্বরকে অভিযুক্ত করা তাঁর কাছে জলের মত সোজা|
8 এমনকি শএুদের সঙ্গেও ইয়োব বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার করেন| ইয়োব মন্দ লোকদের সঙ্গে থাকতে ভালোবাসেন|
9 কেন আমি একথা বলছি? কেন না ইয়োব বলেন, ‘যদি কেউ ঈশ্বরকে খুশী করতে চায় সে লোক কিছুই পাবে না|’
10 “আপনারা বুঝতে পারেন| তাই আমার কথা শুনুন| ঈশ্বর কখনই মন্দ কাজ করবেন না| ঈশ্বর সর্বশক্তিমান কখনও ভুল করবেন না|
11 য়ে যা করে তার জন্য ঈশ্বর তাকে পুরস্কৃত করেন| ঈশ্বর মানুষকে তার প্রাপ্য মিটিয়ে দেন|
12 এটা সম্পূর্ণরূপে সত্য: ঈশ্বর মন্দ কাজ করেন না| যা সঠিক তাকে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর কখনো মুচড়ে বিকৃত করবেন না|
13 কোন মানুষ ঈশ্বরকে পৃথিবীর দায়িত্ব দিয়ে নির্বাচন করেনি| কেউই ঈশ্বরকে পৃথিবীর দায়িত্ব দেয় নি| তিনিই সব কিছুর সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করেন|
14 ঈশ্বর যদি মনস্থ করেন য়ে তিনি তাঁর আত্মাকে এবং তাঁর নিঃশ্বাসকে পৃথিবী থেকে নিয়ে নেবেন,
15 তাহলে পৃথিবীর প্রত্যেকটি প্রাণী মারা পড়বে এবং মনুষ্য জাতি পরিণত হবে ধূলায|
16 “আপনারা যদি জ্ঞানবান হন তাহলে আমি যা বলি তা শুনুন|
17 ঈশ্বর কি করে ন্যায় ও নিয়মকে ঘৃণা করতে পারেন? তাহলে আপনি কি করে ধার্মিক ও শক্তিশালী ঈশ্বরকে ভুল বলে অভিযুক্ত করতে পারেন?
18 ঈশ্বরই একমাত্র সত্তা যিনি রাজাকে বলেন, ‘তুমি অপদার্থ!’ ঈশ্বর নেতৃতৃর্গকে বলেন, ‘তোমরা মন্দ লোক!’
19 ঈশ্বর অন্যান্য লোকদের চেয়ে নেতাদের বেশী ভালোবাসেন না| ঈশ্বর দরিদ্র লোকদের চেয়ে ধনীদের বেশী ভালোবাসেন না| কেন? কারণ ঈশ্বর প্রত্যেক মানুষকে সৃষ্টি করেছেন|
20 মধ্যরাত্রে লোকে হঠাত্‌ মারা য়েতে পারে| অসুস্থ হয়ে লোকে মারা য়েতে পারে| বিনা কোন আযাসে ঈশ্বর ক্ষমতাবান লোককে সরিয়ে দেন|
21 “লোকরা কি করে ঈশ্বর তা লক্ষ্য করেন| ঈশ্বর এক জন লোকের প্রতিটি পদক্ষেপ সম্পর্কে জানেন|
22 ঈশ্বরের কাছ থেকে লুকিয়ে থাকবার জন্য মন্দ লোকদের কাছে কোন অন্ধকার স্থান নেই|
23 এক জন লোককে পরীক্ষা করবার জন্য ঈশ্বরের কোন সময় স্থির করবার প্রয়োজন হয় না| একটা লোককে বিচার করবার জন্য লোকটিকে ঈশ্বরের সামনে আনবার দরকার হয় না|
24 কোন বিচার ছাড়াই ঈশ্বর শক্তিশালী লোকদের ধ্বংস করেন এবং অন্যান্য লোকদের নেতা হিসেবে মনোনীত করেন|
25 তাই ঈশ্বর জানেন মানুষ কি করে| সেই জন্য মন্দ লোকদের ঈশ্বর এক রাতের মধ্যেই পরাজিত করে ধ্বংস করেন|
26 মন্দ লোকরা য়ে খারাপ কাজ করেছে তার জন্য ঈশ্বর ওদের শাস্তি দেবেন| ওই লোকগুলোকে ঈশ্বর এমন ভাবে শাস্তি দেবেন যাতে অন্য লোকে তা ঘটতে দেখতে পায়|
27 কেন? কারণ মন্দ লোকরা ঈশ্বরকে মান্য করা বন্ধ করে দিয়েছে| এবং ঈশ্বর যা চান, ওই মন্দ লোকরা তা করার ব্যাপারে কোন তোযাক্কাই করে না|
28 ঐ মন্দ লোকরা দরিদ্রদের আঘাত করে ঈশ্বরের কাছে সাহায্য চাইতে বাধ্য করে| ঈশ্বর সেই সাহায্য চাইবার আর্তি শোনেন|
29 কিন্তু ঈশ্বর যদি মনস্থ করেন ওদের সাহায্য করবেন না, তাহলে কেউই ঈশ্বরকে দোষী বলতে পারে না| ঈশ্বর যদি নিজেকে মানুষের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখেন কোন লোকই তাঁকে খুঁজে পাবে না|এক জন মন্দ ব্যক্তিকে লোকদের ওপর শাসন করবার থেকে ও লোকদের ধ্বংসের পথে এগিয়ে দেবার থেকে দূরে রাখবার জন্য ঈশ্বর মানুষ এবং দেশের ওপর শাসন করেন|
30
31 ইয়োব, আপনার ঈশ্বরকে বলা উচিত্‌, ‘আমি অপরাধী| আমি আর কোন পাপ করবো না|
32 আমি যা দেখতে পাই না তা আমাকে শেখান| যদি আমি ভুল করে থাকি সে ভুল আমি আর করবো না|’
33 “ইয়োব, আপনি চান ঈশ্বর আপনাকে পুরস্কার দিন, কিন্তু আপনি নিজেকে পরিবর্তিত করতে চান নি| ইয়োব, এটা আপনার সিদ্ধান্ত, আমার নয়| আপনি কি ভাবছেন তা আমায় বলুন|
34 এক জন জ্ঞানী লোক আমার কথা শুনবে| এক জন জ্ঞানী লোক বলবে,
35 ‘ইয়োব জানে না সে কি বিষয়ে কথা বলছে| ইয়োব যা বলছে তা অর্থহীন!’
36 আমি আশা করি ইয়োবকে সম্পূর্ণরূপে পরীক্ষা করা হবে| কেন? কারণ ইয়োব আমাদের সেই ভাবেই উত্তর দিয়েছেন, য়ে ভাবে এক জন মন্দ লোক উত্তর দেয়|
37 ইয়োব তাঁর অন্যান্য পাপের সঙ্গে বিদ্রোহ যুক্ত করেছে| ইয়োব আমাদের অপমান করেন এবং ঈশ্বরের বিরুদ্ধে তাঁর অভিয়োগ বাড়ান|”




অধ্যায় 35

1 ইলীহূ কথা বলে চলল| সে বলল:
2 “ইয়োব, আপনার পক্ষে একথা বলা ঠিক নয় য়ে, ‘ঈশ্বর অপেক্ষা আমিই অধিকতর সঠিক|’
3 এবং ইয়োব, আপনি ঈশ্বরকে জিজ্ঞাসা করেছেন, ‘কেউ যদি ঈশ্বরকে খুশী করতে চায় তাহলে সে কি পাবে?’ যদি আমি পাপ না করি তাহলেই বা আমার কি ভাল হবে?’
4 “ইয়োব, আমি আপনাকে এবং আপনার সঙ্গে আপনার য়ে বন্ধুরা রযেছে তাঁদের উত্তর দিতে চাই|
5 ইয়োব, আকাশের দিকে দেখুন, সেই মেঘের দিকে দেখুন যা আপনার থেকে অনেক অনেক উচেচ|
6 ইয়োব, যদি আপনি পাপ করেন, তা ঈশ্বরকে স্পর্শমাত্র করে না| যদি আপনার অনেক পাপও থাকে তাতেও ঈশ্বরের কিছু এসে যায় না|
7 এবং ইয়োব, যদি আপনি ভালো হন তাতেও ঈশ্বরের কিছু এসে যায় না| ঈশ্বর আপনার কাছ থেকে কিছুই পান না|
8 ইয়োব, য়ে ভাল বা মন্দ কাজ আপনি করেন তা আপনারই মত অন্য লোকদের প্রভাবিত করে মাত্র| তা ঈশ্বরকে সাহায্যও করে না, আঘাতও করে না|
9 “যদি মন্দ লোকরা আহত হয় তারা সাহায্যের জন্য চিত্কার করে| তারা শক্তিশালী লোকের কাছে যায় এবং তাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে|
10 তারা বলবে না, ‘ঈশ্বর কোথায় যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন? সেই ঈশ্বর কোথায় যিনি রাত্রে আমাকে সঙ্গীত দেন?
11 ঈশ্বর আমাদের পশুপাখীদের চেয়ে বুদ্ধিমান করেছেন| তাই, কোথায় তিনি?’
12 বা যদি ঐ মন্দ লোকরা সাহায্যের জন্য ঈশ্বরকে ডাকে, ঈশ্বর ওদের কোন উত্তর দেবেন না| কেন? কারণ ঐ লোকগুলো অহঙ্কারী| ওরা এখনও ভাবে ওরাই বেশী গুরুত্বপূর্ণ লোক|
13 একথা সত্য য়ে ঈশ্বর ওদের অর্থহীন চাওযায কোন কান দেবেন না| ঈশ্বর সর্বশক্তিমান ওদের দিকে মনোয়োগই দেবেন না|
14 তাই ইয়োব, আপনি যখন বলেছেন আপনি ঈশ্বরকে দেখেন না, তখন তিনি আপনার কথা শুনবেন না| আপনি বলেছেন য়ে আপনি নিজেকে নিষ্পাপ প্রমাণ করার জন্য, ঈশ্বরের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার সুয়োগের অপেক্ষায রযেছেন|
15 “ইয়োব ভাবেন য়ে ঈশ্বর মন্দ লোকদের শাস্তি দেন না, তিনি মনে করেন ঈশ্বর পাপের দিকে কোন দৃষ্টি দেন না|
16 তাই ইয়োব অর্থহীন কথাবার্তা বলেন| তিনি অনেক কথা বলেন কিন্তু কিছু জানেন না|”




অধ্যায় 36

1 ইলীহূ বলে চলল| সে বলল:
2 “আরো কিছুক্ষণ ধৈর্য়্য় ধরুন এবং আমি আপনাকে শিক্ষা দেব| ঈশ্বরের স্বপক্ষে বলবার মত আরো অনেক জিনিষ রযেছে|
3 আমার জ্ঞান আমি সবার সঙ্গে ভাগ করে নেবো| ঈশ্বর আমায় সৃষ্টি করেছেন এবং আমি প্রমাণ করব ঈশ্বর ন্যায়পরাযণ|
4 ইয়োব, আমি সত্যি কথা বলছি| আমি জানি আমি কি বলছি|
5 “ঈশ্বর প্রচণ্ড শক্তিমান, কিন্তু তিনি মানুষকে ঘৃণা করেন না| ঈশ্বর প্রচণ্ড শক্তিমান কিন্তু তিনি ভীষণ রকমের জ্ঞানীও বটে|
6 ঈশ্বর মন্দ লোকদের বাঁচতে দেবেন না| ঈশ্বর গরীব লোকদের সঙ্গে সর্বদাই ভালো ব্যবহার করেন|
7 যারা সত্‌পথে জীবনযাপন করে ঈশ্বর তাদের ওপর নজর রাখেন| তিনি সত্ ‌লোকদেরই শাসক হতে দেন| সত্ ‌লোকদেরই ঈশ্বর চির দিনের জন্য সম্মান দেন|
8 তাই যদি মানুষকে শাস্তি দেওয়া হয়ে থাকে এবং যদি তাদের শিকল ও দড়ি দিয়ে বাঁধা হয়ে থাকে, তাহলে তারা নিশ্চয় কিছু ভুল কাজ করেছে|
9 তারা কি করেছিলো তা ঈশ্বর ওদের বলবেন| ওরা কি পাপ করেছিলো তা ঈশ্বর ওদের বলবেন| ঈশ্বর ওদের বলবেন য়ে ওরা ভীষণ অহঙ্কারী ছিলো|
10 ঈশ্বর ওই লোকগুলিকে তাঁর সতর্কবাণী শুনতে বাধ্য করবেন| তিনি ওদের পাপ বন্ধ করার জন্য নির্দেশ দেবেন|
11 যদি তারা ঈশ্বরের কথা শোনে এবং তাঁকে মান্য করে, তাহলে তারা তাদের জীবনের বাকী দিনগুলো সুখে ও সমৃদ্ধিতে যাপন করবে|
12 কিন্তু এই লোকগুলো যদি ঈশ্বরকে মানতে অস্বীকার করে তাহলে তারা ধ্বংস হয়ে যাবে| তাদের নির্বোধের মত মৃত্যু হবে|
13 য়ে লোকরা ঈশ্বরের তোযাক্কা করে না তারা সর্বদাই তিক্ত স্বভাবের হয়| এমনকি ঈশ্বর যখন ওদের শাস্তি দেন তখনও ওরা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে চায় না|
14 ঐ লোকগুলো পুরুষ দেহ-জীবীর মত অল্প বয়সেই মারা যাবে|
15 কিন্তু বিনীত লোকদের ঈশ্বর সংকট থেকে উদ্ধার করবেন| মানুষ জেগে উঠবে এবং ঈশ্বরের কথা শুনবে বলে ঈশ্বর মানুষকে সমস্যা দেন|
16 “ইয়োব, ঈশ্বর আপনাকে সাহায্য করতে চান| ঈশ্বর আপনাকে সমস্যা থেকে মুক্ত করতে চান| আপনার জীবনকে ঈশ্বর আরও সাবলীল করতে চান| ঈশ্বর আপনার সামনে প্রচুর খাদ্য দিতে চান|
17 কিন্তু ইয়োব, আপনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন| তাই এক জন মন্দ লোকের মত আপনি শাস্তি পেয়েছিলেন|
18 ইয়োব, সম্পদের দ্বারা আপনি নির্বোধ হয়ে যাবেন না| অর্থ য়েন আপনার মনের পরিবর্তন না করে|
19 আপনার অর্থ এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারবে না| এবং শক্তিশালী লোকরাও এখন কোন ভাবে সাহায্য করতে পারবে না!
20 রাত্রির আগমনের প্রত্যাশা করবেন না| লোকে অন্ধকারে অদৃশ্য হয়ে য়েতে চায়| তারা ভাবে তারা ঈশ্বরের কাছ থেকে লুকিয়ে থাকবে|
21 ইয়োব, আপনি প্রচুর কষ্টভোগ করেছেন| কিন্তু মন্দকে পছন্দ করবেন না| ভুল করবেন না, সতর্ক থাকবেন|
22 “দেখুন, ঈশ্বরের শক্তি তাঁকে মহান করেছে| ঈশ্বর প্রত্যেকেরই মহানতম শিক্ষক|
23 কি করতে হবে তা কোন লোকই ঈশ্বরকে বলতে পারে না| কোন লোকই ঈশ্বরকে বলতে পারে না, ‘আপনি ভুল করেছেন|’
24 “ঈশ্বর যা করেছেন তার জন্য তাঁকে প্রশংসা করার কথা মনে রাখবেন| ঈশ্বরের প্রশংসা করে লোকে অনেক গান লিখেছে|
25 ঈশ্বর কি করেছেন তা প্রত্যেকেই দেখতে পায়| কিন্তু লোকরা ঈশ্বরের কাজ শুধু মাত্র দূর থেকে দেখে|
26 হ্যাঁ, আমাদের কল্পনার চেয়েও ঈশ্বর মহান| ঈশ্বর কতদিন ধরে বেঁচে আছেন, আমরা জানি না|
27 “ঈশ্বর পৃথিবী থেকে জল নিয়ে তাকে বৃষ্টিতে পরিণত করেন|
28 তাই মেঘ জল দেয় এবং বহু লোকের ওপর বৃষ্টি পড়ে|
29 কেমন করে ঈশ্বর মেঘকে ছড়িয়ে দেন, কেমন করে আকাশে বজ্র খেলে যায় তা কেউই জানে না, বুঝতে পারে না|
30 দেখুন, ঈশ্বর তাঁর বিদ্যুত্‌কে আকাশে পাঠিয়েছেন এবং সমুদ্রের গভীরতম অংশকে আবৃত করে দিয়েছেন|
31 জাতিগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এবং তাদের প্রচুর খাবার দেওয়ার জন্য ঈশ্বর ওগুলিকে ব্যবহার করেন|
32 ঈশ্বর তাঁর হাতে বিদ্যুত্‌কে ধরে থাকেন এবং যেখানে তিনি চান, সেখানেই বিদ্যুত্‌কে আছড়ে ফেলেন|
33 বজ্রপাত মানুষকে সতর্ক করে দেয় য়ে ঝড় আসছে| তাই গবাদি পশুরাও জানতে পারে ঝড় আসছে|




অধ্যায় 37

1 “ওই বজ্রপাত এবং বিদ্যুত্‌ আমাকে ভীত করে, বুকের ভেতর আমার হৃত্‌পিণ্ড ধুকপুক করতে থাকে|
2 প্রত্যেকে শুনুন! ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর বজ্রের মত শোনায| ঈশ্বরের মুখ থেকে য়ে বজ্রময ধ্বনি নির্গত হয়, তা শুনুন|
3 আকাশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্য়ন্ত ঝলকে ওঠার জন্য ঈশ্বর বিদ্যুত্‌ প্রেরণ করেন| সারা পৃথিবী জুড়ে তা চমক দিয়ে ওঠে|
4 বিদ্যুত্‌ ঝলকের ঠিক পরেই ঈশ্বরের গর্জন-রুদ্ধ কণ্ঠস্বর শোনা যায়| ঈশ্বরের মহত্ব ও মহিমাপূর্ণ স্বর বজ্রের গুরুগুরু শব্দে প্রকাশ পায়| যখন বিদ্যুত্‌ ঝলকে ওঠে তখনই বজ্রের ভেতর ঈশ্বরের কণ্ঠ শোনা যায়|
5 ঈশ্বরের বজ্রময কণ্ঠ অসম্ভব সুন্দর| তাঁর মহত্‌ কার্য়্য়কলাপ আমরা বুঝতে পারি না|
6 ঈশ্বর তুষারকে বলেন, ‘পৃথিবীতে পতিত হও|’ ঈশ্বর বৃষ্টিকে বলেন, ‘পৃথিবীতে ঝরে পড়|’
7 ঈশ্বর তা করেন যাতে প্রত্যেকটি লোক যাদের তিনি সৃষ্টি করেছেন তারা জানতে পারে য়ে, তিনি (ঈশ্বর) কি করতে পারেন| এটাই তার প্রমাণ|
8 পশুরা তাদের গুহাতে ছুটে চলে যায় এবং সেখানে থাকে|
9 দক্ষিণ থেকে ঝোড়ো বাতাস ছুটে আসে| উত্তরদিক থেকে ঠাণ্ডা বাতাস আসে|
10 ঈশ্বরের নিঃশ্বাস থেকে বরফ সৃষ্টি হয় এবং জলের বিশাল আধার জমে যায়|
11 ঈশ্বর মেঘকে জলে পূর্ণ করেন এবং মেঘের ভেতর থেকে বিদ্যুত্‌ পাঠান|
12 মেঘগুলো ঘুরে যায় এবং ঈশ্বরের আদেশ মত নড়াচড়া করে| মেঘগুলোও ঈশ্বর যা আদেশ দেন সেই মত করে|
13 ঈশ্বর মেঘকে নিয়ে আসেন বন্যা এনে মানুষকে শাস্তি দেওয়ার জন্য অথবা, জল এনে তাঁর প্রেম প্রদর্শনের জন্য|
14 “ইয়োব, এটা শুনুন| ঈশ্বর য়ে সব বিস্মযকর কাজ করেন সে বিষয়ে চিন্তা করুন|
15 ইয়োব, আপনি কি জানেন কেমন করে ঈশ্বর মেঘকে নিয়ন্ত্রণ করেন? আপনি কি জানেন কেমন করে ঈশ্বর তাঁর বিদ্যুত্‌ ঝলক সৃষ্টি করেন?
16 আপনি কি জানেন কেমন করে মেঘ আকাশে ভেসে থাকে? আপনি কি সেই “একজনের” বিস্মযকর কাজগুলো জানেন য়াঁর জ্ঞান নিখুঁত?
17 কিন্তু ইয়োব, আপনি এসবের কিছু জানেন না| আপনি যা জানেন তা হল এই য়ে আপনি ঘামেন, আপনার জামাকাপড় আপনার গায়ে জড়িয়ে থাকে এবং যখন দক্ষিণ থেকে উষ্ণ বাতাস আসে তখন সব কিছু স্থির ও শান্ত থাকে|
18 ইয়োব, আপনি কি মেঘকে প্রসারিত করে ঈশ্বরকে সাহায্য করতে পারেন? মেঘকে উজ্জ্বল পিতলের মত ঝকঝকে তৈরী করেন?
19 “ইয়োব, বলুন আমরা ঈশ্বরকে কি বলবো? আমাদের অজ্ঞতাবশতঃ সেটা চিন্তা করতে পারি না| কি বলতে হবে?
20 আমি ঈশ্বরকে বলবো না য়ে আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলাম| তা ধ্বংসকে আবাহন করার সামিল হবে|
21 এক জন লোক সূর্য়ের দিকে তাকাতে পারে না| বাতাস মেঘকে উড়িযে নিয়ে যাওয়ার পর সূর্য় আকাশে অত্যন্ত উজ্জ্বল ও কিরণময হয়ে ওঠে|
22 ঈশ্বরও সেই রকম! পবিত্র পর্বতথেকে ঈশ্বরের স্বণার্ভ মহিমা বিকীর্ণ হয়| ঈশ্বরের চারদিকে উজ্জ্বল আলো আছে|
23 ঈশ্বর সর্বশক্তিমান অত্যন্ত মহান| আমরা ঈশ্বরকে বুঝতে পারি না| ঈশ্বর অত্যন্ত শক্তিমান, সেই সঙ্গে তিনি আমাদের প্রতি সদয ও নিষ্ঠাবান| ঈশ্বর আমাদের আঘাত করতে চান না|
24 সেই জন্যই লোকে ঈশ্বরকে শ্রদ্ধা করে| কিন্তু যারা নিজেদের জ্ঞানী মনে করে ঈশ্বর সেই অহঙ্কারীদের প্রতি মনোয়োগ দেন না|”




অধ্যায় 38

1 তখন প্রভু ঝোড়ো বাতাসের মধ্যে থেকে কথা বলে উঠলেন| প্রভু বললেন:
2 “কে এই অজ্ঞ লোক য়ে বোকার মত কথা বলছে?”
3 ইয়োব, নিজেকে প্রস্তুত করে নাও, সৈনিকের মত অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নাও| এবং আমি য়ে প্রশ্ন করবো তার উত্তর দেবার জন্য তৈরী হও|
4 “ইয়োব, আমি যখন পৃথিবী সৃষ্টি করেছিলাম তখন তুমি কোথায় ছিলে? যদি তুমি প্রকৃতই জ্ঞানী হও তাহলে আমাকে উত্তর দাও|
5 যদি তুমি এতই জ্ঞানী হও তো বল এই পৃথিবীটা কত বড় হবে তা কে স্থির করেছিল? পরিমাপক রেখা দিয়ে কে পৃথিবীটার পরিমাপ করেছে?
6 পৃথিবীর ভিত্তি স্তম্ভগুলি কিসের ওপর বসে রযেছে? তার জায়গায় কে প্রথম নির্মান-প্রস্তর রেখেছে?
7 যখন তা সৃষ্টি করা হয়েছিল তখন প্রভাতের তারাসমূহ এক সঙ্গে গান গেযেছিল| দেবদূতরা আনন্দে হর্ষধ্বনি করেছিল|
8 “ইয়োব, পৃথিবীর গভীর থেকে যখন সমুদ্র প্রবাহিত হতে শুরু করেছিল তখন কে তা বন্ধ করার জন্য দ্বাব রুদ্ধ কষ্ঠরছিল?
9 সেই সময়, নবজাতককে পোশাক পরাবার মত আমি একটি পোশাকের মত মেঘগুলোকে চারদিকে জড়িয়ে দিয়েছিলাম এবং তাকে, একটি শিশুকে য়েমন শক্ত করে কাপড় দিয়ে জড়িয়ে দেওয়া হয় সেই ভাবে অন্ধকার দিয়ে ঢেকে দিয়েছিলাম|
10 আমি সমুদ্রের সীমা নির্ধারণ করেছিলাম, এবং তাকে বাঁধের অন্যদিকে রেখেছিলাম|
11 আমি সমুদ্রকে বলেছিলাম, ‘তুমি এই পর্য়ন্ত আসতে পার, এর বেশী নয়| এই খানেই তোমার উদ্ধত ঢেউ য়েন থেমে যায়|’
12 “ইয়োব, তোমার জীবনে তুমি কি কখনও সকাল বা দিনকে শুরু হবার আদেশ দিয়েছ?
13 ইয়োব, তুমি কি সকালের আলোকে কখনও বলেছো: পৃথিবীকে ধারণ কর এবং মন্দ লোকদের তাদের গোপন ড়েবা থেকে তাড়িত কর?
14 প্রভাতের আলো, পাহাড় এবং উপত্যকা সহজেই দেখতে সহায়তা করে| যখন দিনের আলো পৃথিবীতে এসে পড়ে, তখন জামার ভাঁজের মত সেই স্থানের রূপ সহজেই বোঝা যায়| সেই স্থান, শীলমোহর দিয়ে ছাপ মারা নরম কাদার মতই (সমতল) আকৃতি ধারণ করে|
15 মন্দ লোকরা দিনের আলো পছন্দ করে না| দিনের আলো যখন উজ্জ্বল হয়ে ওঠে তখন তা তাদের মন্দ কাজ করা থেকে বিরত করে|
16 “ইয়োব, যেখানে সমুদ্র শুরু হয়, সেই গভীরতম সমুদ্রে তুমি কি কখনও গিয়েছো? তুমি কি কখনও সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে হেঁটেছো?
17 ইয়োব, তুমি কি কখনও মৃত্যুলোকের দ্বাব এবং গভীর অন্ধকার দেখেছ?
18 ইয়োব, এই পৃথিবীটা য়ে কত বড় তা কি তুমি সত্যি সত্যিই বোঝ? যদি তুমি এসব বুঝে থাকো, আমায় বল|
19 “ইয়োব, কোথা থেকে আলো আসে? কোথা থেকে অন্ধকার আসে?
20 ইয়োব, য়েখান থেকে আলো ও অন্ধকার আসে, তুমি কি তাদের সেখানে ফিরিযে নিয়ে য়েতে পারবে? তুমি কি জানো সেই জায়গায় কি করে য়েতে হয়?
21 এইগুলো তুমি নিশ্চয় জানো, ইয়োব| কারণ তুমি বয়ঃবৃদ্ধ এবং জ্ঞানী| যখন আমি এসব সৃষ্টি করেছিলাম তখন তুমি জীবিত ছিলে, তাই না?
22 “ইয়োব, য়ে ভাণ্ডারে আমি তুষার এবং শিলাবৃষ্টি সঞ্চয় করে রাখি তুমি কি কখনও সেখানে গিয়েছিলে?
23 সঙ্কট কালের জন্য এবং যুদ্ধবিগ্রহের জন্য আমি শিলাবৃষ্টি ও তুষার সঞ্চয় করে রাখি|
24 তুমি কি কখনও সেই জায়গায় গিয়েছো য়েখান থেকে সূর্য় উদিত হয়, য়েখান থেকে সারা পৃথিবীতে পূবের বাতাস প্রবাহিত হয়?
25 প্রচণ্ড বৃষ্টির জন্য কে আকাশে খাদ খনন করেছে? কে ঝড় বিদ্যুতের জন্য পথ প্রস্তুত করেছে?
26 যেখানে কোন লোকই বসবাস করে না সেখানেও কে বৃষ্টি নিয়ে যায়?
27 সেই বৃষ্টি, শূন্য ভূমিতে প্রচুর জল দেয় এবং ঘাস গজিয়ে ওঠে|
28 এই বৃষ্টির কি কোন জনক আছে? শিশির বিন্দুর পিতা কে?
29 বরফের কি কোন জননী আছে? তুষারকে কে জন্ম দেয়?
30 জল পাথরের মত শক্ত হয়ে জমে যায়| এমনকি সমুদ্রও জমে যায়!
31 “ইয়োব, তুমি কি কৃত্তিকা নক্ষত্রমালাকে এক সঙ্গে বাঁধতে পারো? তুমি কি কালপুরুষের বন্ধনকে মুক্ত করতে পারো?
32 তুমি কি ঠিক সময়ে নক্ষত্রমণ্ডলীকে বার করতে পারো? তুমি কি বিরাট ভালুকটিকে তার শাবকসহ পরিচালিত করতে পারো?
33 য়ে বিধির দ্বারা আকাশ শাসিত হয়, তা কি তুমি জানো? তুমি কি পৃথিবীর ওপর ক্রমানুসারে তাদের সাজাতে পারো?
34 “ইয়োব, তুমি কি বৃষ্টির দিকে চেয়ে, তাদের নির্দেশ দিতে পারো, তোমাকে বৃষ্টিতে ঢেকে দিতে?
35 তুমি কি বিদ্যুতকে আদেশ করতে পারো? তারা কি তোমার কাছে এসে বলবে, ‘আপনি কোথায়? আপনি কি চান প্রভু?’ তুমি যেখানে চাও, তারা কি সেখানে যাবে?
36 ইয়োব, কে মানুষকে জ্ঞানী করে? কে তাদের অন্তরে প্রজ্ঞা দান করে?
37 এমন জ্ঞানী কে আছে য়ে মেঘ গণনা করতে পারে? কে তাদের বৃষ্টি ঝরানোর নির্দেশ দেয়?
38 ধূলো পরিণত হয় কাদায় এবং এক সঙ্গে দলা পাকিয়ে থাকে|
39 “ইয়োব, তুমি সিংহের জন্য খাদ্য খুঁজে দাও? তুমি কি ওদের ক্ষুধার্ত শিশুদের খেতে দাও?
40 এই সিংহরা তাদের গুহায় লুকিয়ে থাকে| শিকার ধরবার জন্য তারা লম্বা ঘাসের মধ্যে লুকিয়ে ঘাপটি মেরে বসে থাকে|
41 যখন দাঁড় কাকের ছানারা ঈশ্বরের কাছে সাহায্যের জন্য চিত্কার করে এবং নিরন্ন হয়ে ঘুরতে থাকে, তখন কে দাঁড় কাকদের খেতে দেয়?




অধ্যায় 39

1 “ইয়োব, তুমি কি জানো কখন পাহাড়ী ছাগলের জন্ম হয়? কখন হরিণ তার শাবককে জন্ম দেয় তা কি তুমি দেখতে পাও?
2 পাহাড়ী ছাগল ও হরিণ কতদিন ধরে তাদের বাচচাকে ধারণ করে তা কি তুমি জানো? কোনটাই বা তাদের জন্মানোর ঠিক সময় তা কি তুমি জানো?
3 ঐ পশুগুলো শুয়ে পড়ে, প্রসব যন্ত্রণা অনুভব করে এবং ওদের শাবকরা জন্ম নেয়|
4 ঐ শাবকরা মাঠেই বড় হয়| ওরা ওদের মাকে ছেড়ে চলে যায়, আর ফিরে আসে না|
5 “ইয়োব, বুনো গাধাদের কে মুক্তভাবে বিচরণ করতে দিয়েছে? কে ওদের বাঁধন খুলে ওদের মুক্ত করে দিয়েছে?
6 তাদের ঘর হিসেবে আমি তাদের মরুভূমি দিয়েছি, বসবাসের জন্য আমি ওদের নোনা জমি দিয়েছি|
7 শহরের কোলাহলে ওরা (বিদ্রূপে) হাসে| কেউই ওদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না|
8 বুনো গাধারা পাহাড়ে বাস করে| ওটাই ওদের চারণভূমি| ওই খানেই ওরা ওদের খাদ্য খোঁজে|
9 “ইয়োব, একটি বুনো বলদ কি তোমার কাজ করবে? সে কি রাত্রি বেলা তোমার শস্যাগারে থাকবে?
10 তুমি জমি চাষ করবে বলে একটি বুনো বলদ কি তোমাকে তার গলায দড়ি পরাতে দেবে?
11 একটি বন্য বলদ খুবই শক্তিশালী! কিন্তু সে তোমার কাজ করে দেবে এমন বিশ্বাস কি করতে পারো?
12 তুমি কি তার ওপর এমন নির্ভর করতে পারো য়ে সে শস্য মাড়বার খামারে তোমার জন্য শস্য এনে জড়ো করবে?
13 “একটি উটপাখী উত্তেজিত হয়ে ডানা ঝাপটায কিন্তু উটপাখী উড়তে পারে না| এর ডানা ও পালক বকের ডানা ও পালকের মত নয়|
14 উটপাখী তার ডিম মাটিতে পরিত্যাগ করে যায় এবং সেটা বালিতে উষ্ণ হয়ে ওঠে|
15 উটপাখী ভুলে যায় য়ে কেউ তার ডিম মাড়িয়ে দিতে পারে, অথবা কোন পশু তার ডিম ভেঙে দিতে পারে|
16 উটপাখী তার ছোটছোট বাচচাগুলিকে ছেড়ে চলে যায়| উটপাখী এমন আচরণ করে য়েন বাচচাগুলি তার নয়| সে এটা ভাবে না য়ে বাচচাগুলি যদি মারা যায়, তার সমস্ত পরিশ্রমই অর্থহীন হয়ে যাবে|
17 কেন? কারণ আমি (ঈশ্বর) উটপাখীকে কোন প্রজ্ঞা দান করি নি| উটপাখী নির্বোধ, আমি তাকে ওভাবেই সৃষ্টি করেছি|
18 কিন্তু উটপাখী যখন দৌড়ানোর জন্য ওঠে তখন সে ঘোড়া ও সওয়ারীকেও লজ্জা দেয় কারণ য়ে কোন ঘোড়ার থেকে সে দ্রুত ছুটতে পারে|
19 “ইয়োব, তুমি কি ঘোড়াকে তার শক্তি দিয়েছো? তুমি কি ঘোড়ার ঘাড়ের কেশর সৃষ্টি করেছো?
20 তুমি কি ঘোড়াকে পঙ্গপালের মত দীর্ঘ লাফ দেওয়ার যোগ্য করে তুলেছো? ঘোড়া জোরে হ্রেষাধ্বনি করে এবং লোকদের সতর্ক করে দেয়|
21 ঘোড়া খুবই খুশী কারণ সে শক্তিশালী| সে তার খুর দিয়ে মাটি আঁচড়ায এবং দ্রুত যুদ্ধক্ষেত্রে ছুটে যায়|
22 ঘোড়া ভয়কে উপহাস করে| সে ভীত হতে জানে না! সে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যায় না|
23 ঘোড়ার ওপর সৈনিকের তূণ (যাতে তীর রাখা হয়), তরবারি, বল্লম এবং বর্শা ঝোলে|
24 ঘোড়া খুব উত্তেজিত হয়| সে অত্যন্ত দ্রুত ছোটে| ঘোড়া যখন শিঙার বাজনা শোনে তখন সে আর স্থির হয়ে দাঁড়াতে পারে না|
25 যখন শিঙার শব্দ হয় তখন ঘোড়া বলে ‘তাড়াতাড়ি কর!’ বহু দূর থেকে সে লড়াই এর গন্ধ পায়| সে সেনাপতিদের চিত্কার এবং শিঙার রন ভেরী শুনতে পায়|
26 “ইয়োব, তুমি কি বাজপাখীকে ডানা মেলে দক্ষিণে উড়ে য়েতে শিখিয়েছ?
27 তুমি কি সেই জন য়ে ঈগলপাখীকে উঁচু আকাশে উড়তে বলেছো? তুমিই কি ঈগলপাখীকে উঁচু পাহাড়ে বাসা বাঁধতে বলেছো?
28 ঈগলপাখী উঁচু পাহাড়ে বাস করে| উঁচু দূরারোহ পাহাড়ের ধার হল ঈগলপাখীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল|
29 পাহাড়ের সেই উঁচু স্থান থেকে সে খাদ্যের সন্ধান করে| বহুদূর থেকে সে তার খাদ্য দেখতে পায়|
30 যেখানে মৃতদেহ জমা করা হয় তারা সেখানে জড় হয়| তাদের ছানারা রক্ত পান করে|”




অধ্যায় 40

1 প্রভু ইয়োবকে উত্তর দিলেন এবং বললেন:
2 “ইয়োব, তুমি ঈশ্বর সর্বশক্তিমানের সঙ্গে তর্ক করেছো| তুমি কি আমাকে সংশোধন করবে? য়ে ব্যক্তি ঈশ্বরের বিরুদ্ধে তর্ক করে সে তাঁর কাছে উত্তর দেবে!”
3 তখন ইয়োব প্রভুকে উত্তর দিয়ে বললেন:
4 “আমি কথা বলার যোগ্য নই; আমি আপনাকে কি বা বলতে পারি? আমার মুখ হাত দিয়ে চাপা দিলাম|
5 আমার যা বলা উচিত্‌ ছিল আমি ইতিমধ্যেই তার চেয়ে অনেক বেশী বলে ফেলেছি| আমি আর কিছু বলব না|”
6 তখন ঝড়ের ভেতর থেকে প্রভু আবার কথা বললেন| তিনি বললেন:
7 “ইয়োব, নিজেকে প্রস্তুত কর এবং আমি য়ে প্রশ্ন করবো তার উত্তর দেওয়ার জন্য তৈরী হও|
8 “ইয়োব, তুমি কি এখনও আমার সিদ্ধান্ত নাকচ করবার চেষ্টা করবে? তুমি নিজের সততা প্রতি পালন করবার জন্য আমাকে মন্দ কাজের দরুণ দোষী বলে ঘোষণা করেছ|
9 তোমার বাহু কি ঈশ্বরের বাহুর মতো শক্তিশালী? তোমার কি ঈশ্বরের মত বজ্রগম্ভীর কণ্ঠস্বর আছে?
10 যদি তুমি ঈশ্বরের মত হও তুমি গর্ব করতে পারো| যদি তুমি ঈশ্বরের মত হও তবে মহিমা এবং সম্মান তোমাকে বস্ত্রের মত জড়িয়ে থাকবে|
11 যদি তুমি ঈশ্বরের মত হও তুমি ক্রোধ প্রদর্শন করে অহঙ্কারী লোকেদের শাস্তি দিতে পারো| ওই অহঙ্কারীদের নম্র করে তুলতে পারো|
12 হ্যাঁ, ইয়োব, ওই অহঙ্কারী লোকদের দেখ এবং ওদের নম্র করে তোল| মন্দ লোকরা যেখানে দাঁড়ায়, ওদের গুঁড়িযে দাও|
13 সব অহঙ্কারী লোকদের কবর দাও| ওদের দেহ আবৃত করে ওদের কবরে পাঠিয়ে দাও|
14 ইয়োব, যদি তুমি এই সব করতে পারো, তাহলে আমিও তোমার প্রশংসা করবো| এই আমি স্বীকার করবো য়ে তোমার নিজের শক্তিতেই তুমি নিজেকে রক্ষা করতে পারবে|
15 “ইয়োব, বহেমোতেরদিকে দেখ| আমি বহেমোত্‌ এবং তোমাকে সৃষ্টি করেছি| বহেমোত্‌ গরুর মত ঘাস খায়|
16 বহেমোতের গায়ে প্রচুর শক্তি আছে| ওর পাকস্থলীর পেশীগুলি প্রচণ্ড শক্তিশালী|
17 বহেমোতের লেজ এরস গাছের মতই শক্ত| ওর পায়ের পেশীগুলিও খুব শক্ত|
18 ওদের হাড়গুলো কাঁসার মতই শক্ত| ওর হাত পাগুলো লোহার দণ্ডের মত|
19 বিস্ময় সৃষ্টিকারী প্রাণীদের মধ্যে আমি বহেমোতকে সৃষ্টি করেছি| কিন্তু আমি তাকে পরাজিতও করতে পারি|
20 পাহাড়ে যেখানে বন্য পশুরা খেলা করে, সেখানে য়ে ঘাস জন্মায়, বহেমোত্‌ তা খায়|
21 সে পদ্ম বনের নীচে ঘুমিয়ে থাকে| জলাভূমির নলখাগড়ার ভিতর সে নিজেকে লুকিয়ে রাখে|
22 ঘন পাতা যুক্ত গাছ তার ছায়াতে বহেমোতকে লুকিয়ে ফেলে| নদীর ধারে উইলো গাছের নীচে সে থাকে|
23 নদীতে বন্যা এলেও বহেমোত্‌ পালিয়ে যায় না| যদি য়?র্ন নদী ওর মুখে উচ্ছ্বাসিত হয়ে ভেঙ্গে পড়ে, তবু বহেমোত্‌ তাতে ভয় পায় না|
24 ওর চোখকে কেউ অন্ধ করতে পারে না বা ফাঁদ পেতে ওকে ধরতেও পারে না|




অধ্যায় 41

1 “ইয়োব, তুমি কি দানবাকৃতি সামুদ্রিক প্রাণী লিবিয়াথনকে মাছ ধরার বঁড়শি দিয়ে ধরতে পারো? একটা দড়ি দিয়ে ওর জিভকে কি বাঁধতে পারো?
2 তুমি কি ওর নাকে দড়ি দিতে পারো অথবা ওর চোযালে বঁড়শি বিঁধিয়ে দিয়ে পারো?
3 লিবিয়াথন কি তাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য তোমার কাছে আকুতি জানাবে? সে কি ভদ্র ভাষায় তোমার সঙ্গে কথা বলবে?
4 চির দিন তোমার সেবা করার জন্য লিবিয়াথন কি তোমার সঙ্গে কোন চুক্তি করবে?
5 য়েমন করে তুমি একটি পাখির সঙ্গে খেলা কর, তেমন করে কি তুমি লিবিয়াথনের সঙ্গে খেলা করবে? তুমি কি তাকে দড়িতে বাঁধতে পারবে যাতে তোমার ছোট মেয়েরা ওর সঙ্গে খেলা করতে পারে?
6 ব্যবসাদাররা কি তোমার কাছ থেকে লিবিয়াথনকে কেনার চেষ্টা করবে? ওরা কি তাকে টুকরো টুকরো করে কেটে সওদাগরের কাছে বিক্রি করতে পারবে?
7 তুমি কি লিবিয়াথনের চামড়ায বা মাথায় মাছ ধরবার বর্শা বা হারপূন বেঁধাতে পারো?
8 “ইয়োব, যদি তুমি একবার লিবিয়াথনের গায়ে হাত দাও তুমি আর কখনো সে কাজ করবে না! সেই ভয়ঙ্কর যুদ্ধের কথাটা একবার ভাবো তো!
9 তুমি কি মনে কর তুমি লিবিয়াথনকে পরাজিত করতে পারবে? সে কথা ভুলে যাও| তার কোন আশাই নেই| ওর দিকে তাকালেই তুমি ভয়ে শিউরে উঠবে!
10 তাকে জাগিয়ে দিয়ে রাগিয়ে দেবার সাহস কারো নেই| “তাই, কে আমার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সাহস করবে?
11 আমাকে কারো কাছ থেকে কিছুই কিনতে হয়নি| ওগুলো সব আমারই অধিকারভুক্ত|
12 “ইয়োব, আমি তোমাকে লিবিয়াথনের পা, তার শক্তি এবং তার চেহারার কথা বলবো|
13 কেউই তার চামড়ার দাম দিতে পারে না| ওর চামড়া বর্মের মত শক্ত|
14 কোন লোকই জোর করে লিবিয়াথনের মুখ খোলাতে পারে না| ওর মুখের দাঁত দেখলে লোকে ভয় পায়|
15 ওর পিঠের পেশী সারিবদ্ধ ভাবে দৃঢ়সংবদ্ধ হয়ে আছে|
16 বর্মগুলি এত কাছাকাছি বসানো য়ে ওগুলোর মধ্যে বাতাসও বইতে পারে না|
17 বর্মগুলি একে অন্যের সঙ্গে সংযুক্ত| বর্মগুলি এতই ঘন, সংবদ্ধ য়ে ওদের টেনে আলাদা করা যায় না|
18 লিবিয়াথন যখন হাঁচি দেয় তখন আলো ঝলক দিয়ে ওঠে| ওর চোখ প্রত্যুষের আলোর মত জ্বলতে থাকে|
19 ওর মুখ থেকে লেলিহান অগ্নি বেরিয়ে আসে| আগুনের স্ফুলিঙ্গ ছিটকে আসে|
20 ফুটন্ত কেটলির তলা দিয়ে য়েমন জ্বলন্ত ঘাসের ধোঁয়া বের হয়, লিবিয়াথনের নাক দিয়েও তেমনি ধোঁয়া বার হয়|
21 লিবিয়াথনের নিঃশ্বাসে কযলা জ্বলে যায়, ওর মুখ থেকে আগুনের শিখা বের হয়|
22 লিবিয়াথনের গলা ভীষণ শক্তিশালী, লোকে তাকে ভয় পায় ও ছুটে পালিয়ে যায়|
23 ওর চামড়ার কোন কোমল স্থান নেই| তা য়েন লোহার মত শক্ত|
24 লিবিয়াথনের হৃদয় পাথরের মত| তা য়েন যাঁতা কলের পাথরের মত শক্ত|
25 যখন লিবিয়াথন জেগে ওঠে, দেবতারাও তখন ভয় পান| লিবিয়াথন যখন তার লেজ ঝাপটা দেয়, তখন তাঁরা সন্ত্রস্ত হন|
26 তরবারি, বল্লম বা বর্শা যা দিয়েই লিবিয়াথনকে আঘাত করা হোক না কেন তা প্রতিহত হয়ে ফিরে আসে| ওই সব অস্ত্র তাকে একদম আঘাত করতে পারে না|
27 লোহাকে লিবিয়াথন খড়কুটোর মত গুঁড়িযে দিতে পারে| পচা কাঠের মত সে কাঁসাকে ভেঙে দেয়|
28 তীরের ভয়ে লিবিয়াথন পালিয়ে যায় না| ওর গা থেকে পাথর খড়কুটোর মতো ছিটকে চলে আসে|
29 যদি মুগুর দিয়ে লিবিয়াথনকে আঘাত করা হয়, তা য়েন খড়ের টুকরোর মতো তার গায়ে লাগে| লোকে যখন তার দিকে বল্লম ছোঁড়ে তখন সে হাসে|
30 লিবিয়াথনের পেটের চামড়া ধারালো খোলামকুচির মতো| সে কাদার ওপর দাগ করে দিয়ে যায়, য়েমন তক্তা দিয়ে ফসল মাড়াই করলে দাগ পড়ে- তেমন দাগ|
31 ফুটন্ত জলের মতো লিবিয়াথন জলকে নাড়া দেয়| সে জলের ওপর ফুটন্ত তেলের বুদবুদের মতো বুদবুদ সৃষ্টি করে|
32 যখন লিবিয়াথন সাঁতার দেয় তখন সে তার পেছনে একটি চকচকে পথরেখা রেখে যায়| সে জলকে ঝাঁকিয়ে দিয়ে যায় এবং জলকে ফেনাযিত করে|
33 পৃথিবীর কোন প্রাণীই লিবিয়াথনের মতো নয়| সে ভয়শূন্য প্রাণী|
34 য়ে প্রাণী সব থেকে বেশী গর্ব করে, লিবিয়াথন তাকেও নিচু নজরে দেখে| সে সমস্ত বুনো পশুদের রাজা| এবং আমি (ঈশ্বর) লিবিয়াথন সৃষ্টি করেছি|”




অধ্যায় 42

1 তখন ইয়োব প্রভুকে উত্তর দিলেন| ইয়োব বললেন,
2 “প্রভু, আমি জানি আপনি সব কিছু করতে পারেন| আপনি পরিকল্পনা করেন, কোন কিছুই আপনার পরিকল্পনাকে পরিবর্তিত করতে বা রোধ করতে পারে না|
3 প্রভু, আপনি এই প্রশ্ন করেছেন: ‘কে সেই অজ্ঞ লোক য়ে এমন বোকা বোকা কথা বলছে?’ প্রভু, আমি যা বুঝি নি আমি তা বলেছি| আমি সেই সব বিষয়ের কথা বলেছি য়েগুলো বুঝতে গেলে আমি বিস্ময়-বিহবল হয়ে যাই|
4 “প্রভু, আপনি আমায় বলেছেন, ‘শোন ইয়োব, এখন আমি বলবো| আমি তোমাকে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করবো এবং তুমি আমাকে তার উত্তর দেবে|’
5 প্রভু, অতীতে আমি আপনার সম্বন্ধে শুনেছিলাম, কিন্তু এখন আমার নিজের চোখে আমি আপনাকে দেখলাম|
6 তাই, আমার জন্য আমি লজ্জিত| আমি ছাই ও ধূলার মধ্যে দুঃখের সঙ্গে আমার অপরাধ স্বীকার করছি|”
7 ইয়োবের সঙ্গে কথা শেষ করার পর, প্রভু তৈমন থেকে আসা ইলীফসের সঙ্গে কথা বললেন| প্রভু ইলীফসকে বললেন, “আমি তোমার প্রতি ও তোমার দুই বন্ধুর প্রতি রুদ্ধ হয়েছি| কেন? কারণ তোমরা আমার সম্পর্কে সঠিক কথা বলো নি| কিন্তু ইয়োব আমার সেবক এবং ইয়োব আমার সম্পর্কে সঠিক কথা বলেছে|
8 তাই ইলীফস, এখন তুমি সাতটা বলদ ও সাতটা ভেড়া নাও| আমার সেবক ইয়োবের কাছে তা নিয়ে যাও| ওদের হত্যা কর এবং তোমাদের জন্য হোমবলি হিসেবে উত্সর্গ কর| আমার সেবক ইয়োব তোমাদের জন্য প্রার্থনা করবে এবং আমি তার প্রার্থনার উত্তর দেবো| তাহলে তোমাদের যা শাস্তি প্রাপ্য তা আমি দেব না| তোমাদের শাস্তি পাওয়া উচিত্‌ কারণ তোমরা ভীষণ নির্বোধ| তোমরা আমার সম্পর্কে সঠিক কথা বলনি| কিন্তু আমার সেবক ইয়োব আমার সম্পর্কে সঠিক কথা বলেছে|”
9 তখন তৈমনীয় ইলীফস, শূহীয় বিল্দদ এবং নামাথীয় সোফর প্রভুর আদেশ পালন করলেন এবং তারপর ইয়োব তাঁদের জন্য য়ে প্রার্থনা করেছিলেন, প্রভু তার উত্তর দিলেন|
10 ইয়োব তাঁর বন্ধুদের জন্য প্রার্থনা করলেন| প্রভু ইয়োবকে আবার সাফল্য দিলেন| ইয়োবের যা ছিলো, ঈশ্বর তাকে তার দ্বিগুণ দিলেন|
11 তখন ইয়োবের সব ভাইবোন এবং অন্য সবাই যারা ইয়োবকে জানতো, তারা তাঁর বাড়ীতে এলো| তারা ইয়োবকে সান্ত্বনা দিলো, প্রভু য়ে ইয়োবকে এত কষ্ট দিয়েছেন তার জন্য তারা দুঃখিত হল| প্রত্যেকে ইয়োবকে এক টুকরো করে রূপোও একটি করে সোনার আংটি দিল|
12 শুরুতে ইয়োবের যা ছিলো, তার থেকে অনেক বেশী সম্পদ দিয়ে প্রভু ইয়োবকে আশীর্বাদ করলেন| ইয়োব 14,000 মেষ, 6,000 উট, 2,000 গাভী এবং 1,000 স্ত্রী গাধা পেলেন|
13 ইয়োব সাত পুত্র এবং তিন কন্যাও পেলেন|
14 ইয়োব প্রথম কন্যার নাম রাখলেনয়িমীমা| দ্বিতীয় কন্যার নাম রাখলেন কত্‌সীয়া এবং তৃতীয় কন্যার নাম রাখলেন কেরণহপপূক|
15 ইয়োবের কন্যারা সারা দেশের মধ্যে সব চেয়ে সুন্দরী নারী ছিল| ইয়োব তাঁর সম্পত্তির একটি অংশ তাঁর কন্যাদের দিলেন- ওরা ওদের ভাইদের মতোই সম্পত্তির অংশ পেল|
16 তখন ইয়োব, আরও 140 বছর বেশী বেঁচে ছিলেন| তিনি তাঁর সন্তানদের চারটি প্রজন্ম দেখবার জন্য বেঁচে ছিলেন|
17 ইয়োব খুব বৃদ্ধ বয়সে মারা গেলেন|