প্রবচন

1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31


অধ্যায় 1

1 এই নীতি-কথাগুলি দায়ূদের পুত্র শলোমনের জ্ঞানগর্ভ শিক্ষামালা| শলোমন ছিলেন ইস্রায়েলের রাজা|
2 মানুষকে জ্ঞানী করে তোলা এবং তাদের সঠিক পথের সন্ধান দেওয়াই এই কথাগুলির উদ্দেশ্য| এম্প কথাগুলির মাধ্যমে লোকে জ্ঞানগর্ভ শিক্ষামালা অনুধাবন করতে পারবে|
3 এই কথাগুলি লোকদের সঠিক পথ বুঝতে সাহায্য করে| মানুষ সততা, ন্যায়পরাযণতা ও ধার্মিকতার পথ শিখবে|
4 যাঁরা জ্ঞান অর্জন করতে চান সেই লোকদের এই কথাগুলি শিক্ষা প্রদান করবে| এই জ্ঞান কি করে প্রয়োগ করতে হবে এই শিক্ষামালা যুবসম্প্রদাযকে তাও শিখিযে দেবে|
5 এমনকি জ্ঞানী ব্যক্তিদেরও এই নীতি-কথাগুলি শোনা উচিত্‌| এই শিক্ষামালার মাধ্যমে তাঁদের জ্ঞানের ব্যপ্তি বৃদ্ধি পাবে, তাঁরা আরো পণ্ডিত হয়ে উঠবেন| য়ে সব লোক বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে দক্ষ তাঁরা আরও বেশী বোধ লাভ করবেন|
6 তখন ঐসব লোকরা জ্ঞানপূর্ণ রচনাবলী এবং কাহিনীসমূহ যাদের মধ্যে রূপক অর্থ রযেছে সেগুলো বুঝতে পারবেন| তাঁরা জ্ঞানবানদের কথাগুলি অনুধাবন করতে সফল হবেন|
7 প্রভুকে মান্য করা এবং শ্রদ্ধা করাই হল মানুষের সর্বপ্রথম কর্তব্য| এটা তাদের প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করতে সাহায্য করে| কিন্তু শয়তান বোকারা অনুশাসন এবং যথার্থ জ্ঞানকে ঘৃণা করে|
8 আমার পুত্র,তোমার পিতা যখন তোমাকে সংশোধন করেন তখন তাঁর উপদেশ শোন| তোমার মায়ের পরামর্শও অবহেলা কোরো না|
9 তোমার পিতামাতার দেওয়া শিক্ষাসমূহ তোমার মাথার ওপর একটি সুন্দর মালার মত অথবা একটি কন্ঠহারের মতো য়েটা তোমাকে দেখতে আকর্ষক করে তোলে|
10 পুত্র আমার, পাপীরা তোমাকেও পাপের পথে টানতে চেষ্টা করবে| ঐ পাপীদের কথায় কর্ণপাত কোরো না|
11 ঐসব পাপী লোকরা হয়তো তোমাকে বলবে, “আমাদের দলে এসো! আমরা একটি লোককে হঠাত্‌ আক্রমণ ও হত্যা করেত যাচ্ছি| আমরা এক জন নিরীহ লোককে আক্রমণ করব|
12 আমরা তাকে হত্যা করব| আমরা ঐ লোকটিকে মৃত্যুস্থলে পাঠিয়ে দেব| আমরা তাকে কবরে পাঠাব|
13 আমরা সর্বপ্রকার বহুমূল্য সামগ্রী চুরি করব| আমরা সেই চুরি করা ধনসম্পত্তি দিয়ে আমাদের গৃহ পরিপূর্ণ করব|
14 তাই আমাদের সঙ্গে চলে এসো, আমাদের সাহায্য কর| ঐ লুন্ঠিত ধন আমরা সবাই ভাগাভাগি করে নেব!”
15 পুত্র, ঐ পাপীদের অনুসরণ কোরো না| তাদের পাপের পথে এক পাও অগ্রসর হয়ো না|
16 ঐসব খারাপ লোকরা পাপ কাজ করতে সর্বদাই প্রস্তুত| তারা সর্বদা লোকদের হত্যা করতে চায়|
17 লোকরা পাখী ধরতে জাল পাতে| কিন্তু জাল যখন পাতা হচ্ছে তখন যদি পাখীরা দেখে ফেলে তাহলে কোন লাভ হবে না|
18 তাই পাখীরা কাউকে হত্যা করার আগে তার জন্য লুকিয়ে প্রতীক্ষা করে| কিন্তু ওরা নিজেদের পাতা ফাঁদে পা দিয়েই ধ্বংস হবে!
19 লোভী লোকরা তাদের নিজেদের কুকর্মের জন্য তাদের জীবন হারায|
20 শোন! প্রজ্ঞা মানুষকে শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছে| সে (প্রজ্ঞা) পথেঘাটে এবং জনবহুল বাজারে চিত্কার করছে|
21 সে জনবহুল রাস্তার বাঁকগুলিতে চিত্কার করছে| সে শহরের ফটকগুলির কাছে লোকদের উদ্দেশ্য করে চেঁচাচ্ছে| প্রজ্ঞা বলছে:
22 “ওহে বোকা লোকরা, আর কতদিন ধরে তোমরা তোমাদের নির্বোধের মত জীবনযাপন করাকে ভালবেসে চলবে? আরও কতকাল প্রজ্ঞাকেউপহাস করা উপভোগ করবে? হীনবুদ্ধিরা কতদিন জ্ঞানকে ঘৃণা করবে?
23 আমার শিক্ষামালার প্রতি তোমাদের যথাযোগ্য মনোয়োগ দেওয়া উচিত্‌ ছিল| আমি তোমাদের আমার জ্ঞান দিয়ে দিতাম| আমি আমার ভাবনাগূলোকে তোমাদের জ্ঞাত করতাম|
24 “কিন্তু তোমরা আমার কথা শুনতে অস্বীকার করেছিলে| আমি তোমাদের সাহায্য করতে চেয়েছিলাম| আমি তোমাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িযে দিয়েছিলাম - কিন্তু তোমরা আমার সাহায্য গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিলে|
25 তোমরা আমার তিরস্কার গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিলে| তোমরা আমার সঙ্গে এক মত হতে সম্মত হলে না|
26 অতএব, তোমরা যখন সংকটে পড়বে তখন আমি তোমাদের নিয়ে পরিহাস করব| তোমাদের কাছে যখন সন্ত্রাস আসবে তখন আমি তোমাদের উপহাস করব|
27 সন্ত্রাস ভয়ঙ্কর ঝড়ের মত তোমাদের অতর্কিতে গ্রাস করবে| সংকটসমূহ প্রবল বাতাসের মত তোমাদের ওপর আঘাত হানবে| তোমরা নিদারুণ যন্ত্রণা ও দুঃখে পড়বে|
28 “যখনই এই ধরণের বিপর্য়য ঘটবে তোমরা আমার সাহায্য চাইবে| কিন্তু আমি তোমাদের সাহায্য করব না| তোমরা আমাকে খুঁজবে কিন্তু পাবে না|
29 আমি তোমাদের সাহায্য করব না| কারণ তোমরা জ্ঞানকে অস্বীকার করেছো| তোমরা প্রভুকে ভয় ও ভক্তি করতে রাজি হও নি|
30 তোমরা আমার উপদেশে কর্ণপাত কর নি| আমি যখন তোমাদের সঠিক পথের সন্ধান দিতে চেয়েছি, তোমরা রাজি হও নি|
31 তোমরা তোমাদের ইচ্ছে মত বাঁচতে চেয়েছ| তোমরা নিজেদের মতই অনুসরণ করেছ| তাই তোমাদের কৃতকর্মের ফল তোমরাই ভোগ করবে|
32 “নির্বোধরা ধ্বংস হয় কারণ তারা জ্ঞানের পথ অনুসরণ করতে অস্বীকার করে| তারা বিপথে চালিত হয় এবং নিজেদের পতন ডেকে আনে|
33 কিন্তু য়ে ব্যক্তি আমাকে মেনে চলে সে নিরাপদে বাস করবে| সে সর্বদা স্বাচ্ছন্দে থাকবে, সে কখনও কোন মন্দকে ভয় করবে না|”




অধ্যায় 2

1 পুত্র আমার, আমি যা বলি তা গ্রহণ কর| আমার আদেশগুলি মনে রেখো|
2 প্রজ্ঞার কথা শোন এবং সর্বতোভাবে বোঝার চেষ্টা কর|
3 জ্ঞানকে ডাকো| বোধকে চিত্কার করে ডাকো|
4 রূপোর মত প্রজ্ঞার অন্বেষণ কর| গুপ্তধনের মত তাঁকে খুঁজে বেড়াও|
5 তুমি যদি এগুলি কর, তাহলে তুমি প্রভুকে শ্রদ্ধা করতে শিখবে| তুমি ঈশ্বরের জ্ঞান খুঁজে পাবে|
6 প্রভু আমাদের প্রজ্ঞা দান করেন| জ্ঞান এবং বোধশক্তি তাঁরই মুখ থেকে নিঃসৃত হয়|
7 তিনি সত্‌ ও ধার্মিক ব্যক্তিদের রক্ষা করেন|
8 যারা অন্যদের প্রতি ভদ্র আচরণ করে তাদেরও তিনি রক্ষা করেন| জ্ঞান ও বোধ তাঁর মুখ থেকে নিঃসৃত হয়|
9 তাই, প্রভু তোমাকে তাঁর জ্ঞান প্রদান করবেন| তখন তুমি ভালো, ন্যায় ও সঠিক বলতে কি বোঝায তা বুঝতে সক্ষম হবে|
10 প্রজ্ঞা তোমার হৃদয়ে প্রবেশ করবে এবং তোমার আত্মা জ্ঞানের মহিমায সুখী হবে|
11 প্রজ্ঞা তোমাকে রক্ষা করবে এবং বিবেচনাশক্তি তোমাকে পাহারা দেবে|
12 প্রজ্ঞা এবং বোধ তোমাকে পাপী লোকদের মত ভুল পথে চলার হাত থেকে নিবৃত্ত করবে| যারা এমন কথা বলে যা ধ্বংসের কারণ তাদের কাছ থেকে জ্ঞান তোমাকে রক্ষা করবে|
13 এই পাপী লোকরা সততার পথ ত্যাগ করেছে এবং এখন অন্ধকারের (পাপ) পথ অনুসরণ করছে|
14 তারা পাপ কাজ করতেই ভালোবাসে এবং কুপথকে উপভোগ করে|
15 ঐ পাপীদের বিশ্বাস করা যায় না| তারা মিথ্যা কথা বলে এবং লোকদের প্রতারণা করে| কিন্তু তোমার জ্ঞান ও বোধ তোমাকে সব সময় এই সব জিনিসগুলি থেকে দূরে রাখবে|
16 প্রজ্ঞা তোমাকে ঐ অপরিচিতা রমণী থেকে দূরে রাখবে| সেই বিজাতীযা, য়ে চাটুকারিতার সাহায্যে তোমাকে পাপের পথে প্রলুদ্ধ করে, তার হাত থেকে তোমাকে রক্ষা করবে প্রজ্ঞা|
17 য়ৌবনে সে বিয়ে করেছিল, কিন্তু পরবর্তীকালে সে স্বামীকে পরিত্যাগ করেছে| ঈশ্বরকে সাক্ষী রেখে বিবাহের শপথকে সে ভুলে গিয়েছে|
18 এখন, তুমি যদি তার ঘরে ঢোক তাহলে সেটা তোমাকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাবে! তুমি যদি মেয়ে-মানুষটাকে অনুসরণ কর সে তোমাকে কবরের দিকে পরিচালিত করবে!
19 সে নিজেই কবরের মত| য়ে সব পুরুষরা তার বাড়ীতে ঢুকবে তারা তাদের জীবন হারাবে এবং আর কখনও ফিরে আসবে না|
20 প্রজ্ঞা তোমাকে ধার্মিকদের পথ অনুসরণ করতে সাহায্য করবে| প্রজ্ঞা তোমাকে সত্‌ভাবে জীবনযাপনে সাহায্য করবে|
21 সত্‌ এবং ধার্মিক লোকরা তাদের নিজেদের দেশে বসবাস করতে পারবে| সত্‌, নির্দোষ লোকরা তাদের দেশে বাস করতে পারবে|
22 কিন্তু শয়তান লোকদের বাসভূমি তাদের হাতছাড়া হবে| যারা মিথ্যা কথা বলে এবং প্রতারণা করে তারা নিজেদের দেশ থেকে বিতাড়িত হবে|




অধ্যায় 3

1 পুত্র আমার, আমার শিক্ষা ভুলো না| আমি তোমাকে যা করতে বলি তা সযত্নে মনে রেখো|
2 আমার কথাগুলি তোমাকে দীর্ঘ এবং সমৃদ্ধিপূর্ণ জীবন প্রদান করবে|
3 ভালোবাসাকে কখনও পরিত্যাগ করো না| সর্বদা সত্‌ এবং বিশ্বস্ত থাকবে| এই জিনিসগুলিকে তোমার নিজের অঙ্গীভূত করে নাও| এইগুলি তোমার কন্ঠে জড়িয়ে রাখো, তোমার হৃদয়ে লিখে রাখো|
4 তাহলেই তুমি ঈশ্বর এবং মানুষের কাছে বিচক্ষণ এবং পুণ্যবান সাব্যস্ত হবে|
5 ঈশ্বরকে পরিপূর্ণভাবে বিশ্বাস কর| নিজের জ্ঞানের ওপর নির্ভর কোরো না|
6 তুমি যা কিছু করবে তাতে সর্বদা ঈশ্বরকে এবং তাঁর ইচ্ছাকে স্মরণ করবে| তাহলেই তিনি তোমাকে সাহায্য করবেন|
7 নিজের বুদ্ধি বিবেচনার ওপর নির্ভর কোরো না| ঈশ্বরকে ভক্তি কর এবং পাপ থেকে দূরে থাকো|
8 যদি তুমি এই কথাগুলি পালন কর তাহলে তুমি উপকৃত হবে ঠিক য়েমন ওষুধ শরীরকে নিরাময করে অথবা য়েমন এক মাত্রা তরল পানীয় তোমাকে শক্তি দেয়|
9 তোমার যথাসর্বস্ব সমর্পণ করে প্রভুকে ধন্য কর| তোমার শস্য়ের উত্কৃষ্টতম ফসলগুলি প্রভুর সামনে উত্সর্গ কর|
10 তাহলে তোমার যাবতীয় প্রয়োজন প্রভুই মিটিয়ে দেবেন| তোমার গোলা শস্য়ে ভরে যাবে এবং তোমার ভাণ্ডারে দ্রাক্ষারস উপচে পড়বে|
11 আমার পুত্র, কখনও কখনও তোমার ভুলত্রুটি তোমাকে দেখিয়ে দেবার জন্য প্রভু তোমাকে শাসন করবেন| এই শাস্তির জন্য রাগ কোরো না| ঐ শাস্তি থেকে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা কোরো|
12 কেন? কারণ ঈশ্বর কেবল তাঁর স্নেহাস্পদদেরই সংশোধন করেন| হ্যাঁ, ঈশ্বর আমাদের পিতার মত, তিনি তাঁর প্রিয়তম সন্তানকেই শোধরানোর চেষ্টা করেন|
13 য়ে ব্যক্তি প্রজ্ঞা লাভ করেছে, সে সুখী হবে| যখন সে বোধশক্তিপ্রাপ্ত হবে, তখন সে আশীর্বাদধন্য হবে|
14 প্রজ্ঞা থেকে য়ে লাভ আসে তা রূপোর চেয়েও ভালো| প্রজ্ঞা থেকে য়ে লাভ হয় তা সূক্ষ্ম সোনার চেয়েও ভালো!
15 প্রজ্ঞার মূল্য মণি-মাণিক্যের চেয়েও বেশী| তোমার অভীষ্ট কোন বস্তুই প্রজ্ঞার মত অমূল্য নয়|
16 প্রজ্ঞা তোমাকে ধনসম্পদ, সম্মান এবং দীর্ঘজীবন এনে দেবে|
17 জ্ঞানী লোকরা শান্তিপূর্ণ, সুখী জীবনযাপন করে|
18 প্রজ্ঞা হল জীবন বৃক্ষের মত| প্রজ্ঞাকে যারা গ্রহণ করবে, তারা সুখী ও মনোরম জীবনযাপন করবে| জ্ঞানী ব্যক্তিরাই যথার্থ সুখী হবে!
19 প্রজ্ঞা এবং বোধকে প্রভু আকাশ এবং পৃথিবী সৃষ্টি করবার জন্য ব্যবহার করেছেন|
20 মহাসমুদ্র এবং মেঘরাশি যা বৃষ্টি দেয় তা প্রভুর জ্ঞানের দ্বারাই সৃষ্ট|
21 পুত্র আমার, প্রজ্ঞাকে তোমার দৃষ্টির অগোচর হতে দিও না! তোমার চিন্তা এবং পরিকল্পনা করবার ক্ষমতাকে বুদ্ধিমানের মত রক্ষা কর|
22 প্রজ্ঞা এবং বোধ তোমাকে জীবন দান করবে এবং তোমার জীবনকে আরও সুন্দর করে তুলবে|
23 তাহলে তুমি নিরাপদে জীবনযাপন করবে এবং কখনও পতিত হবে না|
24 বিছানায শুতে যাবার সময় তুমি ভয় পাবে না| তুমি শান্তিতে বিশ্রাম নিতে পারবে|
25 দুষ্ট লোকদের দ্বারা সৃষ্ট আশাতীত বিপদের কথা ভেবে ভয় পেও না|
26 প্রভু তোমার সঙ্গে থাকবেন এবং তোমাকে ফাঁদে পড়া থেকে আটকে দেবেন|
27 যখনই সম্ভব হবে, যাদের তোমার সাহায্যের দরকার, তাদের ভালো করো|
28 তোমার প্রতিবেশী যদি তোমার কাছে কিছু চায় এবং তা যদি তোমার কাছে থাকে, তাহলে সেটা তখনই তাকে দিয়ে দিও| প্রতিবেশীকে সেটা পরের দিন নিতে আসতে বোলো না|
29 তোমার প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে দুষ্ট পরিকল্পনা কোরো না| সে তোমার কাছাকাছি থাকে এবং সে তোমাকে বিশ্বাস করে!
30 কোন উপযুক্ত কারণ ছাড়া কাউকে আদালতে তুলো না| সে যদি তোমার কোন অনিষ্ট না করে এটা কোরো না|
31 হিংসাত্মক লোকদের হিংসা কোরো না এবং তাদের পথ অনুসরণ করবার সিদ্ধান্ত নিও না|
32 কেন? কারণ প্রভু দুষ্ট, অসাধু লোকদের ঘৃণা করেন এবং সত্‌ ও ভালো লোকদের ভালবাসেন|
33 দুষ্ট লোকদের পরিবারগুলির ওপর প্রভুর অভিশাপ রযেছে| কিন্তু ধার্মিক লোকদের গৃহগুলিকে তিনি আশীর্বাদ করেন|
34 যারা অপরকে নিয়ে পরিহাস করে সেই দাম্ভিক ব্যক্তিদের প্রভু শাস্তি দেন| প্রভু বিনযী ব্যক্তিদের প্রতি দযাশীল|
35 জ্ঞানী লোকরা এমন জীবনযাপন করে যা সম্মান আনে| কিন্তু নির্বোধরা এমন জীবনযাপন করে যার পরিণতি লজ্জা|




অধ্যায় 4

1 পুত্রগণ, তোমাদের পিতার শিক্ষাসমূহ মনোয়োগ সহকারে শোন| মনোয়োগ দিলে তবেই এই হিতোপদেশগুলি বুঝতে পারবে!
2 কেন? কারণ আমার এই উপদেশগুলি খুবই গুরুত্বপূর্ণ| তাই এই শিক্ষামালা কখনও ভুলে য়েও না|
3 এক সময় আমিও তোমাদের মত যুবক ছিলাম! আমি আমার পিতার ছোট পুত্র এবং আমার মাতার একমাত্র সন্তান ছিলাম|
4 এবং আমার পিতা আমাকে এই জিনিসগুলি শিখিযেছিলেন| তিনি আমাকে বলেছিলেন, “আমি যা বলি তা মনে রেখো| আমার আদেশ পালন কর, তাহলে বাঁচতে পারবে!
5 বিবেচনাশক্তি এবং জ্ঞান লাভ করো! কখনও আমার কথা ভুলো না| সর্বদা আমার উপদেশ মেনে চলবে|
6 জ্ঞান থেকে দূরে সরে থেকো না| তাহলে জ্ঞান তোমাকে রক্ষা করবে| জ্ঞানকে ভালোবাসো এবং জ্ঞান তোমাকে নিরাপদে রাখবে|”
7 তুমি য়ে মূহুর্ত থেকে জ্ঞান অর্জন করার সংকল্প করেছ তখন থেকেই জ্ঞানের পর্ব শুরু হয়েছে| অতএব তোমার সমস্ত প্রযাস ব্যবহার করে, এমনকি তোমার সমস্ত বিষয় সম্পত্তির বিনিময়েও জ্ঞান অর্জন করবার চেষ্টা করো! তাহলে তুমি ক্রমশঃ বুদ্ধিমান হয়ে উঠবে|
8 জ্ঞানকে ভালোবাস, জ্ঞানই তোমাকে মহান করে তুলবে| জ্ঞানকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলো এবং জ্ঞান তোমাকে সম্মান এনে দেবে|
9 জ্ঞানই সর্বশ্রেষ্ঠ বস্তু যা তোমার জীবনে ঘটতে পারে|
10 পুত্র, আমার কথা শোন| আমার আদেশ মেনে চললে তোমার আযু বাড়বে|
11 আমি তোমাকে প্রজ্ঞা বা জ্ঞান সম্পর্কে বোঝাচ্ছি| আমি তোমাকে সত্‌ পথে নিয়ে যাচ্ছি|
12 এই পথকে অনুসরণ করো| তাহলে তুমি কখনও ফাঁদে পড়বে না| তুমি দৌড়বে কিন্তু কখনও হোঁচট খাবে না| তুমি যাই কর না কেন, তুমি নিরাপদ থাকবে|
13 এই শিক্ষাগুলি সর্বদা মনে রেখো| এগুলি ভুলে য়েও না| ওগুলি তোমার জীবন!
14 দুষ্ট লোকরা য়ে পথে হাঁটে, সে পথে হেঁটো না| অসত্‌ভাবে জীবনযাপন কোরো না| পাপীদের অনুকরণ কোরো না|
15 পাপ থেকে দূরে থেকো| তার কাছে য়েও না| ওটা ছাড়িযে সোজা হয়ে হেঁটো|
16 কোনও দুষ্কর্ম না করা পর্য়ন্ত পাপীদের চোখে ঘুম আসে না| অপরের ক্ষতি না করে তারা বিশ্রাম নিতে পারে না|
17 পাপ এবং অন্যের ক্ষতি না করে তারা বাঁচতে পারে না|
18 ধার্মিক ব্যক্তিদের জীবনযাপনের পথ সূর্য়োদযের আলোর মত| দুপুরে সে তার পূর্ণদীপ্তি পাওয়া পর্য়ন্ত উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হয়|
19 পাপী লোকরা অন্ধকার রাতের মত| তারা আঁধারে হারিয়ে যায় এবং কি কারণে তাদের পতন হয় তা তারা দেখতেও পায় না|
20 পুত্র, আমার, আমি যা বলছি তা মন দিয়ে শোন| আমার উপদেশের প্রতি মনোনিবেশ কর|
21 আমার কথাগুলি য়েন তোমাকে ত্যাগ না করে| আমি যা সব বলি তা মনে রেখো| সেগুলি তোমার হৃদয়ে সম্পদ করে রেখো|
22 যারা আমার শিক্ষামালা শোনে তারা জীবন লাভ করে| আমার কথাগুলি তাদের শরীরে সুস্বাস্থ্য নিয়ে আসে|
23 সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল তুমি যা ভাবছ সে সম্পর্কে সজাগ থেকো| তোমার ভাবনাই তোমার ভাগ্য নিযন্তা|
24 কখনও মিথ্যা কথা বলো না| সত্যকে কলুষিত করো না|
25 তোমার সামনে য়ে সব ভালো এবং জ্ঞানগর্ভ আদর্শ রযেছে তা থেকে মুখ ঘুরিযে নিও না|
26 যা করছ তার সম্বন্ধে সতর্ক থাকবে| সত্‌ জীবনযাপন কর|
27 সোজা পথ যা ভাল এবং সঠিক তা ত্যাগ কোরো না| কিন্তু সর্বদা পাপ থেকে দূরে থেকো|




অধ্যায় 5

1 পুত্র আমার, আমার জ্ঞানগর্ভ শিক্ষামালা শোন| আমার সুবিবেচনামূলক কথাবার্তার প্রতি মনোয়োগ দাও|
2 তাহলেই তুমি বিবেচকের মত বাঁচতে শিখবে| ভেবেচিন্তে কথা বলতে পারবে|
3 অন্য এক জন লোকের স্ত্রী হয়তো অসামান্য সুন্দরী হতে পারে; তার কথাবার্তা মধুর এবং প্রলোভনসূচক হতে পারে|
4 কিন্তু পরিশেষে সে শুধু তিক্ততা এবং যন্ত্রনাই বয়ে আনবে| সে তিক্ত বিষ কিংবা ধারালো তরবারির মত|
5 সে মৃত্যুর পথে দাঁড়িয়ে রযেছে| সে তোমাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে|
6 তাকে অনুসরণ কোরো না! সে পথভ্রষ্ট হয়েছে| সাবধান! জীবনের পথ বেছে নাও|
7 আমার পুত্রগণ, এখন আমার কথা শোন| আমি যা বলছি ভুলে য়েও না|
8 ব্যাভিচারিণী থেকে দূরে থেকো| তার বাড়ির ছায়াও মাড়িও না|
9 যদি যাও তোমার প্রাপ্য সম্মান অন্যরা কেড়ে নেবে| কোনও অপরিচিত ব্যক্তি তোমার পরিশ্রমের ফল ভোগ করবে|
10 তুমি যাদের চেনো না তারাই তোমার ধনসম্পদ কেড়ে নেবে| তারা তোমার শ্রমের সুফল ভোগ করবে|
11 পরিশেষে, তুমি দুঃখিত হবে কারণ তুমি তোমার স্বাস্থ্য নষ্ট করেছ এবং তোমার যা কিছু ছিল সব হারিয়েছ|
12 তখন তুমি বলবে, “আমি আমার অভিভাবকদের কথায় কেন কর্ণপাত করিনি! কেন আমার শিক্ষকদের কথা কানে তুলি নি! আমি শৃঙ্খলা মানতে রাজি হই নি| আমি তিরস্কার গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছি|
13
14 তাই আমি এখন প্রায় সবরকম সংকট ভোগ করছি আর তা সবাই জানে!”
15 তোমার নিজের কুযো থেকে য়ে জল পাও, তাই পান কর| তোমার জলকে রাস্তার ওপর বয়ে য়েতে দিও না| কেবল মাত্র নিজের স্ত্রীর সঙ্গেই শুধু তোমার য়ৌন সম্পর্ক থাকা উচিত্‌| তোমার নিজের পরিবারের বাইরে কোন ছেলেমেয়ের পিতা হয়ো না|
16
17 তোমার সন্তানরা য়েন কেবল তোমারই হয়| তোমার পরিবারের বাইরে অন্য লোকদের সঙ্গে তোমার সন্তানদের ভাগ করে নেবার দরকার নেই|
18 তাই নিজের স্ত্রীকে নিয়েই সন্তুষ্ট থাকো| য়ৌবনে য়ে নারীকে বিয়ে করেছিলে তাকেই ভালোবাস এবং তার প্রেমেই তৃপ্ত হও|
19 সে একটি অপরূপা হরিণীর মতো| তার ভালোবাসায সম্পূর্ণ তৃপ্ত হও| তার প্রেম তোমাকে সদা প্রমত্ত রাখুক|
20 আমার পুত্র, অন্য রমনীর দ্বারা প্রমত্ত হয়ো না| অন্য স্ত্রীলোকের বক্ষ আলিঙ্গন করো না!
21 তুমি যাই কর না কেন কিছুই প্রভুর অগোচর নয়| তুমি কোথায় যাও তাও প্রভু জানেন|
22 পাপী তার নিজের ফাঁদেই জড়িয়ে পড়বে| তার পাপসমূহ হবে দড়ির মত যা তাকে বেঁধে রেখেছে|
23 সেই পাপীর মৃত্যু অনিবার্য়| কারণ সে অনুশাসিত হতে অস্বীকার করেছে| সে তার নিজের কামনার নাগপাশেই বদ্ধ হবে|




অধ্যায় 6

1 পুত্র, অপরের ঋণের জন্য কখনও দাযী থেকো না| অন্য কোন ব্যক্তি তার ঋণ শোধ করতে না পারলে তুমি কি তাকে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছ?
2 তাহলে তুমি ফেঁসে গিয়েছ| তুমি নিজের প্রতিশ্রুতি জালেই জড়িয়ে পড়েছ|
3 তুমি নিজেকে ঐ ব্যক্তিটির ক্ষমতার অধীনে রেখেছ| শীঘ্র তার কাছে গিয়ে নিজেকে মুক্ত কর| তার ঋণের বোঝা থেকে তোমাকে মুক্ত করবার জন্য তার কাছে অনুরোধ জানাও|
4 বিশ্রাম করো না এবং ঘুমিযো না|
5 হরিণের মত শিকারীর ফাঁদ থেকে পালিয়ে এসো| জাল কেটে পালিয়ে যাওয়া পাখির মতো নিজেকে মুক্ত কর|
6 অলস মানুষ, তোমাদের পিঁপড়েদের মতো হওয়া উচিত্‌| দেখো, পিঁপড়েরা কি করে| পিঁপড়েদের কাছ থেকে শেখো এবং জ্ঞানী হও|
7 পিঁপড়েদের কোনও মালিক নেই, শাসক নেই, নেতা নেই|
8 কিন্তু গ্রীষ্ম কালে পিঁপড়েরা তাদের যাবতীয় খাবার সংগ্রহ করে| ঐ খাদ্য তারা বাঁচিয়ে রাখে এবং শীতের সময়ও তাদের কাছে পর্য়াপ্ত খাবার থাকে|
9 অলস মানুষ, আর কতক্ষণ তুমি ঘুমিয়ে থাকবে? তোমার শয়্য়ায বিশ্রাম নেওয়ার থেকে কখন তুমি উঠবে?
10 এক জন অলস ব্যক্তি বলে, “আমাকে কিছু ক্ষণের জন্য ঘুমোতে দাও এবং একটু বিশ্রাম নিতে দাও|”
11 তার অলসতার ফলস্বরূপ, এক জন চোর য়েমন সব কিছু চুরি করে নেয় সে রকম ভাবে তার ওপর দারিদ্র্য আসবে! অচিরেই সে কপর্দকহীন হয়ে পড়বে!
12 এক জন পাপী এবং অকর্মণ্য ব্যক্তি মিথ্যে কথা বলে এবং খারাপ কাজ করে|
13 সে চোখ টিপে এবং হাত ও পায়ের সাহায্যে নানা ধরণের ইঙ্গিত করে লোকদের ঠকায়|
14 ঐ ব্যক্তিটি দুষ্ট| সে সর্বদাই অপরের বিরুদ্ধে দুষ্ট পরিকল্পনা করে| সে সদাসর্বদা অশান্তি সৃষ্টি করে|
15 কিন্তু সে শাস্তি পাবে| আকস্মিক বিপর্য়য তার ওপর আসবে| অকস্মাত্‌ সে ধ্বংস হবে! এবং তাকে সাহায্য করবার কেউ থাকবে না!
16 প্রভু, সাতটি নয়, ছয়টি জিনিসকে ঘৃণা করেন:
17 য়ে চোখগুলো এক জন লোকের গর্ব দেখায়, য়ে জিহ্বা মিথ্যে কথা বলে, হাতগুলো য়েগুলো নির্দোষ লোকদের হত্যা করে,
18 হৃদয়সমূহ, যারা অন্যদের বিরুদ্ধে অনিষ্ট পরিকল্পনা করে, পা, য়েগুলো কু-কাজ করতে ছোটে,
19 য়ে ব্যক্তি আদালতে মিথ্যা সাক্ষী দেয় এবং যা সত্যি নয় তাই বলে, য়ে ব্যক্তি ভাইদের মধ্যে তর্কাতর্কির কারণ ঘটায|
20 পুত্র আমার, তোমার পিতার আদেশসমূহ শোন| তোমার মাতার শিক্ষাগুলি ভুলো না|
21 সদা তাঁদের কথা স্মরণ কোরো| তোমার অভিভাবকদের আদেশ তোমার কন্ঠে জড়িয়ে রাখো| তোমার হৃদয়ে লিখে রাখো|
22 যেখানেই যাও তাঁদের শিক্ষামালা তোমাকে পথ দেখাবে| এমনকি তুমি যখন শুয়ে থাকবে তখনও ঐ উপদেশগুলি তোমার ওপর নজর রাখবে| জেগে ওঠার পর তোমার সঙ্গে সেগুলো কথা বলবে এবং তোমাকে সঠিক পথে চালিত করবে|
23 তোমার অভিভাবকদের আদেশ এবং শিক্ষা আলোর মত তোমাকে পথ দেখাবে| সেগুলি তোমাকে সংশোধন করবে এবং সঠিক পথ চেনার ক্ষমতা প্রদান করবে|
24 তাঁদের শিক্ষাসমূহ তোমাকে এক জন নষ্ট স্ত্রীলোকের কাছে যাওয়া থেকে নিবৃত্ত করবে| ঐ শিক্ষাগুলি তোমাকে, য়ে নারী তার স্বামীকে পরিত্যাগ করেছে, তার মধুর বচন থেকে নিরাপদে রাখবে|
25 সেই পরস্ত্রী অসাধারণ রূপসী হতে পারে| কিন্তু তার সৌন্দর্য়্য়ের জন্য তোমার হৃদয়ে কামলালসা রেখো না| তার নয়নবান য়েন তোমাকে ফাঁদে না ফেলতে পারে|
26 এক জন বারবণিতার জন্য হয়তো তোমাকে একটি রুটির মূল্য দিতে হবে| কিন্তু অন্য লোকের স্ত্রী তোমার প্রাণসংহারিণী হয়ে উঠতে পারে!
27 য়ে ব্যক্তি আগুনের খুব কাছে যায় সে তার জামাকাপড় ঐ আগুনে পোড়ায|
28 জ্বলন্ত কযলায পা দিলে পা নিশ্চিত পুড়বে|
29 য়ে ব্যক্তি পরস্ত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে লিপ্ত হয় তার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রয়োজ্য়| ঐ ব্যক্তি শাস্তি ভোগ করবে|
30 ক্ষুধার্ত ব্যক্তি খাদ্য চুরি করতে পারে| চুরি করার সময় ধরা পড়লে, সে যা চুরি করেছে তার সাতগুণ মূল্য তাকে দিতে হবে! ঐ মূল্য দিতে গিয়ে হয়তো সে সর্বস্বান্ত হবে! কিন্তু যারা তার প্রকৃত অবস্থা বোঝে তারা তার প্রতি শ্রদ্ধা হারাবে না|
31
32 কিন্তু য়ে ব্যক্তি ব্যভিচারে লিপ্ত হয় সে নির্বোধ| সে তার নিজের পতন ডেকে আনছে এবং নিজেকেই ধ্বংস করছে!
33 মানুষ তার সম্পর্কে শ্রদ্ধা হারাবে| সে নিজে ওই লজ্জা থেকে কোন দিন পরিত্রাণ পাবে না|
34 ওই ব্যভিচারিণীর স্বামী হিংসা ও ক্রোধে উন্মত্ত হবে| সে যখন তার স্ত্রীর প্রেমিকের প্রতি প্রতিশোধ নেবে তখন সে করুণা দেখাবে না|
35 যত অর্থ, যত ধনসম্পদই তাকে দেওয়া হোক না কেন তার ক্রোধ প্রশমিত হবে না!




অধ্যায় 7

1 পুত্র আমার, আমার কথাগুলো মনে রেখো| আমার আদেশ ভুলো না|
2 তুমি যদি আমার আদেশ পালন কর তুমি বাঁচবে| আমার এই শিক্ষামালা য়েন তোমার জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে|
3 আমার শিক্ষা এবং আদেশ সর্বদা মনে রেখো| আমার শিক্ষামালা তোমার আঙুলের চারপাশে বেঁধে রাখো| তোমার হৃদয়ে খচিত করে রাখো|
4 প্রজ্ঞাকে তোমার প্রেমিকহিসেবে বিবেচনা করো এবং বোধকে তোমার সব চেয়ে ভাল বন্ধু বলে বিবেচনা করবে|
5 তাহলে প্রজ্ঞা এবং বোধ তোমাকে “পরস্ত্রী” থেকে রক্ষা করবে| প্রজ্ঞা তোমাকে সেই ব্যভিচারিণীর হাত থেকেও রক্ষা করবে য়ে মধুর বাক্য বলে|
6 এক দিন আমি আমার জানালার বাইরে বহু নির্বোধ যুবককে দেখতে পেলাম|
7 ঐ যুবকদের মধ্যে এক বুদ্ধিহীন যুবকও আমার নজরে পড়লো|
8 সে এক কু-রমণীর বাড়িতে গেল| সে ঐ রমণীর বাড়ির সামনে দিয়ে হাঁটতে লাগল|
9 তখন সূর্য় অস্ত যাচ্ছে| অন্ধকার নেমে আসছে| রাত শুরু হচ্ছিল|
10 ঐ রমণী যুবকের সঙ্গে দেখা করতে বাড়ির বাইরে এল| তার সাজসজ্জা বারবণিতার মতো| সে ঐ যুবকের সঙ্গে সারা রাত কাটানোর পরিকল্পনা করেছিল|
11 সে ছিল এক জন বিদ্রোহীসুলভ, অমার্জিত নারী| সে কখনও ঘরে থাকতে ভালবাসত না!
12 সে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে লাগল| সে রাস্তার প্রতিটি বাঁকে অপেক্ষা করছিল|
13 সে ঐ যুবককে জড়িয়ে ধরে চুম্বন করল| সেই লজ্জাহীন ঐ যুবকের চোখের দিকে তাকিযে বলল,
14 “আমাকে আজ মঙ্গলার্থক বিসর্জন দিতে হয়েছে| আমি আমার মানত পূর্ণ করেছি|
15 বাড়ীতে আমার কাছে এখনও অমাবস্যার নৈবেদ্যর খাবার প্রচুর পরিমাণে পড়ে রযেছে| তাই তোমাকে সেখানে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি| অনেক খোঁজাখুঁজি এবং প্রতীক্ষার পর অবশেষে তোমাকে পেলাম!
16 আমি আমার শয়্য়ার নতুন চাদর পেতেছি| মিশরীয সেই সূতীর বিছানার চাদরগুলি খুব সুন্দর|
17 আমি আমার শয়্য়ার ওপর মস্তকি, ঘৃতকুমারী ও দারুচিনির সুগন্ধি ছড়িয়েছি!
18 এস, আমরা সারারাত ধরে য়ৌনক্রীড়ায মত্ত হই| আমরা সকাল পর্য়ন্ত প্রণযজ্ঞাপন করব|
19 আমার স্বামী ঘরে নেই| তিনি বাণিজ্য় করতে দূরে যাত্রা করেছেন|
20 তিনি প্রচুর অর্থ সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছেন| বহুদিন ঘরে ফিরবেন না| আগামী পূর্ণিমার আগে তাঁর ফেরার সম্ভাবনা নেই|”
21 ঐ ব্যভিচারিণী যুবকটিকে প্রলুদ্ধ করবার চেষ্টা করছিল| তার মনোরম মধুর বচনে যুবকটি বিপথগামী হল|
22 এবং নির্বোধ যুবকটি ঐ ব্যাভিচারিণীর ফাঁদে পা দিল| গরু য়ে ভাবে কসাইখানার দিকে পা বাড়ায, হরিণ য়েমন ব্যাধের পেতে রাখা ফাঁদের দিকে এগিয়ে যায়, সেই ভাবে সে ঐ পরস্ত্রীর দিকে এগিয়ে গেল|
23 ঐ যুবকটি ছিল একজন শিকারীর তীরবিদ্ধ হরিণের মত| সে ছিল জালের দিকে উড়ে যাওয়া একটি পাখীর মত| তার পরিণাম য়ে তার জীবনহানি ঘটাবে এ কথা ঐ যুবকটি ভাবতেও পারে নি|
24 প্রিয় পুত্রগণ, আমার কথা শোন| আমার কথাগুলো মন দিয়ে শোন|
25 কোন পাপীযসী রমণীর মোহজালে আবদ্ধ হয়ো না| তার পথ অনুসরণ কোরো না|
26 সে অগুনতি মানুষের পতন ঘটিযেছে| সে অসংখ্য় মানুষকে ধ্বংস করেছে|
27 তার গৃহ সাক্ষাত্‌ মৃত্যুপুরী| তার জীবনযাপনের পদ্ধতি মানুষকে সরাসরি মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়|




অধ্যায় 8

1 শোন! প্রজ্ঞা কি তোমাকে ডাকছে? হ্যাঁ, বোধ তোমাকে ডাকছে|
2 মহিলাটি (প্রজ্ঞা) পাহাড়ের চূড়ায়, সড়কের ধারে, সকল পথের সংয়োগস্থলে দাঁড়িয়ে|
3 সে নগরের প্রধান ফটকগুলির সামনে দাঁড়িয়ে আছে| সেখান থেকেই সে উচ্চস্বরে ডাক দিচ্ছে|
4 প্রজ্ঞা বলছে, “হে মানবগণ, আমি তোমাদের ডাকছি| চিত্কার করে সমস্ত লোককে ডাকছি|
5 যদি তোমরা অবোধ হও, বুদ্ধিমান হওয়ার চেষ্টা কর| নির্বোধরা বোঝার চেষ্টা কর|
6 শোন! আমি য়েসব জিনিসের শিক্ষা দিই তা গুরুত্বপূর্ণ| আমি যা বলি তা সঠিক|
7 আমার কথাগুলি সত্য| আমি ক্ষতিকারক মিথ্যাকে ঘৃণা করি|
8 আমি যা বলি তা সঠিক| আমি মিথ্যা কথা বলি না| আমার কথাগুলোয কোন মিথ্যা বা ভুল নেই|
9 আমার কথাগুলি, যাদের বোধশক্তি আছে সেই সব লোকের কাছে পরিষ্কার| জ্ঞানবানরা আমার উপদেশ বুঝতে সক্ষম|
10 আমার অনুশাসন গ্রহণ কর| তার মূল্য রূপার চেয়েও বেশী| সেটি উত্কৃষ্টতম সোনার চেয়েও মূল্যবান|
11 জ্ঞান, দূর্মূল্য মুক্তার চেয়েও দামী| মানুষের অভীষ্ট কোন বস্তুই তার সমকক্ষ নয়|”
12 “আমি প্রজ্ঞা| আমি সুবিচারের সঙ্গে বাস করি| আমি সুপরিকল্পনা এবং জ্ঞান খুঁজে পেয়েছি|
13 প্রভুকে শ্রদ্ধা জানানোর অর্থ হল পাপকে ঘৃণা করা| সেইসব মানুষ যারা নিজেকে অন্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করে আমি তাদের ঘৃণা করি| আমি পাপের পথ এবং মিথ্যাভাষীকে ঘৃণা করি|
14 আমি মানুষকে সুবুদ্ধি এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করি| আমিই সুবিবেচনা এবং ক্ষমতার আধার!
15 রাজারা শাসনকার্য়ে আমাকে ব্যবহার করেন| ন্যায্য আইন বানাতে শাসকরা আমাকে ব্যবহার করেন|
16 পৃথিবীর সমস্ত ভাল শাসক তাঁদের অধীনস্থ সমস্ত লোককে শাসন করতে আমাকে ব্যবহার করেন|
17 য়ে সব লোক আমাকে ভালোবাসে আমিও তাদের ভালোবাসি| যারা সযত্নে আমার অন্বেষণ করে তারা আমাকে খুঁজে পাবে|
18 আমার দেবার মত ধনসম্পদ ও সম্মান রযেছে| আমি সত্যিকারের সম্পদ এবং সাফল্য প্রদান করি|
19 আমি য়ে সব জিনিস দিই তা খাঁটি সোনার চেয়েও ভালো এবং আমার উপহারসমূহ খাঁটি রূপোর চেয়েও ভালো|
20 আমি ধর্মের পথে চলি| আমি ন্যায় বিচারের পথ ধরে চলি|
21 যারা আমাকে ভালোবাসে আমি তাদের সম্পদ দিই| হ্যাঁ, আমি তাদের ঘরবাড়ি ধনসম্পদে পরিপূর্ণ করে তুলি|
22 বহুকাল আগে, শুরুতে প্রভু অন্য আর কিছু সৃষ্টি করবার আগে আমাকে সৃষ্টি করেছিলেন|
23 আমিই আদি| আমাকে সবার আগে সৃষ্টি করা হয়েছিল| পৃথিবীর আগে আমাকে সর্বপ্রথম সৃষ্টি করা হয়েছিল|
24 মহাসাগরের আগে আমাকে গঠন করা হয়েছিল| সেখানে জল সৃষ্টির আগে আমাকে সৃষ্টি করা হয়েছিল|
25 আমি পর্বতসমূহের আগে জন্মেছিলাম| আমি পাহাড়সমূহের আগে জন্মেছিলাম|
26 প্রভুর পৃথিবী সৃষ্টির আগে আমি জন্মেছিলাম, ভূমি তৈরীর আগে আমি জন্মেছিলাম| ঈশ্বরের পৃথিবীতে প্রথম ধূলিকনা সৃষ্টি করার আগে আমি জন্মেছিলাম|
27 প্রভু যখন আকাশ তৈরী করেন সেই সময় আমি ছিলাম| প্রভু যখন ভূমির চারদিকে একটি বৃত্ত এঁকেছিলেন এবং সাগরের সীমারেখা স্থির করেছিলেন তখন আমি ছিলাম|
28 মেঘ সৃষ্টির আগে আমি রূপ পেয়েছিলাম| ঈশ্বর যখন সাগরে জল ঢালছিলেন, আমি সেখানে ছিলাম|
29 প্রভু যখন সমুদ্রসমূহে জলের সীমা নির্ধারণ করেছিলেন সে সময়ে আমি সেখানে ছিলাম| সমুদ্রের তরঙ্গদল কখনই প্রভুর নির্ধারিত সীমা লঙঘন করে না| প্রভু যখন পৃথিবীর ভিত্তিস্থাপন করেন, তখন আমি ছিলাম|
30 আমি এক জন দক্ষ কর্মীর মত প্রভুর পাশে ছিলাম| আমার জন্যই প্রভু প্রতি দিন আনন্দবোধ করেছেন| আমি তাঁর সঙ্গে সব সময় হাসি মুখে থেকেছি|
31 তাঁর জগত্‌ আমাকে খুশি করে| আমি মানবজাতির সঙ্গ সুখ অনুভব করি|
32 “আমার পুত্রগণ, এখন আমার কথাগুলি শোন! এবং তোমরাও আমার আশীর্বাদ পাবে!
33 আমার শিক্ষামালা শোন এবং জ্ঞানী হয়ে ওঠো| ওগুলোকে অগ্রাহ্য কোরো না|
34 য়ে আমার কথা মেনে চলবে সে ধন্য হবে| এমন এক জন লোক প্রতি দিন আমার দরজার দিকে লক্ষ্য করে| সে আমার দরজার পথে প্রতীক্ষা করে|
35 য়ে আমাকে খুঁজে পায় সে জীবন লাভ করে| সে প্রভুর কাছ থেকে ভালো জিনিস পাবে!
36 কিন্তু য়ে ব্যক্তি আমার বিরুদ্ধে পাপ করে সে নিজেকে আঘাত করে| য়ে সব লোক আমাকে ঘৃণা করে তারা মৃত্যুকে ভালোবাসে!”




অধ্যায় 9

1 জ্ঞান তার বাড়ি তৈরী করল| সে তার বাড়িতে সাতটি স্তম্ভ স্থাপন করল|
2 সে (জ্ঞান) মাংস রান্না করল এবং দ্রাক্ষারস তৈরী করল| সে খাওয়ার টেবিলটি সাজিযে রেখেছে|
3 তারপর সে তার ভৃত্যদের নগরে পাঠাল নগরবাসীদের পর্বতের চূড়ায় তার সঙ্গে ভোজসভায য়োগদান করার আমন্ত্রণ জানাতে| সে বলল,
4 “যাদের শেখার প্রয়োজন আছে তারা আসুক|” সে নির্বোধ লোকদেরও আমন্ত্রণ করল| সে বলল,
5 “এস, আমার জ্ঞানের খাবার খাও এবং আমি য়ে দ্রাক্ষারস তৈরী করেছি তা পান কর|
6 তোমাদের নির্বোধের পথ ত্যাগ কর, শুধুমাত্র তাহলেই তোমরা জীবন পাবে| বোধের পথকে অনুসরণ কর|”
7 তুমি যদি কোন দাম্ভিক ব্যক্তিকে তার ভুলত্রুটি সম্পর্কে সচেতন করতে যাও, তাহলে সে উল্টে তোমার সমালোচনা করবে| ঐ ব্যক্তি ঈশ্বরপ্রদত্ত জ্ঞানের অবমাননা করে| যদি কোন দুষ্ট লোককে তার অন্যায় বোঝাতে যাও, তাহলে সে তোমাকেই বিদ্রূপ করবে|
8 তাই যদি কোন ব্যক্তি নিজেকে অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করে, তাকে তার ভুল বোঝাতে য়েও না| সে তোমাকে তার জন্য ঘৃণা করবে| কিন্তু তুমি যদি কোন জ্ঞানী ব্যক্তিকে সংশোধন করতে চেষ্টা কর সে তোমাকে ভালবাসবে ও তোমাকে শ্রদ্ধা জানাবে|
9 বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে শিক্ষা দিলে সে আরও বুদ্ধিমান হবে| ধার্মিক ব্যক্তিকে উপদেশ দিলে তাতে তার উপকার হবে|
10 প্রভুর প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভক্তিই জ্ঞান অর্জন করার প্রথম ধাপ| প্রভু সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করাই বোধশক্তি অর্জনের প্রথম ধাপ|
11 তুমি যদি জ্ঞানী হও, তাহলে তুমি দীর্ঘজীবি হবে|
12 যদি তুমি জ্ঞানী হয়ে ওঠো তাহলে তাতে তুমি উপকৃত হবে| কিন্তু তুমি যদি দাম্ভিক হও এবং অপরকে উপহাস কর, তাহলে নিজেই তার জন্য যন্ত্রণা পাবে|
13 মূঢ়তা একটি প্রবল অমার্জিত স্ত্রীলোক| তার কোনও জ্ঞান নেই|
14 সে নিজের ঘরের দরজায বসে থাকে| সে শহরের উচ্চতম স্থলে নিজের আসনের ওপর বসে থাকে|
15 এবং যখন লোকরা ঐ পথ দিয়ে যায় সে তাদের চিত্কার করে ডাকে| ঐসব লোকরা তার প্রতি উদাসীন থাকলেও সে বলে,
16 “যাদের শেখার প্রয়োজন আছে তারা আমার কাছে এস|” সে নির্বোধদেরও আহ্বান করে|
17 কিন্তু সে (নির্বুদ্ধিতা) বলে, “চুরি করা জল, নিজের বাড়ির জলের চেয়ে সুস্বাদু| চোরাই রুটি তোমার নিজের হাতে তৈরী করা রুটির চেয়ে উপাদেয়|”
18 বোকাগুলো বুঝতে পারেনি য়ে সেখানে ভূত থাকে| কারণ মেয়েমানুষটা তাদের মৃত্যুর জগতের গভীরতম স্থানে নিমন্ত্রণ করেছিল|




অধ্যায় 10

1 এগুলি ছিল শলোমনের হিতোপদেশ:এক জন জ্ঞানী পুত্র তার পিতাকে সুখী করে| কিন্তু এক জন নির্বোধ পুত্র তার মাকে খুবই দুঃখী করে|
2 যদি কোন লোক খারাপ কাজ করে টাকা লাভ করে তাহলে সেই টাকা কোন কাজেই আসে না| কিন্তু ভাল কাজ তোমাকে মৃত্যু থেকে রক্ষা করতে পারে|
3 প্রভু ভালো লোকদের প্রতি যত্নশীল হন| তিনি তাদের পর্য়াপ্ত খাবার য়োগান| কিন্তু প্রভু পাপীদের অভীষ্ট বস্তু কেড়ে নেন|
4 এক জন অলস ব্যক্তি দরিদ্র হবে| কিন্তু এক জন পরিশ্রমী মানুষ ধনী হবে|
5 এক জন জ্ঞানী পুত্র সঠিক ঋতুতে শস্য কাটবে| কিন্তু কোন লোক যদি শস্য সংগ্রহের সময় ঘুমিয়ে থাকে, তাহলে সে লজ্জিত হবে|
6 সজ্জন ব্যক্তিদের আশীর্বাদ করার জন্য লোকরা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা জানায| পাপীরাও ভালো ভালো কথা বলে কিন্তু তা শুধু নিজেদের যাবতীয় দুষ্ট ইচ্ছা লোকচক্ষু থেকে আড়ালে রাখার জন্য|
7 ধার্মিক লোকরা চির কাল সকলের কাছে স্মরণীয হয়ে থাকে| কিন্তু দুষ্ট লোকদের নাম সকলে অচিরেই ভুলে যায়|
8 এক জন জ্ঞানী লোক তার অগ্রজদের আদেশ পালন করে| কিন্তু এক জন নির্বোধ তর্কবিতর্ক করে নিজের বিপদ ডেকে আনে|
9 এক জন ভাল, সত্‌ লোক সর্বদা নিরাপদে থাকে| কিন্তু য়ে কুলি ব্যক্তি অপরকে প্রতারিত করে সে অচিরেই ধরা পড়ে|
10 য়ে ব্যক্তি সত্যকে আড়াল করে, সে অশান্তির কারণ হয়| কিন্তু একজন সত্‌ লোক, য়ে খোলাখুলি ভাবে কথা বলে সে শান্তি স্থাপন করে|
11 এক জন জ্ঞানী ব্যক্তির কথাবার্তা একটি ঝর্ণার মত যা জীবন দেয়| কিন্তু দুষ্ট লোকের কথাবার্তা কেবল তাদের পাপী মনেরই পরিচয় দেয়|
12 ঘৃণা বিবাদের সৃষ্টি করে| কিন্তু ভালোবাসা সমস্ত ভুলভ্রান্তি ক্ষমা করে দেয়|
13 বুদ্ধিমান লোকদের বক্তৃতা থেকে লোকরা জ্ঞান আহরণ করতে পারে| কিন্তু য়ে লোকরা বোকার মত কথা বলে তারা তাদের শাস্তি দেয়|
14 জ্ঞানী ব্যক্তিরা জ্ঞান সঞ্চয় করে এবং তাকে একটি নিরাপদ জায়গায় সংরক্ষিত করে| কিন্তু মুর্খ লোকরা তাদের ধ্বংসকে হাতের কাছে রাখে|
15 সম্পদ ধনীকে রক্ষা করে কিন্তু দারিদ্র্য গরীব মানুষকে ধ্বংস করে|
16 য়ে ব্যক্তি সত্‌ কাজ করে সেই পুরস্কৃত হয়| সে দীর্ঘ জীবন পায়| পাপ কেবল শাস্তিই বয়ে আনে|
17 য়ে ব্যক্তি তার শাস্তি থেকে শিক্ষা নেয় সে অন্যদের বাঁচতে সাহায্য করতে পারে| কিন্তু য়ে ব্যক্তি নিজের শাস্তি থেকে অন্য কোনো শিক্ষা নেয় না সে অন্যদের ভুল পথে পরিচালিত করে|
18 য়ে ব্যক্তি তার ঘৃণা লুকিয়ে রাখে সে হয়ত একজন মিথ্যেবাদী| কিন্তু যারা মিথ্যে অপবাদ রটায তারা বোকা|
19 য়ে ব্যক্তি খুব বেশী কথা বলে সেই মুস্কিলে পড়ে| কিন্তু একজন জ্ঞানী মানুষ তার কথা সংযত রাখতে শেখে|
20 এক জন সজ্জন ব্যক্তির কথাবার্তা খাঁটি রূপোর মত| কিন্তু পাপীদের চিন্তাভাবনার কোন মূল্য নেই|
21 এক জন ধার্মিক ব্যক্তির উপদেশ অনেক লোককে সাহায্য করবে| কিন্তু নির্বোধের বোকামি তার মৃত্যু ডেকে আনবে|
22 প্রভুর আশীর্বাদই তোমাকে ধনবান করবে| তিনি তার সঙ্গে সংকট আনবেন না|
23 নির্বোধ লোকরা কু-কাজ করতে ভালোবাসে| কিন্তু বিচক্ষণ ব্যক্তি প্রজ্ঞাতেই সন্তুষ্ট থাকেন|
24 দুষ্ট ব্যক্তি যা ভয় করে তার ভাগ্য়ে তাই ঘটবে| কিন্তু ধার্মিকদের বাসনা সফল হবে|
25 যখন সংকট আসবে দুষ্ট লোকরা ধ্বংস হবে| কিন্তু ধার্মিক লোকরা চির কাল অটল থাকে|
26 কোন অলস ব্যক্তিকে তোমার জন্য কোন কিছু করতে পাঠিও না| মুখের মধ্যে অম্লরস কিংবা চোখের মধ্যে ধোঁযা য়েমন বিরক্তিকর - সেও ঠিক সে ভাবেই তোমার বিরক্তির কারণ হবে|
27 প্রভুকে সম্মান করলে তুমি দীর্ঘজীবি হবে| কিন্তু পাপীলোকদের আযু হ্রাস পাবে|
28 ধার্মিকদের প্রত্যাশা জীবনে আনন্দ বয়ে আনে| কিন্তু পাপীদের বাসনা কেবল ধ্বংসই ডেকে আনে|
29 প্রভু ধার্মিক লোকদের রক্ষা করেন| কিন্তু প্রভু অন্যায়কারীদের ধ্বংস করেন|
30 ধার্মিক লোকরা সব সময় নিরাপদে থাকবে| কিন্তু পাপীরা দেশ থেকে উত্‌খাত হবে|
31 ভালো লোকদের কথাগুলো জ্ঞানগর্ভ| কিন্তু য়ে ব্যক্তির উপদেশ বিপদ ডেকে আনে তার কথা কেউ শুনবে না|
32 ভালো লোকরা ঠিক জিনিসটি বলতে জানে| কিন্তু দুষ্ট লোকদের কথা অশান্তি ডেকে আনে|




অধ্যায় 11

1 কিছু মানুষ অপরকে প্রতারিত করতে ভুযো দাঁড়িপাল্লা ব্যবহার করে| তাদের দাঁড়িপাল্লা সঠিক ওজন দেখায় না| প্রভু ঐ ভুযো দাঁড়িপাল্লাকে ঘৃণা করেন| যথায়থ বাটখারা প্রভুকে তুষ্ট করে|
2 যারা অহঙ্কারী তাদের লজ্জায় ফেলা হবে| কিন্তু বিনযীরা জ্ঞান অর্জন করবে|
3 ভালো লোকরা সততা দ্বারা চালিত হয়| কিন্তু অপরকে প্রতারিত করতে গিয়ে পাপীরা নিজেদের ধ্বংস করে|
4 ঈশ্বর য়ে দিন লোকদের শাস্তি দেবেন, ধনসম্পদ কোন কাজে লাগবে না| কিন্তু ধার্মিকতা মানুষকে মৃত্যু থেকে রক্ষা করবে|
5 এক জন সত্‌ ব্যক্তির সততাই তার জীবনকে মসৃণ করবে| কিন্তু পাপীরা তাদের দুষ্ট কর্মের জন্য ধ্বংস হবে|
6 ধার্মিকতা সত্ লোকদের রক্ষা করে| কিন্তু দুষ্ট লোকরা তাদের কামনার জালেই আবদ্ধ হয়|
7 এক জন দুষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার আর কোনও আশা নেই| ধনসম্পত্তির জন্য তার সমস্ত আশাও নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়|
8 এক জন ভালো ব্যক্তিকে সংকট থেকে মুক্ত করা হবে এবং ঐ সংকট আসবে এক জন দুষ্ট লোকের কাছে|
9 দুষ্ট ব্যক্তি তার কথার দ্বারা অন্য লোকের ক্ষতি করতে পারে| কিন্তু ভালো লোকরা তাদের জ্ঞান দ্বারা সুরক্ষিত হয়|
10 ধার্মিকদের সাফল্যে সমগ্র নগর আনন্দে মেতে ওঠে| কিন্তু পাপীদের মৃত্যুতেও মানুষ উল্লসিত হয়|
11 ভালো লোকদের আশীর্বাদে একটি শহর মহান হয়ে ওঠে| কিন্তু দুষ্ট লোকদের কথা একটি শহরকে ধ্বংস করতে পারে|
12 সুবিবেচনাহীন লোকরা তাদের প্রতিবেশীদের সম্বন্ধে বিরাগ দেখায়| কখন নীরব থাকা উচিত্‌ বিচক্ষণ ব্যক্তি তা জানে|
13 য়ে ব্যক্তি অন্য লোকের গোপন কথা ফাঁস করে দেয় তাকে বিশ্বাস করা যায় না| য়ে ব্যক্তি গুজব ছড়ায় না তাকে বিশ্বাস করা যায়|
14 যদি একটি জাতির নেতাদের বিজ্ঞ দিশাজ্ঞানের অভাব থাকে তাহলে সেই জাতির পতন অনিবার্য়| কিন্তু অনেক সু-উপদেষ্টারা একটি জাতিকে নিরাপদ রাখতে পারে|
15 য়ে এক জন অপরিচিত লোকের ঋণ শোধ করবার প্রতিশ্রুতি দেয় তাকে দুঃখ পেতে হবেই| অন্যের জামিনদার হতে য়ে অস্বীকার করে, সে নিরাপদ|
16 এক জন রমণী তার সৌন্দর্য়্য়ের জন্য অন্যদের শ্রদ্ধা অর্জন করে| দুরন্ত, দুঃসাহসী মানুষ কেবল টাকা লাভ করতে পারে|
17 দযালু ব্যক্তিরা সর্বদা লাভবান হবে| কিন্তু নিষ্ঠুর লোকরা তাদের নিজেদের অশান্তির কারণ হয়|
18 দুষ্ট লোক অপরকে প্রতারিত করে তাদের সম্পত্তি কেড়ে নেয়| কিন্তু য়ে সব লোকরা ধর্মসঙ্গত কাজকর্ম করে তারা অবশ্যই পুরস্কার লাভ করবে|
19 ধার্মিকতা জীবন নিয়ে আসে| দুষ্ট লোকরা পাপের পিছনে ছোটে এবং নিজেদের মৃত্যু ডেকে আনে|
20 যারা পাপ কাজ করতে ভালোবাসে প্রভু তাদের ঘৃণা করেন| কিন্তু য়ে সব লোক সত্‌ জীবনযাপন করে প্রভু তাদের ওপর সন্তুষ্ট|
21 একথা সত্যি য়ে দুষ্ট লোকরা উপযুক্ত শাস্তি পাবেই| কিন্তু ভালো লোকরা ও তাদের উত্তরপুরুষ শাস্তি থেকে মুক্তি পাবে|
22 এক জন সুন্দরী কিন্তু মূঢ় নারী য়েন শুয়োরের নাকে সোনার নথের মত|
23 যখন ভালো লোকদের ইচ্ছাপূর্ণ হয় তখন ভালোই হয়| কিন্তু দুষ্ট লোকদের কামনা সফল হলে তা শুধু শাস্তি নিয়ে আসে|
24 য়ে ব্যক্তি মুক্ত হস্তে দান করে সে আরও বেশী পাবে| য়ে ব্যক্তি বিতরণ করতে অস্বীকার করে সে অচিরেই গরীব হয়ে যাবে|
25 য়ে ব্যক্তি দরাজ ভাবে দান করে সে-ই উপকৃত হবে| য়ে অন্যদের সাহায্য করে সে সাহায্য পাবে|
26 য়ে ব্যক্তি তার শস্য বিক্রী করতে অস্বীকার করে, লোকে তাকে অভিশাপ দেয়| অন্যের খিদে মেটাতে য়ে তার শস্য বিতরণ করে তাকে সকলেই ভালোবাসে|
27 য়ে অন্যদের ভালো চায়, ভালোত্ব তাকে অনুসরণ করে| কিন্তু যারা মন্দের পেছনে ছোটে তারা মন্দই পায়|
28 নিজের ধনসম্পত্তির ওপর য়ে আস্থা রাখে সে শুকনো পাতার মতই ঝরে যাবে| কিন্তু ভালো লোকরা সবুজ পাতার মত উন্নতি করবে|
29 য়ে ব্যক্তি নিজের পরিবারকে বিপন্ন করে সে কোন কিছুই লাভ করতে পারে না এবং পরিশেষে নির্বোধরা বুদ্ধিমানদের দাসত্ব করতে বাধ্য হয়|
30 ধার্মিকের কর্মফল জীবনবৃক্ষের মত| জ্ঞানবান ব্যক্তিগন অপরকে জীবনদান করে|
31 ভালো লোকরা য়েমন তাদের পুরস্কার এই জীবনে পায়, তেমনি মন্দ লোকরাও তাদের যা প্রাপ্য তা পাবে|




অধ্যায় 12

1 য়ে ব্যক্তি জ্ঞানলাভ করতে উদগ্রীব, সে তার নিজের সমালোচনা শুনলে ক্রুদ্ধ হবে না| য়ে ব্যক্তি নিজের ত্রুটি বিচ্যুতি সম্পর্কে অন্যের অনুয়োগ শুনতে অপছন্দ করে সে নির্বোধ|
2 প্রভু ধার্মিকদের ওপর সন্তুষ্ট| কিন্তু যারা কু-পরিকল্পনা করে প্রভু তাদের দোষী হিসেবে বিচার করেন|
3 পাপীরা কখনই নিরাপদ নয়| কিন্তু ধার্মিকরা সর্বদা সুরক্ষিত ও নিরাপদ|
4 গুণবতী স্ত্রী তার স্বামীর আনন্দ এবং অহঙ্কারের উত্স| কিন্তু য়ে স্ত্রী তার স্বামীকে লজ্জিত করে সে তার স্বামীর অস্থিতে একটি অসুখের মতই অসহ্য|
5 ধার্মিকরা যা পরিকল্পনা করে তা সর্বদাই সত্‌ এবং সঠিক| কিন্তু লোকদের কু-পরিকল্পনা প্রতারণাপূর্ণ|
6 পাপী লোকরা তাদের কথাবার্তার মাধ্যমে অন্যদের আঘাত করে| কিন্তু ধার্মিক লোকদের কথাবার্তা মানুষকে বিপদ থেকে রক্ষা করে|
7 পাপী লোকরা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং তাদের কিছুই অবশিষ্ট থাকে না| কিন্তু কোনও ধার্মিক ব্যক্তির মৃত্যুর পরও মানুষ তাকে দীর্ঘকাল মনে রাখে|
8 লোকরা জ্ঞানী মানুষের প্রশংসা করে| কিন্তু লোক কোনও নির্বোধ ব্যক্তিকে সম্মান করে না|
9 খাবার সংস্থান নেই অথচ ধনী হবার ভান করবার চেয়ে বরং একজন ভৃত্যের মালিক হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হওয়া ভালো|
10 ভালো লোকরা তাদের পালিত পশুদের যত্ন নেয়| কিন্তু দুষ্টদের হৃদয়ে সহানুভূতি থাকে না|
11 য়ে কৃষক তার জমিতে পরিশ্রম করে তার পর্য়াপ্ত খাদ্য থাকবে| কিন্তু য়ে ব্যক্তি অসার চিন্তাভাবনায় সময় নষ্ট করে সে নির্বোধ|
12 পাপী লোকরা যা আকাঙ্খা করে দুষ্ট লোকরা তাই চায়, কিন্তু সেটা ভালো লোকদের দেওয়া হবে|
13 দুষ্ট লোকরা নির্বোধের মত কথা বলে এবং প্রায়শঃই নিজেদের কথার ফাঁদে জড়িয়ে পড়ে| ধার্মিকরা এধরণের বিপদের সম্মুখীন হয় না|
14 লোকরা তাদের মুখ নিঃসৃত কথার জন্য এবং হাতের কাজের জন্যও পুরস্কৃত হয়|
15 নির্বোধরা ভাবে তাদের পথই শ্রেষ্ঠ পথ| কিন্তু বিবেচকরা অন্যের পরামর্শ খোলামনে গ্রহণ করে|
16 নির্বোধরা সহজেই হতাশ হয়ে পড়ে| বুদ্ধিমান লোকরা অপমানকে অগ্রাহ্য করে|
17 সত্যভাষীরা সর্বদাই বিশ্বাসযোগ্য| কিন্তু মিথ্যাবাদীরা অপরকে বিপদের দিকে ঠেলে দেয়|
18 য়ে ব্যক্তি চিন্তাভাবনা না করে কথাবার্তা বলে তার বাক্য তরবারির মত আঘাত করতে পারে| কিন্তু বিচক্ষণ ব্যক্তি কথা বলার সময় সজাগ থাকে| তাঁর বাক্য ঐ আঘাতের যন্ত্রণা মুছে দেয়|
19 য়ে ব্যক্তি মিথ্যা কথা বলে তার বাক্য ক্ষণস্থায়ী| কিন্তু সত্য চিরকালই অমর|
20 যারা অপরের বিরুদ্ধে কু-পরিকল্পনা করে তারা নিজেদেরই ঠকায়| যারা শান্তির জন্য কাজ করে তারা সুখী|
21 ঈশ্বর ধার্মিকদের সর্বদা রক্ষা করবেন| কিন্তু পাপীরা অসংখ্য় সমস্যায় পড়বে|
22 প্রভু মিথ্যাবাদীদের ঘৃণা করেন| তিনি সত্যবাদীদের প্রতি সন্তুষ্ট|
23 বুদ্ধিমান লোকরা যা জানে কখনও তার সবটা বলে না| কিন্তু এক জন নির্বোধ ব্যক্তি, সে যা জানে সবই বলে দিয়ে নিজেকে মূর্খ প্রতিপন্ন করে|
24 কঠোর পরিশ্রমীদের অন্যান্য শ্রমিকদের দায়িত্বে রাখা হবে| কিন্তু য়ে অলস তাকে চির কাল অন্যের দাসত্ব করে য়েতে হবে|
25 চিন্তা মানুষের সুখ ও আনন্দ কেড়ে নেয়| কিন্তু একটি দযা বত্সল শব্দ মানুষকে আনন্দিত করে|
26 বন্ধু নির্বাচনে এক জন ধার্মিক মানুষ বিচক্ষণতার পরিচয় দেয়| কিন্তু একজন দুষ্ট ব্যক্তি সর্বদা ভুল বন্ধু নির্বাচন করে|
27 এক জন অলস ব্যক্তি কখনও তার য়ে জিনিস প্রয়োজন তার পেছনে ছোটে না| ধন আসে কঠিন পরিশ্রমীদের কাছে|
28 তুমি যদি সঠিক পথে জীবনযাপন কর তাহলে তুমি সত্য জীবন পাবে| ন্যায়পরাযণতার পথ জীবনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়|




অধ্যায় 13

1 এক জন জ্ঞানী পুত্র পিতার কথা মনোয়োগ দিয়ে শোনে| কিন্তু একজন অহঙ্কারী ব্যক্তি কারো কথা শোনে না| য়ে লোকরা তাকে সংশোধন করবার চেষ্টা করে সে তাদের কথা শোনে না|
2 ভালো লোকরা তাদের ভালো কথাবার্তার জন্য পুরস্কৃত হয়| কিন্তু দুষ্ট লোকরা সব সময় ভুল কাজ করতে চায়|
3 য়ে নিজের কথাগুলো সযত্নে রক্ষা করে সে তার জীবন রক্ষা করে| য়ে না ভেবে-চিন্তে কথা বলে সে তার নিজের ধ্বংস নিয়ে আসে|
4 অলস ব্যক্তিরা সর্বদা পাবার আকাঙ্খা করে কিন্তু তাদের আকাঙ্খা পূর্ণ হবে না| অথচ পরিশ্রমী ব্যক্তিরা যা চাইবে তাই তারা পেতে সক্ষম হবে|
5 সত্‌ লোকরা মিথ্যাকে ঘৃণা করে| দুর্জনরা লজ্জিত হবে|
6 ধার্মিকতা ভাল এবং সত্‌ মানুষকে রক্ষা করবে| কিন্তু য়ে সব লোক পাপ করতে ভালবাসে পাপ তাদের সর্বনাশ করে|
7 যাদের কিছু নেই তারা ধনী হওয়ার ভান করে| কিন্তু যারা সত্যিকারের ধনী তারা নিজেদের দরিদ্র বলে পরিচয় দেয়|
8 জীবন রক্ষার জন্য একজন ধনীকে হয়ত অনেক মূল্য দিতে হবে| কিন্তু গরীব লোকরা কখনও সেরকম হুমকি পায় না|
9 এক জন ভালো লোকের আলো হাসিকে উজ্জ্বল করে| দুষ্ট লোকের প্রদীপ বিষাদে পরিণত হয়|
10 যারা নিজেদের অন্যদের থেকে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করে তারাই সংকটের কারণ হয়| কিন্তু যারা অন্যদের উপদেশ গ্রহণ করে তারা জ্ঞানী|
11 যারা পয়সার জন্য ঠকায়, তারা শীঘ্রই সব পয়সা হারাবে| কিন্তু পরিশ্রমের বিনিময়ে যারা অর্থ রোজগার করে তাদের অর্থ ক্রমশঃ বৃদ্ধি পায়|
12 আশা যদি ক্রমাগত দূরে সরে য়েতে থাকে তাহলে হৃদয় দুঃখিত হয়| আকাঙ্খিত বস্তু পাওয়া জীবন বৃক্ষের মত|
13 য়ে ব্যক্তি আদেশকে অবজ্ঞা করে সে ধ্বংস হয়| য়ে ব্যক্তি আদেশকে শ্রদ্ধা করবে সে পুরস্কৃত হবে|
14 জ্ঞানী ব্যক্তিদের শিক্ষামালা জীবনের সন্ধান দেয়| ঐ কথাগুলি তোমাকে মৃত্যু ফাঁদ এড়িয়ে য়েতে সাহায্য করবে|
15 সত্‌ উদ্দেশ্যসমূহ গৌরব আনে| প্রতারণা নিয়ে আসে তার নিজস্ব পুরস্কার|
16 এক জন জ্ঞানী ব্যক্তি কোন কাজ করার আগে চিন্তাভাবনা করে| কিন্তু এক জন নির্বোধ তার কাজকর্মের মাধ্যমে নিজের বোকামির পরিচয় দেয়|
17 বিশ্বাস করা যায় না এমন দূত অনেক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে| কিন্তু এক জন বিশ্বাসী দূত আরোগ্য নিয়ে আসে|
18 য়ে নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নেয় না সে অচিরেই গরীব হয় ও লজ্জিত বোধ করে| কিন্তু য়ে সংশোধন গ্রহণ করে সে লাভবান হবে|
19 যদি কেউ কিছু চেয়ে তা পেয়ে যায় তাহলে সে খুব আনন্দিত হয়| কিন্তু নির্বোধ লোকরা তাদের অসত্‌ পথ থেকে সরে আসতে ঘৃণা বোধ করে|
20 জ্ঞানীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করো তাহলে তুমিও জ্ঞানী হয়ে উঠবে| কিন্তু যদি তুমি নির্বোধদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করো তাহলে সমস্যায় পড়বে|
21 দুঃখ দুর্দশা পাপীদের তাড়া করে বেড়ায়, কিন্তু ভালো লোকদের জীবনে ভাল ঘটনাই ঘটে|
22 এক জন সজ্জন ব্যক্তির যা সম্পদ থাকবে তা সে তার সন্তান ও নাতি-নাতনিদের দিয়ে য়েতে পারবে| এবং পরিশেষে দুর্জনদের সব সম্পদও এক দিন সজ্জন ব্যক্তিদের আওতায চলে আসবে|
23 এক জন দরিদ্রের উর্বর জমি থাকতে পারে যা প্রচুর ফসল দেয়| কিন্তু ভুল সিদ্ধান্তের ফলে সে ক্ষুধার্ত থাকে|
24 য়ে নিজের সন্তানদের সত্যিকারের ভালোবাসে সে সন্তানদের ভুল ত্রুটিগুলো শুধরে দেয়| যদি তুমি তোমার পুত্রকে ভালবাসো তাহলে তাকে সঠিক পথে চলার শিক্ষা দাও|
25 ভালো লোকরা সব সময় প্রচুর পরিমাণে খেতে পাবে| কিন্তু দুর্জনরা ক্ষুধার্ত থেকে যাবে|




অধ্যায় 14

1 এক জন জ্ঞানী মহিলা তার জ্ঞান দিয়েই নিজের সংসার তৈরী করে|
2 য়ে প্রভুকে সম্মান করে সেই সঠিক পথে জীবনযাপন করে| কিন্তু একজন অসত্‌ লোক প্রভুকে ঘৃণা করে|
3 এক জন বোকা লোকের কথাবার্তা তার নিজের সমস্যার কারণ হয়ে ওঠে| কিন্তু একজন জ্ঞানী লোকের কথাবার্তা তাঁকে রক্ষা করে|
4 চাষের কাজে বলদের অভাব দেখা দিলে শস্যভাণ্ডার খালি থাকবে| বৃহত্‌ ফলনের জন্য মানুষ বলদের শক্তিকে ব্যবহার করতে পারে|
5 এক জন সত্যবাদী কখনও মিথ্যে বলে না এবং সে একজন সাক্ষী হতে পারে| কিন্তু একজন অবিশ্বাসী লোক কখনও সত্যি বলে না এবং সে ভাল সাক্ষী হতে পারে না|
6 উদ্ধত লোকরা জ্ঞানের অন্বেষণ করতে পারে কিন্তু তারা কখনও তা খুঁজে পাবে না| কিন্তু য়ে সব লোকদের বোধ শক্তি আছে তারা তাড়াতাড়ি শিখতে পারে|
7 বোকাদের কাছ থেকে কিছুই শেখার নেই তাই বোকাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব কোরো না|
8 এক জন বিচক্ষণ ও দক্ষ লোকের জীবনযাত্রা নিরীক্ষণ কর| কিন্তু এক জন বোকা লোকের আঁকা-বাঁকা জীবন পথ প্রতারণাপূর্বক|
9 বোকা লোকরা তাদের বোকামির মাশুল দিতে গিয়ে হাসাহাসি করে| কিন্তু সত্‌ লোকরা শীঘ্রই ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়|
10 এক জন দুঃখী লোক শুধুই তার নিজের দুঃখ অনুভব করতে পারে| ঠিক তেমনি, কেউই অন্য লোকের হৃদয়ের অন্তঃস্থলের আনন্দে ভাগ বসাতে পারে না|
11 দুর্জনদের গৃহগুলির বিনাশ হবেই| কিন্তু সত্‌ লোকদের বাড়ীগুলি উন্নতি করবে|
12 একটি সহজ রাস্তাকেসঠিক রাস্তা বলে মনে হতে পারে কিন্তু সেটি মৃত্যুর দিকে এগিয়ে নিয়ে য়েতে পারে|
13 বিষাদে পূর্ণ একটি লোক হাসতে পারে, কিন্তু হাসি থামবার পরে দুঃখ আবার ফিরে আসে|
14 মন্দ কাজের জন্য পাপীদের পুরোদস্তুর শাস্তি ভোগ করতে হবে এবং ভালো কাজের জন্য সজ্জনরা পুরস্কৃত হবেই|
15 এক জন মূর্খ যা শোনে তাই বিশ্বাস করে| কিন্তু এক জন জ্ঞানী ব্যক্তি যা কিছু শোনে তা তার বুদ্ধি দিয়ে বিবেচনা করে|
16 এক জন জ্ঞানী ব্যক্তি মন্দকে ভয় পায় এবং তাকে এড়িয়ে চলে| কিন্তু এক জন বোকা লোক দৃঢ়তার সঙ্গে কুকর্মের মধ্যে ঝাঁপিযে পড়ে|
17 য়ে সব লোক খুব সহজেই রেগে যায় তারা নির্বোধের মত আচরণ করে| কিন্তু জ্ঞানীরা হয় ধৈর্য়্য়শীল|
18 নির্বোধরা তাদের বোকামির জন্য শাস্তি পায়| কিন্তু জ্ঞানীরা তাঁদের জ্ঞানের জন্য পুরস্কৃত হয়|
19 দুর্জনদের বিরুদ্ধে সজ্জনদের জয় হবেই| দুর্জনরা সজ্জনদের কাছে মাথা নত করতে বাধ্য হবেই|
20 দরিদ্রদের কোন বন্ধু ও প্রতিবেশী জোটে না কিন্তু ধনীরা বন্ধু-বান্ধব দ্বারা পরিবৃত হয়ে থাকে|
21 তোমার প্রতিবেশীদের ঘৃণা করো না| যদি সুখী হতে চাও তাহলে দরিদ্রদের প্রতি সদয থাকো|
22 যদি কেউ খারাপ কাজ করার ফন্দি আঁটে তাহলে সে ভুল করবে| কিন্তু য়ে ভালো কাজ করার চেষ্টা করবে সে বন্ধু পাবে, সবাই তাকে ভালোবাসবে ও বিশ্বাস করবে|
23 কঠিন পরিশ্রম সব সময় কিছু লাভ আনবে| কিন্তু তুমি যদি কোন কাজ না করে শুধু কথা বল তাহলে তুমি দরিদ্র হয়ে যাবে|
24 জ্ঞানীরা সম্পদ দ্বারা পুরস্কৃত হয়| কিন্তু মুর্খরা পুরস্কৃত হয় বোকামির দ্বারা|
25 য়ে সত্য বলে সে মানুষকে সাহায্য করে আর য়ে মিথ্যে বলে সে অন্যদের আঘাত করে|
26 য়ে প্রভুকে সম্মান করে সে সুরক্ষা পায় এবং তার সন্তানরাও নিরাপদ থাকে|
27 প্রভুর প্রতি সম্মান প্রদর্শন সত্য জীবন নিয়ে আসে| এতে একটি ব্যক্তির জীবন মৃত্যুর ফাঁদ থেকে রক্ষা পায়|
28 যদি কোন রাজা অনেক মানুষকে শাসন করে তাহলে সে মহান| কিন্তু রাজার রাজ্যে যদি কোন মানুষ না থাকে তাহলে সেই রাজার কোন মূল্যই থাকে না|
29 ধৈর্য়্য়শীল এক জন মানুষ ভীষণ সপ্রতিভ হয়| আর য়ে সহজে রেগে যায় সে তার মূর্খামির প্রমাণ দেয়|
30 মানসিক শান্তি দৈহিক স্বাস্থ্য়ের উন্নতি করে| কিন্তু অন্যের প্রতি হিংসা শরীরকে রোগগ্রস্ত করে তোলে|
31 ঈশ্বরই প্রত্যেক মানুষকে সৃষ্টি করেছেন| তাই যারা গরীবদের জন্য সংকটের সমস্যা সৃষ্টি করে তারা দরিদ্রদের সৃষ্টিকর্তাকে অপমান করে| যারা গরীবদের দযা দেখায় তারা ঈশ্বরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে|
32 এক জন দুষ্ট লোক তার কু-কর্মের দ্বারা পরাজিত হয়| কিন্তু এক জন ভালো লোক তার মৃত্যুর সময়ও জিতে যায়|
33 জ্ঞানীরা সব সময় জ্ঞানসম্মত ভাবে চিন্তা-ভাবনা করে| কিন্তু মূর্খরা জ্ঞানেরকিছুই জানে না|
34 ভালোত্ব একটি দেশকে মহান করে তোলে| কিন্তু পাপ য়ে কোন মানুষকে লজ্জিত করে|
35 জ্ঞানী আধিকারিক পেলে রাজা সুখী হন| কিন্তু মূর্খ নেতাদের প্রতি রাজা ক্রুদ্ধ হন|




অধ্যায় 15

1 মানুষ তার চিন্তা-ভাবনাকে ঠিকমত সাজিয়ে একটি পরিকল্পনা করতে পারে, কিন্তু প্রভুর হাতে জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণ করবার ক্ষমতা আছে|
2 লোকরা মনে করে তারা যা করে সেটাই ঠিক, কিন্তু প্রভু তাদের আত্মা পরীক্ষা করেন|
3 সব সময় প্রভুর সাহায্য নেবে তাহলেই তুমি সফল হবে|
4 সমস্ত বিষয়েই প্রভুর পরিকল্পনা আছে এবং সেই পরিকল্পনা অনুসারে মন্দ লোকের বিনাশ হবে|
5 য়ে সমস্ত লোক ভাবে তারা অন্য লোকের তুলনায় শ্রেয় প্রভু তাদের ঘৃণা করেন| প্রভু নিশ্চয়ই সেই সমস্ত অহঙ্কারী মানুষকে শাস্তি দেবেন|
6 সত্যিকারের ভালোবাসা ও বিশ্বস্ততা তোমাকে খাঁটি করে তুলবে| ঈশ্বরের প্রকৃত প্রেম এবং বিশ্বস্ততার দরুণ অপরাধ মুছে ফেলা যায় কিন্তু প্রভুর প্রতি শ্রদ্ধার মাধ্যমে আমরা মন্দকে এড়িয়ে চলি|
7 যদি কোন ব্যক্তি ভালো ভাবে জীবনযাপন করে সে প্রভুর কাছে মনোরম হয় এবং তার শত্রুরাও তার সঙ্গে শান্তি রক্ষা করে চলে|
8 ঠকিয়ে প্রচুর লাভ করা অপেক্ষা সঠিক পথে সামান্য লাভ করাও শ্রেয়|
9 এক জন ব্যক্তি কি করতে চায় তা নিয়ে পরিকল্পনা করতে পারে কিন্তু বাস্তবে কি ঘটবে তা নির্ধারণ করবেন প্রভু|
10 এক জন রাজা যা বলেন সেটাই হয় আইন| তাই তার সিদ্ধান্ত সর্বদা সঠিক হওয়া উচিত্‌|
11 প্রভু চান সমস্ত মাপকাঠি এবং মাত্র সঠিক হোক এবং ব্যবসায়িক চুক্তিগুলি নিয়মানুযাযী হোক্|
12 যারা মন্দ কাজ করে রাজা তাদের ঘৃণা করেন| ধার্মিকতা তাঁর রাজ্য়কে প্রতিষ্ঠা করবে|
13 রাজা সত্য ভাষণ শুনতে চান| যারা মিথ্যা বলে না রাজা তাদের পছন্দ করেন|
14 এক জন রাজা রেগে গেলে য়ে কোন লোককে হত্যা করতে পারেন| য়ে জ্ঞানী সে রাজাকে খুশী রাখার চেষ্টা করবে|
15 যদি রাজা খুশী থাকেন তবে সবার জীবনই সুখের হবে| যদি রাজা তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হন তাহলে তা হবে বসন্তকালে বৃষ্টি হওয়ার মতো|
16 জ্ঞানের মূল্য সোনার চেয়েও বেশী| বিচক্ষণতার মূল্য রূপোর চেয়েও বেশী|
17 ভালো লোকরা সারা জীবন খারাপ জিনিস থেকে দূরত্ব রেখে চলে| য়ে ব্যক্তি সাবধানী সে তার আত্মাকে রক্ষা করে চলে|
18 অহংকার ধ্বংসকে এগিয়ে আনে এবং ঔদ্ধত্য পরাজয় আনে|
19 উদ্ধত লোকদের সঙ্গে ধনসম্পদ ভাগ করে নেওয়ার চেয়ে বিনযী হওয়া এবং দরিদ্রদের মধ্যে থাকা শ্রেয়|
20 য়ে ব্যক্তি অপরের কাছ থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে সে লাভবান হবে| য়ে প্রভুর ওপর বিশ্বাস রেখে চলে সে প্রভুর আশীর্বাদ পাবে|
21 জ্ঞানী লোকদের মানুষ চিনে নেবে| য়ে বিচক্ষণ ভাবে কথা বলে তার কথায় অনেক বেশী ফল হয়|
22 এক জন জ্ঞানী মানুষ সব সময় চিন্তা করে কথা বলে| এবং সে যা বলে তা শোনার যোগ্য|
23 এক জন বিজ্ঞ ব্যক্তি সব সময়ই চিন্তাপূর্ণ কথা বলে এবং সে যা কিছু বলে তা শোনার পক্ষে ভাল ও মূল্যবান|
24 দযালু কথাবার্তা সব সময়ই মধুর মত মিষ্টি| দযালু কথাবার্তা গ্রহণযোগ্য ও স্বাস্থ্য়ের পক্ষে ভালো|
25 এমন পথ আছে যা লোকের কাছে সঠিক বলে মনে হলেও তা শুধু মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়|
26 এক জন শ্রমিকের ক্ষুধাই তাকে কাজ করায যাতে সে খেতে পায়|
27 এক জন অপদার্থ দুষ্ট লোক অন্যায় কাজের পরিকল্পনা করে| তার উপদেশ আগুনের মতই ধ্বংসকারী|
28 এক জন সমস্যা সৃষ্টিকারী সব সময় সমস্যার সৃষ্টি করবে| সে গুজব ছড়িয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মধ্যে অশান্তির কারণ ঘটাবে|
29 এক জন হিংসাত্মক ব্যক্তি তার বন্ধুদের প্রতারণা করে| সে তাদের বিপথে চালিত করবে|
30 সে যখনই কোন ধ্বংসকারী পরিকল্পনা করে তখন তার চোখ মিটমিট করে| সে তার প্রতিবেশীকে আঘাত করার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় হাসিমুখে থাকে|
31 যারা সত্‌ জীবনযাপন করে সাদা চুল তাদের মহিমার মুকুট হয়|
32 এক জন বলিষ্ঠ যোদ্ধা হওয়ার থেকে ধৈর্য়্য়শীল হওয়া ভাল| একটি সম্পূর্ণ শহরের দখল নেওয়ার চেয়ে নিজের রাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ পাওয়া শ্রেয়|
33 মানুষ পাশার দান চেলে তাদের সিদ্ধান্ত স্থির করে| কিন্তু সিদ্ধান্ত সব সময় ঈশ্বরের কাছ থেকেই আসে|




অধ্যায় 16

1 মানুষ তার চিন্তা-ভাবনাকে ঠিকমত সাজিয়ে একটি পরিকল্পনা করতে পারে, কিন্তু প্রভুর হাতে জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণ করবার ক্ষমতা আছে|
2 লোকরা মনে করে তারা যা করে সেটাই ঠিক, কিন্তু প্রভু তাদের আত্মা পরীক্ষা করেন|
3 সব সময় প্রভুর সাহায্য নেবে তাহলেই তুমি সফল হবে|
4 সমস্ত বিষয়েই প্রভুর পরিকল্পনা আছে এবং সেই পরিকল্পনা অনুসারে মন্দ লোকের বিনাশ হবে|
5 য়ে সমস্ত লোক ভাবে তারা অন্য লোকের তুলনায় শ্রেয় প্রভু তাদের ঘৃণা করেন| প্রভু নিশ্চয়ই সেই সমস্ত অহঙ্কারী মানুষকে শাস্তি দেবেন|
6 সত্যিকারের ভালোবাসা ও বিশ্বস্ততা তোমাকে খাঁটি করে তুলবে| ঈশ্বরের প্রকৃত প্রেম এবং বিশ্বস্ততার দরুণ অপরাধ মুছে ফেলা যায় কিন্তু প্রভুর প্রতি শ্রদ্ধার মাধ্যমে আমরা মন্দকে এড়িয়ে চলি|
7 যদি কোন ব্যক্তি ভালো ভাবে জীবনযাপন করে সে প্রভুর কাছে মনোরম হয় এবং তার শত্রুরাও তার সঙ্গে শান্তি রক্ষা করে চলে|
8 ঠকিয়ে প্রচুর লাভ করা অপেক্ষা সঠিক পথে সামান্য লাভ করাও শ্রেয়|
9 এক জন ব্যক্তি কি করতে চায় তা নিয়ে পরিকল্পনা করতে পারে কিন্তু বাস্তবে কি ঘটবে তা নির্ধারণ করবেন প্রভু|
10 এক জন রাজা যা বলেন সেটাই হয় আইন| তাই তার সিদ্ধান্ত সর্বদা সঠিক হওয়া উচিত্‌|
11 প্রভু চান সমস্ত মাপকাঠি এবং মাত্র সঠিক হোক এবং ব্যবসায়িক চুক্তিগুলি নিয়মানুযাযী হোক্|
12 যারা মন্দ কাজ করে রাজা তাদের ঘৃণা করেন| ধার্মিকতা তাঁর রাজ্য়কে প্রতিষ্ঠা করবে|
13 রাজা সত্য ভাষণ শুনতে চান| যারা মিথ্যা বলে না রাজা তাদের পছন্দ করেন|
14 এক জন রাজা রেগে গেলে য়ে কোন লোককে হত্যা করতে পারেন| য়ে জ্ঞানী সে রাজাকে খুশী রাখার চেষ্টা করবে|
15 যদি রাজা খুশী থাকেন তবে সবার জীবনই সুখের হবে| যদি রাজা তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হন তাহলে তা হবে বসন্তকালে বৃষ্টি হওয়ার মতো|
16 জ্ঞানের মূল্য সোনার চেয়েও বেশী| বিচক্ষণতার মূল্য রূপোর চেয়েও বেশী|
17 ভালো লোকরা সারা জীবন খারাপ জিনিস থেকে দূরত্ব রেখে চলে| য়ে ব্যক্তি সাবধানী সে তার আত্মাকে রক্ষা করে চলে|
18 অহংকার ধ্বংসকে এগিয়ে আনে এবং ঔদ্ধত্য পরাজয় আনে|
19 উদ্ধত লোকদের সঙ্গে ধনসম্পদ ভাগ করে নেওয়ার চেয়ে বিনযী হওয়া এবং দরিদ্রদের মধ্যে থাকা শ্রেয়|
20 য়ে ব্যক্তি অপরের কাছ থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে সে লাভবান হবে| য়ে প্রভুর ওপর বিশ্বাস রেখে চলে সে প্রভুর আশীর্বাদ পাবে|
21 জ্ঞানী লোকদের মানুষ চিনে নেবে| য়ে বিচক্ষণ ভাবে কথা বলে তার কথায় অনেক বেশী ফল হয়|
22 এক জন জ্ঞানী মানুষ সব সময় চিন্তা করে কথা বলে| এবং সে যা বলে তা শোনার যোগ্য|
23 এক জন বিজ্ঞ ব্যক্তি সব সময়ই চিন্তাপূর্ণ কথা বলে এবং সে যা কিছু বলে তা শোনার পক্ষে ভাল ও মূল্যবান|
24 দযালু কথাবার্তা সব সময়ই মধুর মত মিষ্টি| দযালু কথাবার্তা গ্রহণযোগ্য ও স্বাস্থ্য়ের পক্ষে ভালো|
25 এমন পথ আছে যা লোকের কাছে সঠিক বলে মনে হলেও তা শুধু মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়|
26 এক জন শ্রমিকের ক্ষুধাই তাকে কাজ করায যাতে সে খেতে পায়|
27 এক জন অপদার্থ দুষ্ট লোক অন্যায় কাজের পরিকল্পনা করে| তার উপদেশ আগুনের মতই ধ্বংসকারী|
28 এক জন সমস্যা সৃষ্টিকারী সব সময় সমস্যার সৃষ্টি করবে| সে গুজব ছড়িয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মধ্যে অশান্তির কারণ ঘটাবে|
29 এক জন হিংসাত্মক ব্যক্তি তার বন্ধুদের প্রতারণা করে| সে তাদের বিপথে চালিত করবে|
30 সে যখনই কোন ধ্বংসকারী পরিকল্পনা করে তখন তার চোখ মিটমিট করে| সে তার প্রতিবেশীকে আঘাত করার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় হাসিমুখে থাকে|
31 যারা সত্‌ জীবনযাপন করে সাদা চুল তাদের মহিমার মুকুট হয়|
32 এক জন বলিষ্ঠ যোদ্ধা হওয়ার থেকে ধৈর্য়্য়শীল হওয়া ভাল| একটি সম্পূর্ণ শহরের দখল নেওয়ার চেয়ে নিজের রাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ পাওয়া শ্রেয়|
33 মানুষ পাশার দান চেলে তাদের সিদ্ধান্ত স্থির করে| কিন্তু সিদ্ধান্ত সব সময় ঈশ্বরের কাছ থেকেই আসে|




অধ্যায় 17

1 অশান্তির মধ্যে ঘরভর্তি খাবারের চেয়ে শান্তির মধ্যে একটুকরো শুকনো রুটি খাওয়া অনেক ভাল|
2 এক জন বুদ্ধিমান ভৃত্য তার প্রভুর বোকা ছেলের ওপর শাসন চালাবে| এই ভাবে সে তার প্রভুর সম্পত্তির কিছুটা ভাগ প্রভুর অন্য পুত্রদের সঙ্গে পাবে|
3 সোনা ও রূপোকে খাঁটি করার জন্য আগুনে পোড়ানো হয়| কিন্তু ঈশ্বরই সেই ব্যক্তি যিনি মানুষের হৃদয়কে শুদ্ধ করেন|
4 এক জন দুষ্ট লোক মন্দ কথাটাই শোনে| মিথ্যেবাদীরা মিথ্যে কথাগুলোই শোনে|
5 কিছু মানুষ আছে যারা গরীব মানুষদের দুর্দশা উপভোগ করে| বিপদে পড়া মানুষদের সমস্যা নিয়ে তারা হাসাহাসি করে| এতে এই বোঝা যায় য়ে এই দুষ্ট লোকরা ঈশ্বরকে সম্মান করে না যিনি দরিদ্রদের সৃষ্টিকর্তা| তারা শাস্তি পাওয়ার যোগ্য|
6 পৌত্র-পৌত্রীরা তাদের প্রপিতামহ এবং প্রপিতামহীদের কাছে একটি মুকুট এবং সন্তানদের কাছে তাদের পিতা-মাতা একটি গৌরব|
7 বোকাদের বেশী কথা বলা অনুচিত্‌, ঠিক তেমনি কোন শাসকেরও মিথ্যাচার করা উচিত্‌ নয়|
8 কিছু লোক উত্‌কোচকে সৌভাগ্য বলে বিবেচনা করে| তারা ভাবে য়ে সব ক্ষেত্রেই সেটা তাদের সাফল্য আনবে|
9 যদি কারোর অন্যায়কে তুমি ক্ষমা করতে পারো তাহলে সে তোমার বন্ধু হতে পারে| কিন্তু যদি তুমি তার অন্যায়কে বারবার মনে কর তাহলে বন্ধুত্বের ক্ষতি হবে|
10 এক জন বুদ্ধিমান মানুষ তার ভুল থেকে শিক্ষা নেয় কিন্তু এক জন নির্বোধ তার ভুল থেকে শিক্ষালাভ করে না| এমন কি
10 0 ঘা চাবুক খাবার পরেও নয়|
11 এক জন দুষ্ট ব্যক্তি সব সময় ভুল কাজ করতে চেষ্টা করে| শেষে, তাকে শাস্তি দেবার জন্য ঈশ্বর এক জন নিষ্ঠুর দূত পাঠাবেন|
12 শাবক চুরি হয়ে যাওয়া ক্রুদ্ধ মা ভালুকের সম্মুখীন হওয়া সর্বদা বিপজ্জনক| কিন্তু তবু, এক জন নির্বোধের নির্বুদ্ধিতার সম্মুখীন হওয়ার থেকে তা শ্রেয়|
13 তোমার প্রতি কৃত কোন ভালো কাজের জন্য অসত্‌ভাবে তার প্রতিদান দিও না| যদি তুমি এরকম কর তাহলে তুমি সারা জীবন সংকটের মধ্যে থাকবে|
14 বিবাদ হল বাঁধের গর্তের মতো| সেই গর্ত ক্রমশঃ বড় হওয়ার আগেই বিবাদ ত্যাগ করো|
15 প্রভু দুটো বিষয়কে ঘৃণা করেন| এক জন নির্দোষ ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া এবং দোষী ব্যক্তিকে ক্ষমা করা|
16 এক জন নির্বোধ ব্যক্তির কাছে অর্থ থাকার কোন মূল্য নেই| কারণ, তার যখন কোন বোধই নেই, সে কখনও জ্ঞান কিনতে পারবে না|
17 এক জন বন্ধু সব সময় ভালোবাসবে| এক জন সত্যিকারের ভাই সর্বদা তোমাকে সমর্থন করবে এমকি তোমার বিপদের সময়েও|
18 একমাত্র বোকারাই অন্য লোকের বিবাদের দায়িত্ব নেয়|
19 য়ে বিবাদে আনন্দ পায় সে পাপেও আনন্দ লাভ করে| যদি তুমি নিজেই নিজের বড়াই কর তাহলে তুমি সমস্যাকেই আহ্বান জানাবে|
20 দুর্জন ব্যক্তি কখনও লাভবান হয় না| মিথ্যাবাদীরা সমস্যায় জর্জরিত হবে|
21 এক জন পিতা নির্বোধ সন্তানের জন্য বিমর্ষ থাকে| একটি দুষ্ট সন্তানের পিতা অসুখী হয়|
22 আনন্দ হল একটি ভালো ওষুধের মত| কিন্তু দুঃখ হল অসুস্থতার মত|
23 দুর্জন ব্যক্তি অন্যদের ঠকানোর জন্য ঘুষ নেয়|
24 জ্ঞানী ব্যক্তি সব সময় ভাল কাজ করার চিন্তা করেন| কিন্তু নির্বোধ ব্যক্তি সব সময় বহু দূরের স্বপ্ন দেখে|
25 এক জন নির্বোধ পুত্র তার পিতার জন্য দুঃখ বয়ে আনে| সে তার মায়ের তিক্ততার কারণ|
26 ঠিক য়েমন এক জন নির্দোষ ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া অন্যায়, তেমনি এক জন সত্যবাদী অথচ আধিকারিককে শাস্তি দেওয়াও অন্যায়|
27 এক জন জ্ঞানী ব্যক্তি খুব বেশী কথা বলে না| সে কখনও সহজে ক্রুদ্ধ হয় না|
28 এক জন মূঢ় ব্যক্তি যদি চুপ করে থাকে তাহলে লোকে তাকে জ্ঞানী বলে বিবেচনা করবে| সে যদি কিছু না বলে তাকে বুদ্ধিমান মনে হবে|




অধ্যায় 18

1 য়ে লোকরা অন্য কারো সঙ্গে মিলে-মিশে থাকতে পারে না, তারা তাদের নিজেদের ইচ্ছেমত জিনিস চায়| তারা অন্য য়ে কোন উপদেশ বা পরামর্শে বিচলিত হয়|
2 এক জন নির্বোধ অন্যদের কাছ থেকে কিছু শিখতে চায় না| সে শুধু নিজের মনের কথাই প্রকাশ করতে সচেষ্ট থাকে|
3 মানুষ এই ধরণের দুর্জনকে পছন্দ করে না| তারা বোকাদের নিয়ে উপহাস করে|
4 জ্ঞানী ব্যক্তির উচ্চারিত শব্দ হল গভীর কুযো থেকে উঠে আসা স্রোতবাহী জলের মতো য়ে কুয়ো হল জ্ঞানের আধার|
5 তোমাকে মানুষের সঠিক বিচার করতে হবে| যদি তুমি দোষী ব্যক্তিদের ছেড়ে দাও তাহলে তুমি সজ্জন ব্যক্তিদের সঙ্গে ন্যায় করলে না|
6 এক জন নির্বোধ ব্যক্তি নিজের কথার দ্বারাই নিজের সংকট বাধিযে বসে| তার মুখের কথায় ঝগড়া শুরু হতে পারে|
7 তার মুখই তার ধ্বংসের কারণ হয়ে ওঠে| সে নিজেই নিজের কথার জালে জড়িয়ে পড়ে|
8 মানুষ সব সময় কেচ্ছা শুনতে ভালোবাসে| কেচ্ছাকাহিনীকে সুখাদ্যের মতো গিলতে থাকে|
9 কুকর্মে য়ে লিপ্ত থাকে তার সঙ্গে বিনাশকারীর কোন পার্থক্য নেই|
10 প্রভুর নাম হল একটি শক্তিশালী মিনারের মত| ভালো লোকরা প্রভুর কাছে আশ্রয়ের জন্য ছুটে য়েতে পারে|
11 ধনীরা ভাবে তাদের অর্থই তাদের রক্ষা করবে| তারা ভাবে তাদের অর্থ হল দুর্ভেদ্য দুর্গের মতো অটুট|
12 অহঙ্কারী ব্যক্তির বিনাশ হবে কিন্তু বিনযী ব্যক্তি সম্মানিত হবে|
13 অন্যদের কথা শেষ করতে দেওয়ার পর তুমি উত্তর দিতে শুরু করবে| যদি তুমি এরকম কর তাহলে তুমি অপ্রস্তুত হবে না অথবা তোমাকে বোকার মত দেখতে লাগবে না|
14 অসুস্থতার সময়ে এক জন মানুষের মস্তিষ্ক তাকে জীবিত রাখবে| কিন্তু সে যদি গভীর ভাবে উদাস হয়ে যায়, তার কোন আশা থাকে না|
15 জ্ঞানী ব্যক্তি আরো বেশী জানার ইচ্ছে প্রকাশ করে|
16 তুমি যদি গুরুত্বপূর্ণ লোকদের সঙ্গে সাক্ষাত্‌ করবার আগে তাদের উপহার দাও, তাহলে তাদের সঙ্গে দেখা করবার ব্যবস্থা সহজ হয়|
17 প্রথম ব্যক্তির মামলা ততক্ষণ পর্য়ন্ত ঠিক থাকে যতক্ষণ না তাকে দ্বিতীয় ব্যক্তি পাল্টা প্রশ্ন করে|
18 শক্তিশালী বিরোধী দলগুলির বিবাদ পাশার দান ফেলে মেটানো যায়|
19 তুমি যদি তোমার বন্ধুকে অপমান কর তাহলে পুনরায় তার মন জয় করা দুর্ভেদ্য প্রাচীর ঘেরা শহর জয় করার থেকেও কঠিন হবে| প্রাসাদের ফটকগুলির ওপর আড়াআড়ি ভাবে রাখা শক্তিশালী খিলগুলির মত তর্ক মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে|
20 তুমি যা বলবে তাই তোমার জীবনের ওপর প্রভাব ফেলবে| তুমি যদি ভাল কথা বল তাহলে তোমার জীবনে ভালো ঘটনা ঘটবে| আর যদি তুমি খারাপ কথা বলো তাহলে তোমার জীবনে খারাপ ঘটনা ঘটবে|
21 জিহ্বা এমন কথা বলতে পারে যা জীবন অথবা মৃত্যু আনে| যারা কথা বলতে ভালোবাসে তাদের কথার দরুন যা পরিনাম হতে পারে সে সম্বন্ধে তাদের অবশ্যই প্রস্তুত থাকতে হবে|
22 যদি তুমি তোমার জীবনসঙ্গিনী খুঁজে পাও তাহলে মনে করবে তুমি কোন ভাল জিনিসই পেয়েছো| তোমার স্ত্রী তোমাকে দেখাবে য়ে প্রভু তোমাকে নিয়ে সুখী|
23 এক জন গরীব ব্যক্তি সাহায্য ভিক্ষা করবে কিন্তু এক জন ধনী ব্যক্তি খারাপ ভাবে তাকে উত্তর দেবে|
24 কয়েক জন বন্ধুর সঙ্গ আনন্দদাযক| কিন্তু এক জন সত্যিকারের বন্ধু ভাইযের চেয়েও বিশ্বস্ত হতে পারে|




অধ্যায় 19

1 বোকা, মিথ্যেবাদী এবং ঠগ হওয়ার চেয়ে গরীব এবং সত্‌ হওয়া শ্রেয়|
2 জ্ঞান ব্যতিরেকে উদ্যম কোন কাজের নয়| য়ে ব্যক্তি তাড়াহুড়ো করে কাজ করে, সে ভুল করে|
3 এক জন ব্যক্তির নিবুর্দ্ধিতা তার ধ্বংসের কারণ| কিন্তু সে তার দুরবস্থার জন্য প্রভুকে দোষী করে|
4 ধনী ব্যক্তির ধন-সম্পদই অসংখ্য় বন্ধু জোগাড় করে দেয় কিন্তু দরিদ্রকে সবাই ছেড়ে চলে যায়|
5 অন্য লোকের বিরুদ্ধে য়ে মিথ্যাচার করে তার শাস্তি হওয়া উচিত্‌| তার রক্ষা পাওয়া উচিত্‌ নয়|
6 উদার ব্যক্তির বন্ধু সবাই হতে চায়| য়ে উপহার প্রদান করে তার বন্ধুত্ব লাভে সবাই আগ্রহী|
7 যদি কেউ গরীব হয় তাহলে তার পরিবারের লোকরাও তার বিরোধিতা করে এবং সমস্ত বন্ধুরাও তার দিক থেকে মুখ ফিরিযে নেয়| সে সাহায্য ভিক্ষা করলে সাহায্য প্রদানের জন্য কেউ তার দিকে এগিয়ে যাবে না|
8 কোন ব্যক্তি যদি তার স্বাচ্ছন্দের জন্য আগ্রহী হয়, সে জ্ঞানী হয়ে ওঠার জন্য কঠোর পরিশ্রম করবে| য়ে বোধকে রক্ষা করে, সে সাফল্য হাতে পায়|
9 মিথ্যেসাক্ষীর শাস্তি হবেই! মিথ্যেবাদীর বিনাশ হবে|
10 এক জন নির্বোধ ব্যক্তির পক্ষে বিলাসিতার মধ্যে জীবনযাপন করা ঠিক নয়| তাহলে তা হবে ক্রীতদাস কর্ত্তৃক রাজপুত্রদের শাসন করা|
11 যদি এক জন ব্যক্তি জ্ঞানী হয়, সেই জ্ঞানই তাকে ধৈর্য়্য়ের অধিকারী করে| সে যদি তার বিরুদ্ধে যারা অন্যায় করে সেই সব লোকদের ক্ষমা করে সেটা তার মহত্ত্ব|
12 রাজার ক্রোধ হবে সিংহের মতো| কিন্তু তাঁর দযা হল ঘাসের ওপর বৃষ্টির ফোঁটার মত|
13 এক জন নির্বোধ তার পিতার জন্য বয়ে আনে সমস্যার বন্যা| এক জন খুঁতখুঁতে বউ হল সমানে চুঁইযে পড়া জলের মত|
14 লোকে তাদের মাতা-পিতার কাছ থেকে অর্থ এবং ঘরবাড়ি পায়| কিন্তু এক জন ভালো স্ত্রী হল প্রভুর দান|
15 এক জন কুঁড়ে, অলস ব্যক্তি হয়ত দীর্ঘক্ষণ ঘুমোতে পারে কিন্তু সে অত্যন্ত ক্ষুধার্ত বোধ করবে|
16 কেউ যদি আইনকে মান্য করে তাহলে সে নিজেকে রক্ষা করতে পারবে| য়ে নিজের আচরণ সম্পর্কে অসতর্ক সে মারা যাবে|
17 দরিদ্রকে টাকা দেওয়া মানে তা প্রভুকে ঋণ দেওয়া| তোমার এই দযালু মনের জন্য প্রভু তোমাকে তা ফিরিযে দেবেন|
18 তোমার পুত্র বদলাবে এ আশা যতক্ষণ আছে, তাকে শাসন কর| তাকে শাসন না করে তার মৃত্যু এনো না| সে নিজেই তার ধ্বংসের কারণ হবে এবং তুমিই তাতে ইন্ধন য়োগাবে|
19 রগচটা লোক তার ক্রোধের মূল্য দেবে| তুমি যদি তাকে সংকট থেকে বের করেও আনো, সে একই কাজ করা অব্যাহত রাখবে|
20 উপদেশ শোন এবং শৃঙ্খলা পরাযণ হও| তাহলে জ্ঞানী হয়ে উঠবে|
21 মানুষ অসংখ্য় পরিকল্পনা করে কিন্তু একমাত্র প্রভুর পরিকল্পনাই বাস্তবায়িত হয়|
22 লোক একটি বিশ্বাসী লোক চায়| এক জন লোক যার কথা কেউ বিশ্বাস করে না সেই ধরণের একজন মানুষ হওয়ার চেয়ে বরং গরীব হওয়া শ্রেয়|
23 য়ে ব্যক্তি প্রভুকে সম্মান করে তার জীবন ভালো হয়| সে ক্ষযক্ষতি থেকে নিরাপদ থাকে| সে তার নিজের জীবনে তৃপ্তি খুঁজে পায়|
24 কিছু মানুষ এতো অলস হয় য়ে তারা নিজেদের দিকে প্রায় নজরই দেয় না| তারা এতই অলস য়ে তারা তাদের থালা থেকে খাবারটুকু পর্য়ন্ত তুলে মুখে দেবে না|
25 এক জন অলস ব্যক্তিকে শাস্তি দাও এবং সেই বোকাটা কৌশলী হয়ে উঠবে| কিন্তু এক জন জ্ঞানী ব্যক্তিকে তিরস্কার কর, সে আরো বিচক্ষণ হয়ে উঠবে|
26 য়ে ব্যক্তি তার পিতার পকেট থেকে চুরি করে এবং তার মাকে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দেয়, সে এক জন জঘন্য কুলাঙ্গার|
27 যদি তুমি নির্দেশ মেনে চলা বন্ধ করো তাহলে তুমি তোমার বোকামিগুলো চালিযে যাবে| চির দিন ভুলগুলো করে যাবে|
28 য়ে মিথ্যে সাক্ষী দেয় সে ন্যায়কে উপহাস করে| দুষ্ট লোকদের কথাবার্তা আরো বেশী পাপ আনে|
29 উদ্ধত লোকদের জন্য চাবুকই য়থেষ্ট, কিন্তু বোকাদের জন্য প্রহার যথার্থ|




অধ্যায় 20

1 দ্রাক্ষারস খেলে মানুষ তার নিয়ন্ত্রণ হারায| মাতালরা চিত্কার করে এবং ঘ্য়ান ঘ্য়ান করতে শুরু করে| মদনোন্মত্ত অবস্থায় তারা মূর্খের মত আচরণ করে|
2 সিংহের গর্জনের মত রাজার ক্রোধ| তুমি যদি রাজাকে ক্রুদ্ধ করো তাহলে তোমার জীবন সংশয় হতে পারে|
3 মূঢ়রা তর্ক শুরু করবার ব্যাপারে খুব তত্‌পর| সুতরাং তোমাকে এমন এক জনকে সম্মান করতে হবে য়ে তর্ককে এড়িয়ে চলতে পারে|
4 এক জন অলস ব্যক্তি কর্ষনের সময় বীজ বপন করে না| সুতরাং ফসল ঘরে তোলার উত্সবের সময় যখন সে খাবারের জন্য চারিদিকে তাকায তখন সে কিছুই খুঁজে পায় না|
5 ভাল উপদেশ হল গভীর কুযো থেকে তুলে আনা স্বচ্ছ জলের মত| এক জন জ্ঞানী ব্যক্তি অন্য আর একজনের কাছ থেকে শেখবার জন্য কঠিন পরিশ্রম করে|
6 অনেকেই বলে তারা বিশ্বস্ত এবং অনুগত| কিন্তু প্রকৃত বিশ্বস্ত লোক খুঁজে পাওয়া খুবই কঠিন|
7 এক জন সজ্জন ব্যক্তি সত্‌পথে জীবন কাটায়| এবং তার সন্তানরা আশীর্বাদ ধন্য হবে|
8 রাজা যখন বিচারে বসে তখন সে নিজের চোখে দুর্জন ব্যক্তিদের চিনতে পারে|
9 কেউ কি একথা বলতে পারে য়ে তার একটি স্বচ্ছ বিবেক আছে? এবং সে কোন পাপ করেনি? না!
10 অন্যায় ভাবে যারা ব্যবসায় ওজন নিয়ে কারচুপি করে লোক ঠকায়, প্রভু তাদের ঘৃণা করেন|
11 এমনকি একটি শিশুর কাজকর্মেও বোঝা যায় য়ে সে ভাল না মন্দ| তুমি যদি একটি শিশুর আচরণ লক্ষ্য কর, সে সত্‌ ও ভাল কিনা তা তুমি বুঝতে পারবে|
12 আমাদের শরীরের চোখ এবং কান এই ইন্দরিয় দুটি প্রভুই আমাদের দিয়েছেন যাতে আমরা দেখতে ও শুনতে পাই|
13 তুমি যদি ঘুমোনোর পিছনে সময় ব্যয় কর তাহলে তুমি দারিদ্রে কষ্ট পাবে| কিন্তু যদি তুমি তোমার সময় কঠোর পরিশ্রমে ব্যয় কর তাহলে তোমার খাদ্যের অভাব হবে না|
14 তোমার কাছ তেকে কেউ যখন কিছু কিনতে যায় তখন সে বলে: “দাম বড্ড বেশী! এ জিনিস ভাল নয়|” তারপর সে অন্যদের কাছে গিয়ে নিজের বাজার করার কথা বড়াই করে বলে|
15 সোনা এবং অলঙ্কার এক জন মানুষকে ধনী করে তুলতে পারে| কিন্তু একজন জ্ঞানী ব্যক্তি যা উচ্চারণ করেন তা অনেক বেশী দামী|
16 অন্য লোকের বিবাদে জড়িয়ে পড়লে তুমি তোমার জামা হারাতে পারো|
17 প্রতারণা করে জিনিস পাওয়া হয়তো ভালো মনে হতে পারে কিন্তু অবশেষে দেখবে য়ে তার কোন দাম নেই|
18 পরিকল্পনা করার আগে সত্‌ উপদেশ গ্রহণ করো| যদি তুমি যুদ্ধে যাওয়া স্থির কর, তাহলে তোমাকে চালনা করার জন্য যুদ্ধে দক্ষ এমন লোক খুঁজে বের কর|
19 য়ে অন্যের সম্বন্ধে গুজব রটায় সে বিশ্বাসযোগ্য নয়| সুতরাং, বেশী কথা বলে এমন কারো সঙ্গে বন্ধুত্ব কোরো না|
20 য়ে নিজের পিতামাতার বিরুদ্ধে কথা বলে সে হল সেই ধরণের আলো যা শীঘ্রই অন্ধকারে পরিণত হবে|
21 সহজে অর্জিত ধন অবশেষে তার মূল্য হারাবে|
22 কেউ যদি তোমার বিরুদ্ধে কিছু করে থাকে তাহলে তুমি তাকে শাস্তি দিতে য়েও না| বরং ধৈর্য়্য় ধরো প্রভু শেষে তোমাকেই জয়ী করবেন|
23 কিছু ব্যবসাযী ওজনের দাঁড়িপাল্লায় কিছু কৌশল করে লোক ঠকায়| প্রভু সেটা ঘৃণা করেন| য়ে সব দাঁড়িপাল্লা নিখুঁত নয় সেগুলো ব্যবহার করা অন্যায়|
24 প্রতিটি লোকের কি হবে তা প্রভু ঠিক করেন| তাহলে কোন ব্যক্তি কি করে বুঝবে তার জীবনে কি কি ঘটবে?
25 ঈশ্বরকে কিছু দেবার প্রতিজ্ঞা করার আগে চিন্তা করে দেখো| নাহলে পরে হয়তো তুমি ভাবতে পারো য়ে এমন প্রতিজ্ঞা না করলেই হত|
26 জ্ঞানী রাজাই ঠিক করবেন কারা দুর্জন ব্যক্তি| সেই রাজাই তাদের শাস্তি প্রদান করবেন|
27 মানুষের আত্মা হল প্রভুর কাছে থাকা প্রদীপ| প্রভু হলেন অন্তর্য়ামী| কার মনে কি আছে তিনি সব জানেন|
28 যদি এক জন রাজা সত্‌ ও সত্যবাদী হয় তাহলে সে তার ক্ষমতায থাকতে পারবে| বিশ্বস্ততা তার রাজ্য়কে শক্তিশালী করে তুলবে|
29 এক জন যুবকের শক্তির শোভাকে আমরা পছন্দ করি| কিন্তু একজন বৃদ্ধের পাকা চুলকে আমরা সম্মান জানাই| কারণ তার মাথা ভর্তি পাকা চুল প্রমাণ করে য়ে সে একটি পূর্ণ জীবন পেয়েছে|
30 যদি আমরা শাস্তি পাই তাহলে আমরা অন্যায় কাজ করা বন্ধ করব| যন্ত্রণা মানুষকে বদলে দিতে পারে|




অধ্যায় 21

1 জমিতে চাষের জলের জন্য চাষীরা পরিখা খনন করে| সেচ ব্যবস্থার জন্য তারা পরিখা দিয়ে বয়ে যাওয়া জলের গতিপথ পরিবর্তন করে| তেমনি করে প্রভুও রাজার মনের নিয়ন্ত্রণ করেন| প্রভু রাজাকে তাঁর ইচ্ছেমতো পরিচালনা করেন|
2 মানুষ ভাবে সে যা করে তাই সঠিক| কিন্তু প্রভুই মানুষের কাজের সঠিক কারণের বিচার করেন|
3 সঠিক কাজ করবে ও ন্যায়ের পথে চলবে| বলিদানের চেয়ে প্রভু সেগুলিকেই বেশী ভালো ভাবে গ্রহণ করেন|
4 অহঙ্কার হল একটি পাপপূর্ণ জিনিস| এতে মানুষের অসততা বোঝায়|
5 বুদ্ধিপূর্ণ পরিকল্পনা লাভের দিকে নিয়ে য়েতে পারে| কিন্তু তুমি যদি সতর্ক না হও এবং কাজের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করো তাহলে তুমি গরীব হয়ে যাবে|
6 লোক ঠকিয়ে বড়লোক হলে শীঘ্রই তোমার সমস্ত ধনসম্পদ নষ্ট হবে এবং তোমার অসততা তোমার মৃত্যুর কারণ হবে|
7 দুষ্ট লোকরা য়ে কুকর্ম করে তা তাদের ধ্বংস করবে| তারা ঠিক কাজ করতে অস্বীকার করে|
8 দুষ্ট ব্যক্তিরা সব সময় অন্যদের ঠকাতে চেষ্টা করে| কিন্তু ভালো লোকরা সর্বদা সত্‌ ও ন্যায়সঙ্গত কাজ করে|
9 ঝগড়াটে বউযের সাথে ঘর করার চেয়ে ছাদের ওপর একলা থাকা শ্রেয়|
10 অসত্‌ ব্যক্তি মন্দ কাজ করতে ইচ্ছা করে এবং তারা কারো প্রতি দযা প্রদর্শন করে না|
11 ঈশ্বরকে নিয়ে যারা মজা করে তারা শাস্তি পাওয়ার যোগ্য এবং বোকারা তার থেকে শিক্ষা পাবে| তারা জ্ঞানী হয়ে উঠবে এবং তারা আরো বেশী জ্ঞান প্রাপ্ত হবে|
12 ঈশ্বর মঙ্গলময| ঈশ্বর জানেন দুর্জনরা কি করে বেড়াচ্ছে| তিনিই তাদের শাস্তি দেবেন|
13 যদি কেউ দরিদ্রকে সাহায্য় করতে অস্বীকার করে তাহলে তার প্রয়োজনের সময়ও কেউ তার সাহায্যে এগিয়ে আসবে না|
14 কেউ যদি তোমার ওপর রেগে থাকে তাহলে তাকে গোপন একটা উপহার পাঠাও| গোপনে দেওয়া উপহার প্রকট ক্রোধকে প্রশমিত করে|
15 ন্যায়-বিচার সজ্জন ব্যক্তিদের সুখী করে তোলে| কিন্তু দুর্জন ব্যক্তিদের ভীত করে|
16 জ্ঞানের পথ কেউ ত্যাগ করলে বুঝতে হবে সে ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে|
17 যদি কোন ব্যক্তি সুখ সম্পত্তি ভালোবাসে, সে দরিদ্রে পরিণত হবে| একজন ব্যক্তি যদি শুধুমাত্র দ্রাক্ষারস পান করতে এবং খুব মশলাদার রান্না খেতে চায় তাহলে সে কোনদিনই ধনী হতে পারবে না|
18 ভালো লোকদের প্রতি দুষ্ট লোকরা য়ে সব খারাপ কাজগুলি করে তার জন্য তাদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে| সত্‌ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অসত্‌ ব্যক্তিরা যা সব করে তার জন্য দুষ্ট লোকদের দাম দিতেই হবে|
19 রাগচটা ও বিবাদী স্ত্রীর সঙ্গে ঘর করার চেয়ে মরুভূমিতে বাস করা ভাল|
20 একজন জ্ঞানী ব্যক্তি ভবিষ্যতে তার কাজে লাগবে এমন জিনিসপত্র সঞ্চয় করে রাখে| কিন্তু একজন নির্বোধ যা কিছু অর্জন করে তার সবটাই তাড়াতাড়ি খরচ করে ফেলে|
21 য়ে ব্যক্তি সর্বদা দযা ও ভালবাসা প্রদর্শন করে সে সুস্থ জীবন লাভ করে| সে অর্থ ও সম্মান পায়|
22 এক জন জ্ঞানী ব্যক্তি যা চায় তাই করতে পারে| এমন কি, সে শক্তিশালী লোকদের দ্বারা প্রতিরক্ষা করা শহরকেও আক্রমণ করতে পারে| বাঁচবার জন্য য়ে প্রাচীরের ওপর তাদের আস্থা ছিল, সেই প্রাচীরও সে ধ্বংস করতে পারে|
23 সে কি বলছে এই বিষয়ে যদি কোন ব্যক্তি সতর্ক থাকে তাহলে সে সংকট থেকে দূরে থাকতে পারবে|
24 এক জন অহঙ্কারী মানুষ নিজেকে অন্যদের থেকে শ্রেষ্ঠ মনে করে| সে তার কাজের ধারা দিয়েই দেখিয়ে দেয় সে কতখানি দুষ্ট|
25 এক জন অলস ব্যক্তির অতিরিক্ত দাবী তার ধ্বংসের কারণ হয়| তার যা করা দরকার তা করতে অস্বীকার করায অলস ব্যক্তি নিজেকে ধ্বংস করে| কিন্তু এক জন ভালো লোক অনেক কিছু দিয়ে দেয় কারণ তার প্রচুর আছে|
26
27 দুর্জনরা প্রভুকে কিছু উত্সর্গ করলে প্রভু খুশী হন না| বিশেষ করে তারা যখন তাদের উত্সর্গের পরিবর্তে তাঁর কাছ থেকে কিছু পেতে চেষ্টা করে তখন|
28 মিথ্যেবাদীর বিনাশ হবে| যারা মিথ্যেবাদীদের কথা শুনে চলবে তাদেরও বিনাশ হবে|
29 এক জন সজ্জন ব্যক্তি জানে য়ে সে সঠিক| কিন্তু একজন দুষ্ট লোককে ভান করতে হয়|
30 কোন ব্যক্তিই একটি পরিকল্পনাকে সফল করতে য়থেষ্ট জ্ঞানী নয় যদি ঈশ্বর তার বিরুদ্ধে থাকেন|
31 মানুষ যতই যুদ্ধ জয়ের প্রস্তুতি নিক প্রভু না চাইলে কিছুতেই তারা যুদ্ধে জয়লাভ করতে পারবে না|




অধ্যায় 22

1 ধনী হওয়ার চেয়ে সম্মানিত হওয়া শ্রেয়| সোনা ও রূপোর চেয়ে সুনাম অর্জন করা বেশী গুরুত্বপূর্ণ|
2 গরীব এবং ধনীর মধ্যে কোন বিভেদ নেই| সবাই সমান, প্রভুই তাদের তৈরী করেছেন|
3 জ্ঞানী ব্যক্তিরা আগে থেকে সংকটের আভাষ পায় এবং সে পথ থেকে দূরে থাকে| কিন্তু মূর্খরা সমস্যার অভ্য়ন্তরে প্রবেশ করে দুর্ভোগ পোহায|
4 বিনযী হও এবং প্রভুকে সম্মান জানাও| তাহলেই তুমি ধন-সম্পদ, সম্মান এবং জীবন লাভ করবে|
5 দুর্জনরা সমস্যার ফাঁদে আটকে পড়ে| কিন্তু য়ে ব্যক্তি তার আত্মাকে যত্ন করে সে সমস্যা থেকে দূরে থাকে|
6 শৈশব কাল থেকে একটি শিশুকে ঠিক পথে বাঁচতে শেখাও| শিশুটি তার বৃদ্ধ বয়স পর্য়ন্ত ঠিক পথে বাঁচা অব্যাহত রাখবে|
7 দরিদ্ররা চির কালই ধনীদের দাসত্ব করে| এক জন ব্যক্তি য়ে ধার করে, সে যার কাছ থেকে ধার করে তার কাছে ক্রীতদাস হয়ে যায়|
8 য়ে সমস্যার বীজ বোনে সে সমস্যারই ফসল তোলে| এবং পরিশেষে অন্যদের সমস্যায় ফেলার জন্য তার নিজেরই বিনাশ হয়|
9 য়ে মুক্তহস্তে দান করে তার কপালে আশীর্বাদ জোটে| সে আশীর্বাদ-ধন্য হবে কারণ সে তার নিজের খাবার গরীবদের সঙ্গে ভাগ করে খেয়েছিল|
10 যারা অশান্তি সৃষ্টি করে তাদের তাড়িয়ে দাও, সংঘাত আপনিই দূর হবে| তখন ন্যায় ও অপমানজনক আচরণ বিশ্রাম পাবে|
11 যদি তুমি একটি খাঁটি হৃদয় ভালবাস, যদি তোমার বাণী হয় মার্জিত, তাহলে রাজাও তোমার বন্ধু হবে|
12 যারা প্রভুকে জানে তাদের প্রভু রক্ষা করেন| শ্রদ্ধাশূন্য অবিশ্বাসী লোকদের কথা প্রভু বিনাশ করেন.
13 অলস ব্যক্তি বলে, “এখন আমি কাজে য়েতে পারব না| বাইরে একটি সিংহ রযেছে| বাইরে গেলেই সে আমাকে মেরে ফেলবে|”
14 ব্যভিচারের পাপ হল একটি ফাঁদের মতো| সেই ফাঁদে য়ে পা দেয় তার ওপর প্রভু ভয়ঙ্কর ক্রুদ্ধ হন|
15 শিশুরা মূর্খামি করে| কিন্তু তুমি যদি তাদের শাস্তি দাও তাহলে ওরা আর ঐ কাজ করবে না|
16 এই দুটো জিনিস তোমাকে দরিদ্রে পরিণত করবে নিজে ধনী হতে গিয়ে দরিদ্রকে আঘাত করা এবং ধনীকে উপহার দেওয়া|
17 আমি যা বলছি তা মন দিয়ে শোন| জ্ঞানী ব্যক্তিরা যা বলে গিয়েছেন আমি তা তোমাকে শিখিয়ে দেব| এই শিক্ষামালাগুলি থেকে শিক্ষা নাও|
18 এগুলি যদি মনে রাখতে পারো তাহলে তোমার মঙ্গল হবে| তুমি যদি এগুলি বলতে পারো তাহলে এটা তোমাকে সাহায্য করবে|
19 আমি তোমাকে এখন এগুলি শেখাব| আমি চাই তুমি প্রভুর প্রতি বিশ্বাস রাখো|
20 আমি তোমার জন্য 30 টি নীতিকথা লিখেছি| এগুলি হল উপদেশ ও নানাবিধ জ্ঞানের কথা|
21 এগুলি তোমাকে সত্য এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেখাবে| তাহলে তোমাকে যারা পাঠিয়েছিল তাদের কাছে তুমি সঠিক উত্তর দিতে পারবে|
22 দরিদ্রের কাছ থেকে জিনিস চুরি করা সহজ| কিন্তু তা করো না এবং আদালতে দীনহীনের কাছ থেকে কোন সুবিধা উপভোগ করো না|
23 প্রভু গরীবদের পক্ষে রযেছেন| প্রভু তাদের সমর্থন করেন| সুতরাং কেউ গরীবদের কিছু নিলে প্রভু তা আবার ছিনিয়ে নেন|
24 রগচটা লোকের সাথে বন্ধুত্ব কোরো না| য়ে লোক খুব তাড়াতাড়ি রেগে যায় তার খুব কাছে য়েও না|
25 যদি তুমি তা কর তাহলে তুমি হয়ত তার মত আচরণ করতে শিখবে এবং সংকটে পড়বে|
26 অন্যের ঋণ শোধের অঙ্গীকার করো না|
27 যদি তুমি জামিনদার হিসেবে সেই ঋণের অর্থ পরিশোধ করতে না পারো তাহলে তুমি সব হারাবে| কেন শুধু শুধু নিজের শয়্য়াটুকু খোযাতে যাবে?
28 সম্পত্তি সীমার পুরাতন চিহ্ন, যা তোমার পিতৃপুরুষগণ স্থাপন করে গিয়েছিলেন তা বদলে দিও না|
29 যদি কেউ নিজের কাজে অত্যন্ত দক্ষ হয় তাহলে সে রাজাকে সেবা করার যোগ্য| তাকে আর সাধারণ লোকের জন্য কাজ করতে হবে না|




অধ্যায় 23

1 যখন তুমি কোন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে বসে খাওয়া-দাওযা করছো তখন মনে রেখো তুমি কার সঙ্গে বসে আছো|
2 কখনও বেশী খেও না এমনকি ক্ষুধার্ত থাকলেও নয়|
3 সে যদি সুখাদ্যের আয়োজন করে তাহলেও বেশী খেও না কারণ এটা একটা চালাকিও হতে পারে|
4 ধনী হতে গিয়ে স্বাস্থ্য ক্ষয় কোরো না| যদি তুমি জ্ঞানী হও তাহলে তুমি খুব ধৈর্য়্য়শীল হবে|
5 ডানা মেলে পাখীর উড়ে যাওয়ার মতো টাকাকড়িও দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যায়|
6 স্বার্থপর লোকের সঙ্গে ভোজনে বোসো না| তার পছন্দের খাবার থেকে দূরে থেকো|
7 কারণ য়ে খাদ্যটি সে কিনেছে সে শুধু সেটার দামের কথাই ভাবে| সে তোমাকে বলতে পারে, “খাও এবং পান কর|” কিন্তু এটা তার হৃদয়ের অভ্য়ন্তরের কথা নয়|
8 তুমি যদি তার খাবার খাও তাহলে তুমি অসুস্থ হয়ে পড়বে এবং তোমার প্রশংসাবাক্য হবে একটি বাজে খরচ|
9 মূর্খকে শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা কোরো না| সে তোমার জ্ঞানের কথা নিয়ে উপহাস করবে|
10 পুরানো সম্পত্তির সীমার স্থানান্তর কোরো না| অনাথদের জমিজমা গ্রাস করার চেষ্টা কোরো না|
11 প্রভু অনাথদের একজন শক্তিশালী প্রতিরক্ষক সুতরাং তিনি তোমার বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন|
12 শিক্ষকের কথা শোন এবং যতটা পার তাঁর কাছ থেকে শিখে নাও|
13 প্রয়োজন হলে তোমার শিশুকে শাস্তি দাও| তাকে মারধোর করলেও তার ক্ষতি হবে না|
14 যদি তাকে চড় চাপড় মারো তাহলে তুমি তার জীবন রক্ষা করতে পারবে|
15 পুত্র আমার, যদি তুমি জ্ঞানী হয়ে ওঠো তাহলে আমি খুশী হব|
16 আমার হৃদয় খুশী হবে যদি তুমি সঠিক কথাগুলো বলতে পারো|
17 দুর্জনের প্রতি ঈর্ষা কোরো না| কিন্তু সর্বদা চেষ্টা করো যাতে প্রভুকে সম্মান জানানো যায়|
18 সর্বদা আশার আলো আছে এবং তোমার আশা কখনও হারিয়ে যাবে না|
19 সুতরাং, পুত্র আমার, শোন, জ্ঞানী হও| সঠিক জীবনযাপনে সর্বদা সতর্ক থেকো|
20 পেটুক এবং মদ্যপ ব্যক্তির সঙ্গে বন্ধুত্ব কোরো না|
21 য়ে অতিরিক্ত খাবার খায় এবং দ্রাক্ষারস পান করে সে দরিদ্রে পরিণত হবে| তারা খায়-দায় আর ঘুমোয় এবং শীঘ্রই তাদের যাবতীয় সব কিছু খোযা যায়|
22 পিতা যা বলে তা শুনে চলো| পিতা ছাড়া তোমার জন্ম হতো না| এবং মাকে সম্মান জানাও| এমনকি সে বৃদ্ধা হলেও তাকে সম্মান জানাবে|
23 সত্য, জ্ঞান, শিক্ষা এবং বোধ খুব মূল্যবান| এগুলিকে তোমার কেনা উচিত্‌, বিক্রি করা নয়|
24 সজ্জন ব্যক্তির পিতা অত্যন্ত সুখী হয়| যদি কারো শিশুপুত্র জ্ঞানী হয় তাহলে সেই শিশু আনন্দ বয়ে আনে|
25 সুতরাং তোমার পিতামাতাকে সুখী হতে দাও| তোমার মা, যিনি তোমাকে জন্ম দিয়েছেন তাঁকে আনন্দ করতে দাও|
26 পুত্র আমার কাছে এসো এবং আমি যা বলছি তা শোন| আমার জীবনকে তোমার জন্য উদাহরণস্বরূপ বিবেচনা কর|
27 বেশ্যা এবং দুশ্চরিত্রা মহিলা হল ফাঁদ| তারা হল গভীর কুয়ো যার ভেতর থেকে তুমি আর কোনদিন বেরিয়ে আসতে পারবে না|
28 এক জন খারাপ মেয়ে তোমার জন্য চোরের মতো অপেক্ষা করবে| এবং সে অনেক পুরুষকে পাপের পথে টেনে নামায|
29 যারা অতিরিক্ত দ্রাক্ষারস পান করে এবং জোরালো পানীয় গ্রহণ করে তাদের পক্ষে খুব খারাপ হবে| তারা যখন তখন মারদাঙ্গা এবং বিবাদে জড়িয়ে পড়ে; তাদের চোখ লাল হয়ে ওঠে, যেখানে সেখানে হোঁচট খায় এবং নিজেদের আঘাত করে| তারা এই সমস্যাগুলোকে এড়াতে পারে না!
30
31 সুতরাং দ্রাক্ষারসের ব্যাপারে সতর্ক থেকো| লাল দ্রাক্ষারস হয়ত দেখতে প্রলুদ্ধকর; সেটা পেয়ালার মধ্যে ঝকমক করে| তুমি যখন সেটা পান কর তখন তা সুন্দর ভাবে গলা দিয়ে নীচে নামে|
32 কিন্তু শেষে তা সাপের মতো ছোবল মারে|
33 দ্রাক্ষারস পান করলে তুমি চোখে অদ্ভুত সব জিনিস দেখবে| তোমার মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত হয়ে পড়বে|
34 যখন তুমি শুয়ে পড়বে তখন তোমার মনে হবে য়েন তুমি উত্তাল সমুদ্রের ওপর শুয়ে আছো| মনে হবে জাহাজের ওপর শুয়ে রযেছো|
35 তুমি বলবে, “তারা আমাকে আঘাত করেছে কিন্তু আমি অনুভব করি নি| তারা আমাকে মেরেছে কিন্তু আমি তা মনে রাখি নি| এখন আর আমি জেগে উঠতে পারব না| আমি আরো একটি পানীয় চাই|”




অধ্যায় 24

1 দুর্জন ব্যক্তিদের হিংসা কোরো না| তাদের কাছাকাছি থাকবার ইচ্ছেও করো না|
2 তারা সব সময় অন্যের ক্ষতির পরিকল্পনা করে| তারা প্রত্যেকে সমস্যা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করে বেড়ায়|
3 প্রজ্ঞা এবং বোধ দিয়ে গড়া একটি বাড়ী দৃঢ় হয়|
4 জ্ঞান দুর্লভ এবং সুন্দর সম্পদ দিয়ে ঘরগুলিকে ভরে দেয়|
5 প্রজ্ঞা মানুষকে বলবান করে তোলে| জ্ঞান মানুষকে আরো শক্তি দেয়|
6 যুদ্ধের আগে তোমাকে খুব সতর্কভাবে পরিকল্পনা করতে হবে| যদি তুমি যুদ্ধ জিততে চাও তাহলে তোমার অনেক উপদেষ্টার প্রয়োজন|
7 মূর্খরা কোনদিন জ্ঞানের মর্ম বুঝবে না| যখন মানুষ কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করে তখন মূর্খরা কিছুই বলতে পারে না|
8 যদি তুমি সব সময় সমস্যা সৃষ্টির পরিকল্পনা কর তাহলে অন্যরা তোমাকে জানবে এক জন সমস্যা সৃষ্টির নাযক হিসেবে এবং তারা আর তোমার কথা শুনবে না|
9 মূর্খ ব্যক্তি শুধু পাপের পরিকল্পনা করে| লোকরা ঘৃণাপূর্ণ লোকদের ঘৃণাই করে|
10 সঙ্কটের সময় তুমি যদি দুর্বল হয়ে পড়ো তাহলে তুমি সত্যি সত্যিই এক জন দুর্বল লোক|
11 যদি লোকরা এক জন ব্যক্তিকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে তাহলে তুমি সেই ব্যক্তিকে রক্ষা করার আপ্রাণ চেষ্টা করবে|
12 তুমি বলতে পারো না, “এটা আমার কাজ নয়|” প্রভু সব জানেন| তিনি এও জানেন তুমি কি কর এবং কেন কর| প্রভু তোমাকে লক্ষ্য করছেন| তোমার কাজ অনুযায়ীপুরস্কার দেবেন|
13 হে পুত্র আমার মধু খাও| মধু বড় উত্তম বস্তু| চাক ভাঙ্গা মধু ভীষণ মিষ্টি|
14 একই রকম ভাবে, প্রজ্ঞা তোমার আত্মার জন্য ভাল| যদি তোমার জ্ঞান থাকে, তাহলে তোমার আশা থাকবে| সেই আশার কোন শেষ নেই|
15 এক জন ভালো লোকের বাড়ীতে চোরের মত লুকিয়ে থেকে অপেক্ষা করো না| তার বাড়ী থেকে চুরি করো না|
16 যদি এক জন সজ্জন ব্যক্তি সাত বারও পড়ে যায় তাহলেও সে আবার উঠে দাঁড়াতে সক্ষম হয়| কিন্তু দুষ্ট ব্যক্তিরা সব সময় সংকটের দ্বারা পরাজিত হবে|
17 শত্রুর বিপদে আনন্দিত হয়ো না| তোমার শত্রু পড়ে গেলে উল্লাস দেখিও না|
18 যদি তুমি তা করো তাহলে প্রভু তা দেখতে পাবেন এবং প্রভু তোমার প্রতি তুষ্ট হবেন না| তখন হয়তো প্রভু তোমার শত্রুকেই সাহায্য করতে এগিয়ে আসবেন|
19 দুর্জন ব্যক্তিদের তোমার চিন্তার কারণ হতে দিও না এবং দুর্জনদের প্রতি ঈর্ষা করো না|
20 ঐ দুর্জনদের কোন আশার প্রদীপ নেই| তাদের আলো অন্ধকারে পরিণত হবে|
21 পুত্র, রাজা এবং প্রভুকে সম্মান কোরো| যারা রাজা ও প্রভুর বিরুদ্ধে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ো না|
22 কেন? কারণ ঐ লোকগুলো শীঘ্রই ধ্বংস হয়ে যাবে| তুমি তো জানো না, যারা তাদের বিরুদ্ধে ঈশ্বর এবং রাজা তাদের জন্য কতখানি সমস্যা নিয়ে আসতে পারেন| তাদের ওপর হঠাত্‌ বিপর্য়য নেমে আসবে|
23 এগুলি হল জ্ঞানবানদের উক্তি:এক জন বিচারক নিরপেক্ষ হতেই হবে| চেনা লোক বলে তাকে সমর্থন করা বিচারকের উচিত্‌ নয়|
24 এক জন দুষ্ট ব্যক্তিকে যদি বিচারক নির্দোষ বলে সাব্যস্ত করেন তাহলে লোকরা সেই বিচারককে অভিশাপ দেবে| এমনকি অন্য দেশের লোকরাও ঐ বিচারকের বিরুদ্ধে কথা বলবে|
25 কিন্তু কোন বিচারক যদি দোষী ব্যক্তিকে যোগ্য শাস্তি দান করেন তাহলে সবাই তার প্রশংসা করবে|
26 যথার্থ সত্‌ উত্তর মানুষকে খুশী করে| ঠিক য়েন ওষ্ঠাধর চুম্বনের মতো|
27 তোমার জমিতে চারা রোপন করবার আগে ঘরবাড়ি তৈরী কোরো না| বসতি স্থাপন করবার আগে তোমার চাষবাসের সমস্ত ব্যবস্থা করে নেবে|
28 প্রকৃত কারণ না থাকলে কোন লোকের বিরুদ্ধে কথা বলো না| আর কখনও মিথ্যা কথা বোলো না|
29 বোলো না, “ও আমাকে আঘাত করেছে বলে আমিও ওকে আঘাত করব| আমার ক্ষতি করেছে বলে আমিও ওকে শাস্তি দেব|”
30 আমি এক জন অলস লোকের জমির পাশ দিয়ে গেলাম| আমি এক জন মূর্খের দ্রাক্ষা ক্ষেতের পাশ দিয়ে গেলাম|
31 সেই সব জমিগুলোতে কাঁটাঝোপ গজিযে উঠছিল| ঐ জমিগুলো আগাছা এবং কাঁটায ভরে গিয়েছিল| এবং ভগ্ন স্তূপের মতো জমির চারপাশের প্রাচীর ভেঙ্গে পড়েছিল|
32 আমি এইগুলির দিকে তাকালাম এবং তাদের সম্বন্ধে ভাবলাম| আমি এগুলি থেকে একটি শিক্ষা পেলাম|
33 আর একটু ঘুম, সামান্য বিশ্রাম, হাত জড়সড় করে তন্দ্রচ্ছন্ন অবস্থায় কাটানো|
34 এগুলি তোমাকে দ্রুত দরিদ্রে পরিণত করবে| তোমার আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না, য়েন চোর এসে তোমার সব কিছু চুরি করে নিয়ে গিয়েছে| এই ভাবে কানাকড়িহীন অবস্থায় তোমায় জীবন কাটাতে হবে|




অধ্যায় 25

1 এইগুলি শলোমনের আরো কয়েকটি উক্তি| যিহূদার রাজা হিষ্কিয়ের ভৃত্যরা এই কথাগুলি লিখে নেয়|
2 ঈশ্বরের মাহাত্ব্যের জন্য তিনি আমাদের যা জানাতে চান না তা লুকিয়ে রাখেন| এক জন রাজা যা কিছু প্রকাশ করেন তার জন্য তাঁকে সম্মান দেওয়া হয়ে থাকে|
3 আমাদের মাথার অনেক ওপরে রযেছে আকাশ এবং আমাদের পায়ের তলায় আছে গভীর মাটি| রাজাদের মনও সে রকমই| আমরা তাঁদের বুঝতে পারি না|
4 যদি রূপার থেকে খাত বের করে ফেলে তাকে শুদ্ধ করা যায়, তাহলে স্বর্ণকার তা থেকে সুন্দর কিছু বানাতে পারে|
5 ঠিক সেভাবেই যদি রাজার কাছ থেকে কুপরামর্শদাতাদের সরিয়ে ফেলা যায় তাহলে ন্যায় তার রাজ্যের ভিত্তি আরো মজবুত করবে|
6 রাজার সামনে কখনও নিজের সম্বন্ধে হামবড়াই করো না| এক জন বিখ্যাত ব্যক্তি হবার ভান করো না|
7 নিজে থেকে রাজার কাছে গিয়ে অন্য লোকের সামনে অপমানিত হওয়ার থেকে রাজার আমন্ত্রণ পেয়ে তার কাছে যাওয়া অনেক ভাল|
8 তুমি যা কিছু দেখেছ সে সম্বন্ধে বিচারকের কাছে বলবারর জন্য তাড়াহুড়ো করো না| যদি কেউ প্রমাণ করে য়ে তুমি যা দেখেছ তা ভুল, তাহলে তুমি অপ্রস্তুতে পড়বে|
9 যদি কারো সঙ্গে তোমার কোন বিষয় দ্বিমত হয় তবে সে বিবাদ নিজেরাই মিটিয়ে ফেল| পরের কোন গোপন কথা কখনও প্রকাশ করে দিও না|
10 তুমি যদি তা কর তুমি লজ্জায় পড়ে যাবে এবং বদনাম তোমাকে কখনও ছেড়ে যাবে না|
11 ঠিক সময় ঠিক কথাটি বলা হল একটি রূপোর ফ্রেমে সোনার আপেলের মতো|
12 জ্ঞানী লোকের সতর্কবাণী হল সব থেকে ভালো সোনার তৈরী আংটি বা গহনার থেকেও দামী|
13 গরমের দিনে শস্য কাটার সময় শীতল জলের মতোই একজন বিশ্বস্ত দূত তার প্রেরকের কাছে মূল্যবান|
14 য়ে সব লোকরা উপহার দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয় কিন্তু তা পালন করে না তারা হল সেই সব মেঘ বা হাওয়ার মতো যা বৃষ্টি আনে না|
15 তুমি যদি কাউকে ধৈর্য়্য় সহকারে কোন ব্যাপারে বোঝাতে পারো তাহলে রাজারও মত পরিবর্তন করানো যায়| শান্তভাবে কথা বলার ক্ষমতা খুব শক্তিশালী|
16 মধু সুমিষ্ট কিন্তু তা বেশী মাত্রায় খেলে অসুখ হয়|
17 ঠিক তেমনই, যদি তুমি প্রায়ই তোমার প্রতিবেশীর বাড়ি যাও, সে তোমাকে ঘৃণা করতে শুরু করবে|
18 য়ে ব্যক্তি আদালতে মিথ্যে কথা বলে সে খুব বিপজ্জনক| সে হল একটি তরোয়াল, একটি মুগুর বা একটি তীক্ষ্ণ বাণের মতো|
19 বিপদের সময় কখনও মিথ্যাবাদীর ওপর নির্ভর কোরো না| সে হল একটা নড়বড়ে দাঁত বা একটি টলমলে পায়ের মতো|
20 এক জন শোকার্ত মানুষকে আনন্দের গান শোনানো হল একটি শীতের দিনে লোকদের গা থেকে বস্ত্র কেড়ে নেওয়ার মতো, যারা শীতে জমে যাচ্ছে| এ হলো য়েন সোডার সাথে অম্ল রস মেশানো|
21 যদি তোমার শত্রু ক্ষুধার্ত হয় তাকে খাবার দাও, যদি সে তৃষ্ণার্ত হয় তবে তাকে জল দাও|
22 তুমি এরকম করলে সে লজ্জা পাবে| সেটা হবে য়েন তার মাথায় জ্বলন্ত কযলা রাখার মত এবং প্রভু তোমাকে শত্রুর সঙ্গে ভাল ব্যবহার করার জন্য পুরস্কৃত করবেন|
23 উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হাওয়ায় বৃষ্টি হয়| ঠিক এমন করেই গুজব থেকে ক্রোধ জন্ম নেয়|
24 এক জন মুখখরা স্ত্রীর সঙ্গে এক বাড়িতে থাকার চেয়ে ছাদে থাকা ভাল|
25 দূরের কোন স্থান থেকে আসা সুসংবাদ হল উত্তপ্ত ও তৃষ্ণার্ত অবস্থায় পাওয়া শীতল জলের মতো|
26 যদি কোন ভালো মানুষ দুর্বল হয়ে পড়ে কোন মন্দ লোককে অনুসরণ করে তা হবে পরিষ্কার জল দূষিত হয়ে যাওয়ার মতো ব্যাপার|
27 খুব বেশী মধু খাওয়া ভালো নয়, ঠিক তেমনই নিজের জন্য সম্মান আদায়ের চেষ্টাও সম্মানের নয়|
28 য়ে মানুষ নিজেকে সামলাতে পারে না সে হল সেই শহরের মতো যার প্রাচীর ভেঙে গেছে|




অধ্যায় 26

1 গরমের দিনে য়েমন তুষারপাত হওয়া উচিত্‌ নয়, শস্য কাটার সময় য়েমন বৃষ্টি হওয়া উচিত্‌ নয় ঠিক তেমনি মূর্খদের সম্মান করা মানুষের উচিত্‌ নয়|
2 কেউ যদি তোমার মন্দ কামনা করে তা নিয়ে চিন্তা করো না| তুমি যদি খারাপ কিছু না করো তোমার কোন ক্ষতি হবে না| সেই ব্যক্তির কথাগুলি হবে উড়ে চলে যাওয়া পাখির মতো যারা তোমার পাশে থামবে না|
3 ঘোড়াকে চাবুক মারতে হবে, গাধার পিঠে বলগা বাঁধতে হবে আর মূর্খদের মারতে হবে|
4 এ হল এক কঠিন পরিস্থিতি| যদি কোন মূর্খ তোমাকে বোকার মত কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে তাহলে তুমি বোকার মতো উত্তর দিও না কারণ, তাহলে তোমাকে মূর্খ বলে মনে হবে| যদি তুমি তাদের উত্তর না দাও তাহলে তারা নিজেদের খুব বুদ্ধিমান ভাববে|
5
6 কখনও কোন মূর্খকে তোমার বার্তা বহন করতে দিও না| যদি তা কর তাহলে তা হবে নিজের পায়ে নিজে কুড়ুল মেরে সমস্যা সৃষ্টি করার মতো ব্যাপার|
7 যখন কোন মূর্খ কোন জ্ঞানী লোকের মত কথা বলতে চেষ্টা করে, তা হয় প্রায় একজন মাতালের তার হাত থেকে কাঁটা তুলে ফেলার প্রচেষ্টার মত| পঙ্গু মানুষের হাঁটার প্রচেষ্টার সামিল|
8 মূর্খকে সম্মান দেখানো হল গুলতিতে পাথর বাঁধার মতোই খারাপ ব্যাপার|
9 এক জন মাতালকে তার হাত থেকে কাঠের চোঁছ বার করবার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা আর একজন মূর্খের মুখ থেকে জ্ঞানগর্ভ উক্তির প্রকাশ সমান হাস্যকর|
10 এক জন মূর্খকে বা রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া একজন মাতালকে ভাড়া করা বিপজ্জনক| তুমি জানো না কে আঘাত পেয়ে যাবে|
11 কুকুর খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে বমি করে| তারপর কুকুরটি তার বমি খেয়ে ফেলে| মূর্খও ঠিক তেমনি ভাবে একই ভুল বার বার করে চলে|
12 য়ে ব্যক্তি নিজেকে জ্ঞানী মনে করে সে যদি তা না হয় তাহলে সে মূর্খেরও অধম|
13 য়ে অলস সে বলে, “আমি আমার বাড়ি ছেড়ে বেরোব না| রাস্তায় সিংহ আছে|”
14 এক জন অলস ব্যক্তি হল দরজার মতো| দরজা য়েমন ঠিক কব্জার সাথে ঘুরে যায়, য়ে অলস সেও ঠিক তেমনি ভাবে বিছানায পাশ ফিরে যায়| সে আর অন্য কোথাও যায় না|
15 য়ে অলস তার থালা থেকে মুখে খাবার তুলতেও আলস্য|
16 এক জন অলস লোক নিজেকে সাতজন চতুর লোক যারা তাদের ভাবনার জন্য যুক্তি দেখাতে পারে, তাদের চেয়ে বেশী জ্ঞানী বলে বিবেচনা করে|
17 দুজন মানুষের ঝগড়ার মাঝখানে নাক গলাতে যাওয়া বিপজ্জনক| ওটি পাশ দিয়ে চলে যাওয়া একটি কুকুরের কান ধরে টানার মতো ব্যাপার|
18 কেউ যদি একটি লোককে ঠকানোর পর বলে য়ে সে মজা করছিল তা হবে একজন পাগলের উদ্দেশ্যহীনভাবে জ্বলন্ত তীর ছুঁড়ে দুর্ঘটনাবশতঃ কাউকে মেরে ফেলার মতো ব্যাপার|
19
20 জ্বালানি কাঠের অভাবে আগুন নিভে যায়| একই রকম ভাবে, অপবাদ শূন্য তর্কও থেমে যাবে|
21 কাঠকযলা য়েমন কয়লাকে জ্বলতে সাহায্য করে, কাঠ য়েমন আগুনকে জিইয়ে রাখে ঠিক তেমনই যারা সমস্যা সৃষ্টি করে তারা তর্ককে বাঁচিয়ে রাখে|
22 ভালো খাবার খেতে য়েমন মানুষ ভালোবাসে, ঠিক তেমনই তারা গুজবও ভালবাসে|
23 য়ে সব বন্ধুত্বপূর্ণ কথাবার্তা একটি দুরভিসন্ধি ঢেকে দেয় তা হল মাটির পাত্রের ওপর রূপালি রঙের মতো|
24 য়ে মন্দ সে ভাল কথা দিয়ে তার কুপরিকল্পনা ঢেকে রাখে| কিন্তু তার দুরভিসন্ধি থাকে তার হৃদয়ে|
25 সে হয়তো তোমার সঙ্গে সদয় হয়ে কথা বলবে, কিন্তু তাকে বিশ্বাস কোরো না| তার মন দুর্বুদ্ধিতে ভরা|
26 সে তার মধুর কথা দিয়ে কুপরিকল্পনাগুলি ঢেকে রাখে| কিন্তু সে নীচ| কিন্তু শেষ পর্য়ন্ত লোকরা তার কু-কর্মের কথা ঠিকই জানতে পারবে|
27 য়ে মানুষ অন্য মানুষকে ফাঁদে ফেলতে চায় সে নিজেই নিজের ফাঁদে পড়ে| য়ে ব্যক্তি অন্য লোকের ওপর পাথর গড়িযে ফেলতে চায় সে নিজেই সেই পাথরের তলায় পিষে যায়|
28 মিথ্যাবাদীরা তাদের দ্বারা নিপীড়িত লোকদের ঘৃণা করে| যারা মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে তারা ধ্বংস আনে|




অধ্যায় 27

1 তোমার ভবিষ্যত্‌ সম্পর্কে মিথ্যে অহঙ্কার করো না| কারণ কাল কি হবে তা তোমার অজানা|
2 কখনও নিজের প্রশংসা নিজে করো না, অন্যকে তা করতে দাও|
3 একখণ্ড ভারী পাথর বা বালি বয়ে নিয়ে যাওয়া কঠিন| কিন্তু একজন মূর্খের ক্রোধের ফলস্বরূপ য়ে সংকটগুলি সৃষ্টি হয় তা সহ্য করা আরো কঠিন|
4 ক্রোধ নিষ্ঠুর ও নীচ এবং ধ্বংসের কারণ| কিন্তু ঈর্ষা এর থেকেও খারাপ|
5 গুপ্ত প্রেম অপেক্ষা খোলাখুলি সমালোচনা ভাল|
6 এক জন বন্ধু তোমাকে তিরস্কার করে হয়তো আঘাত করতে পারে, কিন্তু সেটা তোমার নিজেরই ভালোর জন্য| কিন্তু একজন শত্রু যখন তোমাকে আঘাত করতে চায় তখন সে সদয হয়ে প্রেমসহ ব্যবহার করে|
7 যদি তোমার খিদে না থাকে তবে তুমি মধুও খাবে না| কিন্তু যদি তোমার খিদে পায় তবে তুমি য়ে কোন খাবার, খারাপ খেতে হলেও খাবে|
8 বাড়ী থেকে দূরে থাকা এক জন ব্যক্তি হল নীড় থেকে দূরে থাকা একটি পাখীর মত|
9 একটি সুগন্ধি সৌরভ একজনকে খুশী করতে পারে| কিন্তু এক জন ভালো বন্ধু জীবনত্রাণ কারক উপদেশের চেয়েও মিষ্টি|
10 তোমার নিজের পিতার ও তোমার পিতার বন্ধুদের কথা কখনও ভুলো না| যদি তুমি সমস্যায় পড়ো তাহলে ঘর থেকে অনেক দূরে ভাইযের বাড়িতে সাহায্য চাইতে না গিয়ে তোমার প্রতিবেশীর কাছে সাহায্য চাও|
11 হে পুত্র, তুমি জ্ঞানী হয়ে আমাকে সুখী করো| তাহলেই আমি আমার সমালোচকদের সমালোচনার জবাব দিতে পারব|
12 য়ে জ্ঞানী সে বিপদের সম্ভাবনা দেখলে দূরে সরে যায় কিন্তু মূর্খ যোদ্ধা গিয়ে বিপদে ঝাঁপ দেয় এবং দুর্ভোগ পোহায়|
13 তুমি যদি অপরের ঋণের দায়িত্ব নাও তাহলে তুমি তোমার নিজের বস্ত্র হারাবে|
14 ভোর বেলা চিত্কার করে, “সুপ্রভাত” বলে সম্ভাষণ জানিয়ে তোমার প্রতিবেশীদের জাগিয়ে তুলো না! সে এটাকে আশীর্বাদ না ভেবে অভিশাপ ভাববে|
15 এক জন ঝগড়াটে স্ত্রী হল বর্ষার দিনে অবিরাম ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি পড়ার মতো|
16 ঐ ধরণের স্ত্রীলোককে থামাতে যাওয়া হাওযার গতি রোধ করবার চেষ্টা করবার মতো| এ হল অনেকটা হাত দিয়ে তেল মুঠো করে ধরার চেষ্টা করবার মতো|
17 একটি লোহা আর এক টুকরো লোহার ওপর রেখে ছুরিতে ধার দেওয়া হয়| একই রকম ভাবে, বন্ধুরা পরস্পরকে সংশোধন করতে গিয়ে নিজেদের বিচক্ষণ করে তোলে|
18 য়ে মানুষ ডুমুর গাছের যত্ন নেয় সে তার ফলও ভোগ করে| এই ভাবেই, য়ে ব্যক্তি তার প্রভুর সেবা করে, সে তার জন্য পুরস্কৃত হবে| তার মনিব তার দেখাশোনার ভার নেন|
19 ঠিক য়ে ভাবে জলের দিকে তাকালে এক জন মানুষ নিজের চেহারা দেখতে পায় ঠিক সে ভাবেই একজন মানুষের মনের দিকে তাকালে তার স্বরূপ চেনা যায়|
20 মানুষের বাসনা কখনও পরিতৃপ্ত হয় না, একই রকম ভাবে, মৃত্যু ও ধ্বংসের স্থল তাদের কাছে ইতিমধ্যেই যা আছে তার থেকে সব সময় বেশী চায়|
21 মানুষ য়েমন আগুনের দ্বারা সোনা ও রূপো পরিশুদ্ধ করে ঠিক সে ভাবেই মানুষের প্রশংসার দ্বারা এক জন ব্যক্তিকে পরীক্ষা করা হয়|
22 তুমি এক জন মূর্খকে পিষে গুঁড়ো করে ফেললেও কখনও তার বোকামি ঘোচাতে পারবে না|
23 তোমার মেষ ও ছাগলের পালের ওপর সতর্ক প্রহরার নজর রাখো| তাদের সমস্ত প্রয়োজনের প্রতি যত্ন নিও|
24 শুধু সম্পদই নয়, কোন দেশও চিরস্থায়ী নয়|
25 খড় কেটে ফেল আবার নতুন ঘাস গজাবে| পাহাড়ের গায়ে গজানো ঘাস কেটে ফেল|
26 তোমার মেষদের গা থেকে পশম নিয়ে পোশাক তৈরী করো| তুমি তোমার কিছু ছাগল বিক্রি করে দিয়ে কিছুটা জমি কেনো|
27 তোমার ও তোমার পরিবারের জন্য যথেষ্ট পরিমাণে ছাগলের দুধ থাকবে| এতে তোমার স্ত্রী, ভৃত্যরা স্বাস্থ্যবতী হবে|




অধ্যায় 28

1 মন্দ লোকরা সব কিছুকেই ভয় পায়| কিন্তু ভাল লোকরা হয় সিংহের মত সাহসী|
2 একটি বিদ্রোহী দেশে অনেক অযোগ্য নেতা থাকে যারা খুব অল্পদিনের জন্য শাসন করে| কিন্তু যদি একজন বিচক্ষণ ও জ্ঞানী মানুষ নেতা হয় তাহলে স্থায়ীত্ব বজায় থাকবে|
3 য়ে শাসক দরিদ্র প্রজাদের ওপর অত্যাচার করে সে হল সেই ভারী বৃষ্টির মতো যা শস্য নষ্ট করে|
4 তুমি যদি আইন না মানো তাহলে তুমি মন্দ লোকদের পক্ষ নাও| কিন্তু যদি তুমি আইন মানো তাহলে তুমি মন্দ লোকদের বিপক্ষে যাবে|
5 মন্দ লোক ন্যায় বোঝে না| য়ে সব মানুষ প্রভুকে ভালোবাসে তারাই শুধু এর অর্থ বোঝে|
6 ধনী ও অসত্‌ হওয়া অপেক্ষা দরিদ্র ও সত্‌ হওয়া ভাল|
7 য়ে আইন মেনে চলে সে বুদ্ধিমান| কিন্তু য়ে ব্যক্তি অপদার্থ লোকদের বন্ধু হয় সে তার পিতার লজ্জার কারণ হয়|
8 তুমি যদি দরিদ্রদের ঠকিয়ে চড়া হারে তাদের থেকে সুদ নিয়ে ধনী হও তাহলে তোমার ঐশ্বর্য় অন্য আরেক জন এসে অধিকার করে নেবে, য়ে দরিদ্রদের প্রতি দযালু|
9 য়ে ব্যক্তি ঈশ্বরের শিক্ষামালায় কান দেয় না, তার প্রার্থনা ঈশ্বর দ্বারা গ্রাহ্য হবে না|
10 এক জন মন্দ লোক একজন ভাল লোককে সংকটে ফেলবার পরিকল্পনা করতে পারে, কিন্তু সে তার নিজের ফাঁদে নিজেই পড়বে| ভাল লোকের ভালই হবে|
11 ধনী লোকরা সব সময় নিজেদের জ্ঞানী মনে করে| কিন্তু একজন দরিদ্র ব্যক্তি য়ে জ্ঞানী সে ঐ গর্বিত ধনী লোকটির সম্বন্ধে সত্যটি বুঝতে পারে|
12 ভালো লোক নেতা হলে সকলেই সুখী হয় কিন্তু মন্দ লোককে নেতা নির্বাচন করলে সব লোক লুকিয়ে পড়ে|
13 য়ে ব্যক্তি পাপ গোপন করে সে কখনও সফল হয় না| কিন্তু য়ে ব্যক্তি তার অন্যায় স্বীকার করে তা থেকে বিরত হয় সেই ঈশ্বরের করুণা পায়|
14 য়ে ব্যক্তি প্রভুকে শ্রদ্ধা করে সে তার আশীর্বাদ পায়| কিন্তু য়ে ব্যক্তি প্রভুকে ভক্তি করবে না বলে জেদ ধরে থাকে তাকে সমস্যায় পড়তে হয়|
15 যখন এক জন দুষ্ট শাসক অসহায় লোকদের ওপর শাসন করে তখন সে হয়ে ওঠে একটি হিংস্র ভালুক বা একটি সিংহের মত য়ে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত|
16 য়ে শাসক জ্ঞানী নয় তিনি তাঁর অধীনস্থ মানুষদের আঘাত করবেন| কিন্তু য়ে শাসক সত্‌ এবং ঠকানোকে ঘৃণা করেন তিনি দীর্ঘদিন রাজত্ব করবেন.
17 য়ে ব্যক্তি খুনের দাযে অপরাধী সে কখনও শান্তি পাবে না| তাকে কখনও সমর্থন করো না|
18 যদি এক জন মানুষ সঠিক পথে থাকে তবে সে নিরাপদে থাকবে| কিন্তু য়ে মন্দ হবে সে তার ক্ষমতা হারাবে|
19 য়ে মানুষ কঠোর পরিশ্রম করে সে প্রচুর খেতে পাবে| কিন্তু য়ে ব্যক্তি সময় নষ্ট করে সে সর্বদা দরিদ্রই থেকে যাবে|
20 য়ে ব্যক্তি ঈশ্বরকে অনুসরণ করে ঈশ্বর তাকে আশীর্বাদ করবেন| কিন্তু য়ে শুধুই ঐশ্বর্য়ের পিছনে ছোটে তাকে শাস্তি পেতে হয়|
21 এক জন বিচারকের ন্যায়পরাযণ হওয়া উচিত্‌| তাঁর কখনও পক্ষপাতিত্ব দেখানো উচিত্‌ নয়| কিন্তু কিছু বিচারক অল্প টাকার জন্য তাঁদের বিচার পাল্টে ফেলেন|
22 একজন স্বার্থপর মানুষ শুধুই ধনলাভ করতে চায়| সে বুঝতে পারে না য়ে তার লোভ তাকে দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর করে ফেলবে|
23 তুমি যদি কাউকে তার ভুল ধরিয়ে দিয়ে সাহায্য কর তাহলে সে তোমার ওপর খুশী হবে| মিথ্যে স্তোক বাক্য বলার চেয়ে এটা করা বরং শ্রেয়|
24 কিছু মানুষ তাদের পিতামাতার কাছ থেকে চুরি করে| তারা নিজেদের এই বলে প্রতিরক্ষা করে: “এটা অন্যায় নয়|” কিন্তু এরা সবচেয়ে বেশী হিংসাত্মক অপরাধীর মতই খারাপ লোক|
25 একজন স্বার্থপর মানুষ সমস্যার সৃষ্টি করে| কিন্তু য়ে প্রভুর ওপর বিশ্বাস রাখে সে পুরস্কৃত হয়|
26 য়ে মানুষ নিজের ওপর বিশ্বাস রাখে সে মূর্খ| কিন্তু যদি কোন মানুষ জ্ঞানী হয়, তবে সে বিপর্য়য থেকে রক্ষা পেয়ে যাবে|
27 যদি কোন ব্যক্তি দরিদ্রদের দান করে তবে তার যা প্রয়োজন তাই সে পাবে| কিন্তু য়ে দরিদ্রদের সাহায্য করতে অস্বীকার করবে সে নানা সমস্যায় পড়বে|
28 যদি এক জন মন্দ লোককে শাসক হিসেবে নির্বাচন করা হয় তাহলে সবাই লুকিয়ে পড়ে| কিন্তু সেই মন্দ লোক পরাজিত হলে আবার ভাল লোকের কর্ত্তৃত্ব ফিরে আসে|




অধ্যায় 29

1 য়ে ব্যক্তি প্রায়ই তিরস্কৃত হয় কিন্তু জেদ ধরে থাকে তাকে হঠাত্‌ বিপর্য়যের সম্মুখীন হতে হয় এবং সে তার থেকে রক্ষা পাবে না|
2 যখন শাসক ভালো হয় তখন সবাই সুখে থাকে| কিন্তু মন্দ লোক কর্ত্তৃত্ব করলেই সকলে অভিযোগ জানায়|
3 য়ে ব্যক্তি জ্ঞানলাভে আগ্রহী সে তার পিতার সুখের কারণ হয়| কিন্তু য়ে ব্যক্তি বেশ্যালযে গিয়ে অর্থ ব্যয় করে সে অচিরেই তার ঐশ্বর্য় হারাবে|
4 যদি রাজা ন্যায়পরাযণ হন তবে সে দেশ শক্তিশালী হয়ে উঠবে| কিন্তু রাজা যদি জোর করে খুব ভারী কর প্রজার ওপর চাপান, তাহলে সেই দেশ দুর্বল হয়ে পড়বে|
5 য়ে মানুষ অন্য লোকদের তোষামোদ করে নিজের কার্য়্য় সিদ্ধ করতে চায় সে নিজের ফাঁদ নিজেই পাতে|
6 মন্দ লোকরা তাদের নিজেদের কুকর্মের ফাঁদে পড়ে| কিন্তু একজন ভাল মানুষ মনের সুখে গান গাইতে পারে|
7 ভালো লোক দরিদ্র মানুষের জন্য ভালো কিছু করতে চায়, কিন্তু মন্দ লোক তাদের নিয়ে মাথাই ঘামায় না|
8 উদ্ধত লোকরা একটি শহরে আগুন ধরিয়ে দিতে পারে, কিন্তু জ্ঞানী লোকরা জ্বলন্ত ক্রোধকে নির্বাপিত করে|
9 যদি এক জন জ্ঞানী একজন মূর্খের সঙ্গে আলোচনা করে কোন সমস্যা মেটাতে চায় তাহলে সেই মূর্খ বোকার মতো তর্ক করতে থাকবে এবং তারা কখনোই এক মত হতে পারবে না|
10 খুনীরা সর্বদাই সত্‌ লোকদের ঘৃণা করে| মন্দ লোকরা সর্বদা ভাল লোকদের মেরে ফেলতে চেষ্টা করে|
11 এক জন বোকা লোক সহজেই রেগে যায় কিন্তু জ্ঞানী মানুষ ধৈর্য়্য় ধরে নিজেকে সামলে রাখে|
12 এক জন শাসক যদি মিথ্যাকে প্রশ্রয দেয় তবে তার কর্মচারীরা দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে উঠবে|
13 একদিক থেকে দেখলে একজন দরিদ্র ব্যক্তি, আর এক জন য়ে দরিদ্রদের কাছ থেকে চুরি করে, তারা একই; তারা দুজনেই প্রভুর দৃষ্টি|
14 য়ে রাজা দরিদ্রদের প্রতি ন্যায়পরাযণ সে দীর্ঘকাল রাজত্ব করবে|
15 শাস্তি ও অনুশাসন দুইই শিশুদের পক্ষে ভাল| যদি কোন শিশুর অভিভাবক তাকে যা খুশী তাই করতে দেয় তবে সে তার মায়ের লজ্জার কারণ হয়|
16 যদি মন্দ লোকরা কর্ত্তৃত্ব করে তাহলে চতুর্দিকে পাপ কাজ হবে| কিন্তু শেষ পর্য়ন্ত ভালো মানুষদের জয় হবেই|
17 তোমার পুত্র অন্যায় করলে তাকে শাস্তি দিও| তাহলে তাকে নিয়ে তুমি গর্ব করতে পারবে এবং সে তোমাকে কখনও লজ্জায় ফেলবে না|
18 য়ে দেশ ঈশ্বর দ্বারা পরিচালিত নয়, সেখানে কখনও শান্তি আসবে না| য়ে দেশ ঈশ্বরের বিধি মেনে চলে সেখানে সুখ বিরাজ করে|
19 তুমি শুধু কথা বলে তোমার ভৃত্যকে কিছু শেখাতে পারবে না| সে তোমাকে বুঝলেও অবজ্ঞা করতে পারে|
20 য়ে ব্যক্তি চিন্তা-ভাবনা না করে কথা বলে তার কোন আশা নেই| ঐ ব্যক্তির চেয়ে বরং এক জন মূর্খের কিছু আশা থাকে|
21 তুমি যদি সব সময় তোমার ভৃত্য যা চায় তাই দিয়ে দাও, সে শেষ পর্য়ন্ত এক জন ভালো ভৃত্য থাকবে না|
22 এক জন রাগী মানুষ সমস্যার সৃষ্টি করে| য়ে খুব সহজেই রেগে যায় সে নানা অপরাধে দাযী হয়|
23 যদি এক জন ব্যক্তি নিজেকে অন্যদের তুলনায় অনেক ভালো মনে করে তাহলে সে নিজের পতনের কারণ হয়| কিন্তু যদি কোন ব্যক্তি বিনযী হয় তাহলে লোকে তাকে শ্রদ্ধা করে|
24 দুজন চোর এক সঙ্গে কাজ করলেও একে অপরের শত্রু হয়| এক জন চোর আরেক জনকে শাসাবে যাতে যদি সে আদালতের চাপে সত্যি কথা বলতেও চায় তবুও ভয়েই বলতে পারে না|
25 ভয় হল ফাঁদের মতো| কিন্তু যদি তুমি প্রভুর ওপর বিশ্বাস রাখো তাহলে তুমি নিরাপদে থাকবে|
26 অনেক মানুষই রাজার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চায়| কিন্তু প্রভু সব সময় মানুষকে ন্যায্য বিচার দেন|
27 ভালো মানুষরা অসত্‌ মানুষকে ঘৃণা করে এবং মন্দ লোকরা সত্‌ মানুষদের ঘৃণা করে|




অধ্যায় 30

1 এগুলি হল ঈথীয়েল ও উকলের প্রতি যাকির পুত্র আগূরের হিতোপদেশ|
2 আমি এক জন বোকা লোক| আমি অন্যদের চেয়েও বেশী বোকা| আমার য়ে ভাবে বোঝা উচিত্‌ আমি সে ভাবে বুঝতে পারি না|
3 আমি জ্ঞান লাভ করি নি এবং আমি ঈশ্বর বিষয়েও কিছু জানি না|
4 কোন মানুষই কখনও স্বর্গের কাছ থেকে শেখে নি| কোন মানুষই কখনও হাত দিয়ে হাওযা ধরতে পারে নি| কেউই কখনও এক টুকরো কাপড় দিয়ে জল ধরে রাখতে পারে নি| কোন মানুষ পৃথিবীর সীমানা নির্ধারণ করে দেয় নি| যদি কোন ব্যক্তি এসব করে থাকে, তবে তার নাম কি? এবং তার পুত্রের নাম কি?
5 ঈশ্বর যা বলেন তা সত্য বলে প্রমাণিত হয়| যারা ঈশ্বরের কাছে যায় তারা নিরাপদে থাকে|
6 তাই ঈশ্বর যা বলেন তা পাল্টাবার চেষ্টা কোরো না| তুমি যদি তা কর তাহলে ঈশ্বর তোমাকে শাস্তি দেবেন এবং প্রমাণ করে দেবেন য়ে তুমি মিথ্যাবাদী|
7 প্রভু, তোমাকে আমি মৃত্যুর আগে আমার জন্য দুটি কাজ করতে বলব|
8 আমাকে মিথ্যা না বলতে সাহায্য কর| আর আমাকে খুব বেশী ধনী বা দরিদ্র কোরো না| আমাকে শুধু আমার নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো দিযো|
9 যদি আমার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিস থাকে তাহলে আমি ভাবব য়ে তোমাকে আমার প্রয়োজন নেই| কিন্তু আমি যদি দরিদ্র হই, তাহলে আমি হয়ত চুরি করতে পারি এবং তা ঈশ্বরের নামকে লজ্জিত করবে|
10 কখনও মনিবের কাছে তার ভৃত্যের দুর্নাম কোরো না| যদি তুমি তা কর, তাহলে মনিবটি তোমাকে অবিশ্বাস করবে এবং তোমাকেই দোষী সাব্যস্ত করবে|
11 কিছু মানুষ তাদের পিতার বিরুদ্ধে কথা বলে এবং মাকে সম্মান দেয় না|
12 কিছু মানুষ মনে করে তারা ভাল, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা মন্দ|
13 কিছু মানুষ নিজেদের অপরের তুলনায় অনেক ভাল মনে করে|
14 কিছু মানুষের দাঁত তরবারির মতো এবং তাদের চোযাল ছুরির মতো| এরা দরিদ্রদের থেকে চুরি করবার জন্য তাদের সময়ের সদ্ব্য়বহার করে|
15 কিছু মানুষ আছে যত পায় তত চায়| তারা কেবল, “আমাকে দাও, আমাকে দাও বলে চিত্কার করে| তিনটি জিনিস আছে বা প্রকৃত পক্ষে চারটি বস্তু আছে যাদের কখনও চাহিদা পূরণ হয় না:
16 এরা হল মৃত্যুর স্থান, বন্ধ্যা স্ত্রীলোক, বৃষ্টির অভাবে শুষ্ক জমি এবং উত্তপ্ত আগুন যা থামানো যায় না|
17 য়ে ব্যক্তি তার পিতাকে বিদ্রূপ করে বা তার মাকে মান্য করতে চায় না সে শাস্তি পাবে| তার চোখগুলি য়েগুলি ভর্ত্‌সনাপূর্ণ দৃষ্টিতে তার অভিভাবকদের দিকে দেখেছে সেগুলো উপড়ে নেওয়া হবে এবং শকুন ও দাঁড় কাকদের খাওয়ানো হবে|
18 তিনটি জিনিস আছে যা আমার পক্ষে বোঝা শক্ত; প্রকৃতপক্ষে চারটি জিনিস আছে যা আমার বোধগম্য হয় না:
19 য়েমন আকাশে বিচরণকারী ঈগলপাখী, পাথরের ওপর সাপের আঁকাবাঁকা গতিবিধি, সমুদ্রে পারাপার করা জাহাজ এবং পুরুষ ও নারীর প্রেম হল সেই চারটি বস্তু|
20 এক জন অবিশ্বাসী স্ত্রী এমন ভাব দেখায় য়েন সে কোন অন্যায় করে না| সে স্নান করে, খায় এবং বলে সে কোন ভুল কাজ করে নি|
21 তিনটি জিনিস আছে যার জন্য পৃথিবীতে সমস্যার সৃষ্টি হয় এবং প্রকৃতপক্ষে চারটি জিনিস আছে যা পৃথিবী সহ্য করতে পারে না,
22 এরা হল: এক জন ভৃত্যের রাজা হওয়া, এক জন মূর্খের কাছে তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিস থাকা,
23 স্ত্রীলোকের মন ঘৃণায পূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও তার এক জন স্বামী পাওয়া এবং একজন স্ত্রী ভৃত্যর তার মনিব ঠাকবুণের ওপর কর্তৃত্ব পাওয়া|
24 পৃথিবীতে চারটি এমন বস্তু আছে যা ক্ষুদ্র হলেও জ্ঞানী|
25 পিঁপড়েরা ক্ষুদ্র এবং দুর্বল কিন্তু তারা গ্রীষ্মকালে তাদের খাবার সংগ্রহ করে এবং সঞ্চয় করে রাখে|
26 এক জাতীয বেঁজি আছে যারা ক্ষুদ্র হলেও পাথরে ঘর বাঁধে|
27 পঙ্গপালদের কোন রাজাই নেই কিন্তু তবুও তারা একত্রে কাজ করে|
28 টিকটিকি এতই ছোট য়ে হাতের মুঠোয ধরা যায় কিন্তু তাদের রাজপ্রাসাদেও বাস করতে দেখা যায়|
29 হাঁটা অবস্থায় তিনটি জিনিস আকর্ষক| প্রকৃতপক্ষে, চারটি জিনিস|
30 সেগুলি হল: একটি সিংহ (পশুদের রাজ্যের যোদ্ধা, য়ে কোন কিছু থেকে দৌড়ে পালায না|)
31 গর্বিত ভাবে হেঁটে যাওয়া মোরগ; ছাগল এবং প্রজাদের মাঝখানে রাজা|
32 তুমি যদি বোকার মতো গর্বিত হয়ে ওঠো এবং অন্যদের বিরুদ্ধে কু-মতলব আঁটো, তোমাকে থামতে হবে এবং চিন্তা করতে হবে তুমি কি করছ|
33 যদি কোন ব্যক্তি দুধ মন্থন করে সে মাখন পায়| যদি সে অপরের নাকে আঘাত করে তা থেকে রক্তক্ষরণ হয়| ঠিক এভাবেই যদি তুমি একজন রাগী মানুষের সঙ্গে বিরোধ কর তাহলে তা লড়াইতে পরিণত হবে|




অধ্যায় 31

1 এগুলি হল লমূযেল রাজার হিতোপদেশ যা তাঁকে তাঁর মা শিখিযেছিলেন|
2 তুমি আমার প্রিয় পুত্র, যার জন্য আমি প্রার্থনা করেছিলাম|
3 স্ত্রীলোকের পিছনে শক্তিক্ষয় কোরো না কারণ তারা অনেক রাজার ধ্বংসের কারণ|
4 লমূয়েল, রাজাদের পক্ষে দ্রাক্ষারস পান করা বিজ্ঞজনোচিত নয়, শাসকের পক্ষে সুরা পান করা বিজ্ঞজনোচিত নয়|
5 তারা দ্রাক্ষারস পান করে সমস্ত আইন ভুলে গিয়ে দরিদ্রদের ওপর অত্যাচার করতে পারে তাদের অধিকার কেড়ে নিতে পারে|
6 যারা দরিদ্র, যারা সমস্যায় জর্জরিত তাদের দ্রাক্ষারস পান করতে দাও যাতে তারা তাদের দুঃখকষ্ট ভুলে য়েতে পারে|
7
8 য়ে ব্যক্তি নিজেকে সাহায্য করতে পারে না তাকে সাহায্য করা উচিত্‌| য়ে কথা বলতে পারে না এমন কারো হয়ে কথা বলো| দুর্বল লোকদের অধিকার রক্ষা কর|
9 যা তুমি সঠিক বলে মনে কর তার পক্ষ নিয়ে দাঁড়াও| সব মানুষের প্রতি ন্যায় বিচার কর| দরিদ্রদের এবং সাহায্য প্রার্থীদের অধিকার রক্ষা কর|
10 একজন যথার্থ স্ত্রীসত্যিই দুর্লভ| কিন্তু সে অলঙ্কারের চেয়েও মূল্যবান|
11 তার স্বামীর তার ওপর পূর্ণ আস্থা আছে| সে কখনও দরিদ্র হবে না|
12 এই ধরণের স্ত্রী তার স্বামীর কাছে সমস্ত জীবনের একটি পুরস্কার স্বরূপ, বোঝা নয়|
13 সে পশম ও মসীনা সংগ্রহ করে এবং খুশী মনে তার নিজের হাতে বিভিন্ন জিনিস বানায়|
14 দূর দেশ থেকে আসা এক জাহাজের মতো সে বাড়ির জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে|
15 সে প্রত্যেক দিন ভোরবেলা উঠে তার পরিবারের জন্য রান্না করে এবং ভৃত্যদের ভাগ তাদের দিয়ে দেয়|
16 সে একটি জমি পর্য়বেক্ষণ করে এবং তারপর সেটা ক্রয করে| সে তার অর্জিত অর্থ ব্যয় করে এবং দ্রাক্ষাক্ষেত বপন করে|
17 সে হয় কঠোর পরিশ্রমী এবং সমস্ত রকম কাজে সক্ষম|
18 সে যখনই তার নিজের তৈরী জিনিসের ব্যবসা করে তখনই লাভ করে|
19 সে সুতো কাটে এবং নিজের কাপড় বোনে|
20 সে সব সময় দরিদ্র ও সাহায্য প্রার্থীদের দান করে|
21 শীতে যখন বরফ পড়ে তখন সে পরিবারের জন্য দুশ্চিন্তা করে না| সে তাদের সবাইকে ভাল গরম কাপড় দেয়|
22 সে বিছানায় পাতার জন্য চাদর তৈরী করে এবং সে দামী মসলিনের বস্ত্র পরে|
23 তার স্বামী হয় দেশের নেতাদের একজন যাকে সকলেই শ্রদ্ধা করে|
24 তার ব্যবসায়িক দক্ষতা থাকে এবং সে বস্ত্র ও বন্ধনী তৈরী করে ব্যবসায়িকদের কাছে বিক্রি করে|
25 সে প্রশংসিত হয়এবং মানুষ তাকে সম্মান করে| সে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভবিষ্যতের মুখোমুখি হয়|
26 সে বিশাল জ্ঞান নিয়ে কথা বলে এবং মানুষকে স্নেহময ও দযালু হতে শেখায়|
27 সে কখনও আলস্য দেখায় না এবং তার গৃহের সমস্ত জিনিসের দেখাশোনা করে|
28 তার সন্তানরা তার প্রশংসা করে, তার স্বামী তাকে নিয়ে গর্ব করে বলে,
29 “আরো অনেক ভালো স্ত্রীলোক আছে, কিন্তু তুমি তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ|”
30 রূপলাবণ্য তোমাকে লোকদের সামনে ঠকাতে পারে| কিন্তু য়ে স্ত্রীলোক প্রভুকে শ্রদ্ধা করে তাকে অবশ্যই প্রশংসা করা উচিত্‌|
31 তাকে তার যোগ্য পুরস্কার দাও| তার কাজের জন্য সর্বসমক্ষে তার গুণগান কর|