উপদেশক

1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12


অধ্যায় 1

1 এগুলি হল, উপদেশকের কথা যিনি ছিলেন দায়ূদের পুত্র এবং জেরুশালেমের রাজা|
2 সবই এত অর্থহীন! তাই উপদেশকের মতে সবই অসার, সবই সময়ের অপচয!
3 মানুষ সূর্য়ের নীচে য়ে কঠিন পরিশ্রম করে সে কি তার কোন ফল পায়? না!
4 বংশপরম্পরা পর্য়ায়এমে আসে এবং যায়| কিন্তু পৃথিবী চিরন্তণ|
5 সূর্য় ওঠে আবার অস্ত যায়| তারপর দ্রুত ফিরে যায় সেই একই জায়গায় য়েখান থেকে আবার সূর্য় ওঠে|
6 বাতাস দক্ষিণে বয় এবং উত্তরেও বয়| বাতাস চারিদিক ঘুরে ঘুরে আবার তার নিজের জায়গায় ফিরে যায়|
7 সব নদী বার বার একই দিকে বয়ে চলে| সমস্ত নদীই সমুদ্রে গিয়ে মেশে কিন্তু সমুদ্র কখনও পূর্ণ হয় না|
8 সব কথাই ক্লান্তিকর| কিন্তু তবুও লোকে কথা বলে| আমরা সব সময়ই কথা শুনি কিন্তু তাতে আমরা সন্তুষ্ট হই না| আবার সব সময় আমরা য়ে সব জিনিস দেখি তাতেও আমাদের মন ভরে না|
9 সব জিনিসই সৃষ্টির সময় য়েমন ছিল সে রকমই থেকে যায়| যা আগে করা হয়েছে তাই আবার পরেও করা হবে| সূর্য়ের নীচে কোন কিছুই নতুন নয়|
10 এমন কোন কিছু নেই যাকে কোন ব্যক্তি নতুন বলতে পারে! য়ে জিনিসকে মানুষ নতুন বলবে তা আমাদের জন্মের আগে থেকেই বর্তমান|
11 যা অনেক আগে ঘটে গেছে সে ঘটনা লোকে মনে রাখে না| এখন যা ঘটছে ভবিষ্যতে তা লোকে ভুলে যাবে| পরবর্তী প্রজন্ম মনেও রাখবে না আগেকার লোক তাদের জন্য কি করে গেছে|
12 আমি উপদেশক, আমি ছিলাম জেরুশালেমের অন্তর্গত ইস্রায়েলের রাজা|
13 সূর্য়ের নীচে যা কিছু ঘটে তাকে আমি প্রজ্ঞা দ্বারা জানতে চেয়েছিলাম| আমি জানতে পেরেছিলাম য়ে ঈশ্বর লোকদের যা করতে দেন তা খুবই কঠিন ও কষ্টকর|
14 আমি দেখেছিলাম সূর্য়ের নীচে যা কিছু করা হয় তা সবই অসার, সময়ের অপচয় মাত্র| এ য়েন অনেকটা হাওয়ার পেছনে ছোটা|
15 যা কিছু বাঁকা তাকে পালেট সোজা করা সম্ভব নয়| যা নেই তাকে সরবরাহ করা যায় না|
16 আমি নিজেকে বলেছিলাম, “জেরুশালেমে আমার পূর্বে য়েসব ব্যক্তি ছিলেন, তাঁদের সকলের চেয়েও আমি বেশী প্রজ্ঞাবিশিষ্ট হয়েছি| আমি সত্যিই জানি প্রজ্ঞা ও জ্ঞানের অর্থ কি!”
17 আমি জানতে চেয়েছিলাম জ্ঞান ও বিদ্যা কি ভাবে অজ্ঞানতার চেয়ে ভালো| কিন্তু আমি জেনেছিলাম য়ে জ্ঞানলাভের চেষ্টা করা মানে শুধুই হাওযার পিছনে ছোটা|
18 জ্ঞানের সঙ্গে আসে হতাশা| য়ে মানুষ যত বেশী জ্ঞান লাভ করে সে তত বেশী দুঃখ পায়|




অধ্যায় 2

1 আমি নিজেকে বলেছিলাম, “আমি যতটা সম্ভব সব কিছুকে উপভোগ করব|” কিন্তু আমি জানতে পেরেছিলাম য়ে এসবই অসার|
2 হাসি জিনিষটা বোকামি; আনন্দ কোন উদ্দেশ্য সিদ্ধ করে না|
3 তাই আমি ঠিক করেছিলাম দ্রাক্ষারস পান করে শরীরকে ও জ্ঞানলাভ করে মনকে ভাল রাখব| আমি এরকম বোকামি করেছিলাম কারণ আমি সুখের সন্ধান পেতে চেয়েছিলাম| আমি বুঝতে চেয়েছিলাম এই অল্প দিনের জীবনে মানুষের কি করা উচিত্‌|
4 তারপর আমি নানা মহত্‌ কাজ করতে শুরু করেছিলাম| আমি নিজের জন্য নানা জায়গায় বাড়ি তৈরী করেছিলাম| দ্রাক্ষার ক্ষেত তৈরী করেছিলাম|
5 আমি বাগান করেছিলাম| উপবন করেছিলাম, আমি সব রকম ফলের গাছ লাগিয়েছিলাম|
6 আমি নিজের জন্য পুকুর কাটিযে ছিলাম| আমি সেই পুকুরের জল আমার বাগানের গাছে দেওয়ার জন্য ব্যবহার করতাম|
7 আমি পুরুষ ও স্ত্রী এীতদাস কিনেছিলাম এবং আমি যখন তাদের মালিকানা পেলাম তখন তাদের ছেলেমেযে ছিল| আমার অনেক ঐশ্বর্য় ছিল| আমার অনেক গরু ও মেষের পাল ছিল| আমি এত ধনী ছিলাম য়ে সে রকম ধনী জেরুশালেমে কেউ ইতিপূর্বে ছিল না|
8 আমি আমার নিজের জন্য সোনা ও রূপা সংগ্রহ করেছিলাম| আমি বিভিন্ন দেশের রাজাদের কাছ থেকে ধন সংগ্রহ করেছিলাম| আমাকে খুশী করার জন্য অনেক গায়ক ও গাযিকা ছিল| আমার কাছে সবই ছিল যা সকলের কাছে রয়োজনীয়| আমার কাছে সমস্ত রকমের বাদ্যযন্ত্র ছিল|
9 আমি বিরাট ঐশ্বর্য়্য় ও খ্যাতি লাভ করেছিলাম| জেরুশালেমে আমার আগে য়ে সমস্ত লোক ছিল আমি ছিলাম তাদের সবার চেয়ে মহত্‌| আমার জ্ঞান ছিল সব সময় আমার সহায়|
10 আমার চোখে যা ভাল লাগত এবং আমাকে যা খুশী করত, আমি তা সবই পেতাম| আমি কঠিন পরিশ্রম করে যা কিছু করেছিলাম তা নিয়ে আনন্দিত ছিলাম এবং আমার এই সব জিনিস প্রাপ্য ছিল, কারণ আমি এর জন্য কাজ করেছিলাম|
11 কিন্তু আমি যখন আমার সমস্ত কাজের কথা, পরিশ্রমের কথা চিন্তা করলাম তখন দেখলাম সবই সময়ের অপচয! এসবই ছিল হাওযার পিছনে ছোটা| সূর্য়ের নীচে আমরা যা করি তাতে কোন লাভ নেই|
12 এক জন পুরাতন রাজা ইতিমধ্যেই যা করেছে, এক জন নতুন রাজা তার চেয়ে বেশী কিছু করতে পারে না| তাই আমি আমার বিজ্ঞতার, ভুলভ্রান্তির ও পাগলামির কথা আবার ভাবতে শুরু করলাম|
13 অন্ধকারের থেকে আলো য়েমন ভালো জ্ঞানও ঠিক তেমনি অজ্ঞানতার চেয়ে ভালো|
14 এক জন জ্ঞানী মানুষ তার পথ দেখবার জন্য তার চোখ ব্যবহার করে| কিন্তু য়ে মূর্খ সে শুধুই অন্ধকারে ঘুরে বেড়ায়|কিন্তু আমি লক্ষ্য করলাম য়ে এক জন জ্ঞানী ও মূর্খ উভয়ের পরিসমাপ্তি একই| অবশেষে তারা উভয়েই মারা যায়|
15 আমি নিজে ভেবেছিলাম, “এক জন মূর্খের য়ে পরিণতি হয় আমারও তাই হবে| তবে আমি কেন জ্ঞান লাভের জন্য এত কঠিন পরিশ্রম করব?” আমি নিজেকে বললাম, “জ্ঞানী হওয়াও অর্থহীন|”
16 জ্ঞানী ও মূর্খ উভয়েরই পরিণতি মৃত্যু এবং মানুষ জ্ঞানী বা মূর্খ কাউকেই চিরকাল মনে রাখবে না| তারা যা কিছু করেছিল ভবিষ্যতে তা মানুষ ভুলে যাবে| তাই জ্ঞানী ও মূর্খ প্রকৃত অর্থে একই|
17 এতে আমার জীবনের প্রতি ঘৃণা এসে গেল| আমার মনে হল য়ে পৃথিবীতে আমার কাছে যা কিছু আছে তা সবই অর্থহীন| সবই হাওযাকে ধরবার চেষ্টা করবার মত|
18 সূর্য়ের নীচে আমার সমস্ত কঠিন পরিশ্রমের কাজে আমার ঘৃণা জন্মেছিল| যার জন্য আমি কঠিন পরিশ্রম করে গিয়েছি তা আমার পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রেখে যাব| আমার কঠিন পরিশ্রমের ফল আমি আমার সঙ্গে রাখতে পারব না|
19 আমি যা কিছু শিখেছি এবং যা কিছু কাজ করেছি তা অন্য কোন লোক নিয়ন্ত্রণ করবে| এমনকি আমি এটাও জানতে পারব না য়ে সে জ্ঞানী হবে কি মূর্খ| এটাও অসার|
20 আমি সূর্য়ের নীচে যা কিছু কাজ করেছি তার জন্য আমি দুঃখিত|
21 এক জন ব্যক্তি তার সমস্ত প্রজ্ঞা, জ্ঞান ও পারদর্শীতা দিয়ে কঠিন পরিশ্রম করতে পারে| কিন্তু তার পরিশ্রমের ফল তার মৃত্যুর পর অন্য লোক ভোগ করবে| সেই লোকরা বিনা আয়াসে সব কিছু পেয়ে যাবে| এটাও অসার এবং এ একটা ভীষণ পাপ|
22 এক জন ব্যক্তি সূর্য়ের নীচে তার জীবনভর সংগ্রামের পর কতটুকু পায়?
23 সে সারা জীবন পায় শুধু যন্ত্রণা, হতাশা আর কঠিন পরিশ্রম| এমনকি রাতেও সে বিশ্রাম পায় না| এটাও অসার|
24 আমার থেকে বেশী আর কে জীবনকে উপভোগ করার চেষ্টা করেছে? এবং সব শেষে আমি এই শিক্ষাই পেয়েছিলাম| মানুষের পক্ষে সব চেয়ে ভালো কাজ হল খাওয়া-দাওয়া করা ও তার কাজকে উপভোগ করা| আমি দেখেছিলাম ঈশ্বরকে বাদ দিয়ে জীবন উপভোগ করা সম্ভব নয়|
25
26 এক জন মানুষ যদি ভাল কাজ করে ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করতে পারে, তাহলে ঈশ্বর তাকে জ্ঞান, বিদ্যা ও আনন্দ দেন| কিন্তু য়ে পাপী সে শুধুই সংগ্রহ আর বহনের কাজ পাবে| মন্দ লোকের কাছ থেকে নিয়ে ঈশ্বর ভালো লোককে পুরস্কার দেন| কিন্তু সমস্ত কাজই অর্থহীন| সবই হাওযার পিছনে ছোটা|




অধ্যায় 3

1 সব কিছুরই একটা নির্দিষ্ট সময় আছে| এবং সূর্য়ের নীচে একটা নির্দিষ্ট সময় সব কিছুই ঘটবে|
2 জন্মেরও য়েমন একটি সময় আছে, মৃত্যুরও তেমনি সময় আছে| রোপণের সময় আছে এবং তুলে ফেলারও সময় আছে|
3 হত্যার এবং সারিয়ে তোলার একটা নির্দিষ্ট সময় আছে| ধ্বংসেরও য়েমন নির্দিষ্ট সময় আছে তেমনি তৈরী করারও নির্দিষ্ট সময় আছে|
4 কান্নারও সময় আছে, হাসারও সময় আছে| দুঃখ পাবার য়েমন সময় আছে, তেমনি আনন্দে নাচ করারও সময় আছে|
5 অস্ত্র নামিযে রাখার, আবার তা তুলে নেবারও নির্দিষ্ট সময় আছে|কাউকে আলিঙ্গন করার য়েমন সময় আছে আবার আলিঙ্গন না করে তাকে এড়িয়ে যাবারও সময় আছে|
6 কাউকে খোঁজার য়েমন সময় আছে আবার তা ফেলে দেবারও সময় আছে| কাউকে রেখে দেওয়া বা কাউকে ছুঁড়ে দেওয়ারও নির্দিষ্ট সময় আছে|
7 জামা কাপড় ছিঁড়ে ফেলার য়েমন সময় আছে তেমনি তা সেলাই করারও সময় আছে| নীরব থাকারও য়েমন সময় আছে তেমনি সরব হওয়ারও সময় আছে|
8 ভালোবাসা এবং ঘৃণা করারও সময় আছে| যুদ্ধেরও একটি নির্দিষ্ট সময় আছে আবার শান্তি রক্ষা করারও সঠিক সময় আছে|
9 এক জন মানুষ কি তার কঠোর পরিশ্রমের কোন মূল্য পায় না? না!
10 আমি দেখেছি ঈশ্বর আমাদের সমস্ত কঠিন পরিশ্রমের কাজ করতে দেন|
11 ঈশ্বর আমাদের তাঁর পৃথিবী নিয়ে চিন্তা ভাবনা করার ক্ষমতা দিয়েছেন| কিন্তু আমরা ঈশ্বরের কাজের গতি প্রকৃতি সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত হতে পারি না এবং এখন ঈশ্বর সব কিছু সঠিক সময়ই করেন|
12 আমি জানি য়ে মানুষ সারা জীবন সুখে ও আনন্দে বেঁচে থাকতে পারবে- এটাই সর্বমহত্‌ কাজ|
13 ঈশ্বর চান প্রত্যেকে পানীয়, খাদ্য এবং তাদের কাজের মধ্যে আনন্দ খুঁজে পাক| এই হল ঈশ্বরের উপহার|
14 আমি জানি ঈশ্বর যা করেন তা চিরস্থায়ী হয়| মানুষ ঈশ্বরের কর্মকাণ্ডকে বাড়াতেও পারে না এবং কমাতেও পারে না| আর ঈশ্বর তা করেছেন কারণ যাতে মানুষ তাঁকে সম্মান জানায|
15 অতীতে য়ে ঘটনাগুলি ঘটেছিল সেগুলিকে আমরা বদলাতে পারব না| ভবিষ্যতে যা ঘটার তা ঘটবে এবং আমরা তাকেও বদলাতে পারব না| কিন্তু ঈশ্বর দেখেন কি সাফল্যমণ্ডিত হয়েছে|
16 আমি সূর্য়ের নীচে এই ঘটনাগুলির সাক্ষী| আদালতে সাধুতা ও নিষ্কলঙ্ক থাকা উচিত্‌| কিন্তু আমি সেখানেও দুষ্টতা দেখেছি|
17 তাই আমি নিজেকে বলেছিলাম, “সব কিছুর পেছনেই ঈশ্বরের একটি সময়ানুযায়ী পরিকল্পনা আছে এবং ঈশ্বর নির্দিষ্ট সময়েই মানুষের কাজের বিচার করবেন| ঈশ্বর ভাল এবং খারাপ মানুষদের বিচার করবেন|”
18 মানুষ একে অন্যের সঙ্গে যা যা করে সেই বিষয়ে আমি ভেবেছিলাম এবং আমি নিজেকে বলেছিলাম, “ঈশ্বর মানুষকে পশুর মতোই দেখতে চান|”
19 মানুষ কি পশুদের চেয়ে শ্রেয়? না! কেন? কারণ সব কিছুই অর্থহীন| পশু এবং মানুষদের ক্ষেত্রে একই ব্যাপার ঘটে- উভয়েরই মৃত্যু আসে| মানুষ এবং পশুরা একই “নিঃশ্বাস” নেয়| একটি মৃত মানুষ ও মৃত পশুর মধ্যে কি কোনও পার্থক্য আছে?
20 মানুষ এবং পশুদের দেহ একই ভাবে বিলীন হয়| তারা মাটি থেকেই আসে এবং মাটিতেই ফিরে যায়|
21 কে জানে মানুষের আত্মার কি হয়? কে বলতে পারে পশুর কোন আত্মা যখন মাটির নীচে প্রবেশ করছে তখন হয়তো কোন মানুষের আত্মা ঈশ্বরের কাছে যাচ্ছে?
22 তাই আমি দেখে ছিলাম সব থেকে ভাল উপায় হল এক জন মানুষ তার যা আছে এবং সে যা করেছে তাই নিয়ে আনন্দে মেতে থাকা| এবং এক জন মানুষের তার ভবিষ্যত্‌ নিয়ে চিন্তিত হওয়া উচিত্‌ নয়| কেন? কারণ কেউ সেই ব্যক্তিকে তার ভবিষ্যতে কি ঘটবে তা দর্শন করাতে পারবে না|




অধ্যায় 4

1 আমি দেখেছিলাম সূর্য়ের নীচে কি ভাবে লোকের ওপর উত্পীড়ন করা হয়ে থাকে| আমি তাদের কান্না শুনেছিলাম| আমি এও দেখেছিলাম য়ে তাদের এই দুর্দশায় সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কেউই নেই| আমি দেখে ছিলাম কিভাবে নিষ্ঠুর লোকরা সমস্ত ক্ষমতার অধিকারী হয়ে বসে আছে| তারা যাদের আঘাত করছে তাদের সাহায্যের জন্য কেউ পাশে নেই|
2 আমি ভেবে দেখলাম য়ে যারা বেঁচে আছে তাদের চেয়ে মৃত মানুষদের অবস্থা অনেক ভাল|
3 য়ে সমস্ত লোকরা জন্মের অব্যবহিত পরে মারা গেছে অথবা যারা এখনও জন্মায় নি, তাদের মধ্যে কোন একদল ভালো অবস্থায় আছে! কেন? কেননা এই সূর্য়ের নীচে য়ে সমস্ত মন্দ কাজ হয়ে থাকে তারা তা কখনই দেখেনি|
4 তারপর আমি ভেবেছিলাম, “লোকে কেন এত কঠিন পরিশ্রম করে?” আমি লক্ষ্য করেছিলাম য়ে লোকে সব সময় সফল হতে ও অন্য লোকদের থেকে ভালো হতে চেষ্টা করে| কেন? কারণ তারা ঈর্ষাপরায়ণ| তারা চায় না তার চেয়ে বেশী অন্য লোকে কিছু ভোগ করুক| এসবই অসার, হাওযার পেছনে ছোটা মাত্র|
5 কিছু লোক বলে, “হাত গুটিয়ে কিছু না করে বসে থাকাটা বোকামো| কাজ না করলে না খেতে পেয়ে মরতে হবে|”
6 এটা হয়তো সত্যি| কিন্তু সব সময় বেশী জিনিস পাওয়ার জন্য হাওয়ার পেছনে ছোটার থেকে অল্পে সন্তুষ্ট থাকা ভাল|
7 আমি সূর্য়ের নীচে আরো কিছু অর্থহীন জিনিস দেখলাম|
8 এক জন ব্যক্তির পরিবার না থাকতে পারে| তার ভাই বা সন্তান না থাকতে পারে| কিন্তু তবুও সে কঠিন পরিশ্রম করে যাবে| তার যা আছে তা নিয়ে সে কখনও সন্তুষ্ট থাকবে না| কেন তবে আমি আমার জীবন উপভোগ না করে কঠিন পরিশ্রম করব? এটাও খুব খারাপ ও অর্থহীন|
9 এক জনের চেয়ে দুজন লোক ভাল| দুজন লোক এক সঙ্গে কাজ করলে তার ফল ভাল হয়|
10 যদি কোন ব্যক্তি পড়ে যায়, অপর ব্যক্তি তাকে উঠতে সাহায্য করে| কিন্তু য়ে একা কাজ করে, সে যদি পড়ে তবে তাকে উঠতে সাহায্য করার মতো কেউই থাকে না|
11 যদি দুজন লোক এক সঙ্গে ঘুমোয় তারা উত্তাপ পাবে| কিন্তু য়ে একা শোয সে উত্তাপ থেকে বঞ্চিত হবে|
12 য়ে একা তাকে সহজেই শএুরা হারিয়ে দেবে কিন্তু দুজন লোক এক সঙ্গে থাকলে তাদের হারানো সম্ভব নয়| তিন জন মানুষ একত্র হলে তাদের শক্তি আরো বেশী হবে| তারা হল এক সঙ্গে জড়ানো দড়ির তিনটি অংশের মতো| তাদের শক্তিকে ভাঙ্গা খুবই কঠিন|
13 এক জন দরিদ্র তরুণ নেতা যদি জ্ঞানী হয় তবে সে এক জন বৃদ্ধ বোকা রাজা অপেক্ষা শ্রেয়| সেই বৃদ্ধ রাজা সতর্কবাণীতে কান দেন না|
14 সেই তরুণ শাসক রাজ্যের এক জন গরীব নাগরিক হয়ে জন্মাতে পারেন| তিনি দেশের শাসন ভার নিতে কারাগার থেকে উঠে আসতে পারেন|
15 কিন্তু এ জীবনে আমি মানুষকে দেখে জেনেছি য়ে মানুষ সেই তরুণ নেতাকে অনুসরণ করবে| সেই হবে নতুন রাজা|
16 অনেক মানুষ এই তরুণকে অনুসরণ করবে| কিন্তু পরে এরাই আবার তাঁকে সহ্য করতে পারবে না| এটাও অর্থহীন, হাওযার পিছনে ছোটা|




অধ্যায় 5

1 যখন ঈশ্বরের উপাসনা করবে তখন সতর্ক থাকবে| ঈশ্বরকে বোকার মত নৈবেদ্য দেওয়ার থেকে তার কথা শোনা অনেক ভালো| য়ে মূর্খ সে নিজের অজ্ঞাতেই অন্যায় কাজ করে ফেলে|
2 ঈশ্বরকে প্রতিশ্রুতি দিলে সে সম্বন্ধে সতর্ক থেকো| ঈশ্বরকে কিছু বললে সাবধানে বলো| আবেগ চালিত হয়ে হঠাত্‌ কোন কথা দিয়ে ফেলো না| ঈশ্বর বাস করেন স্বর্গে আর তুমি পৃথিবীতে| তাই ঈশ্বরকে তোমার সামান্য কিছু কথাই বলা উচিত্‌| এই প্রবাদটি সত্য য়ে:
3 দুঃস্বপ্ন য়েমন অনেক দুঃশ্চিন্তা সঙ্গে নিয়ে আসে, মূর্খ তেমনই একরাশ শব্দ নিয়ে আসে|
4 তুমি ঈশ্বরকে কোন প্রতিশ্রুতি দিলে তা অবশ্যই রক্ষা করবে| তোমার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে দেরী কোরো না| ঈশ্বর মূর্খদের প্রতি প্রসন্ন নন| তুমি ঈশ্বরকে যা দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছ তা দাও|
5 প্রতিশ্রুতি দিয়ে পালন না করতে পারার থেকে প্রতিশ্রুতি না দেওয়া ভাল|
6 তাই তোমার কথা য়েন তোমার পাপের কারণ না হয়| যাজককে এটা বলো না, “আমি যা বলেছি তার অর্থ এই নয়!” তুমি যদি এরকম কর তাহলে ঈশ্বর রুদ্ধ হয়ে তুমি যার জন্য কাজ করেছ তা ধ্বংস করে ফেলবেন|
7 তোমার অর্থহীন স্বপ্ন ও অহঙ্কার য়েন তোমার বিপদ না ডেকে আনে| তুমি অবশ্যই ঈশ্বরকে শ্রদ্ধা করবে|
8 কিছু দেশে দেখা যায় য়ে দরিদ্র মানুষ বাধ্য হয়ে কঠিন পরিশ্রম করছে| এটা দরিদ্র মানুষদের প্রতি সুবিচার নয়| এটা তাদের স্বার্থবিরোধী| কিন্তু বিস্মিত হয়ো না| য়ে শাসক এই মানুষদের ওপর জোর খাটাচ্ছে, তার ওপরে জোর খাটানোর জন্য রযেছে আরো এক জন শাসক|
9 রাজাও তার লাভের ভাগ পায়| দেশের ধনসম্পদ তাদের মধ্যে ভাগাভাগি হয়|
10 য়ে ব্যক্তি টাকা ভালোবাসে সে কখনও তার কাছে যা টাকা আছে তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে পারবে না| য়ে ঐশ্বর্য় ভালোবাসে সে যতই পাক না কেন সন্তুষ্ট হতে পারবে না| এসবই অর্থহীন|
11 য়ে ব্যক্তির যত সম্পদ আছে, সেই সম্পদ ব্যয়ের জন্য তত বন্ধুও আছে| তাই ধনী ব্যক্তির প্রকৃত অর্থে কোন লাভই হয় না| সে শুধুই তার সম্পদের দিকে তাকিয়ে থাকতে পারে|
12 য়ে ব্যক্তি সারাদিন কঠিন পরিশ্রম করে সে ঘরে ফিরে শান্তিতে ঘুমোয| সে সামান্য কিছু খেল বা না খেয়ে থাকল সেটা বিষয় নয়| কিন্তু য়ে ধনী ব্যক্তি সে সম্পদ রক্ষার দুশ্চিন্তায রাতে ভাল করে ঘুমোতে পারে না|
13 আমি সূর্য়ের নীচে এক দুঃখজনক ঘটনা লক্ষ্য করেছি| এক জন ব্যক্তি ভবিষ্যতের জন্য অর্থ সঞ্চয় করে| কিন্তু এর পরিণাম হয় সমস্যামূলক|
14 এরপর কোন এক অঘটনে সে সব কিছু হারায, এর ফলে সন্তানকে দেওয়ার মতো তার আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না|
15 এক জন মানুষ খালি হাতে মাতৃগর্ভ থেকে জন্ম নেয়| আর সে যখন মারা যায়, সে একই ভাবে রিক্ত অবস্থায় বিদায নেয়| সে ফল লাভের জন্য কঠিন পরিশ্রম করে কিন্তু মারা গেলে কোন কিছুই সঙ্গে নিয়ে য়েতে পারে না|
16 এটা দুঃখজনক য়ে এক জন মানুষ য়ে ভাবে পৃথিবীতে আসে সে ভাবেই সে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়| এভাবে হাওযার পেছনে ছুটে সে কি পায়?
17 সে কেবল মাত্র যন্ত্রণা এবং দুঃখ পায়| শেষ পর্য়ন্ত সে হয়ে পড়ে হতাশ, বিরক্ত ও ক্ষিপ্ত!
18 এক জন ব্যক্তির পক্ষে সব চেয়ে ভাল সূর্য়ের নীচে খাদ্য, পানীয় ও তার কাজের মধ্যে আনন্দ পাওয়া| ঈশ্বর তাকে জীবন দিয়েছেন এবং এটাই তার সর্বস্ব|
19 যদি ঈশ্বর এক জন ব্যক্তিকে ধনসম্পদ ও সেটা ভোগ করার ক্ষমতা দেন তবে তার তা অবশ্যই ভোগ করা উচিত্‌, কারণ তা হল ঈশ্বরের উপহার| সেই ব্যক্তি অবশ্যই তার প্রাপ্ত জিনিসগুলি স্বীকার করবে এবং তার কাজ উপভোগ করবে, এ হল ঈশ্বরের উপহার|
20 এক জন ব্যক্তি বেশী বছর বাঁচে না| তাই তাকে সারা জীবন এগুলি মনে রাখতে হবে| ঈশ্বর যা করতে চাইবেন তাই তিনি করবেন|




অধ্যায় 6

1 আমি সূর্য়ের নীচে আরো কিছু দেখেছি যা ন্যায্য নয়| এটা লোকদের পক্ষে খুবই খারাপ|
2 ঈশ্বর কাউকে প্রচুর ধনসম্পদ, মানসম্মান দেন| সেই ব্যক্তির যা প্রয়োজন বা চাহিদা হতে পারে সে সবই তার আছে| কিন্তু ঈশ্বর তাকে সে সব ভোগ করতে দেন না| কোন এক অপরিচিত এসে তার সমস্ত কিছু অধিকার করে নেয়| এটা খুবই খারাপ ও অর্থহীন|
3 এক জন ব্যক্তি দীর্ঘদিন বাঁচতে পারে| তার
10 0টি সন্তান থাকতে পারে| কিন্তু সে যদি এসব নিয়ে সন্তুষ্ট না থাকে ও তার মৃত্যুর পর যদি তাকে কেউ মনে না রাখে, তবে আমার মনে হয় য়ে শিশু জন্ম মাত্র মারা গিয়েছে সেও এই ব্যক্তির চেয়ে ভাল|
4 একটা মৃত শিশুর জন্ম প্রকৃতপক্ষে অর্থহীন| সেই শিশুটিকে কোন নাম দেওয়ার আগেই তাকে এক অন্ধকার কবরে সমাধিস্থ করা হয়|
5 সেই শিশুটি কখনও কিছুই জানতে পারে না| সে কখনও সূর্য়েরও মুখ দেখে না| কিন্তু সেই শিশুটিও অনেক বেশী বিশ্রাম পায় সেই ব্যক্তির চেয়ে য়ে ঈশ্বরের দেওয়া উপহার ভোগ করতে পারে না|
6 সেই ব্যক্তি 2,000 বছর বেঁচে থাকতে পারে| কিন্তু যদি সে জীবনকে উপভোগ করতে না পারে তবে য়ে শিশুটির জন্মমাত্র মৃত্যু হয়েছে সে আর এই ব্যক্তি কি একই স্থানে যাবে?
7 এক জন লোক কাজ করে চলে| কেন? নিজের অন্ন সংস্থানের জন্য| কিন্তু সে কখনই সন্তুষ্ট থাকে না|
8 এই বিষয়ে এক জন জ্ঞানী ও মূর্খের মধ্যে কোন তফাত্‌ নেই| এর চেয়ে এক জন গরীব মানুষ হওয়াও ভাল য়ে জানে কি ভাবে জীবনকে মেনে নিতে হয়|
9 লাভ করবার চেয়ে নিজের যা আছে তা নিয়ে খুশী থাকা ভাল| বেশী লাভের প্রত্যাশা করা হাওযার পিছনে ছোটার মতোই অর্থহীন|
10 যা ঘটেছে তা বহু পূর্বেই স্থির হয়ে ছিল| লোকরা কে বেশী শক্তিশালী এই নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিতর্কের কোন অর্থ হয় না|
11 দীর্ঘ বিতর্ক কোন কাজে লাগে না এবং এটা কি ভালো কাজ করে?
12 এক জন ব্যক্তির অযোগ্য জীবনের ব্যপ্তিতে তার পক্ষে সবচেয়ে ভালো কি তা কে জানে? তার জীবন এক ছায়ার মতো অতিবাহিত হয়| কেউ বলতে পারে না এই পৃথিবীতে পর মূহুর্ত্তে কি হবে|




অধ্যায় 7

1 ভাল সুগন্ধের চেয়ে সুনাম শ্রেয়| এক জন মানুষের য়ে দিন জন্ম হয় সেই দিনের থেকে তার মৃত্যুদিন ভাল|
2 উত্সবের গৃহে যাওয়ার চেয়ে শোকের গৃহে যাওয়া ভাল| কেন? কারণ শোকের গৃহে লোকরা সত্যিই জানবে য়ে সব মানুষই মরণশীল|
3 আনন্দের চেয়ে দুঃখ শ্রেয়| কেন? যখন আমরা দুঃখ পাই তখন আমাদের হৃদয় শুদ্ধ হয়|
4 য়ে জ্ঞানী সে মৃত্যুর কথাও ভাবে কিন্তু মূর্খ শুধুই আমোদ-প্রমোদের কথা চিন্তা করে|
5 এক জন মূর্খের দ্বারা প্রশংসিত হওয়ার চেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তির দ্বারা সমালোচিত হওয়াও শ্রেয়|
6 মূর্খের অট্টহাসি হল পাত্রের নীচে জ্বলন্ত কাঁটার মতো যা এতই তাড়াতাড়ি পুড়ে যায় য়ে পাত্রটি উত্তপ্ত পর্য়ন্ত হয় না| এটাও অসার|
7 এক জন জ্ঞানী যদি কারো কাছ থেকে যথেষ্ট অর্থ পায় তবে সে তার জ্ঞানও ভুলে যায়| অর্থ তার বোধশক্তি নষ্ট করে দেয়|
8 কোন কিছু নতুন করে আরম্ভ করবার চেয়ে তাকে শেষ করা ভাল| অধৈর্য়্য় ও অহঙ্কারী হওয়ার চেয়ে শান্ত ও ধৈর্য়্য়শীল হওয়া ভাল|
9 হঠাত্‌ রেগে ওঠা উচিত্‌ নয়| কারণ রাগ করা মূর্খামি|
10 একথা বলা উচিত্‌ নয়, “এখনকার থেকে আগের সময় কেন বেশী ভাল ছিল|” কারণ জ্ঞান আমাদের এই প্রশ্নের দিকে চালিত করে না|
11 সম্পত্তি থাকার চেয়ে জ্ঞান থাকা ভাল| যথেষ্ট সম্পদ ছাড়াও জ্ঞানী ব্যক্তিরা প্রকৃতপক্ষে বেশী লাভবান হন|
12 প্রজ্ঞা ও সম্পদ উভয়েই তোমাকে রক্ষা করতে পারে| কিন্তু য়ে জ্ঞান প্রজ্ঞার মাধ্যমে লাভ করা যায় তা তোমার জীবনকে দীর্ঘ করতে পারে!
13 ঈশ্বর যা করেছেন সে দিকে তাকিযে দেখ| যদি কোন কিছু তোমার ভুলও মনে হয় তবুও তুমি তা পালটাতে পারবে না!
14 জীবন সুন্দর, তাকে উপভোগ কর| কিন্তু জীবন যখন কষ্টকর হবে তখন মনে রেখো ঈশ্বর আমাদের সুসময় ও দুঃসময় দুইই দেন এবং কেউই জানে না ভবিষ্যতে কি হতে পারে|
15 আমার এই অযোগ্য জীবনে আমি অনেক কিছু দেখেছি এবং আমি আরো দেখেছি কি ভাবে দুষ্ট লোক দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে| অথচ ধার্মিক লোক অল্প বয়সে মারা যায়|
16 কেন আত্মহনন করবে? কখনও খুব ভালও হবে না বা খুব খারাপও হবে না| বেশী জ্ঞানী বা বেশী মূর্খ কোনটাই হবে না| কেন তুমি তোমার অন্তিম সময়ের আগে মারা যাবে?
17
18 তুমি এদিক ওদিক দুদিকে থাকার চেষ্টা কর| এমনকি ঈশ্বরের অনুসরণকারীরাও কিছু ভাল ও কিছু মন্দ কাজ করে থাকে|
19 প্রজ্ঞা মানুষকে শক্তি জোগায়| এক জন জ্ঞানী ব্যক্তি শহরের দশ জন শাসকের চেয়ে বেশী শক্তিশালী|
20 নিশ্চিত ভাবে, এই ভূমণ্ডলে এমন এক জনও ধার্মিক ব্যক্তি নেই য়ে কোন অন্যায় করে নি|
21 মানুষের সব কথায় কান দিও না| তুমি হয়তো শুনবে তোমার ভৃত্য তোমার নিন্দা করছে|
22 এবং তুমি জান য়ে তুমি নিজেও অনেক সময় অন্যদের বদনাম করেছ|
23 আমি আমার জ্ঞান দিয়ে এই সমস্ত কিছু ভেবে দেখেছি| আমি সত্যিকারের জ্ঞানলাভ করতে চেয়েছি| কিন্তু তা অসম্ভব|
24 আমি সমস্ত জিনিসের অস্তিত্বের ধরণ বুঝতে পারি না| এটা কারো পক্ষে বুঝে ওঠা খুবই কঠিন|
25 আমি অধ্যযণ করেছি ও অনেক চেষ্টা করেছি সত্যিকারের জ্ঞান খুঁজে পেতে| আমি সব কিছুর ভেতরকার ব্যাখ্যা খুঁজে পেতে চেয়েছি| আমি কি শিখলাম? আমি জানলাম অসত্‌ হওয়া বোকামো, মূর্খের মতো কাজ করা পাগলামো|
26 আমি আরো দেখেছিলাম য়ে কিছু নারী হল ভয়ঙ্কর এক ফাঁদের মতো, তাদের হৃদয় জালের মতো ও বাহু শিকলের মতো| এই রকম নারীর ফাঁদে পড়ার চেয়ে মৃত্যুও শ্রেয়| য়ে ঈশ্বরকে অনুসরণ করে সে এদের থেকে দূরে থাকবে| কিন্তু এক জন পাপী এদের হাতে ধরা পড়বে|
27 উপদেশক বলল, “আমি এই সমস্ত কিছু য়োগ করে দেখতে চেয়েছিলাম কোন উত্তর পাওয়া যায় কিনা| আমি এখনও উত্তরের অপেক্ষায রযেছি| আমি কেবল মাত্র একটি জিনিষ খুঁজে পেলাম| হাজার জনের মধ্যে এক জন ভাল মানুষ আছে| কিন্তু আমি এক জনও ভাল মহিলাকে খুঁজে পাই নি|
28
29 আমি আরো একটা জিনিস শিখেছিলাম: “ঈশ্বরই সব ভালো মানুষ তৈরী করেন| কিন্তু মানুষ খারাপ পথে চালিত হয়|”




অধ্যায় 8

1 কেউই এক জন জ্ঞানী ব্যক্তির মতো করে কোন জিনিসকে বুঝতে বা ব্যাখ্যা করতে পারবে না| তার জ্ঞানই তাকে সুখী করবে| একমাত্র জ্ঞানই দুঃখকে সুখে পরিণত করতে পারে|
2 আমি সর্বদা রাজার আদেশ মান্য করি| আমি এটা করি কারণ আমি ঈশ্বরের কাছে একটি প্রতিশ্রুতি করেছি|
3 রাজাকে তোমার পরামর্শ জানাতে ভয় পেযো না| এবং কখনও অন্যায়কে সমর্থন কোরো না| কিন্তু মনে রেখো য়ে রাজা তার ইচ্ছানুযাযী আদেশ দেন|
4 রাজার আদেশ দেওয়ার অধিকার আছে এবং কেউই তাকে বলে দিতে পারে না তার কি করা উচিত্‌|
5 য়ে ব্যক্তি রাজার আদেশ মেনে চলে সরকারের সঙ্গে তার কোন সমস্যা হবে না| এবং এক জন জ্ঞানী লোক জানে ঠিক কোন সময় এবং কি ভাবে রাজার কাছে য়েতে হবে|
6 এমনকি লোকের বিভিন্ন সমস্যা থাকা সত্ত্বেও প্রত্যেকটি কাজের একটা সঠিক সময় ও সঠিক পদ্ধতি আছে|
7 আর সে নিশ্চিত ভাবে জানে না কি হতে পারে| কেন? কারণ কেউই তাকে বলতে পারবে না ভবিষ্যতে কি হবে|
8 কোন মানুষেরই তার আত্মাকে ধরে রাখার ক্ষমতা নেই| কেউই মৃত্যুকে আটকাতে পারবে না| যুদ্ধের সময় কোন সৈন্যেরই যেখানে খুশী যাওয়ার স্বাধীনতা নেই| একই ভাবে যদি কোন ব্যক্তি অন্যায় করে তবে সেই অন্যায় তাকে মুক্তি দেয় না|
9 আমি প্রত্যেকটি জিনিষ পর্য়্য়বেক্ষণ করেছি আর ভেবেছি কেন সূর্য়ের নীচে এরকম হয়| আমি এও দেখেছি য়ে এক জন ব্যক্তি কি ভাবে আরেকজন ব্যক্তির ওপর আধিপত্যের জন্য ক্ষমতার পেছনে ছোটে| এটা তার পক্ষে খারাপ|
10 আমি দেখেছি কি ভাবে মন্দ লোকদের অন্ত্য়েষ্টি এযিা সম্পন্ন হয়| ঐসব মন্দ লোক য়থেচ্ছভাবে পবিত্র স্থানে য়েত এবং তারা শহরে প্রকৃতপক্ষে কি করেছিল তা লোকে ভুলে যায়|
11 কখনও কখনও মন্দ লোকরা তাদের খারাপ কাজের জন্য সঙ্গে সঙ্গে শাস্তি পায় না| এজন্য তারা আরো খারাপ কাজে নিজেদের লিপ্ত করে|
12 এক জন পাপী একশোটি খারাপ কাজ করতে পারে| সে দীর্ঘদিন বেঁচেও থাকতে পারে| কিন্তু আমি এও জানি য়ে ঈশ্বরকে মান্য করা ও শ্রদ্ধা করা অনেক ভাল|
13 মন্দ লোকরা ঈশ্বরকে শ্রদ্ধা করে না, তাই তারা কখনও ভাল কিছু পায় না| তারা দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে না| তাদের জীবন সেই ছায়ার মত হয় না যা সূর্য়াস্তের পর দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়|
14 আরো অনেক কিছু এই পৃথিবীতেই ঘটে থাকে যা অর্থহীন| কত সময়ে ভালো লোকের খারাপ হয় আবার খারাপ লোকের ভালো হয়| এর কোন মানে হয় না|
15 তাই আমি স্থির করেছিলাম য়ে জীবনকে উপভোগ করব| কেন? কারণ মানুষের পক্ষে সূর্য়ের নীচে প্রেয হল খাদ্য, পানীয় ও আনন্দের মধ্যে জীবন উপভোগ করা| যাতে তারা প্রতিদিন কাজ করে জীবনকে উপভোগ করতে পারে, যা ঈশ্বর তাদের সূর্য়ের নীচে দিয়েছেন|
16 আমি নিজেকে প্রজ্ঞাপূর্ণ করার দায়িত্ব নিলাম| লোকরা এই জীবনে যা করে থাকে তা আমি ভাল করে লক্ষ্য করেছিলাম| আমি দেখেছিলাম অনেক লোক ব্যস্ত| তারা দিন রাত কাজ করে এবং প্রায় ঘুমোয না বললেই চলে|
17 আমি আরো অনেক কিছু দেখে ছিলাম যা ঈশ্বর করেন| আমি এও দেখে ছিলাম সূর্য়ের নীচে ঈশ্বর যা করেন লোকরা তা অবশ্যই বোঝে| এক জন ব্যক্তি চেষ্টা করতে পারে কিন্তু সে সফল হবে না| এক জন জ্ঞানী ব্যক্তি বলতে পারেন য়ে তিনি ঈশ্বর যা করেন তা বোঝেন, কিন্তু আসলে তা সত্যি নয়|




অধ্যায় 9

1 আমি এ সব কিছু গভীর ভাবে চিন্তা করেছিলাম| আমি দেখে ছিলাম ধার্মিক ও জ্ঞানী লোকরা যা করেন বা তাদের যা হয় সে সবই ঈশ্বরই নিয়ন্ত্রণ করেন| লোকরা জানে না তাদের ঘৃণা করা হবে, না ভালোবাসা হবে| লোকরা এও জানে না ভবিষ্যতে কি হবে|
2 কিন্তু সবার ক্ষেত্রে একই জিনিস ঘটে| ভাল ও মন্দ উভয় ধরণের লোকরাই মারা যান| শুচি ও অশুচি দুধরণের লোকের কাছেই মৃত্যু আসে| যারা ঈশ্বরকে নৈবেদ্য দেয় না তাদের মতো যারা ঈশ্বরকে নৈবেদ্য দেয় তারাও মারা যায়| এক জন ভাল লোকও এক জন পাপীর মত মারা যায়| য়ে ব্যক্তি ঈশ্বরের কাছে বিশেষ প্রতিশ্রুতি দেয় সেও সেই ব্যক্তির মতো মারা যায়, য়ে ঈশ্বরের কাছে প্রতিশ্রুতি দিতে ভয় পায়|
3 সূর্য়ের নীচে যা কিছু খারাপ ঘটনা ঘটে প্রত্যেকের ক্ষেত্রে একই পরিণতি হয়| এটাও খুবই খারাপ য়ে লোকেরা সবসময় মন্দ ও মূর্খের মতো চিন্তা করবে এবং সেই চিন্তা তাকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাবে|
4 য়ে এখনও বেঁচে আছে সে য়েই হোক না কেন তার জন্য আশা আছে| এই প্রবাদটি সত্যি য়ে:জীবিত কুকুর মৃত সিংহের চেয়ে শ্রেয়|
5 জীবিত মানুষ জানে য়ে সে মারা যাবে| কিন্তু মৃত মানুষ কিছু জানে না| মৃত মানুষের আর কোন কিছু পাওয়ার নেই| মানুষ খুব তাড়াতাড়ি তাকে ভুলে যাবে|
6 এক জন ব্যক্তির মৃত্যুর পর ভালবাসা, ঘৃণা, ঈর্ষা কোন কিছু অবশিষ্ট থাকে না| এক জন মৃত ব্যক্তি সূর্য়ের নীচে যা কিছু হবে তাতে আর ভাগ নেবে না|
7 তুমি তোমার খাদ্য ও পানীয়কে উপভোগ কর| যদি তুমি এসব করো ঈশ্বর আনন্দিত হবেন|
8 তোমার পোশাক পরিচ্ছদ পরিষ্কার রাখো এবং মাথায় তেল ব্যবহার করো|
9 সূর্য়ের নীচে তোমার অযোগ্য জীবন যতদিন থাকে ততদিন তোমার স্ত্রী, যাকে তুমি ভালবাস তার সঙ্গে তুমি জীবন উপভোগ কর এবং তোমার কাছে যা কিছু আছে তা হল এই| তোমার জীবনে য়ে সব কাজ তোমায় করতে হবে তা উপভোগ করো|
10 তোমাকে য়ে কাজই দেওয়া হোক না কেন সব সময় সেটা উদ্যমসহ সম্পন্ন করার চেষ্টা করবে| মৃত্যুর পর আমরা সবাই একই জায়গায় যাব| সেখানে কোন কাজ, কোন চিন্তা, কোন জ্ঞান বা কোন প্রজ্ঞা থাকে না|
11 আমি পৃথিবীতে আরো কিছু জিনিস লক্ষ্য করলাম| য়ে জোরে দৌড়ায সে সবসময় প্রতিয়োগীতায জেতে না; একটি শক্তিশালী সৈন্যদল সব সময় যুদ্ধে জেতে না| জ্ঞানী ব্যক্তি সব সময় তার কষ্টোপার্জিত আহার পায় না, য়ে চালাক সে সব সময় সম্পদ পায় না| এক জন বিষ্ঠান ব্যক্তি সব সময় তার প্রাপ্য য়শ পায় না| এমন সময় আসে যখন প্রত্যেকের কাছে আশাতীত প্রতিকুলতা ঘটে|
12 এক জন মানুষ হল সেই জালে পড়া মাছের মত য়ে জানে না তা পরবর্তীকালে কি হবে, সেই ফাঁদে পড়া পাখির মতো য়ে তার ভবিষ্যত জানে না| কিন্তু আমি জানি এক জন মানুষ হঠাত্‌ই দুর্ভাগ্যের ফাঁদে পড়ে যায়|
13 যখনই আমি কোন মানুষকে প্রজ্ঞার মতো কাজ করতে দেখেছি তা আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে|
14 একটি ছোট শহরে খুব অল্প সংখ্যক লোক বাস করত| এক জন রাজা শহরটি জয় করতে এলেন এবং তার সেনাবাহিনী দিয়ে চারদিক থেকে ঘিরে ফেললেন এবং শহরের চারপাশে অবরোধ গঠন করলেন|
15 কিন্তু সেই শহরে এক জন জ্ঞানী মানুষ বাস করতেন যিনি দরিদ্র ছিলেন| কিন্তু তিনি তার জ্ঞান ব্যবহার করে সেই শহরকে রক্ষা করেন| সব কিছু শেষ হয়ে যাওয়ার পর মানুষ সেই দরিদ্র লোকটির কথা ভুলে যায়|
16 কিন্তু আমি এখনও বলব য়ে দৈহিক শক্তির চেয়ে জ্ঞান শ্রেয়| সেই লোকেরা দরিদ্র লোকটির জ্ঞানের কথা ভুলে যায়, তার কথা শুনতে ভুলে যায়| কিন্তু তবুও আমি জ্ঞানকে শ্রেয় বলে মনে করি|
17 এক জন জ্ঞানী ব্যক্তির শান্ত, সৌম্য কথা বলা মূর্খদের মধ্যে এক জন শাসকের গর্জনের চেয়ে ঢ়েব ভাল|
18 যুদ্ধে ব্যবহৃত তরবারি ও তীরের চেয়ে জ্ঞান শ্রেয়| কিন্তু এক জন পাপী ভাল জিনিসকে নষ্ট করে ফেলতে পারে|




অধ্যায় 10

1 দু-একটি মরা মাছিও সব থেকে ভাল সুগন্ধকে দুর্গন্ধে পরিণত করতে পারে| ঠিক একই ভাবে অনেক জ্ঞান ও সম্মান সামান্য বোকামিতে নষ্ট হয়ে য়েতে পারে|
2 এক জন জ্ঞানী মানুষের চিন্তা তাকে সঠিক পথ দেখায়, কিন্তু মূর্খের চিন্তা তাকে বিপথে নিয়ে যায়|
3 এক জন মূর্খ রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময়ও তার বোকামি প্রদর্শন করে থাকে| তাই সবাই তাকে এক জন মূর্খ হিসেবে জানতে পারে|
4 তোমার মনিব তোমার ওপর রাগ করলেই চাকরি ছেড়ে দিও না| তুমি শান্ত ভাবে সহায়তা করে অনেক বড় ভুল শুধরে নিতে পারবে|
5 আমি সূর্য়ের নীচে আরো কিছু খারাপ জিনিস লক্ষ্য করেছি| এগুলো সেই ধরণের ভুল যা শাসকরা সাধারণতঃ করে থাকে|
6 মূর্খদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়| অন্য দিকে ধনী ব্যক্তিরা গুরুত্বহীন কাজ পায়|
7 আমি দেখেছি যাদের ভৃত্য হওয়া উচিত্‌ তারা ঘোড়ায় করে যাচ্ছে অথচ যাদের শাসক হওয়ার কথা তারা ভৃত্যের মত এদের পাশে হেঁটে যাচ্ছে|
8 য়ে ব্যক্তি গর্ত খোঁড়ে সে নিজেই গর্তে পড়ে য়েতে পারে| য়ে ব্যক্তি তার শক্তি দিয়ে একটি দেওয়াল ভেঙে ফেলতে পারে সে দেওয়ালের অপর দিকে লুকিয়ে থাকা সাপের কামড়ে মারা য়েতে পারে|
9 য়ে ব্যক্তি বিশাল পাথর সরায় সে পাথরের আঘাতে আহত হতে পারে| য়ে ব্যক্তি গাছ কাটে সেই গাছগুলি তার ওপরেই পড়তে পারে|
10 জ্ঞান য়ে কোন কাজকে সহজ করে দেয়| ভোঁতা ছুরি দিয়ে কোন কিছু কাটা শক্ত কিন্তু সেই ছুরিটাতেই যদি শান দেওয়া যায় তবে কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়| জ্ঞানও সেই রকমই|
11 এক জন মানুষ সাপকে বশ করতে জানতে পারে| কিন্তু সেই গুণ অর্থহীন হয়ে পড়ে যখন তার অনুপস্থিতিতে কাউকে সাপে কামড়ায| জ্ঞানও সেই রকমই|
12 জ্ঞানী মানুষের কথায় খ্যাতি আসে| কিন্তু মূর্খের কথা ধ্বংস ডেকে আনে|
13 এক জন মূর্খ শুরু থেকে শেষ পর্য়ন্ত প্রলাপ বকে|
14 এক জন মূর্খ, সে কি করবে সে ব্যাপারে বহু কথা বলে| কিন্তু ভবিষ্যতে কি হবে তা কেউই জানে না|
15 এক জন মূর্খের ঘরে ফেরার পথ খুঁজে নেওয়ার মতো বুদ্ধি থাকে না| তাই সে সারা জীবন খেটে মরে|
16 এক জন রাজা যদি শিশুসুলভ হয় তা য়ে কোন দেশের পক্ষেই খারাপ| আবার কোন দেশের শাসক যদি ভোজন বিলাসে মত্ত থাকে সব সময় সেটা দেশের পক্ষে ভালো নয়|
17 কিন্তু যদি কোন রাজা সদবংশজাত হয় তা দেশের পক্ষে মঙ্গলকর| যদি কোন দেশের শাসকগণ, আনন্দের জন্য নয় কিন্তু শক্তির জন্য যথাসময়ে খায় তাহলে তা দেশের পক্ষে মঙ্গলজনক কারণ তারা পরিমিত জীবনযাপন করেন|
18 য়ে মানুষ অলস হয় তার ছাদ ফুটো হয়ে এমে বাড়ি ভেঙে পড়ে|
19 খাদ্য ও দ্রাক্ষারস মানুষের জীবনকে উপভোগ্য করে তোলে| অর্থ অনেক সমস্যার সমাধান করে দেয়|
20 রাজার সম্বন্ধে খারাপ কথা বলো না| তার সম্বন্ধে খারাপ কিছু ভেবো না| তুমি যদি ঘরে একাও থাক তাহলেও কোন ধনী ব্যক্তির সম্পর্কে খারাপ কিছু বোলো না| কেন? কারণ একটা ছোট পাখিও উড়ে গিয়ে সবাইকে সে কথা বলে দিতে পারে|




অধ্যায় 11

1 বিভিন্ন রকমের কাজ করার চেষ্টা করো| কিছু সময় পরে তোমার ভাল কাজের ফল তুমি পেয়ে যাবে|
2 তোমার যা আছে তা তুমি বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ কর| তুমি জান না পৃথিবীতে কত কিছু খারাপ ঘটতে পারে|
3 কিছু জিনিস আছে যার সম্বন্ধে তুমি নিশ্চিত হতে পারো| যদি মেঘ জলকণায় পূর্ণ থাকে তা থেকে বৃষ্টি হবেই| উত্তরে বা দক্ষিণে কোন দিকেই হোক, কোন গাছ যদি পড়ে যায় তা সেখানেই থাকবে|
4 যদি কোন ব্যক্তি নিখুঁত আবহাওয়ার অপেক্ষায় বসে থাকে সে তবে কোন দিনই বীজ বপন করতে পারবে না| যদি কোন ব্যক্তি বৃষ্টিকে ভয় পায় তবে সে কখনই ফসল কাটতে পারবে না|
5 তোমরা জানো না বাতাস কোথায় বয়| তোমরা জান না কি ভাবে শিশুর মাতৃগর্ভে নিঃশ্বাস আসে| সেই রকমই ঈশ্বর কি করবেন আমাদের জানা নেই| তিনি সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করেন|
6 তাই, সকাল থেকেই রোপণ করতে শুরু কর ও সন্ধ্য়ের সময় অন্য কাজ করো| কেন? কারণ তুমি জান না কিসে তুমি ধনী হবে| অথবা উভয়ই সমান ভাবে ভালো|
7 আলো সুন্দর| সূর্য়ের আলো দেখাও ভাল|
8 তোমার জীবনের প্রতিটি দিন উপভোগ করো| কিন্তু যখন কঠিন সময় আসবে তখন ভালো সময়ের কথা স্মরণে রেখো| কারণ নানা অনর্থক ব্যাপার ঘটবে|
9 যতক্ষণ তোমার য়ৌবন আছে ততক্ষণ তা উপভোগ কর| সুখে থাকো, তোমার প্রাণ যা চায় তাই কর| কিন্তু মনে রেখো ঈশ্বর তোমার সব কাজের বিচার করবেন|
10 ক্রোধ ষ্ঠারা পরিচালিত হয়ো না| তোমার দেহকে কোন মন্দ কাজ করতে দিও না, কারণ য়ৌবন এবং ইচ্ছা কোন কাজে লাগে না|




অধ্যায় 12

1 বৃদ্ধ বয়সে য়ে সময়ে তোমার জীবনকে ব্যর্থ মনে হবে সেই সময় আসার আগে তোমার য়ৌবনেই তুমি সৃষ্টিকর্তার কথা স্মরণ কর|
2 চন্দ্র, সূর্য় এবং তারা তোমার কাছে অন্ধকার হয়ে আসার আগেই য়ৌবনকালে তুমি তোমার সৃষ্টিকর্তার কথা ভাবো| একটার পর একটা ঝড়ের মতোই সমস্যা আসে|
3 সেই সময় তোমার বাহুতে শক্তি থাকবে না| তোমার পা দুর্বল হয়ে বেঁকে যাবে| তোমার দাঁত পড়ে যাবে আর খাওয়ার বা চিবিয়ে খাওয়ার ক্ষমতা থাকবে না| তোমার দৃষ্টিশক্তি কমে যাবে|
4 তোমার শ্রবণ ক্ষমতা কমে যাবে| তুমি রাস্তার শব্দ শুনতে পাবে না| এমনকি পাথর দিয়ে শস্যদানা ভাঙার শব্দও তুমি শুনতে পাবে না| তুমি কোন নারী কণ্ঠের গান শুনতে পাবে না| কিন্তু ভোর বেলায কোন একটি পাখির গানও তোমাকে জাগিয়ে দেবে কারণ তুমি ঘুমোতে পারবে না|
5 তুমি উঁচু জায়গায় চড়তে ভয় পাবে, তুমি তোমার পথের ওপর পড়ে থাকা প্রত্যেকটি ক্ষুদ্র জিনিসের ওপর পা দিতে ভয় পাবে| তোমার চুল বাদাম গাছের ফুলের মতো সাদা হয়ে যাবে| তুমি হাঁটার সময়ে ফড়িংযের মতো নিজেকে বয়ে বেড়াবে| তুমি বাঁচার শক্তি হারিয়ে ফেলবে| আর এরপর তুমি তোমার সমাধিতে স্থান পাবে| বিলাপকারীরা তোমার শোকযাত্রায সমবেত হবে|
6 য়ৌবনে রূপোর তার ছিঁড়ে যাওয়ার আগে, সোনার পাত্র ভেঙ্গে যাওয়ার আগে তুমি তোমার সৃষ্টিকর্তার কথা স্মরণ কর| ভাঙ্গা পাত্রের মতো তোমার জীবন অর্থহীন হওয়ার আগে, কুযোতে ভেঙে পড়ে যাওয়া পাথরের চাকার মতো তোমার জীবন নষ্ট হওয়ার আগে তুমি সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ কর|
7 তোমার শরীর মাটি থেকে এসেছে এবং তোমার মৃত্যুর পর তোমার শরীর আবার মাটিতেই মিশে যাবে, কিন্তু তোমার আত্মা এসেছে ঈশ্বরের কাছ থেকে, তোমার মৃত্যুর পর তা আবার ঈশ্বরের কাছেই ফিরে যাবে|
8 সব কিছুই অর্থহীন, উপদেশক বলেছেন সবই সময়ের অপচয়|
9 উপদেশক তাঁর প্রজ্ঞা অন্য লোকদের শিক্ষার কাজে লাগাতেন| উপদেশক অত্যন্ত যত্নসহকারে অনেক জ্ঞানের বাণী অধ্যযণ করেছিলেন ও সেগুলিকে একত্র করে সংগ্রহ করেছিলেন|
10 উপদেশক সঠিক শব্দ খুঁজে পাওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন এবং তিনিসত্য ও নির্ভরযোগ্য নীতিকথা লিখে গিয়েছিলেন|
11 জ্ঞানী ব্যক্তির কথা হল সেই তীক্ষ্ণ লাঠির মত যা মানুষ পশুদের সঠিক রাস্তায় নিয়ে যাওয়ার কাজে ব্যবহার করে| সেই উপদেশ হল শক্ত পেয়ালার মতো যা ভাঙে না| সেই শিক্ষামালা তোমাকে সঠিক রাস্তা দেখাবে| ঐসব নীতির বাণীই এসেছিল একই মেষপালকের (ঈশ্বরের) কাছ থেকে|
12 তাই ঐ বাণীগুলি পড় কিন্তু পুত্র ও অন্য বই সম্বন্ধে সাবধান থেকো| মানুষ সর্বদাই বই লিখছে এবং অতিরিক্ত অধ্যযন তোমাকে ক্লান্ত করে দেবে|
13 এই বইতে যা লেখা তার থেকে কি শিক্ষা আমরা নেবো? মানুষের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল ঈশ্বরকে শ্রদ্ধা করা ও তার আদেশ মান্য করা| কেন? কারণ মানুষ যা কিছু করে ঈশ্বর তা জানেন, সেটা গুপ্ত কিছু হলেও ঈশ্বর তা জানেন| তিনি ভাল ও মন্দ সব বিষয়ই জানেন| মানুষ যা কিছু করবে ঈশ্বর তার বিচার করবেন|
14