অধ্যায় 1

1 এটা আমোসের পুত্র যিশাইয়ের দর্শন| যিহূদা এবং জেরুশালেমে কি ঘটবে ঈশ্বর যিশাইয়কে তা দেখিয়েছিলেন| ঊষিয,য়োথম,আহসও হিষ্কিয়যখন যিহূদার রাজা ছিলেন তখন যিশাইয়র এই সব দর্শন হয়েছিল|
2 হে স্বর্গ ও মর্ত্য শোন! প্রভু কথা বলছেন| প্রভু বলেন,“আমি আমার সন্তানদের জন্ম দিয়েছি| তাদের লালনপালন করেছি| কিন্তু আমার সন্তানরাই আমার বিরুদ্ধে অপরাধ করছে|
3 একটা গরুও তার মনিবকে চেনে| একটা গাধাও জানে তার মালিক তাকে কোথায় খাওয়ায়| কিন্তু ইস্রায়েলের লোকরা আমাকে চেনে না| আমার লোকরা আমাকে বোঝে না|”
4 ওহে পাপিষ্ঠ জাতি, অপরাধে ভারগ্রস্ত লোকরা! তারা দুষ্ট পরিবারের মন্দ সন্তানদের মতো| তারা তাদের প্রভুকে ত্যাগ করেছে| তারা ইস্রায়েলের পবিত্র জনটিকে বাতিল করেছে| তারা তাঁর থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিয়ে গেছে|
5 ঈশ্বর বলেন, “কেন আমি তোমাদের শাস্তি দিতে যাব? আমি তোমাদের শাস্তি দিয়েছি কিন্তু তোমাদের পরিবর্তন হয় নি| তোমরা আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেই চলেছ| এখন তোমাদের প্রত্যেকের মন-প্রাণ অসুস্থ|
6 তোমাদের আপাদমস্তক সারা শরীরময় শুধুই ক্ষত, দগ্দগে ঘা আর আঘাতের চিহ্ন| সেই ক্ষত সারাতে কোনও যত্ন নেওয়া হয় নি| ক্ষতগুলি না পটি দিয়ে বাঁধা হয়েছিল, না তেল দিয়ে কোমল করা হয়েছিল|
7 “তোমাদের দেশ ধ্বংস হয়েছে| তোমাদের শহরগুলি অগ্নিদগ্ধ| তোমাদের শএুরা তোমাদের দেশ দখল করে নিয়েছে| কোন দেশ বিদেশী আক্রমণকারীর সেনাবাহিনীর দ্বারা যে ভাবে ধ্বংস হয় তোমাদের দেশ সে ভাবেই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে|
8 যেমন দ্রাক্ষাক্ষেতের একটি কুটিরকে, যেমন একটি শশাক্ষেতের চালাকে, যেমন একটি শহরকে শএু দ্বারা অবরুদ্ধ রাখা হয় তেমনি ভাবে সিয়োন (জেরুশালেম) কন্যাকে ফেলে রাখা হয়েছে|”
9 এটা সত্যি, কিন্তু প্রভু সর্বশক্তিমান গুটিকতক লোককে জীবনযাপনের অনুমতি দিয়েছেন| আমরা সদোম এবং ঘমোরা এই নগর দুটির মত পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাই নি|
10 সদোমের শাসনকর্তারা, তোমরা প্রভুর বার্তা শোন| ঘমোরার অধিবাসীগণ, তোমরা ঈশ্বরের শিক্ষামালা শোন|
11 ঈশ্বর বলেছেন, “তোমরা কেন আমার উদ্দেশ্যে এত বলিদান করে চলেছ? তোমাদের পাঁঠার বলিতে এবং ষাঁড়, মেষ এবং ছাগলের মেদে আমার অরুচি ধরে গিয়েছে| আমি সন্তুষ্ট নই|
12 “লোকরা, তোমরা যখন আমার কাছে প্রার্থনা করতে আস তখন তোমরা আমার উপাসনালয় প্রাঙ্গণের সবকিছুকে পদদলিত কর| তোমাদের এসব কে করতে বলল?
13 “এই অসার নৈবেদ্য আমি চাই না| আমার উদ্দেশ্যে নিবেদিত ধুপধূনোর প্রজ্জ্বলনকে আমি ঘৃণা করি| অমাবস্যার দিনে, বিশ্রামের দিনে তোমাদের বিশেষ ভোজ বা প্রার্থনা সভাকে আমি সহ্য করতে পারি না| তোমাদের পবিত্র সমাবেশের দিনে পাপাচারকে আমি মনেপ্রাণে ঘৃণা করি|
14 আমি তোমাদের মাসিক (অমাবস্যা) অনুষ্ঠানাদি ও উত্সবকে ঘৃণা করি| ওগুলো আমার কাছে ভারী বিরক্তিকর| আমি ওগুলো আর সহ্য করতে পারি না|
15 “তোমরা হাত তুলে আমার উদ্দেশ্যে প্রার্থনা জানালে আমি তোমাদের দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে নেব| তোমরা বারে বারে প্রার্থনা করবে কিন্তু আমি তা শুনব না| কেন না তোমাদের হাত রক্তমাখা|
16 “তোমরা নিজেদের পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কর, শুদ্ধ কর এবং মন্দ কাজগুলি করা বন্ধ কর| আমি তোমাদের মন্দ কাজগুলি দেখতে চাই না|
17 ভালো কাজ করতে শেখো| মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার কর, ন্যায়বিচারের অনুশীলন কর, অত্যাচারী, অনিষ্টকারী লোকদের শাস্তি বিধান কর, অনাথ ছেলেমেয়েদের পাশে দাঁড়াও, বিধ্বাদের সাহায্য কর|”
18 প্রভু বলেন, “এস, এইসব বিষয়গুলি নিয়ে বিচার বিবেচনা, আলাপ আলোচনা করা যাক| যদিও তোমাদের পাপগুলো উজ্জ্বল লাল রঙের কাপড়ের মত, ওগুলো ধুয়ে ফেলা যায় এবং তোমরা তুষারের মতো সাদা হয়ে যেতে পারো| যদিও তোমাদের পাপ রক্তের মত লাল, তোমরা পশমের মতো শুভ্র হয়ে উঠতে পারো|
19 “আমাকে মেনে চললে, আমার কথা শুনলে তোমরা এই দেশ থেকে অনেক ভালো ভালো জিনিস পাবে|
20 কিন্তু আমার কথা না শুনলে তোমরা আমার বিরুদ্ধাচারী হবে এবং তোমাদের শএুরা তোমাদের ধ্বংস করবে|”প্রভু বয়ং ঐ কথাগুলি বলেছেন|
21 ঈশ্বর বলেন, “জেরুশালেমের দিকে তাকাও| এই শহর এক সময় আমার কথামত চলত, আমাকে অনুসরণ ও বিশ্বাস করত| কিন্তু এই বিশ্বস্ত এবং অনুগত শহরের পতিতার মত অবস্থা হওয়ার কারণ কি? এর একটাই কারণ হল এখানকার অধিবাসীরা এখন আর আমাকে মেনে চলে না| জেরুশালেমের ধার্মিকতায পরিপূর্ণ থাকা উচিত্‌| এখানকার লোকদের ঈশ্বরের আকাঙ্খিত পথেই চলা উচিত্‌| কিন্তু এখন এখানে খুনীরা থাকে|
22 “ধর্ম, সাধুতা, মহানুভবতা এই গুণগুলি রূপোর মতো| কিন্তু তোমাদের রূপো মূল্যহীন হয়ে পড়েছে| তোমাদের দ্রাক্ষারসে (মহানুভবতায) জল মিশে গিয়ে তা দুর্বল হয়ে পড়েছে|
23 তোমাদের শাসনকর্তারা বিদ্রোহী এবং চোরদের বন্ধু হয়ে উঠেছে| তারা ঘুষ নেয, নোংরা কাজের জন্য টাকা নিতে ভালোবাসে| লোককে প্রতারিত করার জন্য তারা উত্‌কোচ নেয| তারা অনাথ ছেলেমেয়েদের সাহায্য করে না, বিধ্বাদের অভাব অভিয়োগে কান দেয় না| তাদের দেখাশোনা করে না|”
24 এই জন্য আমার গুরু, ইস্রায়েলের প্রভু সর্বশক্তিমান বলেন, “আমি আমার শএুদের শাস্তি দেব| তারা আর আমাকে বিরক্ত করবে না|
25 রূপোতে যেমন ক্ষার দিয়ে তার খাদ পরিষ্কার করা হয় তেমনি আমিও তোমাদের সব কুকর্ম, পাপ ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে দেব| তোমাদের কাছ থেকে সব অসার জিনিস আমি দূর করব|
26 তোমাদের জন্য আগের মতোই ন্যায় বিচারকগণ এবং উপদেষ্টাগণ নিয়োগ করা হবে| তখন তোমাদের শহরকে ‘ন্যাযের শহর’, ‘বিশ্বস্ত নগরী’ নামে ডাকা হবে|”
27 ঈশ্বর মহান এবং তিনি সঠিক কাজই করেন| সুতরাং তিনি সিয়োন এবং তার যেসব লোকরা তাঁর কাছে ফিরে আসবে তাদের তিনি উদ্ধার করবেন|
28 কিন্তু সমস্ত পাপী এবং দুষ্কৃতকারীদের ধ্বংস করা হবে| এরা প্রভুকে মেনে চলে না|
29 তোমরা যে এলাবৃক্ষ এবং বিশেষ বাগানকে দেবতাজ্ঞানে পূজো করতে, ভবিষ্যতে তার জন্য নিজেরাই লজ্জিত হবে|
30 কারণ ভবিষ্যতে তোমাদের অবস্থা এলা বৃক্ষের শুষ্ক পাতার মতো নির্জ্জলা, মৃতপ্রায বাগানের মতো হবে|
31 ক্ষমতাবান লোকদের অবস্থা শুকনো কাঠের টুকরোর মতো হবে এবং তাদের কৃতকর্ম আগুনের ফুলকির মতো হবে| উভয়েই এক সঙ্গে জ্বলতে থাকবে আর সেই আগুন কেউ নেভাতে পারবে না|




অধ্যায় 2

1 আমোসের পুত্র যিশাইয় যিহূদা ও জেরুশালেম সম্পর্কে এইসব বার্তার দর্শন পান|
2 শেষের দিনগুলিতে, প্রভুর মন্দিরের পর্বতকে সকল পর্বতের মধ্যে শীর্ষস্থানীয করা হবে এবং ওটিকে সমস্ত পর্বত থেকে উচ্চতর করা হবে| এবং সমস্ত দেশগুলি থেকে লোকরা সেখানে নিয়মিত ভাবে প্রবাহের মত যাবে|
3 বহু দেশের লোক সেখানে যাবে| তারা বলবে, “চল, আমরা সবাই প্রভুর পর্বতে, যাকোবের ঈশ্বরের উপাসনাগৃহে উঠি| তারপর তিনি আমাদের তাঁর জীবনযাপনের পথ শেখাবেন এবং আমরা জীবনের সেই পথ অনুসরণ করব|”ঈশ্বরের বিধি, প্রভুর বার্তাসমূহ জেরুশালেমের সিয়োন পর্বত থেকে শুরু হবে এবং গোটা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে|
4 তারপর ঈশ্বর সকল জাতির বিচারক হবেন| এবং অনেক লোকের বাদানুবাদের নিষ্পত্তি করবেন| তারা নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ের সময় অস্ত্রশস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ করবে| তারা তাদের তরবারি থেকে লাঙলের ফলা তৈরি করবে এবং বর্শার ফলা দিয়ে কাটারি বানাবে| এক জাতি অন্য জাতির বিরুদ্ধে তরবারি ধরবে না| পরস্পরের মধ্যে লড়াই বন্ধ হবে| তারা কখনও যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেবে না|
5 যাকোবের পরিবার, এসো আমরা প্রভুর আলোকিত পথে চলি!
6 আমি তোমাকে একথা বলছি কারণ তুমি তোমার লোকদের ত্যাগ করেছ| তোমার লোকরা পূর্বদিকের লোকদের ধ্যান ধারণায পরিপূর্ণ হয়েছে| তোমার লোকরা পলেষ্টীয়দের মতো ভবিষ্যত্‌ বক্তা হবার চেষ্টা করছে| তোমাদের লোকরা বহিরাগতদের সঙ্গে খুব বেশী জড়িয়ে পড়েছে|
7 তোমাদের দেশ অন্য দেশের সোনা, রূপোয পরিপূর্ণ| সেখানে ধনসম্পত্তির সীমা পরিসীমা নেই| তোমাদের দেশ ঘোড়া এবং অসংখ্য রথে পরিপূর্ণ|
8 তোমাদের দেশ মূর্ত্তিতে পরিপূর্ণ| নিজেদের হাতে গড়া মূর্ত্তিগুলির সামনে লোকেরা নতজানু হয়ে তাদের পূজো করে|
9 লোকরা খুব নীচ এবং হীন হয়ে গেছে| তাই ঈশ্বর, আপনি তাদের নিশ্চই ক্ষমা করবেন না|
10 যাও, পাথরের পেছনে আবর্জনার মধ্যে লুকিয়ে থাকো| প্রভুকে তোমাদের ভয় পাওয়া উচিত্‌ এবং তাঁর মহান পরাক্রম থেকে তোমাদের লুকিয়ে থাকা উচিত্‌|
11 দাম্ভিক লোকরা অহঙ্কার করবে না| এই সব লোকরা লজ্জায মাটিতে মাথা নত করবে| সেই সময় শুধুমাত্র প্রভু একা উন্নত মস্তকে বিরাজ করবেন|
12 প্রভুর একটি বিশেষ দিনের পরিকল্পনা আছে| সেই দিনে প্রভু উদ্ধত ও অহঙ্কারী লোকদের শাস্তি দেবেন| সেই দিনে ঐসব লোকরা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হবে না|
13 ঐসব অহঙ্কারী লোকরা লিবানোনের উচ্চ ও উন্নত এরস বৃক্ষের মতো| তারা বাশনের বৃহত্‌ এলা বৃক্ষের মতো| কিন্তু ঈশ্বর এই সব লোকদের শাস্তি দেবেন|
14 এই সব অহঙ্কারী লোকরা দীর্ঘ পর্বতমালা ও উচ্চ পাহাড়ের মতো|
15 এই সব লোকরা লম্বা দুর্গ, উচ্চ শক্তিশালী প্রাচীরের মতো| কিন্তু ঈশ্বর এই সব লোকদের শাস্তি দেবেন|
16 এই সব লোকরা তর্শীশের বড় জাহাজের মতো| (জাহাজগুলি গুরুত্বপূর্ণ জিনিসে পরিপূর্ণ|) কিন্তু ঈশ্বর এই সব অহঙ্কারী লোকদের শাস্তি দেবেন|
17 সেই সময় লোকরা অহঙ্কারী হওয়া বন্ধ করবে| অহঙ্কারী লোকরা মাটিতে মাথা নত করবে| সেই সময় শুধুমাত্র প্রভু উন্নত মস্তকে বিরাজ করবেন|
18 সমস্ত মূর্ত্তিগুলি সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য হয়ে যাবে|
19 লোকরা পাথর এবং মাটির ফাটলে লুকোবে| লোকে প্রভু এবং তাঁর মহান পরাক্রমকে ভয় পাবে| পৃথিবীকে কম্পিত করার জন্য যখন প্রভু উঠে দাঁড়াবেন তখনই এই সব ঘটবে|
20 সেই সময় লোকরা তাদের স্বর্ণ ও রৌপ্যমূর্ত্তি-গুলিকে ছুঁড়ে ফেলে দেবে| (লোকরা এই সব মূর্ত্তিগুলিকে পূজো করার জন্য তৈরী করেছিল|) এই সব মূর্ত্তিগুলিকে লোকরা বাদুড় ও ছুঁচোর গর্তে নিক্ষেপ করবে|
21 তারপর লোকরা প্রভু এবং তাঁর মহান পরাক্রমে ভীত হয়ে পাথরগুলোর ফাটলে লুকোবে| এই সব ঘটবে যখন প্রভু পৃথিবীকে কম্পিত করবেন|
22 নিজেদের রক্ষা করার জন্য লোকদের অন্য কারও ওপর আস্থা রাখা উচিত্‌ নয়| কারণ মানুষ মরণশীল এবং তারা মারা যাবে| তাই তোমাদের এটা ভাবা উচিত্‌ নয় যে তারা ঈশ্বরের মতো ক্ষমতাবান|




অধ্যায় 3

1 আমি যা বলছি তা অনুধাবন কর| যিহূদা এবং জেরুশালেম যে সমস্ত জিনিসের ওপর নির্ভরশীল, গুরু, প্রভু সর্বশক্তিমান সে সব জিনিসগুলির অবলুপ্তি ঘটাবেন| ঈশ্বর সমস্ত জল ও খাবার সরিয়ে নেবেন|
2 ঈশ্বর সকল বীর ও মহান যোদ্ধা, সকল বিচারক, ভাব্বাদী,
3 যাদুকরগণ, প্রবীণগণ, সামরিক নেতাসমূহ, সরকারি প্রধানগণ, দক্ষ উপদেষ্টাগণ, দক্ষ কারিগর এবং যারা তাবিজ ব্যবহার করতে জানে তাদের সবাইকে সরিয়ে দেবেন|
4 ঈশ্বর বলেন, “আমি বালকগণকে তোমাদের নেতা করব|
5 প্রত্যেক লোক একে অপরের বিরুদ্ধাচরণ করবে| ছোটরা বড়দের শ্রদ্ধা করবে না| গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা সাধারণ লোকদের কাছ থেকে সম্মান পাবে না|”
6 সেই সময় কেউ এক জন তারই পরিবারভুক্ত ভাইযের হাত ধরে বলবে, “তোমার কোটবস্ত্র আছে, তাই তুমি আমাদের নেতা হবে| এই সব বিনাশ তোমার আযত্ত্বে থাকবে|”
7 কিন্তু সে চিত্কার করে বলবে, “আমি তোমাদের নেতা হব না| কারণ আমার বাড়িতে যথেষ্ট অন্ন-বস্ত্র নেই| তুমি আমাকে দিয়ে লোকদের নেতৃত্ব দেওয়াবে না|”
8 এই সবই ঘটবে কারণ জেরুশালেম হোঁচট খেয়েছে এবং যিহূদার পতন হয়েছে| তাদের কাজকর্ম ও কথাবার্তা সবই প্রভুর বিরুদ্ধে যদিও তিনি সবই দেখেন|
9 লোকদের মুখই বলে দিচ্ছে যে তারা পাপ কাজের দোষে দুষ্ট| এবং তারা তাদের পাপের জন্য গর্বিত| তারা সদোমের লোকদের মতোই| কে তাদের পাপ দেখছে সেই ব্যাপারে তাদের কোন ভ্রূক্ষেপ নেই| এটা তাদের পক্ষে খুবই ক্ষতিকারক হবে| তারা নিজেদের ভযানক বিপদ নিজেরাই ডেকে আনছে|
10 ভালো লোকদের বলে দাও যে তাদের জন্য ভালো কিছু ঘটবে| ভালো কাজের পুরস্কার তারা পাবে|
11 কিন্তু শযতান লোকদের জন্য কঠিন সময় আসছে| তাদের ভীষণ কষ্ট ও অসুবিধার সম্মুখীন হতে হবে| সমস্ত কুকর্মের শাস্তি তাদের পেতেই হবে|
12 বালকরা আমার লোকদের হারিযে দেবে| মেয়েরা তাদের শাসন করবে| তাদের ওপর কর্তৃত্ব করবে| আমার লোকরা, তোমাদের পথ প্রদর্শকরাই তোমাদের ভুল পথে চালিত করছে| তারা তোমাদের সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করছে|
13 প্রভু লোকদের বিচার করবার জন্য উত্থান করবেন|
14 নেতা এবং প্রাচীনদের কৃতকর্মের বিরুদ্ধে তিনি তাঁর মতামত দেবেন|প্রভু বলেন, “হে আমার লোকরা, তোমরা দ্রাক্ষাক্ষেত (যিহূদা) পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছ| তোমরা গরীব মানুষদের কাছ থেকে জিনিসপত্র কেড়ে নিয়েছ| এবং সেই সব জিনিসপত্র এখনও তোমাদের বাড়িতেই আছে|
15 আমার লোকদের আঘাত করার অধিকার কে তোমাদের দিয়েছে? গরীব, হতদরিদ্র মানুষদের নোংরা-আবর্জনার মধ্যে ঠেলে দেওয়ার অধিকার কে তোমাদের দিয়েছে?” আমার গুরু, প্রভু সর্বশক্তিমান এই কথাগুলি বললেন|
16 প্রভু আরও বললেন, “সিয়োনের মেয়েরা খুবই অহঙ্কারী হয়ে উঠেছে| তারা মাথা হেলিযে দুলিযে য়ত্রতত্র এমন ভাবে ঘুরে বেড়ায যেন তারা অন্য লোকদের চেয়ে যথেষ্ট ভাল| এই সব মেয়েরা হাসি-মস্করা, ছেনালিগিরি করে ঘুরে বেড়ায| এবং তারা পায়ে নূপুরের রুনুঝুনু শব্দ করে, নেচে নেচে দিকবিদিক ঘুরে বেড়ায|”
17 আমার গুরু সিয়োনের এই ধরণের মেয়েদের মাথায় দগদগে ক্ষতের সৃষ্টি করবেন| ফলে তাদের মাথায় টাক পড়বে|
18 সেই সময় তিনি তাদের গর্বের সমস্ত সম্পদ নিয়ে নেবেন| তাদের পায়ের নূপুর, তাদের সূর্য় ও চাঁদের আকারের গলার হার,
19 ঝুমকো পাশা, চুড়ি, ঘোমটা, ললাটভূষণ, পায়ের মল,
20 ঘাঘরা, শাল, মসীনা বস্ত্র,
21 বিশেষ আংটি, নথ,
22 চিত্রবস্ত্র, গেঁজে,
23 আযনা, মসীনা বস্ত্র, উষ্ণীষ, লম্বা শালের মতো আবরক বস্ত্ররূপ বেশভূষা খুলে নেবেন|
24 এবং সুগন্ধির পরিবর্তে তাদের কাছে থাকবে দুর্গন্ধ তেল, কোমরবন্ধনীর বদলে থাকবে একটি ছেঁড়া পোশাক, সুবিন্যস্ত কেশ পরিচর্য়্য়ার বদলে থাকবে মাথাজোড়া টাক, কেতাদুরস্ত কোমরবন্ধনীর পরিবর্তে থাকবে চটের তৈরী কোরমবন্ধনী কারণ সুন্দরী হওয়ার পরিবর্তে তারা হবে কুত্‌সিত দর্শন|
25 সেই সময় তোমাদের পুরুষদের তরবারি দিয়ে হত্যা করা হবে| তোমাদের বীর যোদ্ধারা যুদ্ধে মারা যাবে|
26 এবং তার নগর দ্বারগুলি কষ্ট পাবে এবং বিলাপ করবে এবং সে বিপর্য়স্ত হয়ে মাটিতে বসে থাকবে|
26




অধ্যায় 4

1 সেই সময় সাত জন মহিলা এক জন পুরুষের হাত চেপে ধরে বলবে, “আমরা আমাদের রুটি-রুজি, বস্ত্র, বাসস্থান নিজেদের জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছুর ব্যবস্থা নিজেরাই করব| তুমি শুধু আমাদের বিয়ে কর| তোমার নামে আমাদের সামাজিক প্রতিষ্ঠা দাও| আমাদের অব্বিাহিত থাকার যন্ত্রণা, লজ্জা, অপমান দূর কর|”
2 সেই সময়, প্রভুর গাছ (যিহূদা) বড় হবে এবং সুন্দর হয়ে উঠবে| এমনকি তখনও ইস্রায়েলের উদ্বাস্ুরা তাদের দেশে উত্পন্ন শস্য নিয়ে গর্ব অনুভব করবে|
3 এই সময় সিয়োন এবং জেরুশালেমে তখনও বসবাস করা লোকদের পবিত্র মানুষ বলে গণ্য করা হবে| যাদের নাম বিশেষ তালিকায থাকবে তারাই ভাগ্যবান, পবিত্র মানুষ বলে বিবেচিত হবে| এবং এই তালিকাভুক্ত লোকদেরই বাস করে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে|
4 প্রভু সিয়োনের মহিলাদের থেকে নোংরা ধুয়ে মুছে ফেলবেন| তিনি জেরুশালেম থেকে রক্ত ধুয়ে ফেলবেন| প্রভু ন্যাযের নীতিটি ব্যবহার করবেন এবং ন্যায় বিচার করবেন| তিনি প্রজ্জ্বলিত করবার নীতিটি ব্যবহার করে প্রতিটি জিনিষকে শুদ্ধ করে তুলবেন|
5 তারপর প্রভু সিয়োন পর্বতের ভিত্তির ওপর আকাশে এবং তার সমাবেশ স্থানগুলিতে দিনে একটি ধোঁযার মেঘ ও রাত্রেও একটি জ্বলন্ত অগ্নিশিখা সৃষ্টি করবেন| সেখানে প্রতিটি সমাবেশের ওপর রক্ষার জন্য একটি আচ্ছাদন থাকবে|
6 সমস্ত মানুষের জন্য এমন এক নিরাপদ স্থানের ব্যবস্থা করা হবে যেখানে সূর্য়ের প্রখর তাপ তাদের স্পর্শ করতে পারবে না| সব ধরণের ঝড় ঝঞ্ঝা এবং প্লাবন থেকে তারা রক্ষা পাবে|




অধ্যায় 5

1 এখন আমি আমার ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে গান করব| দ্রাক্ষা ক্ষেতের (ইস্রায়েলের) প্রতি ঈশ্বরের যে ভালোবাসা আছে এই গান সে সম্পর্কেই|আমার ঈশ্বরের একটি দ্রাক্ষা ক্ষেত ছিল অতি উর্বর মাটিতে|
2 তিনি তার চারদিক খুঁড়ে মাঠটিকে ভালো ভাবে পরিষ্কার করলেন| তারপর সেখানে ভালো জাতের দ্রাক্ষা গাছ লাগালেন| তিনি মাঠের মাঝখানে দেখাশোনার জন্য একটি উঁচু বাড়ি তৈরি করলেন| সেখানে তিনি ভাল দ্রাক্ষা ফলবার আশায় বসে রইলেন| কিন্তু জন্মালো বুনো দ্রাক্ষা|
3 তাই ঈশ্বর বললেন, “যিহূদা ও জেরুশালেমের লোকরা, তোমরা আমার এবং আমার দ্রাক্ষাক্ষেতের কথা চিন্তা কর|
4 আমি আমার দ্রাক্ষা ক্ষেতের জন্য সাধ্যমত সবকিছুই করেছি| আমি তার জন্য আর কিই বা করতে পারতাম? আমি ভালো দ্রাক্ষার আশা করেছিলাম| কিন্তু শুধু বাজে দ্রাক্ষা ফলেছিল| কেন এমনটা ঘটল?
5 আমি আমার দ্রাক্ষা ক্ষেতের জন্য কি কি করব এখন আমি তোমাদের সে কথাই শোনাব|দ্রাক্ষা ক্ষেতের সুরক্ষার জন্য চারদিকে যে কাঁটার ঝোপগুলি আছে তা আমি তুলে ফেলে পুড়িয়ে দেব| আমি পাথরের প্রাচীর ভেঙে ফেলব এবং পাথরগুলি ক্ষেতের ওপর ফেলে দেওয়া হবে|
6 আমি আমার দ্রাক্ষা ক্ষেতকে খোলা মাঠে পরিণত করব| ঐ ক্ষেতের গাছগুলির কেউ যত্ন নেবে না| কেউ পরিচর্য়া করবে না| সেখানে আগাছা আর কাঁটা জন্মাবে| আমি মেঘকে হুকুম দেব যাতে ক্ষেতে একফোঁটা বৃষ্টি বর্ষিত না হয়|”
7 ইস্রায়েল জাতি হল প্রভু সর্বশক্তিমানের এই দ্রাক্ষা ক্ষেত| আর যিহূদার লোকরা হল তাঁর এক কালের আদরের দ্রাক্ষার চারা|প্রভু আশা করেছিলেন ন্যায়, কিন্তু সেখানে ছিল শুধুই হত্যাকাণ্ড| প্রভু আশা করছিলেন সুন্দর জীবন, কিন্তু সেখানে শোনা যাচ্ছে অত্যাচারীদের এন্দন রোল|
8 তোমরা পাশাপাশি বাস করছ| ঘেঁসাঘেঁসি করে বাড়ি বানিয়েছ| তোমরা ক্ষেতের সঙ্গে ক্ষেতের সংযোগ এমন ভাবে করেছ যে আর এতটুকু জায়গা অবশিষ্ট নেই| কিন্তু প্রভু তোমাদের এমন শাস্তি দেবেন যে তোমাদের একাকী থাকতে হবে| সমস্ত ভূখণ্ডটিতে শুধু তোমরাই বাস করবে|
9 প্রভু সর্বশক্তিমান আমাকে এই কথাগুলি বললেন এবং আমি তাঁর কথা শুনলাম: “এখানে অনেক বাড়ি আছে, কিন্তু আমি অঙ্গীকার করছি যে, সমস্ত ঘর-বাড়ি ধ্বংস করা হবে| এখানে এখন অনেক সুন্দর মনোরম বাড়ি আছে| কিন্তু এই সব বাড়িগুলি খালি হয়ে যাবে|
10 সেই সময় দশ একর মাঠে যে দ্রাক্ষা হবে তা থেকে খুব সামান্য দ্রাক্ষারস তৈরি করা যাবে| বহু বস্তা বীজ থেকে খুবই অল্প শস্য উত্পন্ন হবে|”
11 তোমরা সকালে উঠেই পানীয় হিসাবে দ্রাক্ষারসের খোঁজ কর| তোমরা দ্রাক্ষারস পান করার জন্য গভীর রাত পর্য়ন্ত জেগে থাক|
12 তোমরা দ্রাক্ষারস, বাঁশি, ঢোলক এবং বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র নিয়ে ফূর্তি-আমোদ কর| কিন্তু তোমরা প্রভুর কর্মকাণ্ড দেখতে পাও না| প্রভু নিজ হাতে অনেক জিনিস তৈরি করেছেন| কিন্তু তোমরা ঐসব জিনিস দেখতে পাও না|
13 প্রভু বললেন, “আমার লোকদের বন্দী করে অন্যত্র নির্বাসনে দেওয়া হবে| কিন্তু কেন? কারণ তারা আমাকে প্রকৃতপক্ষে জানে না| ইস্রায়েলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি রয়েছেন| তাঁরা তাঁদের অনায়াস জীবনযাপন নিয়ে সন্তুষ্ট| কিন্তু তারা খুবই তৃষ্ণার্ত এবং ক্ষুধার্ত হবে|
14 তারপর তারা মারা যাবে| এবং পাতাল মৃতদেহে ভরে যাবে| পাতালের সীমাহীন খিদে ও চাহিদা মেটাতে নামী, সাধারণ সব মানুষ মৃত্যুমুখে পতিত হবে এবং এই সব মানুষ কবরে যাবে|”
15 ঐসব লোকদের অবদমিত করা হবে| প্রত্যেককে বিনম্র করা হবে এবং তাদের গর্ব কমিযে আনা হবে|
16 প্রভু সর্বশক্তিমান, ন্যায়বিচার করবেন এবং লোকরা জানবে যে তিনি মহান| পবিত্রতম ঈশ্বর যেগুলি সঠিক ও ন্যায্য সেই সব কাজই করবেন এবং লোকরা তাঁকে শ্রদ্ধা জানাবে|
17 ঈশ্বর ইস্রায়েলের অধিবাসীদের দেশছাড়া করবেন| দেশ খালি হয়ে যাবে| মেষরা ইচ্ছামতো যেখানে খুশী ঘুরে বেড়াতে পারবে| একদা ধনী লোকের মালিকানাধীন জমি-জায়গাতে মেষ চরে বেড়াবে|
18 ঐ লোকগুলিকে দেখ! অপ্রয়োজনীয় দড়ি নিয়ে লোকরা যেমন ওযাগন টানে তেমনি এই ধরণের লোকরা নিজেদের পাপ, কুকর্ম এবং দোষকে পেছনে টেনে নিয়ে বেড়ায|
19 এই লোকরা বলে, “আমাদের কামনা, ঈশ্বর যা যা করার পরিকল্পনা করেছেন তা তাড়াতাড়ি করবেন| তারপর আমরা জানব কি ঘটবে| আমাদের আশা প্রভুর পরিকল্পনা খুব তাড়াতাড়ি বাস্তবায়িত হবে| তারপরই আমরা জানতে পারব তাঁর পরিকল্পনা কি|”
20 এই ধরণের লোকরা ভালো জিনিসকে খারাপ বলে আর খারাপ জিনিসকে ভালো বলে মনে করে| এরা আলোকে অন্ধকার আর অন্ধকারকে আলো বলে মনে করে| এরা টককে মিষ্টি এবং মিষ্টিকে টক ভাবে|
21 ঐসব লোকরা নিজেদের খুব জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান মনে করে|
22 এই ধরণের লোকরা দ্রাক্ষারস পান করার জন্য বিখ্যাত| এরা দ্রাক্ষারসের মিশ্রণ তৈরীতে একেবারে সিদ্ধহস্ত|
23 তারা ঘুষ নিয়ে অপরাধীদের নিরাপরাধ বলে ঘোষনা করে| কিন্তু তারা ভালো লোককে ন্যায্য বিচার পেতে দেবে না|
24 এই সব লোকের কপালে খুবই দুর্ভোগ অপেক্ষা করছে| খড়কুটো এবং গাছের পাতাকে আগুন যেমন অনায়াসে পুড়িয়ে ছারখার করে দেয় তেমনি এদের উত্তরপুরুষদেরও পুরোপুরি ধ্বংস করা হবে| মৃত শিকড় যেমন গুঁড়োতে পরিণত হয়, আগুন যেমন ফুলকে পুড়িয়ে তার ছাই বাতাসে উড়িযে দেয়, এদের উত্তরপুরুষরা সে ভাবেই ধ্বংস হবে|ঐসব লোকরা প্রভু সর্বশক্তিমানের শিক্ষামালা মেনে চলেনি| তারা ইস্রায়েলের পবিত্রজনটির (ঈশ্বর) বার্তা ঘৃণা করত|
25 তাই প্রভু তাঁর লোকদের ওপর খুব রুদ্ধ হয়েছেন| প্রভু তাঁর হাত উত্তোলন করবেন এবং তাদের এমন কঠিন ভাবে শাস্তি দেবেন যে পর্বত পর্য়ন্ত ভয়ে কাঁপবে| তাদের মৃতদেহগুলি জঞ্জালের মতো রাস্তায় পড়ে থাকবে| কিন্তু তবুও ঈশ্বরের রোধ পড়বে না| তাঁর হাত তাদের শাস্তি দেবার জন্য উত্তোলিত থেকে যাবে|
26 দেখ! ঈশ্বর দূরবর্তী জাতিগণের প্রতি সঙ্কেত দিচ্ছেন| তিনি তাদের ডাকার জন্য পতাকা তুলছেন এবং শিস দিচ্ছেন| দেখ, শএুরা দূরদেশ থেকে আসছে| তারা অচিরে দেশে ঢুকে পড়বে| তারা খুব দ্রুত আসছে|
27 এই শএুরা কখনও ক্লান্ত হবে না, হোঁচট খাবে না এবং ঘুমিযে পড়বে না| তাদের অস্ত্রের কটিবন্ধন খুলে যাবে না| তাদের জুতোর ফিতে কখনই ছিঁড়ে যাবে না|
28 এই শএুদের তীর ধারালো হবে| তাদের সব ধনুকগুলি তীর ছোঁড়ার জন্য প্রস্তুত থাকবে| তাদের ঘোড়ার পায়ের পাতা হবে চক্মকি পাথরের মতো শক্ত| তাদের রথের চাকায় ধূলিঝড় উঠবে|
29 শএুরা সিংহের গর্জনের মতো চিত্কার করবে| তারা সিংহ শাবকের মতো গর্জন করবে| শএুরা সরোধ গর্জন করবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরতদের ধরে ফেলবে| লোকরা লড়াই করে মুক্তি পেতে চেষ্টা করবে| কিন্তু তাদের রক্ষা করার কেউ থাকবে না|
30 তাই “সিংহ” গর্জন হবে সমুদ্রের ঢেউযের গর্জনের মতো| এবং বন্দী অবরুদ্ধ লোকরা মাটির দিকে তাকাবে| কিন্তু দেখবে শুধুই অন্ধকার| ঘন মেঘে সমস্ত আলো অন্ধকারে ঢেকে যাবে|




অধ্যায় 6

1 যে বছর ঊষিয রাজার মৃত্যু হল আমি প্রভুকে এক উচ্চ ও মনোরম সিংহাসনে বসে থাকতে দেখলাম| তাঁর লম্বা রাজপোশাক মন্দিরকে ভরে দিয়েছিল|
2 প্রভুর বিশেষ দূত সরাফরা তাঁর চারপাশে দাঁড়িয়েছিল| তাদের প্রত্যেকের ছয়টি করে ডানা ছিল| তারা দুটি ডানা দিয়ে মুখ ঢাকে, দুটি ডানা দিয়ে পা ঢাকে এবং বাকি দুটি ডানা তারা ওড়ার কাজে ব্যবহার করে|
3 এই দূতরা একে অপরকে ডেকে বলতে লাগল, “পবিত্র, পবিত্র, পবিত্র| প্রভু সর্বশক্তিমান খুবই পবিত্র| তাঁর মহিমায পৃথিবী পরিপূর্ণ|”
4 তাদের চিত্কারে দরজার কাঠামো কেঁপে উঠলো| মন্দির ধোঁযায় ভরে যেতে লাগল|
5 তখন আমি হঠাত্‌ই ভীষণ ভয় পেয়ে গেলাম| আমি বললাম, “হায! আমি ধ্বংস হয়ে যাব| ঈশ্বরের সঙ্গে কথা বলার মতো আমি যথেষ্ট শুচি নই| এবং আমি এমন লোকদের মধ্যে বাস করি যারা ঈশ্বরের সঙ্গে কথা বলার মতো যথেষ্ট শুচি নয়|কারণ আমি রাজাকে, প্রভু সর্বশক্তিমানকে দেখেছি|”
6 বেদীতে আগুন জ্বলছিল| সরাফদের এক জন ইউ আকারের একটি চিমটি দিয়ে আগুন থেকে কযলা তুলছিল| এই দূতটি একটি গরম কযলার টুকরো হাতে নিয়ে আমার কাছে উড়ে এল|
7 দূতটি গরম কযলা আমার ঠোঁটে ছোঁযাল| তারপর দূতটি বলল, “যে মূহুর্তে এই গরম কযলা তোমার ঠোঁট স্পর্শ করল, তোমার সমস্ত অপরাধ মুছে গেল | তোমার সব পাপ মুছে গেল|”
8 তারপর আমি আমার প্রভুর কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম| তিনি বললেন, “আমি কাকে পাঠাব? আমাদের পক্ষে কে যাবে?”তখন আমি বললাম, “এই যে, আমি আছি, আমাকে পাঠান!”
9 তখন প্রভু আমাকে বললেন, “যাও এবং এই লোকদের বল: ‘তোমরা মন দিয়ে শোন কিন্তু বোঝো না! কাছ থেকে দেখ কিন্তু কোন কিছু শেখো না!’
10 লোককে বিভ্রান্ত কর| লোকরা যে সব জিনিস দেখছে ও শুনছে তা তাদের বুঝতে দিও না| যদি তুমি এটা না কর তাহলে হয়তো তারা যে জিনিস কানে শুনবে তা সত্যি সত্যিই বুঝতে পারবে| তারা হয়তো সত্যিই তাদের মনে উপলদ্ধি করতে পারবে| যদি তারা এটা করে তাহলে লোকরা হয়তো আমার কাছে ফিরে আসতে পারে এবং তারা আরোগ্য (ক্ষমা) লাভ করবে|”
11 তখন আমি জিজ্ঞাসা করলাম, “প্রভু এটা আমি কতদিন করব?”প্রভু বললেন, “যতদিন পর্য়ন্ত সকল নগর ধ্বংস না হয় এবং লোকে চলে না যায়| যতদিন না পর্য়ন্ত একটি মানুষও তাদের বাড়ীতে পড়ে থাকে এবং গোটা দেশ ধ্বংসস্থানে পরিণত হয় তত দিন এটা কর|”
12 প্রভু লোকদের অনেক দূরে পাঠিয়ে দেবেন| দেশের একটা বিরাট অংশ খালি পড়ে থাকবে|
13 কিন্তু দশ ভাগের এক ভাগ লোককে দেশে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে| এই লোকগুলি প্রভুর কাছে ফিরে আসবে যদিও তাদের ধ্বংস হয়ে যাবার কথা| তারা একটি ওক গাছের মতো| এই গাছকে কাটার পর গুঁড়ি পড়ে থাকে| এই গুঁড়ি (অবশিষ্ট লোকরা) একটি বিশেষ বীজ| অর্থাত্‌ পবিত্র লোকরাই দেশে থাকবে|




অধ্যায় 7

1 আহস ছিলেন য়োথমের পুত্র| য়োথম ছিলেন ঊষিযের পুত্র| রত্‌সীন ছিলেন অরামের রাজা|আহসের রাজত্ব কালে সিরিযার রাজা রত্‌সীন এবং ইস্রায়েলের রাজা, রমলিযের পুত্র পেকহ জেরুশালেমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য এসেছিলেন| কিন্তু তাঁরা এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারেন নি|
2 যিহূদার রাজবাড়ি দাযূদের পরিবারকে জানানো হল যে, “অরাম এবং ইফ্রযিমের (ইস্রায়েলের) সেনাদল জোটবদ্ধ হয়েছে| তারা একসঙ্গে ঘাঁটি গেড়েছে|”এই খবর শুনে রাজা আহস এবং তাঁর প্রজারা খুব ভয় পেয়ে গেলো| বনের গাছপালা যেমন বাতাসে নড়ে তেমনি তারাও ভয়ে কাঁপতে লাগল|
3 তখন প্রভু যিশাইয়কে বললেন, “তুমি এবং তোমার পুত্র শার-যাশূব যাবে এবং আহসের সঙ্গে কথা বলবার জন্য ধোপাদের মাঠের রাস্তার পাশে যেখানে জল উচ্চতর জলাশযের মধ্যে দিয়ে বইছে, সেখানে দেখা করবে|
4 “আহসকে বল, ‘সাবধানে থেকো, কিন্তু শান্ত থেকো! রত্‌সীন ও রমলিযের পুত্রকে ভয় পেযো না, কারণ তারা দুটি পোড়া কাঠির মত| অতীতে তারা খুব গরম ছিল| কিন্তু এখন তারা শুধুই ধোঁযা| রত্‌সীন, অরাম এবং রমলিযের পুক্র রুদ্ধ হয়ে রয়েছে|
5 তারা তোমার বিরুদ্ধে নানা ফন্দি এঁটেছে| তারা বলছে:
6 আমরা যিহূদার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব| আমরা নিজেদের স্বার্থে যিহূদাকে ভাগ করে টাবেলের পুত্রকে যিহূদার নতুন রাজা বানাব|”‘
7 প্রভু আমার গুরু বললেন, “কিন্তু তাদের পরিকল্পনা সফল হবে না|
8 রত্‌সীন যতদিন দম্মেশকের শাসক থাকবে, ততদিন তাদের অভিসন্ধি খাটবে না| এখন ইফ্রযিম(ইস্রায়েল) একটি দেশ, কিন্তু ভবিষ্যতে আজ থেকে
6
5 বছর পরে সেটি আর একটি দেশ থাকবে না|
9 যতদিন শমরিয়া ইফ্রযিমের (ইস্রায়েল) রাজধানী থাকবে এবং যতদিন রমলিযের পুত্র শমরিয়ার শাসক থাকবে ততদিন তাদের ফন্দি সফল হবে না| তুমি যদি একথা বিশ্বাস না কর তাহলে লোকরা তোমাকে বিশ্বাস করবে না|”
10 তারপর প্রভু যিহূদার রাজা আহসকে আরও বললেন,
11 “প্রভু, তোমার ঈশ্বরের কাছ থেকে একটি সংকেত চিহ্ন চেয়ে নাও যাতে তুমি নিজের কাছে প্রমাণ করতে পারো যে এগুলি সব সত্য| তুমি তোমার ইচ্ছেমতো যে কোন সংকেত চিহ্ন চাইতে পারো| চিহ্নটি মৃতের আলযের মতো গভীর থেকে অথবা আকাশের মত উঁচু থেকে আসতে পারে|”
12 কিন্তু আহস বললেন, “আমি প্রমাণ স্বরূপ কোন নিদর্শন চাই না| আমি প্রভুকে পরীক্ষাও করতে চাই না|”
13 যিশাইয় বললেন, “দাযূদের পুত্র, আহস মন দিয়ে শোন| লোকের ধৈর্য়্য়ের পরীক্ষা কি তোমাদের কাছে যথেষ্ট নয়? তোমরা কি আমার ঈশ্বরেরও ধৈর্য়্য়ের পরীক্ষা নিতে চাও?
14 ঈশ্বর আমার প্রভু, তোমাদের একটা চিহ্ন দেখাবেন:ঐ যুবতী মহিলাটি গর্ভবতী হবে এবং দেখ সে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেবে| তার নাম রাখা হবে ইম্মানূযেল|
15 যতদিন না পর্য়ন্ত ইম্মানূযেল খারাপ কাজ প্রত্যাখান করে ভালো কাজ বেছে নিতে শিখবে ততদিন পর্য়ন্ত সে দই ও মধু খাবে|
16 কিন্তু ছেলেটি ভালো কাজ করবার মত এবং মন্দ কাজ প্রত্যাখান করবার মতো বোঝবার বযসে এসে পৌঁছবার আগেই ইফ্রযিম এবং অরাম দেশ জনমানব বর্জিত হয়ে যাবে|“তোমরা এখন ঐ দুজন রাজার ভয়ে ভীত|
17 কিন্তু তোমাদের আসলে প্রভুকে ভয় পাওয়া উচিত্‌| কারণ তিনি তোমাদের জন্য দুঃসময় আনবেন| এই দুঃসময় তোমার কাছে, তোমার লোকদের কাছে এবং তোমার পিতৃকুলেও আসবে| ঈশ্বর কি করবেন? তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য তিনি অশূরের রাজাকে আমন্ত্রণ জানাবেন|
18 “সে সময় প্রভু ‘মাছি’ (এখন ‘মাছিটি’ মিশরের নদীর কাছে আছে|) এবং ‘মৌমাছিকে’ (‘মৌমাছিটি’ এখন অশূর দেশে আছে|) ডাক দেবেন| তারা তোমার দেশে এসে পৌঁছবে|
19 তারা মরুভূমির জলস্রোতের পাশে, পাথুরে গভীর খাদে, ঝোপঝাড়ে এবং জলময় গর্তের কাছে চাক বাঁধবে|
20 প্রভু যিহূদাকে শাস্তি দেবার জন্য অশূরকে ব্যবহার করবেন| প্রভু অশূরকে ভাড়া করবেন এবং সেটিকে একটি খুরের মতো ব্যবহার করা হবে| মনে হবে যেন প্রভু যিহূদার পা, মাথা এমনকি দাড়ি থেকেও চুল কামিয়ে নিচ্ছেন|
21 “এই সময় একজন লোক একটি যুবতী গাভী ও দুটি মেষকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবে|
22 এরা সেই লোকটিকে যে দুধ দেবে তা মাখন খাওয়ার পক্ষে যথেষ্ট হবে| দেশে যারা রয়ে গেছে তারা দই এবং মধু খাবে|
23 দেশের মাঠে মাঠে যে 1,000 দ্রাক্ষা গাছ আছে তার প্রত্যেকটির মূল্য হবে 1,000 রূপোর টুকরোর সমান| কিন্তু এই দ্রাক্ষা ক্ষেতগুলি আগাছা এবং কাঁটায ভরে যাবে|
24 দেশ বন্য হয়ে উঠবে এবং শিকার ক্ষেত্রে পরিণত হবে|
25 যেখানে এক সময় লোকে পরিশ্রম করে খাদ্য উত্পন্ন করত, সেই পাহাড়গুলি আগাছা এবং কাঁটায ভরে যাবে এবং সেখানে আর কেউ কখনও যাবে না| শুধুমাত্র মেষ এবং ষাঁড় সেখানে অবাধে বিচরণ করতে পারবে|”




অধ্যায় 8

1 প্রভু আমাকে বললেন, “বড় একটি পাকানো কাগজ নিয়ে এসো এবং তাতে একটি বিশেষ কলম দিয়ে লেখ: ‘এটা মহের-শালল-হাশ-বসেরউদ্দেশ্যে|’
2 আমি কিছু লোককে একত্রিত করলাম যাদের সাক্ষী হিসেবে বিশ্বাস করা যায়| (এরা হল ঊরিয যাজক ও য়িবেরিখিযের পুত্র সখরিয|) আমি ঐ কথা লেখার সময় এরা লক্ষ্য রাখল|
3 পরে আমি ভাব্বাদিনীর কাজে গেলাম| সে গর্ভবতী হয়ে পুত্র সন্তানের জন্ম দিল| তখন প্রভু আমাকে বললেন, “ওর নাম মহের-শালল-হাশ-বস রাখ|
4 কারণ ছেলেটি ‘বাবা’, ‘মা’ বলতে শেখার আগেই ঈশ্বর দম্মেশক ও শমরিয়ার সব ধনসম্পদ নিয়ে নেবেন এবং তা অশূর রাজার হাতে তুলে দেবেন|”
5 প্রভু আবার আমাকে বললেন,
6 “এই লোকরা শীলোহের মৃদু স্রোতকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে| তারা রত্‌সীন ও রমলিযের পুত্র পেকহকে নিয়ে খুশী হয়েছে|
7 কিন্তু আমি, প্রভু অশূর রাজাকে আনব এবং তার সমস্ত ক্ষমতা তোমাদের বিরুদ্ধে প্রযোগ করব| তারা ফরাত্‌ নদীর শক্তিশালী বন্যার জলের মতো আসবে| জল ফুলে ফেঁপে যেমন নদীর দুকূল ছাপিযে তেড়ে আসে সে ভাবে তারা আসবে|
8 এই জল ঐ নদী উপচে যিহূদা দেশকে প্লাবিত করবে| এই জলে যিহূদা আকণ্ঠ নিমজ্জিত হবে এবং প্রায গোটা দেশ ভেসে যাবে|“হে ইম্মানূযেল তোমার গোটা দেশকে গ্রাস না করা পর্য়ন্ত, এই বন্যা তার তাণ্ডব চালিযে যাবে|”
9 সমস্ত দেশসমূহ, তোমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও| তোমরা পরাজিত হবে| সকল দূরবর্তী দেশের লোকরা শোন! তোমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও| তোমরাও পরাজিত হবে|
10 তোমরা যুদ্ধের পরিকল্পনা তৈরী কর! তোমাদের পরিকল্পনা পর্য়ুদস্ত হবে| তোমাদের সেনাবাহিনীকে আদেশ দাও! কিন্তু তোমাদের আদেশ নিস্?ল হবে| কেননা ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে আছেন|
11 প্রভু শক্ত হাতে আমার সঙ্গে কথা বলেছিলেন| প্রভু আমাকে সতর্ক করে দিলেন এই লোকদের পথে না যেতে| প্রভু বললেন,
12 “প্রত্যেক লোকই বলছে যে অন্য লোক তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে| তুমি এই সব জিনিস বিশ্বাস কোরো না| এই সব লোকরা যেসব বিষয়কে ভয় পায় তুমি তাতে ভয় পেও না!”
13 এক মাত্র প্রভু সর্বশক্তিমানকেই তোমাদের ভয় পাওয়া উচিত্‌| তাঁকেই তোমাদের সম্মান জানানো উচিত্‌|
14 যদি তোমরা প্রভুকে সম্মান কর, তাঁকে পবিত্র বলে মান্য কর, তাহলেই তিনি তোমাদের পক্ষে এক নিরাপদ আশ্রয় হবেন| কিন্তু তোমরা তাঁকে সম্মান কর না| তাই ঈশ্বর একটা পাথরের মতো হবেন এবং তোমরা সেই পাথরের ওপর আছড়ে পড়বে| ইস্রায়েলের দুটি পরিবার এই পাথরের ওপর হোঁচট খাবে এবং তারা আঘাত পাবে| জেরুশালেমের সমস্ত লোককে আটক করতে প্রভু একটা ফাঁদ স্বরূপ হবেন|
15 অনেক লোক এই পাথরের ওপর হোঁচট খাবে, তারা পড়ে যাবে এবং আহত হবে| অনেকে ফাঁদে পড়ে ধরা পড়বে|
16 যিশাইয় বললেন: “একটা চুক্তি কর এবং তাতে সীলমোহর দিয়ে রাখো| ভবিষ্যতের জন্য আমার শিক্ষামালাকে সঞ্চয় করে রাখো| আমার অনুগামীদের সামনে এই কাজটি কর|
17 চুক্তিটি হল:আমি আমাদের রক্ষা করতে প্রভুর জন্য অপেক্ষা করব| তিনি যাকোবের পরিবারের থেকে মুখ লুকোচ্ছেন| কিন্তু আমি প্রভুর জন্য অপেক্ষা করব| তিনি আমাদের রক্ষা করবেন|
18 “আমি এবং আমার ছেলেমেয়েরা ইস্রায়েলের লোকের চিহ্ন এবং প্রমাণ স্বরূপ| সিয়োন পর্বতনিবাসী প্রভু সর্বশক্তিমান আমাদের পাঠিয়েছেন|”
19 এবং তারা যদি তোমাকে বলে, “মাধ্যমদের, জ্যোতিষীদের, গণত্‌কার এবং বাজীকরদের প্রশ্ন কর, “লোকদের কি তাদের (নিজেদের) ঈশ্বরকে খোঁজা উচিত্‌ নয়? মৃতদের কাছে কি তারা জীবিতদের সম্পর্কে প্রশ্ন করবে?
20 শিক্ষামালা এবং চুক্তি তোমাদের মেনে চলা উচিত্‌| তোমরা এই আদেশগুলো না মানলে তোমাদের হয়তো ভুল আদেশ অনুসরণ করতে হবে| গুণীন এবং গণত্‌কারদের কাছ থেকে যে আদেশ উপদেশ আসে সেগুলো ভুল| এর কোন মূল্য নেই| এই আদেশ মেনে চললে তোমাদের কিছু লাভ হবে না|
21 তোমরা যদি ভুল, মিথ্যা আদেশ মেনে চল তাহলে দেশে বিপদ এবং দুর্ভির্ক্ষ দেখা দেবে| ক্ষুধার্ত লোক রুদ্ধ হয়ে তাদের রাজা ও তাঁর দেবতাদের শাপ দেবে| তারপর তারা সাহায্যের জন্য ঈশ্বরের খোঁজ করবে|
22 দেশের চারদিকে তাকিযে দেখলে তারা দেখতে পাবে শুধুই দুঃখ-দারিদ্র্য়, হতাশাজনক অন্ধকার| তাদের জোর করে অন্ধকারের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হবে|




অধ্যায় 9

1 কিন্তু যে বিপদে পড়েছিল তার জন্য কোন অন্ধকার থাকবে না| লোকরা অতীতে সবূলূন দেশ ও নপ্তালি দেশকে কোন গুরুত্বই দিত না| কিন্তু পরবর্তী-কালে সমুদ্রের নিকটবর্তী দেশ, য়র্দন নদীর অপর পারের দেশ এবং অ-ইহুদীদের মহকুমাটিকে ঈশ্বর খুব মহান করবেন|
2 এই সব দেশের লোক অন্ধকারে বাস করত| কিন্তু তারা মহা-আলোকটি দেখতে পাবে| ঐসব লোক কবরের মত অন্ধকার জায়গায় বাস করত| কিন্তু “মহা-আলোক” তাদের ওপর কিরণ দেবে|
3 হে ঈশ্বর, আপনিই জাতিটিকে বড় হতে দেবেন| আপনিই সেখানকার লোকদের সুখী করবেন| তারা আপনার উপস্থিতিতে যুদ্ধ জয়ের শেষে লুটের মাল ভাগের সময়কার আনন্দের মতো, ফসল তোলার সময়ের আনন্দের মতো সুখ ভোগ করবে|
4 কেননা আপনি তাদের ভারের বোঝা, তাদের কাঁধের বাঁক, শাস্তি দেওয়ার জন্য তাদের উপর ব্যবহৃত শএুদের দণ্ড সরিয়ে নেবেন| যেমন মিদিযনকে হারানোর পরে আপনি করেছিলেন|
5 যুদ্ধে দুর্বারভাবে এগিয়ে যাওয়া প্রতিটি বুট, যুদ্ধে সজ্জিত ব্যক্তির রক্তে রঞ্জিত সাজ-পোশাক আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হবে|
6 একটি বিশেষ শিশু জন্মগ্রহণ করার পরই এটা ঘটবে| ঈশ্বর আমাদের একটি পুত্র দেবেন| লোকদের নেতৃত্ব দেওয়ার ভার তার ওপর থাকবে| তার নাম হবে “আশ্চর্য়্য় মন্ত্রী, ক্ষমতাবান ঈশ্বর, চিরজীবি পিতা, শান্তির রাজকুমার|”
7 ন্যায়পরায়ণতা ও ধার্মিকতা দিয়ে তার শাসন স্থাপন করে| এখন থেকে এবং চির কালের জন্য দাযূদ পরিবার উদ্ভূত রাজার রাজত্বে শক্তি ও শান্তি বিরাজ করবে| তাঁর লোকদের জন্য প্রভুর প্রবল উদ্দীপনা তাঁকে এই সব কাজ করাবে|
8 আমার প্রভু যাকোবের সমস্ত লোকদের বিরুদ্ধে এক আদেশ দেবেন| ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে এই আদেশ পালন করা হবে|
9 তখন ইস্রায়েলের লোক এমনকি শমরিয়ার প্রধানরাও জানতে পারবে যে ঈশ্বর তাদের শাস্তি দিয়েছেন|এখন তারা অহঙ্কারী এবং দাম্ভিক| তারা বলে,
10 “এই ইঁটগুলো হয়তো ভেঙে পড়তে পারে, কিন্তু আমরা আবার শক্তিশালী পাথর দিয়ে সেটি গড়ে তুলব| এই সুকমোর গাছগুলি হয়তো কাটা যেতে পারে, কিন্তু আমরা সেখানে নতুন গাছ লাগাব| এবং এই নতুন গাছগুলি হবে বড় এবং শক্তিশালী এরস গাছ|”
11 তাই প্রভু ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য লোকের খোঁজ করবেন| প্রভু তাদের বিরুদ্ধে রত্‌সীনের শএুদের কাজে লাগাবেন|
12 প্রভু পূর্ব থেকে অরাম এবং পশ্চিম থেকে পলেষ্টীয়দের আনবেন| ঐ শএুরা তাদের সৈন্যবাহিনী ব্যবহার করে ইস্রায়েলকে পরাজিত করবেন| কিন্তু তবুও ইস্রায়েলের ওপর থেকে প্রভুর রোধ যাবে না| তবুও প্রভু এখানকার লোকদের শাস্তি দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকবেন|
13 ঈশ্বর ইস্রায়েলের লোকদের শাস্তি দিলেও তারা পাপ কাজ করা বন্ধ করবে না| তারা প্রভু সর্বশক্তিমানকে মেনে চলবে না|
14 তাই প্রভু ইস্রায়েলের মাথা এবং লেজকে, বৃন্ত ও ডালপালাকে এক দিনেই কেটে ফেলবেন|
15 (এখানে মাথার মানে হল শহরের সম্মানীয গুরুত্বপূর্ণ নেতা বা প্রধান| লেজ মানে হল মিথ্যা কথা বলে এমন ভাব্বাদী|)
16 যে সব নেতারা লোকদের ভুলপথে নিয়ে যাচ্ছে তাদের ও তাদের অনুসরণকারীদের ধ্বংস করা হবে|
17 এসব লোকগুলো দুষ্ট| প্রভু তরুণদের নিয়ে খুশী নন| তিনি তাদের বিধ্বা পত্নী ও অনাথ ছেলেমেয়েদের ওপর করুণা করবেন না| কারণ লোকরা দুষ্ট এবং এমন কাজ করে যা ঈশ্বর বিরুদ্ধ| তারা মিথ্যা কথা বলে| তাই ঈশ্বর এদের ওপর রুদ্ধ থাকবেন এবং এদের শাস্তি চলতেই থাকবে|
18 দুষ্ট বস্তু হল ছোট্ট আগুনের মতো| প্রথমে এই আগুন আগাছা এবং কাঁটাঝোপকে গ্রাস করে| তারপর সেই আগুন বনের আর বড় ঝোপঝাড়কে ভস্মীভূত করে| অবশেষে এটা প্রকাণ্ড আগুনের আকার ধারণ করে সব কিছুকে গ্রাস করে ফেলে|
19 প্রভু সর্বশক্তিমান খুবই রুদ্ধ হয়েছেন| তাই গোটা দেশ পুড়ে ছারখার হবে| সেই আগুনে সমস্ত লোক দ3 হবে| কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তিকে সমবেদনা জানাবে না, এমন কি নিজের ভাইকেও নয়|
20 খিদের জ্বালায় লোকরা ডান দিক থেকে কিছু খাবার ছিনিয়ে নেবে, কিন্তু তবু তারা ক্ষুধার্ত থেকে যাবে| তারা বাঁদিক থেকে কিছু খাবার ছিনিয়ে নেবে, কিন্তু তবু তাদের পেট ভরবে না| তারপর প্রত্যেকটি লোক তাদের নিজেদের দেহের মাংস খেতে থাকবে|
21 এর অর্থ হল মনঃশি ইফ্রযিমকে ও ইফ্রযিম মনঃশিকে এবং তারপর উভয়ে এক সঙ্গে যিহূদাকে আক্রমণ করবে|তবুও ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে প্রভুর রোধ মিটবে না| তিনি সেখানকার লোকদের শাস্তি দেওয়ার জন্য তখনও প্রস্তুত থাকবেন|




অধ্যায় 10

1 বাজে, অসত্‌ বিধি প্রনয়ণকারীদের দেখ| এই বিধি প্রনয়ণকারীরা এমন সব বিধি রচনা করে যা সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিসহ করে তোলে|
2 এই বিধি প্রণযনকারীরা গরীব মানুষের প্রতি ন্যায় সঙ্গত নয়| তারা গরীব মানুষের অধিকার কেড়ে নেয| তারা বিধ্বা এবং অনাথ ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে জিনিসপত্র চুরি করে নেওয়া অনুমোদন করে|
3 হে বিধি প্রণযনকারী, তোমরা যে সব কাজ করছ সেসব কাজের কৈফিযত্‌ যখন চাওযা হবে তখন তোমরা কি করবে? তোমাদের দূরের একটা দেশ থেকে ধ্বংস আসছে| তোমরা তখন কোথায় সাহায্যের জন্য ছুটবে? তোমাদের টাকাপয়সা ও ধনসম্পদ তোমাদের কোন সাহায্য করতে পারবে না|
4 তোমাদের এক জন বন্দীর পিছনে লুকোতে হবে অথবা তোমরা একজন মৃত দেহের নীচে পড়বে| ঈশ্বর তবুও রুদ্ধ থাকবেন| তিনি তোমাদের শাস্তি দেবার জন্য প্রস্তুত হবেন|
5 ঈশ্বর বলেছেন, “আমি অশূরকে একটা লাঠির মতো ব্যবহার করব| এোধর বশে, ইস্রায়েলকে শাস্তি দেওয়ার জন্য আমি অশূরকে কাজে লাগাব|
6 যে সব লোকরা অসত্‌ এবং নোংরা কাজ করছে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আমি অশূরকে পাঠাবো| আমি এই সব লোকের ওপর ভীষণ রুদ্ধ, তাই আমি অশূরকে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আদেশ দেব| সে তাদের পরাজিত করে তাদের সব সম্পদ লুঠ করে নেবে| অশূর ইস্রায়েলকে রাস্তায় কাদার মতো মাড়াবে|
7 “কিন্তু অশূর বুঝতে পারবে না যে আমি তাকে কাজে লাগিয়েছি| অশূর ভাবতে পারবে না যে সে আমার অস্ত্র| সে শুধু অন্য লোকদের হত্যা করতে চাইবে| অশূর বহু দেশকে ধ্বংস করার পরিকল্পনা করছে|
8 অশূর মনে মনে বলে, ‘আমার সব নেতারা কি রাজাদের মত নয়?
9 কল্নো কি কর্কমীশের মতো নয়? হমাত্‌ কি অর্পদের মতো নয়? শমরিয়া কি দম্মেশকের মতো নয়?
10 আমি ঐ দুষ্ট রাজ্যগুলিকে পরাজিত করেছি এবং এখন আমি ওগুলি নিয়ন্ত্রণ করছি| এই সব দেশের লোকরা যেসব মূর্ত্তির পূজো করে তা জেরুশালেম ও শমরিয়ার থেকে বেশী|
11 আমি শমরিয়া এবং তার মূর্ত্তিগুলির যে দশা করেছি জেরুশালেম ও তার মূর্ত্তিগুলির দশাও তাই করব|”‘
12 সিয়োন পর্বত ও জেরুশালেমে প্রভু নিজের পরিকল্পনা মতো সমস্ত কাজ শেষ করার পর তিনি অশূরকে শাস্তি দেবেন| অশূরের রাজা খুবই দাম্ভিক হয়ে উঠবেন আর এই অহঙ্কারের ফলে তিনি অনেক অর্থহীন কু-কাজ করবেন| তাই ঈশ্বর তাকে শাস্তি দেবেন|
13 অশূরের রাজা বলেন, “আমি খুবই জ্ঞানী| আমি আমার জ্ঞান ও ক্ষমতা দিয়ে বহু বড় বড় কাজ করেছি| আমি বহু জাতিকে পরাজিত করে তাদের ধনসম্পদ লুঠ করেছি এবং তাদের এীতদাস বানিয়েছি| আমি খুবই প্রতাপশালী লোক|
14 কোন কোন লোক যেমন পাখির বাসা থেকে অনায়াসে তাদের ডিম নিয়ে নেয, তেমনি আমিও নিজ হাতে সব দেশের ধনসম্পদ অনায়াসে লুঠ করেছি| একটা পাখি প্রাযই তার ডিম এবং বাসাকে একলা রেখে পালায়| তাই বাসাকে আগল দেবার জন্য বা কিচির-মিচির করে ডানা, ঠোঁট দিয়ে লড়াই করে ডিমকে রক্ষা করার জন্য কোন পাখি না থাকায় লোকে অনায়াসেই সেই ডিম নিয়ে পালায়| তেমনি গোটা পৃথিবীকে নিজের অধীনে আনার সময় আমাকে নিরস্ত করার মতো সাহস ও শক্তি কারও ছিল না|”
15 যে লোক কুড়ুল চালায কুড়ুল কি তার থেকে নিজেকে বেশী শ্রেষ্ঠ বলে মনে করে? একটা করাত কি করাত চালকের থেকে নিজেকে শক্তিশালী বলে মনে করে? কিন্তু অশূর মনে করে সে ঈশ্বরের চেয়ে বেশী ক্ষমতাবান ও গুরুত্বপূর্ণ| কোন লোক লাঠি দিয়ে কাউকে শাস্তি দেওয়ার পর লাঠি নিজেকে লোকটির চেয়ে বেশী ক্ষমতাবান মনে করলে যেমন হয়, অশূরের ভাবনাও অনেকটা সে রকমই|
16 অশূর নিজেকে মহান মনে করে| তাই তার দম্ভকে খর্ব করার জন্য প্রভু সর্বশক্তিমান অশূরের বিরুদ্ধে ভযানক রোগ পাঠাবেন| এক জন অসুস্থ যেমন করে তার ওজন হারায় ঠিক সেই ভাবে অশূরও তার ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি হারাবেন| তখন অশূরের মহত্ব ধ্বংস হবে| যতক্ষণ না সবকিছু বিনষ্ট হয় ততক্ষণ এটা একটা জ্বলন্ত অঙ্গারের মতো থাকবে|
17 ইস্রায়েলের আলো (ঈশ্বর) হবে আগুনের মতো| পবিত্র এক জনটি হবেন আগুনের শিখার মতো| তিনি ইস্রায়েলের আগাছা ও কাঁটাঝোপকে এক দিনে পুড়িয়ে দেবেন|
18 তারপর আগুন আরও ব্যাপক হয়ে দ্রাক্ষাক্ষেত এবং বড় বড় গাছকে পুড়িয়ে ছাই করে ফেলবে| অবশেষে লোক জন সমেত সব কিছু ধ্বংস হয়ে যাবে| অশূর রাজ্য প্রায ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে| অশূরের অবস্থা হবে পচা মোটা কাঠের টুকরোর মতো|
19 বনের অবশিষ্ট গাছের সংখ্যা এত কমে যাবে যে একটা ছোট্ট শিশুর পক্ষেও তা গুনতে অসুবিধা হবে না|
20 সেই সময় ইস্রায়েলের অবশিষ্টাংশ এবং যাকোব পরিবারের বেঁচে যাওয়া লোকরা তাদের অত্যাচারীদের ওপর আর নির্ভর করবে না| তারা ইস্রায়েলের পবিত্রতম প্রভুর ওপর যথার্থভাবে নির্ভর করতে শিখবে|
21 যাকোব পরিবারের জীবিত লোকরা আবার সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে ফিরে আসবে|
22 হে ইস্রায়েল, তোমার লোকের সংখ্যা বিশাল| অনেকটা সমুদ্রের বালুকণার মতো| কিন্তু তাদের মধ্যে খুব অল্প লোকই বেঁচে থাকবে এবং তারা ঈশ্বরের কাছে ফিরে আসবে| কিন্তু প্রথমে, তোমাদের দেশটি ধ্বংস হবে| ঈশ্বর ঘোষণা করেছেন যে তিনি তোমাদের দেশ ধ্বংস করবেন| তারপর ভূখণ্ডটির ওপর প্লাবনের মতো সুবিচার চলে আসবে|
23 আমার গুরু, প্রভু সর্বশক্তিমান নিশ্চিত ভাবেই দেশকে ধ্বংস করবেন|
24 অতএব আমার প্রভু, সদাপ্রভু সর্বশক্তিমান বলেন, “সিয়োন নিবাসী আমার লোকরা তোমরা অশূরকে ভয় পেও না| অতীতে যেমন মিশর করেছিল তেমনি ভাবে অশূরও তোমাদের প্রহার করবে| এটা ঠিক যেন অশূর তোমাদের লাঠি দিয়ে প্রহার করছে|
25 কিন্তু অল্প সময় পরে আমার রাগ পড়ে যাবে| মনে হবে যে অশূর তোমাদের যথেষ্ট শাস্তি দিয়েছে| তাই আর শাস্তির দরকার নেই|”
26 তারপর প্রভু সর্বশক্তিমান অশূরকে চাবুক দিয়ে মারবেন যেমন প্রভু অতীতে, রাবেন শৈলে মিদিযনকে পরাজিত করেছিলেন| যখন প্রভু অশূরকে আক্রমণ করবেন তখন একই রকম ঘটনা ঘটবে| প্রভু একদা লাঠিকে সমুদ্রের ওপর তুলে ধরে তার লোকদের মিশরের হাত থেকে রক্ষা করে মিশরকে শাস্তি দিয়েছিলেন| এটা সে রকমই হবে যখন প্রভু তার লোকদের অশূরের হাত থেকে রক্ষা করবেন|
27 একটা দীর্ঘ কাঠের দণ্ড কাঁধে বইলে যে কষ্ট হয় অশূর তোমাদের জন্য সে রকম অসুবিধার সৃষ্টি করবেন| কিন্তু সেই কাঠের দণ্ড তোমার কাঁধ থেকে সরে যাবে| ঐ কাঠের দণ্ড তোমার ঈশ্বরের শক্তিতে ভেঙে যাবে|
28 সেনাবাহিনী অযাতের কাছে প্রবেশ করবে| তারা মিগ্রোণ হেঁটে পেরিযে আসবে| মিক্মসে সেনারা রসদ রাখবে|
29 সেনারা (মাবারা) “এসিং” দিয়ে নদী পার হবে| তারা জেরুশালেমের উত্তরের শহর গেবাতে রাত কাটাবে| রামা শহর ভয়ে কাঁপবে| শৌলের গিবিয়াতে লোকরা ভয়ে পালাবে|
30 ওহে ‘বাথগল্লীম’ তুমি চিত্কার কর! লয়িশা শোন| অনাথোত্‌ উত্তর দাও|
31 মদ্মেনার লোকরা পালাচ্ছে| গেবীমের লোকরা লুকোচ্ছে|
32 আজকে, সেনারা নোবেতে থামবে এবং জেরুশালেমের সিয়োন পর্বতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হবে|
33 দেখ, আমাদের প্রভু, সদাপ্রভু সর্বশক্তিমান বিরাট বৃক্ষটি (অশূর) আতঙ্ক দিয়ে কেটে ফেলবেন| গুরুত্বপূর্ণ লোক কাটা পড়বে| এবং গর্বিত লোকদের বিনীত করা হবে|
34 প্রভু কুঠার দিয়ে বন কেটে ফেলবেন এবং লিবানোনের বড় বড় বৃক্ষগুলির গুরুত্বপূর্ণ লোকদের পতন হবে|




অধ্যায় 11

1 একটি ছোট গাছ (শিশু) য়িশযের গোড়া (পরিবার) থেকে বাড়বে| ঐ শাখাটি য়িশযের শিকড়গুলি থেকে বাড়বে|
2 আর প্রভুর আত্মা এই বালকটির ওপরে ভর করবে| এই আত্মা বালকটিকে জ্ঞান, বুদ্ধি, পথনির্দেশ এবং শক্তি দেবে| এই আত্মা বালকটিকে প্রভুকে জানার এবং তাঁকে সম্মান করার শিক্ষা দেবে|
3 প্রভুর প্রতি সমীহ দ্বারা বালকটি অনুপ্রাণিত হবে|সে বাইরের চেহারা দিয়ে কোন কিছু বিচার করবে না| কোন কিছু শোনার ভিত্তিতে সে রায় দেবে না|
4 সে সততা ও ধার্মিকতার সঙ্গে দীন-দরিদ্রদের বিচার করবে| সে ন্যাযের সঙ্গে দেশের দীনহীনদের বিভিন্ন বিষয়ের নিষ্পত্তি করবে| যদি সে কোন লোককে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয তাহলে তার আদেশমতো ঐ লোকটিকে শাস্তি পেতেই হবে| যদি সে লোকদের মৃত্যুর আদেশ দেয় তাহলে তাদের হত্যা করা হবে| সুবিচার, ধার্মিকতাই এই শক্তির অন্যতম উত্স| এই গুণগুলি তাঁর কোমরের বন্ধনীর মতো হবে|
5
6 সে সময় নেকড়ে বাঘ এবং মেষশাবক এক সঙ্গে শান্তিতে বাস করবে| বাঘ এবং ছাগল ছানা এক সঙ্গে শান্তিতে শুয়ে থাকবে| বাছুর, সিংহ এবং ষাঁড় একসঙ্গে শান্তিতে বাস করবে| এবং একটা ছোট্ট শিশু তাদের চালনা করবে|
7 গরু এবং ভাল্লুক একসঙ্গে শান্তিতে বাস করবে| তাদের সমস্ত শাবকরাও একসঙ্গে বাস করবে| কেউ কারো অনিষ্ট করবে না| সিংহ গরুর মতো খড় খাবে| এমনকি সাপও মানুষকে দংশন করবে না|
8 একটা শিশুও নির্ভয়ে কেউটে সাপের গর্তের ওপর খেলা করতে পারবে| বিষাক্ত সাপের গর্তের মধ্যেও সে নির্দ্বিধায হাত দিতে পারবে|
9 এই সব বিষয়গুলি আসলে প্রমাণ করে কেউ কারও কোন ক্ষতি না করে পরস্পর শান্তিতে বাস করবে| লোকরা আমার পবিত্র পর্বতের কোন অংশে হিংসা কিংবা ধ্বংসের আশ্রয় নেবে না| কারণ এই সব লোকরা যথার্থভাবে প্রভুকে চেনে ও জানে| ভরা সমুদ্রের জলের মতো প্রভু বিষয়ক অগাধ জ্ঞানে তারা পরিপূর্ণ থাকবে|
10 সে সময় য়িশযের পরিবারবর্গ থেকে একজন বিশেষ ব্যক্তি থাকবেন| এই ব্যক্তি লোকের পতাকা স্বরূপ হবেন| এই “পতাকা” সকল দেশকে তাঁর চারপাশে আসার জন্য পথ দেখাবে| সব দেশ তাঁর কাছে তাঁদের করণীয কর্তব্য়ের ব্যাপারে জানতে চাইবে| এবং তাঁর বিশ্রামস্থল মহিমান্বিত হবে|
11 সেদিন প্রভু (ঈশ্বর) তাঁর লোকদের অবশিষ্ট অংশকে মুক্ত করে আনতে দ্বিতীয় বারের জন্য হস্তক্ষেপ করবেন| (অর্থাত্‌ তিনি অশূর, মিশর, পথ্রোষ, এলম, বাবিল, হমাত্‌ এবং সমুদ্রের চতুর্দিকের সমস্ত উপত্যকা থেকে অবশিষ্ট লোকদের আনবেন|)
12 আর তিনি সমস্ত লোকদের জন্য “পতাকা” তুলবেন| ইস্রায়েল ও যিহূদা থেকে বিতাড়িত লোক যারা পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্ত ভাবে ছিন্নমূলের মতো বাস করছিল তাদের তিনি একত্রিত করবেন|
13 এই সময় ইফ্রযিমের (ইস্রায়েলের) ঈর্ষা দূর হবে| ইফ্রযিম আর যিহূদার ঈর্ষা করবে না| যিহূদার আর কোন শএু থাকবে না| এবং যিহূদা ইফ্রযিমের অসুবিধার কারণ হবে না|
14 কিন্তু ইফ্রযিম এবং যিহূদা একসঙ্গে পলেষ্টীয়দের আক্রমণ করবে| কোন ছোট্ট প্রাণীর ওপর দুটি পাখি এক সঙ্গে ছোঁ মারলে যেমন হয় তাদের আক্রমণ অনেকটা সে রকম হবে| দুটি দেশ এক সঙ্গে পূর্বের দেশ থেকে ধনসম্পদ লুঠ করবে| ইফ্রযিম এবং যিহূদা ইদোম, মোয়াব এবং অম্মোনের লোকদের নিয়ন্ত্রণ করবে|
15 প্রভু মিশরের উপসাগরকে শুকিয়ে ফেলবেন এবং ধ্বংস করে ফেলবেন| তিনি ফরাত্‌ নদীর ওপর তাঁর হাত আন্দোলিত করবেন এবং ফরাত্‌ সাতটা ছোট ছোট নদীতে বিভক্ত হবে| এই ছোট ছোট নদীগুলি গভীর হবে না| লোকরা অনায়াসেই জুতো পরে নদীগুলির ওপর দিয়ে হেঁটে পার হতে পারবে|
16 আর মিশর দেশ থেকে ইস্রায়েল বেরিয়ে আসার সময় যেমন তার জন্য পথের সৃষ্টি হয়েছিল তেমনি অশূরে জীবিত থাকা তাঁর লোকদের অশূর ত্যাগের জন্য ঈশ্বর একটি নতুন পথের সৃষ্টি করবেন|




অধ্যায় 12

1 আর সেদিন তুমি বলবে:“হে প্রভু আমি তোমার প্রশংসা করি! তুমি আমার প্রতি রুদ্ধ ছিলে| কিন্তু এখন আর আমার প্রতি রুষ্ট থেকো না! আমার প্রতি তোমার ভালোবাসা প্রদর্শন কর|”
2 ঈশ্বর আমাকে রক্ষা করেন| আমি তাকে বিশ্বাস করি| আমি ভয় পাই না| তিনি আমাকে রক্ষা করেন| প্রভু য়িহোবা আমার শক্তিও বটে|তিনি আমাকে রক্ষা করেন এবং আমি তাঁর প্রশংসার গান গাই|
3 পরিত্রাণের ঝর্ণা থেকে তোমরা জল তুলবে এবং তারপর তোমরা আনন্দিত হবে|
4 তারপর তুমি বলবে, “প্রভুর প্রশংসা কর! তাঁর নাম উপাসনা কর! সমস্ত দেশে তাঁর কর্মের কথা বিদিত করে দাও| ঘোষণা কর যে তাঁর নাম মহান!”
5 প্রভুর প্রশংসার গান গাও! কেন না, তিনি মহান কাজ করেছেন| এই খবর পৃথিবীময় ছড়িয়ে দাও| পৃথিবীর সব মানুষ তা জানুক|
6 হে সিয়োনবাসীগণ উচ্চস্বরে ঈশ্বরের স্তবগান কর| ইস্রায়েলের পবিত্রতম ঈশ্বর অত্যন্ত সএযিভাবে তোমার সঙ্গে আছেন| তাই সকলে খুশী হও|




অধ্যায় 13

1 আমোসের পুত্র যিশাইয় ঈশ্বরের কাছ থেকে বাবিল বিষয়ক এই দুঃখজনক বার্তা পান|
2 ঈশ্বর বললেন,“তোমরা বৃক্ষশূন্য পর্বতের ওপরে পতাকা তোল| লোকদের হাত নেড়ে চিত্কার করে ডাক| তাদের বল, গুরুত্বপূর্ণ লোকদের জন্য যে প্রবেশপথ সেই পথ দিয়ে প্রবেশ করতে|”
3 ঈশ্বর বললেন,“আমি ঐসব লোকদের অন্যান্যদের থেকে আলাদা করেছি এবং তাদের বিষয়ে আমি নিজে আদেশ দিয়েছি| আমি রুদ্ধ| আমি লোকদের শাস্তি দেওয়ার জন্য আমার শক্তিশালী যোদ্ধাদের একত্র করেছি, যারা আমার গর্ব ও আনন্দ|
4 “পর্বতগুলোতে একটা বিরাট শব্দ আছে| সেই শব্দটি শোন! এটা পর্বতমালায় বহু জনসমাগমের শব্দ| অনেক রাজ্যের লোকরা একসঙ্গে জড়ো হয়েছে| প্রভু সর্বশক্তিমান তাঁর সেনাবাহিনীকে ডাকছেন|
5 প্রভু এবং তার সেনাদল আসছে| দূর দেশ থেকে তারা আসছে, দিগন্তের ওপার থেকে| প্রভু তাঁর রোধ প্রদর্শন করতে সেনাদলকে অস্ত্রের মতো ব্যবহার করবেন, এই সেনাদল গোটা দেশকে ধ্বংস করবে|”
6 হাহাকার কর, নিজেদের জন্য দুঃখ কর| কেননা প্রভুর বিশেষ দিন আগত প্রায| সেই সময়ে আসছে যখন শএুরা তোমার সম্পদ লুঠ করবে| সর্বশক্তিমান ঈশ্বর বয়ং তা ঘটাবেন|
7 লোকরা তাদের সাহস হারাবে| ভয় মানুষকে দুর্বল করবে|
8 প্রতিটি মানুষই ভয় পাবে| এই ভয় মহিলাদের প্রসব বেদনার মতো তাদের কষ্ট দেবে| তাদের মুখ হবে অগ্নিবর্ণ| লোকে একে অপরের দিকে ভযার্ত চোখে বিস্মযে তাকিযে থাকবে|
9 দেখ, প্রভুর বিশেষ দিন আসছে| এই দিন হবে ভয়ঙ্কর| ঈশ্বর রোধ গোটা দেশকে ধ্বংস করবেন| ঈশ্বর এই দেশের সমস্ত পাপী লোকদের ধ্বংস করবেন|
10 সেই দিন আকাশে অন্ধকার ঘনিয়ে আসবে| সূর্য়, চাঁদ এবং তারারা কিরণ দেবে না|
11 ঈশ্বর বললেন, “আমি পৃথিবীতে বিপর্য়য ঘটাব| আমি দুষ্ট লোকদের তাদের পাপের জন্য শাস্তি দেব| আমি অহঙ্কারী লোকদের তাদের দর্প হারিযে দেব| আমি নিষ্ঠুর লোকদের গর্ব চূর্ণ করে দেব|
12 শুধুমাত্র অল্প কয়েকজন লোক বেঁচে থাকবে| এদের সংখ্যা এত নগন্য হবে যে তা সোনা খোঁজার মতোই কঠিন| এবং এইসব লোকেরা খাঁটি সোনার থেকেও অনেক বেশী দামী|
13 রোধ আমি আকাশমণ্ডলকে কম্পিত করব| এর ফলে পৃথিবী টলে গিয়ে স্থান ভ্রষ্ট হবে|”যেদিন প্রভু সর্বশক্তিমান তাঁর রোধর বহিঃপ্রকাশ ঘটাবেন সেদিন এসব ঘটনা ঘটবে|
14 তখন বাবিল থেকে লোকরা আহত হরিণের মতো, মেষপালকবিহীন মেষের মতো নিজ নিজ দেশের দিকে ছুটে পালাবে|
15 কিন্তু শএুরা বাবিলের লোকদের তাড়া করবে এবং যে ধরা পড়বে তাকেই তারা তরবারি দিয়ে হত্যা করবে|
16 তাদের বাড়িগুলি লুণ্ঠিত হবে| তাদের স্ত্রীরা ধর্ষিত হবে| আর তাদের চোখের সামনেই তাদের ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের পিটিযে পিটিযে হত্যা করা হবে|
17 ঈশ্বর বললেন, “দেখ আমি মাদীয়দের সেনা দ্বারা বাবিলকে আক্রমণ করাব| রূপো ও সোনা দেওয়া হলেও মাদীয়র সেনারা লড়াই থামাবে না|
18 তীরন্দাজরা যুবকদের হত্যা করবে| শিশুদের তারা ক্ষমা করবে না| তারা ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের প্রতিও করুণা করবে না|
19 “ঈশ্বর বাবিলকে ধ্বংস করবেন ঠিক যে ভাবে তিনি সদোম ও ঘমোরাকে ধ্বংস করেছিলেন| যদিও বাবিল হচ্ছে সব চেয়ে সুন্দর রাজ্য এবং সেখানকার নাগরিকদের গর্বস্বরূপ|
20 কিন্তু বাবিল আর সুন্দর থাকবে না| ভবিষ্যতে লোক সেখানে বাস করবে না| আরবীও সে স্থানে তাঁবু ফেলবে না| মেষপালকরা সেখানে মেষ চরাবে না|
21 শুধুমাত্র মরুভূমির হিংস্র বন্য জন্তু জানোযাররাই সেখানে বাস করবে| বাবিলের বাড়িতে কোন লোক বাস করবে না| সেখানে বন্য জন্তুরা শুয়ে থাকবে| বন্য ছাগলরা খেলা করবে| পেঁচা এবং বড় বড় পাখিতে বাড়িগুলি ভর্তি হয়ে যাবে|
22 বাবিলের সুন্দর প্রাসাদোপম মনোরম বাড়িগুলিতে বন্য কুকুর এবং নেকড়েরা চিত্কার করতে থাকবে| বাবিলকে ধ্বংস করা হবে| বাবিলের শেষ সময় ঘনিয়ে এসেছে| বাবিলের দিন আর বাড়ানো হবে না|”




অধ্যায় 14

1 ভবিষ্যতে প্রভু যাকোবকে পুনরায় করুণা করবেন| প্রভু আবার একবার ইস্রায়েলের লোকদের বেছে নেবেন এবং তাদের দেশ তাদের ফিরিয়ে দেবেন| তখন বিদেশী লোকরা যাকোবের পরিবারবর্গের সঙ্গে সংযুক্ত হবে| এবং তারা একই পরিবারের লোক যাকোবের বংশোদ্ভূত বলে পরিগণিত হবে|
2 ঐ জাতির লোকরা ইস্রায়েলীয়দের ইস্রায়েলে ফিরিয়ে আনবে| ঐ জাতির লোকরা ইস্রায়েলের দাসে পরিণত হবে| তখন ইস্রায়েলকে যারা দখল করেছিল, ইস্রায়েল তাদের দখল করবে এবং যারা তাদের অত্যাচার করেছিল তাদের শাসন করবে|
3 প্রভু তোমাদের কঠোর পরিশ্রম দূর করে তোমাদের আরামের ব্যবস্থা করবেন| অতীতে তোমরা দাস ছিলে| লোকরা তোমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে বাধ্য করেছিল| কিন্তু প্রভু তোমাদের কঠোর পরিশ্রমের অবসান ঘটাবেন|
4 সেদিন তোমরা বাবিলের রাজা সম্পর্কে এই গানটি গাইতে শুরু করবে| গানটি হল:রাজা তাঁর শাসনকালে অত্যন্ত জঘন্য ব্যক্তি ছিলেন| কিন্তু তাঁর শাসনকাল এখন শেষ হয়ে গেল|
5 প্রভু দুষ্ট শাসকদের রাজদণ্ড ভেঙে দিয়েছেন| প্রভু তাদের ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছেন|
6 বাবিলের রাজা রোধ তাঁর প্রজাদের মারধর করতেন| তিনি কখনোই তাঁর প্রজাদের মারধর থেকে রেহাই দেননি| তিনি এোধ প্রজাদের শাসন করেছেন| তিনি প্রজাদের আঘাত না করে ক্ষান্ত থাকেন নি|
7 কিন্তু এখন গোটা দেশ শান্ত ও সুস্থির হয়েছে| সকলে আনন্দ করতে শুরু করেছে|
8 তুমি এক জন শযতান রাজা ছিলে| কিন্তু তোমার শাসন শেষ হয়েছে| এমন কি দেবদারু ও লিবানোনের এরস বৃক্ষরাও তোমার পতনে খুশী| এই গাছরা বলে: “রাজা আমাদের কেটে ফেলত| কিন্তু রাজার পতন হয়েছে| সে আর কখনো উঠে দাঁড়াতে পারবে না|”
9 পাতাল তোমার আগমনে বিচলিত হচ্ছে| পাতাল পৃথিবীর সমস্ত প্রধানদের প্রেতাত্মাদের তোমার জন্য জাগিয়ে তুলছে| পাতাল রাজাদের তাদের সিংহাসন থেকে দাঁড় করাচ্ছে| তারা তোমার আগমনের জন্য প্রস্তুত|
10 এই সব নেতারা তোমার সঙ্গে মজা করবে| তারা বলবে: “তুমি এখন আমাদের মতোই একটি মৃতদেহ| তুমি ঠিক আমাদের মতোই|”
11 তোমার দম্ভ, তোমার অহঙ্কার পাতালে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে| তোমার বীণার সুর তোমার সেই গর্বিত আত্মার আগমন ঘোষণা করছে| পোকামাকড় তোমার দেহকে কুরে কুরে খাবে| তুমি তাদের ওপর বিছানার মতো শুয়ে থাকবে| কৃমিরা তোমার দেহকে কম্বলের মতো ঢেকে রাখবে|
12 তুমি সকালের তারার মতো ছিলে| কিন্তু এখন তোমার আকাশ থেকে পতন হয়েছে| একদা পৃথিবীর সমস্ত জাতি তোমার সামনে মাথা নত করেছে| কিন্তু এখন তোমাকে কেটে ফেলা হয়েছে|
13 তুমি সর্বদা নিজেকে বলতে: “আমি হব পরাত্‌পরের মতো| আমি স্বর্গারোহণ করব| ঈশ্বরের নক্ষত্রমণ্ডলীর উর্দ্ধে আমার সিংহাসন উন্নীত করব| আমি পবিত্র দেবতাদের সমাগম পর্বতে অধিষ্ঠান করব| ঐ পর্বতের ওপর দেবতাদের সঙ্গে আমার সাক্ষাত হবে|
14 আমি মেঘের বেদীতে উঠব| আমি পরাত্‌পরের তুল্য হব|”
15 কিন্তু সেটা ঘটেনি| তুমি ঈশ্বরের সঙ্গে স্বর্গে যেতে পারো নি| তোমাকে সমাধিস্থলের গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত করা হয়েছে|
16 লোকরা তোমাকে দেখে তোমার কথা ভাববে| দেখবে তুমি শুধুই একটা মৃতদেহ| তারা দেখবে যে তুমি একটি শবদেহের চেয়ে বেশী কিছু নও এবং বলবে: “এ-ই কি সেই একই ব্যক্তি যে পৃথিবীর সমস্ত রাজ্যের প্রচণ্ড ভয়ের কারণ ছিল?
17 এ কি সেই ব্যক্তি যে নগরের পর নগর ধ্বংস করে তাকে মরুভূমিতে পরিণত করত? এ কি সেই ব্যক্তি যে যুদ্ধবন্দী লোকদের বাড়ি ফিরতে দিত না?”
18 পৃথিবীর সব রাজা সসম্মানে মারা গেছেন| প্রত্যেক রাজারই নিজস্ব সমাধি রয়েছে|
19 কিন্তু তোমার মতো অত্যাচারী রাজাকে কবরও প্রত্যাখ্যান করেছে| তোমার অবস্থা এখন গাছের কাটা ডালের মতো| গাছের ডালকে কেটে যেমন ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয় তেমনি তুমিও নিজ কবরস্থান থেকে দূরে নিক্ষিপ্ত হয়েছ| তুমি যুদ্ধে নিহত সেইসব ব্যক্তির শরীর দিয়ে ঢাকা যারা গর্তের মধ্যে পাথরের মত গড়িযে যায়| তুমি সেই মৃতদেহের মত যাকে মাড়িয়ে যাওয়া হয়|
20 অনেক রাজা মারা গিয়েছে এবং তাদের নিজস্ব কবর রয়েছে| কিন্তু তুমি তাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারো না| কারণ তুমি তোমার নিজের দেশকেই ধ্বংস করেছ| তুমি তোমার প্রজাদের হত্যা করেছ| তোমার ছেলেমেয়েরা তোমার মতো ধ্বংসকার্য়্য় চালিযে যাবে না| তাদের বিরত করা হবে|
21 তোমরা তার ছেলেমেয়েদের হত্যার জন্য নিজেদের প্রস্তুত কর| তাদের হত্যা কর কারণ তাদের পিতা দোষী| তার ছেলেমেয়েরা আর কখনোই দেশের শাসন কর্তৃত্ব হাতে নিতে না পারে| তার ছেলেমেয়েরা আবার কখনও পৃথিবীটাকে তাদের নিজেদের শহরে ভরিয়ে ফেলতে পারবেনা|
22 প্রভু সর্বশক্তিমান বললেন, “আমি বিখ্যাত শহর বাবিলের খ্যাতিকে শেষ করব| আমি এখানকার লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব| আমি বাবিলের সমস্ত লোককে ধ্বংস করব| আমি তাদের ছেলেমেয়েদের, তাদের পৌত্র-পৌত্রীদের এবং তাদের প্রপৌত্র-পৌত্রিদের ধ্বংস করব|” প্রভু নিজে একথাগুলি বলেছেন|
23 প্রভু বললেন, “আমি বাবিলকে পশুদের (অবাধ) বিচরণ ভূমিতে পরিণত করব| এই দেশ (শহর) জলাভূমিতে পরিণত হবে| আমি ‘ধ্বংসের ঝাঁটা’ দিয়ে বাবিলকে বিদায করব|” প্রভু সর্বশক্তিমান এই কথাগুলি বললেন|
24 প্রভু সর্বশক্তিমান প্রতিশ্রুতি দিয়ে বললেন, “আমি শপথ করছি যে এই সব ঘটনাগুলি আমার ভাবনা, পরিকল্পনা এবং সঙ্কল্প মতো ঘটবেই|
25 আমি আমার দেশে অশূর রাজকে ধ্বংস করব| আমি আমার পর্বতগুলোর ওপরে ঐ রাজার ওপর দিয়ে হেঁটে যাব| এই রাজাটি আমার লোকদের দাসে পরিণত করেছিল| সে তাদের দিয়ে ভারী বোঝা বহন করিযেছে| এই ভার সরিয়ে ফেলা হবে|
26 পৃথিবীব্যাপী আমার সমস্ত লোকদের আমি এগুলি করার পরিকল্পনা করেছি| সমস্ত দেশকে শাস্তি দেওয়ার জন্য আমি আমার ক্ষমতাকে কাজে লাগাব|”
27 প্রভু যখন কোন পরিকল্পনা করেন তখন কারও পক্ষেই তা ব্যর্থ করা সম্ভব নয়| যখন প্রভু লোকদের শাস্তি দেওয়ার জন্য তাঁর হাত তোলেন তখন কারও পক্ষেই তাঁকে থামানো সম্ভব নয়|
28 যে বছর আহস রাজার মৃত্যু হয় সে বছর এই বার্তা প্রদান করা হয়েছিল|
29 হে পলেষ্টীয়, যে রাজা তোমাদের ওপর অত্যাচার করত সে মারা যাওয়ায় তোমরা খুবই খুশী হয়েছ| কিন্তু তোমরা সত্যি সত্যিই আনন্দিত হযো না| এটা সত্যি যে তার শাসনের অবসান ঘটেছে| কিন্তু এরপর রাজার পুত্র শাসন করবে| এবং এটা কোন সাপের আরও বিষাক্ত সাপের জন্ম দেওয়ার মতো ব্যাপার| এই নতুন রাজা তোমাদের কাছে একটি অতি বেগবান এবং ভয়ঙ্কর সাপের মতো হবে|
30 তবে আমার দীনহীন লোকরা নিরাপদে খেতে পারবে, ঘুমাতে পারবে এবং নিজেদের নিরাপদ মনে করবে| তাদের ছেলেমেয়েরা নিরাপদে থাকবে| আমার দরিদ্র লোকরা শুতে পারবে এবং নিজেদের নিরাপদ ভাবতে পারবে| কিন্তু আমি দুর্ভিক্ষ দ্বারা তোমার পরিবারকে হত্যা করব এবং তোমার অবশিষ্ট সমস্ত লোক মারা যাবে|
31 হে পুরদ্বারবাসী তোমরা কাঁদ| হে পুরবাসী তোমরা বিলাপ কর| হে পলেষ্টীয়বাসী তোমরা ভয় পাবে| তোমাদের সাহস গরম মোমের মতো গলে যাবে| দেখ, ধোঁযা উত্তরের দিক থেকে আসছে| অশূর থেকে শক্তিশালী সেনাবাহিনী আসছে|
32 এই সেনারা তাদের দেশে বার্তাবাহক পাঠাবে| এই বার্তাবাহকরা তাদের লোকদের কি বলবে? তারা ঘোষণা করবে: পলেষ্টীয় পরাজিত হয়েছে| কিন্তু প্রভু সিয়োনকে শক্তিশালী করেছেন এবং তার দীন দরিদ্র লোকরা নিরাপদে সেখানে আশ্রয় নেবে|




অধ্যায় 15

1 এটা মোয়াব সম্পর্কে একটি বার্তা: এক দিন রাতে মোয়াবের আর নগর থেকে সেনারা সমস্ত ধনসম্পদ লুঠ করল| ঐ রাতেই নগরটিকে ধ্বংস করা হল| এক দিন রাতে সেনারা মোয়াবের কীর নগর লুঠ করল| ঐদিন রাতেই নগরটিকে ধ্বংস করা হল|
2 রাজার পরিবার এবং দীবন শহরের লোকরা কান্নাকাটি করার জন্য উচ্চ স্থানে যাচ্ছে| মোয়াবের লোকরা নবো ও মেদবা শহরের জন্য কাঁদছে| সকলে তাদের শোকপ্রকাশের জন্য তাদের মাথা ও দাড়ি কামিয়ে ফেলেছে|
3 বাড়ির ছাদ থেকে রাস্তাঘাট পর্য়ন্ত সর্বত্রই মোয়াবের লোকরা শোকের পোশাক পরে কান্নাকাটি করছে|
4 হিশ্বোন ও ইলিয়ালী শহরের লোকরা এত জোরে কান্নাকাটি করছে যে, সুদূর য়হস পর্য়ন্ত তার শব্দ শোনা যাচ্ছে| এমনকি সেনারাও আকস্মিক ভয় পেয়ে গিয়েছে| তারা ভয়ে কাঁপছে|
5 মোয়াবের দুঃখে আমার হৃদয় ব্যথিত| লোকরা নিরাপত্তার জন্য ছুটছে| তারা সোযর, ইগ্লত্‌-শলিশীযায় পর্য়ন্ত যাচ্ছে| তারা লূহীতের পার্বত্যময় পথ ধরে ওঠার সময় বিশ্রীভাবে চিত্কার করে কাঁদছে| হোরোণযিমের পথে হাঁটার সময় লোকরা চিত্কার করে কাঁদছে|
6 কিন্তু নিম্রীমের ক্ষুদ্র নদী মরুভূমির মতো শুকিয়ে গিয়েছে| সমস্ত ছোট গাছপালা শুকিয়ে গিয়েছে| কোন কিছুই আর সবুজ নেই|
7 তাই, মোয়াব ত্যাগ করার আগে লোকরা তাদের নিজ নিজ জিনিসপত্র সংগ্রহ করে জড় করছে এবং উইলো একি এর ওপারে নিয়ে যাচ্ছে|
8 মোয়াবের সর্বত্রই আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে| ইগ্লযিম এবং বের্-এলীম শহরের লোকরা কাঁদছে|
9 দীমোনের জল রক্তে পরিপূর্ণ হয়ে গিয়েছে| এবং আমি দীমোনের জন্য আরো দুঃখ আনব| মোয়াবের খুব অল্পসংখ্যক লোক শএুদের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে গিয়েছে| কিন্তু এই সব লোকদের ভক্ষণ করার জন্য আমি অনেক সিংহ পাঠাব|




অধ্যায় 16

1 হে লোকরা, দেশের শাসকের জন্য তোমরা একটি উপহার পাঠাও| সেলা থেকে একটি মেষশাবক মরুভূমির মধ্যে দিয়ে সিয়োন কন্যা পর্বতের কাছে পাঠিয়ে দাও|
2 মোয়াবের মেয়েরা অর্ণোন নদী পার হওয়ার চেষ্টা করছে| তারা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সাহায্যের জন্য ছুটছে| তাদের অবস্থা যেন নীড় ভেঙে হারিযে যাওয়া ছোট্ট পাখির মতো|
3 তারা বলছে, “আমাদের সাহায্য কর, বলে দাও আমরা এখন কি করব! যেমন করে ছায়া মধ্যাহ্নের গনগনে সূর্য় থেকে আমাদের রক্ষা করে, তেমনি প্রভু শএুদের হাত থেকে আমাদের রক্ষা কর| আমরা শএুদের হাত থেকে পালিয়ে বেঁচ্ছেি| আমাদের আড়াল কর| আমাদের শএুদের হাতে তুলে দিও না|”
4 মোয়াবের লোকদের জোর করে বাড়ি ছাড়া করা হয়েছে| তাই তাদের তোমাদের দেশে বাস করতে দাও| শএুদের চোখ থেকে তাদের লুকিয়ে রাখো| লুঠতরাজ বন্ধ হবে| শএুরা পরাস্ত হবে| অত্যাচারী লোকরা দেশ ছেড়ে চলে যাবে|
5 তারপর দাযূদের পরিবার থেকে এক জন নতুন রাজা আসবেন| তিনি বিশ্বস্ত হবেন| তিনি দয়ালু এবং প্রেমিক হবেন| এই রাজা ন্যায্য বিচার করবেন| যা কিছু ভাল এবং সঠিক সে সব কাজ তিনি তাড়াতাড়ি করবেন|
6 আমরা মোয়াব্বাসীদের অহঙ্কার এবং দাম্ভিকতার কথা শুনেছি| তারা অহঙ্কারী এবং হিংস্র| তারা দম্ভ করে, কিন্তু তাদের দম্ভগুলি শুধুই কতগুলি ফাঁকা বুলি|
7 এই অহঙ্কারের জন্য গোটা মোয়াব দেশ ভুগবে| মোয়াবের সমস্ত লোক হাহাকার করবে| তারা দুঃখিত হবে এবং অতীতে তাদের যা যা ছিল তারা তা ফিরে পেতে চাইবে|
8 হিশ্বোনের ক্ষেত ও সিব্মার দ্রাক্ষাক্ষেত নষ্ট হয়ে গিয়েছে| বিদেশী শাসকরা তাদের সব দ্রাক্ষাগাছ কেটে ফেলেছে| সুদূর যাসের শহর পর্য়ন্ত এমনকি মরুভূমির ভেতর পর্য়ন্ত তাদের দ্রাক্ষা বাগান ছড়িয়ে থাকত| তাদের শাখাগুলি একেবারে সমুদ্রের ওপার পর্য়ন্ত ছড়িয়ে পড়ত|
9 “আমি যাসের এবং সিব্মার লোকদের সঙ্গে কাঁদব কারণ দ্রাক্ষা ক্ষেতগুলি ধ্বংস করা হয়েছে| আমি হিশ্বোন এবং ইলিয়ালীর লোকদের সঙ্গে কাঁদব কারণ কোন শস্য সংগ্রহ হবে না| কোন গ্রীষ্মকালীন ফসল উঠবে না| তাই কোন আনন্দ উল্লাস হবে না|
10 কারমেলে কোন আনন্দ গান হবে না| শস্য সংগ্রহের সময়কার আনন্দের আমি পরিসমাপ্তি ঘটাব| দ্রাক্ষারস তৈরীর জন্য যে সমস্ত দ্রাক্ষা তৈরি হয়ে আছে তা সব নষ্ট হয়ে যাবে|
11 তাই আমি মোয়াব এবং কীর্-হেরস এই দুটি শহরের জন্য খুবই দুঃখিত|
12 মোয়াবের লোকরা তাদের উপাসনালযে যাবে| লোকরা প্রার্থনা জানানোর চেষ্টা করবে| কিন্তু তারা তাদের পরিণাম কি হবে তা দেখতে পেয়ে এত দুর্বল হয়ে পড়বে যে আর প্রার্থনা করতে পারবে না|”
13 প্রভু মোয়াব সম্পর্কে এই ঘটনাগুলির কথা বহুবার বলেছেন|
14 এবং প্রভু এখন বলেন, “তিন বছরের মধ্যে এই বিপুল জনসংখ্যা এবং অন্যান্য জিনিষ, যার জন্য মোয়াব গর্বিত, তার বিশেষ কিছুরই অস্তিত্ব থাকবে না (ঠিক যেমন ভাড়া করা সহকারীরা সময় গোনে)| শুধুমাত্র ক্ষীণবল গুটিকতক লোক পড়ে থাকবে|”




অধ্যায় 17

1 এটা দম্মেশকের জন্য দুঃখের বার্তা| প্রভু বললেন এই ঘটনাগুলি দম্মেশকে ঘটবে:“দম্মেশক এখন একটি শহর| কিন্তু এই শহর ধ্বংস হয়ে যাবে| শহরে ধ্বংসস্তূপ ছাড়া আর কিছুই থাকবে না|
2 লোকরা অরোয়ের শহরগুলি ত্যাগ করে পালাবে| এই সব খালি শহরে মেষের পাল যেখানে সেখানে অবাধে ঘুরে বেড়াতে পারবে| তাদের বিরক্ত করা বা ভয় দেখানোর কেউ থাকবে না|
3 ইফ্রযিমের দুর্গ নগরীগুলি (ইস্রায়েল) ধ্বংস হয়ে যাবে| দম্মেশকের সরকার শেষ হয়ে যাবে| ইস্রায়েলে যে ঘটনা ঘটেছে অরামে তাই ঘটবে| সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ লোকদের অপসারণ করা হবে|”প্রভু সর্বশক্তিমান বললেন এই ঘটনাগুলি ঘটবে|
4 যাকোবের সমস্ত মহিমা অবদমিত হবে| তার সমৃদ্ধি ক্ষয়লাভ করবে|
5 ঐ সময়টা রফাযীম উপত্যকায় ফসল তোলার সময়ের মতো হবে| শ্রমিকরা ক্ষেত থেকে ফসল তুলে তা এক জায়গায় জড়ো করে, তারপর তারা চারা গাছগুলি থেকে শস্যের মাথা কেটে নেয এবং শস্য সংগ্রহ করে|
6 সে সময়টা জলপাই (অলিভ) সংগ্রহের কালের মতো হবে| লোকরা জলপাই গাছ থেকে জলপাই তোলে| কিন্তু কয়েকটা জলপাই সাধারণত গাছের মাথায় থেকে যায়| কিছু কিছু গাছের ডালের মাথায় চার-পাঁচটা করে জলপাই পড়ে থাকে| এখানকার শহরগুলির অবস্থাও সেরকম হবে| প্রভু সর্বশক্তিমান এই ঘটনাগুলোর কথা বললেন|
7 সে সময়ে লোকরা তাদের সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বরের খোঁজ করবেন| তাদের চোখ ইস্রায়েলের পবিত্রতমের দিকে চেয়ে থাকবে|
8 লোকরা তাদের তৈরী বেদীগুলোর দিকে যাবে না| তারা তাদের আশেরার খুঁটির কাছে এবং নিজেদের হাতে তৈরী সূর্য়দেবতার মূর্ত্তির কাছে বেদীতে যাবে না|
9 সে সময় সমস্ত দুর্গ শহর পরিত্যক্ত হবে| ঐ শহরগুলির অবস্থা ইস্রায়েলের লোকরা আসার আগে দেশের পর্বত ও জঙ্গলের পরিত্যক্ত ভূমির মতো হবে| অতীতে ইস্রায়েলের লোকদের আগমনের সময় অন্য সমস্ত লোকরা পালিয়ে গিয়েছিল| ভবিষ্যতে এই দেশ আবার পরিত্যক্ত হবে|
10 কারণ তোমরা তোমাদের রক্ষাকর্তা ঈশ্বরকে ভুলে গিয়েছ| ঈশ্বর যে তোমাদের নিরাপদ জায়গা তা তোমরা স্মরণ করছ না|তোমরা অনেক দূরদূরান্ত থেকে খুব ভালো জাতের দ্রাক্ষা এনেছ| কিন্তু এগুলোকে রোপণ করলে গাছগুলো জন্মাবে না|
11 এক দিন তোমরা তোমাদের দ্রাক্ষা গাছগুলোকে রোপণ করবে| এবং তাদের বড় করার চেষ্টা করবে| পরের দিন গাছগুলো বড় হতে আরম্ভ করবে| কিন্তু ফসল তোলার সময়ে তোমরা যখন দ্রাক্ষা তুলতে যাবে, দেখবে যে সব গাছগুলো মরে গেছে| কোন রোগ সব গাছকে মেরে ফেলবে|
12 অনেক লোকের কান্নার রোল শোন| তারা সমুদ্রের ঢেউযের মতো, সমুদ্র জলোচ্ছাসের শব্দের মতো গর্জন করছে|
13 লোকরা এই ঢেউযের মতো গর্জন করবে| কিন্তু ঈশ্বর তাদের ধমক দেবেন| তাই তারা দূরে পালাবে| তারা ঝড়ের সামনে ভূষির মতো কিংবা ঝড়ের মুখে ছোট শিকড়ওযালা গাছের মতো উড়ে যাবে|
14 ঐ দিন রাতে লোকরা ভয় পাবে| সকাল হওয়ার আগেই সবাই পালিয়ে যাবে| কোন কিছুই পড়ে থাকবে না| তাই শএুরা কিছুই পাবে না| তারা আমাদের দেশে আসবে| কিন্তু দেশে তখন কিছুই থাকবে না|




অধ্যায় 18

1 কূশীয় নদীগুলির দৈর্য়্ঘ বরাবর দেশটির দিকে দেখ| দেশটি পতঙ্গে ভরে গিয়েছে| তুমি তাদের ডানার ভন ভন শব্দ শুনতে পাচ্ছ|
2 ঐ দেশটি ভেলায করে সমুদ্রের ওপারে বার্তাবাহক পাঠাচ্ছে| হে দ্রুতগামী বার্তাবাহকগণ, দীর্ঘকায ও মসৃণত্বকের লোকদের কাছে যাও| সমস্ত জায়গার লোকরা এই দীর্ঘকায এবং মসৃণত্বকের লোকদের ভয় পায়, তারা একটি শক্তিশালী জাতি যারা অন্য জাতিদের পরাজিত করে| তারা একটি দেশে বাস করে যেটি নদীসমূহ দ্বারা বিভক্ত|
3 ঐসব লোকদের সাবধান করে দাও যে তাদের কোন না কোন বিপদ ঘটবে| এই দেশের লোকদের যে বিপদ ঘটবে সারা পৃথিবীর লোক তা দেখতে পাবে| এই সব লম্বা লোকদের কপালে যা ঘটবে তা পৃথিবীর সবাই পর্বতের ওপরে পতাকা ওড়ার দৃশ্যের মতো পরিষ্কার দেখতে পাবে| যুদ্ধের আগে শিঙা ফোঁকার শব্দের মতো পৃথিবীর সবাই পরিষ্কার ভাবে তা শুনতে পাবে|
4 প্রভু বললেন, “যে জায়গা আমার জন্য তৈরী হয়েছে আমি সেখানে থাকব|কিন্তু 5আমি শান্তভাবে এইসব ঘটনা পর্য়বেক্ষণ করব| গ্রীষ্মের এক মনোরম দুপুরে (যে সময়ে এক ফোঁটা বৃষ্টি হয় না অথচ ভোরে শিশির পড়ে|) একটা ভয়ঙ্কর কিছু ঘটবে| এটি ঘটবে ফসল কাটার সময়ের আগে যখন ফুলগুলি ফুটে যাবে এবং নতুন দ্রাক্ষাগুলি মঞ্জরীত হবে এবং বাড়তে থাকবে; কিন্তু তখন শএুরা এসে গাছগুলি কেটে ফেলবে ও দ্রাক্ষা লতাগুলি ছিঁড়ে ফেলবে এবং সেগুলি ছুঁড়ে ফেলে দেবে|
5
6 দ্রাক্ষা ক্ষেতগুলি পর্বতের পাখি এবং বন্য জন্তুদের খাবার জন্য পড়ে থাকবে| গ্রীষ্মকালে পাখিরা দ্রাক্ষা-লতায বাসা বাঁধবে এবং শীতকালে বন্য জন্তুরা দ্রাক্ষা-লতা খাবে|”
7 তখন দীর্ঘকায ও মসৃণত্বকের লোকরা প্রভু সর্বশক্তিমানের জন্য একটি বিশেষ নৈবেদ্য নিয়ে আসবে| সমস্ত জায়গার লোকরা এই দীর্ঘকায, মসৃণত্বকের লোকদের ভয় পায়| একটি ক্ষমতাবান জাতি যারা অন্য দেশসমূহকে পরাস্ত করে, তারা একটি দেশে বাস করে যেটি নদীসমূহ দ্বারা বিভক্ত| এই নৈবেদ্য সিয়োন পর্বতে, প্রভু যেখানে অধিষ্ঠান করেন, সেখানে আনা হবে|




অধ্যায় 19

1 মিশর সম্পর্কে বার্তা: দেখো! প্রভু একটা দ্রুত ধাবমান মেঘে চড়ে আসছেন| তিনি মিশরে যাবেন এবং তাঁর এই আগমনে সেখানকার মূর্ত্তিরা ভয়ে কাঁপবে| সাধারণতঃ মিশরবাসীরা সাহসী কিন্তু প্রভুর আগমনে তাদের সাহস গরম মোমের মতো গলে যাবে|
2 ঈশ্বর বলেন: “আমি মিশরের লোকদের নিজেদের মধ্যে মারামারি করাব| ভাই লড়বে ভাইযের বিরুদ্ধে| প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে প্রতিবেশী| এক শহর অন্য শহরের বিরুদ্ধে| এক রাজ্য অন্য রাজ্যের বিরুদ্ধে|
3 লোকরা বিভ্রান্ত হবে| লোকরা তাদের ভ্রান্ত দেবতা ও জ্ঞানী লোকদের দরবারে হাজির হয়ে জানতে চাইবে তাদের কি করা উচিত্‌| লোকরা যাদুকরের কাছেও জিজ্ঞাসা করবে| কিন্তু কারোর উপদেশই কার্য়করী হবে না|”
4 গুরু, সর্বশক্তিমান প্রভু বলেন, “মিশরকে আমি এক কঠোর প্রভুর হাতে দেব| এক শক্তিশালী রাজা লোকদের শাসন করবে|
5 নীলনদ এমশঃ শুকিয়ে আসবে| সমুদ্র থেকে জল চলে যাবে|
6 সমস্ত নদীর জল দুর্গন্ধে ভরে যাবে| মিশরের খালগুলি এমশঃ শুকিয়ে যাবে এবং জলহীন হয়ে পড়বে| সমস্ত জলজ উদ্ভিদগুলিতে পচন ধরবে|
7 নীলনদের তীর ধরে যেসব ছোট গাছপালা আছে সেগুলো মরে যাবে এবং উড়ে যাবে| এমন কি নীলনদ যেখানে সবচেয়ে বেশী বিস্তৃত, সেখানকার গাছপালাও মরে যাবে|
8 “নীলনদ থেকে যে সমস্ত জেলেরা মাছ ধরত তারা এমশঃ বিষণ্ন হবে এবং কাঁদবে| যারা নীলনদের ওপর জাল বিছিযে জীবিকা নির্বাহ করত তারা দুর্বল হয়ে যাবে|
9 যে সমস্ত মানুষ কাপড় তৈরী করে তারাও ভীষণ বিষণ্ন| কারণ কাপড় তৈরীর প্রয়োজনীয় ফ্লা) (এক রকমের গাছ) আর নদীর পাড়ে জন্মাচ্ছে না|
10 নদীর জল ধরে রাখার জন্য যারা বাঁধ তৈরী করতো, তারাও কাজ হারিযে বিষণ্ন হবে|
11 “সোযন শহরের নেতারা বোকা| ফরৌণের ‘বিজ্ঞ পণ্ডিতরা’ ভুল উপদেশ দিয়েছে| ঐ নেতারা বলেছেন যে তাঁরা জ্ঞানী ও রাজারই বংশধর| কিন্তু যতটা বিজ্ঞ বলে তাঁরা নিজেদের ভাবছেন ততটা তাঁরা নন|”
12 মিশর, তোমার জ্ঞানী মানুষরা কোথায়? ঐ জ্ঞানী বিজ্ঞ ব্যক্তিদের জানতে হবে যে সর্বশক্তিমান প্রভু মিশরের জন্য কি পরিকল্পনা করেছেন| কি ঘটবে তা জেনে নিয়ে তা তাদের অন্যদের জানানো উচিত্‌|
13 সোযন শহরের নেতাদের বোকা বানানো হয়েছে| নোফের নেতাদের ভ্রান্ত জিনিষ বিশ্বাস করিযে ঠকানো হয়েছে| তাই তারা মিশরকে ভুল পথে নিয়ে যায়|
14 প্রভু, নেতাদের বিভ্রান্ত করেছেন| তারা রাস্তা ভুলেছে এবং মিশরকে ভুল পথে চালিত করেছে| নেতাদের সব কাজই ভুলে ভরা| তারা, মাটিতে তাদের বমির ওপর মাতালের মত টল্মল করে হেঁটে বেড়ায|
15 নেতারা মিশরের জন্য কিছুই করতে পারবে না| এই নেতারা হচ্ছে “মাথা এবং লেজ|” তারা হচ্ছে “গাছের মাথা এবং বৃন্তসমূহ|”
16 মিশরীয়রা সেই সময় ভীত-সন্ত্রস্ত মেয়েদের মতো হয়ে পড়বে| প্রভু সর্বশক্তিমানের আগমনে তারা ভয় পাবে| প্রভু লোকদের শাস্তি দেওয়ার জন্য তার বাহু প্রসারিত করবেন এবং তারা ভীত হবে|
17 যিহূদা হবে এমন এক জায়গা যা মিশরের সব মানুষের কাছেই আতঙ্ক স্বরূপ| মিশরের কোন মানুষ যিহূদার নাম শুনলেই সে হঠাত্‌ই আতঙ্কিত হয়ে পড়বে| প্রভু সর্বশক্তিমান এই ভাবেই মিশরীয়দের শাস্তি দেবেন বলে পরিকল্পনা করেছেন|
18 ঐ সময়, মিশরের পাঁচটি শহরের লোকরা কনান ভাষায় (ইহুদীদের ভাষা) কথা বলবে| ঐ পাঁচটি শহরের একটি হবে “ধ্বংসের শহর|”শহরের লোকরা প্রভু সর্বশক্তিমানকে মেনে নেওয়ার অঙ্গীকার করবে|
19 ঐ সময় মিশরের মাঝখানে প্রভুর এক বেদী থাকবে| প্রভুকে সন্মান দেখানোর জন্য মিশরের সীমানায একটি স্মৃতি স্তম্ভ থাকবে|
20 এগুলি থাকার অর্থ সর্বশক্তিমান প্রভু কত ক্ষমতাধর তা দেখানো| প্রভুর কাছে সাহায্যের জন্য কেঁদে পড়লেই সাহায্য মিলবে| প্রভু লোকদের কাছে একজন ত্রাণকর্ত্তা পাঠাবেন যে তাদের প্রতিরক্ষা করবে এবং তাদের পীড়নকারী লোকদের হাত থেকে উদ্ধার করবে|
21 মিশরের লোকরা সে সময় সত্যি সত্যিই প্রভুকে জানবে| তারা ঈশ্বরকে ভালোবাসবে| লোকরা ঈশ্বরের সেবা করবে এবং অনেক পশুবলি দেবে| তারা প্রভুর কাছে প্রতিশ্রুতি করবে এবং সেই প্রতিশ্রুতি পালন করবে|
22 প্রভু মিশরের লোকদের শাস্তি দেবেন এবং তারপর তাদের ক্ষমা করবেন| পরে ঐ লোকরা প্রভুর কাছে ফিরে আসবে| প্রভু প্রত্যেকের প্রার্থনা শুনবেন এবং তাদের ক্ষমা করবেন|
23 সেই সময়, মিশর থেকে অশূর পর্য়ন্ত একটা রাজপথ থাকবে| তখন অশূরের লোকরা ঐ পথেই মিশরে যাবে এবং মিশরের লোকরা ঐ রাজপথ ধরেই অশূরে আসবে| মিশর ও অশূরের লোকেরা মিলে মিশে কাজ করবে|
24 সে সময় ইস্রায়েল, মিশর ও অশূর মিলিত হবে এবং দেশকে নিয়ন্ত্রণ করবে| এটা দেশের পক্ষে কল্যাণকর হবে|
25 প্রভু সর্বশক্তিমান ঐ সম্মিলিত দেশগুলিকে আশীর্বাদ করবেন| তিনি বলবেন, “মিশর তুমি আমার লোক| অশূর আমি তোমাকে সৃষ্টি করেছি| ইস্রায়েল, তুমি আমার| তোমরা প্রত্যেকেই আমার আশীর্বাদপুষ্ট!”




অধ্যায় 20

1 সর্গোন ছিলেন অশূরের রাজা| সর্গোন তাঁর সেনাপতি তর্ত্তনকে অস্দোদ শহরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পাঠান| তর্ত্তন সেখানে গিয়ে শহরটি দখল করে নেন|
2 সেই সময় প্রভু আমোসের পুত্র যিশাইয়ের মাধ্যমে কথাবার্তা বলেছিলেন| প্রভু বলেন, “যাও, তোমার কোমর থেকে দুঃখের কাপড় সরাও| পা থেকে জুতো খুলে ফেল|” যিশাইয় প্রভুর আদেশ পালন করল| খালি পায়ে, খালি গায়ে যিশাইয় চারদিকে ঘুরে বেড়াল|
3 তারপর প্রভু বললেন, “যিশাইয় তিন বছর ধরে খালি পায়ে খালি গায়ে ঘুরে বেড়িযেছে| এটা মিশর এবং কূশ দেশের কাছে একটা নিদর্শন|
4 অশূরের রাজা মিশর ও কূশদেশকে পরাজিত করবে| অশূররা বন্দীদের তাদের দেশ থেকে ধরে নিয়ে যাবে| বৃদ্ধ এবং য়ুবা বন্দীদের খালি পায়ে এবং পোশাক-আশাক না পরিযে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে| তারা সম্পূর্ণ উলঙ্গ থাকবে| মিশরের লোকরা লজ্জিত হবে|
5 তারা ভীত এবং হতাশ হবে কারণ তারা কূশ দেশের কাছে সাহায্য আশা করেছিল এবং মিশর দেশের মহিমায তাদের আস্থা ছিল|”
6 সমুদ্রের ধারে বসবাসকারী লোকরা বলবে, “আমরা ঐ দেশগুলির কাছ থেকে সাহায্য পাবার ভরসা করেছিলাম| আমরা ওদের কাছে ছুটে গিয়েছিলাম যাতে অশূরের রাজার হাত থেকে তারা আমাদের রক্ষা করে| কিন্তু ওদের দিকে তাকাও| ওরাও বন্দী| ওদের দেশ দখল হয়ে গেছে| তাহলে আমরা কি ভাবে মুক্তি পাব?”




অধ্যায় 21

1 সমুদ্রের তীরবর্তী মরুভূমিসম্পর্কে দুঃখ বার্তা: মরুভূমি থেকে কিছু বিপদ আসছে| যিহূদার দক্ষিণে মরু অঞ্চল নেগেভ থেকে একটি বাতাসের ঝটকার মতো এটা আসছে| এটা ভয়ঙ্কর একটা দেশ থেকে আসছে|
2 আমি দেখছি খুব ভয়ঙ্কর কিছু একটা ঘটবে| আমি দেখছি বিশ্বাসঘাতকরা তোমার বিরুদ্ধে| আমি দেখছি লোকরা তোমার সম্পদ লুঠ করে নিচ্ছে| এলম যাও এবং ঐ লোকদের বিরুদ্ধে লড়াই করো| মাদিযা শহরের চারদিকে তোমার সৈন্যদের মোতাযেন কর এবং ওদের হারাও| আমি শহরের সমস্ত খারাপ জিনিসকে ধ্বংস করব|
3 আমি ঐসব ভয়ঙ্কর জিনিস দেখেছি| এখন আমি ভীত-সন্ত্রস্ত| ভয়ের কারণে পাকস্থলীতে ব্যথা পাচ্ছি| ঐ ব্যথা প্রসব যন্ত্রণার মতো| যা কিছু শুনছি তাই আমাকে ভয় পাইযে দিচ্ছে| যা কিছু দেখছি তাতে আমি ভয়ে কাঁপছি|
4 আমি উদ্বিগ্ন, আমি ভয়ে কাঁপছি| এখন আমার মনোরম সন্ধ্যা ভয়ের রাতে পর্য়বসিত|
5 লোকরা ভাবছে সব কিছুই ভাল| তারা বলছে, “খাবার ও পান করার জন্য টেবিল প্রস্তুত কর!” ঠিক ঐ সময় সৈন্যরা বলছে, “রক্ষীদের নিয়োগ কর| আধিকারিকগণ উঠে পড় এবং তোমাদের বর্মকে পালিশ কর!
6 আমার প্রভু আমায় বললেন, “শহরে নজরদারি চালানোর জন্য একজন মানুষ খুঁজে আনো| ঐ লোকটি যা যা দেখেছে তা অবশ্যই আমাকে জানাবে|
7 যদি ঐ রক্ষী অশ্বারোহী সৈন্যদের, গাধা ও উটের সারিকে এগিয়ে আসতে দেখে তাহলে খুব সন্তর্পনে ওদের কথাবার্তা শুনতে চেষ্টা করবে|”
8 তারপর একদিন, সে সতর্ক বাণী দেবে: “সিংহ!” “প্রভু, প্রতিদিন আমি পর্য়বেক্ষণ কেন্দ্র থেকে লক্ষ্য রাখি| প্রতি রাতে আমি আমার পাহারা দেবার জায়গায় দাঁড়িয়ে পাহারা দিই|”
9 কিন্তু ওরা আসছে| আমি অশ্বারোহী সৈন্য এবং লোকদের সারি দেখছি|তখন এক বার্তাবাহক বলল, “বাবিলের পতন হয়েছে| বাবিল মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়েছে| তার সমস্ত ভ্রান্ত দেবতার মূর্ত্তিগুলি মাটিতে আছড়ে টুকরো টুকরো করে ভাঙা হয়েছে|”
10 যিশাইয় বললেন, “হে আমার লোকরা, ইস্রায়েলের ঈশ্বর, প্রভু সর্বশক্তিমানের কাছ থেকে আমি যা যা শুনেছিলাম তা সবই তোমাদের জানিয়েছি| খামারে শস্য মাড়াই করার মতো তোমাদেরও মাড়ানো হবে|
11 দূমা সম্পর্কে বার্তা:সেযীর (এদম) থেকে কেউ আমায় ডাকল| সে বলল, “প্রহরী রাতের আর কতটুকু বাকি? আর কতক্ষণ এই অন্ধকার থাকবে?”
12 প্রহরী উত্তর দিল, “সকাল আসছে| কিন্তু তারপর আবার রাত আসবে| এরপরও যদি তোমার কিছু জিজ্ঞাস্য থাকে, তাহলে ফিরে এসো| (তখন আবার জিজ্ঞাসা) করবে|”
13 আরব সম্বন্ধে দুঃখের বার্তা:দদান থেকে এক দল ব্যবসাযী তাদের ব্যবসার জিনিসপত্র পশুর টানা গাড়িতে (ক্য়ারাভান) চাপিয়ে নিয়ে আসছে| আরবের মরুভূমিতে কিছু গাছের কাছে তারা রাত কাটাল|
14 তারা কিছু তৃষ্ণার্ত ভ্রমণকারীদের জল পান করালো| টেমার লোকরা ঐ ভ্রমণকারীদের খাদ্যও দিল|
15 ঐসব লোক তরবারির নাগাল এড়িয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে| তীরের আওতা থেকে তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছে| বিধ্বংসী যুদ্ধের হাত থেকে বাঁচতে তারা পালিয়ে যাচ্ছিল|
16 সদাপ্রভু আমায় বলেছিলেন যে এই সব ঘটবে| প্রভু বলেছিলেন, “এক বছরের মধ্যেই, যে ভাবে একজন ভাড়াটে সহকারী সময় গোনে, কেদরের সমস্ত গৌরব অদৃশ্য হয়ে যাবে|
17 সে সময় শুধু কয়েকজন তীরন্দাজ, কেদরের মহান সৈন্যরা বেঁচে থাকবে|” কারণ প্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর বলেছেন!




অধ্যায় 22

1 দর্শন উপত্যকাসম্বন্ধে দুঃখের বার্তা:হে লোকরা, তোমাদের কি হয়েছে? তোমার লোকরা কেন ছাদে লুকিয়ে থাকছে?
2 অতীতে এই শহরটা খুব ব্যস্ত শহর ছিল| এই শহর ছিল শব্দমুখর এবং সুখী| কিন্তু এখন সব কিছুর পরিবর্তন হয়েছে| তোমার লোকরা তরবারির আঘাত ছাড়াই নিহত হচ্ছে| যুদ্ধ না করেও মারা পড়েছে|
3 তোমাদের সব নেতারা এক সঙ্গে পালিয়ে গেল| কিন্তু সকলেই আবার বন্দী হয়েছে| নেতারা বন্দী হয়েছে ধনুক ছাড়াই|
4 তাই আমি বলছি, “আমার দিকে তাকিও না| আমাকে কাঁদতে দাও| জেরুশালেম ধ্বংসের কারণে আমার এই কান্না| আমাকে সান্ত্বনা দিতে তোমাদের ছুটে আসতে হবে না|”
5 প্রভু একটা দিন বেছে রেখেছেন| ঐ দিনে জাতিদাঙ্গা হবে এবং বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়বে| লোকেরা দর্শন উপত্যকায় একে অপরকে পদদলিত করবে| শহরের দেওয়াল ভেঙ্গে ফেলা হবে| উপত্যকার লোকরা পার্বত্য শহরে থাকা লোকদের উদ্দেশ্যে সাহায্যের জন্য চিত্কার করবে|
6 এলমের অশ্বারোহী সৈন্যরা তাদের তীরের ব্যাগ নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে যাবে| কীরের লোকরা তাদের বর্ম প্রস্তুত রাখবে|
7 সৈন্যরা তোমার বিশেষ উপত্যকায় জমায়েত হবে| উপত্যকাটি রথ দিয়ে ভরে যাবে| শহরের প্রবেশপথে অশ্বারোহী সৈন্যরা নিজেদের মোতাযেন রাখবে|
8 ঐ সময়ে যিহূদার লোকরা অরণ্যের প্রাসাদে মজুত য়ুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করতে চাইবে|সৈন্যরা যিহূদার প্রাচীর ভেঙে ফেলবে|
9 দাযূদের শহরের প্রাচীরে ফাটল ধরবে এবং তুমি ঐ ফাটলগুলি দেখতে পাবে| তাই তুমি বাড়িঘরগুলি গুনবে এবং ঐ বাড়িগুলির পাথর ব্যবহার করে প্রাচীরের ফাটলে লাগাবে| তুমি জল ধরে রাখার জন্য দুটি প্রাচীরের মাঝখানে একটা জায়গা তৈরি করবে এবং তুমি জল ধরে রাখতে পারবে|তোমরা ঐসব নিজেদের রক্ষা করার জন্য করবে| কিন্তু যে ঈশ্বর সব কিছু সৃষ্টি করেছেন তোমরা সেই ঈশ্বরকে বিশ্বাস করবে না| অনেক দিন আগে যিনি আমাদের জন্য এই সব কিছু করেছেন সেই এক জনকে (ঈশ্বর) তোমরা দেখবে না|
10
11
12 তাই, আমার সদাপ্রভু, সর্বশক্তিমান, লোকদের তাদের মৃত বন্ধুদের জন্য কাঁদতে এবং শোকপ্রকাশ করতে বলবেন| লোকরা তাদের দাড়ি কামিয়ে ফেলবে এবং দুঃখের পোশাক পরবে|
13 কিন্তু দেখ, লোকরা এখন সুখী| তারা আনন্দ করছে| বলছে:গবাদি পশু ও মেষদের মার| আমরা উত্সব করব| তোমরা খাদ্য খাও ও দ্রাক্ষারস পান কর| খাও এবং পান কর কারণ আমরা তো আগামী কাল মরব|
14 প্রভু সর্বশক্তিমান এগুলি আমাকে বললেন এবং আমি তা নিজের কানে শুনলাম: “তোমরা খারাপ কাজ করেছ তাই দোষী সাব্যস্ত হয়েছ এবং আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি এই পাপ ক্ষমা করার আগেই তোমরা মারা যাবে|” আমার সদাপ্রভু সর্বশক্তিমান এই কথাগুলি বললেন|
15 আমার সদাপ্রভু, সর্বশক্তিমান আমাকে এই কথাগুলি বলেছিলেন, “শিব্নে নামক এই ভৃত্যের কাছে যাও| ঐ ভৃত্য হল রাজপ্রাসাদের অধ্যক্ষ|
16 ভৃত্যটিকে জিজ্ঞাসা কর ‘এখানে কি করছ? তোমার পরিবারের কেউ কি এখানে সমাহিত হয়েছে? কেন তুমি এখানে কবর খুঁড়ছো?”‘যিশাইয় বললেন, “এই লোকটার দিকে দেখ| সে একটি উঁচু জায়গায় কবর খুঁড়ছে| এই লোকটি পাথর কেটে কেটে নিজের কবর তৈরি করছে|
17 “হে মানুষ, প্রভু তোমায় পিষে মারবেন| প্রভু তোমাকে একটা ছোট গোলায পরিণত করবেন এবং দূরের একটি বিশাল দেশে তোমাকে ছুঁড়ে ফেলবেন এবং সেখানে তুমি মারা যাবে|”প্রভু বললেন, “তুমি তোমার যুদ্ধরথের জন্য খুবই গর্বিত| কিন্তু ঐ দূরবর্তী দেশে নতুন শাসকের কাছে তোমার থেকেও ভাল যুদ্ধরথ থাকবে| তাই তোমার রথ ঐ রাজপ্রাসাদে তেমন গুরুত্ব পাবে না|
18
19 এখানে আমি তোমার গুরুত্বপূর্ণ কাজে বাধার সৃষ্টি করব| তোমার নতুন মনিব এতে বিরক্ত হয়ে তোমায় গুরুত্বপূর্ণ কাজ থেকে সরিয়ে দেবেন|
20 ঐ সময়, আমি আমার দাস, ইলীয়াকীমকে ডাকব| ইলীয়াকীম হচ্ছে হিল্কিয়ের পুত্র|
21 আর আমি তোমার আলখাল্লাটা নেব এবং ঐ দাসকে তা পরতে দেব| তোমার শাসনদণ্ডটি আমি তার হাতে তুলে দেব এবং সে জেরুশালেম ও যিহূদায় বসবাসকারী লোকদের পিতার মত হবে|
22 “আমি দাযূদের বাড়ির চাবি ঐ মানুষটার গলায় ঝুলিয়ে দেব| যদি সে একটা দরজা খোলে, তাহলে সে দরজা খোলাই থাকবে| কেউই তা বন্ধ করতে সক্ষম হবে না| যদি সে একটা দরজা বন্ধ করে তাহলে ঐ দরজা বন্ধই থাকবে| কেউই তা খুলতে পারবে না|
23 আমি দাসটিকে পেরেকের মতো শক্ত করে গড়ব যাতে শক্ত কাঠের বোর্ডে হাতুড়ির আঘাতে সে অনায়াসে ঢুকতে পারে| ঐ ভৃত্যটি তার পিতার বাড়িতে একটি সম্মানের আসন পাবে|
24 তার পৈতৃক বাড়িতে যত গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক বস্তু আছে তার গায়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে| বড়রা এবং ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা তার ওপর নির্ভর করবে| ঐসব লোক ছোট্ট থালা এবং বড় জলের বোতলের মত তার গায়ে ঝুলে থাকবে|
25 “সেই সময়, পেরেকটি (শিব্নে) যেটা এখন একটা খুব শক্ত বোর্ডের ওপর হাতুড়ি দিয়ে ঢোকানো হয়েছে, তা দুর্বল হয়ে যাবে এবং পড়ে যাবে| ঐ পেরেকটি মাটিতে পড়বে এবং ওর সঙ্গে ঝোলানো সমস্ত বস্তু আছড়ে পড়ে ধ্বংস হবে| এই হল তার (জেরুশালেম) সম্বন্ধে বার্তা, কারণ প্রভু এ কথা বলেছেন|




অধ্যায় 23

1 সোর সম্বন্ধে দুঃখের বার্তা: তর্শীশের জাহাজসমূহ, দুঃখ কর এবং কাঁদো! কেননা তোমাদের বন্দরটি ধ্বংস হয়েছে| (কিত্তীম দেশ থেকে আসার পথে জাহাজটির লোকদের এই খবর জানানো হয়েছিল|)
2 সমুদ্রের ধারে বসবাসকারী লোকদের বিরত হওয়া ও বিষণ্ন হওয়া উচিত্‌| সোর ছিল সমুদ্র উপকুলবর্তী “সীদোনের বণিক|” সমুদ্র তীরবর্তী হওয়ার দরুণ এই শহরটি তার ব্যবসাযীদের জলপথে ব্যবসা করতে পাঠায় এবং ধনসম্পদ দিয়ে দেশটিকে ভরে দিয়েছিল|
3 শস্যের সন্ধানে এখানকার লোকরা জলপথে ভ্রমণ করে| নীলনদের ধারে জন্মানো শস্য সোরের লোকরা কিনে এনে অন্য জাতির কাছে তা বিক্রি করে|
4 সীদোন, তোমার ভীষণ বিষণ্ন হওয়া উচিত্‌, কারণ সমুদ্র ও সমুদ্রের দুর্গ বলছে:আমার কোন সন্তান নেই| গর্ভ যন্ত্রণা কি তা আমি বুঝিনি| আমি কোন শিশুর জন্ম দিই নি| আমি তরুণ তরুণীদের গড়ে তুলতেও সাহায্য করিনি|
5 মিশর, সোর সম্বন্ধে এমন সংবাদ পাবে| এই খবর মিশরকে দারুণ শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণায় ফেলবে|
6 মালবাহী জাহাজগুলিকে তর্শীশে ফিরে আসতেই হবে| সমুদ্রের ধারে বসবাসকারী লোকদের বিলাপ করতে হবে|
7 অতীতে সোর শহর আনন্দ, উত্সবে মেতেছে| প্রথম থেকেই শহরটি বড় হয়ে চলেছে| বসতি স্থাপনের জন্য শহরটির নাগরিকরা দূর দূরান্তে ভ্রমণ করেছে| ঐ শহরে বাস করতে দূর দূরান্ত থেকে লোকরা এসেছে|
8 সোর শহরে অনেক নেতা তৈরী হয়েছে| শহরের বণিকরা যেন রাজপুত্র| এখানকার যে সব লোকরা নানা জিনিসপত্র কেনাবেচা করে তারা সব জায়গায় সম্মান পেয়েছে| সুতরাং সোরের বিরুদ্ধে কে পরিকল্পনা করেছিল?
9 প্রভু সর্বশক্তিমানই এই পরিকল্পনার নেপথ্য কারিগর| তিনি তাদের গুরুত্বহীন করার সিদ্ধান্ত নেন|
10 তর্শীশ থেকে আসা মালবাহী জাহাজগুলি স্বদেশে ফিরে যাও| সমুদ্রটাকে ছোট নদী মনে করে পেরিযে যাও| কোন ব্যক্তিই এখন তোমায় থামাবে না|
11 সমুদ্রের ওপরেও প্রভু তাঁর বাহু প্রসারিত করেছেন| সোরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে অন্যান্য রাজ্যগুলিকে তিনি একত্রিত করছেন| প্রভু কনানকে তার নিরাপদ জায়গা সোরকে ধ্বংস করার আদেশ দিয়েছেন|
12 প্রভু বলেন, “হে সীদোনের কুমারী কন্যা, তুমি ধ্বংস হবে! তোমার আনন্দ করবার আর কোন সুযোগ থাকবে না|” কিন্তু সোরের লোকরা বলছে, “সাইপ্রাস আমাদের সাহায্য করবে|” কিন্তু যদি তুমি সমুদ্র পেরিযে সাইপ্রাসে যাও, তাহলে বিশ্রাম করার কোন জায়গা তুমি খুঁজে পাবে না|
13 তাই সোরের লোকরা বলছে, “বাবিলের লোকরা আমাদের সাহায্য করবে|” কিন্তু কল্দীযদের দেশের দিকে তাকাও| বাবিল এখন আর দেশ নয়| অশূররা বাবিলে আক্রমণ চালিযে শহরের চারিদিকে দুর্গ তৈরী করেছে| সৈন্যরা সুন্দর সুন্দর বাড়িঘর থেকে সব জিনিসপত্র লুঠ করে নিয়েছে| অশূররা বাবিলকে একেবারে বন্যপ্রাণীদের থাকার জায়গায় পরিণত করেছে| তারা বাবিলকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে|
14 সুতরাং তর্শীশ থেকে আসা মালবাহী জাহাজগুলি দুঃখিত হও| তোমার নিরাপদ জায়গা (সোর) ধ্বংস হবে|
15 লোকরা প্রায 70 বছর পর্য়ন্ত সোরকে ভুলে থাকবে| (এটা কোন রাজার রাজত্ব কালের সীমা|)70 বছর পর সোরের অবস্থা ঠিক এই গানের মধ্যে বেশ্যার মত হবে:
16 ওহে বেশ্যা, পুরুষরা তোমায় ভুলে গেছে| তুমি বীণা নিয়ে শহর পরিক্রমায় যাও| মধুর তালে বাজাও| সুন্দর করে গান গাও| তোমার গান মাঝে মাঝে গাও| তাহলে লোকরা হয়তো তোমাকে আবার চিনতে পারবে|
17 সত্তর বছর পর, প্রভু সোরকে স্মরণ করবেন এবং তাকে তাঁর সিদ্ধান্ত জানাবেন| সোর আবার আগের মতো ব্যবসা শুরু করবে| সোর পৃথিবীর সমস্ত জাতির সঙ্গে বেশ্যাবৃত্তিতে প্রশ্রয দেওয়া একটি বেশ্যার মত হবে|
18 কিন্তু সে উপার্জনের টাকাপয়সা ধরে রাখতে পারবে না| ব্যবসার লাভের টাকা প্রভুর জন্য সঞ্চিত হবে| যারা প্রভুর সেবা করবে তারাই লভ্য়াংশের টাকা পাবে| সুতরাং প্রভুর দাসরা সুন্দর জামাকাপড় পরবে এবং আশ মিটিযে খাওয়াদাওযা করবে|




অধ্যায় 24

1 দেখো! প্রভু এই দেশকে ধ্বংস করবেন এবং এই দেশ থেকে তিনি সব কিছু ধুয়ে মুছে দেশটিকে পরিষ্কার করবেন| তিনি দেশের লোকদের সুদূরে তাড়িয়ে দেবেন|
2 সেই সময়, সাধারণ লোকরা এবং যাজকগণ সমতুল্য হবে| এীতদাস ও মনিব, দাসী ও কর্ত্রী, এতো ও বিক্রিতো,
3 ঋণগ্রাহক ও ঋণদাতা সকলে সমান হবে| সমস্ত লোককে দেশের বাইরে যেতে বাধ্য করা হবে| সমস্ত সম্পদ নিয়ে নেওয়া হবে| কারণ প্রভুর আদেশেই ঐসব ঘটনা ঘটবে|
4 দেশটি শূন্য ও দুর্বল হয়ে পড়বে| এই দেশের মহান নেতারা ক্ষমতাহীন হবেন|
5 এই দেশের লোকরাই দেশের মাটিকে নোংরা করে তুলেছে| কি করে এটা ঘটল? ঈশ্বরের শিক্ষার বিরুদ্ধে লোকরা ভুল কাজ করেছিল| লোকরা ঈশ্বরের বিধি মানেনি| অনেক দিন আগে লোকরা ঈশ্বরের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছিল| কিন্তু সেই সব লোকরাই ঈশ্বরের সঙ্গে তাদের চুক্তি ভঙ্গ করেছিল|
6 এই দেশের লোকরা তাদের ভুল কাজের জন্য দোষী ছিল| তাই এই দেশকে ধ্বংস করার জন্য ঈশ্বর প্রতিশ্রুতিবদ্ধ| লোকদের শাস্তি দেওয়া হবে| শুধুমাত্র কিছু লোক বেঁচে থাকবে|
7 দ্রাক্ষা ক্ষেত মৃতপ্রায| নতুন দ্রাক্ষারস অপেয| অতীতে মানুষ সুখী ছিল| কিন্তু তারা এখন দুঃখী|
8 লোকরা তাদের আনন্দ প্রকাশ করা বন্ধ করে দিয়েছে| সমস্ত সুন্দর শব্দ থেমে গিয়েছে| খঞ্জর এবং বীণা থেকে নির্গত মধুর সঙ্গীত থেমে গিয়েছে| দ্রাক্ষারস পানের সময় লোকরা আর আনন্দের গান গায না| অনুগ্র সুরার স্বাদ এখন লোকদের তেতো লাগে|
9
10 এই শহর চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে| প্রতিটি বাড়ী বন্ধ, তাই কেউ তার নিজের বাড়ীতে ঢুকতে পারছে না|
11 এখন লোকরা হাটে বাজারে দ্রাক্ষারসের খোঁজ করছে| কিন্তু সমস্ত সুখ উবে গেছে| আনন্দ চলে গেছে সহস্র য়োজন দূরে|
12 শহরটি ধ্বংস হয়ে পড়ে রয়েছে| এমনকি ফটকগুলিও চূর্ণ-বিচূর্ণ|
13 শস্য সংগ্রহের পরে জলপাই গাছে যেমন গুটিকতক জলপাই পড়ে থাকে ঠিক তেমনি অনেকগুলি জাতির মধ্যে এই দেশও একাকি পড়ে থাকবে|
14 বেঁচে যাওয়া লোকরা চিত্কার করতে শুরু করবে| তাদের এই চিত্কার সমুদ্রের গর্জনের থেকেও বেশী হবে| প্রভুর মহানুভবতায তারা সুখী হবে|
15 সেই সব লোকরা বলবে, “প্রাচ্য়ের মানুষরা প্রভুর প্রশংসা কর! দূর দেশের মানুষরা প্রভু ইস্রায়েলের ঈশ্বরের নামে প্রশংসা কর|”
16 পৃথিবীর সমস্ত প্রান্ত থেকে আমরা প্রশংসা গীত শুনব| লোকরা গাইবে: “ধার্ম্মিকজনটি, মহিমান্বিত হউন|” কিন্তু আমি বলি, “আমি মারা যাচ্ছি| আমার পক্ষে সব কিছু ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে| বিশ্বাসঘাতকরা মানুষের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা করছে|
17 এই দেশের অধিবাসীদের বিপদ আমি চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি| তাদের জন্য পেতে রাখা ফাঁদ, গর্ত এবং ভয় আমি দেখতে পাচ্ছি|
18 লোকরা তাদের বিপদের কথা শুনে ভীত হবে| কিছু লোক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে কিন্তু তারা গর্তে পড়ে গিয়ে ফাঁদে বন্দী হবে| তাদের মধ্যে কয়েক জন গর্ত থেকে উঠে আসবে কিন্তু তারা অন্য ফাঁদে ধরা পড়বে|” আকাশে বাঁধের দরজা খুলে যাবে এবং প্লাবন হবে| পৃথিবীর ভিতগুলো নড়ে উঠবে|
19 ভূমিকম্প হবে| পৃথিবী ফেটে চৌচির হয়ে যাবে|
20 এই পৃথিবী পাপে ভারাএান্ত| তাই তা ভারের তলায় চাপা পড়বে| জীর্ণ বাড়ির মতো তা কেঁপে উঠবে, মত্ত মানুষের মতো পড়ে যাবে| পৃথিবী পড়ে গেছে এবং আর কখনও উঠে দাঁড়াবে না|
21 সেই সময়ই প্রভু তাঁর বিচার শুরু করবেন| তিনি স্বর্গের স্বর্গীয সেনাদেরএবং পৃথিবীর পার্থিব রাজাদের বিচার করবেন|
22 তখন বহু মানুষ একত্রিত হবে| তাদের মধ্যে কেউ আছে ভূগর্ভস্থ কয়েদে বদ্ধ| কেউ আছে কারাগারে| কিন্তু অবশেষে, অনেক দিন পরে তাদের সকলের বিচার হবে|
23 জেরুশালেমের সিয়োন পর্বতে প্রভু রাজার মত শাসন করবেন| গণ্যমান্য লোকদের উপস্থিতিতে তাঁর উজ্জ্বল মহিমা প্রকাশিত হবে| তাঁর মহিমা এত উজ্জল হবে যে তা দেখে চাঁদ বিহবল হবে এবং সূর্য় লজ্জা পাবে|




অধ্যায় 25

1 প্রভু, আপনিই আমার ঈশ্বর| আপনাকে আমি সম্মান করি এবং আপনার নামের প্রশংসা করি| আপনি বিস্ময সৃষ্টি করেছেন| বহুদিন আগে আপনি যা যা বলেছিলেন তা বর্ণে বর্ণে সত্যে পরিণত হয়েছে| আপনি যা যা ঘটার কথা বলেছিলেন ঠিক তাই তাই ঘটেছে|
2 আপনি শহর ধ্বংস করেছেন| যে শহর ছিল শক্তিশালী প্রাচীর দিয়ে ঘেরা তা এখন ধ্বংসস্তূপ মাত্র| বিদেশী প্রাসাদ সব ধ্বংস হয়ে গিয়েছে| তা আর কোন দিনও নির্মাণ করা যাবে না|
3 শক্তিমান দেশগুলি আপনাকে শ্রদ্ধা করবে, সম্মান জানাবে| শক্তিশালী শহরের ক্ষমতাবান লোকরা আপনাকে ভয় পাবে এবং সম্মান করবে|
4 প্রভু আপনিই দরিদ্রদের কাছে এক নিরাপদ আশ্রয়| এদের পরাজিত করতে প্রভুত সমস্যা শুরু হবে| কিন্তু আপনি তাদের রক্ষা করবেন| প্রভু, আপনি লোকদের কাছে বন্যা ও দাবদাহ থেকে রক্ষা পাবার মতো সুরক্ষিত গৃহ| ভয়ঙ্কর ঝড় বৃষ্টির মতো সংকটসমূহ আসবে এবং দেওয়ালে ধাক্কা মারবে, কিন্তু গৃহের ভেতরের লোকরা আঘাত পাবে না|
5 শএুরা এসে চিত্কার চেঁচামেচি গোলমাল শুরু করবে| ভয়ঙ্কর শএুরা আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠে আহবান জানাবে| কিন্তু ঈশ্বর আপনিই তাদের থামিয়ে দেবেন| যদিও গ্রীষ্মে মরুভূমিতে কয়েকটি উদ্ভিদ জন্মায়, পরিশেষে তারা শুকিয়ে যাবে এবং ভূমিতে পতিত হবে| একই ভাবে, আপনিও আপনার শএুদের পরাজিত করবেন এবং তাদের হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করবেন| ঘন মেঘ যেমন গ্রীষ্মের প্রখর উত্তাপকে আটকে দেয় ঠিক সেই ভাবে আপনিও শএুদের ভয়ঙ্কর চিত্কার থামিয়ে দেবেন|
6 সেই সময়, প্রভু সর্বশক্তিমান এই পর্বতের সমস্ত জাতিকে এক ভুরিভোজে আপ্য়াযিত করবেন| সেই ভোজে সেরা খাদ্য ও পানীয় থাকবে| মাংস হবে নরম ও সুস্বাদু|
7 কিন্তু এখন, সমস্ত জাতি ও লোকদের একটি ঘোমটা আচ্ছাদিত করছে| তিনি এই ঘোমটা নষ্ট করে দেবেন|
8 কিন্তু মৃত্যু চিরতরে ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে| আমার সদাপ্রভু প্রত্যেকটি মুখ থেকে প্রতিটি অশ্রুকণা মুছিযে দেবেন| অতীতে তাঁর সমস্ত অনুরাগী ভক্তরা ছিল বিষণ্ন| কিন্তু ঈশ্বর পৃথিবী থেকে মুছে দেবেন বিষণ্নতা| এ সমস্তই ঘটবে কারণ প্রভু এসব ঘটনার কথাই বলেছেন|
9 সে সময় লোকরা বলবে, “এই তো আমাদের ঈশ্বর| তিনিই সেই যার জন্য আমরা প্রতীক্ষারত| তিনি আমাদের রক্ষা করতে এসেছেন| আমরা আমাদের প্রভুর প্রতীক্ষায আছি| তাই তিনি আমাদের রক্ষা করার সময় আমরা সুখী এবং আনন্দিত হব|”
10 এই পর্বতে প্রভুর শক্তি বিরাজমান| তাই মোয়াব পরাজিত হবে| আবর্জনার স্তূপে খড়ের ওপর দিয়ে হেঁটে যাবার মতো প্রভু শএুদের পদদলিত করবেন|
11 সাঁতার কাটা মানুষের মতো প্রভু তাঁর বাহু প্রসারিত করে লোকে যেসব জিনিস নিয়ে গর্ব করে সেসব জিনিসকে একত্রিত করবেন| তিনি মানুষের তৈরী সুন্দর সুন্দর জিনিসগুলোকে দূরে ছুঁড়ে ফেলে দেবেন|
12 প্রভু মানুষের লম্বা প্রাচীর ও নিরাপদ জায়গাগুলিকে ধ্বংস করে মাটির ধূলোয় মিশিয়ে দেবেন|




অধ্যায় 26

1 সে সময়ে যিহূদার লোকরা এই গান গাইবে:প্রভু আমাদের পরিত্রাণ দিন| আমাদের একটি শক্তিশালী দুর্ভেদ্য নগর আছে|
2 ফটকগুলি খোলো| এক ন্যায়পরায়ণ জাতি প্রবেশ করবে| এরা ঈশ্বরের সুশিক্ষা মেনে চলে|
3 প্রভু, যেসব লোকরা আপনার ওপর নির্ভর করে এবং আপনার ওপর আস্থা রাখে তাদের প্রকৃত শান্তি দিন|
4 সদা সর্বদা প্রভুকে বিশ্বাস কর| তিনি তোমাদের চিরকালের নিরাপদ আশ্রয়|
5 কিন্তু প্রভু দাম্ভিক শহরকে ধ্বংস করবেন এবং তার অধিবাসীদের শাস্তি দেবেন| দাম্ভিক শহরকে তিনি মাটিতে ছুঁড়ে ফেলবেন| সেই শহর ধূলোয় মুখ থুবড়ে পড়বে|
6 তখন দীনহীন এবং বিনযী মানুষরা সেই ধ্বংসস্তূপের ওপর দিয়ে হেঁটে যাবে|
7 সততাই ভাল লোকের বেঁচে থাকার পথ| যা কিছু সরল ও সত্য ভাল লোকরা তাকেই অনুসরণ করে| ঈশ্বর আপনি সেই পথকে মসৃণ করুন যাতে সহজে তাকে মেনে চলা যায়|
8 কিন্তু প্রভু আমরা আপনার বিচারের দিকে তাকিযে রয়েছি| আমাদের আত্মাগুলি আপনাকে এবং আপনার নামকে স্মরণ করতে চাইছে|
9 আমার আত্মা আপনার সাথে রাত্রিবাস করতে চায়| আমার আত্মা প্রতিটি নতুন দিনের ভোরে আপনার সঙ্গে থাকতে চায়| পৃথিবীতে আপনার বিচার যখন নেমে আসবে তখন মানুষ বেঁচে থাকার সঠিক পথ শিখবে|
10 দুষ্ট লোকদের প্রতি যদি আপনি শুধু দয়া দেখান তাহলে তারা কোন কিছু ভাল করতে শিখবে না| এমনকি দুষ্ট লোকরা ভালো পৃথিবীতে বাস করলেও তারা খারাপ কাজ করবে| তারা কখনও প্রভুর মহত্ব দেখতে পায় না|
11 কিন্তু প্রভু সেই সব লোকদের শাস্তি দেবার জন্য প্রস্তুত হোন| নিশ্চিত ভাবেই তারা এটা দেখতে পাবে| তারা কি এটা দেখতে পাবে না? প্রভু, দুষ্টরা দেখুক যে আপনার লোকদের জন্য আপনার যে ভালবাসা তা খুব দৃঢ়| নিশ্চিত ভাবে তারা লজ্জিত হবে| আপনার শএুদের জন্য যে আগুন রাখা আছে তা ওদের পুড়িয়ে শেষ করে ফেলুক|
12 প্রভু, আমরা যে সব কাজ করার চেষ্টা করেছিলাম সে সব কাজে আপনি সফল হয়েছেন| তাই আমাদের শান্তি দিন|ঈশ্বর তাঁর লোকদের নতুন জীবন দেবেন
13 প্রভু আপনিই আমাদের ঈশ্বর| কিন্তু অতীতে আমরা অন্য দেবতাদের মেনে চলতাম| আমরা ছিলাম অন্য মনিবদের| কিন্তু এখন আমরা লোকদের শুধু আপনার নামই স্মরণ করাতে চাই|
14 সেই সব মৃত দেবতারা বেঁচে ওঠে না| সেই সব প্রেতগণ মৃত্যু থেকে আর জেগে ওঠে না| আপনি তাদের ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন| এবং তাদের সম্বন্ধে আমাদের ভাবনা উদ্রেক করবার যা কিছু তা সবই আপনি ধ্বংস করেছেন|
15 হে প্রভু, এই জাতিতে আরো যোগ কর| এতে যোগ কর এবং সম্মানিত হও| দেশটির সর্বদিকের সীমা বৃদ্ধি কর|
16 প্রভু, লোকে যখন বিপদে পড়ে, তখন আপনাকে স্মরণ করে| আপনি যখন তাদের শাস্তি দেন, তখন তারা আপনার কাছে নীরব প্রার্থনা করে|
17 ঠিক যেমন একটি গর্ভবতী মহিলা জন্ম দিতে যাচ্ছে এবং প্রসব যন্ত্রনায় চিত্কার করে কাঁদে, তেমনি, হে প্রভু, আমরা আপনার সামনে এসেছি|
18 একই ভাবে, আমাদের যন্ত্রণা আছে এবং আমরা জন্ম দিই, কিন্তু শুধুই বাতাস| আমরা পৃথিবীর জন্য নতুন মানুষ তৈরী করতে পারি না| আমরা দেশের জন্য মুক্তি আনতে পারি না|
19 কিন্তু প্রভু বলেন, “তোমাদের লোকরা মারা গিয়েছে, তবে তারা আবার বেঁচে উঠবে| আমার মানুষদের মৃতদেহগুলি মৃত্যু থেকে জেগে উঠবে| মৃত মানুষরা মাটিতে উঠে দাঁড়াবে এবং সুখী হবে| তোমাদের আচ্ছাদিত শিশিরসমূহ নতুন দিনের আলোর মতো ঝলমল করবে| এর অর্থ এই- নতুন সময় আসছে যখন পৃথিবী মৃত মানুষদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার ঘটাবে|”
20 আমার লোকরা, তোমরা তোমাদের ঘরের ভেতরে যাও| দরজা বন্ধ কর| ক্ষণিকের জন্য লুকিয়ে ঘরে থাক| ততক্ষণ পর্য়ন্ত লুকাও যতক্ষণ না ঈশ্বরের রোধ শেষ হয়|
21 পৃথিবীর লোকদের কুকর্মের বিচার করতে প্রভু জেরুশালেমের মন্দির ছেড়ে চলে যাবেন| পৃথিবী নিহত লোকদের রক্ত প্রকাশিত করবে| পৃথিবী আর মৃত মানুষদের আচ্ছাদিত করবে না|




অধ্যায় 27

1 সেই সময় প্রভু তাঁর শএুদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করবেন| তিনি লিবিযাথন, বাঁকা সাপটিকে শাস্তি দেবেন| ঐ প্য়াঁচানো সাপটিকে তাঁর বিরাট এবং শক্তিশালী তরবারি দিয়ে শাস্তি দেবেন| এবং তিনি ঐ সামুদ্রিক দৈত্যকে হত্যা করবেন|
2 সে সময়, একটি মনোরম দ্রাক্ষাক্ষেত থাকবে| সেখানকার জমি তৈরীর কাজ শুরু কর|
3 “আমি, প্রভু, সেই বাগানে ঠিক সময়ে জল দেব| দিন রাত্রি পাহারা দেব, তার যত্ন নেব| কেউ সেই বাগানের ক্ষতি করতে পারবে না|
4 আমি রুদ্ধ নই, কিন্তু যুদ্ধ করবার জন্য কেউ একটি কাঁটাঝোপের বেড়া তৈরী করবার চেষ্টা করুক, আমি তার ওপরে মাড়িয়ে এগিয়ে যাব এবং তাকে পুড়িয়ে ফেলব|
5 তবে কেউ যদি নিরাপত্তা ও শান্তির জন্য আমার কাছে আসে, তবে তাকে আসতে দাও| এবং আমার শান্তি তাকে পেতে দাও|
6 লোকরা আমার কাছে আসবে| সেই সব লোকরা যাকোবকে দৃঢ়মূল বৃক্ষের মতো শক্তিশালী হতে সাহায্য করবে| তারা উদ্ভিদের ফুটে ওঠার মতো ইস্রায়েলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে| তখন দেশটি গাছের ফলের মতো ইস্রায়েলের শিশুতে ভরে যাবে|”
7 প্রভু কি ভাবে তার লোকদের শাস্তি দেবেন? অতীতে শএুরা লোকদের আঘাত করেছিল| প্রভু কি একই উপায়ে তাদের আঘাত করবেন? অতীতে অনেক লোককে হত্যা করা হয়েছিল| প্রভু কি একই ভাবে অনেক লোককে হত্যা করবেন?
8 ইস্রায়েলকে দূরে সরিয়ে দিয়ে ঈশ্বর তার বিরুদ্ধে মামলা দাযের করবেন| তিনি তাকে তাঁর ঝোড়ো বাতাস দিয়ে সরিয়ে দিয়েছিলেন, ঠিক সেই দিনের মত যখন পূবের বাতাস বয|
9 যাকোবের দোষকে কি ভাবে ক্ষমা করা হবে? তার পাপ দূরীভূত হওয়ার জন্য কি ঘটবে? এইগুলি ঘটবে: বেদীর পাথরগুলি চূর্ণ হয়ে ধূলোয পরিণত হবে| মূর্ত্তিগুলি ও বেদীগুলি ধ্বংস করা হবে|
10 সেই সময় বিশাল শহরটি হবে পরিত্যক্ত| এটার অবস্থা হবে মরুভূমির মতো| সমস্ত মানুষ ছুটে পালাবে| শহরটি হবে চারণভূমির মত মুক্ত| সেখানে গবাদি পশুরা ঘাস খাবে| তারা দ্রাক্ষা গাছ থেকে পাতা ছিঁড়ে খাবে|
11 দ্রাক্ষা ক্ষেত শুষ্ক হয়ে যাবে| তার শাখাগুলি ভেঙে পড়বে| মহিলারা সেগুলিকে আগুন জ্বালানোর কাজে ব্যবহার করবে|লোকে বুঝতে চাইবে না, তাই প্রভু, তাদের সৃষ্টিকর্তা তাদের স্বস্তি দেবেন না, তাদের প্রতি দয়ালুও হবেন না|
12 সেই সময় প্রভু তার লোকদের অন্যদের থেকে আলাদা করতে শুরু করবেন| ফরাত্‌ নদীর কিনারা থেকে তিনি শুরু করবেন|তিনি তাঁর লোকদের এই নদী থেকে মিশরের নদী পর্য়ন্ত একত্রিত করবেন|
13 ইস্রায়েলের লোকরা এক এক করে সংঘবদ্ধ হবে| অশূরের হাতে আমার অনেক লোক হারিযে গেছে| আমার কিছু লোক মিশরে পালিয়ে গেছে| কিন্তু সেই সময়ে বেজে উঠবে এক দারুন তূর্য়ধ্বনি| এবং সেই সব লোকরা জেরুশালেমে ফিরে আসবে| তারা সেই পবিত্র পর্বতের ওপর প্রভুর সামনে নতজানু হবে|




অধ্যায় 28

1 শমরিয়ার দিকে তাকাও! ইফ্রযিমের মাতাল মানুষ সেই শহরের জন্য গর্বিত, যে শহর উর্বর উপত্যকা বেষ্টিত পাহাড়ের ওপর অবস্থিত| শমরিয়ার লোকরা মনে করে তাদের শহর ফুলের সুন্দর মুকুটের মত| কিন্তু তারা দ্রাক্ষারস পান করে মাতাল হয়ে রয়েছে| এবং এই “সুন্দর মুকুট” আসলে একটি মৃতপ্রায গাছের মতো|
2 দেখ, আমার প্রভুর একটি লোক আছে যে শক্তিশালী ও সাহসী| সেই লোকটি শিলাবৃষ্টির ঝড়ের মত দেশের ভেতরে আসবে| তিনি ঝড়ের মতো এদেশে আসবেন| তিনি হবেন বানভাসি দেশে জলে ভরা খরস্রোতা নদীর মতো| তিনি সেই মুকুটকে মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে দেবেন|
3 ইফ্রযিমের মাতাল মানুষরা তাদের “সুন্দর মুকুটের” জন্য গর্বিত| কিন্তু তাদের শহর পদদলিত হবে|
4 সেই শহর উর্বর উপত্যকা বেষ্টিত পাহাড়ের ওপর অবস্থিত| এবং সেই “ফুলের সুন্দর মুকুট” হবে ঠিক মৃতপ্রায গাছের মতো| সেই শহর হবে গরমের প্রথম ডুমুর ফলের মতো, যাকে লোকে একপলক দেখেই দ্রুত তুলে নিয়ে খেয়ে নেয|
5 সেই সময় সর্বশক্তিমান প্রভু ই হবেন “সুন্দর মুকুট|” তাঁর অবশিষ্ট লোকদের জন্য, তিনি হবেন “ফুলের আশ্চর্য় মুকুট|”
6 তখন প্রভু তাঁর লোকদের বিচারকগণকে প্রজ্ঞা দান করবেন| নগরদ্বারে তিনি শক্তি য়োগাবেন|
7 কিন্তু এখন সেই সব নেতারা পান করে ভুল করেন| যাজক ও ভাব্বাদীরাও ভুলভ্রান্তি করেন কারণ তাঁরা অনুগ্র সুরা ও দ্রাক্ষারস পান করেন| তাঁরা হোঁচট খেতে খেতে পড়ে যাচ্ছেন| এমনকি দর্শনের সময়েও ভাব্বাদীদের ভুলভ্রান্তি হয়| বিচারকরাও ভুল করেন কারণ তারা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পান করেন|
8 প্রতিটি টেবিল বমিতে আচ্ছন্ন| কোথাও এতটুকু পরিষ্কার স্থান নেই|
9 প্রভু লোকদের একটি শিক্ষা দেবার চেষ্টা করছেন| প্রভু লোকদের তাঁর শিক্ষামালা বোঝানোর চেষ্টা করছেন| লোকেরা যেন ছোট্ট শিশুর মত, সবেমাত্র মায়ের দুধপান করা ছেড়েছে|
10 তাই প্রভু তাদের সঙ্গে এমন ভাবে কথা বলেন যেন তারা শিশু:জাব্ লজাব্, জাব্ লজাব্,কাব্ লকাব্, কাব্ লকাব্,জি’ এর শাম্, জি’ এর শাম্|
11 প্রভু আশ্চর্য়্য় এই ভাষা ব্যবহার করবেন এবং এই সব লোকদের সঙ্গে কথা বলার জন্য তিনি অন্যান্য ভাষাও ব্যবহার করবেন|
12 অতীতে ঈশ্বর সেই সব লোকদের বলেছিলেন, “এখানে একটি বিশ্রামস্থল আছে| এটা শান্তিপূর্ণ জায়গা| ক্লান্ত মানুষদের এসে বিশ্রাম নিতে দাও| এটি একটি শান্তির নিকেতন|”কিন্তু লোকরা ঈশ্বরের কথায় কর্ণপাত করেনি|
13 তাই ঈশ্বর তাদের সঙ্গে এমন ভাবে কথা বলেন যেন তারা শিশু:জাব্ লজাব্, জাব্ লজাব্,কাব্ লকাব্, কাব্ লকাব্,জি’ এর শাম্, জি’ এর শাম্|”যাতে তারা চারপাশে হেঁটে বেড়ায এবং হোঁচট খেয়ে আঘাত পাবে এবং তারা ফাঁদে পড়ে বন্দী হবে|
14 জেরুশালেমের নেতারা, তোমাদের প্রভুর বার্তা শোনা উচিত্‌| কিন্তু এখন তোমরা তাঁর কথায় কান দিচ্ছ না|
15 তোমরা বলছ, “মৃত্যুর সঙ্গে আমাদের চুক্তি হয়েছে| পাতালের সঙ্গে আমাদের চুক্তি হয়েছে| সুতরাং আমরা শাস্তি পাব না| শাস্তি আমাদের আঘাত না করেই চলে যাবে| আমরা আমাদের কৌশল ও মিথ্যার পেছনে লুকিয়ে থাকব|”
16 এই সব কারণেই প্রভু, আমার মনিব বলেন, “সিয়োনের মাটিতে আমি একটি পাথর, একটি ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করব| এটি একটি মূল্যবান পাথর| সেই গুরুত্বপূর্ণ পাথরের ওপর সমস্ত কিছু গড়ে উঠবে| সেই পাথরটির কাছে এসে বিশ্বস্ত লোকরা কখনো ভয় পাবে না|”
17 “দেওয়াল সরল কিনা তা জানার জন্য মানুষ এক ওলন দড়ি ব্যবহার করে| ঠিক একই ভাবে কোনটা ঠিক তা দেখানোর জন্য আমি বিচার এবং ধার্ম্মিকতাকে ব্যবহার করব|“তোমরা শযতান মানুষরা যারা মিথ্যা এবং কৌশলের পিছনে লুকোতে চাও তারা শাস্তি পাবে| কোন ঝড় অথবা বন্যা আসছে তোমাদের লুকিয়ে থাকার স্থান ধ্বংস করতে|
18 মৃত্যুর সঙ্গে তোমাদের চুক্তি মুছে যাবে| মৃত্যুর স্থানের সঙ্গে তোমাদের চুক্তি কোন কাজেই আসবে না|“যখন সেই ভয়ঙ্কর শাস্তি আসবে তখন তোমরা তার দ্বারা পদদলিত হবে|
19 যত বার তোমাদের শাস্তি আসবে, তত বারই সে তোমাদের নিয়ে যাবে| তোমাদের শাস্তি হবে ভয়ঙ্কর| তোমাদের শাস্তি খুব ভোরবেলা আসবে এবং চলতে থাকবে গভীর রাত পর্য়ন্ত| বার্তাটি শুধুমাত্র বোঝার পরই তা তোমাকে ভয়ে কাঁপিয়ে তুলবে|
20 “তখন তোমরা এই গল্পটি বুঝবে: একটি মানুষ তার পক্ষে খুবই ছোট একটি বিছানায ঘুমোবার চেষ্টা করেছিল| এবং তার একটি কম্বল ছিল যা তাকে আচ্ছাদিত করার পক্ষে যথেষ্ট ছিল না| বিছানা এবং কম্বল দুটিই ছিল ব্যবহারের অয়োগ্য| তোমাদের চুক্তিগুলিও ঠিক সেরকম|”
21 পরাসীম পর্বতে প্রভু যেমন যুদ্ধ করেছিলেন ঠিক তেমন ভাবেই যুদ্ধ করবেন| গিবিয়োনের উপত্যকায় প্রভু যেমন রুদ্ধ হয়েছিলেন ঠিক তেমনি তিনি রুদ্ধ হবেন| প্রভুর যা কিছু করবার আছে তা তিনি করবেন| তিনি কিছু আশ্চর্য়্য় কাজ করবেন| তবে তিনি তাঁর কাজ শেষ করবেন| তাঁর কাজ হবে একজন অপরিচিতের কাজ|
22 এখন তোমরা সেই সব জিনিসের বিরুদ্ধে লড়াই করবে না| যদি তোমরা লড়াই কর তাহলে তোমাদের ঘিরে রাখা দড়িগুলির বাঁধন আরো শক্ত হয়ে উঠবে|যা আমি শুনেছি তা থাকবে অপরিবর্তিত| যে সব কথা আমি শুনেছি তা প্রভু সর্বশক্তিমান, পৃথিবীর শাসনকর্তার মুখ নিঃসৃত| তাই সে সব কথার কোন পরিবর্তন হবে না| তাঁর কথিত সমস্ত ব্যাপারই ঘটবে|
23 যে বাণী আমি তোমাদের শোনাচ্ছি তা মন দিয়ে শোন|
24 এক জন কৃষক কি সব সময় তার ক্ষেতে লাঙ্গল চালায? না| সে কি সব সময় মাটি তৈরী করে? না|
25 কৃষক মাটি তৈরী করে| তারপর বীজ বপন করে| বিভিন্ন পদ্ধতিতে সে বিভিন্ন বীজ বপন করে| কৃষক শুলফার বীজ ছড়ায, তারপর সে জীরের বীজ মাটিতে ছড়ায| সে গমের বীজ বোনে সারিবদ্ধ ভাবে| এক জন কৃষক বার্লিগাছ বিশেষ স্থানে বপন করে| এক বিশেষ ধরণের বীজ সে রোপণ করে শস্য ক্ষেতের ধারে|
26 আমাদের ঈশ্বর তোমাদের শিক্ষা দেবার জন্য এই পদ্ধতি ব্যবহার করছেন| এই উদাহরণ দেখায় যে মানুষকে শাস্তি দেবার সময় ঈশ্বর সঠিক উপায়েই শাস্তি দেবেন|
27 শুলফার বীজ মাড়বার জন্য কৃষক কি ধারালো দাঁতওযালা পাটাতন ব্যবহার করে? না! জীরা বীজ মাড়বার জন্য কি কৃষক কোন চতুশ্চএ শকট ব্যবহার করে? না! এই শস্যগুলির বীজ থেকে খোসা ছাড়ানোর জন্য এক জন কৃষক একটি ছোট লাঠি ব্যবহার করে|
28 যখন কেউ রুটি তৈরী করবার জন্য শস্যকে তৈরী করে সে তখন গমকে আটায চূর্ণ করে| কিন্তু সে এটা চির কাল ধরে করে না| সে হয়তো এর ওপর দিয়ে তার ঘোড়া এবং মালবাহী গাড়ি চালিযে নিয়ে যেতে পারে কিন্তু এটা সম্পূর্ণ চূর্ণ হবে না| প্রভু তাঁর লোকদের একই ভাবে শাস্তি দিয়ে থাকেন|
29 প্রভু সর্বশক্তিমানের কাছ থেকে এই শিক্ষা আসে| প্রভু আশ্চর্য়্য় সব উপদেশ দেন| ঈশ্বর সত্যই প্রজ্ঞাবান|




অধ্যায় 29

1 ঈশ্বর বললেন, “অরীযেলের দিকে তাকাও! অরীযেল, সেই শহর যেখানে দাযূদ তাঁবু ফেলেছিলেন| বছরের পর বছর তার ছুটি অব্যাহত ছিল|
2 আমি অরীযেলকে শাস্তি দিয়েছি| দুঃখ আর কান্নায শহরটা ভরে গিয়েছে| কিন্তু সে আমার চির কালের অরীযেল|
3 “অরীযেল আমি তোমার চারিদিকে সৈন্য মোতাযেন করেছি| আমি তোমার বিরুদ্ধে যুদ্ধের দুর্গসমূহ তৈরী করেছি|
4 তুমি পরাজিত হলে এবং মাটিতে মিশে গেলে| এখন আমি মাটিতে ভূতের মতো তোমার কণ্ঠস্বর শুনতে পাই| তোমার কথাগুলো গোঙানির মত ধূলোর মধ্যে থেকে আসে|”
5 তোমার শএুরা সংখ্যায় ক্ষুদ্র ধূলিকণার মতো প্রচুর| যারা তোমার প্রতি নিষ্ঠুর তাদের সংখ্যা বাতাসে ভেসে যাওয়া ভূসির মত|
6 হঠাত্‌ এরকম ঘটবে: সর্বশক্তিমান প্রভু ভূমিকম্প, বজ্রপাত, হৈ-হল্লা দিয়ে তোমাকে শাস্তি দেবেন| ঝড়, তীব্র বাতাস আর আগুন সব কিছু পুড়িয়ে দেবে আর ধ্বংস করবে|
7 অনেক দেশ অরীযেলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে| ওটা হবে রাতের এক দুঃস্বপ্নেরই মত| সৈন্যরা অরীযেলকে শাস্তি দেবে|
8 কিন্তু ঐ সৈন্যদের কাছেও সেটা স্বপ্ন হবে| তারা যা চায় তা পাবে না| যেন এক ক্ষুধার্ত মানুষের আহারের স্বপ্ন দেখা| যখন মানুষটা জেগে ওঠে তখনও সে ক্ষুধার্ত| যেন এক তৃষ্ণার্ত মানুষের জলের স্বপ্ন দেখা| যখন মানুষটা জেগে ওঠে তখনও সে তৃষ্ণার্ত থাকে|সিয়োনের বিরুদ্ধে লড়া সমস্ত দেশের ক্ষেত্রে এসব ঘটনা সত্যি হবে| এই সমস্ত দেশ যা চায় তারা তা কিছুতেই পাবে না|
9 চমত্‌কৃত ও বিহবল হও| তুমি মদ্যপ হয়ে উঠবে কিন্তু দ্রাক্ষারস থেকে নয়| দেখ এবং বিহবল হও| তুমি হোঁচট খেয়ে পড়ে যাবে কিন্তু সুরাপানে নয়|
10 প্রভু তোমাকে ঘুম কাতুরে বানাবেন| বন্ধ করে দেবেন তোমার দুচোখ| (ভাব্বাদীরা হবে তোমার দুচোখ|) প্রভু তোমাদের মাথা ঢেকে দেবেন| (ভাব্বাদীরা হবে তোমার মাথা|)
11 আমি তোমাকে বলছি যে এসব ঘটনাগুলি ঘটবে| কিন্তু তোমরা আমাকে বুঝবে না| আমার কথাগুলো তোমার কাছে বন্ধ ও সীলমোহর করা বই-এর মধ্যের কথাগুলোর মত মনে হবে| তুমি বইটি এমন কাউকে দিতে পার যে পড়তে পারে| কিন্তু তাকে যদি পড়তে বল সে বলবে, “আমি পড়তে পারব না| কারণ বইটি বন্ধ এবং তা আমি খুলতে পারব না|”
12 অথবা তুমি কাউকে বইটি দিতে পার, যে পড়তে পারে না| সেই লোকটিকে পড়তে বললে সে বলবে, “আমি এই বই পড়তে পারব না| কারণ কি ভাবে বইটি পড়তে হয় তা আমার জানা নেই|”
13 আমার প্রভু বলেন, “ঐ মানুষরা আমার প্রতি ভালোবাসার কথা জানিয়েছে| তাদের মুখ নিঃসৃত শব্দ আমার প্রতি সম্মান জানায| কিন্তু তাদের হৃদয় আমার থেকে অনেক দূরে| আমাকে যে সম্মান তারা জানায তা তাদের মুখস্থ করা মানবিক বিধিসমূহ ছাড়া আর কিছুই নয়|
14 সুতরাং আমি আমার শক্তিশালী ও আশ্চর্য়্য়জনক এযিাকলাপ দিয়ে লোকেদের বিস্ময বিহবল করা অব্যাহত রাখব| ওদের জ্ঞানী লোকরা তাদের জ্ঞান হারিযে ফেলবে| ওদের জ্ঞানী লোকরা উপলদ্ধি করবার ক্ষমতাও হারিযে ফেলবে|”
15 সেই সব মানুষ প্রভুর কাছ থেকে অনেক কিছুই লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করে| তারা মনে করে যে প্রভু কিছুতেই বুঝতে পারবেন না| তারা অন্ধকারের মধ্যে পাপ কাজ করে| তারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করে, “আমাদের কেউ দেখতে পায় না, কেউ জানতেও পারবে না আমরা আসলে কে?”
16 তোমরা আসলে বিভ্রান্ত| তোমরা মনে কর যে মাটি আর কুমোর সমান| তোমরা ভাবো যে তৈরী জিনিষটি, যে তাকে তৈরী করেছে তাকে বলতে পারে, “তুমি আমাকে তৈরী করনি!” এটা আসলে একটা পাত্রের মত যে তার সৃষ্টিকর্তাকে বলছে, “তুমি বোঝ না|”
17 সত্যটি হল: কিছু সময় পরেই লিবানোন উত্তর ইস্রায়েলের সু-আবাদি কর্মিল পর্বতের মতো উর্বর চাষের জমি পেয়ে যাবে এবং কর্মিল পর্বত ঘণ অরণ্যের মতো হবে|
18 বধির শুনতে পাবে, বই থেকে পড়ে শোনানো কথাগুলি; অন্ধ কুযাশা ও অন্ধকারের মধ্যেও দেখতে পাবে|
19 প্রভু গরীব মানুষদের সুখী করবেন| ইস্রায়েলে গরীব লোকরা ইস্রায়েলের সেই পবিত্র এক জনের নামে আনন্দ করবে|
20 যখন নিষ্ঠুর ও উদ্ধত লোকরা আর থাকবে না তখন এটা ঘটবে| যারা মন্দ কাজ করার জন্য সুযোগ খুঁজে বেড়ায সেই সব লোকদের পতনের পর এটা ঘটবে|
21 সেই সব লোক লোকদের বিরুদ্ধে মিথ্য়ে অভিযোগ নিয়ে আসে| আদালতে তারা বিচারকদের জন্য ফাঁদ পাতার চেষ্টা করে| তারা আইন মেনে চলা লোকদের বিরুদ্ধে মিথ্য়ে বিচার আনার জন্য তাদের আইনি তর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে|
22 সুতরাং, প্রভু যাকোবের পরিবারের সঙ্গে কথা বলবেন| (এই সেই প্রভু যিনি অব্রাহামকে উদ্ধার করেছিলেন|) প্রভু বলেন, “এখন যাকোব (ইস্রায়েলের লোক) বিব্রত ও লজ্জিত হবে না|
23 তিনি তাঁর সকল শিশুদের দেখবেন এবং বলবেন যে আমার নাম পবিত্র, আমি এই সব শিশুদের নিজের হাতে তৈরী করেছি এবং তারা বলবে যে যাকোবের সেই পবিত্র জনটি (ঈশ্বর) হলেন খুব বিশিষ্ট| এই সকল শিশুরাই ইস্রায়েলের ঈশ্বরকে শ্রদ্ধা করবে|
24 যাদের আত্মা বিপথে গিয়েছিল তারা বুঝতে পারবে এবং যারা নালিশ করেছিল তারা উচিত্‌ শিক্ষা পাবে|”




অধ্যায় 30

1 প্রভু বললেন, “এই বিদ্রোহী শিশুদের দিকে দেখ| তারা আমাকে মান্য করে না| তারা পরিকল্পনা করে| কিন্তু তারা আমাকে সাহায্য করতে বলে না| তারা অন্য দেশের সঙ্গে চুক্তি করে| কিন্তু আমার আত্মা ঐ ধরণের চুক্তি চায় না| এই সব লোকরা তাদের পাপের সঙ্গে আরো অনেক পাপ যোগ করছে|
2 এই সব শিশুরা সাহায্যের জন্য মিশরে যাচ্ছে| কিন্তু তারা কখনো আমাকে জিজ্ঞাসা করেনি, এটা তারা ঠিক কাজ করছে কি না| তাদের আশা মিশরের রাজা ফরৌণ তাদের সাহায্যে করবে| তারা চায় মিশর তাদের রক্ষা করুক|
3 “কিন্তু আমি বলব মিশরে লুকিয়ে থাকা তোমাদের পক্ষে সহায়ক হবে না| মিশর তোমাদের রক্ষা করতে পারবে না|
4 তোমাদের নেতারা মিশরীয় শহর সোযনে গিয়েছে| এবং তোমাদের রাষ্ট্রদূতরা মিশরীয় শহর হানেষে গিয়েছে|
5 কিন্তু তারা আশাহত হবে| তারা এমন একটা জাতির উপর নির্ভরশীল যারা সাহায্য করতে অপারগ| মিশর হচ্ছে অকর্মণ্য| প্রয়োজনীয় সাহায্য ওরা দিতে পারবে না| মিশর তাদের কাছে শুধুমাত্র লজ্জা এবং বিহবলতা আনবে|”
6 যিহূদার দক্ষিণে মরু অঞ্চল নেগেভের প্রাণীর জন্য বার্তা|নেগেভ হল একটি বিপজ্জনক স্থান| এই জায়গাটি সিংহ এবং দ্রুতগামী বিষাক্ত সাপে ভর্তি| কিন্তু কিছু লোক নেগেভের মধ্যে দিয়ে মিশরে যাতায়াত করে| এই সব লোক তাদের জিনিসপত্র গাধার পিঠে চাপিয়ে নিয়ে যায়| উটের পিঠের ওপর তাদের ধনসম্পত্তি বয়ে নিয়ে যাওয়া হয় সেই দেশে যার ওপর লোকে নির্ভর করে আছে, যে দেশ তাদের সাহায্য করতে অপারগ|
7 এই অকর্মণ্য দেশটি হল মিশর| মিশরের সাহায্য কোন কাজেই লাগবে না| সুতরাং আমি মিশরের নাম দিয়েছি, “অকর্মণ্য দানব|”
8 এখন এটাকে কোন চিহ্নের ওপর লেখ যাতে সমস্ত মানুষ এটাকে দেখতে পায় এবং এটা লিখে রাখ একটা বইয়ের মধ্যে| শেষের দিনের জন্য এগুলি লেখ যাতে এগুলি সুদূর ভবিষ্যতে সাক্ষ্যস্বরূপ চিরকাল থাকে|
9 এই সব লোক শিশুদের মতো| তারা তাদের পিতামাতাকে মান্য করতে চায় না| তারা মিথ্যা কথা বলে এবং ঈশ্বরের বিধি শুনতে অস্বীকার করে|
10 তারা ভাব্বাদীদের বলে, “ভবিষ্যদ্বাণী করো না! যা যা আমাদের করা উচিত্‌ সে বিষয়ে স্বপ্ন দেখো না! আমাদের সত্যি কথা বলো না| সুন্দর জিনিসের কথা আমাদের বল এবং আমাদের মধ্যে ভাল অনুভূতির সঞ্চার কর! আমাদের শুধু ভাল ভাল জিনিস দেখাও!
11 সেই সব জিনিস দেখাবে যা যা ঘটবে! সেগুলিকে আমাদের থেকে বরং দূরে সরিয়ে রাখ! ইস্রায়েলের ঈশ্বরের কথা আমাদের বোল না|”
12 ইস্রায়েলের পবিত্র জনটি বলেন, “তোমরা প্রভুর কাছ থেকে আসা এই বার্তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছ| তোমরা পীড়ন ও মিথ্যার ওপর নির্ভর করতে চাও|
13 এসব কাজের জন্য তোমরা অপরাধী| তোমরা আসলে ফাটল ধরা উঁচু প্রাচীরের মতোই| সেই প্রাচীরের পতন হবে এবং তা ছোট ছোট টুকরোয পরিণত হবে|
14 তোমরা চীনামাটির বাসনের মতো ভেঙ্গে ছোট ছোট টুকরোয পরিণত হবে| এই টুকরোগুলি কোন কাজেই লাগবে না| তোমরা সেই টুকরোগুলোকে গরম কযলার টুকরো তোলার কাজে অথবা জলাশয থেকে জল আনার কাজে ব্যবহার করতে পারবে না|”
15 প্রভু, আমার গুরু, ইস্রায়েলের পবিত্র জনটি বলেন, “তোমরা যদি আমার কাছে ফিরে আসো তবে সুরক্ষিত হবে| তোমরা যদি আমার ওপর আস্থা রাখ তবেই পাবে আসল শক্তি| কিন্তু তোমাদের শান্ত হতে হবে|”কিন্তু তোমরা তা করতে চাও না!
16 তোমরা বলবে, “না, আমাদের পালিয়ে যাওয়ার জন্য ঘোড়া চাই|” নিশ্চয়ই তোমরা ঘোড়ায় চেপে পালিয়ে যাবে| কিন্তু শএুরা তোমাদের পেছনে তাড়া করবে| এবং শএুরা তোমাদের ঘোড়ার থেকেও দ্রুতগামী হবে|
17 এক জন শএু তোমাদের ভয় দেখাবে এবং তোমাদের এক হাজার লোক পালিয়ে যাবে| যখন পাঁচজন শএু তোমাদের ভয় দেখাবে তখন তোমরা সবাই ওদের কাছ থেকে পালিয়ে যাবে| তোমাদের সেনাদের যে জিনিসটা শুধুমাত্র পড়ে থাকবে তা হল পাহাড়ের ওপর একটি পতাকার দণ্ড|
18 প্রভু তোমাদের প্রতি তাঁর করুণা দেখাতে চান| তিনি অপেক্ষা করছেন| তিনি উঠে দাঁড়াতে চান এবং তোমাদের আরাম দিতে চান| প্রভু ঈশ্বর ন্যায়পরায়ণ এবং যারা প্রভুর কৃপার অপেক্ষায আছেন তারা সুখী হবে|
19 প্রভুর লোকরা সিয়োন পর্বতের ওপর জেরুশালেমে বাস করবে| তোমরা এন্দনরত থাকবে না| প্রভু তোমাদের কান্না শুনবেন এবং তিনি তোমাদের আরাম দেবেন| প্রভু তোমাদের কথা শুনবেন এবং তিনি তোমাদের কৃপা করবেন|
20 অতীতে আমার প্রভু (ঈশ্বর) তোমাদের দুঃখ ও দুর্দশা দিয়েছিলেন- সেটা ছিল তোমাদের দৈনন্দিনের রুটি ও জলের মতো| কিন্তু ঈশ্বর তোমাদের শিক্ষাদাতা এবং তিনি তোমাদের কাছ থেকে চিরকাল লুকিয়ে থাকবেন না| তোমরা নিজেদের চোখেই নিজেদের শিক্ষককে দেখতে পাবে|
21 তোমরা যদি জীবনের ভুলপথে চল, (ডানদিকে অথবা বাঁদিকে) পিছন থেকে এই কথাগুলো শুনতে পাবে: “এটাই সঠিক পথ| তোমাদের এই পথেই চলতে হবে|”
22 তোমাদের সোনা এবং রূপোয আচ্ছাদিত মূর্ত্তি আছে| সেইসব মূর্ত্তিসমূহ তোমাদের পাপী করে তুলেছে| কিন্তু তোমরা সেই মূর্ত্তিদের সেবা করা থেকে বিরত হবে| তোমরা এইসব মূর্ত্তিদের নোংরা আবর্জনার মত ফেলে দেবে|
23 সেই সময় প্রভু তোমাদের জন্য বৃষ্টি পাঠাবেন| তোমরা জমিতে বীজ বপন করবে| এবং সেই জমি ভরে উঠবে তোমাদের খাদ্যদ্রব্য়ে| তোমাদের শস্য সংগ্রহ খুব ভালো হবে| তোমাদের গবাদি পশুসমূহ বৃহত্‌ পশুচারণ ভূমিগুলোতে চারণ করবে| তোমাদের চাহিদামত প্রচুর ফসল হবে|
24 তোমাদের গাধা ও গবাদিপশু সমূহ (যেগুলিকে তোমরা জমি কর্ষণের জন্য ব্যবহার কর) প্রচুর পরিমাণে উত্কৃষ্টতম জাব খাবে যেগুলো কাঁটাযুক্ত দণ্ড ও কুড়ুল দিয়ে ছড়ানো|
25 প্রতিটি পাহাড় আর টিলায জলপূর্ণ ছোট ছোট নদী থাকবে| বহু মানুষের হত্যা ও বহু স্তম্ভ ধ্বংসের পর এই সব ঘটবে|
26 সেই সময় চাঁদের আলো হবে সূর্য়ের চেয়েও উজ্জ্বল| সূর্য়ের আলো হবে এখনকার চেয়ে সাতগুণ বেশী উজ্জ্বলতর| সূর্য়ের একদিনের আলোই হবে গোটা সপ্তাহের সমান| এসব ঘটবে তখনই যখন প্রভু তাঁর আহত মানুষদের পট্টি বাঁধবেন এবং মারধোরের ফলে তাদের যে ক্ষত হয়েছে তা সারাবেন|
27 দেখো! প্রভুর নাম বহুদূর থেকে আসছে| তাঁর রোধ ঘন মেঘের ধোঁযাসহ একটি আগুনের মত| ঈশ্বরের মুখ রোধ পরিপূর্ণ এবং তাঁর জিহবা একটি জ্বলন্ত অগ্নির মত|
28 প্রভুর আত্মা একটি বড় নদীর মত বেড়েই চলেছে যতক্ষণ না তিনি আকণ্ঠ ডুবে যান| প্রভু দেশগুলির বিরুদ্ধে মামলা চালাবেন| ওটা ঠিক যেন তিনি তাদের ‘ধ্বংসের ছাঁকনির’ ভেতর ঝাঁকাচ্ছেন| সেটা হবে যেন জাতিগুলিকে বিপথে নিয়ে যাবার জন্য তার মুখে লাগাম দেওয়া আছে যা দিয়ে পশুদের নিয়ন্ত্রণ করা হয়|
29 সেই সময়, তোমরা সুখের সঙ্গীত গেযে উঠবে| সেই সময়টা হবে একটি ছুটির শুরুর রাতের মত| তোমরা প্রভুর পর্বতে হাঁটার সময় খুবই খুশী হবে| তোমরা যখন প্রভু, ইস্রায়েলের শিলার কাছে উপাসনা করতে যাবে তখন তোমরা যাত্রা পথে মধুর গান শুনে খুশী হবে|
30 প্রভু তাঁর মহান স্বর সকল মানুষকে শোনাবেন| প্রভু সকল মানুষকে তাঁর রোধ নেমে আসা শক্তিশালী হাত দেখতে বাধ্য করবেন| সেই বাহু হবে মহান অগ্নির মতো, যা কিনা সব কিছুকেই পুড়িয়ে ফেলতে পারে| প্রভুর ক্ষমতা হবে ঝড় ও শিলাবৃষ্টির মত|
31 অশূর যখন প্রভুর রব শুনতে পাবে তখন সে ভীত হবে| একটি লাঠি দিয়ে প্রভু অশূরকে আঘাত করবেন|
32 প্রভু অশূরকে আঘাত করবেন এবং তার সঙ্গে ঢাক ও বীণা বাজানো হবে| প্রভু তাঁর মহান শক্তিশালী বাহুবলে অশূরকে পরাস্ত করবেন|
33 তোফত্‌কেবহু দিন থেকে তৈরী করে রাখা হয়েছে| এটি রাজার জন্য তৈরী হয়েছে| এটাকে খুবই গভীর এবং বিস্তৃত ভাবে তৈরী করা হয়েছে| সেখানে প্রচুর কাঠ ও আগুন রয়েছে| গন্ধকের জ্বলন্ত স্রোতের মতো প্রভুর আত্মা সেখানে পৌঁছোবে এবং তাকে পুড়িয়ে দেবে|




অধ্যায় 31

1 সাহায্যের জন্য মিশর অভিমুখে যাওয়া লোকদের দিকে তাকাও| তারা ঘোড়া চায় এই মনে করে যে ঘোড়ারা তাদের রক্ষা করবে| তারা মনে করে যে মিশরের অনেকগুলি রথ ও অশ্বারোহী সৈন্য তাদের রক্ষা করবে| তারা মনে করে তারা খুবই নিরাপদে আছে| কারণ তাদের সেনাবাহিনী খুবই বিশাল| লোকদের ইস্রায়েলের ঈশ্বরের প্রতি আস্থা নেই| তারা প্রভুর কাছে সাহায্যও চায় না|
2 কিন্তু প্রভু জ্ঞানী এবং তিনি তাদের সমস্যায় ফেলবেন| তারা প্রভুর আদেশের পরিবর্তন ঘটাতে পারে না| প্রভু দুষ্ট লোকদের (যিহূদা) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন| এবং প্রভু দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করবেন যারা তাদের সাহায্য করেছিল|
3 মিশরের লোকরা নিছকই মানুষ, ঈশ্বর নয়| মিশরের ঘোড়াগুলি পশুমাত্র, আত্মা নয়| প্রভু তাঁর বাহুকে কাজে লাগাবেন এবং সাহায্যকারী দেশ মিশরকে পরাস্ত করবেন| এবং (যিহূদার) যে সমস্ত লোকরা সাহায্য চেয়েছিল তাদের পরাজয় হবে| তারা সবাই এক সঙ্গে ধ্বংস হবে|
4 প্রভু আমাকে বলেছিলেন, “একটা সিংহ অথবা সিংহশাবক যখন কোন পশুকে খাবার জন্য ধরে সে তখন তার শিকারের ওপর দাঁড়ায ও গর্জন করে| তখন কোন কিছুই সিংহটিকে ভয় দেখাতে পারে না| যদি মানুষ আসে এবং চেষ্টাও করে সিংহটি ভীত হয় না| মানুষ যথেষ্ট হল্লা জুড়তে পারে| কিন্তু সিংহ পালায় না|”একই ভাবে সর্বশক্তিমান প্রভু আসবেন সিয়োন পর্বতে| পর্বতের ওপর প্রভু যুদ্ধ করবেন|
5 বাসার ওপর উড়ন্ত পাখির মত সর্বশক্তিমান প্রভু জেরুশালেমের হয়ে যুদ্ধ করবেন| প্রভু তাঁকে রক্ষা করবেন| প্রভু জেরুশালেমকে প্রতিরক্ষা করবেন এবং তাকে উদ্ধার করবেন|
6 তোমরা ইস্রায়েলের শিশুরা ঈশ্বরের বিরুদ্ধগামী| তোমাদের উচিত্‌ ঈশ্বরের কাছে ফিরে আসা|
7 তখনই সোনা রূপো দিয়ে তোমাদের তৈরী করা মূর্ত্তির পূজা লোকেরা ছেড়ে দেবে| তোমরা সত্যিই ঐসব মূর্ত্তি তৈরী করবার সময় পাপ করেছ|
8 এটা সত্যি যে অশূর তরবারির সাহায্যে পরাস্ত হবে| কিন্তু তরবারিটি মানুষের তরবারি নয়| অশূর ধ্বংস হবে| কিন্তু সেই ধ্বংস মানুষের তরবারি দিয়ে হবে না| অশূর ঈশ্বরের তরবারি দেখে পালাবে| কিন্তু যুবকরা ধরা পড়বে এবং তাদের দাস বানানো হবে|
9 তাদের নিরাপদ স্থান ধ্বংস হবে| তাদের নেতারা পরাস্ত হয়ে তাদের পতাকা ত্যাগ করবে|ঐসব কথা প্রভুই বলেছেন| প্রভুর অগ্নিস্থান (বেদী) সিয়োনে আছে| প্রভুর উনুন (বেদী) জেরুশালেমে আছে|




অধ্যায় 32

1 আমি যা যা বলি শোন| একজন রাজার এমন ভাবে শাসন করা উচিত্‌ যা প্রজাদের মঙ্গল সাধন করে| নেতারা যখন লোকদের নেতৃত্ব দেয় তখন তাদের নিরপেক্ষ ও উচিত্‌ সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার|
2 যদি এসব ঘটনাগুলি ঘটে তবে রাজা সেই জায়গার মতোই হবে যেখানে রোদ ও বৃষ্টি থেকে আমরা নিজেদের রক্ষা করতে পারব| এটা হয়ে উঠবে শুকনো জমিতে জলপ্রবাহ সমূহের মতো| এটা হবে গরম ভূখণ্ডে বিশাল পাথর খণ্ডের শীতল ছায়ার মতো|
3 লোকরা সাহায্যের জন্য রাজার কাছে যাবে এবং তিনি যা বলবেন লোকরা সত্যি সত্যিই তা শুনবে|
4 যে সব লোকরা এখন বিভ্রান্ত তারা সব কিছু বুঝতে সক্ষম হবে| যারা স্পষ্ট কথা বলতে পারে না তারা স্পষ্ট ও দ্রুত কথা বলতে পারবে|
5 দুষ্ট লোকদের বদান্য বলে ডাকা হবে না| লোভী লোকদের কেউ উদার বলবে না|
6 এক জন দুষ্ট লোক সর্বদাই অরুচিকর কথা বলে| এবং তার মনে পাপ কাজ করার চিন্তাই থাকে| এক জন বোকা লোক কেবল ভুল কাজ করে| সে যখন ঈশ্বরের সঙ্গে কথা বলে তখনো প্রতারণাপূর্ণ কথা বলে| এক জন খল লোক ক্ষুধার্তকে খাবার দেয় না| ঈশ্বরের বিষয়ে অজ্ঞ যে মানুষ সে তৃষ্ণার্তকে জল দেয় না|
7 সেই দুষ্ট লোকটি পাপবুদ্ধিকে অস্ত্রের মতো ব্যবহার করে| সে গরীব মানুষের সব কিছু আত্মসাত্‌ করার পরিকল্পনা করে| এমনকি যখন গরীব লোকটি সত্যি কথা বলছে সেই দুষ্ট লোক গরীব মানুষদের বিষয়ে মিথ্যা কথা বলে|
8 কিন্তু ভালো নেতা ভালো কাজের পরিকল্পনা করেন এবং সেই সব ভালো কাজই তাকে মহান নেতার আসনে বসায|
9 তোমাদের মহিলাদের মধ্যে কেউ কেউ এখনও শান্ত| তোমরা নিজেদের নিরাপদ মনে করছ| কিন্তু তোমাদের উঠে দাঁড়িয়ে আমার কথা শোনা উচিত্‌|
10 মহিলারা, তোমরা নিজেদের নিরাপদ মনে করো| কিন্তু এক বছর পর তোমরা সমস্যায় পড়বে| কারণ পরের বছর তোমরা দ্রাক্ষাফল সংগ্রহ করতে পারবে না| সংগ্রহ করার মতো কোন দ্রাক্ষাফল তখন থাকবে না|
11 মহিলারা তোমরা এখন শান্ত| কিন্তু তোমাদের ভীত হওয়া উচিত্‌| মহিলারা তোমরা নিজেদের নিরাপদ মনে করছ কিন্তু তোমাদের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত্‌| তোমরা সুন্দর পোশাক খুলে দুঃখের পোশাক পর| তোমরা কোমরে জড়িয়ে রাখ সেই কাপড়|
12 তোমার দুঃখে ভারাএান্ত স্তনয়ুগলকে সেই সব দুঃখের কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখ|কাঁদো যেহেতু তোমার জমি শস্য শূন্য| তোমার দ্রাক্ষাক্ষেত যা একসময় ফসল দিত তা এখন শূন্য|
13 আমার লোকদের দেশের জন্য কাঁদো| কাঁদো, কারণ দেশে কাঁটাগাছ আর আগাছাই জন্মাবে| কাঁদো সেই সব শহর ও ঘরবাড়ির জন্য যেগুলি এক সময় আনন্দে পরিপূর্ণ ছিল|
14 লোকরা রাজধানী, শহর ত্যাগ করবে| প্রাসাদ ও দুর্গগুলি পরিত্যক্ত হবে| লোকরা ঘরে বসবাস করতে পারবে না| তারা গুহায গিয়ে বাস করবে| বুনো গাধা ও মেষ শহরে বসবাস করবে| জীবজন্তুরা সেখানে ঘাস খেতে যাবে|
15 যতদিন না ঈশ্বর ওপর থেকে আমাদের জন্য তাঁর আত্মা প্রেরণ করেন ততদিন এটা চলতে থাকবে| কিন্তু ভবিষ্যতে এই মরুভূমি উত্তর ইস্রায়েলের সুউর্বর আবাদি এলাকা কর্মিলে পরিণত হবে- সেখানে ন্যায়বিচার বিরাজ করবে| এবং কর্মিল হবে সবুজ বনভূমির মত| সুবিচার সেখানে বিরাজ করবে|
16
17 এই ধার্মিকতা চির কালের জন্য শান্তি ও নিরাপত্তা এনে দেবে|
18 আমার লোকরা এই সুন্দর শান্তিপূর্ণ জায়গায় বাস করবে| আমার লোকরা নিরাপদ তাঁবুতে বাস করবে| তারা শান্ত ও শান্তিপূর্ণ জায়গায় বাস করবে|
19 কিন্তু এই সকল ঘটনা ঘটার আগে জঙ্গলটার পতন ঘটাতে হবে| শহরটিকে পরাস্ত করতে হবে|
20 এই সব লোকদের মধ্যে কেউ কেউ প্রতিটি জল প্রবাহের ধারে ফসল বুনবে| তোমাদের গাধা এবং গবাদি পশুরা এর চারি দিকে ঘুরে বেড়াবে ও স্বাধীন ভাবে খাদ্যগ্রহণ করবে| তোমরা খুব সুখী হবে|




অধ্যায় 33

1 1 দেখ! তোমরা যারা তোমাদের কাছ থেকে কখনও কিছু চুরি করেনি, তাদের সঙ্গে ঝগড়া করো আর তাদের জিনিষ চুরি করো| তোমরা সেই সব লোকের বিপক্ষে যাবে, যারা কখনো তোমাদের বিপক্ষে যায়নি| তাই যখন তোমরা চুরি করা বন্ধ করবে অন্য লোকরা তখন তোমাদের কাছ থেকে চুরি করবে| তোমরা যখন অন্যের বিপক্ষে যাওয়া বন্ধ করবে তখন অন্য লোকরা তোমাদের বিপক্ষে যাওয়া শুরু করবে|তখন লোকরা বলবে,
2 “প্রভু আমাদের প্রতি সদয হোন| আমরা আপনার সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করছি| প্রতিদিন সকালে আমাদের শক্তি দিন| আমরা বিপদে পড়লে আমাদের রক্ষা করুন|
3 আপনার শক্তিশালী রব লোকদের ভয়চকিত করে| এবং তারা আপনার কাছ থেকে দূরে পালাতে চায়| আপনার মহত্ব দেশগুলিকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করবে|”
4 যুদ্ধে তোমরা জিনিসপত্র চুরি করবে| সেই সব জিনিস তোমাদের কাছ থেকে নিয়ে নেওয়া হবে| অনেক অনেক লোক আসবে| তারা তোমাদের ধনসম্পদ নিয়ে যাবে| এটা অনেকটা সেই সময়ের মতো হবে যখন পতঙ্গরা এসে শস্য ক্ষেতের সব ফসল খেয়ে নেয|
5 প্রভু খুবই মহান| তিনি খুব উচ্চস্থানে বসবাস করেন| প্রভু সিয়োনকে সাধুতা এবং ধার্ম্মিকতায পূর্ণ করবেন|
6 জেরুশালেম তুমি খুব ধনী| জেরুশালেমের লোক, তোমরা ঈশ্বরের জ্ঞান ও বিচক্ষণতা দ্বারা পরিপূর্ণ| তোমরা পরিত্রাণপ্রাপ্ত| তোমরা প্রভুকে শ্রদ্ধা কর এবং এটাই তোমাদের ধনী করেছে| সুতরাং তোমরা জান যে তোমরা সেটি করা অব্যাহত রাখবে|
7 কিন্তু শোন! বার্তাবাহকরা বাইরে কাঁদছে| যে সব বার্তাবাহকরা শান্তি আনছে তারাই খুব কাঁদছে|
8 রাস্তা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে| পথ দিয়ে কেউ হাঁটছে না| মানুষ তাদের তৈরি চুক্তি ভঙ্গ করেছে| লোকরা সাক্ষ্য, প্রমাণ কোন কিছুই বিশ্বাস করতে চাইছে না| কেউ কাউকে শ্রদ্ধা করছে না|
9 দেশ রুগ্ন ও মৃতপ্রায| লিবানোন মারা যাচ্ছে| শারোণ উপত্যকা শুষ্ক ও শূন্য| একদা বাশন ও কর্মিলে সুন্দর গাছ জন্মাত, কিন্তু এখন শুকনো ও শূন্য|
10 প্রভু বলেন, “আমি এখন উঠে দাঁড়াব এবং আমার মহত্ব দেখাব| এখন আমি মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠব|
11 তোমরা অরয়োজনীয় কাজ করেছ| সেই সব কাজ হল খড় এবং খড়কুটোর মতো| সেই সবের কোন মূল্য নেই| তোমাদের আত্মা আগুনের মত হবে এবং তা তোমাদের পোড়াবে|
12 লোকদের পোড়ানো হবে যতক্ষণ না তাদের হাড় চুনে পরিণত হয়| লোকরা কাঁটা ও বুনো আগাছার মত দ্রুত পুড়ে যাবে|
13 “তোমরা দূর দেশের লোক আমার কর্মের কথা শোন, তোমরা যে সব লোকরা আমার কাছে আছো তারা আমার ক্ষমতা সম্পর্কে জান|”
14 সিয়োনের পাপীরা ভীত| যারা ভুল কাজ করেছিল তারা ভয়ে কাঁপছে| তারা বলছে, “এই ধ্বংসাত্মক আগুনের মধ্যে আমাদের কেউ কি বাঁচাতে পারবে? এই অনন্ত আগুনের কাছে কে বাস করতে পারে?”
15 ভালো সত্‌ মানুষরা অন্যের টাকায লোভ দেয় না| তাই তারা ঐ আগুনের মধ্যেও বসবাস করতে পারবে| যে সব লোকরা ঘুষ নেয না, যারা অন্য লোককে খুন করার পরিকল্পনার কথা শুনতে চায় না, যারা খারাপ কাজের পরিকল্পনায অংশগ্রহণ করে না|
16 তারাও উচ্চস্থানে নিরাপদে বাস করবে| উঁচু কেল্লার দ্বারা তারা সুরক্ষিত থাকবে| এই সব লোকদের কাছে সব সময় জল ও খাবার থাকবে|
17 তোমাদের চোখ রাজাকে তাঁর সৌন্দর্য়্য়ে দেখতে পাবে| তোমরা অনেক দূরের সেই ভূখণ্ডটি দেখতে পাবে|
18 তোমরা তোমাদের অতীতের সমস্যার কথা ভাববে| তোমরা ভাববে, “কোথায় গেল সেই বিদেশীরা যারা কথা বললে তাদের কথা বুঝতাম না? কোথায় সেই ভিনদেশী কর্মী ও কর আদাযকারীর দল? কোথায় গেল সেই চররা যারা আমাদের প্রতিরক্ষা দুর্গগুলির গণনা করত? তারা সবাই চলে গিয়েছে|”
19
20 সিয়োনের দিকে তাকাও| এই শহরটি আমাদের ধর্মীয় ছুটির দিনের জন্য| জেরুশালেমের দিকে তাকাও যা একটি সুন্দর বিশ্রামের জায়গা| জেরুশালেম একটা তাঁবুর মতো যাকে কখনও সরানো যাবে না| যে পেরেকগুলি তাকে নির্দিষ্ট জায়গায় ধরে রেখেছে তাদের কখনও উপড়ে ফেলা যাবে না| তার দড়িগুলি কখনো ছিঁড়ে যাবে না|
21 কারণ প্রভু সর্বশক্তিমান সেখানে রয়েছেন| এই দেশ ছোট ও বড় নদী বেষ্টিত জায়গা| কিন্তু এই নদীগুলিতে শএুর নৌকা বা শক্তিশালী জাহাজ থাকবে না| তোমরা যারা এই নৌকোগুলোতে কাজ করছ, তারা এই দড়িগুলি নিয়ে কাজ করা বন্ধ করে দিতে পারো| তোমরা মাস্তুলকে যথেষ্ট শক্তিশালী করতে পারো না| তোমরা তোমাদের পাল খুলতে পারবে না| কারণ প্রভু আমাদের বিচারক| প্রভু আমাদের বিধি প্রণেতা| প্রভুই আমাদের রাজা| তিনি আমাদের রক্ষা করেন| তাই তিনি আমাদের যথেষ্ট সম্পদ দেবেন| এমনকি পঙ্গু লোকরা যুদ্ধ থেকে প্রচুর সম্পদ লাভ করবে|
22
23
24 সেখানে বাস করা কোনও লোকই বলবে না যে “আমি রুগ্ন|” পাপমুক্ত লোকরাই সেখানে বাস করবে|




অধ্যায় 34

1 সমস্ত জাতিসমূহ, আমার কথা শোন! খুব কাছে এসে তোমাদের এই কথা শোনা উচিত্‌| পৃথিবীর এবং পৃথিবীর সব লোক এই সব কথা শোন|
2 প্রভু সমস্ত জাতি এবং তাদের সৈন্যদের প্রতি রুদ্ধ| তিনি তাদের সকলকে ধ্বংস করবেন| তিনি তাদের হত্যা করাবেন|
3 তাদের দেহগুলি বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হবে| তাদের শরীর থেকে দুর্গন্ধ বেরোবে| তাদের রক্ত পাহাড় থেকে গড়িযে পড়বে|
4 পাকানো কাগজের মত আকাশ গুটিযে বন্ধ হয়ে যাবে| নক্ষত্ররা মারা যাবে এবং দ্রাক্ষা গাছের পাতা বা ডুমুর পাতার মতো তাদের পতন হবে| আকাশের সব নক্ষত্র নষ্ট হয়ে যাবে|
5 প্রভু বললেন, “এসব ঘটবে যখন আকাশে আমার তরবারি রক্ত দ্বারা পরিতৃপ্ত হবে|”দেখ! প্রভুর তরবারি ইদোমকে কেটে দ্বিখণ্ডিত করবে| প্রভু এইসব লোকেদের ওপর তাঁর বিচার জারি করেছেন এবং তাদের অবশ্যই মৃত্যু হবে|
6 কারণ প্রভু মনে করেন ইদোম ও ইদোমের শহর বসরার ধ্বংসের সময় এসেছে|
7 সুতরাং মেষ, গবাদি পশু ও শক্তিশালী ষাঁড়দের ধ্বংস করা হবে| তাদের রক্তে দেশ পূর্ণ হবে| তাদের চর্বিতে ভূমি আচ্ছাদিত হবে|
8 এই সব জিনিসগুলি ঘটবে কারণ প্রভু শাস্তির সময় নির্ধারণ করেছেন| যে সব লোক সিয়োনের বিরুদ্ধে অন্যায় করেছে তাদের শাস্তি দেবার জন্য প্রভু একটি বছর বেছে নিয়েছেন|
9 ইদোমের নদীসমূহ গরম আলকাতারার মতো হবে| ইদোমের মাটি হবে পোড়া গন্ধকের মতো|
10 সারা দিনরাত জ্বলবে আগুন| কেউ সেই আগুন নেভাতে পারবে না| ইদোম থেকে ধোঁযা বের হতেই থাকবে| এই দেশ চির কালের জন্য ধ্বংস হয়ে যাবে| লোকরা আর কখনো ঐ দেশের মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে না|
11 পাখি এবং ক্ষুদ্র প্রাণীরা এই দেশকে দখল করে নেবে| পেঁচা ও দাঁড়কাকরা সেখানে বসবাস করবে| বিশৃঙ্খলার ফিতে এবং বিভ্রান্তির পাথর দিয়ে সেই দেশকে মাপা হবে|
12 ওখানকার নেতারা এবং সম্ভ্রান্ত লোকরা শাসন করবার মত কিছু পাবে না| তারা সবাই গত হয়ে থাকবে|
13 সমস্ত সুন্দর বাড়িগুলিতে কাঁটা ও বন্য ঝোপঝাড় জন্মাবে| বন্য কুকুর ও পেঁচা সে সকল বাড়িতে বসবাস করবে| বন্য জন্তুরা সেখানে বাস করবে| বড় পাখিরা ওখানে গজিযে ওঠা ঘাসের মধ্যে বাস করবে|
14 বন্য বিড়ালরা বন্য কুকুরের সঙ্গে এক সাথে বাস করবে| বন্য ছাগল তাদের বন্ধুদের ডাকবে| নিশাচর পশুরা সেখানে খুঁজে পাবে বিশ্রামস্থল|
15 সেখানে সাপরা বাসা বাঁধবে| তারা সেখানে ডিম পাড়বে| তারা ছায়ায় আশ্রয় নেবে এবং সেখানে ডিম ফোটাবে| কিন্তু বাজপাখীরাও সেখানে একের পর এক এসে জুটবে|
16 প্রভুর বইটির মধ্যে খুঁজে দেখ এবং পড়| একটা জিনিষও বাদ যাবে না| সেখানে লেখা আছে যে ঐ সকল প্রাণীদের এক জনও নিশ্চিহ্ন হবে না| এক জনও সঙ্গীহীন হবে না| ঈশ্বর এই আদেশ দিয়েছেন এবং ঈশ্বরের আত্মা তাদের একত্রিত করেছে|
17 ঈশ্বর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাদের সম্বন্ধে তিনি কি করবেন| তারপর ঈশ্বর তাদের জন্য একটা জায়গা নির্বাচন করবেন| ঈশ্বর একটি গণ্ডি কেটে তাদের জায়গা দেখিয়ে দেবেন| সুতরাং প্রাণীরা সেই জায়গাকে চিরকালের জন্য দখল করে নেবে| সেখানে তারা বসবাস করবে বছরের পর বছর|




অধ্যায় 35

1 শুষ্ক মরুভূমি খুশি হয়ে উঠবে| মরুভূমি আনন্দিত হবে এবং বেড়ে উঠবে ফুলের মতো|
2 মরুভূমি পরিপূর্ণ হবে ফুলের বাগানে এবং নিজের খুশীর কথা প্রকাশ করবে| মনে হবে যেন মরুভূমি আনন্দে নাচছে| মরুভূমি উত্তর ইস্রায়েলের পাইন গাছের জন্য বিখ্যাত লিবানোনের বনাঞ্চলের মতোই সুন্দর হয়ে উঠবে| মরুভূমি মনোরম হয়ে উঠবে কর্মিল পাহাড় ও শারোণ উপত্যকার মতো| এটা ঘটবে কারণ সব লোক প্রভুর অপার মহিমা দেখতে পাবে| আমাদের ঈশ্বরের সৌন্দর্য় মানুষ দেখতে পাবে|
3 দুর্বল বাহুকে শক্ত কর| দুর্বল হাঁটুকে শক্ত কর|
4 লোকরা ভীত ও বিভ্রান্ত| সেই সব লোকদের বল, “শক্ত হও! ভীত হযো না!” দেখ, তোমাদের ঈশ্বর আসবেন এবং তোমাদের শএুদের শাস্তি দেবেন| তিনি আসবেন এবং তোমাদের পুরস্কৃত করবেন| প্রভু আসবেন এবং তোমাদের রক্ষা করবেন|
5 তখন অন্ধ মানুষরা চোখে দেখতে পারবে| তাদের চোখ খুলে যাবে| তখন বধিররা শুনতে পাবে| তাদের কান খুলে যাবে|
6 পঙ্গু মানুষরা হরিণের মতো নেচে উঠবে এবং যারা এখন কথা বলতে পারে না তারা গেযে উঠবে সুখের সঙ্গীত| বসন্তের জল যখন মরুভূমিতে প্রবাহিত হবে তখনই এসব ঘটবে| বসন্ত নেমে আসবে শুষ্ক জমিতে|
7 এখন লোকরা মরীচিকাকে দেখছে জলের মতো কিন্তু সেই সময় আসবে প্রকৃত জলপ্রবাহ| শুষ্ক জমিতে কুযো থাকবে| মাটির তলা থেকে জল নিঃসৃত হবে| এক সময় যেখানে বন্য জন্তুরা রাজত্ব করত সেখানে লম্বা জলজ উদ্ভিদ জন্মাবে|
8 সেই সময় সেখানে একটা রাস্তা হবে| এই দীর্ঘ সড়ককে “পবিত্র সড়ক” নামে অভিহিত করা হবে| পাপী মানুষদের সেই পথ দিয়ে হাঁটতে অনুমতি দেওয়া হবে না| যে সব নির্বোধ লোকরা ঈশ্বরের কথা বিশ্বাস করে না তারা সেই রাস্তা দিয়ে হাঁটতে পারবে না| এক মাত্র ভালো লোকরাই সেই পথে হাঁটার য়োগ্য হবে|
9 সেই রাস্তায় কোন বিপদ থাকবে না| মানুষকে আঘাত করার জন্য সেই রাস্তায় কোন সিংহ থাকবে না| সেই রাস্তায় কোন ভয়ঙ্কর জন্তু থাকবে না| ঈশ্বর দ্বারা যে সব লোকরা রক্ষা পেয়েছে তারাই ঐ পথ দিয়ে হাঁটবে|
10 ঈশ্বর তাঁর লোকদের মুক্ত করবেন| সেই সব লোক তাঁর কাছে ফিরে আসবে| সেই লোকরা যখন সিয়োনে আসবে তখন তারা খুশি হবে| মানুষগুলি চির কালের মতো সুখী হবে| তাদের সুখ হবে তাদের মাথার রাজমুকুটের মতো| আনন্দ ও খুশীতে তারা পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে| দুঃখ ও যন্ত্রণা তাদের কাছ থেকে দূরে, অনেক দূরে চলে যাবে|




অধ্যায় 36

1 যিহূদার রাজা হিষ্কিয়ের বছরের রাজত্বকালে অশূরের রাজা সন্হেরীব যিহূদার দুর্ভেদ্য নগরগুলিতে যুদ্ধ করতে গিয়েছিলেন| সন্হেরীব সেই শহরগুলিকে পরাস্ত করেন|
2 সন্হেরীব বিশাল সেনাদল সহ তাঁর সেনাপতিকে জেরুশালেমের রাজা হিষ্কিয়ের বিরুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন| সেনাপতি ও তার সেনাদল লাখীশ ত্যাগ করে জেরুশালেমে যায়| তারা ধোপার মাঠে যাওয়ার পথে যে উচ্চতর পুষ্করিনীটি আছে তার জলের নলের কাছে থেমেছিল|
3 জেরুশালেম থেকে সেনাপতির সঙ্গে কথা বলতে তিনজন মানুষ যায়| এরা ছিলেন হিল্কিয়ের পুত্র ইলিয়াকীম, আসফের পুত্র য়োযাহ ও শিব্ন| ইলিয়াকীম ছিলেন প্রাসাদের পরিচালক| য়োযাহ ছিলেন নথীরক্ষক এবং শিব্ন ছিলেন রাজপরিবারের সচিব|
4 সেনাপতি তাদের বলল, “অশূরের মহান রাজা যা বলেন তা হিষ্কিয়কে গিয়ে বল| কথাটা হল:তোমরা কাদের কাছ থেকে সাহায্য পাবার আশা কর?
5 আমি বলি, তোমরা যদি ক্ষমতা ও সুপরামর্শের সাহায্যে যুদ্ধ করার ওপর আস্থাশীল হও- সেটা তখন হবে অপ্রয়োজনীয়| ওসব কিছুই নয়, নিছকই বুলি মাত্র| এখন আমি জানতে চাই যে কার ওপর তোমরা এত নির্ভর করছ যে আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে চাও?
6 তোমরা কি মনে কর মিশর তোমাদের সাহায্য করবে? মিশর ভাঙা লাঠির মতো| তোমরা যদি সমর্থনের জন্য সেই লাঠির ওপর ভর দাও, তবে এটা তোমাদের আঘাত করবে এবং তোমাদের হাতের মধ্যে গর্তের সৃষ্টি করবে| মিশরের রাজা ফরৌণের ওপর সাহায্যের বিষয়ে কেউই আস্থা রাখতে পারে না|
7 কিন্তু তোমরা হয়তো বলতে পারো, “আমরা আমাদের প্রভু ঈশ্বরের ওপর সাহায্যের ব্যাপারে আস্থাশীল|” কিন্তু আমি জানি যেখানে লোকরা প্রভুর উপাসনা করত সেই সব বেদী এবং পবিত্র স্থানগুলিকে হিষ্কিয় ধ্বংস করেছে এবং হিষ্কিয় যিহূদা ও জেরুশালেমের লোকদের বলছে, “তোমাদের শুধুমাত্র জেরুশালেমের এই বেদীটিতে উপাসনা করা উচিত্‌|”
8 যদি তোমরা এখনও যুদ্ধ করতে চাও তবে আমার মনিব অশূরদের সম্রাট তোমাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হবেন| আমি প্রতিশ্রুতি করছি তোমরা যদি ঘোড়ায় চড়ার জন্য যথেষ্ট মানুষ জোগাড় করতে পার তবে আমি তোমাদের যুদ্ধের জন্য 2,000 ঘোড়া দেব|
9 কিন্তু তবুও তোমরা আমার মনিবের নিথস্তরের কোন সেনানাযককেও পরাস্ত করতে পারবে না| তবু কেন তোমরা মিশরের রথসমূহ ও অশ্বারোহী সেনাবাহিনীর ওপর নির্ভর কর?
10 এখন তোমরা কি মনে কর আমি প্রভুর সাহায্য ছাড়াই এই দেশ ধ্বংস করতে এসেছি? প্রভু আমাকে বলেছেন, “এই দেশটি আক্রমণ কর এবং এটাকে ধ্বংস কর|”
11 তখন ইলিয়াকীম, শিব্ন ও য়োযাহ সেনাপতিকে বলেন, “অনুগ্রহ করে আমাদের সঙ্গে অরামীয় ভাষায় কথা বলুন| আমরা এই ভাষা বুঝি| যিহূদার ভাষায় আমাদের সঙ্গে কথা বলবেন না, কারণ শহরের দেওয়ালের ওপর যে লোকরা বসে আছে তারা আপনার কথা শুনতে পাবে এবং বুঝতে পারবে|”
12 কিন্তু সেনাপতি বলল, “আমার প্রভু শুধুমাত্র তোমাদের ও তোমাদের মনিবের সঙ্গে কথা বলতে পাঠান নি| আমার মনিব প্রাচীরে বসে থাকা লোকদের সঙ্গেও কথা বলতে নির্দেশ দিয়েছেন| ঐসব লোকদের জন্য যথেষ্ট খাদ্য ও জল থাকবে না| তোমাদের মতো, ওদেরও নিজেদের বর্য়্জ পদার্থ ও নিজেদের প্রস্রাব খেতে হবে|”
13 তখন সেনাপতি ইহুদী ভাষায় জোরে চেঁচিয়ে উঠল,
14 “মহান রাজা, অশূরের রাজার বার্তা শোন:হিষ্কিয়কে তোমাদের ঠকাবার সুযোগ দিও না| আমার ক্ষমতা থেকে সে তোমাদের বাঁচাতে পারবে না|
15 হিষ্কিয়ের কথা বিশ্বাস কর না| সে বলবে, ‘প্রভুর প্রতি আস্থাশীল হও! প্রভু আমাদের রক্ষা করবেন| প্রভু অশূরদের রাজাকে এই শহরকে পরাস্ত করতে দেবেন না|’ এসব কথা বিশ্বাস করবে না|
16 তোমরা হিষ্কিয়ের ওসব কথা শুনো না| অশূর রাজার কথা শোন| অশূর রাজা বলেন, “আমাদের চুক্তি করা উচিত্‌| তোমরা শহরের বাইরে আমার কাছে এসো| তখন সব মানুষই ঘরে ফেরার জন্য মুক্ত হবে| প্রত্যেক মানুষ তার বাগান থেকে দ্রাক্ষা খাওয়ার বিষয়ে মুক্ত হবে| এবং প্রত্যেক মানুষই তার ডুমুর গাছ থেকে ডুমুর খেতে পারবে| প্রত্যেক মানুষ তার নিজের কুযো থেকে জল পান করতে পারবে|
17 যত দিন পর্য়ন্ত আমি না আসব এবং তোমাদের প্রত্যেককে তোমাদের নিজেদের দেশের মতো একটি দেশে নিয়ে যেতে পারব, তত দিন পর্য়ন্ত তোমরা এটা করতে পারবে| সেই নতুন দেশে তোমরা ভাল শস্য ও নতুন দ্রাক্ষারস, রুটি ও দ্রাক্ষার বাগান পাবে|”
18 হিষ্কিয়কে তোমাদের প্রতারণা করতে দিও না| সে বলে, “প্রভু আমাদের রক্ষা করবে|” কিন্তু আমি তোমাদের জিজ্ঞাসা করি, অন্য দেশ সমূহের কোন দেবতা কি অশূরদের রাজার হাত থেকে তাদের দেশসমূহ রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে? না!
19 হমাতের ও অর্পদের দেবতারা কোথায়? তারা পরাস্ত! সফর্বযিমের দেবতারা কোথায়? তারা পরাজিত হয়েছে| তারা কি শমরিয়াকে আমার ক্ষমতা থেকে রক্ষা করেছিল? না!
20 অন্য দেশসমূহের কোন দেবতা কি আমার হাত থেকে তাদের দেশ রক্ষা করেছে? না! প্রভু কি জেরুশালেমকে আমার হাত থেকে রক্ষা করতে পারেন? না!”
21 কিন্তু জেরুশালেমের লোকরা নীরব হয়ে থাকল যেহেতু রাজা হিষ্কিয় নির্দেশ দিয়েছেন সেহেতু তারা সেনাপতিকে কিছুই বলল না| কারণ রাজার আদেশ ছিল, “তাকে কিছু বোলো না|”
22 তারপর প্রাসাদের পরিচালক ইলিয়াকীম (হিল্কিয়ের পুত্র), রাজপরিবারের সচিব শিবন এবং নথীরক্ষক য়োযাহ (আসফের পুত্র) হিষ্কিয়ের কাছে গেলেন| তাঁরা নিজেদের দুঃখ প্রকাশ করবার জন্য তাঁদের জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেললেন| তাঁরা হিষ্কিয়কে অশূরের যাবতীয় বক্তব্য শোনালেন|




অধ্যায় 37

1 রাজা হিষ্কিয় ঐসব ঘটনার কথা শুনেছিলেন| তারপর তিনি তাঁর দুঃখ দেখানোর জন্য নিজের পোশাক ছিঁড়ে ফেললেন| তারপর হিষ্কিয় দুঃখের বিশেষ পোশাক পরলেন এবং প্রভুর মন্দিরে গেলেন|
2 হিষ্কিয় প্রাসাদের পরিচালক ইলিয়াকীম, রাজপরিবারের সচিব শিব্ন ও যাজকদের মধ্যে প্রবীণদের আমোসের পুত্র ভাব্বাদী যিশাইয়র কাছে পাঠালেন| তাঁরা দুঃখ প্রদর্শনের জন্য বিশেষ পোশাক পরেছিল|
3 এঁরা যিশাইয়কে বললেন, “রাজা হিষ্কিয় তাদের আদেশ দিয়েছেন যে আজ দুঃখ ও কষ্ট ভোগের বিশেষ দিন| আজকের দিনটি হবে খুব দুঃখের| আজকের দিনটা হবে সেই দিনটার মতো যখন কোন শিশুর জন্মানোর সময় হয়ে যাবে অথচ মায়ের শরীর থেকে বেরিয়ে আসার মতো বলশালী না হওয়ায সে বেরোতে পারবে না|
4 সেনাপতির মনিব, অশূরদের রাজা তাকে জীবন্ত ঈশ্বরকে বিদ্রূপ করতে পাঠিয়েছে| তোমাদের প্রভু ঈশ্বর হয়তো ঐসব বিষয়গুলি শুনতেও পারেন| প্রভু হয়তো প্রমাণও করবেন যে শএুরা ভুল করছে| সুতরাং যে সব লোকরা বেঁচে আছে তাদের জন্য প্রার্থনা কর|”
5 রাজা হিষ্কিয়ের আধিকারিকরা যিশাইয়র কাছে উপস্থিত হন| যিশাইয় তাদের বললেন, “তোমরা তোমাদের মনিব হিষ্কিয়কে জানাও: প্রভু বলেন, ‘সেনাপতির কথা শুনে ভীত হতে হবে না! অশূর রাজের “নাবালকরা” আমার নামে যেসব কুত্সা করেছে সেগুলি বিশ্বাস করবে না|
6
7 দেখো আমি অশূরের বিরুদ্ধে একটি আত্মা পাঠাব| অশূরের রাজা তার দেশের বিপদ সম্পর্কিত একটি সতর্কবার্তা পাবে| সুতরাং সে তার দেশে ফিরে যাবে| সেই সময় আমি তাকে তার দেশেই তরবারির আঘাতে হত্যা করব|”‘
8 রাজা অশূর একটি খবর পেল| সেই খবরে বলা ছিল, “কূশদেশের রাজা তির্হকঃ তোমার সঙ্গে যুদ্ধ করতে আসছে|” সুতরাং অশূররাজ লাখীশ ত্যাগ করে লিব্না চলে গেলেন| সেনাপতি এই বার্তা পেয়ে লিব্নাতে যুদ্ধরত অশূররাজের কাছে চলে গেলেন| সে হিষ্কিয়ের কাছে দূত পাঠাল| দূতকে বলল,
9
10 “তুমি যিহূদা রাজ হিষ্কিয়কে এই কথাগুলি বল:তোমরা যে ঈশ্বরের ওপর আস্থাশীল তার দ্বারা বোকা হযো না| একথা বল না যে, “ঈশ্বর জেরুশালেমকে অশূররাজের কাছে পরাজিত হতে দেবে না|
11 তোমরা শুনেছ অশূরের রাজা অন্যান্য দেশের কি অবস্থা করেছে| সে তাদের সম্পূর্ণ ধ্বংস করেছে| তাহলে তোমরা কি রেহাই পাবে? না!
12 তাদের সেই দেবতারা কি তাদের রক্ষা করেছিল? না! আমার পূর্বপুরুষরাই তাদের সকলকে ধ্বংস করেছে| তারা গোষণ, হারণ, রেত্‌সফ এবং তলঃসর নিবাসী এদনের লোকদের ধ্বংস করেছে|
13 হমাতের রাজা কোথায়? অর্পদের রাজা কোথায়? সফর্বযিম নগরের রাজা কোথায়? কোথায় হেনা ও ইব্বার রাজা? তারা সকলেই বিনাশপ্রাপ্ত! তারা সকলেই ধ্বংস হয়েছে|
14 হিষ্কিয় বার্তাবাহকের হাত থেকে চিঠিগুলো নিয়ে পড়লেন| তারপর তিনি প্রভুর মন্দিরে গেলেন| তারপর তিনি চিঠিগুলো খুলে প্রভুর সামনে রাখলেন|
15 হিষ্কিয় প্রভুর কাছে প্রার্থনা শুরু করলেন| বললেন:
16 সর্বশক্তিমান প্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর, আপনি করূব দূতদের ওপরে রাজার মত বসে রয়েছেন| আপনি, একমাত্র আপনিই পৃথিবীর সব রাজ্যের শাসক| আপনিই পৃথিবী ও স্বর্গের সৃষ্টিকর্তা|
17 প্রভু অনুগ্রহ করে আমার কথা শুনুন| প্রভু, চোখ মেলে বার্তাটির দিকে তাকান| জীবন্ত ঈশ্বর, আপনাকে অপমান করবার জন্য সন্হেরীব যেসব কথা লিখেছেন সেগুলি দয়া করে শুনুন|
18 এটাই সত্য, প্রভু| অশূরের রাজা সেই সব দেশগুলিকে বিনাশ করেছে|
19 সেই সব দেশের মূর্ত্তিদেরও অশূররাজ পুড়িয়েছে| কিন্তু তারা সত্যিকারের দেবতা ছিল না| তারা ছিল কেবল মানুষের তৈরি কাঠ ও পাথরের মূর্ত্তি| সেই কারণেই অশূররাজ তাদের ধ্বংস করতে পেরেছিল|
20 কিন্তু আপনিই প্রভু আমাদের ঈশ্বর! সুতরাং অশূররাজের কবল থেকে আমাদের রক্ষা করুন| তাহলে অন্যান্য সমস্ত দেশগুলিও জানতে পারবে যে আপনিই প্রভু, আপনিই একমাত্র ঈশ্বর|
21 তখন আমোসের পুত্র যিশাইয় হিষ্কিয়ের এই বার্তা পাঠালেন| বার্তাটিতে তিনি বললেন, “প্রভু ইস্রায়েলের ঈশ্বর বলেছেন, ‘তোমরা অশূরের রাজা সন্হেরীবের বার্তার বিষয়ে আমার কাছে যে প্রার্থনা করেছিলে আমি তা শুনেছি|’
22 “এটা হল সন্হেরীবের বিষয়ে প্রভুর বার্তা:অশূরের রাজা, সিয়োনের কুমারী কন্যা (জেরুশালেম) তোমাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে না| তোমার জন্য সে হাসে| জেরুশালেম কন্যা, তোমাকে নিয়ে সে মজা করে|
23 কিন্তু তুমি কাকে অপমান ও বিদ্রূপ করেছ? কার বিরুদ্ধে তুমি কথা বলেছ? তুমি ইস্রায়েলের পবিত্রতমরই বিরোধী ছিলে| তুমি এমন হাবভাব করলে যেন তুমি ঈশ্বরের চেয়ে অনেক ভালো|
24 তুমি তোমার আধিকারিকদের প্রভু, আমার ঈশ্বরকে বিদ্রূপ করতে পাঠিয়েছিলে| তুমি বলেছিলে, “আমি খুব ক্ষমতাসম্পন্ন| আমার বহু যুদ্ধযান আছে| আমার শক্তি দিয়েই আমি লিবানোনকে পরাস্ত করেছিলাম| আমি লিবানোনের সর্ব্বোচচ পর্বতে আরোহণ করেছিলাম| আমি লিবানোনের মহান গাছগুলিকে কেটে ফেলে দিয়েছিলাম| আমি উচ্চতম পর্বতগুলিতে এবং অরণ্যের গভীরতম অংশে এসেছিলাম|
25 আমি কূপসমূহ খনন করেছিলাম এবং নতুন জায়গা থেকে জলপান করেছিলাম| আমি আমার হাতের তালু দিয়ে মিশরের নদীকে শূন্য করে দিয়েছিলাম এবং ঐ দেশের ওপর হেঁটে গিয়েছিলাম|”
26 আমি যা বলেছিলাম তুমি কি তা শোননি? “আমি (ঈশ্বর) অনেকদিন আগে পরিকল্পনা করেছিলাম| আমি প্রাচীনকালেই পরিকল্পনা করেছিলাম| এবং এখন আমি তা ঘটাব| আমি তোমাদের শক্তিশালী শহরগুলিকে ভেঙে ফেলতে এবং সেগুলিকে পাথরের স্তূপে পরিণত করতে দিয়েছিলাম|
27 এই শহরগুলির লোকগুলোর কোন ক্ষমতা ছিল না| তারা ছিল ভীত ও বিভ্রান্ত| তাদের অবস্থা এমন হয়েছিল যেন এখুনি ওদের প্রায ঘাসের মত কেটে ফেলা হবে| বাড়ির ফাটলে গজিযে ওঠা ঘাস যেমন বড় হবার আগে মরে যায়, তেমনিই শহরবাসীদের অবস্থা ছিল|
28 আমি তোমাদের যুদ্ধের বিষয় সব জানি| আমি তোমাদের বিশ্রামের বিষয়েও জানি| যখন তোমরা যুদ্ধে যাও তাও আমি জানি| আমি জানি কখন তোমরা যুদ্ধ থেকে ফিরে আস| কখন তোমরা আমার ওপর রেগে গিয়েছিলে তাও আমি জানি|
29 হ্যাঁ, তোমরা আমার ওপর রেগে ছিলে| আমি তোমাদের গর্বিত বিদ্রূপ শুনেছি| তাই আমি তোমাদের নাকে লাগাম দেব| এবং মুখে লাগাব ধাতব লাগাম| তারপর তোমরা যে পথ দিয়ে এসেছ সেই পথ দিয়েই তোমাদের ফেরাব|”‘
30 তখন প্রভু হিষ্কিয়কে বললেন, “আমি তোমাকে একটি চিহ্ন দেখাব| সেই চিহ্ন প্রমাণ করবে যে এই কথাগুলি সত্যি| তোমরা বীজ বপন করতে সক্ষম ছিলে না, অতএব এই বছর তোমরা গত বছরের শস্য থেকে আপনিই জমানো শস্য খাবে| কিন্তু তিন বছরেই তুমি তোমার নিজের কোন বীজ থেকেই খাবার মতো ফসল পাবে| তুমিই সেই বীজগুলি লাগাবে এবং যথেষ্ট পরিমাণে খাদ্যশস্য পাবে| তুমি দ্রাক্ষাগাছ রোপণ করবে এবং তার ফল খাবে|
31 “যিহূদা পরিবারের সদস্যরা যারা পালিয়ে গিয়েছিল এবং যারা জীবিত রয়েছে তারা আবার বাড়তে থাকবে| তারা হবে সেই সব গাছেদের মত যাদের শিকড় মাটির অনেক গভীরে থাকে আর ফল থাকে মাটির ওপরে|
32 কারণ এখনও কেউ কেউ বেঁচে থাকবে| তারা জেরুশালেমের বাইরে চলে যাবে| সিয়োন পর্বত থেকে জীবিতরা আসতে থাকবে|” সর্বশক্তিমান প্রভুর গভীর ভালোবাসা এইসব ঘটাবে|
33 তাই প্রভু অশূরের রাজার বিষয়ে একথা বলেন:“সে এই শহরে আসবে না| সে এই শহরের দিকে তীর ছুঁড়বে না| সে এই শহরে তার বর্ম আনবে না| এই শহরকে আক্রমণ করতে সে ঢিবি বানাবে না|
34 সে তার আসার পথে ফিরে যাবে| সে এই শহরে ফিরে আসবে না| প্রভু এই সব বলেন!
35 আমি এই শহরটিকে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দেব| আমি আমার নিজের জন্য এবং সেবক দাযূদের জন্য এসব করব|”
36 সেই রাতে প্রভুর দূত অশূরের শিবিরে গিয়ে 185,000 লোককে হত্যা করলেন| সকালে উঠে লোকেরা দেখল যে চারিদিকে শবদেহ ছড়ানো|
37 তাই অশূররাজ সন্হেরীব নীনবীতে ফিরে গিয়ে সেখানেই বসবাস করা শুরু করল|
38 এক দিন সন্হেরীব তার দেবতা নিষ্রোকের মন্দিরে গিয়ে তার উপাসনা করছিল| সেই সময় তার দুই পুত্র অদ্রম্মেলক ও শরেত্‌সর তাকে তরবারির আঘাতে হত্যা করল| তারপর তারা অরারট দেশে পালাল| আর সন্হেরীব পুত্র এসর-হদ্দোন অশূরের নতুন রাজা হল|




অধ্যায় 38

1 সেই সময় হিষ্কিয় অসুস্থ হয়ে মৃতপ্রায হয়ে পড়েছিলেন| আমোসের ভাব্বাদী যিশাইয় তাঁকে দেখতে যান| যিশাইয় রাজাকে বললেন, “প্রভু আমাকে এই কথাগুলি আপনাকে বলতে বলেছেন: ‘তুমি শীঘ্র মারা যাবে| সুতরাং তুমি তোমার পরিবার পরিজনকে জানিয়ে যাও তোমার মৃত্যু হলে তাদের কি করা উচিত্‌| তুমি আর সুস্থ হয়ে উঠবে না|”‘
2 হিষ্কিয় উপাসনা গৃহের দিকে মুখ করে প্রার্থনা শুরু করলেন| তিনি বললেন,
3 “প্রভু স্মরণ করে দেখুন আমি সর্বান্তঃকরণে আপনার প্রকৃত সেবা করেছি| আপনি যেসব জিনিসকে ভাল বলেছেন আমি কেবল সে সবই করেছি|” তারপর হিষ্কিয় কান্নায ভেঙে পড়লেন|
4 যিশাইয় প্রভুর কাছ থেকে এই বার্তা পেলেন:
5 “হিষ্কিয়ের কাছে গিয়ে তাকে বল যে প্রভু, তোমার পূর্বপুরুষ দাযূদদের ঈশ্বর বলেছেন, ‘আমি তোমার প্রার্থনা শুনেছি| আমি তোমার চোখের জল দেখেছি, তাই আমি তোমার আযু আরো
15 বছর বাড়িয়ে দেব|
6 আমি তোমাকে এবং এই শহরকে অশূর রাজের হাত থেকে রক্ষা করব|”‘
22 কিন্তু হিষ্কিয় যিশাইয়কে জিজ্ঞেস করলেন, “প্রভুর কাছ থেকে এমন কি সঙ্কেত পেয়েছেন যে তার থেকে প্রমাণিত হয় আমি আবার ভালো হয়ে উঠব? কি সেই সঙ্কেত যার থেকে বোঝা যাবে যে আমি আবার প্রভুর মন্দিরে যেতে সক্ষম হব?”
7 প্রভু যা যা করবেন বলেছিলেন তার জন্য এই সেই প্রভুর সঙ্কেত চিহ্ন:
8 “তোমার সময় নির্ণায়ক সৌরঘড়ি আহসের সিঁড়ির দিকে তাকাও| দশ পা পিছিযে আসার জন্য আমি সিঁড়িতে ছায়া তৈরী করছি| সূর্য়ের ছায়া দশ ধাপ ফিরে যাবে যেখানে আগে সেটি ছিল|”
21 সেই সময় যিশাইয় হিষ্কিয়কে বললেন, “তুমি ডুমুর ফল থেঁতো করে তোমার ক্ষত ঘাযের ওপর রাখ| তারপর তুমি সুস্থ হয়ে উঠবে|”
9 হিষ্কিয় সুস্থ হওয়ার পর চিঠি লেখেন| চিঠিটি হল:
10 আমি মনে মনে বলেছিলাম বৃদ্ধ হবার জন্য বাঁচব| তবে সেই সময়টা ছিল আমার মৃত্যুপথযাত্রী লোকদের মতো পাতালের ফটকে যাওয়ার সময়| এখন আমার সমস্ত সময় আমি সেখানেই অতিবাহিত করব|
11 সুতরাং আমি বলেছিলাম: “জীবিতদের দেশে আমি আর কখনও প্রভু ইযাকে দেখতে পাবো না| আমি আর কখনও পৃথিবীতে লোকদের জীবিত দেখতে পাব না|
12 আমার জীবনকে তছনছ করে আমার কাছ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে| তাঁতী যেমন তাঁত থেকে কাপড়ের টুকরো কেটে নেয তেমন করে আমি আমার জীবনকে কেটে ছোট করেছি| এক দিনেই আপনি আমায় শেষ করে দিয়েছেন|
13 সারা রাত ধরে আমি সিংহের মত চিত্কার করে কেঁদেছিলাম| কিন্তু সিংহের হাড় খাবার মত আমার সব আশা-আকাঙ্খা ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছিল| মাত্র এক দিনে আপনি আমার জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটিযেছিলেন|
14 আমি একটি ঘুঘুর মতো কেঁদেছিলাম, আমার চোখগুলি ক্লান্ত হয়েছিল, কিন্তু তবুও আমি স্বর্গের দিকে তাকিযে ছিলাম| আমার প্রভু, “মাত্র একদিনের মধ্যে আপনি আমার জীবনের পরিসমাপ্তি এনেছেন| আমি খুবই সংকটের মধ্যে রয়েছি| আমাকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিন|”
15 আমি কি বলতে পারি? আমার প্রভু আমাকে বলেছিলেন কি কি ঘটবে এবং তিনিই সে ব্যক্তি যিনি সে সব ঘটাবেন! এইসব সমস্যা বরাবরই আমার আত্মায রয়েছে| তাই গোটা জীবন ধরেই আমি এখন নম্র হব|
16 প্রভু আমার এই কঠিন সময়কে আমার আত্মার পুনরুজ্জীবনের জন্য ব্যবহার করুন| আমার আত্মাকে শক্ত ও স্বাস্থ্য়বান করতে সহায়তা দান করুন| আমাকে সুস্থ হতে সাহায্য করুন| আমাকে পুনরায় বাঁচতে সাহায্য করুন|
17 দেখ আমার সমস্যা চলে গেছে| এখন আমার শান্তি আছে| আপনি আমাকে খুব ভালবাসেন| আপনি আমাকে কবরে পচতে দেননি| আপনি আমার সব পাপকে ক্ষমা করে দিয়েছেন| দূরে ফেলে দিয়েছেন|
18 মৃত লোকরা আপনার প্রশংসার গান গায না| পাতালে লোকরা আপনার প্রশংসা করে না| মৃত লোকরা সাহায্যের জন্য আপনার উপর বিশ্বাস রাখে না| তারা মাটির ভেতরে একটা গর্তে চলে যায়| আর, কখনও কথা বলতে পারে না|
19 লোকরা যারা আজ আমার মত বেঁচে আছে, তারাই আপনার প্রশংসা করে| একজন পিতার তার সন্তানদের বলা উচিত্‌ যে আপনার প্রতি আস্থা রাখা যায়|
20 তাই আমি বলি: “প্রভু আমাকে রক্ষা করেছেন| তাই আমরা প্রভুর মন্দিরে জীবনভর গান গেযে এবং গান বাজিযে যাব|”
21
22




অধ্যায় 39

1 ঐ সময়, বলদনের পুত্র মরোদক-বলদন বাবিলের রাজা ছিলেন| তিনি হিষ্কিয়ের কাছে চিঠি ও উপহার পাঠান| কারণ তিনি শুনেছিলেন হিষ্কিয় অসুস্থ থাকার পর সুস্থ হয়ে উঠছেন|
2 এই ঘটনা হিষ্কিয়কে খুবই খুশী করে| তাই তিনি মরোদক-বলদনের দূতদের তাঁর কোষাগারের সব মূল্যবান জিনিস দেখালেন| হিষ্কিয় তাঁদের দেখালেন সোনা, রূপো, মশলা ও মূল্যবান গন্ধ দ্রব্য| তিনি তাঁর অস্ত্রাগারও তাঁদের দেখালেন| তাঁর যা কিছু ছিল সবই দেখালেন| তাঁর প্রাসাদে ও রাজ্যে যে সব জিনিষ ছিল তিনি সব তাঁদের দেখালেন|
3 তখন ভাব্বাদী যিশাইয় হিষ্কিয়ের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, “ঐসব লোকরা কি বলল? তারা কোথা থেকে আপনার কাছে এল?”হিষ্কিয় বলেন, “সুদূর বাবিল থেকে ওরা আমাকে দেখতে এসেছে|”
4 তখনই যিশাইয় জানতে চাইলেন “আপনার গৃহে তারা কি কি দেখল?”হিষ্কিয় বললেন, “তারা আমার প্রাসাদের সব কিছুই দেখেছে| আমি তাদের সব সম্পদই দেখিয়েছি|”
5 তখন যিশাইয় হিষ্কিয়কে বললেন: “সর্বশক্তিমান প্রভুর বাণী শুনুন|
6 ‘আপনার ও আপনার পূর্বপুরুষদের সব সম্পদই যা সংগৃহীত হয়েছিল এবং দীর্ঘকাল ধরে রক্ষিত ছিল তা সেই দিন বাবিলে চলে যাবে| কিছুই থাকবে না!’ সর্বশক্তিমান প্রভু এসব বলেছেন|
7 আর আপনার নিজের ছেলেদেরও বাবিলে নিয়ে যাওয়া হবে| তারা বাবিলের রাজার প্রাসাদের কর্মচারী হবে| কিন্তু তারা হবে নপুংসক|”
8 তখন হিষ্কিয় যিশাইয়কে বললেন, “প্রভুর এই বার্তাটি খুব ভালো|” হিষ্কিয় এটা বলেছিলেন কারণ তিনি ভেবেছিলেন “আমি যতক্ষণ রাজা থাকব ততক্ষণ প্রকৃত শান্তি ও নিরাপত্তা থাকবে|”




অধ্যায় 40

1 তোমাদের ঈশ্বর বলেন, “স্বস্তি, আমার লোকরা স্বস্তিতে থাকো!
2 জেরুশালেমের প্রতি দয়ালু হয়ে কথা বল| জেরুশালেমকে বল, ‘তোমার সেবা করার সময় শেষ| তোমার পাপের মূল্য তুমি দিয়েছ|”‘ জেরুশালেম যত পাপ করেছে তার দ্বিগুণ শাস্তি প্রভু তাকে দিয়েছেন|
3 শোন একজন মানুষ চিত্কার করছে! “মরুর মধ্যেও প্রভুর জন্য পথ প্রস্তুত কর! মরুস্তরে আমাদের ঈশ্বরের জন্য পথ তৈরি কর!
4 প্রত্যেক উপত্যকা পূর্ণ কর| প্রত্যেক পাহাড় পর্বতকে কর সমতল| আঁকা-বাঁকা রাস্তাকে সোজা কর| অসমান জমিকে মসৃণ কর|
5 তখনই প্রভুর মহিমা বুঝতে পারবে| সবাই এক সঙ্গে দেখতে পাবে প্রভুর মহিমা| হ্যাঁ, প্রভু নিজেই বলেছেন এসব কথা!”
6 একটি কণ্ঠস্বর বলল, “কথা বল!” তখন লোকে বলল, “আমাদের কি বলা উচিত্‌?” ঐ কণ্ঠস্বর বলল, “মানুষ চির কাল বাঁচে না, তারা আসলে ঘাসের মতো| তাঁদের ধার্ম্মিকতা বুনো ফুলের মতো|
7 প্রভুর কাছ থেকে আসা একটি শক্তিশালী বাতাস ঘাসের ওপর দিয়ে বয়ে যায়| ঘাস মরে যায়, বুনো ফুল ঝরে পড়ে|”
8 হ্যাঁ সমস্ত লোক ঘাসের মতো| ঘাস মরে, বুনো ফুল ঝরে পড়ে| কিন্তু আমাদের ঈশ্বরের বাক্য চির কাল থেকে যায়|”
9 সিয়োনের প্রতি সুসমাচারের বার্তাবাহক, পর্বতের ওপর থেকে চিত্কার করে সুসমাচার ঘোষণা করে দাও| জেরুশালেমের প্রতি সুসমাচারের বার্তাবাহক, ভয় পেও না, চেঁচিয়ে কথা বল! যিহূদায় সমস্ত শহরে এই খবর ঘোষণা করে দাও: “দেখ, এখানে তোমাদের ঈশ্বর আছেন|
10 প্রভু, আমার সদাপ্রভু ক্ষমতাসহ ফিরে আসছেন| সব মানুষকেই শাসন করতে তিনি তাঁর ক্ষমতা ব্যবহার করবেন| দেখ, তাঁর পুরস্কার তাঁর সঙ্গে রয়েছে এবং তাঁর মজুরি তাঁর সামনে রয়েছে|
11 মেষপালক যে ভাবে তার মেষদের নেতৃত্ব দেয় প্রভুও তেমনি তাঁর লোকেদের নেতৃত্ব দেবেন| নিজের বাহু দিয়ে প্রভু একত্রিত করবেন মেষদের| তিনি মেষশাবকদের কোলে তুলে রাখবেন| তাদের মায়েরা প্রভুর পিছন পিছন হাঁটবে|
12 নিজের হাতে কে সমুদ্র মেপেছেন? আকাশ মাপতে কে তাঁর হাত ব্যবহার করেছেন? পৃথিবীর ধূলিকণা মাপতে কে তাঁর পাত্র ব্যবহার করেছেন? কে দাঁড়িপাল্লায় পাহাড় পর্বত ওজন করেছেন? প্রভু এসব করেছেন!
13 প্রভুর আত্মার কি করা উচিত্‌ কেউ কখনও বলেনি| যে সব কাজ প্রভু করেছেন তা কিভাবে করতে হবে তা কোন ব্যক্তি প্রভুকে পরামর্শ দেয়নি|
14 প্রভু কি কারও কাছে সাহায্য চেয়েছেন? কোন ব্যক্তি কি প্রভুকে ন্যায়পরায়ণ হতে শিখিযেছে? কেউ কি কখনও প্রভুকে জ্ঞান দান করেছে? কেউ কি কখনও প্রভুকে জ্ঞানী করে তুলেছে? না! এই সব প্রভু নিজেই জানতেন|
15 দেখ, পৃথিবীর সব দেশই একটি বালতিতে ছোট এক ফোঁটা জলের মত| প্রভু যদি তাঁর দূরবর্তী দেশগুলিকে এনে ওজন মাপার য়ন্ত্রে চাপান তাদের অবস্থা হবে ধূলিকণার মত|
16 লিবানোনের সব গাছও প্রভুর জন্য জ্বালানোর পক্ষে যথেষ্ট নয়| উত্সর্গের জন্য বধ হতে লিবানোনের সব পশুও যথেষ্ট নয়|
17 ঈশ্বরের তুলনায়, পৃথিবীর সমস্ত জাতিগুলি কিছুই নয়| ঈশ্বরের সঙ্গে তুলনা কর| পৃথিবীর সব দেশই মূল্যহীন|
18 ঈশ্বরের সঙ্গে কারো কি তুলনা করতে পার! না| তুমি কি ঈশ্বরের ছবি অাঁকতে পার? না|
19 কাঠ অথবা ধাতু দিয়ে কেউ কেউ মূর্ত্তি বানায়| আর সেই মূর্ত্তিকেই তারা দেবতা বলে মনে করে| এক জন শ্রমিক মূর্ত্তি বানায়| অন্য শ্রমিকরা সোনা-রূপা দিয়ে মূর্ত্তির জন্য অলঙ্কার বানায়|
20 আসল অংশের জন্য তারা বেছে নেয বিশেষ কাঠ, কারণ বিশেষ ধরণের কাঠের পচন ধরে না| তারপর তারা দক্ষ কাঠমিস্ত্রীর খোঁজ করে| তারপর ছুতোর মিস্ত্রী একটি “মূর্ত্তি” তৈরী করে যেটা পড়ে যাবে না|
21 তুমি নিশ্চয়ই আসল সত্যটা জানো, জানো না কি? তোমাকে নিশ্চয়ই অনেক বছর আগে কেউ বলেছে! তুমি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ কে পৃথিবীটা তৈরি করেছে!
22 প্রভুই সত্যিকারের ঈশ্বর! তিনি পৃথিবীর বৃত্তের ওপর বসে থাকেন| তাঁর তুলনায় মানুষ ঘাস ফড়িং-এর মতো| বস্ত্রখণ্ডের মতো তিনি আকাশকে মেলে ধরেন| আকাশের তলায় বসার জন্য তিনি তাকে তাঁবুর মত বিছিযে ধরেন|
23 তিনি শাসকদের গুরুত্বহীন করেন, তিনি পৃথিবীর বিচারকদের করেন সম্পূর্ণ মূল্যহীন|
24 সেই সব শাসকরা চারা গাছের মতো| তাদের মাটিতে রোপন করা হয়, কিন্তু শিকড় গাড়ার আগেই ঈশ্বর সেই সব চারা “গাছদের” ওপর দিয়ে বয়ে যান এবং সেই সব চারা গাছ মরে শুকনো হয়ে যায়| বাতাস তাদের খড়কুটোর মতো উড়িযে নিয়ে যায়|
25 পবিত্র ঈশ্বর বলেন: “আমার সঙ্গে কারও তুলনা করতে পারবে কি? না! কেউ আমার সমান নয়|
26 আকাশের দিকে তাকাও| তারাগুলি তৈরী করেছে কে? আকাশের “সেনাদের” সৃষ্টিকর্তা কে? কে সব তারাদের নাম জানে? সত্যিকারের ঈশ্বর প্রচণ্ড শক্তিশালী ও ক্ষমতাবান, তাই কোন তারা হারিযে যায় না|”
27 যাকোবের লোকরা, এসবই সত্য! ইস্রায়েল, তোমারও এই সব বিশ্বাস করা উচিত্‌! তবু কেন তোমরা বলছ: “আমরা কেমন ভাবে জীবনযাপন করছি তা প্রভু দেখতে পাবেন না এবং আমাদের শাস্তি দিতে পারবেন না?”
28 তোমরা নিশ্চয়ই শুনেছো এবং জানো যে প্রভু ঈশ্বর অত্যন্ত জ্ঞানী| তিনি যা জানেন মানুষ তা শিখতে পারে না| প্রভু কখনও ক্লান্ত হন না এবং তাঁর বিশ্রামের প্রয়োজন নেই| প্রভু পৃথিবীর সমস্ত প্রত্যন্ত অঞ্চল সৃষ্টি করেছেন| তিনি চির কাল বেঁচে থাকবেন|
29 প্রভু দুর্বলকে সবল হতে সাহায্য করেন| ক্ষমতাহীনদের ক্ষমতাবান করেন|
30 যুবকরাও ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং তাদের বিশ্রামের প্রয়োজন হয়| তারাও মাটিতে হোঁচট খেয়ে পড়ে যায়|
31 কিন্তু প্রভুতে বিশ্বাসী লোকরা ঈগল পাখির নতুন ডানা গজানোর মতো আবার শক্তিশালী হয়ে ওঠে| এই সব লোকরা শত দৌড়লেও দুর্বল হয় না, ক্লান্ত হয়ে পড়ে না|




অধ্যায় 41

1 প্রভু বলেন, “দূরবর্তী দেশগুলি শান্ত হও, আমার কাছে এসো| জাতিগুলি পুনরায় শক্তিমান হয়ে উঠুক| আমার কাছে এসে কথা বল| আমরা এক সঙ্গে বসে ঠিক করে নেব কে ঠিক কেই বা বেঠিক|
2 আমাকে এইসব প্রশ্নগুলির উত্তর দাও: পূর্ব থেকে আসা লোকটিকে কে জাগিয়েছিল? তিনি যেখানেই যান, ন্যায় তাঁর সঙ্গে আছে| তিনি তাঁর তরবারি দিয়ে জাতিগুলিকে পরাস্ত করেন| তারা ধূলো বালিতে পরিণত হয়| তিনি তার ধনুকের সাহায্য রাজাদের পরাজিত করেন| তারা বাতাসে উড়ে যাওয়া খড়কুটোর মতো পালিয়ে যায়|
3 তিনি সেনাদের ধাওযা করেন, কিন্তু কখনও আঘাত পান না| যেখানে তিনি কখনও যাননি সে সব স্থানে যাবেন|
4 এসব ঘটনার কারণ কে? কে এই সব করেছেন| কে প্রথম থেকেই সব মানুষকে ডাক দিয়েছিল? আমি প্রভু, এসব করেছিলাম| আমি প্রভু, আমিই প্রথম, আমিই শেষ|
5 তোমরা, দূরবর্তী স্থানের লোকরা তাকাও| ভীত হও! তোমরা পৃথিবীর দূরবর্তী স্থানের লোকেরা ভয়ে কাঁপো| এখানে এসে আমার কথা শোন|” এবং তারা এসেছিল|
6 “শ্রমিকেরা একে অন্যকে সাহায্য করে| শক্তিশালী হতে একে অন্যকে উত্সাহ দেয়|
7 এক জন কর্মী মূর্ত্তি বানানোর জন্য কাঠ কাটে| সে স্বর্ণকারদের উত্সাহিত করে| অন্য শ্রমিক হাতুড়ি দিয়ে ধাতুকে মসৃণ করে তোলে| তারপর সেই কর্মীটি অন্য কর্মীকে ভারী ধাতব খোপের মধ্যে ধাতুটি ঢেলে তাকে পিটিযে বিভিন্ন রকমের জিনিস তৈরি করার জন্য উত্সাহিত করে| ঐ শেষ শ্রমিকটি ধাতব কাজের সম্বন্ধে বলে: ‘এইটি ভালো| এটি খুলে আসবে না|’ তারপর সে মূর্ত্তিটিকে পেরেক দিয়ে কোন একটি ভিত্তির ওপর এমন ভাবে বসিযে দেয় যাতে সেটা নড়তে বা পড়তে না পারে!”
8 প্রভু বলেন: “ইস্রায়েল, তুমি আমার দাস| যাকোব, তোমাকে আমি বেছে নিয়েছি| তুমি অব্রাহামের পরিবার থেকে এসেছ যে আমাকে ভালবাসত|
9 তুমি বহু দূরের দেশে ছিলে, কিন্তু আমি তোমার কাছে পৌঁছে যাই| আমি তোমাকে দূরস্থান থেকে ডেকেছিলাম| আমি তোমাকে বলেছিলাম যে তুমি আমার সেবক| আমি তোমাকে বেছে নিয়েছি এবং আমি তোমাকে বাতিল করিনি|
10 চিন্তিত হযো না, আমি তোমার সঙ্গে আছি| ভীত হবে না, আমি তোমার ঈশ্বর| আমি তোমাকে শক্তিশালী করব| তোমাকে সাহায্য করব| তোমাকে আমার ভাল দক্ষিণ হস্ত দিয়ে সমর্থন দেব|
11 দেখো, কিছু লোক তোমার ওপর রুদ্ধ| কিন্তু তারা লজ্জিত হবে| যারা তোমার সঙ্গে তর্ক করে তারা হেরে যাবে এবং অদৃশ্য হবে|
12 যারা তোমার বিরুদ্ধাচরণ করে তাদের তুমি খুঁজবে কিন্তু দেখতে পাবে না| যে সব লোক তোমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল তারা সকলেই পুরোপুরি ভাবে অদৃশ্য হয়ে যাবে|
13 আমি প্রভু তোমার ঈশ্বর, তোমার ডান হাত ধরে আমি আছি| এবং আমি তোমাকে বলি: ভীত হবে না! আমি তোমাকে সাহায্য করব|
14 মূল্যবান যিহূদা ভীত হবে না! আমার প্রিয ইস্রায়েলের লোকরা ভয়চকিত হবে না! আমি সত্যিই তোমাদের সাহায্য করব|” প্রভু নিজেই ঐসব বলেন| ইস্রায়েলের পবিত্রতম (ঈশ্বর) যিনি রক্ষাকর্তা তিনিই এই সব বলেছেন:
15 “দেখ, আমি তোমাকে একটা নতুন শস্য মাড়া য়ন্ত্রের মতো বানিয়েছি| সেই য়ন্ত্রের অনেকগুলো ধারালো ছুরি আছে| কৃষকরা এই সব ব্যবহার করে খোসা ভাঙার কাজে, যাতে তারা শস্য থেকে আলাদা হতে পারে| তুমি পর্বতগুলিকে ঐ শস্য মাড়ার মতো ভেঙে ফেলবে|
16 তুমি তাদের বাতাসে ছুঁড়ে ফেলবে| বাতাস তাদের বয়ে নিয়ে দূরে চলে যাবে এবং বিক্ষিপ্ত করবে| তখন তুমি খুশী হবে এবং প্রভুর মধ্যে স্থিত হয়ে আনন্দ করবে| ইস্রায়েলের পবিত্রতম ঈশ্বরের জন্য তুমি গর্বিত হবে|”
17 “দরিদ্র ও অভাবী লোকরা জলের জন্য খোঁজ করবে| কিন্তু তারা খুঁজে পাবে না| তারা তৃষ্ণার্ত, তাদের জিহবা শুষ্ক| আমি, ইস্রায়েলের ঈশ্বর, তাদের প্রার্থনার জবাব দেব| আমি তাদের ত্যাগ করব না, মরতে দেব না|
18 আমি শুকনো পাহাড়ের ওপর দিয়ে নদীকে প্রবাহিত করাব| উপত্যকায় উপত্যকায় বইয়ে দেব জলভরা নদী| মরুকে করে তুলব জলে ভরা হ্রদ| জলপ্রবাহ বয়ে যাবে শুকনো ভূমিতে|
19 মরুভূমিতে গাছ জন্মাবে| সেখানে থাকবে এরস, বাবলা, জলপাই, তাশূর, দেবদারু ও পাইন গাছ|
20 লোকরা এই জিনিসগুলি দেখবে| এবং তারা জানতে পারবে প্রভুই এই কর্ম করেছেন| মানুষ এই সব দেখতে পাবে, তারা বুঝতে শুরু করবে যে ইস্রায়েলের পবিত্রতম (ঈশ্বর) এগুলি সৃষ্টি করেছেন|”
21 যাকোবের রাজা প্রভু বলেন, “এস| আমাকে তোমার যুক্তি বল| আমাকে তোমরা প্রমাণ দেখাও এবং আমরা ঠিক করে দেব কোনটা সঠিক|
22 তোমাদের মূর্ত্তিদের এসে আমাদের বলা উচিত্‌ কি ঘটেছে|“শুরুতে কি কি ঘটেছিল? ভবিষ্যতে কি ঘটবে? বলুক আমাদের! আমরা তাদের কাছ থেকে শুনব| তখন আমরা জানতে পারব পরে কি ঘটবে|
23 পরে কি কি ঘটবে তা তোমরা আমাদের জানাও| তারপর আমরা তোমাদের সত্যিকারের দেবতা বলে বিশ্বাস করব| কিছু কর! ভাল না হয় মন্দ কিছু একটা করে দেখাও! তখন আমরা মেনে নেব তুমি জীবন্ত এবং তোমাকেই আমরা মেনে চলব|
24 “দেখো| তোমরা মূর্ত্তিরা আসলে কিছুই নও| তোমরা কিছুই করতে পারবে না! যে কোন অকর্মণ্য লোকই তোমার পূজা করতে চাইবে|”
25 “আমি উত্তর দিকে একটি লোককে জাগালাম| সে পূর্বদিক থেকে, যেখানে সূর্য়োদয হয়, সেখান থেকে আসছে| সে আমার নাম জপ করে| যে মানুষ ঘট তৈরী করে সে ভিজে মাটির ওপর দিয়ে হাঁটে| ঠিক একই রকম ভাবে এই বিশেষ লোকটি রাজাদের পদদলিত করে|”
26 কে আমাদের এই সব ঘটার আগেই বলেছিল? তাকেই আমাদের ঈশ্বর বলা উচিত্‌| তোমাদের মধ্যে কোন মূর্ত্তি কি এইসব বলেছিল? না! সেই সব মূর্ত্তিদের কেউই কিছু বলতে পারে নি| সেই সব মূর্ত্তিরা কোন কথাই বলতে পারে নি| তারা তোমাদের কোন কথা শুনতেও পায় নি|
27 আমি প্রভু, সর্বপ্রথম সিয়োনকে এই সব ঘটনার কথা বলি| আমি জেরুশালেমে এই বার্তা নিয়ে এক জন বার্তাবাহক পাঠিয়েছিলাম: “দেখ তোমাদের লোকরা ফিরে আসছে|”
28 আমি ঐসব মূর্ত্তিদের দেখেছিলাম| তারা কেউই কোন কিছু বলার মত যথেষ্ট জ্ঞানী নয়| আমি তাদের প্রশ্ন করেছিলাম কিন্তু তারা কোন উত্তর দিতে পারেনি|
29 এই সব দেবতারা আসলে কিছু নয়| তারা কিছুই করতে পারে না| সেই সব মূর্ত্তিগুলি আসলে একেবারে মূল্যহীন|




অধ্যায় 42

1 “আমি আমার দাসের দিকে তাকাই! আমি তাকে সমর্থন করি| সে হচ্ছে সেই জন, যাকে আমি বেছে নিয়েছিলাম| আমি তাকে নিয়ে সন্তুষ্ট| তার ওপর আমি আমার আত্মা রেখেছি| সে ন্যায়সঙ্গত ভাবে জাতিসমূহের বিচার করবে|
2 পথে-ঘাটে সে চিত্কার করবে না| সে তীব্র চিত্কার করবে না অথবা তার গলা লোকদের মধ্যে শোনা যাবে এমন করবে না|
3 সে ভদ্র হবে| জলাশযের ধারে গজিযে ওঠা আগাছা সে কখনও ভাঙবে না| দুর্বল আগুনকেও সে কখনও নিভিযে দেবে না| সে ন্যায় ভাবে বিচার করবে এবং সত্যকে বের করবে|
4 পৃথিবীতে ন্যায় বিচার না আনা পর্য়ন্ত সে দুর্বল হবে না, অথবা নিষ্পেষিত হবে না| দূরবর্তী স্থানের লোকরা তার শিক্ষামালায় আস্থাবান হবে|”
5 প্রভু প্রকৃত ঈশ্বর, তিনিই এই সব বলেছেন| প্রভু আকাশ বানিয়েছেন| তিনি আকাশকে সারা বিশ্বের ওপর ছড়িয়ে দিয়েছেন| তিনি পৃথিবীর সব কিছুর সৃষ্টিকর্তা| তিনি পৃথিবীর প্রতিটি মানুষকে শ্বাস-প্রশ্বাস দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছেন| পৃথিবীর ওপর যারা হেঁটে বেড়ায তাদের প্রত্যেক লোককে তিনি একটি আত্মা দেন|
6 “আমি তোমাদের প্রভু, সঠিক কাজ করতে তোমাদের ডেকেছিলাম| আমি তোমাদের হাত ধরেছি| আমি তোমাদের রক্ষা করেছি এবং তোমাদের মাধ্যমে আমি লোকদের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছি| তুমি সমস্ত জাতিগুলির জন্য একটি আলোস্বরূপ হবে|
7 তুমি অন্ধ লোকের চোখ খুলে দেবে এবং তারা সব কিছু দেখতে পাবে| বহুলোক কয়েদখানায বন্দী; তুমি তাদের মুক্ত করে দেবে| বহুলোক বাস করে অন্ধকারে, জেলের থেকে বাইরে আসবার জন্য তাদের তুমি নেতৃত্ব দেবে|
8 “আমিই প্রভু| আমার নাম য়িহোবা| আমার মহিমা আমি অপরকে দেব না| যে মহিমা আমার পাওয়া উচিত্‌ সেই প্রশংসা মূর্ত্তিদের আমি নিতে দেব না|
9 শুরুতেই আমি বলেছিলাম, কিছু একটা ঘটবে| এবং ঐসব জিনিস ঘটেছিল| এবং এখন অন্য কিছু ঘটার আগেই, তোমাদের আমি ভবিষ্যতে কি ঘটবে সে সম্বন্ধে জানাব|”
10 প্রভুর উদ্দেশ্যে গাও নতুন গান| তোমরা দূর দেশের লোকরা, তোমরা দূর দেশের নাবিকরা, তোমরা সমুদ্রের প্রাণীরা, তোমরা দূরবর্তী জায়গার লোকরা প্রভুর প্রশংসা কর!
11 মরুভূমি ও শহর, পূর্ব ইস্রায়েলের কেদরের গ্রামগুলি প্রভুর প্রশংসা কর| শেলাবাসীরা আনন্দগীত গাও! পর্বতশৃঙ্গ থেকে তোমরা গেযে ওঠ|
12 তারা প্রভুকে মহিমাম্বিত করুক| দূর দেশের লোকরা প্রভুর প্রশংসা করুক|
13 প্রভু বলবান সৈন্যের মত চলে যাবেন! তিনি হবেন যুদ্ধ করতে প্রস্তুত মানুষের মত| তিনি প্রচণ্ড উত্তেজিত হয়ে উঠবেন| তিনি কাঁদবেন, উচ্চস্বরে চিত্কার করবেন এবং তার শএুদের পরাজিত করবেন|
14 “দীর্ঘদিন ধরে আমি কিছুই বলিনি| আমি নিজেকে সংযত করে রেখেছিলাম, বলিনি কোন কিছুই| কিন্তু এখন আমি প্রসব করতে যাচ্ছে এমন এক মহিলার মতো চিত্কার করে কাঁদব| আমি জোরে জোরে সশব্দে প্রশ্বাস নেব|
15 আমি পাহাড়-পর্বত ধ্বংস করব| আমি সেখানে জন্মানো সমস্ত গাছপালাকে শুকিয়ে দেব| আমি নদীকে পরিণত করব শুকনো জমিতে| আমি জলাশযকে শুকিয়ে দেব|
16 তারপর আমি অন্ধদের নেতৃত্ব দেব এক অজানা পথে যে সব স্থানে তারা কখনও যায়নি| অন্ধদের নিয়ে যাব সেই সব স্থানে| তাদের জন্য অন্ধকারকে আলোময় করে দেব| রুক্ষ জমিকে মসৃণ করে তুলব| আমি যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তা সবই করব এবং আমার লোকদের ছেড়ে যাব না!
17 কিন্তু কেউ কেউ আমাকে মেনে চলা বন্ধ করেছে| ঐসব লোকদের সোনায বাঁধানো মূর্ত্তি আছে| তারা ঐসব মূর্ত্তিদের বলে, ‘তোমরাই আমাদের দেবতা|’ যে লোকরা তাদের মূর্ত্তিগুলিতে আস্থা রাখে, তারা মুখ ফিরিয়ে নেবে এবং লজ্জা পাবে|
18 “তোমরা, বধির লোকরা আমার কথা তোমাদের শোনা উচিত্‌| অন্ধ লোকরা, তোমাদের আমাকে দেখা এবং আমার দিকে তাকানো উচিত্‌|”
19 সারা পৃথিবীতে আমার সেবক (ইস্রায়েলের লোকজন) সব চেয়ে অন্ধ| যে বার্তাবাহককে আমি পৃথিবীতে পাঠিয়েছি সেই সবচেয়ে বধির| যে লোকটির সঙ্গে আমি বন্দোবস্ত করেছিলাম, প্রভুর দাস সে-ই সবচেয়ে বেশী অন্ধ|
20 আমার দাস অনেক মহান জিনিষ দেখেছে, কিন্তু সে সেসবের প্রতি মনোযোগ দেয় না| সে কানে শুনতে পায় কিন্তু সে মানতে চায় না|”
21 প্রভু চান তাঁর সেবকরা ভাল হোক| প্রভু চান তাঁর আশ্চর্য়্য়জনক শিক্ষামালাকে তারা শ্রদ্ধা করুক|
22 কিন্তু লোকগুলিকে দেখো| অন্য লোকরা তাদের পরাজিত করেছে| এবং তাদের জিনিস চুরি করে নিয়েছে| প্রতিটি যুবক ভীত| তারা জেলে বন্দী| লোকরা তাদের সব টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে| তাদের রক্ষা করার কেউ নেই| অন্যরা তাদের টাকা নিয়ে নিয়েছে| এই টাকা ফিরিয়ে দিয়ে যাও| একথা বলার মতোও কেউ নেই|”
23 তোমাদের কেউ কি ঈশ্বরের বাক্য শুনেছিলে? না! কিন্তু তোমাদের উচিত্‌ কাছ থেকে তাঁর কথা শোনা, এবং যা ঘটেছে সে সম্পর্কে মনোযোগ দেওয়া|
24 যাকোব ও ইস্রায়েল থেকে লোকদের ধনসম্পদ নিতে কে দিয়েছিল? প্রভুই তাদের এসব কাজ করার অনুমতি দিয়েছিলেন| আমরা প্রভুর বিরুদ্ধে পাপ কাজ করেছিলাম| তাই প্রভু আমাদের ধনসম্পদ নিয়ে নিতে লোকদের অনুমতি দিয়েছিলেন| ইস্রায়েলের লোকরা প্রভুর বিধির প্রতি মনোযোগ দেয় নি| প্রভু যে ভাবে চেয়ে ছিলেন সে ভাবে ইস্রায়েলের লোকরা জীবনযাপন করেনি|
25 তাই প্রভু তাদের ওপর রুদ্ধ হন| তিনি তাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী যুদ্ধ ঘটিযেছিলেন| এমন হয়েছিল ঠিক যেন ইস্রায়েলের লোকরা আগুন দিয়ে ঘেরা ছিল| কিন্তু তারা কি ঘটছিল তা জানত না| ঘটনাটা ছিল তাদের পুড়ে যাওয়ার মতোই| কিন্তু যা ঘটছিল তারা তা বোঝার চেষ্টা করেনি|




অধ্যায় 43

1 আমি যাকোব, প্রভু, তোমার সৃষ্টিকর্তা! ইস্রায়েল, প্রভুই তোমার সৃষ্টিকর্তা| এখন প্রভু বলেন, “ভীত হযো না| আমি তোমাকে রক্ষা করেছি| আমি তোমার নাম ধরে ডেকেছি| তুমি আমারই|
2 তুমি যখনই সমস্যায় পড়বে আমি তোমার পাশে থাকব| নদী পার হতেও তোমার কষ্ট হবে না| আগুনের মধ্যে দিয়ে হাঁটার সময়ও তুমি দ3 হবে না; অগ্নিশিখা তোমাকে আঘাত করবে না|
3 কারণ আমি, প্রভু তোমার ঈশ্বর| আমি ইস্রায়েলের পবিত্রতম তোমার রক্ষাকর্তা| আমি তোমার জন্য মূল্য দিতে মিশরকে দিয়েছিলাম| আমি তোমাকে আমার করতে কূশ ও সবা দিয়েছিলাম|
4 তুমি আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ তাই আমি তোমাকে সম্মান করি| আমি তোমাকে ভালবাসি এবং আমি সব দেশসমূহ এবং জাতিগুলি তোমাকে দেব যাতে তুমি বাঁচতে পার|”
5 “সুতরাং ভীত হবে না! আমি তোমার সঙ্গে আছি| আমি একত্রিত করব তোমাদের শিশুদের এবং ফিরিয়েও দেব| আমি তাদের প্রাচ্য় ও পাশ্চাত্য থেকে এনে দেব|
6 উত্তরকে আমি বলব: আমার লোকদের আমাকে দিয়ে দাও| দক্ষিণকে বলব: আমার লোকদের বন্দী করে রেখো না| দূরবর্তী স্থান থেকে আমার পুত্রকন্যাদের আমার কাছে ফেরত্‌ দিয়ে দাও|
7 আমার সব লোকদের যাদের কাছে আমার নাম আছে, আমার কাছে ফিরিয়ে দাও| আমি ঐসব লোকদের নিজের জন্যই সৃষ্টি করেছিলাম| আমি তাদের সৃষ্টিকর্তা, তারা আমারই|”
8 ঈশ্বর বলেন, “চোখ থাকা সত্ত্বেও যারা অন্ধ তাদের বাইরে বের কর| কান থাকা সত্ত্বেও যারা বধির তাদের বাইরে বের কর|
9 প্রত্যেক মানুষের ও প্রত্যেক দেশের একত্রিত হওয়া উচিত্‌| হতে পারে, তাদের কারো মূর্ত্তি বলতে চেয়েছিল প্রথমে কি ঘটেছিল| তাদের উচিত্‌ তাদের সাক্ষীদের নিয়ে আসা| সাক্ষীদের উচিত্‌ সত্য কথা বলা| এটা দেখাবে যে তারা সঠিক|”
10 প্রভু বলেন, “তোমরা লোকরা আমার সাক্ষী| তোমরা হচ্ছো সেই দাস, যাদের আমি বেছে নিয়েছিলাম| আমি তোমাদের বেছে নিয়েছিলাম যাতে তোমরা আমাকে জানতে পার এবং আমাকে বিশ্বাস করতে পার| আমি তোমাদের বেছে ছিলাম যাতে তোমরা উপলদ্ধি করতে পার যে ‘আমি হলাম ঈশ্বর|’ আমি সত্যিকারের ঈশ্বর| আমার আগে কোন দেবতা ছিল না এবং আমার পরে কোন দেবতা থাকবে না|”
11 আমি নিজেই হলাম প্রভু| অন্য কোন পরিত্রাতা নেই, আমিই একমাত্র পরিত্রাতা|
12 আমিই একমাত্র ঈশ্বর যে তোমাদের সঙ্গে কথা বলেছিলাম| আমি তোমাদের রক্ষা করেছিলাম| এসব কথা আমি তোমাদের বলেছি| এমন নয় যে তোমাদের সঙ্গে কেউ ছিল যে এক জন অপরিচিত লোক| তোমরা আমার সাক্ষী এবং আমি ঈশ্বর|” প্রভু নিজেই এই সব কথা বলেছেন|
13 “আমি সব সময়ই ঈশ্বর| যখন আমি কিছু করি তখন আমার কাজের কেউই পরিবর্তন ঘটাতে পারবে না| এমন কি আমার ক্ষমতা থেকে কেউ কোন লোককে রক্ষা করতে পারবে না|”
14 প্রভু, ইস্রায়েলের পবিত্রতম, তোমাদের ত্রাণকর্ত্তা বলেন, “আমি বাবিলে তোমাদের জন্য সেনা পাঠাব| সমস্ত তালাবন্ধ ফটক আমি ভেঙ্গে ফেলব এবং কল্দীযদের গানগুলি বিলাপে পর্য়বসিত হবে|
15 আমিই তোমাদের প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর| আমি ইস্রায়েলের সৃষ্টিকর্তা| আমি তোমাদের রাজা|”
16 প্রভু সমুদ্রের মধ্যে দিয়ে সড়ক বানাবেন| নিজের লোকদের জন্য এমনকি জলের মধ্যে দিয়ে তিনি রাস্তা গড়ে দেবেন| এবং প্রভু বলেন,
17 “যারা যুদ্ধযান, ঘোড়সওযার ও সেনাবলে বলীযান হয়ে আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে তারা পরাজিত হবে| তারা আর কখনও উঠতে পারবে না| তাদের বিনাশ ঘটবে| মোমবাতির শিখা যেমন করে নিভিযে দেওয়া হয় সেই ভাবে তাদের থামানো হবে|
18 তাই শুরুতে যেসব ঘটনা ঘটেছিল তা আর মনে কোরো না| যা বহুকাল আগে ঘটে গেছে তা আর স্মরণ কোরো না|
19 কেন না এখন আমি নতুন কিছু করব| এখন তোমরা নতুন গাছের মতো বেড়ে উঠবে| তোমরা নিশ্চিত ভাবেই জান এটা সত্য| সত্যিই আমি মরুভূমিতে রাস্তা বানাব| শুষ্ক জমিতে সত্যিই আমি নদী তৈরী করব|
20 মরুভূমিতে জল জোগানোর পর বন্য জন্তুরা, যেমন শিয়াল এবং উটপাখী আমাকে সম্মান জানাবে| আমার বেছে নেওয়া লোকেদের জন্য, আমার নিজের লোকদের জন্য আমি জলের ব্যবস্থা করব|
21 এই লোকদের তো আমিই সৃষ্টিকর্তা এবং এরা আমার প্রশংসা করে গান গাইবে|
22 “যাকোব, তুমি আমার কাছে প্রার্থনা করনি| কেন? কারণ তোমরা ইস্রায়েলের লোকরা আমার বিষয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছ|
23 তোমরা তোমাদের মেষকে আমার জন্য উত্সর্গ করতে আন নি| তোমরা আমাকে সম্মান জানাও নি| তোমরা আমার জন্য বলি দাও নি| আমার উদ্দেশ্যে বলি দেবার জন্য আমি তোমাদের বাধ্য করিনি| আমি তোমাদের ধূপ জ্বালাতে বাধ্য করিনি|
24 তাই তোমরা আমাকে সম্মান জানাবার জন্য সামগ্রী এয করতে অর্থ ব্যয করনি| হোমবলির চর্বি দিয়ে তোমরা আমাকে সন্তুষ্ট করনি| কিন্তু তোমরা তোমাদের পাপসমূহ দিয়ে আমাকে ভারাএান্ত করেছিলে| তোমাদের কুকর্মসমূহ আমাকে খুব পরিশ্রান্ত করে তুলেছে|
25 “আমি, আমিই এক মাত্র যে তোমাদের সব পাপ ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে দিই| নিজেকে খুশি করতে এইসব আমি করি! তোমাদের পাপের কথা আমি মনে রাখব না|
26 আমাকে মনে করিযে দিও (তোমাদের প্রশংসনীয গুনের কথা)| আমাদের এক সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত্‌ কোনটা ঠিক| তোমাদের কৃতকর্মের কথা আমাকে বলা উচিত্‌ এবং প্রমাণ কর যে তোমরা ঠিক|
27 তোমাদের প্রথম পিতা পাপী| তোমাদের আইনজীবিরা আমার বিরুদ্ধাচরণ করেছে|
28 আমি তোমাদের পবিত্র শাসকদের অপবিত্র করেছি| আমি যাকোবকে ধ্বংসের এবং ইস্রায়েলকে অভিশাপের শাস্তি দিয়েছি|”




অধ্যায় 44

1 “যাকোব তুমি আমার সেবক| আমার কথা শোন| ইস্রায়েল, আমি তোমাকে মনোনীত করেছি| আমি যা বলি তা তোমরা শোন|
2 আমি তোমাদের প্রভু| আমিই তোমাদের সৃষ্টি করেছি| তোমরা যা হয়ে উঠেছো আমি তাই করে গড়ে তুলেছি| তোমরা যখন মাতৃ গর্ভে ছিলে তখন থেকেই আমি তোমাদের সাহায্য করে আসছি| আমার দাস যাকোব ভয় পেও না| য়িশুরূণ তোমাকে আমি মনোনীত করেছি|
3 “তৃষ্ণার্ত লোকদের আমি জল দেব| শুষ্ক জমিতে আমি জল প্রবাহ বইয়ে দেব| তোমাদের শিশুদের মধ্যে আমি আমার আত্মা ঢেলে দেব, মনে হবে যেন তোমাদের সন্তানদের ওপর দিয়ে জল বয়ে যাচ্ছে|
4 ঘাসের মধ্যে তারা বেড়ে উঠবে| তারা জলস্রোতের ধারে গজিযে ওঠা বাইশী গাছদের মতো হবে|
5 “এক জন বলবে, ‘আমি প্রভুর|’ অন্য একজন ‘যাকোবের’ নাম ব্যবহার করবে| অন্য জন তার নাম সাক্ষর করবে এবং বলবে, ‘আমিই প্রভুর|’ অন্য জন ব্যবহার করবে ‘ইস্রায়েলের নাম|”‘
6 প্রভু ইস্রায়েলের রাজা| প্রভু সর্বশক্তিমান ইস্রায়েলকে রক্ষা করবেন| প্রভু বলেন, “আমিই একমাত্র ঈশ্বর| অন্য কোন দেবতা নেই| আমিই আদি, আমিই অন্ত|
7 আমার মতো অন্য কোন ঈশ্বর নেই| যদি কেউ থাকেন তাহলে সেই দেবতার কথা বলা উচিত্‌| সেই দেবতার উচিত্‌ ছিল এখানে এসে প্রমাণ করা যে তিনিও আমারই মতো| আমি যখন এই প্রাচীন লোকদের সৃষ্টি করেছিলাম তখন কি ঘটেছিল সেই দেবতার আমাকে বলা উচিত্‌| ভবিষ্যতে কি ঘটবে তিনি যে তা জানেন তা প্রমাণ করার জন্য ঐ দেবতার আমাকে কোন নিদর্শন দেওয়া উচিত্‌|
8 ভীত হযো না| উদ্বিগ্ন হযো না! আমি সর্বদাই তোমাদের বলেছি যে কি ঘটবে| তোমরাই আমার সাক্ষী! অন্য কোন ঈশ্বর নেই| আমিই একমাত্র| অন্য কোন ‘শিলা’ নেই| আমি জানি আমিই একমাত্র!”
9 কেউ কেউ মূর্ত্তি বানায়| কিন্তু তারা মূল্যহীন| লোকে সেই মূর্ত্তিকে ভালোবাসে| কিন্তু সেইগুলি মূল্যহীন| সেই লোকগুলি মূর্ত্তিগুলির সাক্ষী হলেও তারা দেখতে পায় না| তারা কিছুই জানে না, তারা তাদের কৃতকর্মের জন্য যথেষ্ট লজ্জিত হতে জানে না|
10 কে তৈরী করেছিল এই সব মূর্ত্তিগুলিকে? কে তৈরী করেছিল মূল্যহীন মূর্ত্তিগুলি?
11 শ্রমিকরা ঐসব দেবতাদের বানিয়েছে| তারা সবাই মানুষ; দেবতা নয়| সেই সব লোকেরা যদি এক সঙ্গে বসে এই সব বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করে তাহলে তারা খুবই লজ্জিত হবে এবং ভয় পাবে|
12 এক জন শ্রমিক তার যন্ত্র ব্যবহার করে গরম কযলা দিয়ে লোহা গরম করার কাজে| সেই লোকটি হাতুড়ি ব্যবহার করে ধাতু পেটানোর কাজে| এবং সেই ধাতুই মূর্ত্তি হয়ে উঠেছে| এই লোকটি তার বাহুর শক্তি ব্যবহার করে, কিন্তু খিদে পেলে সে তার ক্ষমতা হারায়| যদি মানুষটি জলপান না করে তবে সে দুর্বল হয়ে যায়|
13 আর এক জন শ্রমিক কাঠের ওপর সরল রেখায় দাগ টানবার জন্য ব্যবহার করেছে ওলন ও কম্পাস| এই দাগগুলি দেখে সে বুঝতে পারে কোথায় তাকে কাটতে হবে| তারপর কাঠ কাটার করাত দিয়ে কাঠ কেটে সে মূর্ত্তি তৈরী করে| তারপর কম্পাসের মত অন্য একটি বিশেষ যন্ত্র ক্য়ালিপার্শ দিয়ে সে মূর্ত্তির মাপ ঠিক করে| এই ভাবে শ্রমিকরা কাঠকে করে তোলে মানুষের মতো দেখতে| এই মানব মূর্ত্তি কিছু করতে পারে না| শুধু ঘরে বসে থাকে|
14 এক জন লোক এরস, তর্সা অথবা অলোন বৃক্ষ কেটে ফেলে| সেই লোকটি কোন গাছকেই বড় করতে পারে না| গাছগুলি নিজেদের ক্ষমতাতে বনাঞ্চলে বড় হয়| লোকে যদি কোন পাইন গাছ লাগায তবে তা বৃষ্টির জলে বড় হয়|
15 তারপর লোকে সেই গাছকে আগুন জ্বালানোর কাজে ব্যবহার করে| লোকে গাছকে ছোট ছোট কাঠের টুকরোয পরিণত করে| নিজেকে গরম রাখতে ও রান্নার জন্য সে কাঠটি ব্যবহার করে| কিছু কাঠ দিয়ে সে আগুন জ্বালে এবং রুটি সেঁকে| তবুও সে ঐ একই কাঠের কিছু অংশ ব্যবহার করে একটি মূর্ত্তি বানাবার জন্য এবং সে সেই মূর্ত্তিটি পূজো করে| ঐ দেবতাটি মানুষের বানানো একটি মূর্ত্তি, কিন্তু মানুষ তার সামনে নত হয়|
16 অর্ধেক কাঠ লোকে আগুন জ্বালার কাজে ব্যবহার করে| লোকে মাংস রান্না করতে আগুন ব্যবহার করে| তারপর সেটা খায় পেট ভরা পর্য়ন্ত| লোকে নিজেকে গরম রাখতে কাঠ জ্বালায়| লোকে বলে, “ভালো| আমি এখন উষ্ণ| আগুন থেকে আলো আসায আমি দেখতেও পাচ্ছি|”
17 কিন্তু অল্প কিছু কাঠ অবশিষ্ট থাকে| তাই লোকে কাঠ দিয়ে মূর্ত্তি বানিয়ে তাকে দেবতা বলে| সে এই মূর্ত্তির সামনে মাথা নত করে এবং তার পূজা করে| লোকে ঐ মূর্ত্তির কাছে প্রার্থনা করতে করতে বলে: “তুমিই আমার দেবতা| আমাকে রক্ষা কর!”
18 সেই লোকরা জানে না তারা কি করছে| তারা বুঝতেও পারে না| এটা তাদের চোখ ঢেকে রাখার মতো অবস্থা যাতে তারা দেখতে না পায়| তাদের হৃদয় বোঝার চেষ্টা করে না|
19 সেই সব লোক এসব ভেবেও দেখে না| এই সব লোকরা বোঝে না তাই তারা নিজেদের নিয়েও ভাবে না| “আমি আগুনে অর্ধেক কাঠ পোড়ালাম| আমি গরম কযলা রুটি ও মাংস রান্না করতে ব্যবহার করলাম| সেই মাংস খেলামও| তারপর যে কাঠ বাঁচলো তাই দিয়ে ভয়ঙ্কর কিছু বানালাম| আমি কাঠের খণ্ডের পূজা করছি|”
20 সেই লোক জানে না সে কি করছে! সে বিভ্রান্ত, তাই তার মন তাকে ভুল পথে চালিত করছে| সে নিজেকে রক্ষা করতে পারবে না| নিজের ভুলও বুঝতে পারবে না| সে বলবে না, “আমি যে মূর্ত্তিকে ধরে রেখেছি সেটা ভ্রান্ত দেবতা|”
21 “যাকোব, এই সব স্মরণ করো! ইস্রায়েল স্মরণ করে দেখ তুমি আমার সেবক| তোমার সৃষ্টিকর্তা আমি; তুমি আমার দাস| তাই ইস্রায়েল, তুমি আমাকে ভুলে যেও না|
22 তোমার পাপ বিশাল মেঘের মত ছিল| আমি সেই পাপ ধুয়ে দিয়েছি| হাল্কা বাতাসে যেমন মেঘ অদৃশ্য হয়ে যায় তেমনি তোমার পাপও চলে গিয়েছে| তোমাকে আমি রক্ষা করেছি, উদ্ধার করেছি, তাই আমার কাছে ফিরে এসো!”
23 হে স্বর্গ, গান কর, কারণ প্রভু মহত্‌ কাজগুলি করেছেন| পৃথিবী, এমনকি পৃথিবীর নিম্নস্থলও আনন্দে চিত্কার কর! পর্বতশৃঙ্গরা! অরণ্যের সব গাছ গান গেযে উঠছে| কেন? কারণ প্রভু যাকোবকে রক্ষা করেছেন| প্রভু ইস্রায়েলে তাঁর মহিমা প্রদর্শন করেছেন|
24 তোমরা এখন যা, সে সৃষ্টি প্রভুর| তুমি মাতৃ-জঠরে থাকার সময়ই প্রভু এই সব করেছেন| প্রভু বলেন, “আমি প্রভু, সব কিছু বানিয়েছি! আকাশকে আমি নিজেই টেনে বিছিযেছি! বিশ্বকে আমি একাই ছড়িয়ে দিয়েছি| আমাকে সাহায্য করবার জন্য আমার সঙ্গে আর কেউ ছিল না|”
25 ভ্রান্ত ভাব্বাদীরা মিথ্যা কথা বলে| কিন্তু প্রভু তাদের দেখিয়ে দেন যে তাদের ভবিষ্যত্‌বাণী মিথ্যা| তিনি যাদুকরদের হত বুদ্ধি করে দেন| জ্ঞানী লোকদেরও তিনি বিভ্রান্ত করে দেন| যদিও তারা ভাবে তারা অনেক কিছু জানে কিন্তু প্রভু তাদের বোকার মতো করে দেবেন|
26 প্রভু লোকদের কাছে তাঁর বার্তা পৌঁছে দিতে তাঁর সেবকদের পাঠাবেন| প্রভু সেই বার্তাকে সত্য করবেন! লোকদের কি করা উচিত্‌ তা জানতে তিনি বার্তাবাহকদের পাঠাবেন| এবং প্রভু দেখান যে তাদের উপদেশটি ভালো|জেরুশালেমকে প্রভু বলেন, “লোকে আবার তোমার মধ্যে বাস করবে!” প্রভু যিহূদার শহরগুলিকে বললেন, “তোমরা আবার পুনর্গঠিত হবে!” ধ্বংস হয়ে যাওয়া শহরগুলিকে তিনি বললেন, “তোমাদের আমি আবার গড়ে তুলব|”
27 প্রভু গভীর জলাশযকে বলেন, “শুকনো হয়ে যাও! আমি তোমার জলপ্রবাহকেও শুকিয়ে দেব!”
28 প্রভু কোরসকে বলেন, “তুমি আমার মেষপালক, আমি যা চাইব তাই করবে তুমি| জেরুশালেমকে তুমি বলবে, ‘তোমাকে আবার গড়া হবে|’ জেরুশালেমের মন্দিরে তুমি বলবে, ‘তোমার ভিতকে আবার নির্মাণ করা হবে!”‘




অধ্যায় 45

1 তাঁর মনোনীত রাজা কোরসের বিষয়ে প্রভু এই কথা বলেন,“আমি কোরসের ডান হাত ধরবো| রাজাদের কাছ থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিতে, আমি তাকে সাহায্য করব| কোরসকে নগরদ্বার আটকাবে না| আমি ফটকগুলো খুলে দেব এবং কোরস প্রবেশ করবে|”
2 “কোরস তোমার সেনারা যাত্রা করবে| আমি যাব তোমার সম্মুখে| আমি পর্বতকে সমতল করে দেব| ব্রোঞ্জের নগরদ্বার ভেঙ্গে দেব| দ্বারের লৌহ-দণ্ড কেটে দেব|
3 যে সম্পদ অন্ধকারে রক্ষিত ছিল তা আমি তোমাকে দেব| আমি তোমাকে সব গুপ্তধন দিয়ে দেব| আমি এসব করব যাতে তুমি বুঝতে পার, আমিই প্রভু| আমিই ইস্রায়েলের ঈশ্বর এবং আমি তোমাকে নাম ধরে ডাকছি|
4 আমি আমার দাস যাকোবের জন্য এই সব করি| আমি এই সব করি আমার নির্বাচিত লোক, ইস্রায়েলের লোকদের জন্য| কোরস নাম ধরে ডাকছি তোমাকে, তুমি জানো না আমাকে, তবু আমি তোমাকে নাম ধরে ডাকছি|
5 আমিই প্রভু| আমিই একমাত্র ঈশ্বর| আর কোন ঈশ্বর নেই| আমি তোমাকে কাপড় পরাব| কিন্তু এখনও তুমি আমাকে জানতে পারলে না!
6 আমি এই সব করি, যাতে লোকে জানবে যে আমিই একমাত্র ঈশ্বর| পূর্ব থেকে পশ্চিম, সব লোকরা জানবে যে আমিই প্রভু| আর কোন ঈশ্বর নেই|
7 আমি আলোর সৃষ্টিকর্তা, সৃষ্টিকর্তা অন্ধকারেরও| আমি শান্তি সৃষ্টি করি, আমি সংকটসমূহ তৈরী করি| আমিই প্রভু, আমি এই সব কিছু করি|
8 “আকাশের মেঘগুলো বৃষ্টির মত পৃথিবীর বুকে সুবিচার বর্ষন করুক| পৃথিবী উন্মুক্ত হোক এবং মুক্তি বেড়ে উঠুক| এবং তার সঙ্গে ধার্মিকতা বৃদ্ধি পাক| আমি প্রভু, তাকে তৈরী করেছি|
9 “এই লোকগুলিকে দেখো! তারা তাদের সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে তর্ক করছে| আমার সঙ্গে তাদের তর্ক লক্ষ্য কর| তারা ভাঙা মাটির পাত্রের এক একটি টুকরোর মত| এক জন লোক নরম ভিজে মাটি দিয়ে পাত্র তৈরী করে এবং কাদা মাটি জিজ্ঞাসা করে না, ‘মানুষ তুমি কি করছো?’ যে জিনিষটি তৈরী হচ্ছে, সেটির, যে লোকটি তৈরী করছে তাকে প্রশ্ন করবার এবং বলার ক্ষমতা থাকে না, “আমার কেন একটি হাতল নেই?
10 এক জন পিতা তার শিশুদের জীবন দেন| শিশুরা জিজ্ঞাসা করতে পারে না, ‘কেন তুমি আমাকে জীবন দিয়েছো|’ শিশুরা তার মাকে প্রশ্ন করতে পারে না, ‘কেন তুমি আমাকে জন্ম দিয়েছো?”‘
11 প্রভু ঈশ্বর ইস্রায়েলের পবিত্রতম| তিনি ইস্রায়ে-লের সৃষ্টিকর্তা| তিনি বলেন,“তোমরা কি আমাকে আমার সন্তানদের কথা জিজ্ঞাসা করছ, অথবা আমি নিজে হাতে যা তৈরী করেছি তা নিয়ে কি করতে হবে তা তোমরা আমায় আদেশ দিচ্ছ?
12 তাই দেখো! আমি পৃথিবীকে বানিয়েছি| পৃথিবীর বাসিন্দা সব মানুষের সৃষ্টিকারী আমি| নিজের হাত দিয়ে আকাশ বানিয়েছি| এবং আমি আকাশের সমস্ত সৈন্যসমূহকেআদেশ করি|
13 আমি কোরসকে তার ক্ষমতা দিয়েছি| তাই সে ভাল কাজ করবে| আমি তার কাজ সহজ করে দেব| কোরস আবার আমার শহর গড়ে তুলবে এবং আমার লোকদের মুক্ত করবে| সে আমার লোকদের আমার কাছে বিক্রিী করবে না| এই সব কাজের জন্য আমাকে কাউকে কোন মূল্য দিতে হবে না| লোকরা মুক্ত হবে এবং আমাকে কাউকে উত্‌কোচ দিতে হবে না| প্রভু সর্বশক্তিমান এই সব কিছু বলেছেন|”
14 প্রভু বলেন, “মিশর ও কূশ দেশ ধনী দেশ| কিন্তু ইস্রায়েল তুমি এই সব সম্পদ পেয়ে যাবে| সবাযীযর লম্বা লোকগুলি হবে তোমার অধিকারভুক্ত| তারা গলায় শিকল ঝুলিয়ে তোমার পিছু পিছু হাঁটবে| তারা তোমার সামনে মাথা নত করে প্রার্থনা করবে|” ইস্রায়েল, ঈশ্বর তোমার সঙ্গে আছেন এবং আর কোন ঈশ্বর নেই|
15 ঈশ্বর তুমিই ঈশ্বর, তুমিই ইস্রায়েলের পরিত্রাতা! লোকে তোমাকে দেখতে পায় না|
16 বহু লোক মূর্ত্তিসমূহ তৈরী করে| কিন্তু তারা হতাশ হয়ে, লজ্জিত হয়ে চলে যাবে বহু দূরে|
17 কিন্তু ইস্রায়েলকে প্রভু রক্ষা করবেন| পরিত্রাণ চলবে চিরকাল, কখনই, আর কখনই ইস্রায়েল লজ্জিত হবে না|
18 প্রভুই ঈশ্বর| তিনিই আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন| প্রভু পৃথিবীকে তার জায়গায় ধরে রেখেছেন| পৃথিবীকে তৈরি করার সময় তিনি তা খালি রাখতে চাননি| পৃথিবীতে প্রাণের সঞ্চার করেছেন তিনি! “আমিই প্রভু, অন্য কোন ঈশ্বর নেই|
19 আমি গোপনে কিছু বলি নি| আমি খোলাখুলি কথা বলেছি|আমি আমার কথাগুলি পৃথিবীর অন্ধকার স্থানে লুকিয়ে রাখি নি| আমি যাকোবের লোকদের পরিত্যক্ত জায়গায় আমার খোঁজ করতে বলিনি| আমিই প্রভু, আমি সত্যি কথা বলি, আমার মুখ নিঃসৃত সব সত্যি|”
20 “তোমরা অন্যান্য জাতি থেকে পালিয়ে এসেছ| তাই একত্রিত হয়ে আমার সামনে এস| এই মানুষগুলি ভ্রান্ত দেবতার মূর্ত্তি বহন করেছিল| এই সব লোকরা অসার দেবতাদের কাছে প্রার্থনা করে| কিন্তু তারা জানে না তারা কি করছে|
21 এদের আমার কাছে আসতে বল| তারা তাদের মামলা উপস্থিত করুক এবং উপদেশ নিক|“অনেক দিন আগে যে ঘটনা ঘটেছিল সে সম্পর্কে তোমাদের কে বলেছিল? অনেক অনেক দিন আগে থেকে কে তোমাদের এই সব জিনিসগুলির কথা বলে আসছে? আমি, এক ও অদ্বিতীয় ঈশ্বর সেই সব বলে ছিলাম| আমিই একমাত্র ঈশ্বর| এখানে কি আমার মতো অন্য কোন ঈশ্বর আছে? অন্য কোন উত্কৃষ্ট ঈশ্বর আছে কি? অন্য কোন ন্যায়পরায়ণ ঈশ্বর আছে কি যে তার লোকদের রক্ষা করতে পারে? না! অন্য কোন ঈশ্বর নেই|
22 দূরবর্তী এলাকার লোকরা তোমরা মূর্ত্তির অনুসরণ বন্ধ কর| নিজেদের রক্ষা করতে তোমাদের উচিত্‌ আমাকে অনুসরণ করা| আমিই ঈশ্বর| অন্য কোন ঈশ্বর নেই| আমিই একমাত্র ঈশ্বর|
23 আমি আমার নিজ ক্ষমতাবলে এই শপথ করছি এবং যখন আমি প্রতিশ্রুতি করি তখন তা সত্যি হবেই| আমি যা প্রতিশ্রুতি করেছি তা ঘটবেই এবং আমার প্রতিশ্রুতি প্রত্যেক লোক আমার সামনে মাথা নত করবে| প্রত্যেক লোক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবে যে তারা আমাকে অনুসরণ করবে|
24 লোকে বলবে, ‘এক মাত্র প্রভুর কাছ থেকেই ক্ষমতা ও ধার্মিকতা এসেছে|”‘
25 সে বলবে, “শুধুমাত্র ঈশ্বরেই বিচার এবং শক্তি খুঁজে পাওয়া যায়|” কেউ কেউ প্রভুর ওপর রুদ্ধ| কিন্তু তারা তাঁর কাছে আসবে এবং তখন এই সব রুদ্ধ লোকরা লজ্জিত হবে| প্রভু ইস্রায়েলের লোকদের ভাল কাজ করতে সাহায্য করবেন এবং তারা তাদের ঈশ্বরের জন্য খুব গর্বিত হবে|




অধ্যায় 46

1 বাবিলের বেল ও নবোর মূর্ত্তি আমার সামনে মাথা নত করবে| এইসব ভ্রান্ত দেবতারা শুধু মাত্র মূর্ত্তি| লোকরা এই মূর্ত্তিগুলি পশুর পিঠে চাপায়-এই মূর্ত্তিগুলি আসলে ভারী বোঝা, বইতে হয় কেবল| মূর্ত্তিরা কিছু করতে না পারলেও মানুষকে ক্লান্ত করে তোলে|
2 ঐসব মূর্ত্তিদের মাথা নত হবে| তাদের সকলেরই পতন হবে| তারা কেউ পালাতে পারবে না| বন্দীদের মত তাদের দূরে বয়ে নিয়ে যাওয়া হবে|
3 “যাকোবের পরিবার শোন! ইস্রায়েলের যে সব লোক এখনও বেঁচে আছো শোন! আমি তোমাদের বয়ে নিয়ে যাচ্ছি| তোমরা যখন মায়ের গর্ভে ছিলে তখন থেকেই আমি তোমাদের বইছি|
4 তোমরা যখন ভূমিষ্ট হলে তখন থেকে বইছি এবং বৃদ্ধ অবস্থাতেও আমি তোমাদের বইবো| তোমাদের চুল যখন ধূসর রঙের হয়ে যাবে তখনও আমি বইবো| এখনও বইছি আমি| কারণ আমি তোমাদের সৃষ্টিকর্তা| আমি তোমাদের বয়ে নিয়ে যাবো| রক্ষাও করব|
5 “কারও সঙ্গে কি আমার তুলনা করতে পার? না! কোন ব্যক্তি আমার সমান নয়! তুমি কি কোনও লোক খুঁজে পাবে যে হবে আমার সদৃশ?
6 কোন কোন লোক তাদের থলি থেকে সোনা বের করে| এবং তারা তাদের রূপো দাঁড়িপাল্লায় মাপে| সেই সব লোকরা মূর্ত্তি বানাতে শিল্পীকে পয়সা দেয়| তারপর তারা এই মূর্ত্তিগুলির সামনে মাথা নত করে এবং তাদের কাছে প্রার্থনা করে|
7 লোকরা মূর্ত্তিকে নিজের কাঁধে তুলে নেয এবং তাকে বহন করে| ঐ মূর্ত্তিটি অরয়োজনীয়- লোককেই বহন করতে হয়| যখন লোকে মূর্ত্তিটিকে মাটিতে প্রতিষ্ঠা করে, সে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকে এবং সে নড়াচড়া করতে পারে না| যদি লোকরা মূর্ত্তির প্রতি চিত্কার করে, সেটি উত্তর দেবে না| এটা লোককে তাদের বিপদ থেকে মুক্ত করতে পারে না|
8 “তোমরা পাপ করেছো| তোমাদের এই সব নিয়ে ভাবা উচিত্‌| পুরানো দিনের কথা ভেবে শক্ত হও|
9 অনেক কাল আগে যা ঘটেছিল তা স্মরণ কর| স্মরণ কর আমিই সেই ঈশ্বর| অন্য কোন ঈশ্বর নেই| আমার মত কেউ নেই|
10 “শেষে কি হবে শুরুতেই আমি তোমাদের বলে দিয়েছি| অনেকদিন আগে, আমি যা বলেছি তা কিন্তু সব এখনও ঘটেনি| আমার যা পরিকল্পনা তা কিন্তু ঘটবেই| আমি যা করতে চাই তাই কিন্তু করি|
11 আমি পূর্বদিক থেকে এক জন লোককে ডাকছি| সেই লোকটি ঈগলের মতো হবে| সে দূরের কোন দেশ থেকে আসবে এবং আমি যা করার সিদ্ধান্ত নেব সেগুলিই করবে| আমি তোমাদের বলছি, আমি কিন্তু এসব করবোই| আমি তাকে বানিয়েছি এবং আমিই তাকে নিয়ে আসব!
12 “তোমাদের কেউ কেউ মনে করে তোমাদের প্রচণ্ড ক্ষমতা আছে| কিন্তু তোমরা ভাল কাজ কর না| আমার কথা শোন!
13 আমি ভাল কাজ করব| খুব শীঘ্রই আমি আমার লোকদের রক্ষা করব| আমি সিয়োন ও আমার আশ্চর্য়্য়জনক ইস্রায়েলের জন্য পরিত্রাণ আনব|”




অধ্যায় 47

1 “পড়ে যাও আবর্জনায এবং সেখানেই বসে পড়! কল্দীযদের (বাবিলের অপর নাম) কুমারী কন্যা| কন্যা বসে পড় মাটিতে| তুমি এখন আর শাসক নও! লোকরা তোমাকে কোমলা ক্ষীণকাযা যুবতী মহিলা বলে মনে করবে না|
2 এখন তোমাকে কঠিন পরিশ্রম করতে হবে| য়াঁতাকলে খাদ্যশস্য থেকে তোমাকে আটা বানাতে হবে| তোমার আবরণ সরিয়ে দাও, খুলে ফেল তোমার শৌখিন পোশাক| তোমাকে তোমার দেশ ছাড়তে হবে| তোমার পা দেখতে না পাওয়া পর্য়ন্ত তুমি তোমার ঘাঘরা তোল এবং নদী পার হয়ে যাও|
3 পুরুষেরা তোমার গোপন অঙ্গ দেখবে, তোমাকে ব্যবহার করবে য়ৌনকর্মে| বাজে কাজ করার জন্য মূল্য দিতে বাধ্য করবে তোমাকে, কেউ তোমাকে সাহায্য করতে আসবে না|
4 “আমার লোকরা বলে, ‘ঈশ্বর আমাদের রক্ষা করেন| তাঁর নাম হল: প্রভু সর্বশক্তিমান, ইস্রায়েলের পবিত্রতম|”‘
5 “তাই বাবিল, যেখানেই বসে থাকো, শান্ত হও| কল্দীযদের কন্যা, অন্ধকারে আশ্রয় নাও| কেন? কারণ তোমাকে আর ‘রাজ্যগুলির রাণী’ বলে ডাকা হবে না|
6 “আমি আমার লোকদের ওপর রুদ্ধ ছিলাম| ঐ লোকরা আমার সম্পত্তি| কিন্তু আমি তাদের ওপর রুদ্ধ ছিলাম, তাই আমি তাদের অসম্মান করেছি| আমি তাদের তোমার হাতে তুলে দিয়েছিলাম| তুমি তাদের শাস্তি দিয়েছ| কিন্তু তুমি তাদের ক্ষমা প্রদর্শন করোনি- বৃদ্ধকেও তুমি কঠিন পরিশ্রম করতে বাধ্য করেছ|
7 তুমি বললে, ‘আমি চির কাল থাকব| চির কাল আমিই থাকব মহারাণী|’ সেই সব লোকের ওপর তুমি যে অপকর্ম করেছ, তাও তুমি লক্ষ্য করনি| কি ঘটবে সে সম্পর্কেও ভাবনি|
8 তাই, এখন, ‘হে বিলাসলালিত রমণী’ আমার কথা শোন! তুমি নিজেকে নিরাপদ ভেবে নিজের সঙ্গে কথা বলে চলেছ| ‘আমিই একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ মহিলা| আর কেউই আমার মতো গুরুত্বপূর্ণ নয়| আমি কখনও বিধ্বা হব না| আমার সর্বদা ছেলে মেয়ে থাকবে|’
9 এই দুটি ঘটনা তোমার জীবনে ঘটবে| প্রথমতঃ তুমি তোমার ছেলেমেয়েদের হারাবে| তুমি হারাবে তোমার স্বামীকেও| হ্যাঁ, এসবই তোমার জীবনে সত্যি সত্যিই ঘটবে| তোমার যাদুবিদ্য়া, তোমার কলাকৌশল তোমাকে রক্ষা করতে পারবে না|
10 তুমি বাজে কাজ করেও নিজেকে নিরাপদ মনে কর| তুমি নিজে নিজে মনে কর, ‘আমার অপকর্ম কেউ দেখতে পায় না|’ তুমি মনে কর তোমার বিচক্ষণতা ও জ্ঞান তোমাকে বাঁচাবে| তুমি মনে মনে ভাব, ‘আমিই অনন্যা| কেউ আমার মতো গুরুত্বপূর্ণ নয়|’
11 “কিন্তু বিপদ তোমার কাছে আসবে| তুমি জান না কখন এটা ঘটবে| কিন্তু বিপর্য়য আসছে| এই সঙ্কট বন্ধ করতে তুমি কিছুই করতে পারবে না| তুমি এত তাড়াতাড়ি ধ্বংস হবে যে তুমি বুঝতেও পারবে না কি ঘটল|
12 তুমি সারাজীবন কঠোর পরিশ্রম করে যাদুবিদ্য়া আর ছলাকলা শিখলে| তাই ছলাকলা আর যাদুবিদ্য়া শুরু কর| হয়তো এই কৌশল তোমাকে সাহায্য করবে| তুমি হয়তো কাউকে ভয়চকিত করতে পারবে|
13 তোমার অনেক উপদেষ্টা রয়েছে| তাদের অনেক উপদেশে তুমি কি ক্লান্ত? তোমার জ্যোতিষিরা যারা নক্ষত্র দেখে তারা আসুক এবং তোমাকে সাহায্য করুক| প্রতি মাসে তারা তোমাকে বলুক তোমার কি ঘটবে|
14 “কিন্তু সেই লোকরা নিজেদের বাঁচাতেই সক্ষম হবে না| খড়ের মতো তারা পুড়বে| তারা এত দ্রুত পুড়ে যাবে যে রুটি বানানোর জন্য কোন কযলা পড়ে থাকবে না| পোড়ানোর জন্য কোন আগুন পড়ে থাকবে না|
15 যে সব ব্যাপারের জন্য তুমি এত কঠিন পরিশ্রম করলে তার প্রতিটি বিষয়ে এটি ঘটবে| যে সব লোকদের সঙ্গে তুমি তোমার য়ৌবনকাল থেকে ব্যবসা করেছ, তারাও তোমাদের ত্যাগ করে যাবে| প্রত্যেকেই চলে যাবে তার নিজের পথ ধরে এবং তোমাকে রক্ষা করার জন্য কেউ থাকবে না|”




অধ্যায় 48

1 প্রভু বলেন, “যাকোবের পরিবার আমার কথা শোন! তোমরা নিজেদের ‘ইস্রায়েল’ বল| তোমরা এসেছো যিহূদার পরিবার থেকে| প্রতিশ্রুতি করার জন্য তোমরা প্রভুর নাম করো, তোমরা ইস্রায়েলের ঈশ্বরের প্রশংসা কর| কিন্তু এসব করার সময়ও তোমরা সত্‌ ও আন্তরিক নও|”
2 হ্যাঁ, তারা পবিত্র শহরের নাগরিক| তারা ইস্রায়েলের ঈশ্বরের ওপর নির্ভর করে| সর্বশক্তিমান প্রভু হল তাঁর নাম|
3 “কি ঘটবে বহুদিন আগে আমি তা বলে দিয়েছি| এবং তারপর হঠাত্ই আমি তা ঘটিযেছি|
4 আমি সেটা করেছিলাম কারণ আমি জানি তোমরা একরোখা জেদী| আমি যা বলেছিলাম তার কোন কিছুকেই তোমরা বিশ্বাস করনি| তোমরা ছিলে বড় একরোখা লোহার মত যাকে বাঁকানো যায় না, একরোখা ছিলে ব্রোঞ্জের মতো|
5 তাই বহুদিন আগে আমি বলেছিলাম কি কি ঘটবে| কোন কিছু ঘটার অনেকদিন আগেই আমি তোমাদের সেই সব জিনিসগুলি ঘটার কথা বলেছিলাম| আমি এটা করেছিলাম যাতে তোমরা বলতে না পার, ‘আমরা যে সব দেবতাদের তৈরী করেছি তারা এসব করেছে|’ আমি এগুলি করেছি, যাতে তোমরা বলতে না পারো ‘আমাদের প্রতিমা, আমাদের মূর্ত্তি এই সব ঘটিযেছেন|”‘
6 “কি ঘটেছে তোমরা দেখেছো| শুনেছোও| তাই এই খবরগুলি তোমাদের অন্যদেরও বলা উচিত্‌| এখন তোমাদের আমি নতুন জিনিসের কথা জানাব| যা তোমরা এখনও শোন নি|
7 এই সব ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি, এই সব ঘটনা এখনই ঘটে যাচ্ছে| আজকের আগে এসব কথা তোমরা শোন নি| তোমরা তাই বলতে পারবে না যে আমরা এই সব ইতিমধ্যেই জেনেছি|
8 “তবুও তোমরা আমার কথা শোননি! তোমরা কোন কিছুই শেখোনি! আমি যা বলেছি তোমরা তা শুনতে অস্বীকার করেছ| আমি জানি শুরু থেকেই তোমরা আমার বিরুদ্ধাচরণ করবে| জন্মাবার সময় থেকেই তোমরা আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছ|
9 কিন্তু আমি ধৈর্য়্য়শীল থাকব| আমি এটা নিজের জন্যই করব| রুদ্ধ না হওয়া এবং তোমাদের ধ্বংস না করার জন্য লোকে আমার প্রশংসা করবে|
10 “দেখো, আমি তোমাদের বিশুদ্ধ করব| লোকে রূপোকে খাঁটি করে তুলতে আগুনের ব্যবহার করে| কিন্তু আমি যন্ত্রণা দিয়ে তোমাদের খাঁটি করে তুলব|
11 আমি নিজের জন্য এইসব করব, নিজের জন্য! কারণ আমি আমার নামের অসম্মান হতে দিতে পারি না| আমি অন্য আর কোন কিছুকেই আমার প্রশংসা ও মহিমা নিতে দেব না!
12 “যাকোব আমি তোমাকে আমার লোক বলে ডেকেছি| তাই আমার কথা শোন! আমিই আদি! আমিই অন্ত!
13 আমি নিজের হাতে পৃথিবীর সৃষ্টি করেছি, আমার ডান হাত সৃষ্টি করেছে আকাশ| ডাকলেই তারা এক সঙ্গে আমার সামনে চলে আসবে|
14 “তোমরা সবাই এসো এখানে, আমার কথা শোন! কোনো মূর্ত্তি কি বলেছে যে এগুলো ঘটবে? না!” প্রভু যাকে ভালোবাসেন, পছন্দ করেন বাবিল ও কল্দীযদের প্রতি যা চাইবে তাই করবেন|
15 প্রভু বলেন, “আমি বলেছি তাকে আমি ডাকব| আমি তাকে বয়ে আনব! আমি তাকে সফল করে তুলব!
16 এখানে এস এবং আমার কথা শোন! বাবিলের জাতি হিসেবে উত্থানের সময় আমি সেখানে ছিলাম| এবং প্রথম থেকেই আমি স্পষ্ট কথা বলেছি, যাতে লোকেরা বুঝতে পারে আমি কি বলেছি|”তখন যিশাইয় বললেন, “এখন প্রভু, আমার সদাপ্রভু আমাকে পাঠিয়েছেন| তাঁর আত্মা তোমাদের এই সব কথা বলবে|
17 প্রভু, পরিত্রাতা, ইস্রায়েলের পবিত্র একজন বলেন,“আমিই প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর| আমি তোমাদের সেই সব জিনিষ শেখাই যা সহায়ক| তোমাদের যে পথে যাওয়া উচিত্‌ সেই পথের আমি নেতৃত্ব দেব|
18 তোমরা যদি আমাকে মেনে চলতে তাহলে তোমাদের জীবনে ভরা নদীর মতো শান্তি আসবে| সমুদ্রের তরঙ্গের মতো ভাল জিনিস তোমাদের কাছে আসবে বার বার|
19 তোমরা যদি আমাকে মানতে, তোমাদের অনেক শিশু সন্তান থাকত| তারা অসংখ্য বালু কণার মতো| তোমরা যদি আমাকে মানতে, তোমরা ধ্বংস হতে পারতে না| তোমরা আমার সঙ্গে চালিযে যেতে পারতে|”
20 আমার লোকরা বাবিল ত্যাগ করো! আমার লোকরা কল্দীযদের কাছ থেকে পালাও| আনন্দের সঙ্গে লোকদের এই সংবাদ দাও| পৃথিবীর দূর দূর স্থানে এই বার্তা পৌঁছে দাও! লোককে বলো, “প্রভু তাঁর ভৃত্য যাকোবকে উদ্ধার করেছেন!
21 প্রভু তাঁর লোকদের মরুভূমির ওপর দিয়ে নিয়ে গেলেন কিন্তু তারা কখনও তৃষ্ণার্ত হয়নি| কেন? কারণ প্রভু তাঁর লোকদের জন্য পাথর থেকে জলপ্রবাহের সৃষ্টি করেছিলেন| তিনি পাথরটি ভাঙলেন এবং জল প্রবাহিত হতে লাগল!”
22 প্রভু আরও বলেছেন, “শযতান লোকদের জন্য কোথাও শান্তি থাকবে না!”




অধ্যায় 49

1 দূরবর্তী স্থানের সব লোকরা আমার কথা শোন| পৃথিবীবাসী সবাই আমার কথা শোন! আমি জন্মাবার আগেই প্রভু আমাকে তাঁর সেবা করতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন| আমি মাতৃজঠরে থাকার সময়েই প্রভু আমার নাম ধরে ডাক দেন|
2 প্রভু আমাকে তাঁর কথা বলতে ব্যবহার করেন! তিনি আমার মুখকে ধারালো তরবারির মতো তৈরী করেছেন| তিনি আমাকে নিজের হাতে লুকিয়ে রেখে আমাকে রক্ষাও করেছেন| প্রভু আমাকে একটি ধারালো তীরের মতো ব্যবহার করলেও, তিনি আমাকে তাঁর তীরের থলিতে লুকিয়ে রাখেন|
3 প্রভু আমাকে বললেন, “ইস্রায়েল তুমি আমার ভৃত্য! তোমার জন্য আমি যা করি তার জন্য আমি সম্মানিত হব|”
4 আমি বললাম, “আমি কঠোর পরিশ্রম করেছি| আমি নিজেকে ক্ষয় করেছি, কিন্তু কোন প্রযো-জনীয কাজ করি নি| আমি আমার সমস্ত শক্তি ব্যয করেছি| কিন্তু আমি সত্যিকারের কিছুই করতে পারিনি| তাই প্রভুকেই ঠিক করতে হবে| তিনি আমাকে নিয়ে কি করবেন| ঈশ্বরই আমার পুরস্কারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন|
5 প্রভু আমাকে আমার মাতৃগর্ভে সৃষ্টি করেছেন, যাতে আমি তাঁর দাস হতে পারি এবং যাকোব ও ইস্রায়েলকে পথ প্রদর্শন করে তাঁর কাছে ফিরিয়ে আনতে পারি| প্রভু আমাকে সম্মান দেবেন| ঈশ্বরের কাছ থেকে আমি আমার শক্তি পাব|”প্রভু আমাকে বলেন,
6 “তুমি আমার খুবই গুরুত্বপূর্ণ দাস| ইস্রায়েলের লোকরা এখন বন্দী| কিন্তু তাদের আমার কাছে আনা হবে| যাকোবের পরিবারগোষ্ঠী আমার কাছেই ফিরে আসবে| কিন্তু তোমার অন্য কাজ আছে, এর থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেই কাজ! আমি তোমাকে সমস্ত জাতির আলো হিসেবে তৈরি করব| বিশ্ববাসীকে রক্ষা করতে তুমিই হবে আমার পথ|”
7 প্রভু, ইস্রায়েলের পবিত্র একজন, ইস্রায়েলের পরিত্রাতা বলেন, “আমার দাস ঘৃণিত| সে শাসকদের সেবা করে| লোকে তাকে ঘৃণা করে| কিন্তু রাজারা তাকে দেখবে এবং তাকে সম্মান জানানোর জন্য উঠে দাঁড়াবে| মহান নেতারা তার সামনে মাথা নত করবে|” এই সব ঘটবে কারণ প্রভু, ইস্রায়েলের পবিত্রতম এই সব চান| এবং প্রভুকে বিশ্বাস করা যেতে পারে| তিনিই সে জন যিনি তোমাকে বেছে নিয়েছিলেন|
8 প্রভু বলেন, “একটা বিশেষ সময় আসবে, যখন আমি আমার দয়া দেখাব| তখন আমি তোমাদের প্রার্থনার জবাব দেব| বিশেষ দিন আসবে যখন আমি তোমাদের রক্ষা করব| আমি তোমাদের সাহায্য করব, আমি তোমাদের নিরাপত্তা দেব| লোকের সঙ্গে আমার যে চুক্তি আছে তার প্রমাণ হবে তোমরা| যে দেশ এখন ধ্বংসপ্রাপ্ত, সেই দেশকে তোমরা তার নিজের জমি ফিরিয়ে দেবে|
9 তোমরা কয়েদীদের বলবে: ‘কারাগার থেকে বেরিয়ে এসো|’ অন্ধকারে থাকা লোকদের তোমরা বলবে, ‘বেরিয়ে এসো অন্ধকার জগত থেকে!’ ভ্রমণ করতে করতে লোকে খাবে| নিস্ফলা পাহাড়েও তারা খাবার পাবে|
10 লোকে ক্ষুধার্ত হবে না, লোকরা তৃষ্ণার্ত হবে না| তাদের তপ্ত সূর্য় ও বাতাস কষ্ট দেবে না| কেন? কারণ ঈশ্বর তাদের আরাম দেবেন| ঈশ্বর তাদের নেতৃত্ব দেবেন| জলপ্রবাহগুলির কাছে তিনি তাদের নেতৃত্ব দেবেন|
11 “আমি আমার লোকদের জন্য সড়ক বানাব| পাহাড়গুলিকে করা হবে সমতল এবং নীচু রাস্তাগুলিকে করা হবে উঁচু|
12 “দেখ! দূর দূর স্থান থেকে আমার কাছে লোকে চলে আসছে| উত্তর ও পশ্চিম থেকে লোকরা আসছে| মিশরের সীনীম দেশ থেকে লোক আসছে|”
13 স্বর্গ ও পৃথিবী সুখী হও! পাহাড় চেঁচিয়ে ওঠ আনন্দে! কেন? কারণ প্রভু তাঁর লোকদের আরাম দেবেন| প্রভু গরীব লোকদের প্রতি সদয হবেন|
14 কিন্তু সিয়োন এখন বলে, “প্রভু আমাকে ত্যাগ করেছেন| আমার প্রভু আমাকে ভুলে গিয়েছেন|”
15 কিন্তু আমি বলি, “কোন মহিলা কি নিজের শিশুকে ভুলতে পারে? না! তার শরীর থেকে ভূমিষ্ট হওয়া শিশুকে ভুলতে পারে কোন নারী? না! কোন নারী তার শিশুকে ভুলতে পারে না| আমিও তোমাদের ভুলে যেতে পারি না|
16 এই দেখো, আমি নিজ হাতে তোমাদের নাম খোদাই করে রেখেছি! তোমাদের কথা সব সময়ই ভাবি|
17 তোমাদের শিশুরা ফিরে আসবে, লোকরা তোমাদের পরাজিত করবে কিন্তু তারা তোমাদের একাকী ফেলে যাবে|”
18 তাকাও! নিজেদের চারিদিকে তাকাও! তোমাদের সব ছেলেমেয়েরা একত্রিত হয়ে তোমাদের কাছে আসবে| প্রভু বলেন, “নিজের জীবনে তোমাদের কাছে এই প্রতিশ্রুতি করছি: তোমাদের ছেলেমেয়েরা হবে রত্নের মতো| যেটা তোমরা গলায় বেঁধে রাখবে| তোমাদের ছেলেমেয়েরা এক জন বধূর গলার মূল্যবান হারের মতো হবে|
19 এখন তোমরা পরাজিত ও তোমরা ধ্বংস হয়েছো| তোমাদের দেশ ধ্বংস হয়েছে| কিন্তু কিছু কাল পরে, তোমাদের দেশে তোমরা অনেক বেশী লোক পাবে এবং যে সমস্ত লোক তোমাদের ধ্বংস করেছিল তারা অনেক দূরে সরে যাবে|
20 তোমরা হারিযে যাওয়া শিশুর শোকে দুঃখিত ছিলে| সেই শিশুরাই কিন্তু তোমাদের বলবে, ‘এই জায়গা বড্ড ছোট! আমাদের বসবাসের জন্য বড় জায়গা দাও!’
21 তারপর তোমরা নিজেরাই বলবে, “কে আমাদের এইসব শিশুদের দিয়েছে? এটা খুব ভালো! আমি বিচ্ছিন্ন ছিলাম, নির্জনে ছিলাম| পরাস্ত হয়ে নিজেদের লোক থেকে দূরে ছিলাম| তাই এই শিশুদের কে দিলেন? দেখো, আমি একা পড়েছিলাম| কোথা থেকে এই শিশুরা এসেছিল?”‘
22 আমার প্রভু, সদাপ্রভু বলেন, “দেখ, আমার হাত জাতিদের ওপর ঢেউ তুলবে| আমি সব মানুষকে দেখাতে পতাকা তুলব| তখন তারা তোমাদের শিশুদের নিয়ে আসবে! তারা তোমাদের শিশুদের কাঁধে করে আনবে, বাহু দিয়ে শিশুদের ধরে রাখবে|
23 তাদের সম্রাটরা শিক্ষক হবেন| রাজকুমারীরা তাদের যত্ন করবে| সেই সব রাজা ও রাজকুমারীরা তোমাদের সামনে শ্রদ্ধায মাথা নত করবে | তারা তোমাদের পায়ের পাতার ধূলিতে চুম্বন করবে| তখন তোমরা বুঝবে যে আমিই প্রভু| তারপর তোমরা জানবে, আমার ওপর আস্থাশীল হওয়া কোন লোকই হতাশ হবে না|”
24 যখন কোন বলবান সেনা যুদ্ধ জয় করে প্রচুর সম্পদ নিয়ে আসে, তখন তোমরা তা ছিনিয়ে নিতে পারো না| যখন কোন শক্তিশালী সেনা কোন বন্দীকে পাহারা দেয়, তখন বন্দীটি পালিয়ে যেতে পারে না|
25 কিন্তু প্রভু বলেন, “বন্দী পালিয়ে যাবে| কেউ এক জন বন্দীদের শক্তিশালী সেনার কাছ থেকে দূরে নিয়ে যাবে| কি করে ঘটবে এইসব? আমি তোমাদের হয়ে যুদ্ধ করে দেবো| আমিই তোমাদের শিশুদের বাঁচাবো|
26 “তোমাদের যারা দাবিয়ে রেখেছিল আমি তাদের নিজেদের মাংস খেতে বাধ্য করব| দ্রাক্ষারস পান করে মাতাল হবার মত তারা তাদের নিজেদের রক্ত খেয়ে মাতাল হবে| তখন সবাই জেনে যাবে যে প্রভু তোমাদের পরিত্রাতা| প্রত্যেকটি লোক জেনে যাবে যে যাকোবের শক্তিশালী ‘একজন’ তোমাদের রক্ষা করেছিলেন|”




অধ্যায় 50

1 প্রভু বলেন, “ইস্রায়েলবাসীরা, তোমরা বল যে আমি তোমাদের মা, জেরুশালেমের সঙ্গে ব্বিাহ-বিচ্ছেদ করেছি| কিন্তু কোথায় সেই প্রমাণপত্র, যা র্সম্পং ছিন্ন হবার কথা প্রমাণ করে? আমার ছেলেরা, আমি কি কারো কাছে অর্থ ঋণ করেছিলাম? ঋণ শোধ করবার জন্য আমি কি তোমাদের বিক্রি করেছি? না! তোমরা নিজেদের খারাপ কাজের জন্য বিক্রি হয়েছিলে| তোমাদের খারাপ কাজের জন্য তোমাদের মা (জেরুশালেম) অনেক দূরে চলে গেছে|
2 আমি ঘরে এসে দেখি কেউ নেই| আমি বার বার ডাকলাম| কিন্তু কেউ উত্তর দিল না| তোমরা কি মনে কর, আমি তোমাদের রক্ষা করতে পারব না? আমার সব সমস্যা থেকেই উদ্ধার করার ক্ষমতা আছে| দেখ! আমি যদি নির্দেশ দিই সমুদ্র শুকিয়ে যাও, সমুদ্র তখনই শুকিয়ে যাবে| জল না পেয়ে মরে যাবে মাছ, মাছদের শরীর পচে যাবে|
3 আমি শোকের কালো কাপড়ের মতো আকাশকে অন্ধকার করে দিতে পারি| আকাশকে অন্ধকারময় করে দিতে পারি|”
4 আমার প্রভু আমাকে শিক্ষা দেবার ক্ষমতা দিয়েছেন| তাই আমি এখন এই দুঃখী লোকদের শিক্ষা দিই| প্রতিদিন সকালে তিনি শিক্ষকের মতো আমাকে দর্শন দিয়ে শিক্ষা দেন|
5 আমার প্রভু সদাপ্রভু আমাকে শিক্ষা গ্রহণে সাহায্য করেন| আমি তার বিরুদ্ধাচরণ করি না| তাঁকে অনাসরণ করা আমি বন্ধ করব না|
6 আমি লোকদের আমাকে আঘাত করতে দেব| আমি তাদের আমার দাড়ি থেকে চুল তুলে নিতে দেব| যখন তারা আমার নামে বাজে কথা বলবে, আমার গায়ে থুতু ফেলবে তখনও আমি নিজের মুখ লুকোব না|
7 প্রভু আমার সদাপ্রভু আমাকে সাহায্য করবেন| তাই তাদের বাজে কথা আমাকে আঘাত করবে না| আমি শক্তিশালী হব| আমি জানি আমি হতাশ হব না|
8 প্রভু আমার সঙ্গে আছেন| তিনিই দেখাবেন আমি নির্দোষ| তাই কেউ আমাকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারবে না| কেউ যদি আমাকে ভুল প্রমাণ করতে চায় তবে তাকে আমার সামনে এসে যুক্তি দেখাতে হবে|
9 তাকিযে দেখো, আমার প্রভু সদাপ্রভু আমাকে সাহায্য করছেন| তাই আমাকে কেউ পাপী সাব্যস্ত করতে পারবে না| তাদের পুরানো মূল্যহীন কাপড়ের মতো অবস্থা হবে| পোকামাকড় তাদের খাবে|
10 ঈশ্বরের প্রতি যারা শ্রদ্ধাশীল তারা প্রভুর দাসের কথা শুনবে| কি হবে তা না জেনেই প্রভুর দাস প্রভুর প্রতি অগাধ বিশ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকে| সে সত্যি সত্যি প্রভুর নামের ওপর আস্থা রাখে এবং সে তার ঈশ্বরের ওপর নির্ভর করে|
11 “দেখ, তোমরা তোমাদের নিজেদের মত করে বাঁচতে চাও| তোমরা তোমাদের নিজেদের আগুনে আলো জ্বালাও| তাই নিজের পথেই থাকো| কিন্তু তোমরা শাস্তি পাবে| তোমরা তোমাদের আগুনের আলোতে পাড়ে যাবে| আমিই সেটা ঘাবো|”




অধ্যায় 51

1 “তোমাদের মধ্যে যারা ভালো জীবনযাপন করতে এবং ভালো কাজ করতে চেষ্টা কর, যারা প্রভুর কাছে সাহায্যের জন্য যাও, তারা আমার কথা শোন| যে পাথরটা কেটে তোমরা হয়েছিলে, সেই পাথর, তোমাদের পিতা অব্রাহামের কথা চিন্তা কর|
2 অব্রাহামই তোমাদের পিতা, তাঁর দিকে তাকানো উচিত্‌| তোমাদের জন্মদাত্রী মাতা সারার দিকে তাকাও| অব্রাহামকে যখন আমি ডেকেছিলাম তখন সে একা ছিল| তখন আমি তাকে আশীর্বাদ করেছিলাম এবং সে একটি মহান পরিবার শুরু করেছিল| ওর কাছ থেকে বহু লোক এসেছে|”
3 একই ভাবে, প্রভু সিয়োনের ওপরও কৃপা করবেন| সিয়োন ও তার লোকদের তিনি আরাম দেবেন| তিনি সিয়োনের জন্য মহান কাজ করবেন| প্রভু মরুভূমির পরিবর্তন করবেন| মরুভূমি এদনের বাগানের মতো সুন্দর হয়ে উঠবে| সিয়োনের জমি ছিল পরিত্যক্ত কিন্তু তা প্রভুর বাগানের মত হয়ে উঠবে| সেখানকার লোকরা সুখী, খুব সুখী হবে| তারা তাদের আনন্দের বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে| তারা ধন্যবাদ ও জয়সূচক গান গাইবে|
4 “আমার লোকরা, আমার কথা শোন! আমার বিধি আমার কাছ থেকে যাবে| আমার বিচার হবে আলোর মত যেগুলো লোকদের দেখাবে কি ভাবে বাঁচতে হয়|
5 শীঘ্রই আমি আমার ন্যায় প্রকাশ করব| শীঘ্রই আমি তোমাদের রক্ষা করবো| আমি আমার ক্ষমতা ব্যবহার করব এবং সব জাতিগুলিকে বিচার করব| দূরবর্তী এলাকার লোকরা আমার প্রতীক্ষায আছে| আমার ক্ষমতা তাদের রক্ষা করবে, এই ভরসায তারা অপেক্ষায আছে|
6 স্বর্গের দিকে চোখ মেলো! চারিদিকে চোখ মেলে পৃথিবীকে দেখো! ধোঁযার মেঘের মত আকাশ অদৃশ্য হয়ে যাবে| পুরানো কাপড়ের মত পৃথিবী মূল্যহীন হয়ে যাবে| পৃথিবীতে প্রত্যেকে মারা যাবে, কিন্তু আমার পরিত্রাণ চির কালের জন্য থেকে যাবে| আমার ধার্মিকতা কখনও শেষ হবে না|
7 তোমরা যারা ধার্মিকতা বোঝ তাদের আমার কথা শুনতে হবে| লোকরা, যাদের হৃদয়ে আমার বিধি রাখা আছে, আমার কথা তাদের শুনতে হবে| যারা তোমাদের বিরোধীতা করে সেই খারাপ লোকদের তোমরা ভয় পেযো না| অভিশাপ পেয়ে ভয় পেযো না|
8 কেন? কারণ তাদের দশা হবে পুরানো কাপড়ের মতো| তাদের পোকামাকড় খেয়ে নেবে| তাদের পশমের মতো দশা হবে, কৃমি তাদের খেয়ে নেবে| কিন্তু আমার ধার্মিকতা চির কালের জন্য থেকে যাবে| চির কাল থাকবে পরিত্রাণ, চিরকাল করে যাব পরিত্রাণ|”
9 প্রভুর বাহু (শক্তি) জেগে ওঠো| জেগে ওঠো! শক্ত হও! বহুদিন আগেকার মত, প্রাচীন কালের মতো তোমার শক্তি ব্যবহার কর| তুমি হচ্ছো সেই শক্তি যে রহবকে পরাজিত করেছিল| তুমি সেই প্রকাণ্ড জলচরকে পরাস্ত করেছিলে|
10 সমুদ্র শুকিয়ে যাবার কারণ হয়েছিলে তুমি! তুমি গভীর জলাশযে জল শুকিয়ে দিয়েছিলে! সমুদ্রের অতলে পথ গড়ে উঠেছিল তোমার জন্যই! তোমার লোকরা নিরাপদে সমুদ্র পারাপার করেছিল|
11 প্রভু নিজের লোকদের রক্ষা করবেন, তারা আনন্দের সাথে সিয়োনে ফিরে যাবে| তারা খুব, খুব সুখী হবে| তাদের সুখ হবে চিরকালীন রাজমুকুটের মত| তারা আনন্দে গান গাইতে থাকবে| সব দুঃখ চলে যাবে অনেক দূরে|
12 প্রভু বলেন, “আমিই সে-ই যে তোমাদের আরাম দেয়| তবুও তোমরা কেন লোকের ভয়ে ভীত হয়ে ওঠ? তারা তো শুধু মাত্র মানুষ যাদের জন্ম মৃত্যু আছে| তারা তো কেবলই মানুষ- ঘাসের মতোই মরে তারা|”
13 প্রভু হলেন তোমাদের সৃষ্টিকর্তা| নিজের ক্ষমতায তিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন| নিজের ক্ষমতাতেই তিনি আকাশের সৃষ্টি করেছেন| কিন্তু তোমরা প্রভু ও তাঁর ক্ষমতার কথা ভুলে গিয়েছ| তাই তোমরা সেই রুদ্ধ লোকদের ভয় পাও| তাদের পরিকল্পনা হল তোমাদের বিনাশ করা, কিন্তু তারা এখন কোথায় রয়েছে?
14 কয়েদের ভিতরে যেসব লোক ছিল তারা মুক্ত হবে| তারা মরবে না, তবে কারাগারে পচবে| তাদের জন্য থাকবে যথেষ্ট খাবার|
15 “আমি প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর| আমি সমুদ্রে নাড়া দিই এবং ঢেউ তৈরী করি|” (প্রভু সর্বশক্তিমান তাঁর নাম|)
16 “আমার দাসগণ, যে কথা আমি তোমাদের বলতে চাই, সেই কথাগুলো আমি তোমাদের দেব| আমি তোমাদের আমার নিজের হাত দিয়ে আড়াল করবো এবং তোমাদের নিরাপত্তা দেব| আমি স্বর্গের পরিধি বাড়াতে এবং পৃথিবীর ভিত বানাতে তোমাদের ব্যবহার করব| ‘তোমরা আমারই লোক”‘ একথা সিয়োনকে বলবার জন্য আমি তোমাদের ব্যবহার করব|
17 জাগো! জাগো! জেরুশালেম উঠে দাঁড়াও! প্রভু তোমার ওপর প্রচণ্ড রুদ্ধ ছিলেন| তাই তোমরা শাস্তি পেয়েছিলে| এক পেয়ালা বিষ তোমাদের পান করতে হয়েছিল এবং তোমরা পান করেছিলে| তোমাদের সে রকমই শাস্তি ছিল|
18 জেরুশালেমের লোক জন অনেক| কিন্তু তারা কেউ তার নেতা হতে পারেনি| জেরুশালেম যে সন্তানদের পালন করেছে তাদের মধ্যে কেউই তাকে নেতৃত্ব দেবার জন্য নেতা হয়ে ওঠেনি|
19 জেরুশালেমের সমস্যা এসেছিল দুভাবে| খাদ্যের বণ্ট্ন এবং চুরি, দুর্ভিক্ষ এবং যুদ্ধ|কেউ তোমাদের কষ্টের দিনে সাহায্য করতে আসেনি| কেউ তোমাদের ক্ষমা দেখায়নি|
20 তোমাদের লোকরা দুর্বল হয়ে গিয়েছিল| তারা মাটিতে পড়ে গিয়ে সেখানেই শুয়ে পড়ে| তারা পথের আনাচে-কানাচে পড়েছিল| তাদের দশা হয়েছিল জালে পড়া হরিণের মতো| যতদিন পর্য়ন্ত তারা প্রভুর শাস্তি আর নিতে পারছিল না ততদিন তারা ছিল প্রভুর রুদ্ধ শাস্তির কবলে| তারা তাঁর কাছ থেকে আর তিরস্কার নিতে পারছিল না|
21 দরিদ্র জেরুশালেমবাসী, এই কথাটা শোন| তোমরা দ্রাক্ষারস পান না করলেও তোমরা মাতালদের মতো দুর্বল|
22 তোমাদের ঈশ্বর ও প্রভু, তাঁর লোকদের জন্য লড়াই করেন| তিনি তোমাদের বলেন, “দেখ, আমি তোমাদের দেশ থেকে ‘বিষের পানপাত্র’ বের করে নিয়ে যাচ্ছি| আমার রোধর পানপাত্র থেকে তোমাদের আর পান করতে হবে না|
23 এখন আমি আমার রোধ ব্যবহার করব যারা তোমাদের আঘাত করেছিল, তাদের ওপর| আঘাত করব তাদের ওপর যারা তোমাদের হত্যা করার চেষ্টা করেছিল| তারা তোমাদের বলেছিল, ‘আমাদের সামনে মাথা নত কর এবং আমরা তোমাদের মাথার ওপর দিয়ে হেঁটে যাব|’ তারা তোমাদের মাথা নত করতে বাধ্য করেছিল| তারপর তারা তোমাদের পিঠের ওপর দিয়ে ময়লার মতো হেঁটে গিয়েছিল| তোমরা তাদের পায়ে হাঁটা পথের মতো ছিলে|”




অধ্যায় 52

1 জেগে ওঠো! জেগে ওঠো! তোমাদের চমত্কার পোশাকগুলি পর! নিজেদের শক্তি পরিধান করো| পবিত্র জেরুশালেম উঠে দাঁড়াও! সেই সব অশুচি লোক এবং যাদের সুন্নত্‌ হয় নি, তারা আর তোমার কাছে আসবে না|
2 আবর্জনা ঝেড়ে ফেল! তোমরা সুন্দর পোশাক পর! সিয়োনের কন্যা জেরুশালেম তুমি বন্দী ছিলে| তোমার গলায় বাঁধা শিকল থেকে নিজেকে মুক্ত কর|
3 প্রভু বলেন, “তোমরা টাকার জন্য বিক্রি হওনি| তাই তোমাদের মুক্ত করতেও টাকার প্রয়োজন হবে না|”
4 প্রভু, আমার সদাপ্রভু বলেন, “আমার লোকরা প্রথমে মিশরে গিয়েছিল| তারা সেখানে গিয়ে এীতদাস হয়ে যায়| পরে অশূর তাদের এীতদাস করে রাখে|
5 প্রভু বলেন, এখন দেখো কি ঘটে! অন্য জাতি আমার লোকদের এীতদাস করে নিয়ে গিয়েছিল| আমার লোকদের নেবার জন্য এই জাতি কোন মূল্য দেয়নি| এই জাতি আমার লোকদের ওপর শাসন করে এবং তা নিয়ে বড়াই করে| তারা সব সময় আমাকে অপমান করে|”
6 প্রভু বলেন, “আমার লোকরা আমার নাম জানবে| সেই দিন তারা উপলদ্ধি করবে যে আমিই সে যে তাদের সঙ্গে কথা বলছি| সে হল আমি!”
7 এটা একটা খুবই চমত্কার ব্যাপার যে পাহাড় থেকে বার্তাবাহক সুসংবাদ নিয়ে এসেছে| বার্তাবাহকের ঘোষণাটিও চমত্কার, “সেখানে শান্তি বিরাজ করছে| রক্ষা পাচ্ছি আমরা| তোমাদের ঈশ্বর আমাদের রাজা!”
8 নগরের দ্বাররক্ষীরা চিত্কার করছে| তারা একত্রিত হয়ে পুনরায় আনন্দে মেতেছে! কেন? কারণ তারা সকলেই সিয়োনে প্রভুর প্রত্যাবর্তন দেখেছেন|
9 জেরুশালেম তোমার ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িতে আবার সুখ আসবে| তোমরা সবাই একসঙ্গে আনন্দিত হবে| কেন? কারণ প্রভু আবার জেরুশালেমের প্রতি উদার হবেন| প্রভু তাঁর লোকদের উদ্ধার করবেন|
10 প্রত্যেক জাতির ওপর প্রভু তাঁর পবিত্র ক্ষমতা দেখাবেন| প্রত্যেক জাতি দূরে থেকেও দেখতে পাবে ঈশ্বর তাঁর লোকদের রক্ষা করছেন|
11 তোমাদের বাবিল ত্যাগ করা উচিত্‌! উচিত্‌ ঐ স্থান ত্যাগ করা! যাজকরা তোমরা তোমাদের উপাসনার দ্রব্যসামগ্রী নিয়ে এসো| নিজেদের বিশুদ্ধ করে তোল| অশুদ্ধ জিনিস স্পর্শ করবে না|
12 তোমরা বাবিল ত্যাগ করবে| তবে তাড়াহুড়ো করে বাবিল ত্যাগ করার জন্য ওরা তোমাদের বাধ্য করবে না| তোমাদের পালিয়ে যেতে কেউ বাধ্য করবে না| তোমরা হেঁটে হেঁটে চলে যাবে এবং প্রভুও তোমার সঙ্গে হাঁটবেন| প্রভু তোমাদের সামনে থাকবেন এবং ইস্রায়েলের ঈশ্বর তোমাদের পিছনে থাকবেন|
13 “আমার দাসকে দেখো| সে জ্ঞান অর্জন ও শিক্ষাদানে খুবই সফল হবে| সে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে| ভবিষ্যতে লোকে তাকে প্রচুর শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাবে|
14 “কিন্তু আমার দাসকে দেখে অনেকের খুব মনোকষ্ট হবে| সে এত বাজে ভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল যে অনেকেরই তাকে মানুষ বলে চিনতে কষ্ট হবে|
15 এমনকি অনেক লোক বিহবল হয়ে যাবে এবং একটা কথাও বলতে পারবে না| রাজারা তাকে দেখে বিহবল হয়ে গিয়ে একটি কথাও বলতে পারবেন না| তারা আমার দাসের গল্প শোনেনি, কিন্তু কি ঘটেছিল তা দেখেছিল| সেই গল্প তারা শুনতে না পেলেও বুঝতে পারবে কি ঘটেছিল|”




অধ্যায় 53

1 কে সত্যিই বিশ্বাস করেছিল, আমাদের ঘোষণার কথা? কে সত্যি সত্যিই গ্রহণ করেছিল প্রভুর শাস্তি?
2 সে প্রভুর সামনে, ছোট গাছের মতে বড় হতে লাগল| সে ছিল শুকনো জমিতে গাছের শিকড়ের বড় হওয়ার মতো| তাকে দেখতে বিশেষ কিছু লাগত না| তার কোন বিশেষ মহিমা ছিল না| যদি আমরা তার দিকে তাকাতাম তবে তাকে ভালো লাগার মত বিশেষ কিছুই চোখে পড়ত না|
3 লোকে তাকে ঘৃণা করেছিল, তার বন্ধুরা তাকে ত্যাগ করেছিল| তার প্রচুর দুঃখ ছিল| অসুস্থতার বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা ছিল| লোকরা তার কাছ থেকে লুকিয়ে থাকত| আমরা তাকে ঘৃণা করতাম| আমরা তার কথা চিন্তাও করিনি|
4 কিন্তু সে আমাদের অসুখগুলোকে বয়ে বেড়িযে-ছিল| সে আমাদের যন্ত্রণা ভোগ করেছিল| এবং আমরা মনে করেছিলাম ঈশ্বর তাকে শাস্তি দিচ্ছেন| তার কোন কৃতকর্মের জন্য ঈশ্বর তাকে শাস্তি দিচ্ছেন বলে আমরা মনে করেছিলাম|
5 কিন্তু আমাদেরই ভুল কাজের জন্য তাকে আহত হতে হয়েছিল| আমাদের পাপের জন্য সে ক্ষত-বিক্ষত হয়েছিল| আমাদের কাঙ্খিত শাস্তি সে পেয়েছিল| তার আঘাতের জন্য আমাদের আঘাত সেরে উঠেছিল|
6 আমরা সবাই হারিযে যাওয়া মেষের মত ঘুরে বেড়িযেছিলাম| আমরা সবাই আমাদের নিজেদের পথে গিয়েছিলাম যখন প্রভু আমাদের সব শাস্তি তাকে দিয়ে ভোগ করাচ্ছিলেন|
7 তার সঙ্গে নিষ্ঠুর ব্যবহার করা হয়েছিল এবং সে আত্মসমর্পণ করেছিল| সে কখনও প্রতিবাদ করেনি| মেষকে যেমন হত্যার জন্য নিয়ে যাওয়া হলে সে নালিশ করে না তেমনি সেও চুপচাপ ছিল| মেষ যেমন তার পশম কাটার সময় কোন শব্দ করে না, সেও তেমনি তার মুখ খোলে নি|
8 মানুষ শক্তি প্রযোগ করে তাকে নিয়েছিল এবং তার প্রতি ন্যায্য বিচার করেনি| তাঁর ভবিষ্যত্‌ পরিবার সম্পর্কে কেউ কিছু বলেনি| কারণ সে জীবিতদের দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল| আমার লোকদের পাপের জন্য সে শাস্তি পেয়েছিল|
9 তার মৃত্যু হয়েছিল এবং ধনীদের সঙ্গে তাকে সমাহিত করা হয়েছিল| তাকে দুষ্ট লোকদের সঙ্গে সমাহিত করা হয়েছিল যদিও সে কোন হিংস্র কাজ করেনি| সে কখনও কাউকে প্রতারণা করেনি|
10 প্রভু তাকে মেরে পিষে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন| যদি সে দোষমোচনের বলি হিসেবে নিজেকে উত্সর্গ করে, সে তার সন্তানের মুখ দেখবে এবং দীর্ঘ দিন বাঁচবে| ঈশ্বরের অভিপ্রায় তার হাতে সফল হবে|
11 তার আত্মা বহু কষ্ট পেলেও সে অনেক ভালো জিনিস ঘটা দেখতে পাবে| সে যেসব জিনিস শিখেছে তা নিয়ে সন্তুষ্ট হবে| আমার ভালো দাসটি অনেক মানুষকে ধার্মিক করবে| সে তাদের অপরাধের দরুণ শাস্তি ভোগ করবে|
12 এই কারণে আমি তাকে অনেক লোকের মধ্যে পুরস্কৃত করব| যে সব লোকরা শক্তিশালী তাদের সঙ্গে সমস্ত জিনিসে তার অংশ থাকবে|আমি এটা তার জন্য করব কারণ সে লোকের জন্য নিজের জীবন উত্সর্গ করে মারা গিয়েছিল| তাকে এক জন অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হত| কিন্তু সত্যটা হল সে অনেক লোকের পাপ বহন করে ছিল| এবং এখন সে পাপী লোকদের সপক্ষে কথা বলছে|




অধ্যায় 54

1 মহিলারা সুখী হও! তোমাদের কোন সন্তান নেই কিন্তু তোমাদের সুখী হওয়া উচিত্‌| প্রভু বলেন, “যে মহিলা একা আছে সে ব্বিাহিত মহিলার চেয়েও বেশী সন্তান পাবে|”
2 তোমাদের তাঁবু বড় কর| দরজা বড় করে খুলে রাখো| নিজেদের ঘর বড় করবার কাজ বন্ধ রেখো না| তোমাদের তাঁবু শক্ত কর|
3 কেন? কারণ তোমাদের দ্রুত বৃদ্ধি হবে| তোমাদের শিশুরা অন্যান্য জাতিদের থেকেও মানুষ পাবে| তোমাদের শিশুরা ধ্বংসপ্রাপ্ত শহরেও বসবাস করবে|
4 ভীত হযো না! তোমরা হতাশ হবে না| তোমার বিরুদ্ধে লোকে বাজে কথা বলবে না| তোমরা কখনও বিব্রত হবে না| যখন ছোট ছিলে তোমরা লজ্জা পেতে| কিন্তু এখন তোমরা সেই লজ্জা ভুলে যাবে| স্বামী হারিযে তোমরা যে লজ্জা পেয়েছিলে সেই লজ্জার কথা তোমরা আর স্মরণ করবে না|
5 কেন? কারণ তোমার স্বামী সেই একজন (ঈশ্বর) যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন| তাঁর নাম সর্বশক্তিমান প্রভু| তিনি ইস্রায়েলের পরিত্রাতা| তিনি ইস্রায়েলের পবিত্রতম| তাকেই গোটা পৃথিবীর ঈশ্বর বলে ডাকা হবে|
6 তোমরা ছিলে স্বামী পরিত্যক্তা মহিলার মত! তোমরা মনে প্রাণে খুব দুঃখী থাকলেও প্রভু তোমাদের তাঁর মানুষ হবার ডাক দেন| তোমরা ছিলে স্বামী পরিত্যক্তা যুবতী স্ত্রীদের মতো| কিন্তু ঈশ্বর তোমাদের ডাক দিয়েছেন|
7 ঈশ্বর বলেন, “আমি তোমাদের অল্প সময়র জন্য ত্যাগ করেছিলাম| আমি তোমাদের নিজের আসনে আবার একত্রিত করব| আমি তোমাদের মহত্‌ উদারতা দেখাবো|
8 আমি রুদ্ধ হয়েছিলাম, তাই অল্প কালের জন্য আমি তোমাদের কাছ থেকে আমাকে লুকিয়ে রেখেছিলাম| তবে এখন সদয হয়ে চির কালের জন্য তোমাদের আরাম দেব|” তোমাদের পরিত্রাতা প্রভু এই সব বলেছেন|
9 ঈশ্বর বলেন, “নোহর সময়ের কথা স্মরণ কর| আমি পৃথিবীকে বন্যা দিয়ে শাস্তি দিই| কিন্তু আমি নোহকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম পুনরায় বন্যা দিয়ে পৃথিবীকে ধ্বংস করব না| ঠিক সে রকম তোমাদের কথা দিচ্ছি, তোমাদের ওপর আর রুদ্ধ হব না| তোমাদের আর কখনও বাজে কথা বলব না|”
10 প্রভু বলেন, “পর্বত অদৃশ্য হতে পারে| পাহাড় চূর্ণ হতে পারে| কিন্তু আমার দয়া তোমাদের থেকে দূরে যাবে না| তোমাদের শান্তি দেবো এবং এই শান্তি কখনও শেষ হবে না|” প্রভু তোমাদের ক্ষমা প্রদর্শন করে এই কথাগুলি বলেছিলেন|
11 “তুমি গরীব শহর! শএুরা ঝড়ের মত তোমার ওপর আছড়ে পড়েছিল| কোন ব্যক্তি তোমাদের আরাম দেয় নি| তোমাদের দেওয়ালে পাথর গাঁথবার জন্য আমি একটি সুন্দর মূল্যবান অলঙ্কার মিশ্রিত হামান ব্যবহার করব| এবং শিলান্যাসের সময় ব্যবহার করব নীলকান্তমণি পাথর|
12 প্রাচীরের মাথায় যে পাথর থাকবে তা বানানো হবে পান্না দিয়ে| ফটকে ব্যবহার করব উজ্জ্বল রত্ন| তোমার চারি দিকের প্রাচীরে ব্যবহার করব মূল্যবান রত্ন|
13 তোমার শিশুরা ঈশ্বরকে অনুসরণ করবে এবং তিনি তাদের শিক্ষা দেবেন| শিশুদের জন্য থাকবে প্রকৃত শান্তি|
14 তোমাদের ধার্মিকতা দিয়ে গড়া ও প্রতিষ্ঠা করা হবে| হিংসা ও বিদ্বেষ থেকে তুমি থাকবে নিরুপদ্রব| ভয়ের কিছু থাকবে না| কিছুই তোমাকে আঘাত করতে আসবে না|
15 আমার কোন সেনাদল তোমাকে আক্রমণ করবে না| যদিও বা করে তবে তুমি তাদের পরাস্ত করবে|
16 “দেখো, আমি কামারকে সৃষ্টি করেছি| সে আগুনে ফুঁ দিয়ে তাকে উত্তপ্ত করে| তারপর সে আগুন ব্যবহার করে গরম লোহার সাহায্যে নিজের ইচ্ছেমত যন্ত্র বানায়| ঠিক সে ভাবেই আমি সৃষ্টি করেছি ‘ধ্বংসকারকদের’ জিনিস ধ্বংস করার জন্য|
17 “মানুষ তোমাকে ধ্বংস করার জন্য অস্ত্র বানাবে| কিন্তু সেই অস্ত্রগুলি তোমাকে পরাস্ত করতে পারবে না| কেউ কেউ তোমার বিরুদ্ধে কথা বলবে| তবে যে যে লোক তোমার বিরুদ্ধে কথা বলছে তাদের ভুল বলে প্রমাণ করা হবে|”প্রভু বলেন, “প্রভুর দাসরা কি পায়? আমার কাছ থেকে আসা ভালো জিনিস তারা পায়!”




অধ্যায় 55

1 “আমার তৃষ্ণার্ত মানুষেরা এসে জল পান করো| নিজেদের অর্থ না থাকলেও বিষন্ন হযো না| যতক্ষণ না ক্ষুধা-তৃষ্ণা মেটে ততক্ষণ খাও এবং পান কর| খাদ্য ও দ্রাক্ষারসের জন্য কোন অর্থ লাগবে না|
2 সত্যি খাদ্য নয় এমন জিনিষের জন্য তোমরা কেন অর্থ নষ্ট করবে? তোমাদের সন্তষ্ট করে না এমন জিনিষের জন্য কেন কাজ করবে? আমার খুব কাছে এসে শোন, তোমরা খুব ভালো খাবার খাবে| তোমাদের আত্মা সন্তুষ্ট হবার মতো খাদ্য তোমরা ভোগ করবে|
3 “আমার কাছে এসে শোন আমি কি বলছি, তাহলে তোমাদের আত্মা বাঁচবে| আমি তোমাদের সঙ্গে চির কালের মত একটা চুক্তি করব| দাযূদের মত তোমাদের সঙ্গেও আমি চুক্তি করব| দাযূদের কাছে আমি প্রতিশ্রুতি করেছি চির কাল আমি ওকে ভালবাসব| চির কাল আমি তার প্রতি বিশ্বস্ত থাকব| তোমরা এই চুক্তির ওপর আস্থাশীল থাকতে পারো|
4 দাযূদকে আমি অন্যান্য জাতির জন্য সাক্ষী বানিয়েছি| আমি তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি বহু জাতির শাসক ও সেনাপতি বানিয়ে দেব|”
5 তোমাদের অচেনা স্থানেও অনেক জাতি আছে| তোমরা সেই সব জাতিদের ডাকবে| তারা তোমাদের না চিনলেও তোমাদের কাছে ছুটে যাবে| এসব ঘটবে কারণ তোমাদের প্রভু এইসব চান| এসব ঘটবে কারণ ইস্রায়েলের পবিত্র এক জন তোমাদের সম্মান করেন|
6 তাই তোমাদের উচিত্‌ বেশী দেরি না করে প্রভুর দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করা| তিনি এখন কাছে আছেন তোমাদের উচিত্‌ এখনই তাঁকে ডাকা|
7 দুষ্ট লোকদের দুষ্ট কাজ পরিত্যাগ করতে হবে| তাদের কু-চিন্তা ছেড়ে দিতে হবে| তাদের প্রভুর কাছে ফিরে আসতে হবে| ঈশ্বর তাদের ওপর করুণা করবেন| সেই লোকদের প্রভুর কাছে ফিরে আসা উচিত্‌; কারণ আমার ঈশ্বর ক্ষমা করেন|
8 প্রভু বলেন, “তোমাদের চিন্তা আর আমার চিন্তা এক নয়| তোমাদের রাস্তা আমার রাস্তার মত নয়|
9 পৃথিবীর থেকে স্বর্গ অনেক উঁচুতে| ঠিক সে রকমই তোমাদের থেকে আমার পথও অনেক উঁচু এবং চিন্তাও অনেক উঁচুতে বিচরণ করে|” প্রভু নিজে নিজেই একথা বলেন|
10 “বৃষ্টি ও বরফ কণা আকাশ থেকে পড়ে| এবং তা আর আকাশে ফিরে যায় না, যতক্ষণ না তারা মাটি স্পর্শ করে মাটিকে ভেজায| তখন মাটি গাছকে অঙ্কুরিত করে বড় করে তোলে| এই গাছগুলি কৃষকদের জন্য বীজ বানায়| আর লোকে এই বীজ ব্যবহার করে খাবার রুটি বানায়|
11 ঠিক সে ভাবেই আমার মুখ নিঃসৃত বাণী নিজেকে বাস্তবায়িত না করে ফিরে আসে না| আমি যা করতে চাই আমার কথা তাই করে| আমি যা করতে পাঠাই আমার কথা সফল ভাবে তাই করে ফিরে আসে|
12 তোমরা আনন্দের সঙ্গে চলে যাবে এবং শান্তিতে ফিরে আসবে| পাহাড়-পর্বত তোমাদের সামনে আনন্দে গান গেযে উঠতে শুরু করবে| মাঠের সব গাছ হাততালি দিয়ে উঠবে|
13 যেখানে যেখানে ঝোপঝাড় ছিল সেখানে সেখানে বেড়ে উঠবে বিশাল বিশাল দেবদারু গাছ| আগাছার স্থানে গজিযে উঠবে গুলমেঁদি গাছ| এই সব ঘটনা প্রভুকে বিখ্যাত করে তুলবে| এই সব ঘটনা প্রমাণ করবে যে প্রভু শক্তিশালী এবং এই প্রমাণ কখনই নষ্ট হবে না|”




অধ্যায় 56

1 প্রভু এইগুলি বলেছেন, “সব লোকের প্রতি ন্যায়পরায়ণ হও| সঠিক কাজ করো| কেন? কারণ আমার পরিত্রাণ শীঘ্র তোমাদের কাছে আসবে| গোটা বিশ্ব দেখবে আমার ধার্মিকতা|”
2 যে এই রকম করবে সে আনন্দিত হবে এবং এক জন লোক অবশ্যই এটাকে ধরে রাখবে| যে ঈশ্বরের বিশ্রামের দিনের বিধি মানবে সে আশীর্বাদপ্রাপ্ত হবে| যে কোন কুকর্ম করবে না সেও সুখী হবে|”
3 কিছু লোক যারা ইহুদী নয় তারা প্রভুর সঙ্গে যুক্ত হবে| ঐ লোকদের বলা উচিত্‌ নয়, “প্রভু আমাদের তাঁর লোক হিসেবে গ্রহণ করবেন না|” ঐ বিশেষ কতকগুলি এীতদাস যাদের নপুংসক করা হয়েছে তাদের বলা উচিত্‌ নয়, “আমি একটা শুকনো কাঠের টুকরো মাত্র, আমার কোন সন্তানের জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা নেই|”
4 এই নপুংসকদের একথা বলা উচিত্‌ নয়| কারণ প্রভু বলেন, “এই নপুংসকদের মধ্যে অনেকে আমার বিশ্রামের দিনের বিধি মেনে চলে| তারা আমার পছন্দের কাজ করে| তারা সত্যিই আমার চুক্তি মেনে চলে| তাই তাদের জন্য আমি মন্দিরে স্মারক স্থাপন করব| তাদের নাম আমার শহরে স্মরণ করা হবে| হ্যাঁ, আমি এই সব নপুংসকদের ছেলেমেয়েদের চেয়েও ভাল জিনিস দেব| আমি তাদের এমন একটি নাম দেব যা চির কাল থেকে যাবে| আমার লোকদের কাছ থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন করা হবে না|”
5
6 ইহুদী নয় এমন কেউ কেউ প্রভুর সঙ্গে যোগ দেবে| তারা এই সব করবে প্রভুর সেবার জন্য এবং তারা প্রভুর নামকে ভালবাসে বলে তারা প্রভুর সঙ্গে যোগ দেবে তার দাস হওয়ার জন্য| তারা বিশ্রামকে বিশেষ উপাসনার দিন হিসাবে রাখবে এবং আমার চুক্তি বিধি মেনে চলবে|
7 প্রভু বলেন, “আমি তাদের আমার পবিত্র পর্বতে নিয়ে আসব| আমার প্রার্থনাগৃহে তাদের সুখী করে তুলব| তাদের নৈবেদ্য ও উত্সর্গে আমি খুশি হব| কেন? কারণ আমার মন্দিরকে বলা হবে সব জাতির প্রার্থনাগৃহ|”
8 প্রভু, আমার সদাপ্রভু এই সব বলেছেন|ইস্রায়েলের লোকদের দেশত্যাগে বাধ্য করা হবে, কিন্তু প্রভু তাদের আবার একত্রিত করবেন| প্রভু বলেন, “আমি এই লোকদের আবার একত্রিত করব|”
9 অরণ্যের বন্য পশুরা এসে খাও!
10 এই রক্ষীরা (ভাব্বাদী) সবাই অন্ধ| তারা নিজেরাই জানে না যে তারা কি করছে| তারা সেই নীরব কুকুরের মতো, যারা ঘেউ ঘেউ করতে পারে না| তারা মাটিতে শুয়ে ঘুমিযে পড়ে| হায! তারা ঘুমোতে ভালবাসে|
11 তারা ক্ষুধার্ত কুকুরের মতো, তারা কখনই সন্তুষ্ট হয় না| মেষপালকরা জানে না তারা কি করছে| পথ ভোলা বিভ্রান্ত মেষদের মতোই তাদের অবস্থা| তারা লোভী| তারা নিজেরাই নিজেদের সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করছে|
12 তারা এসে বলল, “আমরা কিছুটা দ্রাক্ষারস পান করব| আমরা কিছুটা সুরা পান করব| একই জিনিস করবো আগামী কালও| এক মাত্র দ্রাক্ষারসই পান করে যাব আরো বেশী করে|”




অধ্যায় 57

1 সব ভালো লোকরা শেষ হয়ে গেছে কিন্তু কেউ লক্ষ্য করেনি| সমস্ত ভাল লোকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, কিন্তু কেউ জানে না কেন| এর কারণ হল মন্দ কাজ, যার জন্য ধার্মিক লোকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে|
2 কিন্তু শান্তি আসবে| এই লোকরা নিজেদের মৃত্যু শয়্য়ায বিশ্রাম খুঁজে নিতে পারবে| ঈশ্বর যে ভাবে চান তারা সেই ভাবেই জীবনযাপন করবে|
3 “তোমরা, ডাইনির বাচ্ছারা, এখানে এসো| এই যে ব্যাভিচারীর ও গণিকাদের বাচ্ছারা! তোমরা এখানে এসো!
4 তোমরা পাপী ও মিথ্য়েবাদী শিশু| তোমরা আমাকে নিয়ে মজা কর| তোমরা আমাকে মুখ ভেঙাও| আমাকে দেখে জিভ ভেঙাও|
5 প্রতিটি সবুজ গাছের নীচে তোমরা মূর্ত্তির পূজা করতে চাও| তোমরা শিশুদের হত্যা কর এবং তাদের উত্সর্গ কর পাথুরে জায়গায়|
6 তোমরা নদীর মসৃণ পাথরকে পূজা করতে ভালবাস| তোমরা তাদের পূজা করতে তাদের ওপর দ্রাক্ষারস ঢালো| তোমরা তাদের জন্য পশুবলি দাও| কিন্তু তোমরা যা পাবে তা হল শুধু এই পাথরগুলো| তোমরা কি মনে কর এতে আমি সুখী হই? না! এইসব আমাকে সুখী করে না!
7 তোমরা প্রতিটি পাহাড় পর্বতে শয়্য়া পেতেছ| যেগুলি হল মূর্ত্তির উপাসনা ক্ষেত্র|
8 তোমরা সেখানে গিয়ে শয়্য়া গ্রহণ করে ঐসব মূর্ত্তিগুলোর পূজা করে আমার বিরুদ্ধে পাপ কর| তোমরা ঐ মূর্ত্তিদের ভালোবাসো; ওদের উলঙ্গ দেহ দেখে মজা পাও| তোমরা আমার সঙ্গে থাকলেও এখন তোমরা আমাকে ত্যাগ করেছো ঐ মূর্ত্তিগুলোর কাছে থাকার জন্য| আমাকে স্মরণ করার জন্য যে সব জিনিস তোমাদের সাহায্য করত সেসব তোমরা লুকিয়ে রেখেছো| তোমরা ঐসব জিনিসগুলিকে দরজার পিছনে লুকিয়ে রেখেছ| তারপর তোমরা সেই মূর্ত্তিগুলোর সঙ্গে একটি চুক্তিবদ্ধ হয়েছো|
9 তোমাদের মূর্ত্তি মোলেকের জন্য তোমরা তোমাদের প্রসাধনী তেল এবং অন্যান্য জিনিষ ব্যবহার কর যাতে তোমাদের সুন্দর দেখায়| তোমরা তোমাদের বার্তাবাহকদের দূর দেশে পাঠিয়েছিলে| তোমরা এমনকি তাদের পাতালে পাঠিয়েছিলে, এটা তোমাদের মৃত্যুর স্থল|
10 “এই সব জিনিসগুলি করতে তুমি কঠোর পরিশ্রম করেছো| কিন্তু তোমরা কখনও ক্লান্ত হওনি, তোমরা নতুন শক্তি পেয়েছো| কারণ তোমরা ঐসব জিনিসগুলিকে উপভোগ করেছিলে|
11 তোমরা আমাকে স্মরণ করনি, তোমরা আমাকে লক্ষ্য করনি| তাহলে, কার জন্য তোমরা চিন্তায ছিলে? কার ভয়ে ভীত ছিলে? কেন মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছিলে? দেখ, আমি অনেকদিন ধরে শান্ত রয়েছি কিন্তু তুমি আমাকে শ্রদ্ধা করনি|
12 আমি তোমাদের বলতে পারতাম তোমাদের ‘ভালকাজ’ ও ‘ধর্মীয় কাজ’ এর বিষয়ে| বলতে পারতাম কিন্তু ঐসব অপ্রয়োজনীয়|
13 যখন তোমাদের সাহায্যের দরকার হত তখন তোমরা মূর্ত্তির সামনে, যাদের তোমরা তোমাদের চারপাশে জড়ো করেছ, কান্নাকাটি করতে| তাদের তোমাদের সাহায্য করতে দাও| কিন্তু আমি বলি, বাতাস তাদের অনেক দূরে নিয়ে চলে যাবে| আকস্মিক বাযুপ্রবাহে তারা সব চলে যাবে দূরে বহুদূরে| কিন্তু আমার প্রতি আস্থাশীল লোকরা আমার প্রতিশ্রুতি মতো দেশ পেয়ে যাবে| আমার পবিত্র পর্বত তাদের জন্য থাকবে|
14 রাস্তা পরিষ্কার করো! রাস্তা পরিষ্কার করো! আমার লোকদের রাস্তা থেকে বাধা সরাও|
15 ঈশ্বর ওপরে, আরো ওপরে| তিনি থাকবেন চিরকাল| তাঁর নাম পবিত্র| ঈশ্বর বলেন, আমি অনেক উঁচু ও পবিত্র স্থানে বাস করলেও যারা দুঃখীত ও বিনীত তাদের সঙ্গেও আমি থাকি| যাদের আত্মা অনিষ্টকারী তাদের আমি নতুন জীবন দেব| যাদের মনে দুঃখ রয়েছে আমি তাদের নতুন জীবন দেব|
16 আমি চিরকাল যুদ্ধ করব না| সব সময় আমি রুদ্ধ থাকব না| আমি যদি সব সময় রুদ্ধ থাকি তাহলে মানুষের আত্মা, যে জীবন আমি তাদের দিয়েছি সেটা আমার সামনে মরে যাবে| আমি তাদের তো নতুন জীবন দিয়েছি|
17 এই লোকরা খারাপ কাজ করেছিল বলে আমিই রুদ্ধ হয়েছিলাম| তাই আমি ইস্রায়েলকে শাস্তি দিয়েছিলাম এবং ইস্রায়েল আমাকে ত্যাগ করেছিল| সে তার ইচ্ছে মতো যেখানে খুশি চলে গিয়েছিল|
18 ইস্রায়েল কোথায় গিয়েছিল আমি দেখেছি| তাই আমি ইস্রায়েলকে ক্ষমা করব| আমি ইস্রায়েল এবং যারা তার জন্য বিলাপ করে তাদের নেতৃত্ব এবং আরাম দেব|
19 আমি তাদের নতুন শব্দ শেখাব ‘শান্তি|’ আমি আমার কাছের ও দূরের লোকেদের শান্তি দেব| আমি তাদের ক্ষমা করে দেবো!” প্রভু নিজে নিজেই এই কথা বলেন|
20 কিন্তু দুষ্ট লোকরা ঠিক একটি রুদ্ধ সমুদ্রের মতো| তারা শান্ত ও শান্তিপ্রিয হতে পারে না| তারাও সমুদ্রের মতো রুদ্ধ| এবং সমুদ্রের মতো তারাও কাদাকে আলোড়িত করে|
21 আমার ঈশ্বর বলেন, “দুষ্ট লোকদের শান্তি নেই|”




অধ্যায় 58

1 যত জোরে পারো চিত্কার করো! নিজেকে থামিয়ো না| শিঙার মতো চেঁচিয়ে ওঠো| মানুষকে তাদের ভুল কাজের কথা বলে দাও| যাকোবের পরিবারকে তাদের পাপের কথা জানিয়ে দাও!
2 তারা আমার খোঁজে প্রতিদিন আসে এবং আমার পথ শিখতে চায়, যেন তারা সঠিক পথের জাতি, যারা তাদের ঈশ্বরের বিধি অনুসরণ করা বন্ধ করেনি| তারা আমার কাছে তাদের ন্যায্য বিচার চায়| তারা ঈশ্বরকে কাছে পাবার ইচ্ছা করে|
3 এখন তারা বলে, “আপনাকে সম্মান জানাতে, আমরা খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি| আপনি কেন আমাদের দিকে তাকাচ্ছেন না? আমরা আপনাকে সম্মান জানাতে আমাদের শরীরকে আঘাত করছি| আপনি কেন আমাদের লক্ষ্য করছেন না?”কিন্তু প্রভু বলেন, “উপবাসের দিনগুলিতে তোমরা তোমাদের যা ইচ্ছে তাই করো| এবং তোমরা তোমাদের ভৃত্যদের কষ্ট দাও; নিজের শরীরকে নয়|
4 তোমরা ক্ষুধার্ত, কিন্তু খাদ্যের জন্য নয়| তোমাদের খিদে তর্ক আর যুদ্ধ করার জন্য, রুটির জন্য নয়| তোমরা তোমাদের শযতান হাত দিয়ে লোককে আঘাত করার জন্য ক্ষুধার্ত| তোমরা যখন খাওয়া বন্ধ করো সেটা আমার জন্য নয়| তোমরা আমার প্রশংসার জন্য তোমাদের কণ্ঠস্বর ব্যবহার করো না|
5 তোমরা কি মনে কর ঐসব বিশেষ দিনে আমি চাই তোমরা উপবাস করে নিজেদের শরীরকে কষ্ট দাও? তোমরা কি মনে কর, আমি তোমাদের দুঃখী দেখতে চাই? তোমরা কি মনে কর আমি তোমাদের একটি ঘাসের মত মাথা নোযাতে চাই? তোমরা কি মনে কর আমি তোমাদের শোকবস্ত্র পরাতে চাই? তোমরা কি মনে কর যে আমি চাই লোকরা ছাইযের ওপরে বসে তাদের দুঃখ দেখাক? খাবার না খেয়ে তোমরা তোমাদের বিশেষ দিনে তাই করো| তোমরা কি ভাবো যে সত্যিই প্রভু এসব চান?
6 “আমি তোমাদের জানাবো কোন ধরণের বিশেষ দিন আমি চাই, এটা লোকদের মুক্ত করার দিন| আমি একটা দিন চাই যেদিন তোমরা লোকদের তাদের বোঝার ভার থেকে মুক্তি দেবে| আমি চাই একটা দিন, যে দিন তোমরা লোককে কষ্ট মুক্ত করবে| আমি চাই একটা দিন যেদিন তোমরা মানুষের বোঝা নামিয়ে দেবে|
7 আমি চাই তোমরা তোমাদের খাদ্য ভাগ করে নেবে ক্ষুধার্ত মানুষের সঙ্গে| আমি চাই তোমরা গৃহহীনদের খুঁজে নিজের ঘরে নিয়ে এসে রাখো| কোন মানুষকে বস্ত্রহীন দেখলে তাকে নিজের পোশাক দেবে| তারাও তোমাদের মত, তাদের দেখে নিজেকে লুকিয়ে রেখো না|”
8 তোমরা যদি এই সব করো তবে তোমাদের আলো ভোরের আলোর মতো কিরণ দিতে শুরু করবে| তখন তোমাদের সব ক্ষত নিরাময় হবে| তোমাদের “ধার্মিকতা” (ঈশ্বর) তোমাদের সামনে দিয়ে হাঁটবে, এবং প্রভুর মহিমাাতোমাদের পেছন পেছন চলবে|
9 তখন তোমরা প্রভুর সঙ্গে কথাবার্তা চালাতে পারবে| প্রভু তোমাদের প্রশ্োনর জবাব দেবেন! তোমরা প্রভুর জন্য চিত্কার করবে এবং তিনি বলবেন, “আমি এই খানে|”তোমাদের উচিত্‌ অন্যের সমস্যা ও বোঝা বানানো বন্ধ করা| তোমাদের অন্যকে আঘাত করে বা দোষারোপ করে কথা বলা বন্ধ করা উচিত্‌|
10 ক্ষুধার্ত মানুষদের জন্য দুঃখী হয়ে তাদের খাদ্য দেওয়া উচিত্‌| যারা সমস্যায় পড়েছে তাদের প্রয়োজন মতো তোমাদের সাহায্য করা উচিত্‌| তাহলে অন্ধকারের মধ্যে তোমরা আলোর দিশা পাবে এবং তোমাদের কোন দুঃখ থাকবে না| দুপুরের সূর্য়ালোকের মতো উজ্জল হবে তোমরা|
11 প্রভু তোমাদের সর্বদা নেতৃত্ব দেবেন| শুকনো জমিতেও তিনি তোমাদের আত্মাকে সন্তুষ্ট করবেন| প্রভু তোমাদের হাড়কে শক্তি দেবেন| তোমরা যথেষ্ট জল পাওয়া বাগানের মতো| তোমরা হবে সর্বদা জলে ভরা ঝর্ণার মতো|
12 বহু বছর ধরে ধ্বংস হলেও তোমরা তোমাদের শহরগুলি পুর্নগঠন করবে এবং বহু বছর ধরে থেকে যাবে| তোমাদের বলা হবে “যারা বেড়া মেরামত করে” এবং “যারা রাস্তাসমূহ ও বাড়ীগুলি তৈরী করে|”
13 ঈশ্বরের বিশ্রামের বিরুদ্ধে পাপ বন্ধ করলেই এই সব ঘটবে| তোমাদের বন্ধ করতে হবে বিশেষ দিনে নিজেদের খুশির জন্য কাজকর্ম| তোমাদের বিশ্রামের দিনকে সুখের দিন বলা উচিত্‌| প্রভুর বিশেষ দিনকে তোমাদের সম্মান জানানো উচিত্‌| অন্যান্য দিনে তোমরা যেসব কথা বলো ও যেসব কাজ করো সেই সব বিশেষ দিনে তোমাদের তা বন্ধ রাখা উচিত্‌|
14 তখন তোমরা প্রভুকে তোমাদের প্রতি সদয হতে বলতে পারবে এবং তিনি তোমাদের পৃথিবী থেকে অনেক উঁচুতে নিয়ে যাবেন| তোমাদের পিতা যাকোবকে তিনি যা যা দিয়েছিলেন তোমাদেরও তাই দেবেন|প্রভু নিজেই এই সব বলেছেন|




অধ্যায় 59

1 দেখো, তোমাদের রক্ষা করার জন্য প্রভুর ক্ষমতাই যথেষ্ট| তোমরা যখনই তাঁর সাহায্য চাইবে তখনই তিনি তা শুনতে পান|
2 কিন্তু তোমাদের পাপ ঈশ্বর থেকে তোমাদের বিচ্ছিন্ন করেছে| প্রভু তোমাদের পাপ দেখে তোমাদের কাছ থেকে দূরে চলে যান|
3 তোমাদের হাত নোংরা এবং রক্তে ভেজা| তোমাদের আঙ্গুলগুলি অপরাধ দিয়ে আচ্ছাদিত| তোমরা তোমাদের মুখ দিয়ে বেশি মিথ্যা কথা বলো| তোমাদের জিহবা কু-কথা বলে|
4 কেউ অন্যের নামে সত্যি কথা বলে না| একে অন্যের বিরুদ্ধে আদালতে লড়াই করে এবং নিজেদের মামলা জিততে ভূযো তর্কের ওপর নির্ভর করে| একে অন্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলে| তারা সব সমস্যায় ভরা এবং তারা শযতানির জন্ম দেয়|
5 তারা বিষাক্ত সাপের ডিমের মতো শযতানির জন্ম দেয়| তোমরা যদি ঐ ডিমগুলির একটিও খাও তবে মৃত্যু অনিবার্য় এবং যদি একটি ডিম ভাঙো তাহলে বিষাক্ত সাপ বেরিয়ে আসবে| মিথ্যাবাদীদের কথা মাকড়সার জালের মতো|
6 এই জাল কাপড় বানানোর কাজে ব্যবহার করা যায় না| তোমরা এই সব জাল দিয়ে নিজেদের আবৃত করতে পার না|কিছু লোক দুষ্ট কাজ করে এবং অন্য লোকদের আঘাত করার জন্য তাদের হাত ব্যবহার করে|
7 তারা তাদের পা শযতানির পিছনে দৌড়বার কাজে ব্যবহার করে| যারা কোন ভুল কাজ করেনি তাদের হত্যা করবার জন্য তারা তাড়াহুড়ো করে| তারা শুধুই দুষ্ট চিন্তা করে| হিংস্রতা, চুরি-জোচচুরি হল তাদের এক মাত্র বাঁচার পথ|
8 তারা জানে না শান্তির পথ| তাদের মধ্যে এক জনও সত্‌ নয়| তারা খুব অসাধু জীবনযাপন করে| এবং যারা এই সব লোকদের মতো জীবনযাপন করে তারা সারা জীবন কখনও শান্তি পায় না|
9 সব সততা ও ধার্মিকতা অদৃশ্য হয়ছে| আমাদের কাছাকাছি রয়েছে কেবলই অন্ধকার| তাই আমরা আলোর জন্য অপেক্ষা করি কিন্তু তার পরিবর্তে আমরা অন্ধকার পাই, আমরা আশা করি উজ্জ্বল আলো আসবে, কিন্তু আমরা অন্ধকারে পথ চলি|
10 আমরা চোখহীন মানুষের মতো| অন্ধ লোকেদের মত আমরা দেওয়ালে ধাক্কা খাই| আমরা রাতের মতো হোঁচট খেয়ে পড়ে যাই| এমনকি দিবালোকেও দেখতে পাই না| দিন দুপুরে মরা মানুষের মতো পড়ে যাই|
11 আমরা সবাই খুব দুঃখিত, ঘুঘু ও ভাল্লুকের মতো দুঃখের শব্দ করি| আমরা মানুষের ন্যায়বোধের জন্য অপেক্ষা করছি| কিন্তু এখনও পর্য়ন্ত কোন ন্যায়বোধের লক্ষণ নেই| আমরা রক্ষা পাবার জন্য অপেক্ষা করছি| কিন্তু পরিত্রাণ এখনও অনেক দূরে|
12 কেন? কারণ আমরা আমাদের ঈশ্বরের প্রতি অনেক অনেক খারাপ কাজ করেছি| আমাদের পাপ দেখিয়ে দিচ্ছে যে আমরা ভুল করেছি| আমরা জানি এসব করে আমরা দোষী হয়েছি|
13 আমরা পাপ করে প্রভুর কাছ থেকে সরে গিয়েছি| আমরা তাঁর থেকে দূরে চলে গিয়েছি, তাঁকে ত্যাগ করেছি| আমাদের পাপ প্রমাণ করে যে আমরা দোষী| আমরা জানি যে এই সব কাজ করে আমরা দোষ করেছি| আমরা পাপ করেছি এবং প্রভুর বিরুদ্ধাচরণ করেছি| আমরা তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করে তাঁকে ত্যাগ করেছি| আমরা ঈশ্বরের বিরুদ্ধে খারাপ কাজের পরিকল্পনা করেছি| আমরা এই সব জিনিসগুলির কথা ভেবেছি এবং মনে মনে তার পরিকল্পনা করেছি|
14 আমরা বিচারবোধশূন্য হয়ে পড়েছি| ন্যায়বোধ চলে গেছে অনেক দূরে| সত্য রাস্তায় হোঁচট খেয়ে পড়েছে| ধার্মিকতাকে শহরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না|
15 সত্য অন্তর্হিত হয়েছে| যারা ভাল করতে চায় তাদের আক্রমণ করা হচ্ছে| প্রভু লক্ষ্য রাখলেও তিনি কোন ন্যায় দেখতে পাচ্ছেন না| প্রভু এই সব পছন্দ করেন না|
16 প্রভু দেখে অবাক হচ্ছেন যে মানব জাতির স্বপক্ষে বলবার জন্য কেউ দাঁড়াচ্ছে না| তাই প্রভু তাঁর নিজের ক্ষমতা ও ধার্মিকতা দ্বারা বিজয়ী হচ্ছেন| তিনি সমর্থন পাচ্ছেন, তাঁর নিজের মহত্ত্বের দ্বারা|
17 প্রভু যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন| তিনি পরেন ধার্মিকতার বর্ম, মুক্তির শিরস্ত্রাণ, শাস্তির পোশাক-সমূহ ও তাঁর দৃঢ় আগ্রহশীলতার আবরণ|
18 প্রভু নিজের শএুদের প্রতি রুদ্ধ| অতএব তিনি তাদের উপযুক্ত শাস্তি দেবেন| প্রভু তাঁর শএুদের ওপর রুদ্ধ| তাই তিনি দূরবর্তী এলাকার লোকদের শাস্তি দেবেন|
19 পশ্চিমের লোকরা প্রভুকে ভয় পাবে এবং প্রভুর নামের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে| পূর্বের লোকরা তাকে ভয় পাবে এবং তারা প্রভুর মহিমাকে শ্রদ্ধা করবে| প্রভু ঈশ্বরের বাতাসের জোরে বহমান খরস্রোতা নদীর মতো দ্রুত আসবেন|
20 তখন সিয়োনে এক জন পরিত্রাতা আসবে| তিনি যাকোবের লোকদের কাছে আসবেন যারা পাপ কাজ করেও ঈশ্বরের কাছে ফিরে এসেছে|
21 প্রভু বলেন, “ঐসব লোকদের সঙ্গে আমি একটা চুক্তি করব| আমি প্রতিশ্রুতি করছি যে, আমার আত্মা ও আমার বাক্য যেগুলি আমি তোমাদের মুখে দিচ্ছি সেগুলো তোমাদের ত্যাগ করবে না| সে সব তোমাদের সন্তান ও তাদের সন্তানদের মধ্যেও থেকে যাবে| সেইসব তোমাদের মধ্যে এখন থেকে চির কাল থেকে যাবে|”




অধ্যায় 60

1 “জেরুশালেম, আমার আলো উঠে পড়! তোমার আলো (ঈশ্বর) আসছেন| তোমার উপর প্রভুর মহিমা প্রতিভাত হবে|
2 অন্ধকার পৃথিবীকে ঢেকে দিয়েছে| লোকরা অন্ধকারাচ্ছন্ন| কিন্তু প্রভু তোমার উপর তাঁর কিরণ বিকীরণ করবেন| তাঁর মহিমা তোমার উপর দেখা যাবে|
3 সব জাতি তোমার আলোর কাছে আসবে| রাজারাও তোমার উজ্জ্বল আলোর (ঈশ্বর) কাছে আসবেন|
4 তোমার চার পাশে দেখো! দেখ, লোকরা তোমার চারপাশে জড়ো হচ্ছে এবং তোমার কাছে আসছে| তোমার পুত্রদের সঙ্গে দূর দূরান্ত থেকে কন্যারাও আসছে|
5 ভবিষ্যতে এসব ঘটবে এবং সেই সময় তুমি তোমার লোকদের দেখতে পাবে| তোমার মুখে সুখের বহিঃপ্রকাশ থাকবে| প্রথম তুমি ভীত হলেও পরে উচ্ছসিত হয়ে উঠবে| সাগর পারের সমস্ত ধনসম্পদ তোমার সামনে রাখা হবে| জাতিসমূহের ধনসম্পদও তোমার কাছে পৌঁছবে|
6 মিদিযন ও ঐফা থেকে উটের দল তোমার জমি পার হবে| শিবা থেকে দীর্ঘ উটের সারি আসবে তোমার কাছে| তারা বয়ে আনবে সোনা ও ধূপ| তারা প্রভুর প্রশংসা করে গান গাইবে|
7 লোকরা কেদরের সমস্ত মেষকে একত্রিত করে তোমাকে এনে দেবে| নবাযোত থেকে তারা মেষও আনবে| তুমি সেগুলি আমার বেদীতে নৈবেদ্য হিসাবে দেবে| এবং আমি তা গ্রহণ করব| আমি আমার মন্দির আরও সুন্দর করে বানিয়ে তুলবো|
8 লোকের দিকে তাকাও| আকাশে দ্রুত পার হয়ে যাওয়া মেঘের মতো তারা তোমার দিকে অগ্রসর হচ্ছে| তারা হল খুব দ্রুত বাসায উড়ে যাওয়া ঘুঘু পাখীদের মত|
9 দূরবর্তী এলাকায লোকরা আমার জন্য অপেক্ষা করছে| বিশাল যাত্রীবাহী জাহাজগুলি জলযাত্রার জন্য প্রস্তুত| এই জাহাজগুলি তোমাদের ছেলেমেয়েদের দূরদেশ থেকে আনার প্রতিক্ষায রয়েছে| তারা তাদের ঈশ্বর ইস্রায়েলের পবিত্র একজনকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সোনা এবং রূপো নিয়ে আসবে| প্রভু তোমাদের জন্য চমত্কার কাজ করবেন|
10 অন্য দেশের ছেলেমেয়েরা তোমাদের প্রাচীরগুলো আবার গড়ে তুলবে| তাদের রাজারা তোমাদের সেবা করবে| “আমি যখন তোমাদের উপর রুদ্ধ ছিলাম, তখন আমি তোমাদের শাস্তি দিয়েছিলাম| কিন্তু এখন তোমরা আমার স্বপক্ষে, এবং আমি তোমাদের জন্য করুণাময় হব|
11 তোমার ফটক সব সময় খোলা থাকবে| সেগুলি দিনরাত কখনই বন্ধ হবে না| সব জাতি ও রাজারা তোমাকে তাদের সম্পদ দেবে|
12 কোন জাতি বা দেশ যদি তোমার সেবা না করে তবে তারা ধ্বংস হয়ে যাবে|
13 লিবানোনের সব মহত্‌ দ্রব্যই তুমি পাবে| লোকরা তোমাকে পাইন, ফার ও সাইপ্রাসের মতো মূল্যবান গাছ দেবে| এই গাছগুলি জেরুশালেমে আমার জেরুশালেমস্থিত উপাসনাগৃহকে আরও সুন্দর করে তৈরি করতে ব্যবহৃত হবে| এই জায়গাটা আমার সিংহাসনের সামনে চৌকির মতো হবে| এবং আমি এই জায়গাটিকে যথেষ্ট সম্মান দেব|
14 অতীতে যারা তোমাকে কষ্ট দিয়েছে তারা এখন তোমার সামনে মাথা নত করবে| অতীতে যারা তোমাকে ঘৃণা করত তারা এখন তোমার পায়ে মাথা নত করবে| তারা তোমাকে ডাকবে, ‘প্রভুর নগরী!’ ‘ইস্রায়েলের পবিত্র এক জনের সিয়োন|”‘
15 “তুমি আর কখনও পরিত্যক্ত হবে না| তুমি পুনরায় ঘৃণার পাত্র হবে না| তুমি কখনও শূন্য হবে না| আমি তোমাকে চির কালের জন্য মহান করে দেব| তুমি চির কালের জন্য এখন থেকেই সুখী হবে|
16 জাতিগুলি তোমার রয়োজনীয় সব কিছুই দেবে| তুমি হবে মাতৃদু3পাযী শিশুর মতো| কিন্তু তুমি রাজার ধন ‘পান’ করবে| তখন তুমি বুঝবে যে তিনি আমি, প্রভু, যিনি তোমাকে রক্ষা করেন| তুমি জানতে পারবে যাকোবের মহান ঈশ্বর তোমার পরিত্রাতা|
17 “এখন তোমার তামা রয়েছে| আমি তোমাকে সোনা এনে দেব| এখন তোমার লোহা রয়েছে| আমি তোমাকে দেব রূপা| আমি তোমার কাঠকে তামায পরিণত করব| আমি তোমার পাথরকে লোহাতে পরিণত করব| আমি তোমার শাস্তিকে শান্তিতে রূপান্তরিত করব| এখন তোমাকে লোকরা কষ্ট দিলেও পরে তারাই তোমার জন্য ভাল ভাল কাজ করবে|
18 “তোমার দেশে আর কখনও হিংসাত্মক ঘটনার খবর থাকবে না| লোকে আর তোমাকে বা তোমার দেশকে আক্রমণ করবে না| তুমি তোমার প্রাচীর সমূহের নাম দেবে ‘পরিত্রাণ’ এবং তোমার ফটকগুলির নাম দেবে ‘প্রশংসা|’
19 “দিনের বেলায় সূর্য় আর কখনও তোমার আলো হবে না| রাত্রে আর কখনও চাঁদ তোমার আলো হবে না| কারণ প্রভুই তোমার চির কালের আলো| তোমার ঈশ্বরই তোমার জ্যোতি|
20 তোমার ‘সূর্য়’ কখনও অস্তমিত হবে না| তোমার ‘চাঁদ’ আর কখনও অন্ধকার হবে না| কারণ প্রভু চির কালের জন্য তোমার আলো হবেন এবং শোকের সময় শেষ হবে|
21 “তোমার সব লোক ভাল হবে| তারা পৃথিবীকে চির কালের জন্য পাবে| তাদের আমি সৃষ্টি করেছি| তারা আমার নিজের হাতে গড়ে তোলা চমত্কার বৃক্ষ|
22 সব চাইতে ছোট্ট পরিবার হবে বড় পরিবারগোষ্ঠী| ক্ষুদ্রতম পরিবার হবে শক্তিশালী জাতি| সঠিক সময়ে, আমি প্রভু দ্রুত চলে আসব| আমি এই সব ঘটনাগুলো ঘটাব|”




অধ্যায় 61

1 প্রভুর দাস বলেন, “প্রভু, আমার সদাপ্রভু, তাঁর আত্মা আমার মধ্যে দিয়েছেন|’ গরীবদের সঙ্গে কথা বলবার জন্য, তাদের ভগ্নহৃদয়ের ক্ষতে বন্ধনী জড়াবার জন্য এবং দুঃখীকে আরাম দেবার জন্য প্রভু আমাকে মনোনীত করেছেন| ঈশ্বর আমাকে পাঠিয়েছেন নির্য়াতিতদের ও বন্দীদের জানাতে যে, তারা মুক্ত হচ্ছে|
2 ঈশ্বর আমাকে পাঠিয়েছেন তাঁর উদারতা কখন দেখা যাবে সে সময়ের কথা ঘোষণা করার জন্য| দুষ্ট লোকদের তাদের শাস্তির সময় ঘোষণা করবার জন্য প্রভু আমাকে পাঠিয়েছেন |ঈশ্বর আমাকে পাঠিয়েছেন দুঃখীদের স্বস্তি দিতে|
3 ঈশ্বর আমাকে সিয়োনের বিমর্ষ লোকদের কাছে পাঠিয়েছেন| আমি তাদের তা ভোগ করার জন্য প্রস্তুত করে তুলব| আমি তাদের মাথার ছাই দূরে সরিয়ে দেব| আমি তাদের রাজমুকুট দেব| আমি তাদের দুঃখকে সরিয়ে দিয়ে সুখের তেল দেব| আমি তাদের দুঃখ দূর করব এবং উপাচারের বস্ত্র দেব| ঈশ্বর আমাকে পাঠিয়েছেন এই সব লোকদের ‘ভাল বৃক্ষ’ এবং ‘প্রভুর বিস্মযকর চারা গাছ’ হিসেবে নাম দিতে|
4 “সেই সময় যে সব পুরানো শহরগুলি ধ্বংস হয়েছিল তা আবার নতুন করে গড়ে উঠবে| সেই শহরগুলি প্রারম্ভিক সৃষ্টির সময়ের মত আবার নতুন হয়ে উঠবে| শহরগুলি বহুকাল আগে ধ্বংস হয়েছিল| কিন্তু আবার তা নতুন করে গড়ে উঠবে|
5 “তখন তোমার শএুরা তোমার কাছে এসে মেষদের যত্ন নেবে| তোমার শএুদের শিশুরা তোমার মাঠে ও বাগানে কাজ করবে|
6 তোমাকে বলা হবে ‘প্রভুর যাজক|’ ‘আমাদের ঈশ্বরের দাস|’ পৃথিবীর সব জাতিদের ধনসম্পদ তুমি পাবে এবং এর জন্য তুমি গর্বিত হবে|
7 “অতীতে, লোকে তোমাকে লজ্জায ফেলত এবং তোমার কাছে খারাপ কথা বলত| তুমি অন্য লোকদের চেয়ে অনেক বেশী লজ্জিত হয়েছিলে| তাই তুমি অন্যদের তুলনায় তোমার ভূখণ্ডে দ্বিগুণ সুবিধা পাবে| তুমি চির কালের জন্য সুখ পাবে|
8 এসব কেন ঘটবে? কারণ আমি প্রভুর ধার্মিকতা ও ন্যায়বোধকে ভালবাসি| আমি চুরি করা এবং অন্যান্য মন্দ কাজকে ঘৃণা করি| তাই আমি লোকেদের তাদের প্রাপ্য পুরস্কার দেব| আমি চির কালের মতো আমার লোকদের সঙ্গে একটি চুক্তি করব|
9 সব জাতির প্রতিটি লোক আমার লোকদের জানবে| যারাই তাদের দেখবে, জানতে পারবে যে প্রভুই তাদের আশীর্বাদ করেছেন|”
10 “প্রভু আমাকে খুব সুখী করেছেন| আমার সমগ্র সত্ত্বা আমার ঈশ্বরে সুখী| ঈশ্বর আমাকে পরিত্রাণের বস্ত্র পরিযেছেন| এটা হচ্ছে যেমন এক জন বিয়ের বর নিজেকে মালা দিয়ে সাজায সেই রকম| ঈশ্বর আমার ওপর ধার্মিকতার আবরণ বস্ত্র পরিযেছেন| যেন বিয়ের বধূ ব্বিাহের চমত্কার পোশাক পরেছে|
11 পৃথিবীই গাছদের জন্মানোর কারণ| লোকরা বাগানে বীজ লাগায এবং বাগান তাদের বড় করে তোলে| একই রকম ভাবে প্রভু ধার্মিকতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবেন| প্রভু সমস্ত জাতির সামনে প্রশংসাকে বৃদ্ধি করবেন|”




অধ্যায় 62

1 “সিয়োনকে আমি ভালবাসি, তাই আমি তার জন্য কথা বলে যাব| জেরুশালেমকে আমি ভালবাসি, তাই আমি কথা বন্ধ করব না| যতক্ষণ না ধার্মিকতা উজ্জ্বল আলোর মতো কিরণ দেয় ততক্ষণ আমি কথা বলে যাব| অগ্নিশিখার মত পরিত্রাণ জ্বলে না ওঠা পর্য়ন্ত আমি কথা বলব|
2 তখন সব জাতি তোমার ধার্মিকতা দেখতে পাবে| সমস্ত রাজারা তোমাকে সম্মান দেখাবে| তখন তোমার নতুন নাম হবে| প্রভু নিজেই সেই নাম দেবেন|
3 প্রভু তোমার জন্য গর্বিত হবেন| তুমি হবে প্রভুর হাতের সুন্দর মুকুটের মত|
4 তোমাকে আর কেউ ত্যাজ্য লোক বলবে না| তোমার ভূমিকে কেউ ‘ধ্বংসস্থান’ বলবে না| তারা তোমাকে বলবে, ‘ভালোবাসার লোক|’ তোমার দেশকে বলা হবে, ‘কনে|’ কেন? কারণ ঈশ্বর তোমাদের ভালবাসেন| তোমাদের দেশ ব্বিাহিত হবে|
5 যখন কোন যুবক কোন যুবতীকে ভালবাসে তখন সে তাকে বিয়ে করে এবং যুবতীটি বিয়ের পর তার স্ত্রী হয়| একই পথে তোমার জমি হবে তোমার শিশুদের| এক জন লোক তার নতুন স্ত্রীকে পেয়ে খুব খুশী হয়| একই রকম ভাবে, ঈশ্বরও তোমাদের নিয়ে খুব সুখী হবেন|”
6 “জেরুশালেম, তোমার প্রাচীরে আমি রক্ষী মোতাযেন করব| সেই রক্ষীরা নীরব থাকবে না| তারা দিন রাত প্রার্থনা করবে|” রক্ষীরা, তোমরা প্রভুর প্রতি প্রার্থনা অব্যাহত রেখো| তোমরা অবশ্যই তাকে তাঁর প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিযে দেবে| কখনই প্রার্থনা থামাবে না|
7 যতক্ষণ না প্রভু জেরুশালেমকে লোকের প্রশংসার শহর করে তুলছেন ততক্ষণ তুমি প্রার্থনা চালাবে| প্রভু একটি প্রতিশ্রুতি করেছেন| প্রভু প্রমাণ হিসেবে তাঁর নিজের ক্ষমতা প্রযোগ করবেন| এবং প্রতিশ্রুতি পালনে নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করবেন|
8 প্রভু বলেছেন, “আমি আর কখনও তোমার খাদ্য শএুদের দেবো না| আমি প্রতিশ্রুতি করছি তোমার তৈরি দ্রাক্ষারস শএুরা আর নেবে না|
9 যে সব লোকরা শস্য সংগ্রহ করবে তারাই তা খাবে এবং এই সব লোকরা প্রভুর প্রশংসা করবে| যে সব লোকরা দ্রাক্ষা সংগ্রহ করবে তারাই দ্রাক্ষা থেকে উত্পন্ন দ্রাক্ষারস পান করতে পারবে| এই সবই আমার পবিত্রস্থানে ঘটবে|”
10 ফটক দিয়ে এসো! পথটাকে লোকদের জন্য পরিষ্কার করো| রাস্তা প্রস্তুত করো| রাস্তার পাথর সরিয়ে দাও| মনুষ্যজাতির জন্য প্রতীক হিসাবে ধ্বজাটি ওড়াও|
11 শোন, প্রভু দূরবর্তী দেশগুলির লোকদের বলেছেন, “সিয়োনের লোকদের বল: দেখ, তোমাদের পরিত্রাতা আসছেন| তিনি তোমাদের পুরস্কার আনছেন| তিনি সেই পুরস্কার সঙ্গে করে আনছেন|”
12 তাঁর লোকদের বলা হবে “পবিত্র লোক|” “প্রভুর রক্ষা করা মানুষ|” জেরুশালেমকে বলা হবে, “আকাঙ্খিত শহর|” “সেই শহর যা পরিত্যাগ করা হয়নি|”




অধ্যায় 63

1 ইদোম থেকে কে আসছে? তিনি আসছেন বস্রা শহর থেকে| এবং তাঁর বস্ত্র উজ্জ্বল লাল রঙে রঞ্জিত| তাঁকে তাঁর বস্ত্রে মহিমান্বিত দেখাচ্ছে| তিনি তাঁর মহান ক্ষমতাবলে মাথা উঁচু করে হাঁটছেন| তিনি বলেন, “তোমাদের রক্ষা করার ক্ষমতা আমার আছে এবং আমি সত্য কথা বলব|”
2 “কেন আপনার বস্ত্র লাল? দ্রাক্ষাফল থেকে যারা দ্রাক্ষারস বানায় তাদের মত লাল!”
3 তাঁর জবাব, “আমি দ্রাক্ষারস বানাবার জায়গায়, যেখানে দ্রাক্ষাফল পা দিয়ে চটকিযে রস বের করা হয়, সেখানে হেঁটেছি| আমাকে কেউ সাহায্য করেনি| আমি রুদ্ধ ছিলাম এবং দ্রাক্ষার ওপর দিয়ে হেঁটে যাই| সেই রসআমার কাপড়ের ওপর ছলকে পড়েছিল| তাই এখন আমার বস্ত্র নোংরা|
4 আমি লোককে শাস্তি দিতে একটা সময় বেছে নিয়েছি| এখন আমার লোকদের রক্ষা করার সময় এসেছে|
5 আমি চারি দিকে তাকালাম| কিন্তু আমাকে সাহায্য করার মত কাউকে দেখলাম না| আমি এটা দেখে আশ্চর্য়্য় হয়ে গেলাম যে কেউ আমাকে সমর্থন করল না| তাই আমি আমার লোকদের রক্ষা করতে আমার নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করেছিলাম| আমার নিজের রোধ আমাকে সমর্থন করেছিল|
6 যখন আমি রুদ্ধ ছিলাম, তখন মানুষের ওপর দিয়ে হেঁটে গিয়েছি| আমি যখন রাগে উন্মত্ত ছিলাম আমি তাদের শাস্তি দিয়েছি এবং তাদের রক্ত মাটিতে ফেলেছি|”
7 আমি স্মরণ করব যে প্রভু উদার| আমি তাঁকে প্রশংসা করবার কথা স্মরণ করব| ইস্রায়েলের পরিবারকে প্রভু অনেক ভাল জিনিস দিয়েছেন| প্রভু আমাদের ওপর খুব সদয| প্রভু আমাদের ক্ষমা প্রদর্শন করেছেন|
8 প্রভু বলেন, “এরা সবাই আমার লোক| এরা সত্যই আমার শিশু|” তাই প্রভু এদের রক্ষা করেছেন|
9 তাদের সমস্ত বিপদে, তিনিও তাদের সাথে উদ্বিগ্ন ছিলেন| প্রভু এই সব লোকদের ভালবাসতেন এবং তাদের জন্য দুঃখ বোধ করতেন| তাই প্রভু তাদের রক্ষা করেন| তাই তিনি তাদের রক্ষা করতে তাঁর বিশেষ দূত পাঠিয়েছিলেন| তিনি তাদের উঠিযে বয়ে নিয়ে যান এবং চির কালের জন্য তাঁদের যত্ন নেন|
10 কিন্তু মানুষ তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করে| তারা তাঁর পবিত্র আত্মাকে দুঃখী করে তুলেছিল| তাই প্রভু তাদের শএু হয়ে গিয়েছিলেন| প্রভু তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন|
11 কিন্তু প্রভু এখনও স্মরণ করেন বহুকাল আগে কি ঘটেছিল| তিনি স্মরণ করেন মোশি ও তাঁর লোকদের| প্রভু সেই এক জন যিনি মানুষকে সমুদ্রের মধ্য দিয়ে নিয়ে এসেছেন| প্রভু তাঁর লোকদের নেতৃত্ব দেবার কাজে মেষপালকদের ব্যবহার করেছেন| কিন্তু মোশির মধ্যে তাঁর আত্মা সঞ্চার কারী প্রভু এখন কোথায়?
12 প্রভু তাঁর ডান হাত দিয়ে মোশিকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন| প্রভু মানুষকে সমুদ্রের মধ্যে দিয়ে হাঁটার জন্য জলকে দুভাগ করে দেন| এই সব মহত্‌ কাজ করে প্রভু নিজেকে বিখ্যাত করে তোলেন|
13 গভীর সমুদ্রের মধ্য দিয়ে প্রভু তাঁর লোকদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন| ঘোড়ারা যেমন করে মরুভূমি পার হয়, তেমনি করে লোকরা পড়ে না গিয়ে হেঁটেছিল|
14 মাঠে বিচরণের সময় গরু যেমন পড়ে যায় না তেমনি সমুদ্রের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময়ও লোকেরা পড়ে যায়নি| লোকদের বিশ্রামস্থলের দিকে প্রভুর আত্মা নিয়ে যায়| সর্বদাই লোকরা সেখানে নিরাপদে ছিল| প্রভু সেই পথেই তাঁর লোকদের নেতৃত্ব দিয়েছেন| আপনি নেতৃত্ব দিয়ে নিজের নামকে চমত্‌কৃত করে তুলেছেন|
15 প্রভু, স্বর্গ থেকে নিজে তাকিযে দেখুন| এখন কি ঘটে চলেছে? আপনি স্বর্গস্থিত আপনার পবিত্র আবাস থেকে আমাদের দেখুন| আমাদের প্রতি আপনার সেই গভীর প্রেম কোথায়? আপনার ভিতর থেকে বের হয়ে আসা শক্তিশালী কর্মকাণ্ড কোথায়? আমার জন্য আপনার ক্ষমা কোথায়? আমার থেকে কেন আপনার উদার প্রেম সরিয়ে রেখেছেন?
16 দেখুন, আপনি আমাদের পিতা! অব্রাহাম আমাদের জানে না| ইস্রায়েল (যাকোব) আমাদের স্বীকার করে না| প্রভু, আপনি আমাদের পিতা! আপনি আমাদের ঈশ্বর যিনি সর্বদা আমাদের রক্ষা করেন|
17 প্রভু, কেন আপনি আমাদের আপনার কাছ থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছেন? কেন আপনি আপনাকে অনুসরণ করা আমাদের পক্ষে কঠিন করে তুলেছেন? প্রভু আমাদের কাছে ফিরে আসুন| আমরা আপনার দাস| আমাদের কাছে এসে আমাদের সাহায্য করুন| আমাদের পরিবারসমূহ আপনার অধিকারভুক্ত|
18 আপনার পবিত্র লোকরা মাত্র কিছু সময়ের জন্য তাদের জায়গায় বাস করত| তখন আমাদের শএুরা আপনার পবিত্র মন্দিরের ওপর দিয়ে হেঁটে গিয়েছিল|
19 বহু কাল ধরে আমরা সেই লোক ছিলাম যারা আপনার দ্বারা শাসিত ছিলাম না| যাদের আপনার নামে ডাকা হয়নি| কেন আপনি আকাশ ছিন্ন করে নেমে আসেন না? তাহলে পর্বতগুলি আপনার সামনে কাঁপবে|




অধ্যায় 64

1 আপনি যদি আকাশ ছিঁড়ে খুলে ফেলে পৃথিবীতে এসে পড়েন তবে সব পরিবর্তন হয়ে যাবে| পাহাড় আপনার সামনে গলে যাবে|
2 জ্বলন্ত গুল্মলতার মতো পাহাড় পুড়বে| আগুনের ওপর জলের মতো পাহাড় সেদ্ধ হবে| তখন আপনার শএুরা আপনার বিষয়ে জানতে পারবে| তারা যখন আপনাকে দেখবে তখন প্রত্যেক জাতিই ভয় পাবে|
3 কিন্তু সত্যিই আমরা এসব চাই না| আপনার সামনে পাহাড় গলে যাবে|
4 আপনার লোকরা সত্যিই আপনার কথা শোনেনি| আপনার লোকরা কখনও আপনার কথা শোনেনি| কেউ কখনও আপনার মতো এক জন ঈশ্বর দেখেনি| আপনিই একমাত্র, আর কোন ঈশ্বর নেই| যদি লোকরা ধৈর্য়্য় সহকারে আপনার সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করে তবেই আপনি তাদের জন্য মহান কাজ করবেন|
5 যারা ভাল কাজ করে তাদের সঙ্গেই আপনি থাকেন| যে পথে আপনি চান সেই পথেই তাঁরা জীবনযাপন করেন| কিন্তু অতীতে আমরা পাপ করেছি এবং তাই আপনি রুদ্ধ ছিলেন| কিন্তু এখন আমরা কি ভাবে রক্ষা পাবো?
6 আমরা সবাই পাপের জন্য নোংরা হয়ে উঠেছি| এমন কি আমাদের ভাল কাজও অশুদ্ধ| আমাদের ভালো কাজগুলো রক্তে রঞ্জিত পোশাকের মত| আমরা সবাই মরা পাতার মত| আমাদের পাপ আমাদের বাতাসের মতো বয়ে নিয়ে চলেছে|
7 আমরা আপনার উপাসনা করি না| আমরা আপনার নামে বিশ্বাস রাখি না| আমরা আপনাকে অনুসরণ করতে উত্সাহিত নই| তাই আপনি আপনার মুখ আমাদের কাছ থেকে লুকিয়ে রেখেছেন| আপনি আমাদের পাপের জন্য আমাদের গলিযে দিয়েছেন|
8 কিন্তু প্রভু আপনি আমাদের পিতা| আমরা মাটির পিণ্ডের মতো এবং আপনি মৃত্‌শিল্পী| আপনার হাত আমাদের সৃষ্টি করেছে|
9 প্রভু, আমাদের ওপর রোধ পুষে রাখবেন না| আমাদের পাপ চির কাল মনে রাখবেন না| আমাদের দিকে দয়া করে তাকান! আমরা আপনারই লোক|
10 আপনার পবিত্র শহরগুলি পরিত্যক্ত| সেই শহরগুলি এখন মরুভূমির মতো| সিয়োনও একটা মরুভূমি! জেরুশালেম ধ্বংসপ্রাপ্ত!
11 আমাদের পূর্বপুরুষরা আপনার পবিত্র মন্দিরে আপনার উপাসনা করেছে| আমাদের মন্দির ছিল চমত্কার| কিন্তু সেই মন্দির পুড়ে গিয়েছে| আমাদের সমস্ত মূল্যবান বিষয় সম্পদগুলি ধ্বংস হয়ে গেছে|
12 এই সব জিনিস কি আপনাকে আমাদের প্রতি আপনার ভালবাসা দেখানো থেকে দূরে রাখবে? আপনি কি নীরবতা চালিযে যাবেন? আপনি কি আমাদের চির কাল শাস্তি দেবেন?




অধ্যায় 65

1 প্রভু বলেন, “যারা আমার কাছে উপদেশ নিতে আসেনি আমি তাদেরও সাহায্য করেছি| আমাকে যারা পেয়েছে তারা কেউ আমার দিকে তাকিযে ছিল না| আমি একটা জাতির সঙ্গে কথা বলেছিলাম যারা আমার নামে নামাঙ্কিত নয়| আমি বলেছিলাম, ‘আমি এখানে! আমি এখানে!’
2 যারা আমার বিরুদ্ধে গিয়েছিল এমন লোকদের গ্রহণ করার জন্য আমি সারাদিন প্রস্তুত হয়ে দাঁড়িয়েছিলাম| তারা আমার কাছে আসুক- আমি তাদের অপেক্ষায ছিলাম| কিন্তু তারা আমার কাছ থেকে দূরে ছিল| তারা অসত্‌ পথে জীবনযাপন চালিযে গিয়েছিল| তাদের হৃদয় যা করতে চেয়েছিল তারা তাই করেছিল|
3 তারা আমার সামনে আমাকে সর্বদা রুদ্ধ করেছিল| তারা তাদের বিশেষ বাগানে পশুবলি দিত ও ধূনো জ্বালাত|
4 তারা কবরস্থানে বসে থাকে| তারা মৃত মানুষদের কাছ থেকে ভাল বার্তা পাবার জন্য প্রতীক্ষায থাকত| মৃতদের সঙ্গেও তারা বসবাস করত| তারা শুয়োরের মাংস খেত| তাদের ছুরি ও কাঁটাচামচ বাজে মাংস খেয়ে নোংরা হয়ে গিয়েছিল|
5 “কিন্তু তারা অন্যদের বলত, ‘আমার কাছে আসবে না! আমি যতক্ষণ না তোমাদের পরিষ্কার করছি ততক্ষণ তোমারা আমাকে স্পর্শ করবে না|’ এরা আমার চোখে ধোঁযার মত এবং এদের আগুন সর্বদাই জ্বলে|”
6 “দেখ, এখানে হিসাব আছে| মেটাতে হবে| হিসাব অনুযায়ীতুমি তোমার পাপের জন্য দোষী| এই হিসাব না মেটানো পর্য়ন্ত আমি শান্ত হব না এবং তোমাকে শাস্তি দিয়েই হিসাব পরিশোধ করব|
7 “তোমার ও তোমার পিতার পাপ সবই সমান| প্রভু বলেন, “পর্বতের ওপর ধূপ জ্বালাবার সময় তোমাদের পিতারা পাপ করেছে| তারা ঐ পর্বতগুলোর ওপর আমায় অবমাননা করেছে| এবং আমিই প্রথম যে তাদের শাস্তি দিয়েছিলাম| আমি তাদের উচিত্‌ প্রাপ্য শাস্তি দিয়েছিলাম|”
8 প্রভু বলেন, “দ্রাক্ষাতে যখন নতুন সুরা থাকে মানুষ তখন তা বের করে নেয| কিন্তু তারা দ্রাক্ষাগুলিকে পারোপরি ধ্বংস করে না| তারা এই সব করে কারণ দ্রাক্ষা এরপরেও ব্যবহার করা যায়| আমি আমার দাসদের প্রতি ঠিং এংই জিনিষ করব| তাদের আমি পারোপুরি ধ্বংস করবো না|
9 যাকোবের (ইস্রায়েল) কিছু লোককে আমি রক্ষা করব| যিহূদার কিছু মানুষ আমার পাহাড় পাবে| আমার দাসরা সেখানে বাস করবে| আমি পছন্দ করে ঠিং করব কারা ওখানে বাস করবে|
10 তখন পলেষ্টীয় সংলগ্ন শারোণ উপত্যকা হবে মেষদের মাঠ| জেরুশালেমের উত্তরের দশ মাইল আখোর উপত্যকা হবে গরুর পালের বিশ্রামস্থল| এই সব হবে আমার লোকদের জন্য- যেসব লোকরা আমার খোঁজ করে|
11 “কিন্তু তোমরা প্রভুকে ত্যাগ করেছো, তাই তোমরা শাস্তি ভোগ করবে| তোমরা আমার পবিত্র সিয়োন পর্বতের কথা ভুলে গিয়েছো| তোমরা “ভাগ্য” ও “অদৃষ্ট” মূর্ত্তিগুলোকে পজৈো করতে শুরু করেছিলে| তোমরা তাদের নৈবেদ্য দিয়েছিলে|
12 কিন্তু আমি তোমাদের ভবিষ্যত্‌ নির্ণয করেছি| তোমরা তরবারির দ্বারা শেষ হবে| তোমরা সবাই খুন হবে| কেন? কারণ আমি তোমাদের ডাকলেও তোমরা উত্তর দিতে অস্বীকার করেছিলে! আমি কথা বললেও তোমরা শোন নি| আমি যে সব কাজকে অপংর্ম বলেছিলাম তোমরা সেগুলিই করেছো| আমি যা পছন্দ করি না তাই তোমরা করবে বলে ঠিং করেছিলে|”
13 তাই প্রভু, আমার সদাপ্রভু বলেন, “যদিও আমার দাসরা খাবে, তোমরা ক্ষুধার্ত থেকে যাবে| আমার দাসরা পান করতে পারলেও তোমরা তৃষ্ণার্ত থাকবে| আমার দাসরা সুখী হলেও তোমরা দুষ্ট লোকরা লজ্জিত হবে|
14 আমার দাসরা আনন্দে মাতোহারা হবে কিন্তু তোমরা দুঃখে কেঁদে ভাসাবে| তোমাদের হৃদয় ভেঙ্গে যাবে এবং তোমরা খুবই দুঃখিত হবে|
15 তোমাদের নাম আমার দাসদের কাছে বাজে শব্দের মতো শোনাবে|” আমার প্রভু তোমাদের হত্যা করবেন| আর তাঁর দাসদের দেবেন নতুন নাম|
16 লোকে এখন পৃথিবীর কাছে আশীর্বাদ প্লার্থনা করছে| কিন্তু ভবিষ্যতে তারা আশীর্বাদ চাইবে আস্থাবান ঈশ্বরের কাছে| এখন যারা পৃথিবীর নাম নিয়ে কোন প্রতিশ্রুতি করেছে তারা ভবিষ্যতে ঈশ্বরের নামে প্রতিশ্রুতি করবে| কেন? কারণ, অতীতের সমস্যার কথা সবাই ভুলে যাবে| তারা আমার চক্ষুর অন্তরালে আছে|
17 “আমি নতুন পৃথিবী ও নতুন স্বর্গ তৈরী করব| লোকরা অতীতের কথা মনে রাখবে না| সেই সব কথা তারা মোটেই চিন্তা করবে না|
18 আমার লোকরা সুখী হবে| এখন থেকে চিরকাল তারা আনন্দ করবে| কেন? আমি তাই করব| জেরুশালেমকে আমি তৈরী করব আনন্দ নগরী এবং সেখানকার লোকদের আমি করব খুব সুখী|
19 “তারপর জেরুশালেমের জন্য আমিও সুখী হব| আমি আমার নিজের লোকদের জন্য সুখী হব| শহরে আর কোন কান্না অথবা কান্নার শব্দ এবং দুঃখ থাকবে না|
20 দু-চারদিনের আযু নিয়ে কোন শিশু জন্মাবে না| অল্প সময় বেঁচে থেকে কেউই মরবে না| প্রতিটি শিশু ও বৃদ্ধ বহু বহু বছর বাঁচবে|
10 0 বছর বেঁচে থাকার পরও যে কোন ব্যক্তিকে যুবকদের মত লাগবে| এংজন লোক যদি
10 0 বছর বযস পর্য়ন্ত না বাঁচে লোকে তাকে অভিশপ্ত মানুষ বলে বিবেচনা করবে|
21 “শহরে কেউ যদি বাড়ি বানায় সে সেই বাড়িতে বসবাস করতে পারবে| কেউ যদি বাগানে দ্রাক্ষা চাষ করে তবে সে সেই দ্রাক্ষা ফল খেতে পারবে|
22 আর কখনও এমন হবে না যে এংজন বাড়ী তৈরী করবে আর অন্য জন তাতে বাস করবে| আর কখনও এমন হবে না যে এংজন বাগান তৈরী করবে আর অন্য জন তার ফল খাবে| আমার লোকরা গাছের মত দীর্ঘ জীবন পাবে| আমার মনোনীত লোকরা যা কিছু করবে তা উপভোগ করবে|
23 এংটি মৃত শিশুকে জন্ম দেবার জন্য মহিলারা আর কখনও প্রসব যন্ত্রনা ভোগ করবে না| শিশুর জন্ম দিতে গিয়ে মহিলারা প্রসব যন্ত্রণায় আর ভীত হবে না| প্রভু আমার সব লোকদের ও তাদের শিশুদের আশীর্বাদ করবেন|
24 তারা চাইবার আগেই জানতে পারবে তাদের চাহিদা এবং তারা চাইবার আগেই সাহায্য পাবে|
25 নেকড়ে বাঘ এবং মেষশাবক এংসঙ্গে খাবে| সিংহ ছোট্ট বলদের সঙ্গে এংসঙ্গে বিচালি খাবে| আমার পবিত্র পর্বতে সাপ থাকলেও সে কাউকে কামড়াবে না| এমনকি কারও ভয়েরও কারণ হবে না|” এই সব প্রভু বলেছেন|




অধ্যায় 66

1 প্রভু যা বলেছেন তা হল, “আকাশ আমার সিংহাসন| আর পৃথিবী হল আমার পাদানি| তাই তোমরা কি মনে কর আমার জন্য একটা বাড়ি বানাতে পারবে? না, পারবে না| তোমরা কি আমার জন্য একটি বিশ্রামস্থল বানাতে পারবে? না! পারবে না!
2 আমি নিজেই এই সব সৃষ্টি করেছি| যা কিছু এখানে রয়েছে তা সবই আমার সৃষ্টি|” প্রভু নিজে থেকে বলেছেন এইসব কথা| “আমাকে বল, আমি কোন ধরণের লোকদের জন্য চিন্তা করি? আমি গরীবদের প্রতি যত্নবান| যারা খুব দুঃখী আমি যত্ন নিই তাদের| আর যারা আমার কথা মান্য করে আমি তাদেরও যত্ন করি|
3 কোন কোন লোক বলির জন্য ষাঁড় হত্যা করে কিন্তু তারা মানুষকেও নির্য়াতন করে| তারা মেষবলি দিলেও কুকুরের ঘাড় মটকে দেয়! তারা শস্য নৈবেদ্য দিলেও শুযোরের রক্তও নৈবেদ্য দেয়| সেই মানুষগুলি ধূপ জ্বালালেও ভালবাসে মূল্যহীন মূর্ত্তিগুলোকে| তারা নিজেদের পথে চলতে ভালবাসে এবং ভালবাসে তাদের ভয়ঙ্কর মূর্ত্তিগুলিকে|
4 তাই আমি ঠিক করেছি ওদের নিজেদের কৌশলই ব্যবহার করব| মানে আমি বলতে চাইছি ওরা যে সব জিনিসকে ভয় পায় সেই সব জিনিস ব্যবহার করেই ওদের শাস্তি দেব| আমি ওদের ডেকেছিলাম| কিন্তু ওরা শোনে নি| আমি কথা বলেছিলাম| ওরা শোনে নি| তাই আমি তাদের প্রতি একই জিনিস করব| আমি যাকে খারাপ বলি তারা সেই সব জিনিসই করেছিল| আমার যা অপছন্দ ওরা সেই কাজই করতে মনস্থ করেছিল|”
5 তোমরা যারা প্রভুর আদেশ মান্য কর তাদের উচিত্‌ প্রভুর কথা শোনা| “তোমাদের ভাইরা তোমাদের ঘৃণা করেছিল| তোমরা যেহেতু আমাকে অনুসরণ করেছিলে সেহেতু তারা তোমাদের বিরুদ্ধাচরণ করেছিল| তোমাদের ভাইরা বলেছিল, ‘প্রভুকে সম্মান জানাবার সময় আমরা তোমাদের কাছে আসব| তখন তোমাদের সঙ্গে আমরাও সুখী হব|’ ঐ বাজে লোকগুলি শাস্তি পাবে|
6 শোন! শহর ও মন্দির থেকে একটা জোরালো শব্দ আসছে| সেই শব্দ শএুদের প্রভুর শাস্তি প্রদানের| প্রভু নিজের শএুদের প্রাপ্য শাস্তি দিচ্ছেন|
7 “যন্ত্রণা ভোগ করার আগে একজন মহিলা শিশুর জন্ম দিতে পারে না| যাকে জন্ম দিচ্ছে তাকে দেখার আগেই এক জন মহিলা অবশ্যই যন্ত্রণা ভোগ করে| একই ভাবে কোন লোক কি এক দিনে নতুন পৃথিবী সৃষ্টি হতে দেখেছে? কোন লোক কি এক দিনে একটি নতুন জাতির সৃষ্টি হতে দেখেছে? প্রসব যন্ত্রণার মত ঐ দেশটিরও প্রথম যন্ত্রণা থাকবে| জন্ম যন্ত্রণার পরই দেশটি তার ছেলেমেয়েদের অর্থাত্‌ একটি নতুন জাতির জন্ম দেবে|
8
9 একই ভাবে কোন নতুন জিনিসকে জন্মগ্রহণের অনুমতি না দিয়ে আমি কাউকে যন্ত্রণা দেব না|”প্রভু বলেন, “আমি প্রতিজ্ঞা করছি, কোন নতুন জিনিষকে জন্ম দেওয়া ব্যতিরেকে আমি তোমাদের প্রসব যন্ত্রণা দেব না|”
10 জেরুশালেম সুখী হও| জেরুশালেমকে যারা ভালবাসে তারা সুখী হও| দুঃখ জনক ঘটনা জেরুশালেমে ঘটেছে| তাই তোমাদের কেউ কেউ বিষন্ন| কিন্তু এখন তোমাদের খুশি হওয়া উচিত্‌|
11 কেন? কারণ তার স্তন থেকে দুধ বেরিয়ে আসার মতো তোমরা করুণা পাবে| সেই দুধ সত্যি তোমাদের সন্তুষ্ট করবে| তোমরা সেই দুধ পান করে তার সমৃর্দ্ধিতে নিজেদের সন্তুষ্ট করবে|
12 প্রভু বলেন, “দেখো! আমি তোমাদের শান্তি দেব| শান্তি আসবে নদীর মতো| পৃথিবীর সব জাতির কাছ থেকে আসবে ঐশ্বর্য়| ঐশ্বর্য় আসবে বন্যার জলের মতো| তোমরা শিশুর মতো সেই ‘দুধ’ পান করবে| আমি তোমাদের কোলে তুলে নেব, হাঁটুতে বসিযে দোল খাওয়াব|
13 মা যেমন তার ছেলেকে আরাম দেয়, আমি তোমাদের সেই ভাবে আরাম দেব এবং তোমরা জেরুশালেমে আরাম পাবে|”
14 তোমরা যা দেখবে তাতেই আনন্দ পাবে| তোমরা ঘাসের মত মুক্ত এবং বড় হবে| প্রভুর দাসরা দেখতে পাবে তাঁর ক্ষমতা কিন্তু শএুরা দেখতে পাবে প্রভুর রোধ|
15 তাকাও, প্রভু আগুন নিয়ে আসছেন| ঝড়ের মতো প্রভুর রথ আসছে| প্রভু সেই সব লোকের ওপর তাঁর শাস্তি প্রদান করবেন| যখন তিনি রুদ্ধ, তখন তিনি ওইসব লোকদের আগুনের শিখা দিয়ে শাস্তি দেবেন|
16 প্রভু লোকদের বিচার করবেন| তারপর তিনি লোকদের আগুন আর তরবারি দিয়ে ধ্বংস করবেন| বহু মানুষেরই তিনি বিনাশ ঘটাবেন|
17 সেই সব লোকরা তাদের বিশেষ বাগানগুলিতে পূজোর আগে নিজেদের শুদ্ধ করবার জন্য স্নান করে| নিজেদের বিশেষ বাগানে তারা একে অন্যকে অনুসরণ করে| যখন তারা তাদের মূর্ত্তির পূজা করে তারপর প্রভু ঐসব লোকদের ধ্বংস করবেন|“ঐসব লোকরা শুয়োর ও ইঁদুরের মাংস এবং অন্যান্য নোংরা জিনিস খায়| তবে তারা সবাই একসঙ্গে ধ্বংস হবে|” প্রভু বয়ং একথা বলেছেন|
18 “ঐসব লোকদের চিন্তায ও কাজে রয়েছে অপকর্ম| তাই আমি আসছি ওদের শাস্তি দিতে| আমি সব জাতির সব মানুষকে একত্রিত করব| সব লোকরা একসঙ্গে এসে আমার ক্ষমতা দেখবে| আমি কাউকে কাউকে বিশেষ চিহ্ন দিয়ে রাখব এবং তাদের রক্ষা করব|
19 যারা রক্ষা পেয়েছে তাদের কয়েক জনকে আমি তর্শীশ, লিবিযা, লূদ, তূবল, গ্রীস ও অন্যান্য দূরবর্তী দেশসমূহে পাঠাব| ঐসব লোকরা কখনও আমার সম্বন্ধে শোনেনি| তারা কখনও আমার মহিমা দেখেনি| তাই রক্ষা পাওয়া ওই সব লোকরা অন্যান্য জাতিগুলিকে আমার মহিমার কথা জানাবে|
20 তারাই তোমাদের ভাইবোনদের অন্যান্য সমস্ত জাতি থেকে নিয়ে আসবে| তারা তোমাদের ভাইবোনদের আনবে জেরুশালেমে, আমার পবিত্র পর্বত সিয়োনে| তোমাদের ভাইবোনরা আসবে ঘোড়া, গাধা, উট, যুদ্ধে ব্যবহৃত ছোট ছোট যান প্রভৃতিতে চেপে| প্রভুর মন্দিরে ইস্রায়েলের মানুষরা যেমন উপহার নিয়ে যায় তেমনি তোমাদের ভাই-বোনরা উপহার হয়ে আসবে|
21 আমি বেছে কাউকে যাজক এবং কাউকে যাজকদের সাহায্যকারী বানাবো|” তা প্রভু বয়ং একথাগুলি বলেছেন|
22 “আমি একটি নতুন পৃথিবী তৈরী করব এবং এই নতুন পৃথিবী ও নতুন স্বর্গ থাকবে অনন্তকাল| একই ভাবে তোমাদের নাম ও তোমাদের শিশুরা আমার সঙ্গে থাকবে সর্বক্ষণ|
23 সব লোকরা প্রার্থনার দিনে আমার উপাসনা করতে আসবে| তারা প্রতি মাসের প্রথম দিন এবং বিশ্রামের দিন আমার উপাসনা করতে আসবে|
24 “ঐসব লোকরা থাকবে আমার পবিত্র শহরে এবং তারা শহরের বাইরে গেলেই আমার বিরুদ্ধে পাপ কাজে লিপ্ত মানুষদের মৃতদেহ দেখতে পাবে| সেই দেহে কৃমি থাকবে এবং সেই কৃমিরা কখনও মরবে না| আগুন পুড়িয়ে দেবে দেহগুলিকে এবং ঐ আগুন কখনও নিভবে না|”