জাখারিয়া

1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14


অধ্যায় 1

1 বেরিখিযের পুত্র সখরিয় প্রভুর কাছ থেকে এই বার্তা পেয়েছিলেন| এটা ঘটেছিল পারস্য়ের রাজা দারিয়াবসের রাজত্বের দ্বিতীয় বছরের অষ্টম মাসে (সখরিয় ছিলেন বেরিখিযের পুত্র, যিনি ছিলেন ভাব্বাদী ইদ্দোর পুত্র) বার্তাটি ছিল:
2 প্রভু তোমাদের পূর্বপুরুষের উপর খুব রোধন্বত হয়েছিলেন|
3 সুতরাং তোমরা অবশ্যই লোকেদের এই কথাগুলি বলবে| প্রভু বলেন, “তোমরা আমার কাছে ফিরে এস, তাহলে আমিও তোমাদের কাছে ফিরব|” সর্বশক্তিমান প্রভুই এই কথা বলেছেন|
4 প্রভু বলেছেন, “তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদের মতো হযো না| অতীতে, ভাব্বাদীরা তাদের কাছে বলতেন, ‘সর্বশক্তিমান প্রভু চান তোমরা তোমাদের অসত্‌ জীবনযাপনের ধারা বদলে দাও আর কোন মন্দ কাজ করো না!’ কিন্তু তোমাদের পূর্বপুরুষেরা আমার কথা শোনেনি|” প্রভু এই কথাগুলি বলেছেন|
5 ঈশ্বর বলেছেন, “তোমাদের পূর্বপুরুষেরা আজ আর নেই| সেই ভাব্বাদীরা চিরকালের জন্য বেঁচে থাকেনি|
6 ঐ ভাব্বাদীরা আমার দাস ছিল| আমার বিধি ও শিক্ষামালা সম্বন্ধে তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে জানাবার জন্য আমি তাদের ব্যবহার করতাম| অবশেষে, তোমাদের পূর্বপুরুষেরা শিক্ষা গ্রহণ করে বলেছিল, ‘প্রভু হলেন সর্বশক্তিমান, তিনি যা বলেছিলেন তাই-ই করেছেন| আমাদের মন্দ কাজের জন্য ও অসত্‌ভাবে জীবনযাপনের জন্য তিনি আমাদের শাস্তি দিয়েছেন|’ এইভাবে তারা ঈশ্বরের কাছে ফিরে এসেছিল|”
7 রাজা দারিয়াবসের রাজত্বের দ্বিতীয় বছরের একাদশতম মাসের 24 তম দিনে সখরিয় প্রভুর কাছ থেকে আরেকটি বার্তা পেলেন| বার্তাটি এইরকম ছিল:
8 রাত্রে আমি একটি দর্শন পেলাম| সেই দর্শনে আমি একটি লোককে একটা লাল রঙের ঘোড়ার ওপর দেখলাম| সে উপত্যকায কিছু সুগন্ধ পত্রবিশিষ্ট গুল্মের ঝোপের মধ্যে দাঁড়িয়েছিল| তার পেছনে ছিল লাল, খযেরী এবং সাদা রং এর ঘোড়া|
9 আমি জিজ্ঞেস করলাম, “মহাশয়, এই ঘোড়াগুলি কিসের জন্য?”তখন য়ে দেবদূত আমার সঙ্গে কথা বলছিলেন, তিনি বললেন, “আমি তোমায় দেখাছি এই ঘোড়াগুলো কিসের জন্য|”
10 তখন লোকটি সুগন্ধী ঝোপগুলোর মধ্যে দাঁড়িয়ে উত্তর দিল, “পৃথিবীর চারিদিকে এদিক ওদিক যাবার জন্য প্রভু এই ঘোড়াগুলোকে পাঠিয়েছেন|”
11 তখন সুগন্ধী ঝোপঝাড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা প্রভুর দূতকে তারা বলল, “আমরা পৃথিবীর এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়িযেছি এবং লক্ষ্য করেছি য়ে সমগ্র পৃথিবী শান্ত ও স্থির|”
12 তখন প্রভুর দূত বললেন, “প্রভু, জেরুশালেম ও যিহূদার শহরগুলোকে স্বস্তি দিতে আপনি আর কত দেরী করবেন? আপনি 70বছর ধরে এই শহরগুলোর প্রতি আপনার রোধ দেখিয়েছেন|”
13 তখন প্রভু আমার সঙ্গে কথোপকথনরত দেবদূতটিকে অনেক সদয ও স্বস্তিপূর্ণ কথা বললেন|
14 তখন প্রভুর দূত আমাকে লোকেদের এই কথা বলতে বললেন: প্রভু সর্বশক্তিমান বলেন:“জেরুশালেম ও সিয়োনের জন্য আমার একটি গভীর অনুভূতি আছে|
15 এবং য়ে জাতিরা নিজেদের নিরাপদ বলে মনে করে, তাদের প্রতি আমি অতিশয রোধান্বত| আমি যখন তেমন রেগে ছিলাম না, তখন আমি ঐ জাতিদের ব্যবহার করেছিলাম আমার লোকেদের শাস্তি দিতে| কিন্তু ঐ জাতিগুলো ক্ষতি সাধন করেছে|”
16 তাই প্রভু বলেন, “আমি জেরুশালেমে ফিরে আসব এবং তাকে স্বস্তি দেব|” প্রভু সর্বশক্তিমান বলেন, “জেরুশালেমকে আবার গড়া হবে আর সেখানে আমার গৃহও নির্মাণ করা হবে|”
17 দেবদূতেরা বলল লোকেদের বল: “প্রভু সর্বশক্তিমান বলেন, ‘আমার শহর আবার ধনী হয়ে উঠবে| আমি সিয়োনকে স্বস্তি দেব| আমি জেরুশালেমকে আবার আমার বিশেষ শহর হিসাবে মনোনীত করব|”‘
18 তখন আমি উপরের দিকে তাকিযে চারটে শিং দেখতে পেলাম|
19 তারপর আমি আমার সঙ্গে আলাপচারী সেই দূতকে জিজ্ঞেস করলাম, “এই শিংগুলির অর্থ কি?”তিনি আমাকে বললেন, “এই শিংগুলি হল সেই শিং যারা ইস্রায়েল ও যিহূদার লোকেদের বিদেশে ছড়িয়ে দিয়েছিল|”
20 প্রভু আমায় চারজন কারীগর দেখালেন|
21 আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, “ঐ চারজন কারীগর কি করতে আসছে?”তিনি বললেন, “এই শিংগুলি সেই জাতিগুলির প্রতিনিধিত্ব করছে, যারা যিহূদার লোকেদের আক্রমণ করেছিল এবং জোর করে তুলে তাদের নির্বাসনে পাঠিয়েছিল| তারা তাদের বিদেশে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল| কিন্তু এই চারজন কারীগর ঐ চারটি শিংকে ভয় দেখাতে এবং তাদের ছুঁড়ে ফেলে দিতে এসেছে!”




অধ্যায় 2

1 তারপর আমি চোখ তুলে চেয়ে দেখলাম মাপার ফিতে হাতে একজন মানুষ|
2 আমি জিজ্ঞেস করলাম, “আপনি কোথায যাচ্ছেন?”তিনি আমায় বললেন, “আমি জেরুশালেম মেপে দেখতে চাই তা দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে কতখানি|”
3 তখন য়ে দেবদূতটি আমার সঙ্গে কথা বলেছিলেন তিনি চলে গেলেন এবং আরেকটি দেবদূত তাঁর সঙ্গে কথা বলবার জন্য এগিয়ে এলেন|
4 তিনি তাকে বললেন, “দৌড়ে গিয়ে সেই যুবকদের বল য়ে জেরুশালেম মাপার পক্ষে অতিশয বড়| তার কাছে গিয়ে এই কথাগুলো বল:‘জেরুশালেম হবে প্রাচীরবিহীন একটি শহর কারণ জেরুশালেমে বসবাসকারী মানুষ ও পশুর সংখ্যা হবে অনেক|’
5 প্রভু বলেছেন, ‘আমি শহরের চারধারে একটি আগুনের প্রাচীর তৈরী করে তাকে রক্ষা করব| এবং সেই শহরের মহিমা আনয়ণ করবার জন্য আমি সেখানে বাস করব|”‘
6 প্রভু বলেছেন, “তাড়াতাড়ি কর, উত্তরে অবস্থিত দেশটি ত্যাগ কর! হ্যাঁ, এটা সত্যি য়ে আমি তোমার লোকেদের চতুর্দ্দিকে ছড়িয়ে দিয়েছিলাম|”
7 ওহে সিয়োনের লোকেরা, যারা বাবিলে বাস করছ, তোমাদের প্রাণ বাঁচাতে এ জায়গা ছেড়ে যাও| ঐ শহর ছেড়ে পালাও! সর্বশক্তিমান প্রভুই এই কথা বলেছেন| তিনি আমাকে সেই জাতিগুলির মধ্যে পাঠিয়েছেন যারা তোমাদের লুঠ করেছিল| তিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তোমাদের কাছে সম্মান আনতে|
8 কারণ তোমাদের আঘাত করা, ঈশ্বরের চোখের মণিকে আঘাত করবার তুল্য|
9 বাবিলের লোকেরা আমার লোকেদের কারারুদ্ধ করেছিল এবং তাদের এীতদাস বানিয়েছিল| কিন্তু আমি তাদের আঘাত করলে তারা আমার লোকেদের দাস হয়ে যাবে| তখন তোমরা জানবে য়ে সর্বশক্তিমান প্রভুই আমায় পাঠিয়েছেন|”
10 প্রভু বলেছেন, “সিয়োন, আনন্দ করো এবং সুখী হও! কারণ আমি আসছি এবং আমি তোমার শহরে বাস করব|
11 সেই সময়ে বহু জাতি আমার কাছে আসবে| তারা আমার লোক হবে এবং আমি তোমার শহরে বাস করব|” আর তুমি জানবে য়ে সর্বশক্তিমান প্রভু আমায় তোমার কাছে পাঠিয়েছেন|”
12 প্রভু জেরুশালেমকে তাঁর বিশেষ শহর হিসেবে আবার মনোনীত করবেন| যিহূদা হবে পবিত্র ভূমিতে তাঁর অংশ|
13 প্রত্যেকে নীরব হও! প্রভু তাঁর পবিত্র আবাস হতে আসছেন|




অধ্যায় 3

1 দেবদূতটি আমাকে মহাযাজক যিহোশূয়কে দেখালেন| যিহোশূয় প্রভুর দূতের সামনে দাঁড়ালেন আর শযতান তাঁর ডানদিকে দাঁড়াল| শযতান যিহোশূয়কে মন্দ কাজ করবার জন্য দোষারোপ করেছিল|
2 তখন প্রভুর দূত বললেন, “প্রভু তোমাকে ভর্ত্‌সনা করছেন এবং তিনি তোমাকে তিরস্কার করতে থাকবেন! প্রভু জেরুশালেমকে তাঁর বিশেষ শহর হিসেবে মনোনীত করেছেন| আগুন থেকে টেনে বের করা একটি জ্বলন্ত কাঠির মত তিনি ঐ শহর রক্ষা করেছেন|”
3 যিহোশূয় সেই দেবদূতটির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন| যিহোশূযের পরণে ছিল নোংরা কাপড়-চোপড়|
4 তখন দেবদূতটি তাঁর কাছে দাঁড়িয়ে থাকা অপর দেবদূতদের বললেন, “যিহোশূয়র ঐ মলিন বস্ত্র খুলে নাও|” তখন সেই দেবদূত যিহোশূয়কে বললেন, “এখন আমি তোমার পাপ দূর করে দিয়েছি এবং আমি তোমাকে নতুন আধিকারিক বস্ত্রে সাজাব|”
5 তখন আমি বললাম, “ওর মাথায় একটা পরিষ্কার শিরস্ত্রাণ পরিযে দাও|” সুতরাং, যখন প্রভুর দূত কাছেই দাঁড়িয়েছিলেন, তারা পরিষ্কার জামাকাপড় ও শিরস্ত্রাণ দিয়ে তাকে সজ্জিত করলেন|
6 তখন যিহোশূয়কে দূত বলল,
7 প্রভু সর্বশক্তিমান বলেন, “আমি যা বলি তা শোন এবং আমার উপদেশ মত জীবনযাপন কর| তাহলে তুমি আমার মন্দিরের তত্ত্বাবধায়ক হবে এবং মন্দির প্রাঙ্গণের যত্ন নেবে| এবং কাছে দাঁড়িয়ে থাকা ঐ দেবদূতদের মত তুমিও মন্দিরের ভেতর তোমার ইচ্ছানুযায়ী য়েতে পারবে|
8 ওহে মহাযাজক যিহোশূয় এবং তোমার সামনে য়ে মহাযাজকেরা বসে আছে, সবাই দয়া করে শোন| অদূর ভবিষ্যতে আমার বিশেষ দাসকে যখন আমি আনব তখন কি ঘটবে তা দেখাবার জন্য এই লোকেরা তার উদাহরণস্বরূপ| তাকে ‘শাখা’ এই নামে ডাকা হয়|
9 দেখ, আমি যিহোশূয়র সামনে একটা বিশেষ ধরণের পাথর রাখছি| ঐ পাথরটার সাতটা দিক রয়েছে| আমি একটি বিশেষ বার্তা তাতে খোদাই করব| এটাই দেখাবে য়ে আমি একদিনে এই দেশের প্রতিটি পাপ দূর করব|”
10 সর্বশক্তিমান প্রভু বলেন, “সেই সময় লোকেরা তাদের বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে একত্রে বসবে| তারা একে অপরকে ডুমুর গাছ ও দ্রাক্ষালতার তলায় বসবার জন্য নিমন্ত্রণ জানাবে|”




অধ্যায় 4

1 য়ে দেবদূতটি আমার সঙ্গে কথা বলছিলেন, তিনি আমাকে জাগাবার জন্য আমার কাছে এলেন| সেই মুহূর্তে আমি ছিলাম ঘুম থেকে সদ্য জেগে ওঠা একজন মানুষের মত|
2 তখন দেবদূত আমায় জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি দেখতে পাচ্ছো?”আমি বললাম, “আমি একটি নিরেট সোনার বাতিদান দেখতে পাছি| সেই বাতিদানে সাতটি বাতি রয়েছে এবং বাতিদানের ওপরে রয়েছে একটি পাত্র| সেই পাত্র থেকে সাতটা ফাঁপা নল বেরিয়ে এসেছে এবং প্রত্যেকটি বাতিতে গিয়েছে| নলগুলি পাত্র থেকে বাতিতে তেল বহন করে|
3 পাত্রটির পাশে দুটি অলিভ গাছ, একটি ডান দিকে, অপরটি বাম দিকে| এই গাছেরা বাতির জন্য তেল উত্পন্ন করে|”
4 তখন আমি আমার সঙ্গে য়ে দেবদূতটি কথা বলছিলেন তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, “মহাশয়, এসবের অর্থ কি?”
5 দেবদূতটি বললেন, “এই জিনিসগুলো কি তা কি তুমি জানো না?”আমি বললাম, “জানি না মহাশয়|”
6 তিনি বললেন, “এ হল সরুব্বাবিলের কাছে প্রভুর বার্তা: সর্বশক্তিমান প্রভু বলেন, ‘তোমার শক্তি ও পরাএম তোমায় রক্ষা করবে না| তোমার সাহায্য আসবে আমার আত্মা থেকে|’
7 ওহে উঁচু পর্বত, তুমি সরুব্বাবিলের কাছে কিছুই নও| তার সামনে তুমি একটি সমতলভূমির মত| সে মন্দিরটি গড়বে এবং যখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাথরটি সেখানে স্থাপন করা হবে, তখন লোকেরা চেঁচিয়ে উঠবে, ‘চমত্কার! অপূর্ব!”‘
8 প্রভুর বার্তা আমাকে আরো বলল,
9 “সরুব্বাবিল আমার মন্দিরের ভিত্তি স্থাপন করবে| সে মন্দিরের কাজ সম্পূর্ণ করবে| তখন তুমি বুঝতে পারবে য়ে সর্বশক্তিমান প্রভু আমাকে তোমার কাছে পাঠিয়েছেন|
10 শুরুতে কাজ অল্প হলেও লোকে তাতে লজ্জিত হবে না আর তারা ওলোন দড়ি হাতে সরুব্বাবিলকে দেখে ওরা খুব খুশী হবে, য়ে সমাপ্ত হওয়া নির্মাণ কাজ পরীক্ষা করছে এবং মাপ-জোক করছে| পাথরের য়ে সাতটি ধার তুমি এখন দেখলে, তা প্রভুর চক্ষুস্বরূপ- যা সব দিকে নজর রেখেছিল| পৃথিবীর সব কিছুই তারা দেখতে পায|”
11 তখন আমি (সখরিয়) তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, “বাতিদানের ডান ও বাম দিকের জলপাই গাছগুলি কি বোঝায?”
12 আমি তাঁকে আরও বললাম, “সোনার নল দুটির পাশে আমি জলপাই গাছের দুটি শাখা দেখলাম| য়েগুলোর মধ্যে দিয়ে সোনালী রঙের তেল বইছে- সেগুলিরই বা অর্থ কি?”
13 তখন দূত আমাকে বললেন, “তুমি কি জানো না এসবের অর্থ কি?”আমি বললাম, “মহাশয় জানি না|”
14 তিনি বললেন, “এর অর্থ হল এরা সেই দুই ব্যক্তিকে যারা সমস্ত পৃথিবীর প্রভুকে সেবা করার জন্য মনোনীত হয়েছে, তাদের প্রতিনিধিত্ব করছে|”




অধ্যায় 5

1 আমি আবার চোখ তুললাম এবং দেখলাম য়ে একটা হাতে লেখা পুঁথি বাতাসে উড়ছে|
2 দেবদূতটি আমাকে বললেন, “তুমি কি দেখছ?”আমি বললাম, “একটি গোটানো হাতে লেখা পুঁথি উড়ছে, য়েটা 20 হাত লম্বা এবং 10 হাত চওড়া|”
3 তিনি আমায় বললেন, “এই গোটানো হাতে লেখা পুঁথিতে অভিশাপ লেখা রয়েছে| হাতে লেখা পুঁথির একপাশে চোরদের জন্য অভিশাপ লেখা এবং অন্য পাশে সেইসব লোকদের জন্য অভিশাপ লেখা যারা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি করে|
4 প্রভু সর্বশক্তিমান বলেছেন: “আমি চোরদের বাড়ী এবং যারা আমার নাম ব্যবহার করে মিথ্যা শপথ করে তাদের বাড়ী এই পুঁথি পাঠাব| এই পুঁথি সেই বাড়ীগুলিতে থাকবে এবং তাদের ধ্বংস করবে| এমনকি পাথর ও কাঠের পাত্রগুলিও এটি ধ্বংস করবে|”
5 য়ে দেবদূতটি আমার সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি বাইরে গেলেন এবং বললেন, “দেখ, কি আসছে?”
6 আমি বললাম, “আমি জানি না, এটা কি?”তিনি বললেন, “ওটা মাপার ঝুড়ি|” তিনি আরও বললেন, “এই দেশের লোকের পাপ মাপার জন্যই এই ঝুড়ি|”
7 ঝুড়ির সীসার তৈরী ঢাকনাটা খোলা হলে দেখা গেল তার মধ্যে এক স্ত্রীলোক|
8 দেবদূতটি আমায় বললেন, “ঐ স্ত্রীলোকটি অধর্মকে প্রতিনিধিত্ব করে|” তখন দেবদূতটি স্ত্রীলোকটিকে ঠেলে ঝুড়ির মধ্যে ঢুকিয়ে তার ঢাকনাটি বন্ধ করে দিলেন|
9 তখন আমি ওপরের দিকে তাকিযে সারস পাখীর মতডানা সমেত দুই জন স্ত্রীলোককে দেখতে পেলাম| তারা নীচে উড়ে এল এবং তাদের পাখার বাতাসের সাহায্যে সেই ঝুড়িটাকে তুলে নিল| তারপর তারা ঝুড়িটাকে বহন করে বাতাসের মধ্যে দিয়ে উড়ে গেল|
10 তখন আমার সাথে আলাপচারী দেবদূতটিকে আমি জিজ্ঞাসা করলাম, “ঝুড়িটিকে তারা কোথায বয়ে নিয়ে যাচ্ছে?”
11 দেবদূতটি উত্তর দিলেন, “তারা শিনিযর দেশে একটা বাড়ী তৈরী করবে এবং ঝুড়িটাকে তারা সেই বাড়ীর ভেতরে রাখবে|”




অধ্যায় 6

1 তারপর আমি আবার ওপরে তাকিযে দেখলাম চারটে রথ, তারা দুটি পিতলের পর্বতের মধ্য থেকে বের হয়ে আসছে|
2 প্রথম রথটি টানছিল লাল রঙের ঘোড়া| দ্বিতীয় রথটিকে টানছিল কালো রঙের ঘোড়া|
3 তৃতীয় রথটিকে টানছিল সাদা রঙের ঘোড়া আর লাল বিন্দু বিন্দু দাগওযালা ঘোড়াগুলি টানছিল চতুর্থ রথটিকে|
4 য়ে দেবদূতটি আমার সঙ্গে কথা বলছিলেন তাঁকে আমি জিজ্ঞেস করলাম, “মহাশয় এর অর্থ কি?”
5 দেবদূতটি বললেন, “এরা চারটি বাতাস, তারা পৃথিবীর প্রভুর কাছ থেকে সদ্য এসেছে|
6 কালো ঘোড়াগুলি যাবে উত্তর দিকে, লাল ঘোড়াগুলি যাবে পূর্বে, সাদা ঘোড়াগুলি যাবে পশ্চিমে এবং লাল বিন্দু বিন্দু দাগ দেওয়া ঘোড়াগুলি যাবে দক্ষিণে|”
7 লাল বিন্দু খচিত ঘোড়ারা তাদের অংশে পৃথিবীতে যাবার জন্য ব্যগ্র হয়ে উঠল, তাই দেবদূত তাদের বললেন, “যাও তোমরা সারা পৃথিবী ঘুরে এসো|” তাই তারা পৃথিবীর চারদিক ঘুরতে গেল|
8 তখন প্রভু আমাকে চিত্কার করে বললেন, “দেখ, য়ে ঘোড়াগুলি উত্তরে গিয়েছিল, তারা তাদের কাজ শেষ করে ফিরে এসেছে| তারা আমার আত্মাকে শান্ত করেছে তাই আমি আর রুদ্ধ নই!”
9 তখন আমি প্রভুর কাছ থেকে আরেকটি বার্তা পেলাম| তিনি বললেন,
10 “হিল্দয, টোবিয ও য়িদায বাবিলের বন্দী দশা থেকে ফিরে এসেছে| সেই লোকেদের কাছ থেকে তুমি রূপো ও সোনা সংগ্রহ কর এবং সফনিয়ের পুত্র য়োশিযের বাড়ী যাও|
11 সেই রূপো ও সোনা ব্যবহার করে একটি মুকুট তৈরী কর এবং যিহোষাদকের পুত্র, মহাযাজক যিহোশূয়কে মুকুট মণ্ডিত কর| তারপর যিহোশূয়কে এই বিষয়গুলি বল:
12 প্রভু সর্বশক্তিমান এই কথাগুলি বলেন: ‘শাখা নামে এক মানুষ আছেন, তিনি শক্তিমান হয়ে উঠবেন, তিনি প্রভুর মন্দির গাঁথবেন|
13 তিনি প্রভুর মন্দির গাঁথবেন ও সম্মান গ্রহণ করবেন| তিনি সিংহাসনে বসে শাসন করবেন| আর একজন যাজক তার সিংহাসনের পাশে দাঁড়াবে| এই দুই জন একসাথে শান্তিতে কাজ করবে|
14 “হিল্দয, টোবিয, য়িদায এবং সফনিয়ের পুত্র য়োশিযের জন্য একটি স্মারক হিসেবে ঐ মুকুটটি তারা মন্দিরেই রাখবে|
15 দূরদেশে বসবাসকারী লোকেরাও এসে মন্দিরে নির্মাণ করবে| তখন তোমরা নিশ্চিতভাবে জানবে য়ে প্রভুই আমাকে তোমাদের কাছে পাঠিয়েছিলেন| প্রভুর কথা অনুসারে কাজ করলে এই বিষয়গুলি ঘটবে|”




অধ্যায় 7

1 পারস্যের রাজা দারিয়াবসের রাজত্বের চতুর্থ বছরের নবম মাসের চতুর্থ দিনে সখরিয় প্রভুর কাছ থেকে এই বার্তা পেলেন|
2 বৈথেলের লোকেরা শরেত্‌সর, রেগম্মেলক ও তার লোকেদের প্রভুর কাছে একটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পাঠিয়েছিলেন|
3 তারা সর্বশক্তিমান প্রভুর মন্দিরের যাজকগণের কাছে এবং ভাব্বাদীদের কাছে এলেন| ঐ লোকেরা তাদের রশ্ন জিজ্ঞেস করল: “অনেক বছর ধরে আমরা মন্দির ধ্বংস হয়ে যাবার দরুণ শোক করেছি| প্রত্যেক বছরের পঞ্চম মাসে আমরা উপবাসের জন্য বিশেষ সময় দিয়েছি| আমরা কি এই অনুশীলন চালিযে যাব?”
4 আমি সর্বশক্তিমান প্রভুর কাছ থেকে এই বার্তা পেলাম:
5 “এই দেশের যাজককে এবং অন্য লোকেদের বল: সত্তর বছর ধরে তোমরা পঞ্চম ও সপ্তম মাসে উপবাস করেছ| সেই উপবাস কি সত্যিই আমার জন্যে? না! তা নয়|
6 আর তোমরা যখন ভোজন পান করলে সেটাও কি আমার উদ্দেশ্যে করলে? তা নয়, বরং তোমাদেরই ভালোর জন্যে|
7 এই একই জিনিষ প্রদান করতে প্রভু তাঁর ভাব্বাদীদের ব্যবহার করেছিলেন| জেরুশালেম যখন উন্নত ও জনমানবে পূর্ণ ছিল তখনও তিনি এই কথাগুলি বলেছিলেন| যখন ঈশ্বর এই কথাগুলি বলেছিলেন তখন জেরুশালেমের আশেপাশের শহর নেগেভ এবং পশ্চিমের পাহাড়ের পাদদেশে লোকজন ছিল|”
8 সখরিযের কাছে প্রভুর বার্তা এই:
9 প্রভু সর্বশক্তিমান বলেছেন: “যা কিছু ঠিক এবং ন্যায়সঙ্গত তোমরা অবশ্যই তা করবে| তোমরা একে অপরের প্রতি অবশ্যই দয়ালু ও কৃপাপূর্ণ হবে|
10 বিধ্বা, দরিদ্র, বিদেশী ও অনাথদের ওপর উত্‌পীড়ন কোরো না| অপরের অমঙ্গল করবার চিন্তা কোরো না|”
11 কিন্তু সেইসব লোকেরা শুনতে অস্বীকার করত| তিনি যা চাইতেন তা করতে তারা অস্বীকার করত| তারা কান বন্ধ করত বলে ঈশ্বরের কথা শুনতে পেতো না|
12 তারা ছিল একগুঁযে| প্রভু সর্বশক্তিমান তাঁর আত্মা দ্বারা ভাব্বাদীদের মাধ্যমে লোকেদের কাছে বার্তা পাঠাতেন| কিন্তু তারা শুনতো না| তাই সর্বশক্তিমান প্রভু রুদ্ধ হয়েছিলেন|
13 সর্বশক্তিমান প্রভু বললেন, “আমি তাদের ডাকলে তারা উত্তর দিল না| তাই এখন যদি তারা আমায় ডাকে, আমি তাদের উত্তর দেব না|
14 আমি তাদের বিরুদ্ধে জাতিগুলোকে ঝড়ের মত নিয়ে আসব| ঐসব জাতিদের তারা জানতও না| তারা দেশটি অতিক্রম করে গেলে সেটি ধ্বংসস্ুপে পরিণত হবে|”




অধ্যায় 8

1 সর্বশক্তিমান প্রভুর কাছ থেকে এই বার্তা এল|
2 প্রভু সর্বশক্তিমান বলেছেন, “আমি সিয়োন পর্বতকে ভালোবাসি| আমি তাকে এতোই ভালোবাসি য়ে সে আমার প্রতি বিশ্বস্ত না হলে আমি তার ওপর খুব রেগে উঠলাম|”
3 প্রভু বলেছেন, “আমি সিয়োনে ফিরে এসেছি| আমি জেরুশালেমে বাস করছি| জেরুশালেমকে বলা হবে বিশ্বস্ত শহর| প্রভুর পর্বতকে বলা হবে পবিত্র পর্বত|”
4 প্রভু সর্বশক্তিমান বলেছেন, “প্রবীন ব্যক্তিদের আবার জেরুশালেমের রাস্তায় ঘাটে দেখা যাবে| দীর্ঘ জীবন লাভ করবে বলে লোকেদের হাঁটার জন্য লাঠির প্রযোজন হবে|
5 ছোট ছোট ছেলেমেযেদের খেলাধূলার কোলাহলে রাস্তাগুলো ভরে থাকবে|
6 অবশিষ্ট যারা থাকবে তারা এটাকে বিস্মযকর বলে গণ্য করবে!” প্রভু সর্বশক্তিমান এ কথা বলেছেন!”
7 প্রভু সর্বশক্তিমান বলেন, “দেখ পূর্ব ও পশ্চিমের দেশগুলি হতে আমি আমার লোকেদের উদ্ধার করব|
8 আমি তাদের এখানে ফিরিয়ে আনব, তারা জেরুশালেমে বাস করবে| তারা আমার লোক হবে এবং আমি তাদের বিশ্বস্ত ঈশ্বর হব|”
9 সর্বশক্তিমান প্রভু বলেছেন, “শক্তিমান হও! সর্বশক্তিমান প্রভুর মন্দিরের প্রস্তর স্থাপন করবার সময় ভাব্বাদীরা এই বার্তা প্রচার করেছিলেন| আজও তোমরা সেই একই বার্তা শুনছ|
10 সেই সময়ের পূর্বে লোকেদের মজুর বা গবাদি পশু ভাড়া করবার টাকা ছিল না| লোকেদের পক্ষে ভ্রমণ বা যাতাযাত করাও নিরাপদ ছিল না| সংকট থেকে লোকে কোন সময়েই নিস্তার পেত না| আমি প্রতিটি লোককে অন্য লোকেদের বিরোধী করে তুলেছিলাম|
11 কিন্তু এখন সেইরকম নয়| অবশিষ্ট যারা রয়েছে তাদের জন্য সেরকম হবে না|” প্রভু সর্বশক্তিমান এইসব কথা বলেন|
12 “এই লোকেরা শান্তিতে রোপণ করবে| দ্রাক্ষাও ফলানো হবে| দেশে ভাল ফসল হবে এবং জমি পর্য়াপ্ত পরিমাণ বৃষ্টি পাবে| আমি এই সব কিছুই আমার লোকেদের দেব|
13 “অন্য জাতিগণ অভিশাপ দেবার জন্য ইস্রায়েল ও যিহূদার নাম উদাহরণস্বরূপ ব্যবহার করত| কিন্তু আমি ইস্রায়েল ও যিহূদাকে রক্ষা করব এবং তাদের নাম আশীর্বাদজনক হয়ে উঠবে| সুতরাং ভয় পেও না, শক্তিমান হও!”
14 সর্বশক্তিমান প্রভু বলেছেন, “তোমার পূর্বপুরুষেরা আমায় রুদ্ধ করেছিল, তাই আমি তাদের ধ্বংস করব স্থির করেছিলাম| আমি আমার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করিনি|” সর্বশক্তিমান প্রভু এই কথাগুলি বলেছেন|
15 “এখন আমি আমার মন পরিবর্তন করেছি আর জেরুশালেম ও যিহূদার লোকেদের মঙ্গল করবার বিষয় স্থির করেছি| সুতরাং ভয় পেও না|
16 কিন্তু তোমাদের অবশ্যই এগুলো করতে হবে: তোমার প্রতিবেশীকে সত্য কথা বলো| আদালতে লোকের বিচার করবার সময় এমন সিদ্ধান্ত নেবে যা সত্য, ঠিক এবং যা লোকেদের মধ্যে শান্তি আনে|
17 তোমার প্রতিবেশীকে আঘাত করার জন্য কোন পরিকল্পনা করো না| মিথ্যা প্রতিশ্রুতি কোর না! এইসব কাজ করে আনন্দ পেও না কারণ আমি এইসব জিনিষ ঘৃণা করি!” প্রভু এইসব কথা বলেছেন|
18 আমি সর্বশক্তিমান প্রভুর কাছ থেকে এই বার্তা পেলাম|
19 সর্বশক্তিমান প্রভু বলেন, “চতুর্থ, পঞ্চম ও দশম মাসের বিশেষ দিনে তোমরা উপবাস করতে থাকো| সেইসব শোকের দিন আনন্দের দিনে পরিণত হবে| সেইসব দিন, আনন্দের হবে ও আশীর্বাদ ধন্য হয়ে উঠবে| সত্য ও শান্তিকে তোমাদের ভালোবাসা উচিত্‌!”
20 সর্বশক্তিমান প্রভু বলেন, “ভবিষ্যতে বহু শহর থেকে লোকেরা জেরুশালেমে আসবে|
21 বিভিন্ন শহরের লোকেরা একে অপরকে অভ্য়র্থনা জানাবে| তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলবে, ‘আমরা সর্বশক্তিমান প্রভুর কাছে প্রার্থনা করতে ও তাঁর উপাসনা করতে যাচ্ছি|’ অন্যরা বলবে, ‘তোমাদের সঙ্গে আমরাও কি য়োগদান করতে পারি?”‘
22 অনেক লোক এবং অনেক বলবান জাতি জেরুশালেমে সর্বশক্তিমান প্রভুর উপাসনা করতে ও তাঁর অনুগ্রহের অন্বেষণ করতে আসবে|
23 প্রভু সর্বশক্তিমান বলেছেন, “সেই সময়, বিদেশ থেকে বিভিন্ন ভাষাভাষী দশজন বিদেশী একজন ইহুদীর কাছে এসে তার কাপড় টেনে ধরে বলবে, ‘আমরা শুনেছি য়ে ঈশ্বর আপনার সঙ্গে রয়েছেন| আমরা কি এসে আপনার সঙ্গে উপাসনা করতে পারি?”‘




অধ্যায় 9

1 ঈশ্বরের কাছ থেকে একটি বার্তা| এ হল হদ্রক দেশ এবং তার রাজধানী দম্মেশকের বিরুদ্ধে প্রভুর বার্তা, “ইস্রায়েল পরিবারগোষ্ঠীরাই একমাত্র পরিবারগোষ্ঠী নয় যারা ঈশ্বর সম্বন্ধে সচেতন| প্রত্যেকেই সাহায্যের জন্য ঈশ্বরের দিকে তাকায|
2
এই বার্তাটি হমাত্‌-এর বিরুদ্ধে| হমাত্‌ হদ্রক শহরের সীমা| এই বার্তাটি সোর ও সীদোনের বিরুদ্ধে যদিও সেই দেশের লোকেরা জ্ঞানী এবং দক্ষ|
3
সোরকে একটি দুর্গের মত করে নির্মাণ করা হয়েছিল| সেখানকার লোকেরা এত রূপো সংগ্রহ করেছে য়ে তা ধূলোর মত অগণিত এবং সোনা ও মাটির মত সাধারণ হয়ে পড়েছে|
4
কিন্তু প্রভু আমাদের সদাপ্রভু তার সবটাই নিয়ে নেবেন| তিনি তার শক্তিশালী নৌবহর ধ্বংস করবেন এবং শহরটিকে আগুন দ্বারা ধ্বংস করবেন!
5
“অস্কিলোনের লোকেরা এইসব দেখে ভয় পাবে| ঘসার লোকেরা ভয়ে কাঁপবে| ইএোণর লোকেরা এইসব ঘটতে দেখে সমস্ত আশা হারিয়ে ফেলবে| ঘসায আর কোন রাজা থাকবে না| অস্কিলোনে কেউ বাস করবে না|
6
অবৈধ সন্তানেরা অস্দোদের রাজা হয়ে বসবে| আমি পলেষ্টীয়দের দর্প চূর্ণ করব|
7
তাদের মুখ আর দাঁত থেকে আমি য়ে মাংসতে তখনও রক্ত লেগেছিল এবং অন্যান্য নিষিদ্ধ খাবার সরিয়ে ফেলব| অবশিষ্ট পলেষ্টীয়রা আমার লোকেদের একটি অংশ বলে গণ্য হবে| তারা যিহূদাতে আরেকটি পরিবারগোষ্ঠী হবে| যিবূষীয়রা য়েমন করেছিল, তেমনিভাবে ইএোণর লোকেরা আমার লোকেদের একটি অংশ হবে|
8
আমার মন্দিরকে রক্ষা করবার জন্য আমি সৈন্যদের বিরুদ্ধে মন্দিরের চারিদিকে শিবির স্থাপন করব| আমি শএু সেনাকে এর ওপর দিয়ে অতিরম করতে দেব না| আমি এখন আমার নিজের চোখ দিয়ে লক্ষ্য রাখছি|”
9
সিয়োন, উল্লাস কর! জেরুশালেমের লোকেরা, আনন্দে চিত্কার কর! দেখ, তোমাদের রাজা তোমাদের কাছে আসছেন! তিনিই সেই ধার্মিক রাজা, তিনিই সেই বিজয়ী রাজা| কিন্তু তিনি নম্র| তিনি একটি খচচরের পিঠে চড়ে আসছেন| একটি ভারবাহী গাধার বাচচার ওপর চড়ে আসছেন|
10
রাজা বলেন, “আমি ইফ্রয়িমের রথগুলি এবং জেরুশালেমের অশ্বগুলিকেও সরিয়ে ফেলব| আমি যুদ্ধে ব্যবহার করবার ধনু ভেঙ্গে ফেলব|” রাজা জাতিগুলির কাছে শান্তির সংবাদ আনবেন| তিনি সাগর থেকে সাগরে রাজত্ব করবেন| ফরাত্‌ নদী থেকে পৃথিবীর দূরতম প্রান্ত পর্য়ন্ত|
11
জেরুশালেম, তোমার চুক্তি রক্তের মধ্যে সীলমোহর করা হয়েছিল| তাই আমি তোমার বন্দীদের শূন্য আধার থেকে রক্ষা করেছি|
12
বন্দীরা, তোমাদের মাতৃভূমিতে ফিরে যাও! এখন তোমাদের আশার কিছু বাকী রয়েছে| আমি আবার এই দ্বিতীয়বার বলছি আমি তোমাদের কাছে ফিরে আসছি!
13
যিহূদা, আমি তোমাকে ধনুকের মত ব্যবহার করব| ইফ্রয়িম, আমি তোমাকে তীরের মত ব্যবহার করব| ইস্রায়েল, আমি তোমাকে গ্রীসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে তরবারির মত ব্যবহার করব|
14
প্রভু তাদের সামনে দর্শন দেবেন এবং তাঁর তীরগুলি বিদ্য়ুতের মত ছুঁড়বেন| প্রভু আমার সদাপ্রভু শিঙা বাজাবেন আর সেনারা মরুভূমির ধূলোর ঝড়ের মত সামনে ধেযে যাবে|
15
সর্বশক্তিমান প্রভু তাদের প্রতিরক্ষা করবেন| সেনারা পাথর দিয়ে শএুদের পরাজিত করবে| তারা তাদের শএুদের রক্ত দ্রাক্ষারসের মত প্রবাহিত করিযে তাদের হত্যা করবে| এটা হবে সেই রক্তের মত যা বেদীর কোণগুলোতে ছুঁড়ে ফেলা হয়!
16
সেই সময়ে, য়েমন একজন মেষপালক তার মেষদের রক্ষা করে তেমনিভাবে প্রভু তাঁর লোকেদের রক্ষা করবেন| তারা তাঁর কাছে অত্যন্ত মূল্যবান হবে| তাঁর হাতে তারা হবে চাকচিক্যময় গযনার মত|
17 সবকিছু মঙ্গলময় ও সুন্দর হবে| শস্য এবং দ্রাক্ষা হবে প্রচুর, এবং সমস্ত যুবক-যুবতী সেগুলো খেয়ে এবং নতুন দ্রাক্ষারস পান করে শক্তিশালী হয়ে উঠবে!




অধ্যায় 10

1 প্রভুর কাছে বসন্তকালে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা কর| প্রভু বজ্র পাঠাবেন এবং বৃষ্টি পড়বে| প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেতে শস্য বৃদ্ধির জন্য ঈশ্বর বৃষ্টি দেন|
2 লোকে মূর্ত্তি ও যাদুর মাধ্যমে ভবিষ্যত্‌ জানতে চেষ্টা করে| কিন্তু সেটা কোন কাজের নয়| যাদুকররা সবসময় তাদের স্বপ্ন ও দর্শন সম্পর্কে কথা বলে কিন্তু সেগুলো সবই নিছক মিথ্যা| তাই লোকেরা সাহায্যের জন্য ভুল পথে চালিত মেষের মত এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং তাদের চালনা করবার জন্য কোন মেষপালক নেই|
3 প্রভু বলেন, “আমি মেষপালকদের প্রতি অত্যন্ত রুদ্ধ| আমি তাদের শাস্তি দেব| ঐ নেতারা আমার লোকেদের জন্য জবাবদিহি করতে বাধ্য|” (যিহূদার লোকেরা ঈশ্বরের পাল| ঈশ্বর তাদের যত্ন নেন, ঠিক য়েমন একজন সৈন্য তার সুন্দর যুদ্ধের অশ্বের যত্ন নেয|)
4 “কোণের পাথর, তাঁবুর কীলক, যুদ্ধের ধনু এবং আধিকারিকরা একসঙ্গে আসবে|
5 তারা হবে য়োদ্ধারা শএু সৈন্যবাহিনীর ওপর রাস্তা ঘাটে কাদা মাড়িয়ে চলে যাবার মত| তারা যখন লড়াই করবে প্রভু তাদের সঙ্গে থাকবেন| তারা অশ্বারোহী সৈন্যদেরও হারাবে|
6 আমি যিহূদার পরিবারকে বলবান করব| যুদ্ধ জেতার জন্য আমি য়োষেফের পরিবারকে সাহায্য করব| আমি তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনব| তাদের এমন সান্ত্বনা দেব মনে হবে আমি য়েন কখনই তাদের ছেড়ে যাই নি| আমিই প্রভু তাদের ঈশ্বর তাদের সাহায্য করব|
7 ইফ্রয়িমের লোকেরা য়োদ্ধাদের মত খুশী হবে, যারা পান করবার জন্য প্রচুর দ্রাক্ষারস পেয়েছে| তাদের ছেলেমেযেরাও উল্লাস করবে| তাদের হৃদয় প্রভুতে আনন্দিত হয়ে উঠবে|
8 “আমি শিস্ দিয়ে তাদের সবাইকে ডাকব| আমি তাদের সংগ্রহ করব| আমি তাদের সত্যিই রক্ষা করব এবং তারা অতীতের মত বংশবৃদ্ধি করবে|
9 হ্যাঁ, আমি আমার লোকেদের বিভিন্ন জাতির মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছি| সেইসব দূরবর্তী স্থানে তারা আমায় স্মরণ করবে| তারা ও তাদের সন্তানেরা জীবন্ত ফিরে আসবে|
10 আমি তাদের মিশর ও অশূর থেকে ফিরিয়ে আনব, তাদের গিলিয়দ ও লিবানোন অঞ্চলে নিয়ে আসব| এবং তাদের জন্য যথেষ্ট জায়গা থাকবে না”
11 (তিনি দুর্য়োগপূর্ণ সমুদ্র পার হবেন এবং দুরন্ত জলরাশিতে আঘাত হানবেন| নীল নদীর গভীরতম জল তিনি শুকিয়ে ফেলবেন| অশূরের গর্বের পতন হবে এবং মিশরের ক্ষমতা নিয়ে নেওয়া হবে|)
12 প্রভু তাঁর লোকেদের শক্তিশালী করবেন এবং তারা তাঁর কর্ত্তৃত্বে এবং নামে বাঁচবে| প্রভু এইসব কথা বলেছেন|




অধ্যায় 11

1 লিবানোন, তোমার ফটকগুলি খোল, আগুন তোমার এরস বৃক্ষগুলি পুড়িয়ে শেষ করে দিক |
2 বৃহত্‌ এরস বৃক্ষগুলিকে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দেবদারু বৃক্ষরা কাঁদবে| ঐসব দৃঢ় বৃক্ষগুলিকে নিয়ে যাওয়া হবে| বাশনের ওক গাছগুলি দুষ্প্রবেশ্য বন কেটে ফেলা হয়েছে বলে কাঁদবে|
3 শোন মেষপালকরা কাঁদছে কারণ তারা তাদের পশুচারণভূমি হারিয়েছে| যুব সিংহশাবকগুলির গর্জন শোন| যর্দন নদীর ধারের ঘন বনটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে|
4 প্রভু আমার ঈশ্বর এই কথাগুলি বলেন, “য়ে মেষগুলিকে হত্যা করবার জন্য পালন করা হচ্ছে তাদের যত্ন নাও|
5 যারা সেগুলো কেনে ও হত্যা করে তাদের শাস্তি দেওয়া হবে না| য়ে সব ব্যবসায়ী মেষগুলো বিক্রিী করেছে তারা বলে, ‘প্রভুর প্রশংসা কর, আমি ধনী হয়ে উঠেছি!’ মেষপালকরা তাদের মেষদের জন্য দুঃখিত হয় নি|
6 আমি এই দেশে য়ে লোকেরা থাকে তাদের প্রতি সহানুভূতিপূর্ণও হব না” প্রভু এইসব কথা বলেছেন, “আমি প্রত্যেককে তার প্রতিবেশী ও রাজার দ্বারা অপব্যবহৃত হতে দেব| আমি তাদের দেশ ধ্বংস করতে দেব| আমি তা বন্ধ করব না!”
7 তাই আমি সেই সব হতভাগ্য মেষের যত্ন নিলাম, যাদের হত্যা করার জন্য পালন করা হয়েছিল| আমি এই কাজের জন্য দুটি লাঠি নিলাম| একটি লাঠির নাম দিলাম মনোরম, আর অন্যটির নাম দিলাম ঐক্য| তারপর আমি মেষদের যত্ন নিতে শুরু করলাম|
8 এক মাসের মধ্যে আমি তিনজন মেষপালককে বরখাস্ত করলাম| আমি মেষদের প্রতি অধৈর্য় হলাম এবং তারাও আমাকে ঘৃণা করতে শুরু করল|
9 তখন আমি বললাম, “আমি চললাম, আমি তোমাদের যত্ন নেব না| য়ে সব লোকেরা মরতে বসেছে, তারা মরুক | যারা ধ্বংস হতে চলেছে তাদের ধ্বংস হোক | এবং যারা বাকী থাকবে তারা একে অপরকে ধ্বংস করুক|”
10 এরপর আমি “মনোরম” নামক লাঠিটা নিলাম এবং তা ভেঙ্গে ফেললাম| সমস্ত লোকেদের সঙ্গে ঈশ্বরের চুক্তি য়ে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গিয়েছিল তা দেখাবার জন্য আমি এটা করলাম|
11 তাই, সেই দিনে চুক্তিটি এবং সেই হতভাগ্য মেষেরা যারা আমাকে লক্ষ্য করছিল, তারা জানল য়ে এই বার্তা ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছিল|
12 তখন আমি বললাম, “তুমি যদি আমায় বেতন দিতে চাও তো দাও, নতুবা দিও না!” তাই তারা আমায় 30 টি রূপোর মুদ্রা দিল|
13 তখন প্রভু আমায় বললেন, “তাদের চোখে আমি ঐরকম মূল্যবান| ঐ টাকা মন্দিরের অর্থভাণ্ডারে ছুঁড়ে ফেল|” তাই আমি সেই 30 টি রূপোর মুদ্রা নিয়ে প্রভুর মন্দিরের অর্থ ভাণ্ডারে ছুঁড়ে দিলাম|
14 এরপর আমি ঐক্য নামক লাঠিটা নিয়ে দুই টুকরো করে ভাঙলাম| যিহূদা ও ইস্রায়েলের মধ্যে য়ে আর ঐক্য নেই সেটা তাদের বোঝাবার জন্য আমি এটা করলাম|
15 তখন প্রভু আমায় বললেন, “এখন সেইসব জিনিস নাও যা কেবলমাত্র একজন মূর্খ মেষপালক ব্যবহার করে|
16 এটা থেকেই তারা বুঝবে য়ে আমি আমার দেশে একজন নতুন মেষপালক আনব| য়ে মেষেরা মারা যাচ্ছে তাদের যত্ন এই যুবক নিতে পারবে না| সে আহত মেষদের সুস্থ করতে পারবে না| যারা বেঁচে রয়েছে তাদের সে খাওয়াতে পারবে না| সুস্থ সবল মেষদের মেরে ফেলা হবে এবং তাদের মাংস সম্পূর্ণরূপে খেয়ে ফেলা হবে| কেবল তাদের ক্ষুরগুলো পড়ে থাকবে|”
17 ওহে আমার অকর্মণ্য মেষপালক, তোমরা আমার মেষদের ত্যাগ করেছ| ওকে শাস্তি দাও! ওর ডান চোখে ও হাতে তরবারি দিয়ে আঘাত কর| তার ডান হাত নিষ্কর্মা হয়ে যাবে| তার ডান চোখ অন্ধ হবে|




অধ্যায় 12

1 ইস্রায়েল সম্বন্ধে প্রভুর করুণ বার্তা| প্রভু আকাশকে বিস্তৃত করেছেন এবং পৃথিবীকে তার ভিত্তির ওপর বসিযেছেন| তিনিই সেই জন যিনি লোকেদের মধ্যে আত্মা রেখেছেন| আর প্রভুই এইসব কথা বলেছেন|
2 “দেখ, জেরুশালেমকে আমি তার প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে একটি বিষের পাত্রে পরিণত করব| ঐ দেশগুলো জেরুশালেম শহরকে আরমণ করবে| সমগ্র যিহূদা অবরুদ্ধ হবে|
3 আমি জেরুশালেমকে একটা ভারী পাথরের মত করে দেব| য়ে কেউ তাকে নিতে চেষ্টা করবে সেই ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে| তারা কাটা পড়বে এবং তার দ্বারা তাদের আঁচড় লাগবে| তবু পৃথিবীর সমস্ত জাতি জেরুশালেমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে একত্রে আসবে|
4 সেই সময়ে আমি ঘোড়াদের ভীত করব এবং ঘোড়সওযাররা আতঙ্কগ্রস্ত হবে| আমি শএুপক্ষের সমস্ত ঘোড়াকে অন্ধ করে দেব, কিন্তু আমার চোখ খোলা থাকবে আর আমি যিহূদা পরিবারের উপর নজর রাখব|
5 যিহূদা পরিবারের নেতারা লোকেদের উত্সাহিত করবে| তারা বলবে, ‘প্রভু সর্বশক্তিমানই আমাদের ঈশ্বর| তিনিই আমাদের বলবান করেন|’
6 সেই সময়, আমি ঐ নেতাদের বনভূমির একটি আগুনের মত করে দেব| আগুন য়েমন খড়কে পুড়িয়ে ধ্বংস করে, ঠিক তেমনিভাবে তারা তাদের শএুদের সম্পূর্ণরূপে পুড়িয়ে দেবে| তাদের চারিদিকের শএুদেরও তারা ধ্বংস করবে| যাতে জেরুশালেমের লোকেরা আরাম করতে পারে|”
7 প্রভু প্রথমে যিহূদার লোকেদের রক্ষা করবেন, আর তাই জেরুশালেমের লোকেরা আর বেশী বড়াই করতে পারবে না| দায়ূদের পরিবার ও জেরুশালেমে বসবাসকারী অন্য লোকেরাও বড়াই করে বলতে পারবে না য়ে তারা যিহূদার অন্য লোকেদের চাইতে ভাল|
8 কিন্তু প্রভু জেরুশালেমের লোকদের প্রতিরক্ষা করবেন| এমনকি সবচেয়ে জবরজঙ লোকও দায়ূদের মত মহাবীর সৈন্য হয়ে উঠবে| দায়ূদ পরিবারের লোকেরা দেবতাদের তুল্য হবে| প্রভুর দূতদের মত, তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে এগিয়ে দেবে|
9 প্রভু বলেন, “সেই সময়ে জেরুশালেমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে য়েসব জাতি আসবে তাদের আমি ধ্বংস করব|
10 আমি দায়ূদের ও পরিবারের সদস্যদের এবং জেরুশালেমে বাসকারী লোকেদের আমি ক্ষমাশীল ও দয়ায় ভরা আত্মা দেব| তারা আমার দিকে তাকাবে, সেই একজন যাকে তারা বিদ্ধ করেছিল এবং তারা বিলাপ করবে| একমাত্র পুত্রের বিয়োগে লোকে য়েমন শোক করে তারা সেরকম তীব্রভাবে কাঁদবে| একজনের প্রথমজাত পুত্রের মৃত্যুতে লোকে য়েমন শোক করে, তারা তেমনই শোক করবে|
11 সেসময় জেরুশালেমে রোদন ও মহাশোকের দিন উপস্থিত হবে| মগিদ্দোন উপত্যকায় হদদ্-রিম্মোণের মৃত্যুতে লোকে য়েমন রোদন করেছিল এসময় সেরকমই হবে|
12 প্রতিটি পরিবার নিজে থেকেই দুঃখে শোক করবে| দায়ূদ পরিবারের পুরুষ সদস্যরা নিজে থেকেই শোক করবে এবং তাদের স্ত্রীরা নিজে থেকেই রোদন করবে| নাথন পরিবারের পুরুষ সদস্যরা নিজের থেকেই শোক করবে এবং তাদের স্ত্রীরা পৃথক পৃথক ভাবে কাঁদবে|
13 লেবির পরিবারের পুরুষ সদস্যরা নিজের থেকেই শোক করবে ও তাদের স্ত্রীরাও নিজে থেকেই কাঁদবে| শিমিযন পরিবারের পুরুষ সদস্যরা নিজে থেকেই শোক করবে এবং তাদের স্ত্রীরাও নিজে থেকেই কাঁদবে|
14 অন্যান্য পরিবারগোষ্ঠীর ক্ষেত্রেও সেই একই ব্যাপার হবে| পুরুষেরা ও স্ত্রীলোকেরা নিজে থেকেই কাঁদবে|”




অধ্যায় 13

1 সেইদিন দায়ূদ পরিবারের সদস্যদের জন্য ও জেরুশালেমে বসবাসকারী অন্যান্য লোকেদের জন্য এক নতুন ঝর্ণা খোলা হবে| এই ঝর্ণাটি হবে পাপ ও অশুদ্ধি থেকে শুদ্ধিকরণের নিমিত্ত|
2
সর্বশক্তিমান প্রভু বলেছেন, “সেইসময় আমি পৃথিবী থেকে মূর্ত্তিসমূহের নাম কেটে দেব| ভ্রান্ত ভাব্বাদীদের আর অশুদ্ধ আত্মাদের সরিয়ে দেব| লোকেরা এমনকি তাদের নামও মনে করবে না| এবং আমি ভ্রান্ত ভাব্বাদী ও অশুচি আত্মাদের পৃথিবী থেকে দূর করব|
3
যদি কেউ ভাব্বাণী অব্যাহত রাখে, তবে তাকে শাস্তি পেতে হবে| এমনকি তার পিতামাতাও তাকে বলবে, ‘প্রভুর নামে তুমিও মিথ্যা কথা বলছ|’ সে ভাব্বাণী করছে বলে তার মাতা পিতাই তাকে বিদ্ধ করে হত্যা করবে|
4
সেই সময়, ভাব্বাদীরা তাদের দর্শন ও ভাব্বাণী সম্বন্ধে লজ্জিত হবে| তারা নিজেদের ভাব্বাদী বলে সনাক্ত করবার জন্য ভাব্বাদীদের নিমিত্ত মোটা পোষাক পরবে না| তারা লোককে ঠকাবার জন্য ঐ পোষাকগুলো পরবে না|
5
তারা বলবে, ‘আমি একজন ভাব্বাদী নই| আমি একজন কৃষক, এবং ছোট বেলা থেকেই আমি মাঠে কৃষি কাজ করেছি|’
6
কিন্তু অন্য লোকেরা বলবে, ‘কিন্তু তোমার হাতের ঐ আঘাতগুলি কিসের?’ সে তখন বলবে, ‘আমি আমার বন্ধুর বাড়ী মার খেয়েছিলাম|”‘
7
সর্বশক্তিমান প্রভু বলেছেন, “আমার তরবারি মেষপালকদের আঘাত করুক! সেটা আমার বন্ধুকে আঘাত করুক! মেষপালকদের আঘাত কর এবং মেষেরা পলায়ন করবে| এবং আমি সেই ক্ষুদ্রগণকে শাস্তি দেব|
8
দেশের দুই-তৃতীয়াংশ লোক আঘাতে মারা যাবে কিন্তু এক-তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকবে|
9 তখন আমি ঐ অবশিষ্ট এক তৃতীয়াংশ লোকেদের পরীক্ষা করব| আমি তাদের বিভিন্ন সংকটে ফেলব| সেগুলো হবে তাদের অগ্নিপরীক্ষার মত ঠিক য়েমন লোকেরা আগুন ব্যবহার করে রূপোকে খাঁটি করতে অথবা সোনা খাঁটি কিনা তা পরীক্ষা করতে| তখন তারা আমার নামে ডাকবে আর আমি তাদের ডাকে সাড়া দেব| আমি বলব, ‘তোমরা আমার লোক|’ আর তারা বলবে, ‘প্রভু আমাদের ঈশ্বর|”‘




অধ্যায় 14

1 দেখ, বিচারের জন্য প্রভুর বিশেষ দিন আসছে| আর য়ে সম্পদ তুমি লুঠ করছ তা তোমার শহরে ভাগ করা হবে|
2 জেরুশালেমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবার জন্য আমি সমস্ত জাতিকে জড়ো করব| শএুরা শহর অধিকার করবে এবং ঘর বাড়ি ধ্বংস করবে| স্ত্রীলোকদের ওপর বলাত্‌কার করা হবে এবং অর্ধেক লোককে বন্দী করে নির্বাসনে নিয়ে যাওয়া হবে| বাদবাকীরা পেছনে পড়ে থাকবে|
3 তখন সেইসব জাতির সঙ্গে যুদ্ধ করবার জন্য প্রভু নিজে যাবেন অতীতে য়েমন তিনি যুদ্ধ করেছিলেন|
4 সেই সময় তিনি জৈতুন পর্বতের ওপরে দাঁড়াবেন, য়ে পর্বত জেরুশালেমের পূর্বে অবস্থিত| জৈতুন পর্বত চিরে যাবে এবং পর্বতের একভাগ উত্তরে, অপরভাগ দক্ষিণে সরে যাবে| পশ্চিম থেকে পূর্বে এক গভীর উপত্যকার সৃষ্টি হবে|
5 সেই উপত্যকা তোমার নিকটবর্তী হলে তোমরা পালাবার চেষ্টা করবে| য়েমন যিহূদার রাজা উষিযের সময়ে ভূমিকম্পের দিনে তোমরা দৌড়েছিলে সেইরকম দৌড়ে পালাবে| ঈশ্বর আসবেন, এবং তাঁর সমস্ত পবিত্র লোকেরা তাঁর সঙ্গে থাকবে|
6 সেই দিন হবে বিশেষ দিন| সেই দিন আলো, ঠাণ্ডা বা হিম বলে কিছু থাকবে না| কেবল প্রভু জানেন তা কিভাবে হবে, কিন্তু দিন বা রাত বলে কিছু থাকবে না| সাধারণতঃ অন্ধকার যখন নেমে আসে সেই সময়তেও আলো থাকবে|
7
8 সেই দিন জেরুশালেম থেকে জীবন্ত জলের ধারা বইবে| সেই জলধারা দুটি স্রোতে ভাগ হয়ে এক ভাগ পূর্ব দিকে মৃত সাগরে এবং অপর ভাগ পশ্চিমে ভূমধ্যসাগরে বইবে| সেই জলের ধারা সারা বছর ধরে থাকবে, কি গ্রীষ্মে, কি শীতে|
9 সেই সময়, প্রভু সমস্ত পৃথিবীর রাজা হবেন| সেই দিন প্রভু হবেন একজন| তাঁর নাম হবে একটিই|
10 সেই সময়, জেরুশালেমের চারধার মরুভূমিতে পরিণত হবে| গেবা থেকে নেগেভের রিম্মোণ পর্য়ন্ত মরুভূমির মত হয়ে যাবে| কিন্তু জেরুশালেমের পুরো শহরটি আবার নির্মাণ করা হবে| বিন্যামীন ফটক থেকে প্রথম ফটক (কোণের ফটক) পর্য়ন্ত এবং হননেলের দুর্গ থেকে রাজার দ্রাক্ষা কুণ্ড পর্য়ন্ত|
11 কোন শএু আর তাদের ধ্বংস করতে সেখানে আসবে না| জেরুশালেম নিরাপদ হবে|
12 কিন্তু য়ে সমস্ত জাতি জেরুশালেমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল, প্রভু তাদের শাস্তি দেবেন| তাদের মাঝে তিনি প্লেগ রোগটি পাঠাবেন| জীবিতকালেই তাদের মাংস পচতে শুরু করবে| তাদের চোখগুলো কোটরে পচবে আর জিব মুখের মধ্যে পচতে শুরু করবে|
13 এই মারাত্মক রোগ শএু শিবিরগুলিতে ছড়িয়ে যাবে| সেই মারাত্মক রোগ তাদের ঘোড়া, উট এবং গাধাদের মধ্যেও ছড়িয়ে যাবে|সেই সময়, ঐ লোকেরা সত্যিই প্রভুকে ভয় পাবে| প্রত্যেকটি লোক অন্য লোকের হাত টেনে ধরবে আর তারা একে অপরের সঙ্গে লড়াই করবে| এমনকি যিহূদাও জেরুশালেমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে| সমস্ত লোকের কাছ থেকে সোনা, রূপো ও কাপড় চোপড় জড়ো করার পরও এটা ঘটবে|
14
15
16 জেরুশালেমে যারা যুদ্ধ করতে এসেছিল, তার থেকে বেঁচে থাকা লোকেরা প্রতি বছর সেই রাজা যিনি সর্বশক্তিমান প্রভু, তাঁর উপাসনা করতে আসবে| এবং কুটিরবাস পর্ব পালন করতে জেরুশালেম পর্য়ন্ত যাবে|
17 আর পৃথিবীর কোন পরিবার যদি জেরুশালেমে সর্বশক্তিমান প্রভুর উপাসনা করতে না যায় তবে প্রভু তাদের বৃষ্টি দেবেন না|
18 যদি মিশরের কোন পরিবার কুটিরবাস পর্ব পালন করতে না আসে তবে প্রভু শএু জাতিদের ক্ষেত্রে য়েমন করেছিল তেমনি তাদেরও সেই মারাত্মক রোগে আএান্ত করবেন|
19 এই শাস্তি হবে মিশরীয়দের জন্য এবং অন্য য়ে কোন জাতি যারা কুটিরবাস পর্ব পালন করতে না আসে তাদের জন্য|
20 সেই সময়, প্রভু সব কিছুর মালিক হবেন| এমনকি ঘোড়ার গলার ঘণ্টিগুলিতেও লেখা থাকবে, ‘প্রভুর জন্য পবিত্র|’আর প্রভুর মন্দিরে ব্যবহৃত সমস্ত বাসন-কোষন বেদীর বাটীর মত পাত্রগুলির মতোই গুরুত্বপূর্ণ হবে|
21 প্রকৃতপক্ষে জেরুশালেম ও যিহূদার প্রতিটি পাত্রেই এই কথা লেখা থাকবে| প্রভু সর্বশক্তিমানের জন্য পবিত্র| নৈবেদ্য উত্সর্গ করতে য়ে সমস্ত লোক এসেছিল এসে সেই সমস্ত পাত্র নিয়ে তাতে তাদের বিশেষ খাবার রান্না করবে|সেই সময়, সর্বশক্তিমান প্রভুর মন্দিরে কোন ব্যবসায়ীকে আর দেখতে পাওয়া যাবে না|