করিন্থীয় ২

1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13


অধ্যায় 1

1 এখন ঈশ্বরের লোকদের দেবার জন্য অর্থ সংগ্রহের বিষয় বলছি: গালাতীয়ার মণ্ডলীকে আমি য়েমন বলেছিলাম তোমরাও তেমন করবে;
2 সপ্তাহের প্রথম দিন রবিবার তোমরা তোমাদের উপার্জন থেকে সঙ্গতী অনুসারে যতটা সন্ভব বাঁচিয়ে সেই অর্থ গৃহে বিশেষ কোন স্থানে আলাদা করে জমাবে৷ তাহলে আমি যখন আসব তখন অর্থ সংগ্রহ করার প্রযোজন হবে না৷
3 আমি যখন পৌঁছব, তখন তোমরা যাদের য়োগ্য বলে মনে কর তাদের হাত দিয়ে সেই অর্থ জেরুশালেমে পাঠাবে৷ আমার লেখা চিঠি পরিচয়পত্র হিসাবে তারা নিয়ে যাবে;
4 আর আমার যাওয়া যদি ঠিক বলে মনে হয় তবে তারা আমার সঙ্গেই যাবে৷
5 আমি মাকিদনিয়া হয়ে যাবার পরিকল্পনা করছি৷ মাকিদনিয়ার মধ্য দিয়ে যাবার পথে তোমাদের ওখানে যাব৷
6 সন্ভব হলে হয়তো কিছুদিন তোমাদের ওখানে থেকে যাব৷ শীতকালটা হয়তো তোমাদের ওখানেই কাটাব৷ এরপর তোমাদের কাছ থেকে আমি য়েখানে যাব, আমার সেখানে যাবার ব্যবস্থায় তোমরা সাহায্য করতে পারবে৷
7 এখন যাত্রাপথে তোমাদের সঙ্গে দেখা করতে চাই না৷ প্রভুর ইচ্ছা হলে তোমাদের সঙ্গে অনেকটা সময় কাটাবার ইচ্ছা আছে৷
8 পঞ্চাশত্তমীর দিন পর্যন্ত আমি ইফিষে থাকব৷
9 কারণ এখানে য়ে কাজে ফল পাওয়া যায় সেই রকম কাজের জন্য একটা মস্ত বড় সুয়োগ আমার সামনে এসেছে, যদিও এখানে অনেকে বিরোধিতা করছে৷
10 তীমথিয় তোমাদের কাছে য়েতে পারেন, তাঁকে আদর যত্ন করো৷ তোমাদের সঙ্গে তিনি য়েন নির্ভয়ে থাকতে পারেন৷ তিনিও আমার মতো প্রভুর কাজ করছেন, কেউ য়েন তাঁকে তাচ্ছিল্য না করে৷
11 তাঁকে তোমরা তাঁর যাত্রা পথে শান্তিতে এগিয়ে দিও, য়েন তিনি আমার কাছে আসতে পারেন৷ ভাইদের সঙ্গে নিয়ে তিনি আমার কাছে আসবেন এই প্রত্যাশায় আছি৷
12 এখন আমি তোমাদের ভাই আপল্লোর বিষয়ে বলি: আমি তাঁকে অনেক ভাবে উত্‌সাহিত করেছি য়েন তিনি অন্যান্য ভাইদের সঙ্গে তোমাদের কাছে যান৷ কিন্তু এটা পরিষ্কার য়ে তোমাদের কাছে যাবার ইচ্ছা তাঁর এখন নেই৷ তিনি সুয়োগ পেলেই তোমাদের কাছে যাবেন৷
13 তোমরা সতর্ক থেকো, বিশ্বাসে স্থির থেকো, সাহস য়োগাও, বলবান হও৷
14 তোমরা যা কিছু কর তা ভালবাসার সঙ্গে কর৷
15 আমার ভাইয়েরা, আমি তোমাদের কাছে একটা অনুরোধ করছি, তোমরা স্তিফান ও তাঁর পরিবারের বিষয়ে জান৷ আখায়াতে (গ্রীসে) তাঁরাই প্রথম খ্রীষ্টানুসারী হন৷ এখন তাঁরা খ্রীষ্টানুসারীদের সেবায় নিজেদের নিযোগ করেছেন৷ ভাইয়েরা, তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ,
16 তোমরা এইরকম লোকদের, যারা প্রভুর সেবায় নিযুক্ত আছেন, তাঁদের নেতৃত্ব মেনে নাও৷
17 আমি খুব খুশী কারণ স্তিফান, ফর্তুনাত আর আখায়া এখানে এসে তোমাদের না থাকার অভাব পূর্ণ করে দিয়েছেন৷
18 তাঁরা তোমাদের মতো আমার আত্মাকে তৃপ্ত করেছেন৷ তাই তোমরা এরূপ লোকদের চিনতে ভুল করো না৷
19 এশিয়ার সমস্ত মণ্ডলী তোমাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছে৷ আক্কিলা ও প্রিষ্কা আর তাঁদের বাড়িতে যারা উপাসনার জন্য সমবেত হন তাঁরা সকলে তোমাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন৷
20 তোমরা পরস্পর একে অপরকে পবিত্র চুম্বনে শুভেচ্ছা জানিও৷
21 আমি পৌল, আমি নিজের হাতে এই শুভেচ্ছা বাণী লিখে পাঠালাম৷
22 প্রভুকে য়ে ভালবাসে না তার ওপর অভিশাপ নেমে আসুক৷ আমাদের প্রভু আসুন৷
23 প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহ তোমাদের সঙ্গে থাকুক৷
24 খ্রীষ্ট যীশুতে তোমাদের সকলের জন্য আমার ভালবাসা রইল৷




অধ্যায় 2

1 তাই আমি স্থির করেছিলাম য়ে আবার তোমাদের দুঃখ দেওয়ার জন্য তোমাদের কাছে যাব না৷
2 কারণ তোমাদের যদি আমি দুঃখ দিই তবে আমাকে সুখী করবে কে? একমাত্র তোমরাই যাঁরা আমার কাছে দুঃখ পেয়েছ৷
3 এইজন্য সেই সব কথা লিখেছিলাম, যাতে যখন আমি আসব তখন যাদের কাছ থেকে আমার আনন্দ পাওয়া উচিত, তাদের কাছ থেকে আমায় য়েন দুঃখ পেতে না হয়৷ কারণ তোমাদের সকলের বিষয়ে আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই য়ে আমার আনন্দে তোমাদের সকলেরই আনন্দ৷
4 অনেক কষ্ট, মনো বেদনা ও চোখের জলের মধ্যে দিয়ে সেই চিঠি তোমাদের লিখেছিলাম৷ আমি তোমাদের ব্যথা দিতে চাই নি; কিন্তু বোঝাতে চেয়েছিলাম য়ে আমি তোমাদের কতো ভালবাসি৷
5 কিন্তু কেউ যদি ব্যথা দিয়ে থাকে তবে সে য়ে শুধু আমাকে ব্যথা দিয়েছে তা নয়, বেশী বাড়িয়ে না বলে এটুকু বলছি য়ে, তোমাদের সকলকেই সে কিছু পরিমাণ ব্যাথা দিয়েছে৷
6 তোমাদের মধ্যে বেশীর ভাগ লোক মিলে এই ধরণের লোককে য়ে শাস্তি দিয়েছ সেটাই তার পক্ষে যথেষ্ট৷
7 কিন্তু এখন তোমাদের বরং তাকে ক্ষমা করা ও সান্ত্বনা দেওয়া উচিত৷ তা না হলে সে হয়তো অত্যধিক মনোবেদনায় হতাশ হয়ে পড়বে৷
8 আমি তোমাদের অনুরোধ করছি, তোমরা য়ে তাকে এখনও ভালবাস এটা তাকে বুঝতে দাও৷
9 তোমরা সমস্ত বিষয়ে আমার বাধ্য হও কিনা তা পরীক্ষা করে দেখতে আমি তোমাদের কাছে সেই চিঠিটা লিখেছিলাম৷
10 যদি তোমরা কাউকে ক্ষমা কর, আমিও তাকে ক্ষমা করি৷ যদি ক্ষমা করার মত কিছু থেকেই থাকে তবে আমি যা ক্ষমা করেছি তা খ্রীষ্টের সামনে তোমাদের ভালোর জন্যেই করেছি৷
11 য়েন আমরা শয়তানের চতুরতার দ্বারা প্রতারিত না হই, কারণ আমরা তার ষড়যন্ত্র সম্বন্ধে অজ্ঞ নই৷
12 আমি যখন ত্রোয়াতে খ্রীষ্ট সম্বন্ধে সুসমাচার প্রচার করতে এসেছিলাম, তখন দেখলাম প্রভু কাজের জন্য নতুন দরজা খুলে দিয়েছেন৷
13 কিন্তু আমি খুব উদ্বেগে ছিলাম, কারণ সেখানে আমি আমার ভাই তীতকে পাই নি; তাই আমি তাদের বিদায় জানিয়েছিলাম এবং মাকিদনিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলাম৷
14 কিন্তু ঈশ্বর ধন্য, কারণ তিনি খ্রীষ্টের মধ্য দিয়ে সর্বদাই আমাদের জয়লাভের পথ দেখান এবং আমাদের মধ্য দিয়ে সর্বত্র তাঁর সম্বন্ধে জ্ঞান সৌরভের মত ছড়িয়ে দেন৷
15 যাঁরা উদ্ধার পাচ্ছে এবং যাঁরা বিনাশ হচ্ছে তাদের সামনে আমরা ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে খ্রীষ্টের সুগন্ধযুক্ত ধূপ৷
16 যাঁরা হারিয়ে যাচ্ছে তাদের কাছে আমরা মৃত্যুমূলক মৃত্যুজনক গন্ধ; কিন্তু যাঁরা পরিত্রাণ পাচ্ছে তাদের কাছে আমরা জীবনমূলক জীবনদায়ক গন্ধ, সুতরাং কে এইরকম কাজ করার উপযুক্ত?
17 অনেকে য়েমন করে সেরকম আমরা ঈশ্বরের বাক্য নিয়ে লাভ করার জন্য ফেরিওয়ালার মত ফেরি করে বেড়াই না বরং খ্রীষ্টেতে আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে ঈশ্বর হতে আগত লোক হিসাবে ঈশ্বরের সামনে কথা বলি৷




অধ্যায় 3

1 আমরা এসব বলে কি আবার নিজেদের বিষয়ে প্রশংসা করতে শুরু করেছি? অথবা কোন কোন লোক য়েমন করে থাকে তেমনি তোমাদের কাছে আমাদেরও কি কোন পরিচয় পত্র নিয়ে য়েতে হবে, বা তোমাদের সুপারিশের কি আমাদের কোন প্রযোজন আছে?
2
তোমরাই আমাদের পরিচয় পত্র, যা আমাদের হৃদয়ে লেখা আছে, যা সমস্ত মানুষ জানতে ও পড়তে পারে৷
3
তোমরা য়ে খ্রীষ্টের লেখা পত্র এবং আমরাই তা পৌঁছে দিয়েছি তা তো দেখতেই পাওয়া যাচ্ছে৷ তা কালি দিয়ে লেখা নয়, কিন্তু জীবন্ত ঈশ্বরের আত্মা দিয়ে লেখা; পাথরের ফলকে লেখা নয়, মানুষের হৃদয়ের ফলকের ওপরই লেখা৷
4
খ্রীষ্টের মাধ্যমে ঈশ্বরের ওপর আমাদের এই রকম দৃঢ় বিশ্বাস হয়েছে৷
5
কিন্তু তার অর্থ এই নয় য়ে আমরা নিজেরা নিজেদের য়োগ্যতায় একাজ করতে পারি, তা করার শক্তি ঈশ্বরই দিয়ে থাকেন৷
6
তিনিই আমাদের নতুন চুক্তির সেবক করেছেন৷ এই নতুন চুক্তি কোন লিখিত বিধি-ব্যবস্থা নয় কিন্তু আত্মিক ব্যবস্থা, কারণ লিখিত য়ে বিধি-ব্যবস্থা তা মৃত্যু নিয়ে আসে কিন্তু আত্মা জীবন দান করে৷
7
যদি পাথরের ফলকেরওপর লেখা ব্যবস্থা, যার পরিণতি মৃত্যু, তা দেবার সময় এমন ঔজ্জ্বল্যের সাথে এসেছিল য়ে ইস্রায়েলের লোকেরা ঔজ্জ্বল্যের জন্য মোশির মুখের দিকে সোজা তাকাতে পারছিল না, যদিও সেই উজ্জ্বলতা ম্লান হয়ে যাচ্ছিল,
8
তবে আত্মার কাজ কি অনেক বেশী মহিমামণ্ডিত হবে না?
9
য়ে বিধি-ব্যবস্থায় মানুষ দোষী প্রতিপন্ন হচ্ছিল তা যদি মহিমামণ্ডিত হয়ে থাকে, তবে য়ে বিধি-ব্যবস্থা মানুষকে ঈশ্বরের কাছে ধার্মিক প্রতিপন্ন করে তার মহিমা আরও কত না বেশী হবে৷
10
বাস্তবিক তুলনায় নতুন বিধি-ব্যবস্থার মহিমার উজ্জ্বলতার কাছে পুরানো বিধি-ব্যবস্থার মহিমা ম্লান হয়ে যায়৷
11
য়ে বিধি-ব্যবস্থা অল্প দিনের মধ্যে লোপ পেয়ে গেল তার মহিমা যদি এত উজ্জ্বল হয়ে থাকে, তবে য়ে বিধি-ব্যবস্থা চিরস্থাযী তার মহিমা আরও কত না বেশী উজ্জ্বল হবে!
12
অতএব আমাদের এই ধরণের প্রত্যাশা থাকাতে আমরা খুব নির্ভীক হতে পারি৷
13
আমরা মোশির মত নই৷ মোশি তো নিজের মুখ ঢেকে রাখতেন যাতে ইস্রায়েলীয়রা সেই উজ্জ্বলতা দেখতে না পায়, কারণ সেই মহিমা কমতে কমতে মিলিয়ে যাচ্ছিল৷
14
তাদের মন কঠোর হয়ে গিয়েছিল, কারণ যখন শাস্ত্র পড়া হয় তখন মনে হয় আজও তাদের সেই আবরণ রয়েই গেছে৷ সেই আবরণ এখনও সরে নি, একমাত্র খ্রীষ্টের মাধ্যমেই সেই আবরণ সরিয়ে দেওয়া সন্ভব৷
15
হ্যাঁ, আজও মোশির বিধি-ব্যবস্থার পুস্তক পড়ার সময় তাদের হৃদয়ের ওপরে আবরণ থাকে৷
16
কিন্তু যখনই কেউ প্রভুর দিকে ফেরে তখন সেই আবরণ সরে যায়৷
17
এই প্রভু হলেন আত্মা, আর প্রভুর আত্মা য়েখানে সেখানেই স্বাধীনতা৷
18
তাই, যখন আমরা অনাদৃত মুখে আয়নায় দেখা ছবির মত করে প্রভুর মহিমা দেখতে থাকি, তখন তা দেখতে দেখতে আমরা সকলেই তাঁর সেই (মহিমাময়) রূপে রূপান্তরিত হতে থাকি৷ সেই রূপান্তর আমাদের মহিমা থেকে উজ্জ্বলতর মহিমার মধ্যে নিয়ে যায়৷ এই মহিমা আমরা প্রভু, যিনি আজ্ঞা করেন তাঁর কাছ থেকে লাভ করি৷




অধ্যায় 4

1 ঈশ্বরের দয়ায় আমরা এই কাজের ভার পেয়েছি, তাই আমরা কখনও নিরাশ হই না;
2 বরং আমরা লজ্জাজনক গোপন কাজ একেবারেই করি না৷ আমরা কোন চাতুরী করি না, ঈশ্বরের শিক্ষাকে বিকৃত করি না; বরং যা সত্য তা স্পষ্টভাবে বলে ঈশ্বরের সামনে ও প্রতিটি মানুষের বিবেকের কাছে আমাদের সততা প্রকাশ করি৷
3 কিন্তু আমরা য়ে সুসমাচার প্রচার করি তা যদি ঢাকা থাকে, তবে যাঁরা ধ্বংসের পথে চলেছে তাদের কাছেই ঢাকা থেকে যায়৷
4 এই যুগের দেবতা অবিশ্বাসীদের মন অন্ধ করেছে, যাতে ঈশ্বরের প্রতিমূর্ত্তি য়ে খ্রীষ্ট, তাঁর মহিমার সুসমাচারের আলো তারা দেখতে না পায়৷
5 আমরা নিজেদের কথা প্রচার করি না, বরং যীশু খ্রীষ্টকে প্রভু বলে প্রচার করছি এবং আমরা যীশুর অনুসারী বলেই নিজেদের যীশুর সেবক বলে দেখিয়ে থাকি৷
6 কারণ য়ে ঈশ্বর বলেছিলেন, ‘অন্ধকারের মধ্যে থেকে আলোর উদয় হবে!’, সেই তিনিই আমাদের অন্তরে ঈশ্বরের জ্ঞানের আলোর মহিমা প্রজ্জ্বলিত করেছিলেন, য়ে আলো খ্রীষ্টের মুখমণ্ডলেই প্রকাশিত রয়েছে৷
7 কিন্তু এই সম্পদ আমরা মাটির পাত্রে অর্থাত্ এই মরণশীল দেহে ধারণ করছি, যাতে বুঝতে পারা যায় য়ে এই মহাপরাক্রম ঈশ্বরের কাছ থেকেই এসেছে, আমাদের নিজেদের কাছ থেকে আসে নি৷
8 আমরা সবদিক দিয়েই নানা কষ্টদায়ক চাপের মধ্যে রয়েছি, কিন্তু ভেঙ্গে পড়ি নি৷ আমরা জানি না কি করব, অথচ হাল ছেড়ে দিই না৷
9 আমরা অত্যাচারিত হলেও ঈশ্বর কখনও আমাদের ছেড়ে দেন না৷ আমাদের মেরে ধরাশাযী করে দিলেও আমরা ধ্বংস হচ্ছি না৷
10 আমরা সবসময় যীশুর মতোই এই দেহে মৃত্যুর মুখোমুখি হচ্ছি, যাতে যীশুর জীবনও আমাদের মর্ত্য দেহে প্রকাশ পায়৷
11 আমরা যারা বেঁচে আছি আমাদের সবসময় যীশুর জন্য মৃত্যুর হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে, য়েন আমাদের মর্ত্য দেহে যীশুর জীবনও প্রকাশ পায়৷
12 এইভাবে আমাদের মধ্যে মৃত্যু এবং তোমাদের মধ্যে জীবন কাজ করে চলেছে৷
13 কিন্তু সেই বিশ্বাসের একই আত্মা আমাদের মধ্যে আছে৷ শাস্ত্রে য়েমন লেখা আছে, ‘আমি বিশ্বাস করেছি বলেই কথা বলেছি৷’তেমনি আমরা বিশ্বাস করেছি বলেই কথা বলছি৷
14 কারণ আমরা জানি, ঈশ্বর প্রভু, যিনি যীশুকে পুনরুত্থিত করেছেন, তিনি যীশুর সঙ্গে আমাদেরও জীবিত করে তুলবেন এবং তোমাদের সঙ্গে আমাদের (খ্রীষ্টের কাছে) উপস্থিত করবেন৷
15 সব কিছুই তোমাদের জন্য ঘটেছে এর ফলে অনেকে ঈশ্বরের অনুগ্রহ পাবে যাতে অনেকে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দেয় যাতে তিনি গৌরবান্বিত হন৷
16 এইজন্য আমরা হতাশ হই না, কারণ যদিও আমাদের এই দেহ বিনাশপ্রাপ্ত হতে থাকছে তবু আমাদের অন্তরাত্মা দিনে দিনে নতুন হয়ে উঠছে৷
17 বস্তুত আমাদের এই দুঃখ কষ্ট সামযিক মাত্র৷ সামযিক এই কষ্টভোগ আমাদের জীবনে নিয়ে আসবে শ্রেষ্ঠ শাশ্বত মহিমা যা আমাদের দুঃখ কষ্টের সঙ্গে তুলনার য়োগ্য নয়৷
18 তাই যা দেখা যায় তার দিকে লক্ষ্য না করে বরং যা যা দৃশ্যের অতীত তার ওপরই আমরা দৃষ্টি নিবদ্ধ করি৷ যা যা দৃশ্যমান তা তো অল্পকালস্থাযী: কিন্তু যা যা দৃশ্যাতীত তা চিরস্থাযী৷




অধ্যায় 5

1 আমরা জানি পৃথিবীতে আমরা তাঁবুর মত য়ে বাড়িতে বাস করি তা যদি নষ্ট হয়ে যায় তবে আমাদের একটি ঈশ্বরদত্ত বাড়ি আছে, য়ে বাড়ি মানুষের তৈরী নয়, স্বর্গে সে বাড়ি চিরকাল ধরেই আছে৷
2 বাস্তবিক আমরা এই তাঁবুতে থাকতে থাকতে কাতরভাবে আর্তনাদ করছি৷ আমরা মনেপ্রাণে কামনা করছি য়ে আমাদের স্বর্গীয় আবাস দিয়ে আমাদের ঢেকে দেওয়া হোক৷
3 কারণ আমরা বিশ্বাস করি য়ে এই পোশাক পরবার পর দেখা যাবে য়ে আমরা উলঙ্গ নই৷
4 বাস্তবে আমরা এই দেহের মধ্যে থেকে ভারাক্রান্ত হওয়াতে আর্তনাদ করছি৷ আমাদের বর্তমান (দেহরূপ) পোশাকটি ত্যাগ করার ইচ্ছা আমাদের নেই; বরং আমরা চাই য়ে নতুন (স্বর্গীয় দেহরূপ) পোশাকটি পুরাতনের ওপর পরি যাতে নশ্বর জীবন আবৃত হয়ে যায়৷
5 আর এর জন্য ঈশ্বর আমাদের প্রস্তুত করেছেন৷ এইজন্য তিনি পবিত্র আত্মাকে আমাদের কাছে জামিনস্বরূপ পাঠিয়েছেন৷
6 আমাদের মনে সর্বদা ভরসা আছে, আমরা জানি যতদিন এই দেহের ঘরে বাস করব ততদিন আমরা প্রভুর কাছ থেকে দূরে থাকব৷
7 আমরা বিশ্বাসের দ্বারা চলি, বাইরের দৃশ্যের দ্বারা নয়৷
8 তাই আমি বলি য়ে আমাদের নিশ্চিত ভরসা আছে এবং বাস্তবিক আমরা এই দেহ ত্যাগ করে, আমাদের প্রকৃত আবাস প্রভুর কাছে থাকাই ভাল মনে করি৷
9 আমাদের লক্ষ্য এই য়ে আমরা এই দেহের ঘরে বাস করি বা না করি, আমরা য়েন ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করে চলি৷
10 কারণ আমাদের সকলকে খ্রীষ্টের বিচারাসনের সামনে দাঁড়াতে হবে; আর এই নশ্বর দেহে বাস করার সময় আমরা ভাল বা মন্দ যা কিছু করেছি তার উপযুক্ত প্রতিদান আমাদের প্রত্যেককে দেওয়া হবে৷
11 তাই প্রভুর ভয় কি, তা জানাতে পেরে আমরা প্রত্যেক মানুষকে বোঝাচ্ছি য়েন তারা আমাদের কথায় বিশ্বাস করে৷ ঈশ্বর আমাদের অন্তরের কথা সুস্পষ্টভাবে জানেন; আর আমি আশাকরি তোমরাও আমাদের অন্তরের কথা জান৷
12 আমরা আবার তোমাদের কাছে নিজেদেরকে য়োগ্য পাত্র বলে প্রমাণ দিতে চাইছি না, কিন্তু আমাদের জন্য গর্ব করার সুয়োগ তোমাদের দিচ্ছি; উদ্দেশ্য এইযাঁরা কোন ব্যক্তির হৃদয়ের কথা বিবেচনা না করে দৃশ্যমান বিষয়গুলি নিয়ে গর্ব করে, এইসব লোকদের য়েন তোমরা উচিত জবাব দিতে পার৷
13 যদি আমরা হতবুদ্ধি হয়ে থাকি তবে তা ঈশ্বরের জন্য এবং যদি আমাদের বিচার বুদ্ধি ঠিক থাকে তবে তা তোমাদের জন্য৷
14 খ্রীষ্টের ভালবাসা আমাদের নিয়ন্ত্রিত করে, কারণ আমরা নিশ্চিতভাবে বুঝেছি তিনি (খ্রীষ্ট) সকলের জন্য মৃত্যুবরণ করলেন, তাতে সকলেরই মৃত্যু হল৷
15 খ্রীষ্ট সকলের জন্য মৃত্যুবরণ করলেন৷ তাই যাঁরা জীবন পেল, তারা আর নিজেদের উদ্দেশ্যে নয়, বরং যিনি তাদের জন্য মৃত্যুবরণ করেছিলেন ও পুনরুত্থিত হয়েছেন, তাঁরই উদ্দেশ্যে য়েন জীবনযাপন করে৷
16 তাই এখন থেকে আমরা আর কাউকেই জাগতিক দৃষ্টিভঙ্গী দিয়ে বিচার করি না৷ যদিও আগে খ্রীষ্টকে আমরা জাগতিক দৃষ্টিভঙ্গী দিয়েই বিচার করেছি তবু এখন আর তা করি না৷
17 সুতরাং কেউ যদি খ্রীষ্টের সঙ্গে মিলিত হয়, তবে সে এক নতুন সৃষ্টি হয়ে ওঠে., তার জীবনের পুরানো বিষয়গুলি অতীত হয়ে যায়; দেখ, তার সবই এখন নতুন হয়ে উঠেছে৷
18 সমস্ত কিছুই ঈশ্বর থেকে এসেছে, যিনি খ্রীষ্টের মাধ্যমে নিজের সাথে আমাদের পুর্নমিলিত করেছেন এবং অন্যদের তাঁর সঙ্গে আবার মিলন করিয়ে দেওয়ার কাজ আমাদের দিয়েছেন৷
19 য়েমন বলা হয়ে থাকে: ঈশ্বর খ্রীষ্টের মাধ্যমে জগতকে পুনরায় তাঁর নিজের সঙ্গে মিলিত করার কাজ করছিলেন৷ তিনি খ্রীষ্টে মানুষের সকল পাপকে পাপ বলে গন্য না করে মিলনের বার্তা জানাবার ভার আমাদের দিয়েছেন৷
20 খ্রীষ্টের হয়েই আমরা কথা বলেছি৷ খ্রীষ্টের হয়ে কথা বলতে আমাদের পাঠানো হয়েছে, এইভাবে আমাদের মাধ্যমে ঈশ্বর লোকদের ডাকছেন৷ আমরা খ্রীষ্টের হয়ে তোমাদের অনুরোধ করছি, তোমরা ঈশ্বরের সাথে মিলিত হও৷
21 খ্রীষ্ট কোন পাপ করেন নি; কিন্তু ঈশ্বর খ্রীষ্টের ওপর আমাদের পাপের সব দোষ চাপিয়ে দিয়েছেন, য়েন খ্রীষ্টের মধ্যে ঈশ্বরের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক স্থাপিত হয়৷




অধ্যায় 6

1 ঈশ্বরের সহকর্মী হিসাবে আমরা তোমাদের অনুরোধ করছি, তোমরা ঈশ্বরের য়ে অনুগ্রহ লাভ করেছ তা নিষ্ফল হতে দিও না৷
2 কারণ ঈশ্বর বলেন,‘আমি উপযুক্ত সময়ে তোমাদের প্রার্থনা শুনলাম এবং পরিত্রাণের দিনে আমি তোমাদের সাহায্য করলাম৷’যিশাইয় 49 :8 আমি যা বলছি শোন, এখনই সেই ‘উপযুক্ত সময়৷’ আজই ‘পরিত্রাণের দিন৷’
3 আমরা চেষ্টা করি য়েন আমাদের কোন কাজের দ্বারা কেউ বিঘ্নিত না হয়৷ য়েন আমাদের কাজের কোন রকম নিন্দা কেউ করতে না পারে৷
4 আমরা সব বিষয়ে নিজেদেরকে ঈশ্বরের সেবক বলে প্রমাণ করি৷ আমরা ধৈর্য়ের সঙ্গে দুঃখভোগ করে সবসময় কষ্ট ও নির্য়াতন সহ্য করেছি৷
5 আমাদের মারধোর করা হয়েছে, কারাগারে দেওয়া হয়েছে, মারমুখী জনতার সামনে আমাদের দাঁড়াতে হয়েছে৷ কাজ করতে করতে অবসন্ন হয়েছি, কত রাত না ঘুমিয়ে কাটিয়েছি, এমনকি অনাহারেও কতদিন কেটেছে৷
6 এসব সত্ত্বেও আমরা আমাদের জীবনের পবিত্রতা, জ্ঞান, ধৈর্য্য, স্নেহমমতা, পবিত্র আত্মা, প্রকৃত ভালবাসা ও সত্যের প্রচার দ্বারা এবং ঈশ্বরের পরাক্রমের দ্বারা, কি আক্রমণে কি আত্মরক্ষায় উভয় ক্ষেত্রেই সদাচারের অস্ত্র ব্যবহার করে প্রমাণ দিয়েছি য়ে আমরা ঈশ্বরের সেবক৷
7
8 আমরা সম্মানিত হয়েছি, আবার অসম্মানিত ও হয়েছি৷ আমরা অপমানিত হয়েছি, আবার প্রশংসিত ও হয়েছি৷ আমাদের মিথ্যাবাদী হিসেবে ধরা হয়েছে যদিও আমরা সত্য বলি৷
9 কিছু লোক আমাদের প্রেরিত বলে স্বীকার করে না; কিন্তু তবুও আমরা স্বীকৃত৷ মনে হচ্ছিল আমরা মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি, কিন্তু দেখ আমরা মরিনি৷ আমাদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু মেরে ফেলা হচ্ছে না৷
10 একদিকে মনে হয় আমরা দুঃখ পাচ্ছি কিন্তু আমরা সদাই আনন্দ করছি৷ মনে হয় আমরা নিঃস্ব, তবু সবকিছুই আমাদের আছে৷ ধরে নেওয়া হয় আমরা দরিদ্র কিন্তু আমরা অপরকে ধনবান করি৷
11 হে করিন্থীয়গণ, খোলাখুলিভাবেই আমরা তোমাদের সঙ্গে কথা বলেছি৷
12 তোমাদের প্রতি আমাদের ভালবাসা অটুট আছে; কিন্তু তোমরা তোমাদের ভালবাসা থেকে আমাদের দূরে রেখেছ৷
13 আমি তোমাদের সন্তান মনে করে বলছি, আমরা য়েমন তোমাদের ভালবেসেছি তোমরাও য়েন তেমনি মনপ্রাণ খুলে আমাদের ভালবাস৷
14 তোমরা অবিশ্বাসীদের থেকে আলাদা, তাই তাদের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করো না; কারণ ন্যায় ও অন্যায়ের মধ্যে কোন য়োগ থাকতে পারে না৷ অন্ধকারের সাথে আলোর কি কোন য়োগায়োগ থাকতে পারে?
15 খ্রীষ্ট এবং দিয়াবলের মধ্যে কি কোন সম্পর্ক থাকতে পারে? অবিশ্বাসীর সাথে বিশ্বাসীরই বা কি সম্পর্ক?
16 ঈশ্বরের মন্দিরের সাথে প্রতিমারই বা কি সম্পর্ক? কারণ আমরাই তো জীবন্ত ঈশ্বরের মন্দির; য়েমন ঈশ্বর বলেছেন:‘আমি তাদের মধ্যে বাস করব এবং তাদের মধ্যে যাতায়াত করব; আমি তাদের ঈশ্বর হবো ও তারা আমার লোক হবে৷’লেবীয় পুস্তক 26 :11 -12
17 প্রভু বলেন, ‘তোমরা তাদের মধ্য থেকে বেরিয়ে এস, তাদের থেকে পৃথক হও এবং অশুচি জিনিস স্পর্শ করো না, তাহলে আমি তোমাদের গ্রহণ করব৷’যিশাইয় 52 : 11
18 ‘আমি তোমাদের পিতা হব ও তোমরা আমার পুত্র কন্যা হবে৷’ একথা সর্বশক্তিমান প্রভু বলেন৷2 শমুয়েল 7:8, 14




অধ্যায় 7

1 প্রিয় বন্ধুগণ, এই সমস্ত প্রতিশ্রুতি যখন আমাদের রয়েছে তখন এস, যা কিছু আমাদের দেহ বা আত্মাকে অশুচি করে তার থেকে মুক্ত হয়ে নিজেদের শুচি করি৷ ঈশ্বরের সম্মান করে নিজেদের পূর্ণরূপে পবিত্র করি৷
2 তোমাদের হৃদয়ে আমাদের স্থান দিও৷ আমরা কারও ক্ষতি করি নি; কাউকে সর্বনাশের পথে নিয়ে যাই নি, কাউকে ঠকাই নি৷
3 আমি তোমাদের দোষী করতে একথা বলছি তা নয়; আমরা তোমাদের এত ভালবাসি য়ে আমরা মরি তো একসঙ্গে মরব, বাঁচি তো একসঙ্গেই বাঁচব৷
4 তোমাদের ওপর আমার বড় আস্থা আছে আর তোমাদের নিয়ে আমার খুবই গর্ব৷ আমাদের সমস্ত কষ্টের মধ্যে তোমাদের কাছ থেকে আমি যথেষ্ট উত্‌সাহ পেয়েছি, তাই আমার মনে বড় আনন্দ৷
5 যখন আমরা মাকিদনিয়াতে এসেছিলাম, তখনও আমাদের দৈহিকভাবে বিন্দুমাত্র বিশ্রাম হয় নি৷ কারণ আমরা সব দিক থেকে কষ্ট পেয়েছিলাম, বাইরে ছিল ঝগড়াঝাটি ও মনে ছিল ভয়৷
6 তবুও ঈশ্বর যিনি নিরাশ প্রাণে সান্ত্বনা দেন, তিনি তীতকে নিয়ে এসে আমাদের সান্ত্বনা দিলেন৷
7 কেবল তীতের আসার জন্য নয়, তোমরা তাকে য়ে সান্ত্বনা দিয়েছ তার জন্যও৷ তিনি আমাদের জানিয়েছেন আমাদের দেখার জন্য তোমাদের কত গভীর আগ্রহ রয়েছে৷ তোমরা যা করেছ তার জন্য তোমরা কি পরিমাণ দুঃখিত এবং আমার জন্য তোমাদের আগ্রহের কথাও তীত আমাদের জানিয়েছেন৷ এর ফলে আমি আরও আনন্দিত হয়েছি৷
8 যদিও আমার চিঠি তোমাদের কিছু সময়ের জন্য দুঃখ দিয়েছে তবু অনুশোচনা করি না, কারণ প্রথমে অনুশোচনা করলেও আমি দেখছি য়ে সেই চিঠি তোমাদের মনে মাত্র কিছুকালের জন্য ব্যথা দিয়েছে৷
9 এখন আমি আনন্দ করছি, তোমরা মনে ব্যথা পেয়েছিলে বলে নয়; কিন্তু তোমাদের সেই দুঃখ ও ব্যথা তোমাদের জীবনকে পরিবর্তিত করেছে বলে৷ ঈশ্বরের ইচ্ছানুসারেই তোমরা দুঃখ পেয়েছিলে, তাই আমাদের দ্বারা তোমাদের কোনরকম ক্ষতি হয় নি;
10 কারণ ঈশ্বরের ইচ্ছানুসারে দুঃখ মানুষের হৃদয়ে ও জীবনে অনুতাপ আনে আর তা মুক্তির দিকে নিয়ে যায় এবং তাতে আমাদের দুঃখ করার কিছু নেই৷ কিন্তু এই জগতের দেওযা দুঃখ মানুষকে অনন্ত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়৷
11 দেখ, ঈশ্বরের ইচ্ছানুসারে য়ে দুঃখ তোমাদের হয়েছে, তা তোমাদের কত মঙ্গল করেছে, তোমাদের কত আন্তরিক করে তুলেছে৷ নিজেদের নির্দোষ বলে প্রমাণ করার জন্য তোমাদের কত ইচ্ছা হয়েছিল, তোমাদের মনে কত ক্রোধ ও ভয় জেগেছিল, তোমাদের মনে কত দরদ এসেছিল, অন্যায়ের শাস্তি দেবার জন্য তোমাদের কত ইচ্ছা হয়েছিল৷ সবকিছুতেই তোমরা প্রমাণ করেছ য়ে সে বিষয়ে তোমরা নির্দোষ৷
12 আমি তোমাদের কাছে চিঠি লিখেছিলাম বটে, কিন্তু য়ে অন্যায় করেছে বা যার ওপর অন্যায় করা হয়েছে তাদের জন্য নয়, বরং তোমাদের লিখেছিলাম যাতে ঈশ্বরের সামনে আমাদের প্রতি তোমাদের য়ে এই আনুগত্য আছে তা উপলদ্ধি করতে পার৷
13 এইসবের জন্য আমরা উত্‌সাহিত হয়েছি৷ আমাদের সেই উত্‌সাহের ওপরে তীতের আনন্দ আমাদের আরও আনন্দিত করেছে৷ তোমাদের সকলের কাছ থেকে তিনি অন্তরে নতুন শক্তি লাভ করেছেন৷
14 তাঁর কাছে আমি কোন বিষয়ে যদি তোমাদের জন্য গর্ব করে থাকি, তাতে লজ্জিত হই নি; কিন্তু আমরা য়েমন তোমাদের কাছে সবকিছুই সত্যভাবে ব্যক্ত করেছি, তেমনি তীতের কাছে আমাদের সেই গর্বও সত্য বলে প্রমাণ হল৷
15 তোমরা সকলে তাঁকে কেমন মান্য করেছিলে, কেমন ভয় ও সম্মানের সঙ্গে তাঁকে গ্রহণ করেছিলে, সে সব স্মরণ করে তোমাদের প্রতি তাঁর ভালবাসা আরও বেড়ে গেছে৷
16 এই জন্য আমি খুশী কারণ আমি তোমাদের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর করতে পারি৷




অধ্যায় 8

1 এখন ভাই ও বোনেরা, মাকিদনিয়ার খ্রীষ্ট মণ্ডলীগুলির মধ্যে ঈশ্বরের অনুগ্রহ য়ে কাজ করেছে তা আমরা তোমাদের জানাচ্ছি৷
2 যদিও দুঃখ কষ্ট ভোগ করার মধ্য দিয়ে তাদের পরীক্ষা করা হয়েছে এবং যদিও তারা অতি দরিদ্র, তবু তাদের মনে এতই আনন্দ য়ে তারা অন্যকে খোলা হাতে দান করেছে৷
3 আমি সাক্ষী দিচ্ছি য়ে তারা নিজের ইচ্ছায় যতদূর সাধ্য এমনকি সাধ্যের অতিরিক্ত দান করেছিল৷
4 তারা আমাদের ঐকান্তিক অনুরোধ জানিয়ে বলেছিল, ঈশ্বরের লোকদের এই সেবার কাজে অংশগ্রহণ করার সুয়োগ য়েন তাদের দেওয়া হয়৷
5 তারা এমনভাবে দান করেছিল যা আমরা আশাই করি নি৷ তারা ঈশ্বরের ইচ্ছামতো প্রথমে নিজেদের প্রভুর কাছে এবং পরে আমাদের দিয়ে দিল৷
6 সেইজন্য আমরা তীতকে অনুরোধ করলাম যাতে তিনি এর আগে য়ে কাজ করতে শুরু করেছিলেন, সেই অনুগ্রহের কাজ শেষ করেন৷
7 সবকিছু য়েমন তোমাদের প্রচুর পরিমাণে আছে; বিশ্বাস, বলার ক্ষমতা, জ্ঞান, সববিষয়ের প্রতি তোমাদের আগ্রহ এবং আমাদের প্রতি ভালবাসা, ঠিক এইভাবে দান করার গুণটিও য়েন তোমাদের প্রচুর পরিমাণে থাকে৷
8 আমি আদেশ করে বলছি না; কিন্তু অন্য়ের আগ্রহের উদাহরণ দিয়ে তোমাদের ভালবাসা যথার্থ কিনা পরীক্ষা করছি৷
9 কারণ তোমরা আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহের কথা জান, তিনি ধনী হয়েও তোমাদের জন্য দরিদ্র হলেন, যাতে তোমরা তাঁর দরিদ্রতায় ধনবান হয়ে উঠতে পার৷
10 এবিষয়ে আমি আমার পরামর্শ তোমাদের দিচ্ছি কারণ তোমাদের পক্ষে এটা মঙ্গলজনক৷ য়েহেতু গত বছর তোমরাই প্রথম কাজ করতে আরন্ভ করেছিলে, শুধু তাই নয় সেই কাজ করার ইচ্ছাও তোমরাই প্রথমে প্রকাশ করেছিলে৷
11 তোমরা আগ্রহের সাথে য়ে দেওয়ার কাজ শুরু করেছিলে, এখন তা সেই একই আগ্রহের সঙ্গে তোমাদের সাধ্যমত শেষ কর৷
12 কারণ দেবার মতো ইচ্ছা থাকলে তবেই তোমাদের দান গ্রাহ্য় হবে, তোমাদের যা আছে সেই ভিত্তিতে দিলেই তোমাদের দান গ্রাহ্য় হবে; তোমাদের যা নেই সেই অনুযাযী নয়৷
13 কারণ আমাদের উদ্দেশ্য এই নয় য়ে, অন্য সকলে আরাম করবে আর তোমরা কষ্টে পড়বে, বরং সব কিছুতে য়েন সমতা থাকে৷
14 বর্তমানে তোমাদের যথেষ্ট রয়েছে, তার থেকে দিয়ে তাদের প্রযোজন মেটাতে পারবে, আবার প্রযোজনে তাদের যা বেশী হবে তা দিতে তোমাদের অভাব মিটবে৷ এইভাবে য়েন সর্বত্র সমতা বজায় থাকে৷
15 শাস্ত্রে য়েমন লেখা আছে,‘য়ে বেশী কুড়োলো, তার বাড়তি থাকল না; য়ে অল্প কুড়োলো, তার অভাব হল না৷’ যাত্রাপুস্তক
16 :
18
16 তোমাদের জন্য আমার য়ে আগ্রহ আছে, ঠিক সেই রকম আগ্রহ ঈশ্বর তীতের অন্তরে দিয়েছেন বলে আমি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিই৷
17 তীত য়ে আমাদের অনুরোধ রেখেছেন তাই নয়, তিনি এতই আগ্রহী ছিলেন য়ে নিজের ইচ্ছায় তোমাদের কাছে যাচ্ছেন৷
18 আমরা তীতের সঙ্গে সেই ভাইকে পাঠাচ্ছি, যিনি সুসমাচার প্রচারের জন্য সমস্ত মণ্ডলীতে প্রশংসিত৷
19 কেবল তাই নয়, আমাদের সহযাত্রী হিসেবে প্রভুর মহিমার জন্য এই দান নিয়ে যাবার দরুন ও আমাদের সাহায্য করার ইচ্ছাকে প্রমাণ করতে বাস্তবিক মণ্ডলীগুলি তাকে মনোনীত করেছিল৷
20 আমরা এই দাযিত্ব সম্পর্কে সতর্ক যাতে এই বিপুল অর্থ বিতরণ সম্পর্কে কেউ য়েন আমাদের সমালোচনা না করে৷
21 কারণ কেবল প্রভুর সামনে নয়, কিন্তু মানুষের দৃষ্টিতে যা ভাল, তাও আমরা লক্ষ্য রাখি৷
22 আর ওদের সাথে আমাদের ভাইকে পাঠালাম, যাকে আমরা অনেকবার অনেক বিষয়ে পরীক্ষা করে এইসব কাজে উদ্যোগী দেখেছি এবং তোমাদের প্রতি তাঁর এই দৃঢ় বিশ্বাসের জন্য এবার আরও আগ্রহী দেখছি৷
23 তীতের কথা যদি বলতে হয়, তবে তিনি আমার সহকর্মী ও তোমাদের সাহায্যের কাজে আমার সহকারী৷ আমাদের ভাইদের বিষয় যদি বলতে হয়, তবে বলি তাঁরা মণ্ডলীগুলির প্রতিনিধিত্ব করেন এবং খ্রীষ্টের পক্ষে গৌরব আনেন৷
24 অতএব তোমাদের ভালবাসার প্রমাণ এবং তোমাদের ওপর আমাদের গর্বের কারণ, এই দুই বিষয়ের প্রমাণ তাদের দেখাও, যাতে সমস্ত মণ্ডলী তা দেখতে পায়৷




অধ্যায় 9

1 এখন বুঝতে পারছি য়ে ঈশ্বরের লোকদের সাহায্যের ব্যাপারে তোমাদের কিছু লেখার প্রযোজন নেই৷
2 কারণ আমি তোমাদের আগ্রহ জানি এবং তোমাদের বিষয়ে মাকিদনিয়ানদের কাছে এই গর্ব করে থাকি য়ে গত বছর থেকে আখায়ার লোকরা অর্থাত্ তোমরা তৈরী হয়ে রয়েছ; আর এই ঘটনা তাদের বেশীর ভাগ লোককে দানের বিষয়ে উত্‌সাহিত করে তুলেছে, তারাও দিতে চাইছে৷
3 কিন্তু আমি সেই ভাইদের পাঠাচ্ছি যাতে তোমাদের সম্বন্ধে আমাদের য়ে গর্ব তা বিফল না হয়, য়েন আমি য়েমন তাদের বলেছি সেইমতো তোমরা প্রস্তুত হয়ে থাকো৷
4 তা না হলে মাকিদনিয়ার কিছু লোক যদি আমার সাথে আসে এবং তোমাদের প্রস্তুত না দেখে, তাহলে এই নিশ্চয়তা বোধ আমাদের ও তোমাদের উভয়ের পক্ষেই লজ্জার বিষয় হবে৷
5 সেইজন্য আমি ভাইদের এই অনুরোধ করা প্রযোজন মনে করলাম, যাতে তারা আগে তোমাদের কাছে যান এবং দান হিসাবে য়ে অর্থ তোমরা দেবে বলেছিলে, সেই দান সংগ্রহ করে প্রস্তুত থাকতে পারেন৷ সেই দান য়েন স্বেচ্ছাদান হয়, জোর করে আদায় করা চাঁদার টাকা না হয়৷
6 মনে রেখো, য়ে অল্প পরিমাণে বীজ বোনে, সে অল্প পরিমাণ ফসল কাটবে এবং য়ে যথেষ্ট পরিমাণ বীজ বোনে সে প্রচুর ফসল কাটবে৷
7 প্রত্যেকে নিজের নিজের অন্তরে য়েমন স্থির করেছে, সেই মতোই দান করুক, মনে দুঃখ পেয়ে অথবা জোর করা হয়েছে বলে নয়, কারণ খুশী মনে যাঁরা দেয়, ঈশ্বর তাদের ভালবাসেন৷
8 ঈশ্বর তোমাদের সর্বপ্রকার আশীর্বাদ প্রচুর পরিমাণে দিয়ে থাকেন, য়েন সব সময় তোমাদের সব কিছুই বেশী পরিমাণে থাকে এবং য়েন সব রকম ভাল কাজ করার জন্য সর্ব সময়ে তোমাদের ইচ্ছা ও প্রযোজনের অতিরিক্ত সবই থাকে৷
9 য়েমন শাস্ত্রে লেখা আছে:‘ধার্মিক দরিদ্রকে মুক্ত হস্তে দান করে, তার সেই সত্‌কাজ চিরস্থাযী৷’গীতসংহিতা 1
12 :9
10 যিনি কৃষককে বোনার জন্য বীজ ও আহারের জন্য খাদ্য় জুগিয়ে থাকেন, তিনি তোমাদের বোনার জন্য আত্মিক বীজ জোগাবেন এবং তার বৃদ্ধিসাধন করবেন৷ তোমাদের দানশীলতা প্রচুর ফসল উত্‌পন্ন করবে৷
11 ঈশ্বর তোমাদের সব বিষয়ে সমৃদ্ধ করবেন য়েন তোমরা সব সময়ে মহত্ হও৷ আমাদের মাধ্যমে তোমাদের দাস, যখন অভাবীদের হাতে দেব, তখন তারা আনন্দে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাবে৷
12 তোমাদের এই দানের ফলে ঈশ্বরের লোকদের শুধু য়ে অভাব মিটবে তা না, বরং এই দান ঈশ্বরের প্রতি অনেক ধন্যবাদের দ্বারা উপচে পড়বে৷
13 তোমাদের এই কাজ য়ে আনুগত্যের প্রমাণ দেয় তার জন্যে তারা ঈশ্বরের প্রশংসা করবে, এই আনুগত্য তোমাদের খ্রীষ্টের সুসমাচারের ওপর বিশ্বাস থেকে আসে৷ খোলা হাতে তোমরা য়ে দান তাদের ও অপরের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছ তার জন্য তারা ঈশ্বরের প্রশংসা করবে৷
14 তারা যখন তোমাদের জন্য প্রার্থনা করে তখন তোমাদের সাথী হবার ইচ্ছা করবে৷ তোমাদের ওপরে য়ে মহা-অনুগ্রহ ঈশ্বর দিয়েছন, তার কথা মনে করেই তারা এমন ইচ্ছা করবে৷
15 ঈশ্বরের অপূর্ব অবর্ণনীয় দানের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ৷




অধ্যায় 10

1 আমি পৌল নিজের খ্রীষ্টের বিনয় ও সৌজন্যের দোহাই দিয়ে তোমাদের অনুনয় করছি৷ আমি নাকি তোমাদের সামনে বিনম্র কিন্তু পেছনে চিঠিতে তোমাদের কড়া কড়া কথা বলি৷
2 কিছু কিছু লোক মনে করে য়ে আমরা জাগতিক ভাবে চলি৷ আমি মিনতি করি যখন আমি আসব তখন য়েন আমাকে সেই দৃঢ় সাহস দেখাতে না হয়, য়ে সাহস আমি সেইসব লোকদের প্রতি দেখানো আবশ্যক মনে করি৷
3 আমরা জগতেই বাস করি কিন্তু জগত্ য়েভাবে যুদ্ধ করে আমরা সেইভাবে করি না৷
4 জগত্ য়ে যুদ্ধের অস্ত্র ব্যবহার করে, আমরা তার থেকে স্বতন্ত্র যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করি৷ আমাদের যুদ্ধের অস্ত্র ঈশ্বরের পরাক্রম; এই যুদ্ধাস্ত্র শত্রুর সুদৃঢ় ঘাঁটি ধ্বংস করতে পারে৷ লোকদের বাজে বিতর্ক আমরা বিফল করতে পারি৷
5 য়ে সমস্ত গর্বজনক বিষয় ঈশ্বর বিষয়ক জ্ঞানের বিরুদ্ধে ওঠে, আমরা তাদের প্রত্যেককে ধ্বংস করি এবং সমস্ত চিন্তাকে বশীভূত করে খ্রীষ্টের অনুগত করি৷
6 যখন তোমরা সম্পূর্ণভাবে আমাদের অনুগত হবে, তখনই আমরা অবাধ্যতার প্রতিটি কাজকে শাস্তি দিতে প্রস্তুত হব৷
7 তোমাদের সামনের বিষয়গুলির দিকে দেখ, কেউ যদি নিজেদের ওপরে বিশ্বাস রেখে বলে, আমি খ্রীষ্টের লোক, তবে তার আবার একথাও বোঝা উচিত য়ে তার মত আমরাও খ্রীষ্টের লোক৷
8 একথা ঠিক য়ে প্রভু য়ে কর্ত্তৃত্ব আমাদের দিয়েছেন তাই নিয়ে আমরা বেশ গর্ব করি৷ তোমাদের ব্যথা দিতে নয়, কিন্তু তোমাদের শক্তিশালী করে তুলতেই তিনি আমাদের এই অধিকার দিয়েছেন, আর তা নিয়ে আমরা লজ্জা পাচ্ছি না৷
9 আমি চিঠিগুলি দিয়ে য়ে তোমাদের ভয় দেখাচ্ছি এরকম মনে করো না৷
10 কেউ কেউ বলে, ‘তার চিঠিগুলো মনে রেখাপাত করে এবং শক্তিশালী, কিন্তু লোক হিসাবে তিনি দুর্বল এবং তাঁর কথা বলার ধরণ একেবারেই হৃদয়গ্রাহী নয়৷’
11 এই ধরণের লোক বুঝুক য়ে অনুপস্থিত থাকাকালীন আমাদের চিঠির মধ্যে য়ে শক্তি প্রকাশ পেয়েছে, আমরা যখন তোমাদের সামনে উপস্থিত হব তখন আমাদের কাজেও সেই একই শক্তি দেখতে পাবে৷
12 কারণ এমন কোন লোকের সাথে আমরা নিজেদের গণনা বা তুলনা করতে সাহস করি না, যাঁরা নিজেরাই নিজেদের উচ্চ প্রশংসা করে থাকে৷ তারা পরস্পরের মধ্যে নিজেদের পরিমাপ করে এবং নিজেদের সাথে নিজেদের তুলনা করে৷
13 নিজেদের বিষয়ে এতটুকু গর্ব করার অধিকার আমাদের আছে, আমরা তার বেশী করব না, বরং ঈশ্বর আমাদের কর্মক্ষেত্রে য়ে সীমা নিরূপণ করেছেন সেই সীমার মধ্যে থাকব৷ সেই সীমার মধ্যে তোমরা আছো৷
14 তোমাদের কাছে গিয়েছিলাম বলে তোমাদের নিয়ে আমরা যখন গর্ব করি, তখন সীমার বাইরে কিছু বলি না, কারণ খ্রীষ্টের সুসমাচার নিয়ে আমরাই তোমাদের কাছে প্রথম পৌঁছেছিলাম৷
15 আমাদের কাজ নিয়ে গর্ব করার য়ে সীমা তা আমরা ছাড়িয়ে যাব না, অন্য়েরা কি করছে তা আমাদের গর্বের বিষয় নয়, পরিবর্তে আমরা আশা করি য়ে তোমাদের বিশ্বাস বাড়বার সাথে সাথে আমরা তোমাদের মধ্যে আরও কাজ করতে পারব৷
16 তখন আমরা তোমাদের নগর ছাড়িয়েও জায়গায় জায়গায় সুসমাচার প্রচার করতে পারব৷ অপরের এলাকার করা কাজের জন্য আমরা গর্ব করব না৷
17 তবে, ‘য়ে গর্ব করতে চায় সে প্রভুকে নিয়েই গর্ব করুক৷’
18 কারণ য়ে মানুষ নিজের সম্পর্কে উচ্চ ধারণা পোষন করে সে নয়, কিন্তু প্রভু যার সম্পর্কে উচ্চ ধারণা পোষন করেন সেই ভাল বলে প্রমাণিত হয়৷




অধ্যায় 11

1 যখন তোমরা আমার নির্বুদ্ধিতা দেখতে পাও তখন একটু ধৈর্য়্ ধরে আমাকে সহ্য করবে এই আমি চাই৷ দয়া করে আমার প্রতি সহিষ্ণু হও৷
2 আমি অন্তরে তোমাদের জন্য জ্বালা অনুভব করছি৷ এই অন্তর্জ্বালা স্বয়ং ঈশ্বরের অন্তর থেকে আসে৷ আমি তোমাদেরকে এক বরের সঙ্গে বিয়ে দিতে প্রতিজ্ঞা করেছি, য়েন সতী কন্যা রূপে তোমাদের খ্রীষ্টের কাছে উপহার দিতে পারি৷
3 কিন্তু আমার ভয় হচ্ছে দুষ্ট সাপ য়েমন নিজের চাতুরীতে হবাকে ভুলিয়েছিল, সেইরকম তোমাদের মন য়েন কলুষিত না করে এবং খ্রীষ্টের প্রতি তোমাদের য়ে পূর্ণ ও বিশুদ্ধ অনুরাগ আছে তা থেকে তোমাদের য়েন দূরে সরিয়ে নিয়ে না যায়৷
4 কোন আগন্তুক যদি এমন আর এক যীশুকে প্রচার করে, যাকে আমরা প্রচার করি নি, অথবা আগেই গ্রহণ করেছ এমন আত্মা ছাড়া যদি তোমরা অন্য কোন আত্মা পাও, বা আগে গ্রহণ কর নি এমন কোন অন্য রকমের সুসমাচার পাও তবে তা ভালভাবে সহ্য করো৷
5 কারণ আমার মনে হয় না য়ে আমি তথাকথিত সেই ‘মহান প্রেরিতদের’ থেকে কোন অংশে পিছিয়ে পড়ে আছি৷
6 কিন্তু যদিও আমি খুব ভাল বক্তা নই, তবুও আমার জ্ঞান সীমিত নয় এবং তা সবরকমেই পরিষ্কারভাবেই তোমাদের দেখিয়ে দিয়েছি৷
7 তোমরা য়েন উন্নত হতে পার তাই নিজেকে নত করে আমি কি পাপ করেছি? তোমাদের মধ্যে বিনা পারিশ্রমিকে ঈশ্বরের সুসমাচার প্রচার করে কি ভুল করেছি?
8 তোমাদের মধ্যে সেবার জন্য অন্য মণ্ডলী থেকে টাকা নিয়ে আমি তাদের লুঠ করেছি;
9 এবং যখন তোমাদের কাছে ছিলাম তখন আমার অভাব হলেও আমি কাউকে ভারগ্রস্ত করি নি, কারণ মাকিদনিয়া থেকে ভাইরা এসে আমার প্রযোজন মেটালেন৷ হ্যাঁ, আমি যাতে কোন বিষয়ে তোমাদের কাছে হাত না পাতি, নিজেকে সেইভাবে রক্ষা করেছি এবং করব৷
10 সত্যই খ্রীষ্টের সততা যখন নিশ্চিতভাবে আমার মধ্যে আছে, তখন আখায়ার কোন অঞ্চলে কেউ এই গর্ব করা থেকে আমায় বিরত করবে না৷ আমি তোমাদের বোঝা হতে চাই না৷
11 তার মানে কি এই য়ে আমি তোমাদের ভালবাসি না? ঈশ্বর জানেন আমি তোমাদের ভালবাসি৷
12 কিন্তু এখন আমি যা করছি, সেই কাজ আরও করব যাতে যাঁরা গর্ব করার সুয়োগ খোঁজে, তাদের বিরত করতে পারি৷ যাঁরা গর্ব করে তাদের য়েন তোমরা আমাদের সমান ভাব;
13 কারণ তারা ভণ্ড প্রেরিত, তারা মিথ্যা বলে৷ তারা প্রবঞ্চক কর্মী, তারা প্রেরিতের ছদ্মবেশ ধরেছে৷ তারা এমনভাব দেখায় যাতে লোকে মনে করে য়ে তারা খ্রীষ্টের প্রেরিত৷
14 এটা আশ্চর্য নয়, কারণ শয়তান নিজেও নিজেকে দীপ্তিময় স্বর্গদূত হিসাবে দেখাবার জন্য বদলে ফেলে৷
15 অতএব তার সেবকরাও য়ে ধার্মিকতার সেবকদের বেশ ধারণ করে, এতে আশ্চর্য হবার কিছুই নেই, পরিণামে তাদের কাজের জন্য তারা শাস্তিভোগ করবে৷
16 আমি আবার বলছি, কেউ আমাকে মূর্খ মনে না করুক, কিন্তু যদি তোমরা মনে কর, তবে আমাকে মূর্খ বলেই গ্রহণ কর; তাতে আমিও একটু গর্ব করতে পারব৷
17 আমি নিজেকে জানি তাই আমি গর্ব করি৷ এখন আমি যা বলছি তা প্রভুর আদেশ মত বলছি না কিন্তু এক নির্বোধের মতোই এই গর্ব করছি৷
18 য়েহেতু অনেকেই জাগতিক বিষয়ে গর্ব করে, তাই আমিও গর্ব করব৷
19 কারণ তোমরা যাঁরা বুদ্ধিমান তারা নির্বোধ লোকদের প্রতি আনন্দের সাথে সহিষ্ণুতা দেখিয়ে থাক৷
20 আমি জানি তোমরা সহিষ্ণু, এমন কি তাদের প্রতিও যাঁরা তোমাদের আদেশ করে, শোষণ করে, ফাঁদে ফেলে, নিজেদেরকে তোমাদের থেকে ভাল বলে মনে করে অথবা তোমাদের গালে চড় মারে৷
21 একথা বলতে আমার লজ্জা বোধ হয় য়ে আমরা তোমাদের প্রতি নিতান্ত ‘দুর্বল’ বলেই দুরকম ব্যবহার করি নি!কিন্তু গর্ব করার মতো যথেষ্ট সাহস যদি কারো থাকে, তবে আমি সাহসী হব ও গর্ব করব৷ আমি মূর্খের মতো কথা বলছি৷
22 তারা কি ইব্রীয়? আমিও তাই৷ তারা কি ইস্রায়েলী? আমিও তাই৷ তারা কি অব্রাহামের বংশধর? আমিও তাই?
23 তারা কি খ্রীষ্টের সেবক? এমন গর্ব করা পাগলের মত শোনালেও আমি তাদের থেকে অনেক বেশী খ্রীষ্টের সেবা করছি৷ আমি তাদের থেকে অনেক বেশী কঠোর পরিশ্রম করেছি, তাদের থেকে বহুবার বেশী কারাদণ্ড ভোগ করেছি, অনেকবার চাবুকের মার সহ্য করেছি, অনেকবার মৃত্যুমুখে পড়েছি৷
24 ইহুদীদের কাছ থেকে পাঁচবার উনচল্লিশটি করে চাবুকের মার খেতে হয়েছে৷
25 তিনবার আমাকে লাঠিপেটা করেছে, একবার আমার ওপর পাথর ছোঁড়া হয়েছে, তিনবার ঝড়ে জাহাজ ডুবিতে আমি কষ্ট পেয়েছি এবং সারা দিনরাত অগাধ জলের মধ্যে কাটিয়েছি৷
26 স্থলপথে যাত্রাকালে বহুবার বিপদে পড়েছি, নদী থেকে বিপদ এসেছে, কতবার ডাকাতের হাতে, কতবার আমার আপনজন ইহুদী ও অইহুদীদের দ্বারা বিপদগ্রস্ত হয়েছি৷ শহরের মধ্যে মহা বিপদে পড়তে হয়েছে, কখনও গ্রামাঞ্চলে, কখনও বিপদ সঙ্কুল সমুদ্রের মধ্যে এবং ভণ্ড খ্রীষ্টীয়ানদের কাছ থেকে৷
27 অনেকবার অনাহারে দিন কাটিয়েছি, যথেষ্ট পোশাকের অভাবে প্রচণ্ড শীতে কষ্ট পেয়েছি৷
28 আর সব সমস্যা যাক, একটি সমস্যা প্রতিদিন আমার ওপরে চেপে রয়েছে, তা হল সমস্ত মণ্ডলীর চিন্তা৷
29 কেউ দুর্বল হলে আমি কি সেই দুর্বলতার সহভাগী হই না? কেউ বাধা পেয়ে পাপের পথে নেমে গেলে আমি কি রাগে জ্বলে উঠি না?
30 যদি গর্ব করতে হয়, তবে আমার নানা দুর্বলতার বিষয়ে গর্ব করব৷
31 প্রভু যীশু খ্রীষ্টের ঈশ্বর ও পিতা, যিনি যুগে যুগে প্রশংসিত তিনি জানেন য়ে আমি মিথ্যা বলছি না৷
32 যখন আমি দম্মেশকে ছিলাম, তখন রাজা আরিতার অধীনস্থ রাজ্যপাল আমাকে বন্দী করার জন্য দম্মেশকীয়দের সেই শহরের চারপাশে পাহারা বসিয়েছিলেন৷
33 কিন্তু আমার বন্ধুরা শহরের পাঁচিলের একটা ফাঁক দিয়ে একটা ঝুড়িতে করে আমাকে নামিয়ে দিয়েছিলেন, এইভাবে সেই রাজ্যপালের হাত থেকে পালিয়েছিলাম৷




অধ্যায় 12

1 গর্ব করা আমার প্রযোজন, যদিও এর দ্বারা কোন লাভই হয় না; কিন্তু প্রভুর দেওয়া নানা দর্শন ও প্রকাশের সম্পর্কে আমাকে বলতে হবে৷
2 আমি খ্রীষ্টে আশ্রিত একটি লোককে জানি, চোদ্দ বছর আগে যাকে তৃতীয় স্বর্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সশরীরে না অশরীরে তা জানি না, ঈশ্বর জানেন৷
3 এই লোকটির ব্যাপার আমি জানি, সশরীরে কি অশরীরে, তা আমি জানি না, ঈশ্বর জানেন৷ সে স্বর্গোদ্যানে থাকায় এমন সব বিস্ময়কর কথা শুনেছিল, যা নিয়ে মানুষের কথা বলা উচিত নয়৷
4
5 এমন লোকের জন্য গর্ব করব; কিন্তু নিজের জন্য গর্ব করব না৷ কেবল নানা দুর্বলতার জন্য গর্ব করব৷
6 যদি আমি নিজের বিষয়ে গর্ব করি তাতেও মূর্খতার পরিচয় দেব না, কারণ আমি সত্যি কথাই বলব৷ তবুও নিজের বিষয়ে দেখছে এবং আমার কথা য়েমন শুনছে, আমাকে য়েন তার থেকে মহান বলে মনে না করে৷
7 ঐসব অসাধারণ প্রকাশের অভিজ্ঞতার জন্য আমি য়েন গর্ব না করি, সেইজন্য আমার দেহে একটা কাঁটা (কষ্টদায়ক সমস্যা) দেওয়া হল, য়েন শয়তানের এক দূত আমাকে আঘাত করে, যাতে আমি অতি মাত্রায় গর্ব না করি৷
8 এই ব্যাপারে আমি প্রভুর কাছে তিনবার প্রার্থনা করেছিলাম, যাতে ওর থেকে আমি মুক্তি পাই৷
9 কিন্তু তিনি আমাকে বললেন, ‘আমার অনুগ্রহ তোমার জন্য যথেষ্ট; কারণ দুর্বলতার মধ্যে আমার শক্তি সম্পূর্ণতা লাভ করে৷’ এজন্য আমি বরং অত্যধিক আনন্দের সঙ্গে নানা দুর্বলতার গর্ব করব, যাতে খ্রীষ্টের পরাক্রম আমার ওপরে অবস্থান করে৷
10 যখন কোন সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাই তখনও আমি আনন্দ পাই৷ যখন অন্যরা আমায় নির্য়াতন করে তাতে আমি আনন্দ পাই; যখন আমার সমস্যা থাকে তখনও আমি আনন্দ পাই৷ এইসব আমি খ্রীষ্টের জন্য সহ্য করি, কারণ যখন আমি দুর্বল, তখনই আমি বলবান৷
11 আমি বোকার মতো কথা বলছি, তোমরাই আমাকে জোর করে বোকা বানালে৷ কারণ আমার প্রশংসা করা তোমাদের উচিত ছিল, যদিও আমি কিছু নই, তবু সেই ‘মহান প্রেরিতদের’ থেকে কোন অংশে ছোট নই৷
12 আমি য়ে একজন প্রেরিত তার সমস্ত প্রমাণ আমি তোমাদের দিয়েছি এবং প্রকৃত প্রেরিতদের মত ধৈর্য়ের সঙ্গে নানা অলৌকিক চিহ্ন ও আশ্চর্য কাজ সম্পন্ন করেছি৷
13 অন্য সমস্ত মণ্ডলী যা পেয়েছে তোমরাও সেই একই জিনিস পেয়েছ৷ তবে তোমরা কোন্ বিষয়ে অন্য মণ্ডলীর থেকে ছোট হলে? কেবল একটি বিষয়ে তোমরা ভিন্ন৷ আমি তোমাদের গলগ্রহ হই নি, এ যদি অন্যায় হয়ে থাকে তবে আমাকে সেই ভুলের জন্য ক্ষমা করো৷
14 দেখ, এই তৃতীয়বার আমি তোমাদের কাছে য়েতে প্রস্তুত হয়েছি৷ আমি তোমাদের বোঝা হব না, কারণ আমি তোমাদের কাছ থেকে কোন কিছু চাই না, আমি কেবল তোমাদেরই চাই৷ কারণ বাবা-মায়ের জন্য অর্থ সঞ্চয় করা ছেলেমেয়েদের কর্তব্য নয়, বরং ছেলেমেয়েদের জন্য বাবা-মায়েরই সঞ্চয় করা কর্তব্য৷
15 আমার যা কিছু আছে সে সবই তোমাদের অতি আনন্দের সঙ্গে দেব, এমন কি তোমাদের জন্য আমি নিজেকেও ব্যয় করব৷ তোমাদের জন্য আমার ভালবাসা যখন বেড়েই চলেছে, তখন আমার প্রতি তোমাদের ভালবাসা কি কমে যাবে?
16 যাই হোক, একথা ঠিক য়ে আমি তোমাদের উপর খরচের বোঝা হয়ে দাঁড়াই নি; কিন্তু তোমরা বলো আমি চালাক বলে নাকি ছলেবলে তোমাদের ধরেছি৷
17 আমি যাদের তোমাদের কাছে পাঠিয়েছিলাম, তাদের মধ্য দিয়ে আমি কি তোমাদের ঠকিয়েছি? তোমরা জান য়ে আমি তা করি নি৷
18 আমি তীতকে অনুরোধ করেছিলাম এবং তাঁর সাথে অপর এক ভাইকে পাঠিয়েছিলাম৷ তীত কি তোমাদের ঠকিয়েছেন? তোমরা জান য়ে তীত ও আমি, আমরা একই মনোভাব নিয়ে কাজ করি, এবং একই রকম আচরণ করি৷
19 তোমরা কি মনে কর য়ে, আমরা নিজেদের রক্ষা করতে তোমাদের কাছে এতদিন ধরে এইসব কথা বলেছি৷ না, খ্রীষ্টের অনুগামী হিসেবে আমরা এইসব কথা ঈশ্বরের সামনে থেকেই বলেছি৷ প্রিয় বন্ধুরা, তোমাদের আত্মিকভাবে সবল করার জন্য আমরা এইসব কাজ করেছি৷
20 কারণ আমার ভয় হয়, পরে আমি তোমাদেরকে য়েরকম দেখতে চাই, গিয়ে সেরকম দেখতে না পাই, এবং তোমরা আমাকে য়েরকম দেখতে চাও না পাছে সেরকম দেখ৷ আমার ভয় হয় য়ে আমি গিয়ে হয়তো তোমাদের মধ্যে ঝগড়া, হিংসা, ক্রোধ, শত্রুতা, গালাগালি, জল্পনা, অহংকার ও বিশৃঙ্খলা দেখতে পাব৷
21 আমার ভয় হচ্ছে পাছে আমি আবার তোমাদের ওখানে গেলে আমার ঈশ্বর তোমাদের সামনে আমার মাথা নীচু করে দেন৷ যাঁরা আগে পাপ করেছিল, এবং নিজেদের দুষ্টতা, অশুচিতা, য়ৌন পাপ ও অশোভন কাজের বিষয়ে যাদের মনে কোন অনুতাপ নেই, এদের সকলের জন্য আমাকে হয়তো অনেক দুঃখ ও ব্যথা বহন করতে হবে৷




অধ্যায় 13

1 এই তৃতীয়বার আমি তোমাদের কাছে যাচ্ছি৷ ‘দুই বা তিন জন সাক্ষীর প্রমাণ দ্বারা প্রত্যেক মামলার নিষ্পত্তি হওয়া উচিত৷’
2 দ্বিতীয় বার আমি যখন তোমাদের ওখানে গিয়েছিলাম, তখন যাঁরা পাপ জীবনযাপন করছিল তাদের আমি তখনই সতর্ক করে দিয়েছিলাম৷ এখন যখন আমি দূরে তখন আবার তোমাদের সাবধান করছি৷ যখন আমি পুনরায় তোমাদের দেখতে আসব, তখন সেইসব পাপীদের অথবা অন্য য়ে কেউ পাপ করে তাকে রেহাই দেব না৷
3 কারণ খ্রীষ্ট যিনি আমার মাধ্যমে কথা বলেন, তোমরা তো তাঁরই প্রমাণ চাও৷ তিনি তোমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে দুর্বল নন, বরং তিনি তোমাদের মধ্যে শক্তিমান৷
4 কারণ এটা সত্য য়ে তিনি তাঁর দুর্বলতার জন্য ক্রুশের ওপর পেরেক বিদ্ধ হয়েছিলেন; কিন্তু ঈশ্বরের পরাক্রমে তিনি এখন জীবিত৷ এও সত্য য়ে আমরাও তাঁতে (খ্রীষ্টে) দুর্বল, কিন্তু তোমাদের জন্য আমরা ঈশ্বরের পরাক্রম দ্বারা তাঁর সাথে বাস করব৷
5 নিজেদের পরীক্ষা করে দেখ, তোমাদের বিশ্বাস আছে কি না; প্রমাণের জন্য নিজেদের যাচাই কর৷ তোমরা কি জান না য়ে খ্রীষ্ট যীশু তোমাদের মধ্যে আছেন? কিন্তু এ বিষয়ে যদি তোমাদের অন্তরে সেই প্রমাণ না পাও, তবে খ্রীষ্ট তোমাদের মধ্যে নেই৷
6 আশাকরি তোমরা একথা স্বীকার করবে য়ে আমরা সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি৷
7 আমরা ঈশ্বরের কাছে এই প্রার্থনা করি, য়েন তোমরা কোন অন্যায় না কর৷ এর অর্থ এই নয় আমরা য়ে এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি সেটা স্পষ্ট হোক বরং আমরা ব্যর্থ হয়েছি মনে হলেও য়েন যা ন্যায় তোমরা তাই কর৷
8 কারণ আমরা সত্যের বিপক্ষে কিছুই করতে পারি না, কেবল সত্যের সপক্ষে করতে পারি৷
9 তোমরা শক্তিশালী হলে আমরা দুর্বল হলেও আনন্দ করি৷ আমরা প্রার্থনাও করি, য়েন তোমাদের খ্রীষ্টীয় জীবন উত্তরোত্তর শক্তিশালী হয়ে ওঠে৷
10 এই কারণে যখন আমি তোমাদের থেকে দূরে তখন আমি এই সমস্ত লিখছি; যাতে আমি যখন তোমাদের সাথে থাকব, তখন আমাকে য়েন তোমাদের শাস্তি দিতে বা তিরস্কার করতে না হয়৷ সেই ক্ষমতা তোমাদের ভেঙ্গে ফেলবার জন্য নয়, কিন্তু তোমাদের আত্মিক জীবন গড়ে তোলবার জন্যই প্রভু আমাকে দিয়েছেন৷
11 আমার ভাই ও বোনেরা, সব শেষে বলি, বিদায়৷ সিদ্ধি লাভের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা কর, আমি যা বলেছি সেই অনুসারে কাজ কর, একমনা হও, মিলে মিশে শান্তিতে থাক, তাতে প্রেমের ও শান্তির ঈশ্বর তোমাদের সঙ্গে থাকবেন৷
12 পবিত্র চুম্বন দিয়ে পরস্পরকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিও৷
13 ঈশ্বরের পবিত্র লোকেরা তোমাদের প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন৷
14 প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহ, ঈশ্বরের প্রেম এবং পবিত্র আত্মার সহভাগীতা তোমাদের সকলের সহবর্তী হোক্৷