গালাতীয়

1 2 3 4 5 6


অধ্যায় 1

1 প্রেরিত পৌলের কাছ থেকে শুভেচ্ছা; প্রেরিতহবার জন্য কোন মানুষ বা মানুষের মাধ্যমে আমাকে মনোনীত করা হয় নি, বরং যীশু খ্রীষ্ট ও পিতা ঈশ্বর যিনি যীশুকে মৃতদের মধ্য থেকে উত্থাপিত করেছেন তাঁর মাধ্যমেই আমি প্রেরিত পদে মনোনীত হয়েছি৷
2 আমি পৌল এবং অন্য ভাইরা যাঁরা আমার সাথে আছেন, তাঁরা গালাতীয়ারমণ্ডলীদের উদ্দেশ্যে এই চিঠি লিখছে৷
3 আমাদের পিতা ঈশ্বর ও প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহ, দয়া ও শান্তি তোমাদের প্রতি বর্তুক৷
4 যীশু আমাদের পাপের জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন, যাতে য়ে মন্দ জগতে আমরা বাস করি তার থেকে য়েন তিনি আমাদের রক্ষা করতে পারেন৷ আমাদের পিতা ঈশ্বর তাই চেয়েছিলেন৷
5 যুগে যুগে ঈশ্বরের মহিমা হোক্৷ আমেন৷
6 আমি তোমাদের দেখে আশ্চর্য হচ্ছি য়ে, যিনি খ্রীষ্টের অনুগ্রহের মাধ্যমে তোমাদের আহ্বান করেছিলেন তোমরা সেই ঈশ্বরের কাছ থেকে কত শীঘ্র সরে গিয়ে এক ভিন্ন সুসমাচারে বিশ্বাস করছ৷
7 এটা সুসমাচারের কোন ভাষান্তর নয় কিন্তু কিছু লোক তোমাদের বিভ্রান্ত করছে৷ তারা খ্রীষ্টের সুসমাচারকে বিকৃত করতে চাইছে৷
8 আমরা তোমাদের কাছে য়ে সত্য সুসমাচার প্রচার করেছি তার থেকে ভিন্ন কোন সুসমাচার যদি আমাদের কেউ বা কোন স্বর্গদূত এসেও প্রচার করে, তবে সে অভিশপ্ত হোক্৷
9 এর আগেও আমরা একথা বলেছি; সেই একই কথা আবার বলছি; তোমরা য়ে সুসমাচার গ্রহণ করেছিলে তদ্ভিন্ন অন্য কোন সুসমাচার যদি কেউ তোমাদের কাছে প্রচার করে তবে এমন ব্যক্তি অভিশপ্ত হোক্৷
10 তোমাদের কি মনে হয় আমাকে গ্রহণ করার জন্য আমি লোকদের কাছে চেষ্টা চালাচ্ছি? তা নয় বরং একমাত্র ঈশ্বরকেই আমি সন্তুষ্ট করতে চাইছি৷ আমি কি মানুষকে খুশী করতে চাইছি? আমি যদি মানুষকে খুশী করতে চাইতাম তাহলে খ্রীষ্টের দাস হতাম না৷
11 ভাইরা, আমি চাই তোমরা জান য়ে, য়ে সুসমাচার আমি তোমাদের কাছে প্রচার করেছি তা কোন মানুষের মতানুযাযী নয়৷
12 কারণ সেই বার্তা আমি কোন মানুষের কাছ থেকে পাই নি; কোন মানুষ আমাকে তা শেখায় নি, বরং যীশু খ্রীষ্টই আমার কাছে তা প্রকাশ করেছেন৷
13 তোমরা তো শুনেছ আমি আগে কেমন জীবনযাপন করতাম৷ আমি ইহুদী ধর্মমতাবলম্বী ছিলাম৷ আমি নির্মমভাবে ঈশ্বরের মণ্ডলীকে নির্য়াতন করে তা ধ্বংস করতে চেষ্টা করেছিলাম৷
14 ইহুদী ধর্মচর্চায় সমসামযিক ও আমার সমবয়সী অন্যান্য ইহুদীদের থেকে আমি অনেক এগিয়েছিলাম, কারণ পূর্বপুরুষদের পরম্পরাগত রীতিনীতি পালনে আমার যথেষ্ট উদ্যোগ ছিল৷
15 আমার জন্মাবার আগে থেকেই ঈশ্বর আমাকে বেছে নেন এবং নিজ অনুগ্রহে তাঁর সেবা করার জন্য আমাকে ডাকেন৷
16 আমি য়েন অইহুদীদের কাছে তাঁর পুত্রের বিষয় সুসমাচার প্রচার করি সেইজন্য ঈশ্বর তাঁর পুত্রের বিষয়ে আমার কাছে প্রকাশ করতে মনস্থ করলেন৷ ঈশ্বর যখন আমাকে ডাকলেন তখন আমি কোন মানুষের সঙ্গে পরামর্শ করি নি,
17 এমন কি আমার আগে যাঁরা প্রেরিত হয়েছিলেন তাদের সঙ্গে দেখা করতে আমি জেরুশালেমে যাই নি; কিন্তু কাল বিলম্ব না করে আমি আরব দেশে চলে গেলাম৷ পরে দম্মেশক শহরে ফিরে গেলাম৷
18 তারপর তিন বছর বাদে পিতরের সঙ্গে পরিচিত হতে জেরুশালেমে যাই ও পিতরের সঙ্গে আমি পনেরো দিন থাকি৷
19 সেখানে আমি প্রভুর ভাই যাকোব ছাড়া আর কোন প্রেরিতকে দেখি নি৷
20 ঈশ্বর জানেন য়ে, য়েসব কথা আমি লিখছি সেগুলি মিথ্যা নয়৷
21 তারপর আমি সুরিয়ার ও কিলিকিয়ার অঞ্চলগুলিতে চলে যাই৷
22 এর পূর্বে যিহূদার কোন খ্রীষ্ট মণ্ডলী আমায় ব্যক্তিগতভাবে চিনত না৷
23 তারা শুধু আমার সম্বন্ধে শুনেছিল, ‘য়ে লোকটি আগে আমাদের নির্য়াতন করত, সে এখন সেই বিশ্বাসের বাণী প্রচার করছে, যা সে পূর্বে ধ্বংস করতে চেয়েছিল৷’
24 আর তারা আমার কারণে ঈশ্বরের প্রশংসা করতে লাগল৷




অধ্যায় 2

1 তারপর চৌদ্দ বছর পর আমি আবার জেরুশালেমে গেলাম৷ আমি বার্ণবার সঙ্গে গেলাম আর তীতকেও সঙ্গে নিলাম৷
2 ঈশ্বরের কাছ থেকে প্রাপ্ত আদেশ অনুসারে আমি সেখানে গেলাম৷ সেখানকার বিশ্বাসীদের নেতৃবর্গের কাছে এক গোপন সভায় অইহুদীদের কাছে য়ে সুসমাচার প্রচার করে থাকি তার ব্যাখ্যা করলাম৷ আমি চেয়েছিলাম য়ে তারা য়েন বুঝতে পারে আমি কি কাজ করছি, য়েন অতীতে য়ে কাজ করেছিলাম ও বর্তমানে আমি যা করছি তা বৃথা না হয়ে থাকে৷
3 এর ফলস্বরূপ তীত যিনি আমার সঙ্গে ছিলেন, তিনি একজন গ্রীক হওয়া সত্ত্বেও এই নেতৃবর্গ তীতকে সুন্নত করার জন্য জোর করলেন না৷ এইসব সমস্যা নিয়ে কথা বলার দরকার ছিল, কারণ কিছু ভণ্ড বিশ্বাসী গোপনে গুপ্তচরের মতো আমাদের দলে ঢুকে পড়েছিল এবং খ্রীষ্ট যীশুতে আমাদের কতটা স্বাধীনতা আছে তা জানবার চেষ্টা করছিল, যাতে আমাদের তাদের দাস করতে পারে৷
4
5 সেই ভণ্ড বিশ্বাসী ভাইরা যা চেয়েছিল তার কোন কিছুতেই আমরা মত দিই নি, যাতে সুসমাচার দ্বারা য়ে সত্য প্রকাশিত হয়েছিল তা তোমাদের সাথে থাকে৷
6 মণ্ডলীতে যাদের খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হচ্ছিল তাদের কাছ থেকেও আমি নতুন কোন কিছু জানতে পারি নি৷ তারা য়েই হোন না কেন তাতে আমার কিছু এসে যায় না৷ ঈশ্বরের কাছে সবাই সমান আর তিনি কারও মুখাপেক্ষী নন৷
7 অপরপক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ নেতারা যখন দেখলেন য়ে ঈশ্বর আমাকে অইহুদীদের কাছে সুসমাচার প্রচারের বিশেষ ভার দিয়েছেন, য়েমন পিতরকে ইহুদীদের কাছে সুসমাচার প্রচার করার ভার দিয়েছেন৷
8 ইহুদীদের জন্য প্রেরিতের কাজ করতে য়ে ঈশ্বর পিতরকে ক্ষমতা দিয়েছেন, তিনিই আবার আমাকে অইহুদীদের জন্য প্রেরিত করেছেন৷
9 তাই যাকোব, পিতর ও য়োহন যাদের নেতা হিসাবে খ্যাতি ছিল, তাঁরা বুঝতে পারলেন য়ে ঈশ্বর আমাকে এই বিশেষ অনুগ্রহ দান করেছেন, তাই চিহ্ন হিসাবে বার্ণবা এবং আমার সঙ্গে করমর্দন করে আমাদের সহভাগী হিসেবে গ্রহণ করলেন৷ তাঁরা এই ব্যবস্থায় সম্মত হলেন য়ে, ‘আমরা অর্থাত্ পৌল এবং বার্ণবা অইহুদীদের কাছে প্রচারে যাব; আর তাঁরা অর্থাত্ যাকোব, পিতর ও য়োহন ইহুদীদের কাছে যাবেন৷’
10 তাঁরা কেবলমাত্র একটি বিষয়ে আমাদের অনুরোধ করলেন, য়েন যাঁরা দরিদ্র তাদের মনে রাখি৷ এ কাজটি করতে আমিও খুব উদগ্রীব ছিলাম৷
11 কিন্তু যখন পিতর আন্তিয়খিয়ায় এলেন, আমি সরাসরি তাঁর বিরোধিতা করলাম, কারণ তিনি স্পষ্টতই ভুল দিকে ছিলেন৷
12 আন্তিয়খিয়ায় আসার পর প্রথমে তিনি অইহুদীদের সঙ্গে পানাহার ও মেলামেশা করতেন; কিন্তু যাকোবের কাছে থেকে কিছু ইহুদী সেখানে এলে পিতর অইহুদীদের সঙ্গে পানাহার বন্ধ করে দিলেন৷ তিনি অইহুদীদের সঙ্গে মেলামেশা বন্ধ করে নিজেকে পৃথক রাখলেন৷ তিনি সেই সমস্ত ইহুদীদের কথা মনে করে ভয় পাচ্ছিলেন, যাঁরা মনে করত য়ে সব অইহুদী লোকদের সুন্নত হওয়া দরকার৷
13 এরপর অন্যান্য অইহুদীরা পিতরের সঙ্গে এই ভণ্ডামিতে এমন মাত্রায় য়োগ দিলেন য়ে এমনকি বার্ণবাও এদের ভণ্ডামির দ্বারা প্রভাবিত হলেন৷
14 আমি যখন দেখলাম য়ে তাঁরা সুসমাচারের সত্য অনুসারে সোজা পথে চলছেন না, তখন আমি পিতরকে সম্বোধন করে সবার সামনে বললাম: ‘আপনি একজন ইহুদী হয়ে যদি ইহুদীদের রীতিনীতি পালন না করেন, তবে যাঁরা অইহুদী তাদের ইহুদীদের মতো সব কিছু পালন করতে জোর করছেন কেন?’
15 আমরা জন্মসূত্রে ইহুদী, অইহুদী পাপী নই৷
16 তবু আমরা জানি য়ে মানুষ ঈশ্বরের সামনে বিধি-ব্যবস্থা পালনের দ্বারা নয় বরং যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাস দ্বারা ঈশ্বরের সাক্ষাতে নির্দোষ গণিত হয়, তাই আমরা যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাস করেছি, যাতে আমরা ঈশ্বরের সামনে বিধি-ব্যবস্থা পালনের দ্বারা নয় বরং খ্রীষ্টে বিশ্বাসী বলেই নির্দোষ গণিত হই৷ কারণ কেউই বিধি-ব্যবস্থা পালনের দ্বারা ঈশ্বরের সামনে নির্দোষ গণিত হয় না৷
17 কিন্তু আমরা ইহুদীরা খ্রীষ্টে নির্দোষ গণিত হতে গিয়ে যদি আমাদের অইহুদীদের মত পাপী দেখাই, তবে তার অর্থ কি এই, য়ে খ্রীষ্ট পাপকে উত্‌সাহিত করেন? কখনই না৷
18 কারণ যা আমি ভেঙ্গে ফেলেছি তা যদি আবার গঠন করি, তাহলে আমি নিজেকে নিয়ম ভঙ্গকারী হিসাবে প্রমাণ করি৷
19 বিধি-ব্যবস্থার দিক থেকে আমি মৃত এবং বিধি-ব্যবস্থা হল আমার মৃত্যুর কারণ৷ এটা হয়েছে যাতে আমি ঈশ্বরের জন্য বাঁচি৷ আমি খ্রীষ্টের সঙ্গে ক্রুশবিদ্ধ হয়েছি৷
20 সুতরাং আমি আর জীবিত নই, কিন্তু খ্রীষ্টই আমার মধ্যে জীবিত আছেন; আমার দেহের মধ্যে য়ে জীবন আমি এখন যাপন করি, এ কেবল ঈশ্বরের পুত্রের ওপর বিশ্বাসের দ্বারাই করি, যিনি আমাকে ভালবেসেছেন এবং আমার জন্য নিজেকে উত্‌সর্গ করেছেন৷
21 ঈশ্বরের অনুগ্রহ আমি প্রত্যাখান করি না, কারণ যদি বিধি-ব্যবস্থার দ্বারা ঈশ্বরের সামনে নির্দোষ গণিত হওয়া যায়, তবে খ্রীষ্ট মিথ্যাই প্রাণ দিয়েছিলেন৷




অধ্যায় 3

1 ওহে অবুঝ গালাতীয়ের লোকেরা! তোমাদের কে যাদু করেছে? ক্রুশের ওপর যীশু খ্রীষ্টের মৃত্যুর কথা তোমাদের তো স্পষ্ট করেই বোঝানো হয়েছিল৷
2 কেবল আমার এই কথাটির জবাব দাও: তোমরা কিভাবে পবিত্র আত্মা পেয়েছিলে? বিধি-ব্যবস্থা পালনের দ্বারা কি পেয়েছিলে? না সুসমাচার শুনে ও তাতে বিশ্বাস করাতেই পবিত্র আত্মা পেয়েছিল?
3 তোমরা কি এতই অবোধ য়ে, পবিত্র আত্মায় খ্রীষ্টীয় জীবন শুরু করে এখন তা স্থুল দৈহিক শক্তির ওপর নির্ভর করে শেষ করতে চাও?
4 তোমরা কি বৃথাই এত রকম অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে গেছ? আমি আশা করি তা বৃথা হবে না৷
5 তোমরা বিধি-ব্যবস্থা পালন করেছিলে বলেই কি ঈশ্বর তোমাদের পবিত্র আত্মা দিয়েছিলেন এবং তোমাদের মধ্যে অলৌকিক কাজ করেছিলেন, না তোমরা সুসমাচার শুনে বিশ্বাস করেছিলে বলে?
6 অব্রাহামের সম্পর্কে শাস্ত্র য়েমন বলে: ‘অব্রাহাম ঈশ্বরের ওপর বিশ্বাস করেছিলেন এবং ঈশ্বর তাঁর বিশ্বাসকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন; তার ফলে ঈশ্বরের সাক্ষাতে অব্রাহাম ধার্মিক প্রতিপন্ন হয়েছিলেন৷’
7 তোমাদের জানা ভাল, য়ে যাঁরা বিশ্বাসের পথে চলে তারাই অব্রাহামের প্রকৃত সন্তান৷
8 পবিত্র শাস্ত্রে এবিষয়ে আগেই লেখা ছিল য়ে, অইহুদী লোকদের ঈশ্বর তাদের বিশ্বাসের দ্বারা ধার্মিক প্রতিপন্ন করবেন৷ আগে থেকেই এই সুসমাচার অব্রাহামকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল! ‘অব্রাহাম সমস্ত জাতি তোমার মাধ্যমে আশীর্বাদ পাবে৷’
9 অব্রাহাম বিশ্বাস করে য়েমন আশীর্বাদ পেয়েছেন তেমনি য়ে সমস্ত লোক এখন বিশ্বাস করছে তারাও সেই আশীর্বাদ লাভ করছে৷
10 যাঁরা ঈশ্বরের সামনে ধার্মিক প্রতিপন্ন হতে বিধি-ব্যবস্থা পালনের ওপর নির্ভর করে, তাদের ওপর অভিশাপ থাকে৷ কারণ শাস্ত্র বলে: ‘বিধি-ব্যবস্থায় য়ে সকল লেখা আছে তার সব কটি য়ে পালন না করে সে শাপগ্রস্ত!’
11 এখন এটা পরিষ্কার য়ে বিধি-ব্যবস্থার দ্বারা ঈশ্বরের কাছে ধার্মিক প্রতিপন্ন হওয়া যায় না৷ কারণ শাস্ত্র বলে: ‘ধার্মিক ব্যক্তি বিশ্বাসের জন্যই বাঁচবে৷’
12 কিন্তু বিধি-ব্যবস্থার সঙ্গে বিশ্বাসের কোন সম্পর্ক নেই, বরং শাস্ত্র বলে, ‘য়ে বিধি-ব্যবস্থা পালন করে, সে তার মধ্য দিয়েই জীবন পাবে৷’
13 বিধি-ব্যবস্থা আমাদের ওপর য়ে অভিশাপ চাপিয়ে দিয়েছে তার থেকে খ্রীষ্ট আমাদের উদ্ধার করেছেন৷ খ্রীষ্ট আমাদের স্থানে দাঁড়িয়ে নিজের ওপর সেই অভিশাপ গ্রহণ করলেন৷ কারণ শাস্ত্র বলছে: ‘যার দেহ গাছে টাঙ্গানো হয় সে শাপগ্রস্ত৷’
14 খ্রীষ্ট এই কাজ সম্পন্ন করলেন যাতে য়ে আশীর্বাদ অব্রাহাম লাভ করেছিলেন তা খ্রীষ্টের মাধ্যমে অইহুদীরাও লাভ করে, এবং য়েন বিশ্বাসের দ্বারা আমরা সেই প্রতিশ্রুত আত্মাকে পাই৷
15 আমার ভাই ও বোনেরা, আমি তোমাদের কাছে সাধারণ একটি উদাহরণ দিচ্ছি: দুজনের মধ্যে একটা চুক্তির কথা চিন্তা কর৷ সেই চুক্তি একবার বৈধ হয়ে গেলে কেউ তা বাতিল করতে পারে না বা তাতে কোন কিছু য়োগ করতে পারে না৷
16 ঈশ্বর, অব্রাহাম ও তাঁর বংশধরকে আশীর্বাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন৷ লক্ষ্য কর য়ে এখানে ‘বংশধর’ বলা হয়েছে, ‘বংশধরদের’ নয়, য়েন অনেককে নয় বরং একজনকে অর্থাত্ খ্রীষ্টকে নির্দেশ করা হয়৷
17 আমি এটাই বলতে চাই য়ে: ঈশ্বর অব্রাহামের সঙ্গেচুক্তি করেছিলেন, আর তার চারশো তিরিশ বছর পরে বিধি-ব্যবস্থা এসেছিল৷ তাই বিধি-ব্যবস্থা এসে পূর্বেই য়ে চুক্তি ঈশ্বরের সাথে অব্রাহামের হয়েছিল তা বাতিল করতে পারে না৷
18 যদি উত্তরাধিকার বিধি-ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করত তাহলে তা আর প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভরশীল হত না; কিন্তু ঈশ্বর মুক্ত হস্তে এই উত্তরাধিকার অব্রাহামকে তাঁর প্রতিশ্রুতির মধ্যে দিয়েছিলেন৷
19 তাহলে বিধি-ব্যবস্থা কিসের জন্য? অপরাধ কি এটা বোঝাবার জন্য বিধি-ব্যবস্থা সেই বংশধর (অব্রাহামের) আসা পর্যন্ত য়োগ করা হল, যাকে সেই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল৷ মানুষের কাছে সেই বিধি-ব্যবস্থা পৌঁছে দিতে স্বর্গদূতরা মোশিকে মধ্যস্তরূপে ব্যবহার করেছিলেন৷
20 কিন্তু কেবলমাত্র একজন থাকলে কোন মধ্যস্থের দরকার হয় না; আর ঈশ্বর এক৷
21 তাহলে কি বিধি-ব্যবস্থা ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতির বিরুদ্ধে? নিশ্চয়ই নয়! যদি এমন বিধি-ব্যবস্থা থাকত যা মানুষকে জীবন দান করতে পারে, তবে বিধি-ব্যবস্থা পালন করেই আমরা ধার্মিক হতে পারতাম৷
22 কিন্তু এ সত্য নয়, কারণ শাস্ত্র দেখাচ্ছে য়ে সকলে পাপের কাছে বন্দী; য়েন লোকেরা বিশ্বাসের মাধ্যমেই সেই প্রতিশ্রুত আশীর্বাদ পেতে পারে৷ যাঁরা যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাস করবে, তাদের উদ্দেশ্যেই এই প্রতিশ্রুতি দেওয়া রয়েছে৷
23 এই বিশ্বাস আসার আগে আমরা বিধি-ব্যবস্থার অধীনে বন্দী ছিলাম; আমাদের কোন স্বাধীনতা ছিল না, য়ে পর্যন্ত না ঈশ্বর আমাদের কাছে বিশ্বাসের সেই কথা জানালেন৷
24 খ্রীষ্টের কাছে আসার জন্য বিধি-ব্যবস্থাই ছিল আমাদের কঠোর অভিভাবক, য়েন বিশ্বাসের মাধ্যমে আমরা ঈশ্বরের সাক্ষাতে ধার্মিক বলে গণিত হই৷
25 এখন যখন বিশ্বাস আমাদের মধ্যে এসেছে, তখন আমরা আর বিধি-ব্যবস্থার অধীন নই৷
26 কারণ তোমাদের মধ্যে যাদের খ্রীষ্টে বাপ্তিস্ম হয়েছে, তাদের সবাই খ্রীষ্টকে পরিধান করেছে৷ খ্রীষ্ট যীশুর মাধ্যমে বিশ্বাস দ্বারা তোমরা সকলেই ঈশ্বরের সন্তান৷
27
28 এখন খ্রীষ্ট যীশুতে যাঁরা আছে তাদের মধ্যে পুরুষ বা স্ত্রীতে কোন ভেদাভেদ নেই, ইহুদী কি গ্রীক, স্বাধীন কি দাসের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই৷ কারণ খ্রীষ্ট যীশুতে তোমরা এক৷
29 তোমরা খ্রীষ্টের, তাই তোমরা অব্রাহামের বংশধর; সুতরাং অব্রাহামের কাছে ঈশ্বর য়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তোমরাও তার উত্তরাধিকারী হবে৷




অধ্যায় 4

1 আমি তোমাদের একথা বলতে চাইছি, - উত্তরাধিকারী যতদিন শিশু থাকে ততদিন তার সঙ্গে একজন দাসের কোন তফাত্ থাকে না; যদিও সেই শিশু সব কিছুর মালিক৷
2 কারণ সে যত দিন শিশু অবস্থায় থাকে তাকে অভিভাবক এবং সংসার পরিচালকের কথা অনুযাযী চলতে হয়৷ সাবালক হবার জন্য য়ে বয়স তার পিতা নির্ধারণ করে দেন, সেই বয়সে পৌঁছলে সে স্বাধীন হয়৷
3 একথা আমাদের পক্ষে একইভাবে প্রয়োজ্য৷ আমরা যখন শিশুদের পর্য়ায়ে ছিলাম, তখন আমরা এই জগতের কতকগুলি প্রাথমিক নিয়ম কানুনের অধীনে ছিলাম,
4 কিন্তু নিরুপিত সময়ে ঈশ্বর তাঁর পুত্রকে পাঠালেন৷ ঈশ্বরের পুত্র একজন স্ত্রীলোকের গর্ভজাত হলেন এবং বিধি-ব্যবস্থার অধীনে জীবন কাটালেন,
5 যাতে তিনি বিধি-ব্যবস্থার অধীন সমস্ত লোকদের স্বাধীন করতে পারেন এবং য়েন আমরা সকলে তাঁর পুত্ররূপে স্বীকৃতি পাই৷
6 তোমরা সকলেই ঈশ্বরের সন্তান, সেইজন্যই তাঁর পুত্রের আত্মাকে তিনি তোমাদের অন্তরে পাঠিয়েছেন৷ সেই আত্মা ডেকে ওঠে, ‘পিতা, পিতা’ বলে৷
7 তাই তোমরা আগের মতো আর দাস নও কিন্তু ঈশ্বরের পুত্র; আর য়েহেতু তোমরা পুত্র তাই ঈশ্বর তাঁর প্রতিশ্রুত বিষয়গুলি তোমাদের দেবেন৷
8 অতীতে যখন তোমরা ঈশ্বরকে জানতে না, তখন তোমরা য়ে সমস্ত দেবতার সেবা করতে, তারা ঈশ্বর নয়৷
9 কিন্তু তোমরা এখন সত্য ঈশ্বরকে জেনেছ অথবা এটা বলা ভাল য়ে ঈশ্বরই তোমাদের জেনেছেন৷ তাই পূর্বে য়ে সব নিরর্থক ও দুর্বল নিয়ম-কানুন ছিল সেদিকে আবার কেন ফিরছ? তোমরা কি আবার ঐ সকলের দাস হতে চাও?
10 তোমরা কেবল বিশেষ বিশেষ দিন, মাস, ঋতু ও বছর পালন করছ৷
11 তোমাদের দেখে আমার ভয় হয় য়ে, তোমাদের মধ্যে হয়তো আমি বৃথাই পরিশ্রম করেছি৷
12 আমার ভাই ও বোনেরা, আমি তোমাদের মতো ছিলাম, তাই মিনতি করি তোমরা আমার মতো হও৷ তোমরা আমার সঙ্গে কোন খারাপ ব্যবহার কর নি৷
13 তোমরা তো জান, আমি অসুস্থ ছিলাম বলে প্রথমেই তোমাদের কাছে সুসমাচার প্রচার করি৷
14 যদিও আমার অসুস্থতা তোমাদের সবার কাছে এক পরীক্ষাস্বরূপ হয়েছিল, তবু তোমরা এমনভাবে আমাকে গ্রহণ করেছিলে য়েন আমি ঈশ্বর হতে আগত স্বর্গদূত, য়েন স্বয়ং যীশু খ্রীষ্ট৷
15 এখন তোমাদের সেই আনন্দ কোথায়? আমি তোমাদের সম্বন্ধে এই সাক্ষ্য দিতে পারি য়ে তখন সন্ভব হলে তোমরা আমার জন্য নিজের নিজের চোখ উপড়ে আমাকে দিতে দ্বিধা করতে না৷
16 এখন তোমাদের কাছে সত্য বলছি বলে কি আমি তোমাদের শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছি?
17 সেই লোকরা তোমাদের প্রতি আগ্রহী হয়েছে, কিন্তু তা কোন ভাল উদ্দেশ্যে নয়৷ তারা তোমাদের কাছ থেকে আমাদের আলাদা করতে চায়, য়েন তোমরা তাদের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ কর৷
18 অবশ্য আগ্রহ দেখানো ভাল কেবল যদি সত্ উদ্দেশ্যে তা করা হয়৷ আমি যখন তোমাদের মধ্যে উপস্থিত থাকি কেবল তখনই নয় বরং সবসময়েই তা থাকা ভাল৷
19 হে আমার প্রিয় সন্তানরা, তোমাদের জন্য আমি আর একবার প্রসব যন্ত্রণা ভোগ করছি৷ তোমাদের নিয়ে আমাকে এই যন্ত্রণা ভোগ করতেই হবে যতদিন পর্যন্ত না তোমরা খ্রীষ্টের মতো হয়ে ওঠো৷
20 এখন তোমাদের কাছে য়েতে আমার খুব ইচ্ছা করছে, তাহলে ভিন্নভাবে এসব নিয়ে আলোচনা করতে পারতাম৷ আমি জানি না তোমাদের নিয়ে আমি কি করব৷
21 আমাকে বলতো, তোমাদের মধ্যে কে মোশির বিধি-ব্যবস্থার অধীন থাকতে চায়? তোমরা কি জান না বিধি-ব্যবস্থা কি বলে?
22 শাস্ত্র বলছে য়ে অব্রাহামের দুটি পুত্র ছিল, একটি পুত্রের মা ছিল দাসী স্ত্রী, অপর পুত্রের মা ছিল স্বাধীন স্ত্রী৷
23 দাসী স্ত্রীর গর্ভে অব্রাহামের য়ে সন্তান জন্মেছিল তার জন্ম স্বাভাবিকভাবেই হয়েছিল, কিন্তু স্বাধীন স্ত্রীর গর্ভে অব্রাহামের য়ে সন্তান জন্মেছিল, সে অব্রাহামের কাছে ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতির ফলেই জন্মেছিল৷
24 এই বিষয়গুলি রূপকের মতো ব্যাখ্যা করা যায়৷ এই দুই মহিলা দুটি চুক্তির প্রতিনিধিত্ব করে, একটি চুক্তি য়েটা সীনয় পর্বত থেকে এসেছিল, সেটা একদল লোকের জন্ম দিয়েছিল দাসত্বের জন্যে৷ য়ে মাতার নাম হাগার, সে এই চুক্তির সঙ্গে তুলনীয়৷
25 হাগার হলেন আরবের সীনয় পর্বতের মতো৷ তিনি বর্তমান ইহুদীদের জেরুশালেমের প্রতিরূপ, কারণ সেই জেরুশালেম তার লোকদের সাথে দাসত্বের বন্ধনে বদ্ধ৷
26 কিন্তু স্বর্গীয় জেরুশালেম স্বাধীন মহিলা স্বরূপ৷ সেই জেরুশালেম আমাদের মাতৃসম৷
27 কারণ শাস্ত্রে লেখা আছে:‘হে বন্ধ্যা নারী, তোমরা যাঁরা সন্তানের জন্ম দাও নি! তোমরা আনন্দ কর, উল্লসিত হও! তোমরা যাঁরা কখনই প্রসব যন্ত্রণা ভোগ কর নি; তোমরা উল্লাস কর, কারণ স্বামীর সহিত বসবাসকারী স্ত্রীর চাইতে নিঃসঙ্গ স্ত্রীর অনেক বেশী সন্তান হবে৷’যিশাইয় 54 :1
28 আমার ভাই ও বোনেরা, তোমরাও সেই ইসহাকের মতো প্রতিশ্রুতির সন্তান৷ কিন্তু ঠিক এখনকার মতোই তখনও য়ে পুত্র স্বাভাবিকভাবে জন্মেছিল, সে অন্য পুত্রকে অর্থাত্ পবিত্র আত্মার শক্তিতে যার জন্ম হয়েছিল তাকে নির্য়াতন করত৷
29
30 কিন্তু শাস্ত্র কি বলে? ‘দাসী স্ত্রী ও তার পুত্রকে তাড়িয়ে দাও!কারণ দাসীর পুত্র স্বাধীন স্ত্রীর পুত্রের সাথে কিছুরই উত্তরাধিকারী হবে না৷’
31 তাই বলি আমার ভাই ও বোনেরা, আমরা সেই দাসীর সন্তান নই, আমরা স্বাধীন স্ত্রীর সন্তান৷




অধ্যায় 5

1 খ্রীষ্ট আমাদের স্বাধীন করেছেন, য়েন আমরা স্বাধীনভাবে থাকতে পারি; তাই শক্ত হয়ে দাঁড়াও, দাসত্বে ফিরে য়েও না৷
2 শোন! আমি পৌল বলছি৷ যদি তোমরা সুন্নতের মাধ্যমে আবার বিধি-ব্যবস্থায় ফিরে যাও, তবে তোমরা খ্রীষ্টেতে লাভবান হবে না৷
3 আবার আমি প্রত্যেক মানুষকে সতর্ক করে দিচ্ছি৷ তোমরা যদি সুন্নত করাতে চাও, তবে বিধি-ব্যবস্থার সবটাই তোমাদের পালন করতে হবে৷
4 তোমরা যাঁরা বিধি-ব্যবস্থার দ্বারা ঈশ্বরের সাক্ষাতে নির্দোষ গণিত হতে চেষ্টা করছ, তারা খ্রীষ্টের কাছ থেকে নিজেদের আলাদা করেছ এবং ঈশ্বরের অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত হয়েছ৷
5 কিন্তু আমরা বিশ্বাসের দ্বারা ঈশ্বরের সাক্ষাতে নির্দোষ বলে গণিত হবার জন্য অধীর আগ্রহে আত্মায় অপেক্ষা করছি৷
6 কারণ খ্রীষ্ট যীশুতে যুক্ত থাকলে সুন্নত হওয়া বা না হওয়া এ প্রশ্ন মূল্যহীন; কিন্তু দরকারি বিষয় হল বিশ্বাস, য়ে বিশ্বাস ভালবাসার মধ্য দিয়ে কাজ করে৷
7 তোমরা বেশ ভালই দৌড়োচ্ছিলে, তাহলে সত্যের বাধ্য হয়ে চলতে কে তোমাদের বাধা দিল?
8 যিনি তোমাদের আহ্বান করেছেন, সেই ঈশ্বরের কাছ থেকে এই ধরণের প্ররোচনা আসে নি৷
9 সাবধান হও! ‘সামান্য একটু খামির গোটা ময়দার তালকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে তোলে!’
10 তোমাদের জন্য প্রভুতে আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে য়ে তোমরা আমার শিক্ষা ছাড়া ভিন্ন কোন শিক্ষার দিকে ফিরবে না; কিন্তু য়ে লোক তোমাদের বিরক্ত করছে, সে য়েই হোক না কেন, শাস্তি সে পাবেই৷
11 আমার ভাই ও বোনেরা, যদি আমি এখনও সুন্নতের প্রযোজন সম্বন্ধে শিক্ষা নিই, তবে আমি এখনও এতো নির্য়াতন ভোগ করছি কেন? এবং আমি সুন্নতের প্রযোজন সম্বন্ধে যদি এখনও বলি তাহলে ক্রুশের কথা বলতে কোন সমস্যাই হত না৷
12 যাঁরা তোমাদের অস্থির করে তুলছে, আমি চাই তারা য়েন নিজেদের ছিন্নাঙ্গও করে৷
13 আমার ভাই ও বোনেরা, স্বাধীন মানুষ হবার জন্যই ঈশ্বর তোমাদের আহ্বান করেছেন, কেবল দেখ তোমাদের পাপ প্রবৃত্তিকে তৃপ্তি দিয়ে সেই স্বাধীনতার সুয়োগ নিও না, বরং প্রেমে একে অপরের দাস হও৷
14 য়েহেতু সমস্ত বিধি-ব্যবস্থাকে এক করলে এটাই দাঁড়ায়: ‘তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মত করে ভালবাস৷’
15 কিন্তু তোমরা যদি নিজেদের মধ্যে কামড়া-কামড়ি, ছেঁড়াছেড়ি কর, তবে সাবধান! য়েন তোমরা একে অপরের দ্বারা ধ্বংস না হও৷
16 তাই আমি বলি য়ে, তোমরা সেই আত্মার পরিচালনায় চল, তাহলে তোমরা আর তোমাদের পাপ প্রকৃতির ইচ্ছা পূর্ণ করবে না৷
17 কারণ আমাদের পাপ প্রকৃতি যা চায়, তা আত্মার বিরুদ্ধে এবং আত্মা যা চায় তা পাপ প্রকৃতির ইচ্ছার বিরুদ্ধে৷ এরা পরস্পরের বিরোধী, ফলে তোমরা যা চাও তা করতে পার না৷
18 কিন্তু তোমরা যদি আত্মা দ্বারা পরিচালিত হও তবে তোমরা বিধি-ব্যবস্থার অধীনে নও৷
19 পাপ প্রবৃত্তির কাজগুলি স্পষ্ট; সেগুলি হল ব্যভিচার, অশুচিতা, স্বেচ্ছাচারিতা,
20 প্রতিমা পূজা, ডাইনি বিদ্যা, ঘৃণা, স্বার্থপরতা, হিংসা, ক্রোধ, নিজেদের মধ্যে বিতর্ক, মতভেদ, দলাদলি, ঈর্ষা,
21 মাতলামি, লাম্পট্য আর একই ধরণের অন্য অপরাধ৷ এর বিরুদ্ধে তোমাদের সাবধান করে দিচ্ছি য়েমন এর আগেও করেছি, যাঁরা এইসব কুকাজ করবে তাদের ঈশ্বরের রাজ্যে জায়গা হবে না৷
22 কিন্তু আত্মার ফল হল ভালবাসা, আনন্দ, শান্তি, ধৈর্য্য, দয়া, মঙ্গলভাব, বিশ্বস্ততা, মৃদুতা ও আত্মসংযম৷
23 এই সবের বিরুদ্ধে কোন বিধি-ব্যবস্থা নেই৷
24 যাঁরা যীশু খ্রীষ্টে রয়েছে, তারা তাদের পাপ প্রকৃতিকে কামনা বাসনা সমেত ক্রুশে বিদ্ধ করেছে, অর্থাত্ তাদের পুরানো জীবনের সব মন্দ লালসা ও প্রবৃত্তি ত্যাগ করেছে৷
25 সুতরাং আত্মাই যখন আমাদের নতুন জীবনের উত্‌স তখন এস আমরা আত্মার অধীনে চলি৷
26 এস আমরা য়েন অযথা অহঙ্কার না করি, পরস্পরকে জ্বালাতন ও হিংসা না করি৷




অধ্যায় 6

1 আমার ভাই ও বোনেরা, তোমাদের মধ্যে কেউ যদি হঠাত্ পাপে পড়ে তবে তোমরা যাঁরা আত্মিক ভাবাপন্ন তারা অবশ্যই তাকে ঠিক পথে আনতে সাহায্য করবে৷ একাজ অত্যন্ত নম্রভাবে করতে হবে; কিন্তু তোমরা নিজেরাও সাবধানে থেকো, পাছে তোমরাও পরীক্ষায় পড়৷
2 তোমরা একে অপরের ভার বহন কর, এই রকম করলে বাস্তবে খ্রীষ্টের বিধি-ব্যবস্থাই পালন করবে৷
3 কোন ব্যক্তি যদি প্রকৃতপক্ষে ভাল না হয়েও নিজেকে অন্যদের থেকে ভাল মনে করে তাহলে সে নিজেকে প্রতারণা করছে৷
4 অপর লোকের সঙ্গে নিজের তুলনা না করে প্রত্যেকের উচিত নিজের কাজ যাচাই করে দেখা, তবে সে যা করছে তাই নিয়ে গর্ব করতে পারবে৷
5 কারণ প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার নিজের দাযিত্ব নিতে হবে৷
6 য়ে ব্যক্তি শিক্ষকের কাছ থেকে ঈশ্বরের বার্তার বিষয়ে শিক্ষা লাভ করে, তার উচিত সেই শিক্ষককে তার সমস্ত উত্তম বিষয়ের সহভাগী করে প্রতিদান দেওয়া৷কারণ প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার নিজের দাযিত্ব নিতে হবে৷
7 তোমরা নিজেদের বোকা বানিও না৷ ঈশ্বরকে ঠকানো যায় না৷ য়েমন বুনবে, তেমন কাটবে৷
8 য়ে নিজ পাপ প্রকৃতির বীজ রোপন করে সে তার থেকে সংগ্রহ করবে৷ কিন্তু য়ে পবিত্র আত্মার বীজ বুনবে সে পবিত্র আত্মার কাছ থেকে অনন্ত জীবন পাবে৷
9 ভাল কাজ করতে করতে আমরা য়েন ক্লান্ত না হয়ে পড়ি, কারণ নিরুপিত সময়ে আমরা ফসল রূপে অনন্ত জীবন পাব৷ হাল ছাড়লে চলবে না৷
10 সুয়োগ পেলে আমাদের সব লোকের প্রতি ভাল কাজ করা উচিত, বিশেষ করে বিশ্বাসীর গৃহের পরিজনদের প্রতি৷
11 দেখ কত বড় বড় অক্ষরে নিজের হাতে আমি এই চূড়ান্ত কথাগুলি লিখছি৷
12 যাঁরা তোমাদের সুন্নত করার চেষ্টায় আছে, তাদের উদ্দেশ্য অন্যদের কাছে নাম কেনার৷ তারা এটা করে যাতে খ্রীষ্টের ক্রুশের জন্য তারা অত্যাচারিত না হয়৷
13 যাঁরা সুন্নত করেছে তারা নিজেরাও বিধি-ব্যবস্থা ঠিক মতো পালন করে না অথচ তারাই তোমাদের সুন্নত করাতে চাইছে; উদ্দেশ্য, তোমাদের সুন্নত করানোর মাধ্যমে বশ করতে পারলে এই কাজ নিয়ে তারা গর্ব করার সুয়োগ পাবে৷
14 শুধু আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের ক্রুশ ছাড়া আমার গর্ব করার মতো কিছুই নেই৷ যীশুর ক্রুশীয় মৃত্যুর দ্বারা আমি জগতের কাছে ক্রুশবিদ্ধ আর জগত আমার কাছে ক্রুশবিদ্ধ৷
15 কারো সুন্নত করা হল কি হল না সেটা বড় বিষয় নয় কিন্তু এটা জরুরী য়ে এক নতুন সৃষ্টি হোক৷
16 ঈশ্বরের লোকেরা যাঁরাই এই নিয়ম মানে তাদের ওপর শান্তি ও দয়া বর্ষিত হোক্৷
17 চিঠি লেখা শেষ করার আগে আমার অনুরোধ, য়েন কেউ আর আমাকে কষ্ট না দেয়, কারণ ইতিমধ্যেই আমি আমার দেহে খ্রীষ্টের ক্ষত চিহ্ন বহন করছি৷
18 আমার ভাই ও বোনেরা, আমি প্রার্থনা করি য়ে প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহ তোমাদের আত্মার মধ্যে বিরাজ করুক৷ আমেন৷