যোহনের ১ম পত

1 2 3 4 5


অধ্যায় 1

1 পৃথিবীর শুরু থেকেই যা বর্তমান তেমন একটি বিষয় এখন তোমাদের কাছে বলছি:আমরা তা শুনেছি,তা স্বচক্ষে দেখেছি,তা মনোয়োগ সহকারে নিরীক্ষণ করেছি;আর নিজেদের হাত দিয়ে তা স্পর্শ করেছি৷আমরা সেই বাক্যের বিষয় বলছি যা জীবনদায়ী৷
2 সেই জীবন আমাদের কাছে প্রকাশিত হয়েছিল, আমরা তা দেখেছি; আর তার বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে পারি৷ এখন তোমাদের কাছে সেই জীবনের কথা বলছি; এ হল অনন্ত জীবন যা পিতা ঈশ্বরের কাছে ছিল৷ ঈশ্বর আমাদের কাছে সেই জীবন তুলে ধরলেন৷
3 আমরা যা দেখেছি ও শুনেছি সে বিষয়েই এখন তোমাদের কাছে বলছি; কারণ আমাদের ইচ্ছা তোমরাও আমাদের সহভাগী হও৷ আমাদের এই সহভাগীতা ঈশ্বর পিতা ও তাঁর পুত্র যীশু খ্রীষ্টের সঙ্গে৷
4 আমাদের আনন্দ য়েন পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে সেই জন্য আমরা তোমাদের এসব লিখছি৷
5 এই সেই বার্তা যা আমরা খ্রীষ্টের কাছ থেকে শুনেছি এবং তোমাদের কাছে ঘোষণা করছি- ঈশ্বর জ্যোতি; ঈশ্বরের মধ্যে কোন অন্ধকার নেই৷
6 তাই আমরা যদি বলি য়ে ঈশ্বরের সঙ্গে আমাদের সহভাগীতা আছে, কিন্তু যদি অন্ধকারে জীবনযাপন করতে থাকি, তাহলে মিথ্যা বলছি ও সত্যের অনুসারী হচ্ছি না৷
7 ঈশ্বর জ্যোতিতে আছেন, আমরা যদি সেই রকম জ্যোতিতে বাস করি, তবে বলা যায় আমাদের পরস্পরের মধ্যে সহভাগীতা আছে৷ ঈশ্বরের পুত্র যীশুর রক্ত আমাদের সমস্ত পাপ থেকে শুচিশুদ্ধ করে৷
8 আমরা যদি বলি য়ে আমাদের কোন পাপ নেই, তাহলে আমরা নিজেদেরই ঠকাই এবং তাঁর সত্য আমাদের মধ্যে নেই৷
9 আমরা যদি নিজেদের পাপ স্বীকার করি, বিশ্বস্ত ও ধার্মিক ঈশ্বর আমাদের সমস্ত পাপ ক্ষমা করবেন ও সকল অধার্মিকতা থেকে আমাদের শুদ্ধ করবেন৷
10 আর যদি বলি, আমরা পাপ করিনি, তবে আমরা ঈশ্বরকে মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন করি এবং তাঁর বার্তা আমাদের অন্তরে নেই৷




অধ্যায় 2

1 আমার প্রিয় সন্তানরা, আমি তোমাদের একথা লিখছি যাতে তোমরা পাপ না কর৷ কিন্তু কেউ যদি পাপ করে ফেলে, তবে পিতার কাছে আমাদের পক্ষে কথা বলার একজন আছেন, তিনি সেই ধার্মিক ব্যক্তি, যীশু খ্রীষ্ট৷
2 তিনিই সেই প্রায়শ্চিত্ত বলিগুলি, যার ফলে আমাদের সব পাপ দূর হয়৷ কেবল আমাদের সব পাপ নয়, জগতের সমস্ত মানুষেরও পাপ দূর হয়৷
3 যদি আমরা ঈশ্বরের আদেশ পালন করি, তবেই বুঝতে পারব য়ে আমরা তাঁকে জানি৷
4 কেউ যদি বলে য়ে, ‘আমি ঈশ্বরকে জানি,’ অথচ ঈশ্বরের আদেশ পালন না করে তবে সে মিথ্যাবাদী, আর তাঁর সত্য তার অন্তরে নেই৷
5 কিন্তু য়ে তাঁর শিক্ষা পালন করে, ঈশ্বরের ভালবাসা সত্যি তার মধ্যে পূর্ণতালাভ করেছে৷ এইভাবে আমরা সুনিশ্চিত হতে পারি য়ে আমরা তাঁর মধ্যেই অবস্থান করছি৷
6 কেউ যদি বলে য়ে আমি ঈশ্বরে আছি তাহলে তাকে অবশ্যই তাঁর মতো জীবনযাপন করতে হবে৷
7 প্রিয় বন্ধুরা, আমি তোমাদের কাছে কোন নতুন আদেশ লিখছি না, এ এমন এক পুরানো আদেশ, যা তোমরা আদি থেকেই পেয়েছ৷ তোমরা য়ে বার্তা শুনেছ তা হল পুরানো আদেশ.
8 কিন্তু আমি এই পুরানো আদেশই তোমাদের কাছে এক নতুন আদেশরূপে লিখছি৷ এই আদেশ সত্য এবং এর সত্যতা তোমরা যীশু খ্রীষ্টে ও তোমাদের জীবনে দেখেছ, কারণ অন্ধকার কেটে যাচ্ছে আর প্রকৃত জ্যোতি ইতিমধ্যেই উজ্জ্বল৷
9 য়ে বলে আমি জ্যোতিতে আছি কিন্তু তার নিজের ভাইকে ঘৃণা করে, সে এখনও অন্ধকারেই আছে৷
10 য়ে তার ভাইকে ভালবাসে, সে জ্যোতিতে রয়েছে৷ তার জীবনে এমন কিছুই নেই যা তাকে পাপী করে৷
11 কিন্তু য়ে তার ভাইকে ঘৃণা করে সে এখনও অন্ধকারেই আছে৷ সে অন্ধকারেই বাস করে আর জানে না সে কোথায় চলেছে, কারণ অন্ধকার তাকে অন্ধ করে দিয়েছে৷
12 প্রিয় সন্তানগণ, আমি তোমাদের লিখছি কারণ খ্রীষ্টের মাধ্যমে তোমাদের পাপ ক্ষমা করা হয়েছে৷
13 পিতারা, আমি তোমাদের লিখছি কারণ যিনি শুরু থেকে আছেন তোমরা তাঁকে জান৷ যুবকেরা, আমি তোমাদের লিখছি কারণ তোমরা সেই পাপাত্মার ওপর জয়লাভ করেছ৷
14 শিশুরা, আমি তোমাদের নিকট লিখছি কারণ যিনি শুরু থেকে আছেন তোমরা তাঁকে জান৷ যুবকরা, আমি তোমাদের লিখছি কারণ তোমরা শক্তিশালী, ঈশ্বরের বার্তা তোমাদের অন্তরে আছে; আর তোমরা সেই পাপাত্মার ওপর জয়লাভ করেছ৷
15 তোমরা কেউ এই সংসার বা এই সংসারের কোন কিছু ভালবেসো না৷ কেউ যদি এই সংসারটাকে ভালবাসে তবে পিতা ঈশ্বরের ভালবাসা তার অন্তরে নেই৷
16 কারণ এই সংসারে যা কিছু আছে,যা আমাদের পাপ প্রকৃতি পেতে ইচ্ছা করে,যা আমাদের চক্ষু পেতে ইচ্ছা করে,আর পৃথিবীর যা কিছুতে লোকে গর্ব করে৷সে সবই পিতা ঈশ্বরের কাছ থেকে আসে না, আসে জগত থেকে৷
17 এই সংসার ও তাঁর অভিলাষ সব বিলীন হতে চলেছে, কিন্তু য়ে ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করে সে চিরজীবি হবে৷
18 প্রিয় সন্তানরা, জগতের শেষ সময় ঘনিয়ে এসেছে৷ আর তোমরা শুনেছ য়ে খ্রীষ্টারিরা আসছে৷ এখনই সেই খ্রীষ্টারিরা এসে গেছে, এর ফলেই আমরা বুঝতে পারছি য়ে এই শেষ সময়৷
19 সেই খ্রীষ্টারিরা আমাদের দলের মধ্যেই ছিল৷ তারা আমাদের মধ্য থেকে বাইরে চলে গেছে৷ বাস্তবে তারা কোন দিনই আমাদের লোক ছিল না, কারণ তারা যদি আমাদের দলের লোক হত, তবে আমাদের সঙ্গেই থাকত৷ তারা আমাদের ছেড়ে চলে গেল; এর দ্বারাই প্রমাণ হল য়ে তারা কেউই আদৌ আমাদের নয়৷
20 তোমরা সেই পবিত্রতমের (খ্রীষ্টের) কাছে অভিষিক্ত হয়েছ, তাই তোমরা সকলে সত্য কি তা জান৷ তবে তোমাদের কাছে কেন আমি লিখি?
21 এটা বলার জন্য আমি লিখছি না য়ে তোমরা সত্য জান না৷ আমি তোমাদের লিখছি কারণ তোমরা সত্য জান; আর এও জান য়ে সত্য থেকে কখনও কোন মিথ্যার উত্‌পত্তি হতে পারে না৷
22 তবে সেই মিথ্যাবাদী কে? সে-ই, য়ে ব্যক্তি বলে য়ে যীশুই সেই খ্রীষ্ট নন, সে-ই খ্রীষ্টের শত্রু, য়ে বলে যীশু সেই খ্রীষ্ট নয়, সেই ব্যক্তি পিতাকে বিশ্বাস করে না, বিশ্বাস করে না তাঁর পুত্র খ্রীষ্টকে৷
23 য়ে পুত্রকে অস্বীকার করে, সে পিতা ঈশ্বরকেও পায় না৷ কিন্তু য়ে পুত্রকে গ্রহণ করে, সে পিতা ঈশ্বরকেও পেয়েছে৷
24 শুরু থেকে তোমরা যা শুনে আসছ, সেই সব বিষয় অবশ্যই তোমাদের অন্তরে রেখো৷ শুরু থেকে তোমরা যা শুনেছ তা যদি তোমাদের অন্তরে থাকে তবে তোমরা পিতা ঈশ্বর ও তাঁর পুত্রের সাহচর্য়ে থাকবে৷
25 আর ঈশ্বর এটাই আমাদের দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা হল অনন্ত জীবন৷
26 যাঁরা তোমাদের ভুল পথে নিয়ে য়েতে চায় তাদের বিষয়ে তোমাদের এইসব কথা লিখলাম৷
27 খ্রীষ্ট তোমাদের এক বিশেষ বরদান দিয়েছেন এবং তা তোমাদের মধ্যে রয়েছে৷ তাই তোমাদের অন্য কারোর শিক্ষার দরকার নেই৷ য়ে বরদান তোমরা পেয়েছ তা তোমাদের সব বিষয়ে শিক্ষা দেয়৷ এ বরদান সত্য, এর মধ্যে মিথ্যার লেশমাত্র নেই৷ তাই এই বরদান য়েমন শিক্ষা দিয়েছে, সেইমত তোমরা খ্রীষ্টে থাক৷
28 এখন আমার স্নেহের সন্তানরা, খ্রীষ্টেতে থাক৷ তা করলে খ্রীষ্ট যখন প্রকাশিত হবেন তখন আমাদের আর ভয়ের কিছু থাকবে না৷ তিনি এলে তাঁর সামনে দাঁড়াতে ভয় বা লজ্জা পেতে হবে না৷
29 যদি তোমরা জান য়ে খ্রীষ্ট ধার্মিক তাহলে তোমরা এও জান য়ে যাঁরা ধর্মাচরণ কাজ করে তারা ঈশ্বরের সন্তান৷




অধ্যায় 3

1 ভেবে দেখ, পিতা ঈশ্বর আমাদের কত ভালোই না বেসেছেন৷ যাতে আমরা ঈশ্বরের সন্তান বলে অভিহিত হই; বাস্তবিক আমরা তাই৷ জগতের লোক আমাদের চেনে না য়ে আমরা ঈশ্বরের সন্তান, কারণ তারা ঈশ্বরকে জানে না৷
2 প্রিয় বন্ধুরা, এখন তো আমরা ঈশ্বরের সন্তান, আর ভবিষ্যতে আমরা আরো কি হব তা এখনও আমাদের কাছে প্রকাশ করা হয় নি৷ কিন্তু আমরা জানি য়ে যখন খ্রীষ্ট পুনরায় আসবেন তখন আমরা তাঁর সমরূপ হব, কারণ তিনি য়েমন আছেন, তাঁকে তেমনি দেখতে পাব৷
3 খ্রীষ্ট শুদ্ধ আর তাঁর ওপরে য়ে সমস্ত লোক এই আশা রাখে, তারা খ্রীষ্টের মত নিজেদের শুদ্ধ করে৷
4 য়ে কেউ পাপ করে, সে বিধি-ব্যবস্থা লঙঘন করে, আর ব্যবস্থা লঙঘন করাই পাপ৷
5 তোমরা জান, মানুষের পাপ তুলে নেবার জন্যই খ্রীষ্ট প্রকাশিত হলেন; আর খ্রীষ্টের নিজের কোন পাপ নেই৷
6 য়ে কেউ খ্রীষ্টে থাকে, সে পাপের জীবন-যাপন করে না৷ কেউ যদি পাপে জীবন-যাপন করে তবে সে খ্রীষ্টকে কখনও প্রকৃতভাবে উপলদ্ধি করে নি, এমন কি তাঁকে জানেও নি৷
7 প্রিয় সন্তানরা, সতর্ক থেকো৷ কেউ য়েন তোমাদের বিপথে না নিয়ে যায়৷ য়ে কেউ যথার্থ কাজ করে সে নীতিপরায়ণ, ঠিক য়েমন খ্রীষ্ট নীতিপরায়ণ৷
8 দিয়াবল সেই শুরু থেকেই পাপ করে চলেছে৷ য়ে ব্যক্তি পাপ করেই চলে সে দিয়াবলের৷ দিয়াবলের কাজকে ধ্বংস করার জন্যই ঈশ্বরের পুত্র প্রকাশিত হয়েছিলেন৷
9 য়ে কেউ ঈশ্বরের সন্তান হয়, সে ক্রমাগত পাপ করতে পারে না, কারণ নরজীবনদাযী ঈশ্বরের শক্তি সেই ব্যক্তির মধ্যে থাকে৷ সে ঈশ্বরের সন্তানে পরিণত হয়েছে; তাই সে পাপে জীবন কাটাতে পারে না৷
10 এভাবেই আমরা দেখতে পারি কারা ঈশ্বরের সন্তান আর কারাই বা দিয়াবলের সন্তান৷ যাঁরা সত্‌কর্ম করে না তারা ঈশ্বরের সন্তান নয়, আর য়ে তার ভাইকে ভালবাসে নাসে ঈশ্বরের সন্তান নয়৷
11 তোমরা শুরু থেকে এই বার্তা শুনে আসছ, য়ে আমাদের পরস্পরকে ভালবাসা উচিত৷
12 তোমরা কয়িনেরমতো হযো না৷ কযিন দিয়াবলের ছিল এবং তার ভাই হেবলকে হত্যা করেছিল৷ কিসের জন্য সে তার ভাইকে হত্যা করেছিল? কারণ কযিনের কাজগুলি ছিল মন্দ; কিন্তু তার ভাইয়ের কাজ ছিল ভাল৷
13 ভাইরা, এই জগত যদি তোমাদের ঘৃণা করে তবে তাতে আশ্চর্য হযো না৷
14 আমরা জানি য়ে আমরা মৃত্যু থেকে জীবনে উত্তীর্ণ হয়ে গেছি৷ আমরা এটা জানি কারণ আমরা আমাদের ভাইদের ও বোনদের ভালবাসি৷ য়ে কেউ ভালবাসে না সে মৃত্যুর মধ্যেই থাকে৷
15 য়ে কেউ তার ভাইকে ঘৃণা করে সে তো একজন খুনী; আর তোমরা জান কোন খুনী অনন্ত জীবনের অধিকারী হয় না৷
16 তিনি আমাদের জন্য নিজের প্রাণ দিলেন, এর থেকেই আমরা জানতে পারি প্রকৃত ভালবাসা কি৷ সেইজন্য আমাদের ও আমাদের ভাই বোনদের জন্য প্রাণ দেওয়া উচিত৷
17 যার পার্থিব সম্পদ রয়েছে, সে যদি তার কোন ভাইকে অভাবে পড়তে দেখে তাকে সাহায্য না করে, তবে কি করে বলা য়েতে পারে য়ে তার মধ্যে ঐশ্বরিক ভালবাসা আছে?
18 স্নেহের সন্তানরা, কেবল মুখে ভালবাসা না দেখিয়ে, এসো, আমরা কাজের মধ্য দিয়ে তাদের সত্যিকারের ভালবাসি৷
19 এর দ্বারা আমরা জানব য়ে আমরা সত্যের৷ আমাদের অন্তর যদি আমাদের দোষী করে, তবুও ঈশ্বরের সামনে আমাদের বিবেক আশ্বস্ত থাকবে৷ কারণ আমাদের বিবেকের থেকে ঈশ্বর মহান, ঈশ্বর তো সবই জানেন৷
20
21 প্রিয় বন্ধুরা, যদি আমাদের বিবেকগুলি আমাদের দোষের অনুভূতি না দেয় তবে ঈশ্বরের সামনে আমরা নির্ভয়ে দাঁড়াতে পারব৷
22 আর ঈশ্বরের কাছ থেকে যা কিছু চাই না কেন তা আমরা পাব, কারণ আমরা যা তাঁর সন্তোষজনক তাই করছি৷
23 তাঁর আদেশ হল আমরা য়েন তাঁর পুত্র যীশু খ্রীষ্টের নামে বিশ্বাস করি ও পরস্পরকে ভালবাসি৷
24 য়ে ঈশ্বরের আদেশগুলি মান্য করে সে ঈশ্বরে থাকে; আর ঈশ্বর তার অন্তরে থাকেন৷ ঈশ্বর য়ে আমাদের অন্তরে আছেন তা আমরা কি করে জানব? য়ে আত্মাকে ঈশ্বর দিয়েছেন, সেই আত্মাই আমাদের বলছে য়ে ঈশ্বর আমাদের মধ্যে আছেন৷




অধ্যায় 4

1 প্রিয় বন্ধুরা, সংসারে অনেক ভণ্ড ভাববাদী দেখা দিয়েছে, তাই তোমরা সব আত্মাকে বিশ্বাস করো না৷ কিন্তু সেই সব আত্মাদের যাচাই করে দেখ য়ে তারা ঈশ্বর হতে এসেছে কিনা৷
2 এইভাবে তোমরা ঈশ্বরের আত্মাকে চিনতে পারবে৷ য়ে কোন আত্মা যীশু খ্রীষ্ট য়ে রক্ত মাংসের দেহ ধারণ করে এসেছেন বলে স্বীকার করে, সে ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছে৷
3 কিন্তু য়ে আত্মা, যীশুকে স্বীকার করে না, সে ঈশ্বরের কাছ থেকে আসে নি৷ এ সেই খ্রীষ্টারির আত্মা, খ্রীষ্টের শত্রু য়ে আসছে তা তোমরা শুনেছ, আর এখন সে তো সংসারে এসেই গেছে৷
4 আমার স্নেহের সন্তানগণ, তোমরা ঈশ্বরের লোক, তাই তোমরা ওদের ওপর জযী হয়েছ; কারণ তোমাদের মধ্যে যিনি (ঈশ্বর) বাস করেন তিনি জগতের মধ্যে বাসকারী দিয়াবলের থেকে অনেক মহান৷
5 এই ভণ্ড শিক্ষকরা হল জগতের, তাই তারা যা বলে তা সব জাগতিক কথাবার্তা, আর জগত তাদের কথা শোনে৷
6 কিন্তু আমরা ঈশ্বরের লোক, ঈশ্বরকে য়ে জানে সে আমাদের কথা শোনে, য়ে ঈশ্বরের লোক নয় সে আমাদের কথা শোনে না৷ এইভাবেই আমরা সত্যের আত্মাকে ও ছলনার আত্মাকে চিনতে পারি৷
7 প্রিয় বন্ধুরা, এস আমরা পরস্পরকে ভালবাসি, কারণ ঈশ্বরই ভালবাসার উত্‌স আর য়ে কেউ ভালবাসতে জানে সে ঈশ্বরের সন্তান, সে ঈশ্বরকে জানে৷
8 য়ে ভালবাসতে জানে না, সে ঈশ্বরকে জানে না, কারণ ঈশ্বর স্বয়ং হলেন ভালবাসা৷
9 ঈশ্বর আমাদের প্রতি তাঁর ভালবাসা এইভাবেই দেখিয়েছেন, তিনি তাঁর একমাত্র পুত্রকে এ জগতে পাঠালেন য়েন তাঁর মাধ্যমে আমরা জীবন লাভ করি৷
10 ঈশ্বরের প্রতি আমাদের ভালবাসা নয়, বরং আমাদের প্রতি ঈশ্বরের ভালবাসাই হল প্রকৃত ভালবাসা৷ ঈশ্বর আমাদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত বলিরূপে তাঁর পুত্রকে পাঠিয়ে আমাদের প্রতি তাঁর ভালবাসা প্রকাশ করেছেন৷
11 প্রিয় বন্ধুরা, এইভাবে ঈশ্বর আমাদের ভালবেসেছেন, সুতরাং আমরাও অবশ্যই পরস্পরকে ভালবাসব৷
12 ঈশ্বরকে কেউ কখনও দেখেনি৷ যদি আমরা পরস্পরকে ভালবাসি, তবে ঈশ্বর আমাদের মধ্যে অবস্থান করেন; আর তাঁর ভালবাসা আমাদের মধ্যে পূর্ণতা লাভ করেছে৷
13 আমরা জানি য়ে তিনি আমাদের মধ্যে আছেন; আর আমরা তাঁর মধ্যে অবস্থান করছি৷ এ বিষয় আমরা জানি, কারণ ঈশ্বর তাঁর আত্মাকে আমাদের দান করেছেন৷
14 আমরা দেখেছি পিতা তাঁর পুত্রকে জগতের ত্রাণকর্তারূপে পাঠিয়েছেন৷ সেই বার্তাই আমরা লোকদের কাছে বলছি৷
15 কেউ যদি স্বীকার করে য়ে, ‘যীশু ঈশ্বরের পুত্র,’ তবে ঈশ্বর তাঁর অন্তরে বাস করেন, আর সে ঈশ্বরেতে থাকে৷
16 আমাদের জন্য ঈশ্বরের ভালবাসা আছে আমরা তা জানি ও বিশ্বাস করি৷ঈশ্বরই স্বয়ং ভালবাসা, আর য়ে কেউ ভালবাসায় থাকে সে ঈশ্বরের মধ্যে থাকে ও ঈশ্বর তার মধ্যে থাকেন৷
17 যদি আমাদের ক্ষেত্রে ভালবাসা এই ভাবেই পূর্ণতা পায়, তবে শেষ বিচারের দিনে আমরা নির্ভয়ে দাঁড়াতে পারব, কারণ এ জগতে আমরা খ্রীষ্টেরই মতো৷
18 য়েখানে ঈশ্বরের ভালবাসা সেখানে ভয় থাকে না, পরিপূর্ণ ভালবাসা ভয়কে দূর করে দেয়, কারণ ভয়ের সঙ্গে শাস্তির চিন্তা জড়িত থাকে৷ য়ে ভয় পায় সে ভালবাসায় পূর্ণতা লাভ করে নি৷
19 তিনিই (ঈশ্বর) আগে আমাদের ভালবেসেছেন, আর তার ফলে আমরা ভালবাসতে পারি৷
20 যদি কেউ বলে, ‘সে ঈশ্বরকে ভালবাসে’ অথচ সে তার খ্রীষ্টেতে কোন ভাই ও বোনকে ঘৃণা করে তবে সে মিথ্যাবাদী৷ য়ে ভাইকে দেখতে পাচ্ছে, সে যদি তাকে ঘৃণা করে তবে য়াঁকে সে কোনও দিন চোখে দেখে নি, সেই ঈশ্বরকে সে ভালবাসতে পারে না৷
21 কারণ ঈশ্বরের কাছ থেকে আমরা এই আদেশ পেয়েছি, ঈশ্বরকে য়ে ভালবাসে সে য়েন তার নিজের ভাইকেও ভালবাসে৷




অধ্যায় 5

1 যাঁরা বিশ্বাস করে য়ে যীশুই খ্রীষ্ট, তারা ঈশ্বরের সন্তান৷ য়ে কেউ পিতাকে ভালবাসে, সে তাঁর সন্তানদের ভালবাসে৷
2 আমরা কি করে জানব য়ে আমরা ঈশ্বরের সন্তানদের ভালবাসি? আমরা জানি য়েহেতু আমরা ঈশ্বরকে ভালবাসি ও তাঁর সব আদেশ পালন করি৷
3 ঈশ্বরকে ভালবাসার অর্থই হচ্ছে তাঁর আদেশ পালন করা; আর ঈশ্বরের আদেশ ভারী বোঝার মতো নয়৷
4 কারণ প্রত্যেক ঈশ্বরজাত সন্তান জগতকে জয় করে৷
5 আমাদের বিশ্বাসই আমাদের জগতজযী করেছে৷ কে জগতের ওপরে বিজযী হতে পারে? য়ে বিশ্বাস করে য়ে, যীশুই ঈশ্বরের পুত্র৷
6 ইনিই যীশু খ্রীষ্ট, যিনি জগতে জল ও রক্তের মধ্য দিয়ে এসেছিলেন৷ আত্মাই বলছেন এই কথা সত্য, আর সেই আত্মা স্বয়ং সত্য৷
7 যীশুর বিষয়ে তিনজন সাক্ষ্য দিচ্ছেন৷
8 আত্মা, জল ও রক্ত আর সেই তিনের এক সাক্ষ্য৷
9 লোকে যখন সত্য কিছু বলে আমরা তা বিশ্বাস করি, তবে ঈশ্বরের দেওয়া সাক্ষ্য এর থেকে কত না মূল্যবান৷ বস্তুত ঈশ্বর স্বয়ং আমাদের কাছে এই সাক্ষ্য দিয়েছেন, তিনি তাঁর নিজের পুত্রের বিষয়ে সত্য জানিয়েছেন৷
10 ঈশ্বরের পুত্রকে য়ে বিশ্বাস করে ঐ সত্য তার অন্তরে থাকে৷ ঈশ্বরের কথায় য়ে বিশ্বাস করে না, সে তাঁকে মিথ্যাবাদী করেছে, কারণ ঈশ্বর তাঁর পুত্রের বিষয়ে য়ে কথা বলেছেন সে তাতে বিশ্বাস করে নি৷
11 সেই সাক্ষ্য হচ্ছে, ঈশ্বর আমাদের অনন্ত জীবন দিয়েছেন এবং এই জীবন তাঁর পুত্রে আছে৷
12 ঈশ্বরের পুত্রকে য়ে পেয়েছে সেই সত্য জীবন পেয়েছে৷ ঈশ্বরের পুত্রকে য়ে পায় নি সে জীবন পায় নি৷
13 তোমরা যাঁরা ঈশ্বরের পুত্রের ওপর বিশ্বাস করেছ আমি তোমাদের কাছে এই কথা লিখছি য়েন তোমরা জানতে পার য়ে তোমরা অনন্ত জীবন পেয়েছ৷
14 আমরা এবিষয়ে সুনিশ্চিত য়ে আমরা যদি তাঁর ইচ্ছানুসারে তাঁর কাছে কিছু চাই তবে তিনি আমাদের প্রার্থনা শুনবেন;
15 আর আমরা যদি সত্যি জানি য়ে তিনি আমাদের প্রার্থনা শুনেছেন তবে জানতে হবে য়ে আমরা তাঁর কাছে যা চেয়েছি তা পেয়ে গিয়েছি৷
16 যদি কেউ তার খ্রীষ্টান ভাইকে এমন কোন পাপ করতে দেখে যার পরিণতি অনন্ত মৃত্যু নয়, তবে সে তার ভাইয়ের জন্য প্রার্থনা করবে, আর ঈশ্বর তাকে জীবন দান করবেন৷ যাঁরা অনন্ত মৃত্যুজনক পাপ করে না, তিনি কেবল তাদেরই তা দেবেন৷ মৃত্যুজনক পাপ আছে, আর আমি তোমাদের সেরকম পাপ যাঁরা করে তাদের জন্য প্রার্থনা করতে বলছি না৷
17 সমস্ত রকম অধার্মিকতাই পাপ; কিন্তু এমন পাপ আছে যার ফল অনন্ত মৃত্যু নয়৷
18 আমরা জানি, ঈশ্বরের সন্তানরা পাপের জীবনযাপন করে না৷ ঈশ্বরের পুত্র তাদের রক্ষা করেনএবং পাপাত্মা তাদের কোনভাবে ক্ষতি করতে পারে না৷
19 আমরা জানি য়ে আমরা ঈশ্বরের লোক; কিন্তু সমস্ত জগত রয়েছে পাপাত্মা শক্তির কবলে৷
20 আমরা জানি য়ে ঈশ্বরের পুত্র এসেছেন, আর তিনি আমাদের সেই বোধ বুদ্ধি দিয়েছেন যার দ্বারা আমরা সেই সত্যময় ঈশ্বরকে জানতে পারি৷ এখন আমরা সত্য ঈশ্বরে আছি, কারণ আমরা তাঁর পুত্র যীশু খ্রীষ্টেতে আছি৷ তিনিই সত্য ঈশ্বর ও অনন্ত জীবন৷
21 তাই স্নেহের সন্তানরা, তোমরা মিথ্যা দেবদেবীর কাছ থেকে দূরে থেকো৷